ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ওয়াশিংটন এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির নামে প্রচারিত একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এল।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মূল্যহীন ও বিশ্বাসযোগ্যতাহীন।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন দেশটির নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
খামেনি বলেন, “মার্কিন শত্রু যখন সংঘাত আরও উসকে দিয়ে বড় ধরনের মূল্য ও অপমানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের জানা উচিত, ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।”
ইরান সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী ও মিত্র শক্তিকে তেহরান সাধারণত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সেতু, রেলপথ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খামেনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বস্ততা ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশ রক্ষায় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি ইরানের জনগণকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল সংঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করা। তবে পরে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরানকে আগে তার আচরণে বাস্তব পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে হবে। রোববার স্থানীয় সময় রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিরোধী নয়। তবে যেকোনো সমঝোতা এমন হতে হবে, যা বাস্তবসম্মত এবং ইরান বাস্তবে মেনে চলতে প্রস্তুত থাকবে। তার ভাষায়, “এটি এমন একটি চুক্তি হতে হবে, যা তারা বাস্তবে কার্যকর করবে।”রুবিওর দাবি, এক সপ্তাহ আগে ইরানের হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে তেহরান তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, “তাদের আচরণ বদলাতে হবে, তাহলেই আমাদের আচরণও বদলাবে।” মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইরানের ভেতরে এখন দুই ধরনের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে চায়, অন্য পক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে কূটনৈতিক সমাধান চায়। রুবিও বলেন, ইরানের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন চায়—এমন ব্যক্তিরা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাধান্য পায় এবং আলোচনার দায়িত্ব নেয়, তাহলে সেটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির নেতৃত্বকেই দায়ী করেন তিনি। তার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তেল বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ ইরান পায়, তার বড় অংশ নিজেদের জনগণের উন্নয়নের পরিবর্তে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে ব্যয় করা হয়। রুবিও বলেন, ওই অর্থ জনগণের কল্যাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করা উচিত ছিল। হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, বর্তমানে বিশ্বের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে মূল দায়িত্ব পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয় বহনে বিশ্বের অন্যান্য দেশও আর্থিকভাবে অংশগ্রহণ করুক। রুবিওর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ কোনো একটি দেশের নিয়ন্ত্রণে রেখে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের পরিপন্থী। তবে মার্কো রুবিওর এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের নেতা সিনেটর পলিন হ্যানসন আবারও ইসলাম ও অভিবাসন ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাজ্য সফরের সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় নিকাব নিষিদ্ধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শরিয়া আইনের কোনো স্থান দেশটিতে হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স (সিপিএসি) এবং গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যানসন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার আইনই দেশের একমাত্র আইন হওয়া উচিত এবং মুখ ঢেকে রাখে এমন নিকাব জননিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরও দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো দরকার এবং নতুন অভিবাসীদের দেশটির আইন ও মূল্যবোধের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। হ্যানসনের এসব মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের দেশ সম্পর্কে বিভাজনমূলক বক্তব্য দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। সরকারপক্ষের আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভক্তি তৈরি করতে পারে এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। পলিন হ্যানসন দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি, ইসলাম এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থার সমালোচক হিসেবে পরিচিত। অতীতেও তিনি বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন এবং মুসলিম অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ ও রাজনৈতিক মহলে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। তবে নিকাব নিষিদ্ধ বা শরিয়া আইন সংক্রান্ত হ্যানসনের প্রস্তাব বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। এগুলো তার রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে নতুন কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
চলমান আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে চরম জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কৌশলগত তেলের মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) কমতে কমতে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ইউরেশিয়া ডেইলির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গিয়েই ওয়াশিংটনকে তাদের জরুরি মজুতে হাত দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটির বর্তমান কৌশলগত তেলের মজুত কমে মাত্র ৩১৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৩ সালের পর এটিই আমেরিকার ইতিহাসের সর্বনিম্ন মজুতের রেকর্ড। এমনকি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের সর্বনিম্ন রেকর্ডের চেয়েও বর্তমান মজুত আরও ২৭ মিলিয়ন ব্যারেল কম। বিশ্লেষকদের মতে, এবার মূলত ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের অর্থনৈতিক ও জ্বালানিগত প্রভাব মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই মজুত ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সদস্য দেশগুলোর বৈঠকে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা। রাশিয়ার ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতেই যুক্তরাষ্ট্র মূলত এই নীতি অনুসরণ করছে। তবে প্রতিবার যখনই দেশটির তেলের মজুত রেকর্ড মাত্রায় কমে যাওয়ার খবর সামনে আসে, তখনই আন্তর্জাতিক বাজারে এর উল্টো ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ার তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন বিকল্প পথ ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইউশকভ সতর্ক করে আরও বলেন, চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম আবারও ১০০ ডলার বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।