রাজনীতি

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬ ২২:২৩
রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এখন চরম দুর্দশা। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর লুটপাট চালানো হয় ভবনটিতে। এখন নিচতলায় প্রস্রাব করেন পথচলতি মানুষ। ওপরের তলাগুলোতে থাকেন ভবঘুরে অনেকে । ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এখন চরম দুর্দশা। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর লুটপাট চালানো হয় ভবনটিতে। এখন নিচতলায় প্রস্রাব করেন পথচলতি মানুষ। ওপরের তলাগুলোতে থাকেন ভবঘুরে অনেকে । ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।
 


বিশ্লেষকদের মতে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে পাশ হলে এরপর আওয়ামী লীগের যেকোনো কার্যক্রম শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং দলটির সব নেতাকর্মীদেরও বিচারের আওতায় আনা যাবে।


 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অধ্যাদেশটি কিছু সংশোধনীসহ পাশের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।


 
প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আইন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে চিহ্নিত করার পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে কি-না।


 
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন করে একটি দলকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে অপরাধ থাকলে আদালতে বিচার কিংবা ভোটের মাধ্যমে জনগণকে দলটিকে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দিলে এ নিয়ে প্রতিহিংসার অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকতো না।


তাদের মতে, সরকার ও সমমনা দলগুলা এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন কিন্তু দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্যতা পাবার ইতিহাস রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই।


 
আওয়ামী লীগে ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"।


 
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দায় বিএনপির ওপর বর্তাবে কি-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি ও সরকারের একটি সূত্র অবশ্য বলছে, 'আইনটি পরে সংশোধনের সুযোগ থাকবে'।প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপি বলেছিল নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও দলটির নেতারা আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলেছিলেন বিভিন্ন সভা সমাবেশে।


 
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ১১ই মে বিবৃতি দিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সংশোধনে কী পরিবর্তন আসছেঅন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ই মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।


 
এ বিষয়ে তখন জারি করা প্রজ্ঞাপনের শেষাংশে তখন বলা হয়েছিল, ".... সরকার যুক্তিসংগতভাবে মনে করে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা-১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সমীচীন;সেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যে কোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো"।


 
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রজ্ঞাপনে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না।


 
এবার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের প্রথম দিনেই নিয়মানুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ১০ই এপ্রিলের মধ্যে যেসব অধ্যাদেশ আইন আকারে সংসদে পাস না হবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তামাদি বা বাতিল হয়ে যাবে।


এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে উত্থাপনের পর অধ্যাদেশগুলোকে যাচাই বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ।
 

সেই কমিটিই তাদের রিপোর্টে পনেরটি অধ্যাদেশকে সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। এর একটিই হলো সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
 

সংসদের বিশেষ কমিটির একটি সূত্র বলছে যে, কমিটিতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন একটি মতামত এসেছিল: "কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তা নিষেধ অমান্য করলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বা কী শাস্তি হবে তার উল্লেখ নেই। কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সাজা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সংশোধিত আকারে সংসদে পাশ করা যেতে পারে"।


 
এখন সংসদ কমিটির রিপোর্টে অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করা হলেও কী সংশোধন করা হবে রিপোর্টে তার উল্লেখ করা হয়নি।


 
তবে সরকারের সূত্রগুলো বলছে, সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের জন্য যেসব সাজার ব্যবস্থা রয়েছে সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে।


 
এটি সত্যি হলে, দলটির ব্যানারে যে কোনো ধরনের কার্যক্রমের জন্যই দলটির যে কোনো নেতাকর্মীকে শাস্তির আওতায় আনা যাবে।


 
রাজনীতিতে কেমন প্রভাব হবে
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষ নেয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তখনকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের বেশিরভাগই এখন এনসিপির সঙ্গে যুক্ত।


 
তাদের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরেরই নভেম্বরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল।


 
এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বিদেশে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের মে মাসে তারা আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুললে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।


 
এর আগে ক্ষমতা হারানোর আগে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয়।


 
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না করালে এটি আপনা আপনি বাতিল হয়ে যেত এবং আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে পাশ করানোর পর আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ পাবে না।


 
তাদের মতে, কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচার হতে পারে কিন্তু সেটি করা এবং অপরাধের শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। একই সাথে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সরকারও ব্যবস্থা নিতে পারে।


 
"এখানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা হয়নি। কিংবা আদালত তো আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি। এখন এটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার যে একটি দলকে রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে নাকি জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ পাবে। ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হলে প্রতিহিংসার সুযোগ উঠতো না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।


