রাজনীতি

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬ ২২:২৩
রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এখন চরম দুর্দশা। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর লুটপাট চালানো হয় ভবনটিতে। এখন নিচতলায় প্রস্রাব করেন পথচলতি মানুষ। ওপরের তলাগুলোতে থাকেন ভবঘুরে অনেকে । ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এখন চরম দুর্দশা। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর লুটপাট চালানো হয় ভবনটিতে। এখন নিচতলায় প্রস্রাব করেন পথচলতি মানুষ। ওপরের তলাগুলোতে থাকেন ভবঘুরে অনেকে । ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।
 


বিশ্লেষকদের মতে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে পাশ হলে এরপর আওয়ামী লীগের যেকোনো কার্যক্রম শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং দলটির সব নেতাকর্মীদেরও বিচারের আওতায় আনা যাবে।


 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অধ্যাদেশটি কিছু সংশোধনীসহ পাশের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।


 
প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আইন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে চিহ্নিত করার পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে কি-না।


 
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন করে একটি দলকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে অপরাধ থাকলে আদালতে বিচার কিংবা ভোটের মাধ্যমে জনগণকে দলটিকে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দিলে এ নিয়ে প্রতিহিংসার অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকতো না।


তাদের মতে, সরকার ও সমমনা দলগুলা এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন কিন্তু দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্যতা পাবার ইতিহাস রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই।


 
আওয়ামী লীগে ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"।


 
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দায় বিএনপির ওপর বর্তাবে কি-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি ও সরকারের একটি সূত্র অবশ্য বলছে, 'আইনটি পরে সংশোধনের সুযোগ থাকবে'।প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপি বলেছিল নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও দলটির নেতারা আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলেছিলেন বিভিন্ন সভা সমাবেশে।


 
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ১১ই মে বিবৃতি দিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সংশোধনে কী পরিবর্তন আসছেঅন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ই মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।


 
এ বিষয়ে তখন জারি করা প্রজ্ঞাপনের শেষাংশে তখন বলা হয়েছিল, ".... সরকার যুক্তিসংগতভাবে মনে করে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা-১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সমীচীন;সেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যে কোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো"।


 
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রজ্ঞাপনে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না।


 
এবার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের প্রথম দিনেই নিয়মানুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ১০ই এপ্রিলের মধ্যে যেসব অধ্যাদেশ আইন আকারে সংসদে পাস না হবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তামাদি বা বাতিল হয়ে যাবে।


এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে উত্থাপনের পর অধ্যাদেশগুলোকে যাচাই বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ।
 

সেই কমিটিই তাদের রিপোর্টে পনেরটি অধ্যাদেশকে সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। এর একটিই হলো সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
 

সংসদের বিশেষ কমিটির একটি সূত্র বলছে যে, কমিটিতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন একটি মতামত এসেছিল: "কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তা নিষেধ অমান্য করলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বা কী শাস্তি হবে তার উল্লেখ নেই। কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সাজা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সংশোধিত আকারে সংসদে পাশ করা যেতে পারে"।


 
এখন সংসদ কমিটির রিপোর্টে অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করা হলেও কী সংশোধন করা হবে রিপোর্টে তার উল্লেখ করা হয়নি।


 
তবে সরকারের সূত্রগুলো বলছে, সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের জন্য যেসব সাজার ব্যবস্থা রয়েছে সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে।


 
এটি সত্যি হলে, দলটির ব্যানারে যে কোনো ধরনের কার্যক্রমের জন্যই দলটির যে কোনো নেতাকর্মীকে শাস্তির আওতায় আনা যাবে।


 
রাজনীতিতে কেমন প্রভাব হবে
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষ নেয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তখনকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের বেশিরভাগই এখন এনসিপির সঙ্গে যুক্ত।


 
তাদের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরেরই নভেম্বরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল।


 
এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বিদেশে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের মে মাসে তারা আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুললে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।


 
এর আগে ক্ষমতা হারানোর আগে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয়।


 
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না করালে এটি আপনা আপনি বাতিল হয়ে যেত এবং আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে পাশ করানোর পর আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ পাবে না।


 
তাদের মতে, কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচার হতে পারে কিন্তু সেটি করা এবং অপরাধের শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। একই সাথে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সরকারও ব্যবস্থা নিতে পারে।


 
"এখানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা হয়নি। কিংবা আদালত তো আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি। এখন এটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার যে একটি দলকে রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে নাকি জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ পাবে। ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হলে প্রতিহিংসার সুযোগ উঠতো না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।


 
মি. আহমদ বলেন, "আওয়ামী লীগ একাত্তরেও নিষিদ্ধ হয়েছিল। এখন মামলা হলে আদালত রায় দিত। কিন্তু সরকার সে পথেও যাচ্ছে না। জনগণ ভোট না দিলে দলটি ব্রাত্য হয়ে পড়তো। কিন্তু সরকার ও সমমনা দলগুলো এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নিষিদ্ধ করে রাখতে চাইছে বলেই এটিকে প্রতিহিংসা মনে হতে পারে"।


 
আরেকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন যে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ঐতিহাসিকভাবেই কখনো কারও জন্য সুফল বয়ে আনেনি, বরং যারা করেছে তাদের ঐতিহাসিক দায় নিতে হয়েছে।


