ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে সামনে রেখে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও এর আর্থিক দিক নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে তাদের যুদ্ধের পথে যেতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন। সে কারণে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ জোগাতে একটি বিশেষ বাজেট ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সংঘাত সামাল দিতে কয়েক বিলিয়ন শেকেল অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে।
এদিকে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে ২ হাজার ৩৩৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এখনো ৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯১ জন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের তথাকথিত ‘মোজাইক ডকট্রিন’। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল নিরাপদ রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী সামরিক পাহারা দিতে এখনো অনাগ্রহ দেখিয়েছে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। রয়টার্সের ১০ মার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে তেল ও শিপিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলে সামরিক এসকর্ট চেয়ে আসছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত এ ধরনের পাহারা দিতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে তারা ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিকে অত্যন্ত বেশি বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। আরব সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং লোহিত সাগরে রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। এছাড়া আরও একটি ক্যারিয়ার গ্রুপ মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরীতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও তাদের যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এত সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ নয়। প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, আর ট্যাঙ্কার চলাচলের কার্যকর করিডোর দুই দিক মিলিয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে আসে। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ১৩৮টি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল যাকে ‘মোজাইক ডকট্রিন’ বলা হয় এই অঞ্চলে বড় শক্তিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, দ্রুতগতির নৌকা এবং সমুদ্রের মাইন ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করে ছোট ছোট ইউনিটের মাধ্যমে আক্রমণের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিশ্লেষকদের মতে, গভীর সমুদ্রে শক্তি প্রদর্শনের জন্য তৈরি বড় যুদ্ধজাহাজগুলো সংকীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে সব সময় কার্যকর নয়। কারণ একটি ছোট সমুদ্র-মাইনও একটি বড় যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা “যত দ্রুত সম্ভব এবং যৌক্তিক সময়ের মধ্যে” চালু করা হতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সামরিক এসকর্ট কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই করিডোরে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ঘিরে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেউ যদি শত্রুদের নির্দেশে বিক্ষোভে অংশ নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন গত ৮ মার্চ ইরানের জনগণকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি পুলিশপ্রধান দেশের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তখন ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল’ ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বড় ঢেউ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
ইরান তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এটি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দুইজন গোয়েন্দা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে ইরানি বাহিনী কয়েক ডজন মাইন স্থাপন করেছে। এছাড়া তাদের ছোট জাহাজ ও মাইন বসানোর সক্ষমতার ৮০ শতাংশ এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইচ্ছা করলে তারা হাজার হাজার মাইন স্থাপন করতে সক্ষম। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইরানের নৌবাহিনী এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের হাতে। তারা প্রণালীর নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকা, মিসাইলসহ অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করতে পারবে। গত সপ্তাহে বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যে কোনো জাহাজ যদি প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করে, তা ধ্বংস করা হবে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং তেলের পরিবহণে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।