উত্তর কোরিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসক কিম জং উনের একনায়কতন্ত্র ও কঠোর শাসনের কথা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত না হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো যথেষ্ট। সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিম জং উন ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি বিশাল ব্যবধান মনে হলেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাকি ০.০৭ শতাংশ ভোটার।
১৯৫৭ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো নির্বাচনে শাসকের বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
ইন্টারনেট দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন—কারা এই দুঃসাহসী ০.০৭ শতাংশ মানুষ? গত সাত দশকে উত্তর কোরিয়ায় যা কেউ ভাবতেও পারেনি, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা এই ভোটারদের নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা।
নেটিজেনরা মজা করে বলছেন, এই ০.০৭ শতাংশ মানুষই এখন উত্তর কোরিয়ার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষে। অনেকে আবার তাদের পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এই সাহসী মানুষদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা উচিত’।
ইতিহাস বলে, কিম জং উনের শাসনে অবাধ্যতার কোনো স্থান নেই। এমনকি নিজের আপন চাচাকেও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে ১২০টি ক্ষুধার্ত কুকুরের মুখে ঠেলে দিতে দ্বিধা করেননি এই স্বৈরশাসক। এমন কঠোর মানসিকতার একজন মানুষের শাসনে থেকে যারা ‘না’ ভোট দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন, তারা কি তবে কোনো গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন?
ভঙ্গুর অর্থনীতি আর দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের মাঝে এই সামান্য ভোট কি কিমের সাজানো সিংহাসনে কোনো কম্পন ধরাতে পারবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি লারিজানিকে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর একজন গুরুত্বপূর্ণ ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে হত্যার মধ্য দিয়ে শত্রুপক্ষ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এই রক্তের হিসাব অচিরেই নেওয়া হবে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের খবরে বলা হয়, সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তাঁর পুত্রসহ নিহত হন। একই রাতে পৃথক হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও প্রাণ হারান। এর পরদিন দিবাগত রাতে আরেক দফা হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এটিকে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন। চলমান সংঘাতের শুরুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। এরপর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনীকে এখন থেকে যেকোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা ও পাল্টা হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই প্রভাবশালী নেতা তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গভীর সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত হন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভিও তেহরানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে হামলায় প্রাণ হারান। খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানিও ওই হামলায় নিহত হন, যিনি দেশটির পারমাণবিক ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন। মার্চ মাসেও হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় বিমান হামলায় নিহত হন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি। একই ঘটনায় তার ছেলে ও এক সহযোগীও প্রাণ হারান। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন। সবশেষ বুধবার (১৮ মার্চ) হামলায় নিহত হন গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, যিনি দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই অনীহার ফলে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এপি (Associated Press) এবং বোস্টন হেরাল্ডের তথ্যমতে, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এই সংকটের সমাধানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনসহ অন্তত সাতটি দেশকে তাদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেইজিং এই সামরিক জোটে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উল্টো সব পক্ষকে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা উদ্বেগের। আমরা সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাই।” তবে ট্রাম্পের সামরিক জোট বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে চীন কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাথে যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে হোয়াইট হাউস এখন বেশ চাপের মুখে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, চীন তাদের তেলের ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আমদানি করে, তাই এই পথ সচল রাখার দায়িত্ব চীনেরও। এমনকি চীনের সহায়তা না পেলে তিনি আগামী ৩১ মার্চ নির্ধারিত বেইজিং সফর স্থগিত করার হুমকিও দিয়েছিলেন। তাজা খবরে জানা গেছে, ওয়াশিংটন এবং বেইজিং উভয় পক্ষই এই মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সফরটি পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হতে পারে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'দ্য এশিয়া গ্রুপ'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রেট ফেটারলি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যখন সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, তখন কমান্ড-ইন-চীফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফর করা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কঠিন। অন্যদিকে, চীনও হয়তো কিছুটা সময় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বুঝতে চাইছে।” উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন এই সরাসরি সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ থাকায় এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি জ্বালানি সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।