মার্কিন বাহিনীর গোপন গতিবিধি ইরানের কাছে ‘বিক্রি’ করছে চীনা কোম্পানি!
ইরান যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও রণতরী চলাচলের অতি গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ওপেন-সোর্স ডেটা ব্যবহার করে তৈরি করা এসব গোয়েন্দা তথ্য বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনের দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাতের এসব কোম্পানি মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ‘উন্মোচন’ করে তা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মিজারভিশন’ এবং ‘জিং’আন টেকনোলজি’র মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে যে, তাদের এআই প্রযুক্তি মার্কিন বাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় মুভমেন্টও শনাক্ত করতে সক্ষম। এসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান এবং সৌদি আরব ও কাতারের ঘাঁটিতে থাকা যুদ্ধবিমানের অবস্থান সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেছে। এমনকি মার্কিন রণতরীর জ্বালানি সরবরাহের ধরন বিশ্লেষণ করে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের পূর্বাভাস দেওয়ার দাবিও করেছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ (PLA)-এর সঙ্গে যুক্ত। যদিও বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবে গত কয়েক বছরে সরকারের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক জানান, এই প্রবণতা সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ক্ষমতা জোরদার করবে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ এই দাবিগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সিআইএ-এর সাবেক কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার মনে করেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, চীনের বাণিজ্যিক প্রযুক্তি এখন সামরিক নজরদারির অস্ত্রে রূপান্তর হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে এই প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সহায়তা যুদ্ধের ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। চীনের এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে, যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
আরও পড়ুন:
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। একই সঙ্গে মার্কিন চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন নিকজাদ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিকজাদ দাবি করেন, ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক শক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনকে এখন ইরানের অবস্থান মেনে নিতে হবে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা উপেক্ষা করে আঞ্চলিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে নিকজাদ বলেন, ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানসংক্রান্ত দাবি। যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংবা এমন কোনো আলোচনা চলছে, তার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো ধরনের চাপ বা পরিস্থিতির মুখেই তাঁর দেশ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। তাঁর অভিযোগ, অতীতে তেহরান আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ দিলেও ওয়াশিংটন বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার সুযোগ বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর যুক্তি, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন করে উপস্থাপন করার মতো কোনো প্রস্তাব নেই। অতীতের আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই তেহরান এই অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিকজাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুধু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে তিনি নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করেন ইরানের এই আইনপ্রণেতা। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থা মেনে নেওয়া এবং তেহরানের সাত দফা শর্ত পূরণ করাই চলমান সংঘাত নিরসনের পথ। তবে নিকজাদের বক্তব্যে উল্লেখ করা সাত দফা শর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়া নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে এসব শর্তের কথা উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো গ্রহণ করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কারণে এই জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ চলছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। অন্যদিকে তেহরান দাবি করে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের এই দাবি এবং পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পৃথক বিষয়। ফলে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। নিকজাদের সর্বশেষ বক্তব্যের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু পারমাণবিক আলোচনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন হামলা হলে কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। ইরানের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বিরোধে তেহরানের কঠোর অবস্থান নতুন করে সামনে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় না বসার কথা জানানোর পাশাপাশি ইরানের সাত দফা শর্ত ও হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: রয়া নিউজ।
ইসরায়েলে প্রথম দুই বছর নেতানিয়াহু, পরে ক্ষমতার ভাগ পাবেন আইজেনকোট
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
কুয়েতে নিরাপত্তাকর্মী হত্যায় বাংলাদেশি অভিযুক্ত, ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করল পুলিশ
