সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলবে না: মোজতবা খামেনি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ৫:৪১
মোজতবা খামেনি। ছবি:সংগৃহীত
মোজতবা খামেনি। ছবি:সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ওয়াশিংটন এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

 

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির নামে প্রচারিত একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এল।

 

বিবৃতিতে খামেনি বলেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মূল্যহীন ও বিশ্বাসযোগ্যতাহীন।

 

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন দেশটির নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

খামেনি বলেন, “মার্কিন শত্রু যখন সংঘাত আরও উসকে দিয়ে বড় ধরনের মূল্য ও অপমানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের জানা উচিত, ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।”

 

ইরান সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী ও মিত্র শক্তিকে তেহরান সাধারণত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

 

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সেতু, রেলপথ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

 

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

খামেনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বস্ততা ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশ রক্ষায় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি ইরানের জনগণকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল সংঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করা। তবে পরে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
নেপালের রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নয় দিন পর নেপালের বন্যাকবলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক ব্যক্তি উদ্ধার, ভেতরে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। শুক্রবার উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার পর সেখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। নেপালি সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখন টানেলের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছেন।    স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত প্রকৌশলী এবং সংসদ সদস্য শ্রী রাম নিউপানে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শুনেছেন। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করলে ভেতর থেকে ‘ঠিক আছে’ ধরনের সাড়া পাওয়া যায়। বিষয়টিকে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আশার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।    ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর রাশুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর থেকেই এসব প্রকল্পের ভেতরে আটকে পড়া শত শত শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান চলছে।    ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। টানেলের প্রবেশপথের বড় অংশ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে আছে এবং ভেতরে পানি প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে। কয়েক দিন ধরে উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, টানেলের অন্য একটি অংশ দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।    নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের অবস্থান এখনো নিশ্চিত নয় এবং কয়েকটি টানেলে কয়েকশ শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন।  উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে। কাদা, পাথর, পানির প্রবাহ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ার খবর নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। টানেল বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্সও বলেছেন, ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে বিপর্যয়ের পরও মানুষ দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। তাই নেপালি উদ্ধারকারীরা এখনো অভিযানকে উদ্ধার অভিযান হিসেবেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে উৎপাদন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ৩৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ কানাডার

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আড়াই বছরের শিশু হাশেম আবু মুস্তাফা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় চিকিৎসার অপেক্ষায় আড়াই বছরের হাশেম, অপুষ্টিতে পারছে না মাথা সোজা রাখতে

বন্যা থামাতে পারেনি ভালোবাসা, কোমরসমান পানিতেই বিয়ে করলেন ফিলিপাইনের যুগল

বন্যা থামাতে পারেনি ভালোবাসা, কোমরসমান পানিতেই বিয়ে করলেন ফিলিপাইনের যুগল

রুশ হা/মলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের খারকিভে মাটির নিচে শিশুদের জন্য স্কুল, সেখানেই চলছে পাঠদান
রুশ হা/মলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের খারকিভে মাটির নিচে শিশুদের জন্য স্কুল, সেখানেই চলছে পাঠদান

ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও খারকিভ শহরের শিশুদের জন্য এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষতে শহরের উপরিভাগের অনেক অংশ জর্জরিত থাকলেও, রুশ বোমাবর্ষণের সার্বক্ষণিক হুমকির মাঝেই শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে এক অভিনব স্কুল।   ‘খারকিভ লাইসিয়াম নম্বর ২৪’ নামের এই নবনির্মিত ভূগর্ভস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের এই শহরটিতে প্রতিনিয়তই রাশিয়ান বাহিনীর হামলার আতঙ্ক বিরাজ করে।   ভূপৃষ্ঠের ওপরে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা যখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই মাটির নিচের এই স্কুলটি শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।   এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কারণে যুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নিরাপদে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।   সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো এই স্কুলটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের শিশুদের জন্য এক নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৯:৪২
মার্কিন শিক্ষকের ৫ হাজার ডলারের সহায়তায় মরুভূমির বুকে ৫০ হাজার গাছ, ২৭ বছর পর আবেগঘন পুনর্মিলন

মার্কিন শিক্ষকের ৫ হাজার ডলারের সহায়তায় মরুভূমির বুকে ৫০ হাজার গাছ, ২৭ বছর পর আবেগঘন পুনর্মিলন

ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর

মার্কিন হা মলার জবাবে কুয়েত ও আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক মিসাইল-ড্রোন হা মলা
মার্কিন হা মলার জবাবে কুয়েত ও আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক মিসাইল-ড্রোন হা মলা

৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্যমতে, কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটি এবং আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার, এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গার এবং সেনা অবস্থানকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়।   কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ড্রোন ও মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এদিকে জর্ডান, কুয়েত এবং আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।   এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং সামুদ্রিক সম্পদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।   তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, মার্কিন বাহিনী মূলত বেসামরিক এলাকা এবং সরকারি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। তাদের বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজগান প্রদেশের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত ৭০ জনের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, গত ৩১ আগস্ট জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার জবাবেই তারা ইরানি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গত রাতে ইরানের নতুন নির্মিত অনেক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত।   গত জুনে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও জুলাইয়ে তা ভেস্তে যায়। এরপর ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা গত ১৬ আগস্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:৪
পিতৃহারা মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে ৪০ বছর পুরুষ সেজে কঠোর পরিশ্রম এক মায়ের

পিতৃহারা মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে ৪০ বছর পুরুষ সেজে কঠোর পরিশ্রম এক মায়ের

মিশরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-সাক্কার মৃত্যুর পর বকেয়া ঋণের কাগজ ও প্রমিসরি নোট পুড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁর ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

বাবার মৃত্যুরপর সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে সব গ্রাহকের ঋণ মাফ করলেন ব্যবসায়ীর ছেলে

প্যালেস্টাইনি জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ১০ লাখ ডলার অনুদান পিংক ফ্লয়েডের সহপ্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্সের। ছবি: সংগৃহীত

প্যালেস্টাইনি শিশুদের সহায়তায় নতুন উদ্যোগে পিঙ্ক ফ্লয়েডের রজার ওয়াটার্স

0 Comments