ভৌগোলিক অবস্থান ও সমরকৌশল; কেন হরমজ প্রণালীতে অপরাজেয় ইরান?
হরমজ প্রণালী প্রায় চার সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহের এই সরু জলপথটি বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধের কারণে কার্যত অচল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত প্রযুক্তির মার্কিন বাহিনীর বিপরীতে ইরান এখানে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও সস্তা ড্রোনের মাধ্যমে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখছে।
মাত্র ২৪ মাইল প্রশস্ত এই জলপথে জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত সীমিত জায়গা থাকায় ইরান খুব সহজেই যেকোনো বিদেশি নৌযানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। উন্মুক্ত সমুদ্রের মতো এখানে দিক পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষেও তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান এখানে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল হিসেবে সমুদ্রের তলদেশে মাইন এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পুরো এলাকাকে একটি 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত করেছে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচলের জন্য চড়া দামে টোল আদায় করছে, যা তাদের যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে সাহায্য করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করলেও ইরানের এই প্রাকৃতিক ও কৌশলগত সুবিধার সামনে তা খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইসরায়েলের নাগরিকত্বভিত্তিক নতুন বিধিনিষেধ মেনে নিজেদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখছে ফরাসি এয়ারলাইন এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'মিডিয়াপার্ট'-এর হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ক্রু ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এয়ার ফ্রান্স তাদের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছে যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকত্বের পাশাপাশি কারও যদি ফরাসি নাগরিকত্বও থাকে, তবুও তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ একইভাবে প্রযোজ্য হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা যেসব দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশের নিয়মকানুন যাত্রী ও কর্মীদের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম টিএসএ-এর প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের নাম রয়েছে। তবে শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশই নয়, নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় কিউবা, উত্তর কোরিয়া, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দেশনার মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওই দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা। আনাদোলু এজেন্সি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী 'ফ্লাইদুবাই'-এর একটি ফ্লাইটে সংঘটিত ঘটনার পরই মূলত ইসরায়েল এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই ফ্লাইটে এক ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল, যার জেরে সেটি পরে সৌদি আরবে অবতরণে বাধ্য হয়। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে ক্রুদের দায়িত্ব থেকে এভাবে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্তে ব্যাপক বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। প্যারিসের বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গ্যান্ডিন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের সব নাগরিককে ঢালাওভাবে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করাটা সরাসরি ফরাসি কর্মসংস্থান আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
আফগানিস্তানে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে বিবিসির রেডিও সম্প্রচার বন্ধ করল তালেবান
বাঘের খাঁচায় ঢুকে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃ ত্যু, প্রকাশ্যে তরুণের শেষ ভিডিও
আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে স্কুলগেটে ক্লাস করলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি অসীমা চৌধুরী ও তাঁর কিশোর ছেলে অরিত্র বিশ্বাস নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অসীমার স্বামী সৌরভ বিশ্বাস। সোমবার, ১২ অক্টোবর রাতে আল ওয়াথবা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন পরিবারের বন্ধু ও প্রবাসী সংগঠক সজল চৌধুরী। নিহত অসীমার বয়স ৪৮ বছর এবং অরিত্রের বয়স ১৫ বছর। পরিবারটির বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব কধুরখীল গ্রামে। সজল চৌধুরীর বর্ণনা অনুযায়ী, সৌরভ নিজের টয়োটা ইয়ারিস গাড়ি চালিয়ে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে আল ওয়াথবায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। আবুধাবি থেকে আল আইনমুখী সড়কের আল ওয়াথবা এক্সিট ৪৭ এলাকায় পেছন থেকে একটি নিশান সাফারি গাড়ি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে মাফরাক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। সৌরভকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিডিনিউজের প্রতিবেদনে তাঁর আঘাতের মাত্রা বা বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য গাড়িটি পুলিশ জব্দ করেছে এবং চালককে আটক করেছে। মা ও ছেলের মরদেহ বানিয়াস সেন্ট্রাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের ‘ইশারা’য় দিল্লিতে আন্দোলন হচ্ছে: পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী
ভারতে পুলিশি হেফাজতে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে মুসলিম যুবক দিলশাদ আনসারির মৃত্যু
অস্ট্রেলিয়ার অফিসে সিঙ্গাপুর থেকে কাজ, বসের ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়তেই গেল চাকরি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে ধারাবাহিক আ ক্র ম ণের পর যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে ডেল্টা এয়ারলাইনস। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তবে মার্চের ঠিক কোন তারিখে ফ্লাইট চালু হবে, তা এখনো জানায়নি এয়ারলাইনসটি। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেল্টা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নি হ ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ। পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেল্টা জানিয়েছে, অঞ্চলটির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা। আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাটি ডেল্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে সৌদি আরবের নতুন বিমান সংস্থা রিয়াদ এয়ারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছিল ডেল্টা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রুটটি চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে সৌদি আরবে সরাসরি যাত্রী পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতো। তবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ এখন এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার হুতি বিদ্রোহীরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোকে অনিরাপদ বলে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোকে। এমন হুমকির পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তনের কারণে যেসব যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রভাবিত হয়েছে, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ডেল্টা। যাত্রীরা এয়ারলাইনসটির ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেখতে পারবেন। প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী, টিকিট বাতিল করে অর্থ ফেরত নেওয়া অথবা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ক্রেডিট পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। যাত্রার তারিখ ও টিকিটের শর্ত অনুযায়ী সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ডেল্টার প্রকাশিত ভ্রমণ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত রিয়াদগামী, রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া কিংবা রিয়াদ হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী যাত্রীরা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে যাত্রীরা টিকিট পরিবর্তন বা বাতিল করার আগে ডেল্টার সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনস সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে না। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসির বাইরের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং লস এঞ্জেলেস থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফলে ডেল্টার পরিকল্পিত আটলান্টা-রিয়াদ রুটটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগে নতুন একটি সংযোগ যুক্ত হতো। ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়নি ডেল্টা। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা নির্ভর করবে। আপাতত যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত তারিখে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রার পরিকল্পনা করতে হবে।
ক্যামেরার নজরদারি এড়াতে মেকআপ করুন, ভারতে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলিউড অভিনেত্রী
চিপসের প্যাকেট ভেবে উদ্ধার করেন কয়েকদিনের নবজাতককে, ২২ বছর পর পুনর্মিলন