ইতালির অন্যতম ব্যস্ত নেপলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংস্কারকাজের জন্য আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রানওয়ের বড় ধরনের সংস্কারের কারণে পুরো নভেম্বর মাসে বিমানবন্দরটিতে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ থাকবে। এতে ইতালির জনপ্রিয় পর্যটন শহর নেপলসে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপলস ক্যাপোডিকিনো বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কারের জন্য প্রায় তিন কোটি ইউরো ব্যয় করা হচ্ছে। এটি বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া প্রায় ২৫ কোটি ইউরোর বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা এবং ভবিষ্যতে বাড়তি যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিকল্পিত সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে নভেম্বরজুড়ে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করেই রানওয়ের উন্নয়নকাজ পরিচালিত হবে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় নভেম্বরে যাত্রী চলাচল কম থাকায় সংস্কারের জন্য এই মাসটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে তুলনামূলকভাবে কম যাত্রীর ভ্রমণসূচি প্রভাবিত হবে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা। নেপলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইতালির গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগকেন্দ্রগুলোর একটি। রোম ও মিলানের পর দেশের ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে এর অবস্থান উল্লেখযোগ্য। প্রতিবছর প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন। ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে এক কোটি ৭৩ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করা। নেপলস বিমানবন্দর থেকে রায়ানএয়ার, ইজিজেট ও উইজ এয়ারের মতো কম খরচের এয়ারলাইনস নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন গ্যাটউইক থেকে ইজিজেট এবং ম্যানচেস্টার, লন্ডন স্ট্যানস্টেড ও এডিনবরা থেকে রায়ানএয়ারের ফ্লাইট রয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকার সময় এসব রুটের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি ও গন্তব্য বিমানবন্দর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নেপলসে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য বিকল্প হিসেবে সালেরনো পন্তেকানিয়ানো বিমানবন্দর ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই বিমানবন্দর থেকে নেপলসে পৌঁছাতে শাটল বাসের সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাটল বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ইউরো। অন্যদিকে সালেরনো থেকে ট্রেনে নেপলস সেন্ট্রাল স্টেশনে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। ট্রেনের ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় পাঁচ ব্রিটিশ পাউন্ড। বিমানবন্দর বন্ধের কারণে যাত্রীদের শুধু ফ্লাইটের সময়সূচি নয়, বিমানবন্দর থেকে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবহনব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই নেপলসে যাওয়ার টিকিট কিনেছেন, তাঁদের এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ফ্লাইট, বিমানবন্দর পরিবর্তন এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে নেপলস থেকে অন্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকা যাত্রীদেরও পরিবর্তিত সূচি যাচাই করতে হবে। নেপলস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের সংস্কারকাজ শেষ করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। তবে যাত্রীদের নির্ধারিত ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে বলা হচ্ছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে উন্নত রানওয়ে ও অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা জিইএসএসি জানিয়েছে, ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সালেরনো বিমানবন্দর থেকে ১৫টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আমস্টারডাম, বার্সেলোনা, দুবাই, মাদ্রিদ ও প্যারিসের মতো শহর রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে নেপলসের পিয়াজা গারিবালদি থেকে সালেরনো বিমানবন্দর পর্যন্ত বিশেষ বাস সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। তবে নেপলসের সব ফ্লাইট সালেরনোতে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। তাই যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের পরিবর্তিত সূচি নিশ্চিত করতে হবে।
অ্যামাজনের গুদামে ১০ লাখের বেশি রোবট, মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ
ইউক্রেনের জন্য ২১০ কোটি ডলারের ৫০০ প্যাট্রিয়ট মিসাইল অনুমোদন, দ্রুত সরবরাহ চান জেলেনস্কি
ইসরায়েলের নির্বাচনে আসন কমেছে নেতানিয়াহুর, সরকার গঠনের সুযোগ দেখছেন না লাপিদ
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের একটি সরকারি স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে ঢুকে দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা চালিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আ হ ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রদেশের অনন্তপুর জেলা পরিষদ উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্কুলটির দশম শ্রেণির একটি কক্ষে শিক্ষক পাঠদান করানোর সময় হঠাৎ বৈদ্যুতিক করাত হাতে সেখানে প্রবেশ করেন ওই তরুণ। পরে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা চালান তিনি। আ হ ত দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হা ম লায় অ ভি যুক্ত তরুণের নাম হেমন্ত, যিনি দুম্মু নামেও পরিচিত। তিনি শ্রী সত্য সাই জেলার ধর্মবরম এলাকার নাগালুর গ্রামের বাসিন্দা। আ হ ত এক ছাত্রীর সঙ্গে অ ভি যুক্তের দূরসম্পর্কের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। হা ম লার পর স্কুল থেকে পালিয়ে যান হেমন্ত। পরে ধর্মবরম রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে ওই তরুণ দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা চালিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হা ম লার পেছনের কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে, অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর এমন হা ম লার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে স্কুলে হা ম লা কারীদের সমাজে কোনো জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের
দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের নতুন ট্রেন্ড 'বই পড়া', কমছে স্ক্রলিংয়ের আকর্ষণ