আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীর টোল থেকে প্রথম রাজস্ব পেল ইরান

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১:১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে টোল বা মাশুল ব্যবস্থা চালুর পর প্রথমবারের মতো রাজস্ব পেয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ-রেজা হাজি বাবাই এই ঘোষণা দেন। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইতিমধ্যে এই খাতের প্রথম আয় জমা হয়েছে বলে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিশ্চিত করেছে।

 

গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন এই প্রণালী দিয়ে পার হওয়া জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সংঘাতের কারণে সেখানে নৌ চলাচল অনেকটা স্থবির হয়ে আছে।

 

তেহরান আগেই জানিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করবে। বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই জলপথের ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বিশদ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং সাম্প্রতিক জাহাজ আটকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

 

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, পেন্টাগনের গোয়েন্দা মূল্যায়নে এই প্রণালী নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেও পুরো হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করে নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘসূত্রতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

সূত্র: তাসনিম ও মেহর নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ৫, চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলার দাবি

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বনেতারা যখন লন্ডনে জড়ো হয়েছেন, ঠিক তখনই রোববার এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এদিকে, রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে এদিন ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় একটি বাস স্টপেজে রুশ বোমা হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এর কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এক মিনিবাস চালক প্রাণ হারান। অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় গভর্নর ওলেক্সান্ডার গাঞ্জা।   হামলার তীব্রতা থেকে বাদ যায়নি চেরনোবিলও। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা এনার্গোঅ্যাটম জানিয়েছে, চেরনোবিলের এক্সক্লুশন জোনে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণের একটি স্থাপনা রুশ হামলায় 'আংশিকভাবে ধ্বংস' হয়েছে। তবে ভবনটি খালি থাকায় বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, রুশ বাহিনী এর আগেও পারমাণবিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে।   ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, রাতভর দেশটিতে ২৩৬টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া, যার মধ্যে ২১৫টিই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে কিয়েভ।   ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানিয়েছে, মে মাসে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো হারানোর চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বাত্মক হামলার পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে রাশিয়া। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর বৃদ্ধি, দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণের সুদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও চরম শ্রমিক সংকটে ভুগছে মস্কো।   এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন যে, একটি 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি'র জন্যও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও শুক্রবার রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে পুতিন রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৮:২৬
ছবি: ডেইলি স্টার

অস্ত্র ঠেকিয়ে নারী ও শিশুদের বাংলাদেশে পুশ ইন করছে ভারতের বিএসএফ

ছবি: এ এফ পি

নতুন যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, নেপথ্যে কি রুশ প্রভাবের উদ্বেগ?

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
মোদি সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে তরুণদের আলোচিত ‘তেলাপোকা পার্টি’

ভারতে জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের হাত ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা এখন দেশটির রাজনৈতিক মহলে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ব্যাপক বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার একের পর এক কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ তরুণদের সমর্থনে রাতারাতি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা পার্টি’।   মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে এই কাল্পনিক রাজনৈতিক দলটির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা ২২ মিলিয়ন বা ২ কোটি ২০ লাখ পার হয়ে গেছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল ফলোয়ার সংখ্যার চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। ব্যতিক্রমী এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি একটি মামলার শুনানির সময় কিছু বেকার যুবককে ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন—এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও ততক্ষণে তরুণদের রাগ ক্ষোভে রূপ নেয়।   এই অপমানকে পুঁজি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র একটি ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজ খোলেন। তিনি একে ভারতের ‘অলস, বেকার ও অবহেলিত’ তরুণদের একমাত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে ঘোষণা করলে তা নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়।   অনলাইনের এই বিপুল জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু স্ক্রিনের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আছড়ে পড়েছে দিল্লির রাজপথে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেই গত শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে এক বিশাল যুব সমাবেশের ডাক দেন। ভারতের সাম্প্রতিক বড় বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়, যেখান থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।   মাথায় তেলাপোকার মাস্ক এবং হাতে ‘আমিই তেলাপোকা’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজার হাজার তরুণ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। অনলাইনের ভার্চুয়াল ফলোয়াররা বাস্তবে এসে মাঠের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই প্রতিবাদ ছিল মোদি সরকারের জন্য তার প্রথম বাস্তব পরীক্ষা।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি সরকারের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নিচে, অথচ দেশটির নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতাদের গড় বয়স ৬০ থেকে ৭০-এর কোঠায়। এই বিশাল প্রজন্মের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক শ্রেণীর যে একটি বড় দূরত্ব তৈরি হয়েছে, ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ তারই বহিঃপ্রকাশ। ভারতের অর্থনীতি বড় হলেও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশে ঠেকেছে।   এর ওপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস যেখানে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক আন্দোলন অনমনীয় সরকারের পতন ঘটিয়েছে, সেখানে সিজেপির এই উত্থানকে অনেকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছেন। শুরুতে বিজেপি একে ‘অনলাইন স্টান্ট’ বলে উড়িয়ে দিলেও, দিল্লির রাজপথে তেলাপোকা বাহিনীর গর্জন মোদি সরকারের দীর্ঘ ১২ বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিতকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২:৩৬
ছবিঃ মালায় মেইল

মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারে সরকারের 'জিরো টলারেন্স'

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরমাণু অস্ত্র আরও বাড়ানোর ঘোষণা কিমের বোনের

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং | ছবি: সংগৃহীত

কিমের ওপর প্রভাব ধরে রাখতে আকস্মিক উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : রয়টার্স
ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ‘বুমেরাং’ হবে: পুতিন

ভারতের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বা দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত এমন একটি দেশ, যা নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না।   রুশ সংবাদমাধ্যম ও ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি ভারতকে একটি স্বাধীন ও পূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “ভারত সবসময় নিজের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বা চাপ উল্টো বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে পারে।”   পুতিন তার বক্তব্যে মোদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও মোদি এখন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে রাশিয়ার অত্যাধুনিক সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান এবং এস-৫০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনার প্রসঙ্গ উঠলে পুতিন বলেন, ভারত এমন একটি রাষ্ট্র, যা নিজের প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়।   তার ভাষায়, “ভারতের কাছে যা সবচেয়ে আধুনিক, কার্যকর ও সাশ্রয়ী মনে হবে, তারা সেটিই বেছে নেবে। অন্যরা কী ভাবছে বা বলছে, তা নিয়ে ভারত সাধারণত সিদ্ধান্ত নেয় না।”   রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কোনো সাময়িক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। দুই দেশের সহযোগিতা শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং যৌথ সামরিক প্রকল্পেও বিস্তৃত।   এই প্রসঙ্গে তিনি ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উদাহরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রি করতে রাশিয়া সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান। পুতিনের দাবি, সুখই-৫৭ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি।   দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে বিলম্বের কারণে ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে।   এরই অংশ হিসেবে ভারত বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির উচ্চাভিলাষী ‘এএমসিএ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এই যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের আগে বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে মধ্যবর্তী সময়ে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ধরে রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে সুখই-৫৭ সংগ্রহের বিষয়টি ভারত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বার্তা নয়, বরং পরিবর্তিত বৈশ্বিক কূটনৈতিক বাস্তবতায় ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখার রাশিয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ২৩:৪৫
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

১,০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রুশ নৌঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বাজেয়াপ্ত ২৪ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করে উপসাগরীয় মিত্রদের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি

মার্কিন-ইরান উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘বিশেষ বার্তা’

0 Comments