দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে তা তিনি এখনও নির্ধারণ করতে পারছেন না। বুধবার তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বৈঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহু বৈঠকে বলেন, এখনো অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। আমাদের গতিশীলতা অসাধারণ এবং আমরা সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছি। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটি আমি আপনাদের বলতে পারব না।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, আজ রাতের মধ্যে ইসরায়েলজুড়ে বিস্তৃত ও বড় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ বিপুল রকেট নিক্ষেপ করতে পারে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামরিক মোকাবিলা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনটি শর্ত জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানে চালানো সামরিক হামলার ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইরানের ন্যায্য অধিকারগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসন চালাবে না, তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্যারান্টি দিতে হবে। মাইক্রো ব্লগিং সাইটে তিনি লিখেছেন, ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোর একমাত্র পথ হলো—ইরানের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না বলে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী গ্যারান্টি দেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শর্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালীতে একটি থাই বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটি মারাত্মক সংকটে পড়লে ওমানের রাজকীয় নৌবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে ২০ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (ওএনএ) জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সকল নাবিকই থাইল্যান্ডের নাগরিক। হামলার ফলে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ওমান নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় রয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রসীমায় এমন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে আদর্শিক ও কৌশলগত বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জাতীয়তাবাদ, পররাষ্ট্রনীতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে ইউরোপের এই রক্ষণশীল শক্তিগুলো এখন দুই ভাগে বিভক্ত। ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের একটি অংশ, যাদের 'আটলান্টিসিস্ট' (Atlanticists) বলা হয়, তারা সরাসরি এই যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পপুলিস্ট দল 'রিফর্ম ইউকে'-র প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল ফারাজ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই "অপরিহার্য যুদ্ধে" আমেরিকাকে পূর্ণ সমর্থন দেন। স্পেনের কট্টর ডানপন্থী দল 'ভক্স' (Vox)-ও এই যুদ্ধের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে, জার্মানির 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (AfD)-র মতো দলগুলো এই যুদ্ধের বিষয়ে বেশ সতর্ক। দলটির সহ-সভাপতি টিনো শ্রুপাল্লা সতর্ক করে বলেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন "যুদ্ধের প্রেসিডেন্ট" হয়ে উঠছেন। তাদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন করে শরণার্থী স্রোত ইউরোপের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। কট্টর ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত টমি রবিনসন যুদ্ধের পক্ষে উল্লাস প্রকাশ করলেও, 'ব্রিটেন ফার্স্ট' দলের নেতা পল গোল্ডিং বলেছেন, "এটি আমাদের লড়াই নয়, আমাদের যুদ্ধ নয়। আমাদের উচিত আগে ব্রিটেনকে প্রাধান্য দেওয়া।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজনের মূলে রয়েছে জাতীয়তাবাদ। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টিম বেল জানান, কট্টর ডানপন্থীরা অভিবাসন ইস্যুতে একমত হলেও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাদের জাতীয় স্বার্থ ভিন্ন। কেউ আমেরিকাকে কৌশলগত মিত্র মনে করে, আবার কেউ মনে করে বিদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া তাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। সুইডিশ গবেষক মরগান ফিনসিও বলেন, এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও এই দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি দেখা গিয়েছিল। এখন ইরান ইস্যু সেই ফাটলকে আরও প্রশস্ত করছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভিন্নতাই এই দলগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন মেরুতে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের প্রতি এই সমর্থন বা বিরোধিতা আগামী নির্বাচনগুলোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটেনে নাইজেল ফারাজের যুদ্ধংদেহী মনোভাব তার কট্টর সমর্থকদের খুশি করলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, রিফর্ম ইউকে-র মাত্র ২৮ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। সামগ্রিকভাবে, ইরানের ওপর এই হামলা ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী ঐক্যের সীমাবদ্ধতাকেই আবারও বিশ্বদরবারে উন্মোচিত করেছে।