 
"এদেশে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার ও সমর্থক আছে। মানুষ দলটিকে গ্রহণ করবে কি-না সেটি যাচাই করার সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার নষ্ট করেছে। কোনো অর্থেই রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ করা বা দল নিষিদ্ধ করা কাউকে সাময়িক তৃপ্তি কিংবা প্রতিহিংসা মেটানোর স্বাদ দিতে পারে কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে দেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি মোটেও ভালো পদক্ষেপ নয়," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।


 
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে দলটির কর্মকান্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল
ছবির ক্যাপশান,অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল
রোববার আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, "এর মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"।


 
তার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ভুলে গেলে চলবে না যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তা অত্যন্ত শক্তিশালী। মনে রাখবেন, জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তন ইতোমধ্যেই আরও তীব্র হতে শুরু করেছে।
 


এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য সংগ্রাম করার উচ্চতর নৈতিক অবস্থান অর্জন করবে। দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে সাথে নিয়েই লড়াই করবে"। 

 

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

রাজনীতি

View more
চার সিটি করপোরেশনে ঘোষিত জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা । ছবি: আমেরিকা বাংলা
সিটি নির্বাচনে একক লড়াইয়ে জামায়াত, তারুণ্যে ভর করে ১২ প্রার্থী চূড়ান্ত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশনগুলোতে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে সম্ভাব্য ১২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে অংশ নেয় জামায়াত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে দলটি এককভাবেই অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন নেতারা।   দলীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় কেবল রুকনদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।   এবারের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এই পরিকল্পনায়।   জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে বলেন, “পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”   দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।   ইতোমধ্যে চারটি সিটিতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে দলের মহানগর আমির আবদুল জব্বারকে প্রার্থী করা হচ্ছে। গাজীপুরে প্রার্থী হচ্ছেন তুরস্কপ্রবাসী শিক্ষাবিদ ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা হাফিজুর রহমান। চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খানকে প্রার্থী করা হচ্ছে।   ঢাকার দুই সিটিতেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় রয়েছে। দক্ষিণ সিটিতে আবু সাদিক কায়েমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও দলীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় তাঁর ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং প্রার্থী হতে সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না।   জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল। তবে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে এ প্রস্তাবে আপত্তি ওঠে। এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায়ভার আমাদের ওপর আসতে পারে।”   জামায়াত নেতাদের মতে, অতীতে চার–দলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তারা। নিজেদের জনসমর্থন বেড়েছে বলেও মনে করছেন নেতারা।   এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। পাশাপাশি শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও জোরদার করেছে। সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।   দলটির নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং গণসংযোগ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।   জামায়াত দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করছে না। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য বলেছেন, ঈদের পর থেকে সারা বছর নির্বাচন চলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।   রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৩, ২০২৬ ১৫:৫৬
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি | ছবি: সংগৃহীত

বুধবার সংরক্ষিত নারী এমপি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম

ছবি: সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!

ছবি: সংগৃহীত

২৫ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১১ দলের মহাসমাবেশ; নেতৃত্বে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক | ছবি: সংগৃহীত
১০ শতাংশ লুটপাট কমাতে পারলেই জ্বালানির দাম বাড়ানো লাগবে না: সাইফুল হক

জ্বালানি খাতে চলমান সীমাহীন চুরি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই খাতের লুটপাট ও সিস্টেম লস মাত্র ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হবে না। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।   বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে, যার ফলে ধানসহ গ্রামীণ উৎপাদনশীল খাতগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা সময়মতো তেল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ডিজেলের তীব্র সংকটের কারণে অধিকাংশ জেলায় সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেছে, যা বোরো চাষকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিজেল সংকটে হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না, ফলে ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে টিএসপি ও ইউরিয়া সারের সংকট এবং চড়া দাম কৃষকদের নাজেহাল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।   সাইফুল হক সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল দাম বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ও আমদানিতে আরও তৎপর হওয়া জরুরি। বিশেষ করে সেচ কাজে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।  

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশ: এপ্রিল ২১, ২০২৬ ২২:১
সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ | ছবি: সংগৃহীত

সংসদে হাসনাতের ‘গাড়ি আবদার’, শফিকুর রহমানের পজিটিভ রিঅ্যাকশন; ছোটদের কি ‘না’ বলতে নেই?

যুব মহিলা লীগ নেত্রী মোসা. শিল্পী বেগম | ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেলেন সেই নেত্রী ও শিশু!

সংসদে রুমিন ফারহানা | ফাইল ছবি

৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার; সংসদে রুমিন ফারহানা

বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মণি | ফাইল ছবি
জামালপুর থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন নিলোফার চৌধুরী মণি

সংরক্ষিত নারী আসনে জামালপুর জেলা থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মণি। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।   নিলোফার চৌধুরী মণি বর্তমানে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এর আগে তিনি নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর এই মনোনয়নের খবরে জামালপুর জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।   জেলা বিএনপির সহসভাপতি শামিম আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিলোফার চৌধুরী মণির মতো একজন অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, নিলোফার চৌধুরী মণি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি একজন প্রথিতযশা টকশো ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ও এলএলবি করার পর ২০১১ সালে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ২১:৩৭
ছবি: আমেরিকা বাংলা

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী নাম ঘোষণা, কারা পেলেন মনোনয়ন?

ছবি - সংগৃহিত

এনসিপিকে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বললেন জিএম কাদের

রোববার দুপুরে এনসিপি কার্যালয়ে যোগদান অনুষ্ঠান শেষে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম

আপ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বসহ প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মীর এনসিপিতে যোগদান

0 Comments