 
মি. আহমদ বলেন, "আওয়ামী লীগ একাত্তরেও নিষিদ্ধ হয়েছিল। এখন মামলা হলে আদালত রায় দিত। কিন্তু সরকার সে পথেও যাচ্ছে না। জনগণ ভোট না দিলে দলটি ব্রাত্য হয়ে পড়তো। কিন্তু সরকার ও সমমনা দলগুলো এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নিষিদ্ধ করে রাখতে চাইছে বলেই এটিকে প্রতিহিংসা মনে হতে পারে"।


 
আরেকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন যে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ঐতিহাসিকভাবেই কখনো কারও জন্য সুফল বয়ে আনেনি, বরং যারা করেছে তাদের ঐতিহাসিক দায় নিতে হয়েছে।


 
"এদেশে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার ও সমর্থক আছে। মানুষ দলটিকে গ্রহণ করবে কি-না সেটি যাচাই করার সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার নষ্ট করেছে। কোনো অর্থেই রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ করা বা দল নিষিদ্ধ করা কাউকে সাময়িক তৃপ্তি কিংবা প্রতিহিংসা মেটানোর স্বাদ দিতে পারে কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে দেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি মোটেও ভালো পদক্ষেপ নয়," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।


 
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে দলটির কর্মকান্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল
ছবির ক্যাপশান,অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল
রোববার আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, "এর মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"।


 
তার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ভুলে গেলে চলবে না যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তা অত্যন্ত শক্তিশালী। মনে রাখবেন, জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তন ইতোমধ্যেই আরও তীব্র হতে শুরু করেছে।
 


এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য সংগ্রাম করার উচ্চতর নৈতিক অবস্থান অর্জন করবে। দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে সাথে নিয়েই লড়াই করবে"। 

 

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

রাজনীতি

View more
সংগৃহীত
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর পাশে দেশের মানুষও দাঁড়াবে।”   আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সব নাগরিকের দায়িত্ব। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ইস্যুতে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিল আনা হলেও শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদকের সম্পূর্ণ নির্মূল নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, “মাদককে নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়, সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। মাদক একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।”   তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন সদস্য দাবি করেছেন যে দেশের বড় একটি মাদক চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা দিয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, জনস্বার্থে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংসদে কঠোর বিরোধিতা করা হবে। উন্নয়নের নামে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ আর থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ সময় তিনি নেত্রকোনার স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অর্থবছরের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।   মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। সঞ্চালনা করেন জেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া।   এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৮:৫৮
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়া ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল

খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক

খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক

শেখ হাসিনা | ছবি: সংগৃহীত

এ বছর দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব: শেখ হাসিনা

জায়িদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত
জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন শিবির প্যানেলের রাকসু নেতা

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান। শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জাহানারা ইমামকে অবমাননাকর ভাষায় উল্লেখ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   জায়িদ হাসান রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর পোস্টে একটি ফটোকার্ডে জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীর তথ্য তুলে ধরা হলেও ক্যাপশনে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নে বিদেশি নকশা অনুসরণ করা হয়েছিল।   পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মহল থেকে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অনেকেই এ মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে জায়িদ হাসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   সমালোচনার মুখে জায়িদ হাসান পরে আরেকটি পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো শহীদের মাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি; বরং জাহানারা ইমামের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই পোস্টে তিনি নিজের আগের বক্তব্যে অনড় থাকার কথাও জানান।   এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জায়িদ হাসানের বক্তব্যের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে রাকসু কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খানও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাকসুর সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবি তোলেন। তাঁর মতে, দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।   জাহানারা ইমাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর ছেলে শাফী ইমাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের আত্মত্যাগ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি 'শহীদ জননী' হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখা একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।   ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা রাকসু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ২৩:২৬
ত্রিপুরায় মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করছেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত | ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক এমপি প্রাণ গোপাল দত্ত!

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

দক্ষিণ এশিয়ায় ‘জেন জি’ অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের সামনে কঠিন বাস্তবতা

শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি থেকে অবসরের গুঞ্জন নাকচ করলেন শেখ হাসিনা, আবারও ফিরতে চান রাজনীতির মাঠে

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পাশাপাশি রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের একা রেখে বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ নেই।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে তার অবসর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তে নেই।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?”   তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করার পরই তিনি অবসর বিবেচনা করবেন।   আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং নেতৃত্ব নির্বাচন কাউন্সিল ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, দলটি বর্তমানে একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।   জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলায় শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।   অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৮:৫২
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে ।  ছবি: সংগৃহীত

শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

চার সিটি করপোরেশনে ঘোষিত জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা । ছবি: আমেরিকা বাংলা

সিটি নির্বাচনে একক লড়াইয়ে জামায়াত, তারুণ্যে ভর করে ১২ প্রার্থী চূড়ান্ত

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি | ছবি: সংগৃহীত

বুধবার সংরক্ষিত নারী এমপি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম

0 Comments