জর্জিয়ায় কত টাকা আয় করলে নিজেকে মধ্যবিত্ত বলা যাবে? প্রকাশ হলো নতুন হিসাব
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একজন পরিবারকে মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বছরে কমপক্ষে ৫৩ হাজার ৩২৭ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮২ ডলার আয় করতে হবে। আর রাজ্যটির মধ্যম পারিবারিক আয় ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯১ ডলার। নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেট।
সাভানাহ মর্নিং নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং দেশের ১০০টি বৃহত্তম শহরের আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের এক বছরের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা নির্ধারণে পিউ রিসার্চ সেন্টারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার রাজধানী আটলান্টায় মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বার্ষিক আয় হতে হবে অন্তত ৫৮ হাজার ৭৭৭ ডলার। এই শহরে মধ্যবিত্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩০ ডলার এবং মধ্যম পারিবারিক আয় ৮৮ হাজার ১৬৫ ডলার।
বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মধ্যবিত্ত হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আয়ের প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বছরে অন্তত প্রায় ৬৯ হাজার ৮৮৫ ডলার আয় করতে হয়। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আয়ের প্রয়োজন মিসিসিপিতে, যেখানে মধ্যবিত্তের সর্বনিম্ন সীমা ৪০ হাজার ডলারের কিছু বেশি।
স্মার্টঅ্যাসেট জানিয়েছে, মধ্যবিত্ত আয়ের সীমা নির্ধারণে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যম পারিবারিক আয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সেই মধ্যম আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত আয়কে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিসর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য নিজের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। আগামী বছর থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও কোন বয়সের শিশুরা শেয়ার পাবে, কোন জন্মতারিখের শিশুরা যোগ্য হবে এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের মধ্যেও এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাব্য যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। মাস্কের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তবে ‘প্রতিটি শিশু’ বলতে ঠিক কোন বয়সসীমার শিশুদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। ১৮ বছরের কম বয়সী সব শিশু এই সুবিধা পাবে কি না, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো তারিখের আগে বা পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য আলাদা নিয়ম থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেয়ার পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুদের পাশাপাশি গ্রিন কার্ডধারী পরিবারের সন্তান, অস্থায়ী ভিসায় বসবাসরত পরিবারের শিশু কিংবা অন্য দেশে জন্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শিশুরা এই পরিকল্পনার আওতায় আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বাবা-মাকে আবেদন করতে হবে কি না, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র লাগবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সঞ্চয়ের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি বিনিয়োগ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণ করা হবে কি না, কিংবা শেয়ার পাওয়ার জন্য আলাদা কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে কি না, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তাই অভিভাবকদের জন্য এখনই কোনো নির্দিষ্ট আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা কয়েক কোটি। প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক শিশু একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে শেয়ারের আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে শেয়ারের প্রকৃত মূল্যায়ন ও বিতরণের শর্তের ওপর। শেয়ার পাওয়া মানেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিশ্চিত হওয়া নয়, কারণ ভবিষ্যতে এর মূল্য বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইলন মাস্কের ঘোষণায় শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা থাকলেও যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও বিতরণপ্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। কোন বয়সের শিশু এই সুবিধা পাবে, জন্মতারিখের কোনো সীমা থাকবে কি না এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এর আওতায় আসবে কি না, তা জানতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।
ইরান যুদ্ধে ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যু ও আহত ৮৬৫, পেন্টাগনের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ
ব্যাংক থেকে ফোন এলেই সাবধান! এআই দিয়ে কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার
টেক্সাসের অভিবাসন কেন্দ্রে ডালাসের বাসিন্দার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ডিএনএ প্রমাণ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ২০০৯ সালে সাবেক স্বামী আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করার সময় তিনি তাঁর ভাইকে বিয়ে করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে অভিযোগের সমর্থনে এই প্রমাণ কাজে লাগানো হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট। তবে অভিযোগটি এখনো প্রমাণিত নয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনটিতে তদন্ত সম্পর্কে অবগত কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তদন্তে তথ্যদাতা, সরকারি নথি এবং সম্প্রতি পাওয়া ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, ইলহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা। অভিযোগ অনুযায়ী, এলমিকে বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সূত্রগুলোর বক্তব্যের বাইরে ডিএনএ নমুনা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বা পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট নয়। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তল্লাশিতে কিছু নথি ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাসায় তল্লাশি এবং ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য উপাদান মিলিয়ে অভিবাসন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরির সামনে মামলা উপস্থাপনের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগপত্র দাখিল বা অপরাধ প্রমাণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের আওতায় তাঁর আর্থিক বিবরণীও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেছেন, আদালত সম্ভাব্য কারণের ভিত্তি না পেলে তল্লাশির পরোয়ানা অনুমোদন করতেন না। তবে এ বক্তব্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি নেমা রাহমানি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলে মূল ঘটনার কিছু অংশ তামাদি হওয়ার সময়সীমার বাইরে থাকলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে। তদন্তের চূড়ান্ত আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময়ও একই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তখনকার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি বলে সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমান তদন্তে ওমরের জন্মতারিখ ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি এবং তাঁর প্রয়াত বাবা নুর ওমর মোহাম্মদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওমরের আইনজীবীরা তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন এবং তল্লাশিতে জব্দ করা সামগ্রী ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে ওমরকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং তল্লাশির সময় আদালতের নির্ধারিত শর্ত মানা হয়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তাদের আইনজীবী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আদালতের আদেশ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও আদালতের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে পরিবারের সঙ্গে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। তবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস সদস্যের নাগরিকত্ব বাতিল বা তাঁকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নজিরবিহীন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ওয়াশিংটন পোস্ট।
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের
নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় জোর দিতে ট্রাম্পের নির্দেশ, গঠন হচ্ছে বিশেষ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ ২০ শহরের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে আলাস্কার জুনো
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এই কর্মসূচি চালু করতে হবে। তবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন এখনো শুরু হয়নি। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ করতে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও রয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মামলাটিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দেয়, সরকার নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আদালত প্রাথমিকভাবে বাদীপক্ষের যুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেন। বিচারক ওহতা তাঁর আদেশে বলেন, পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই নিবন্ধন শুরু না করায় সরকারের পদক্ষেপ আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নিবন্ধন চালু করলে কর্মসূচির সময়সীমা-সংক্রান্ত বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে বিচারক মনে করেন, স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসরণের অজুহাতে নিবন্ধন বন্ধ রাখলে ২০২৭ অর্থবছরের লটারি আয়োজনই সম্ভব হবে না। এ কারণে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আদালত নজরদারি বজায় রাখবেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালু করতে হবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা হবে অন্তত ৩০ দিন। নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। তবে নিবন্ধন শুরুর সুনির্দিষ্ট সময়, আবেদন করার ওয়েবসাইট ও যোগ্যতার বিস্তারিত শর্ত জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের নির্দেশ জারি হওয়া মানেই নিবন্ধন ইতিমধ্যে চালু হয়েছে, এমন নয়। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে চালু হওয়া ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচিতে বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ থাকে। লটারিতে নির্বাচিত হলেই অবশ্য গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার অন্যান্য শর্ত সম্পন্ন করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে ভিসা প্রক্রিয়ায় মার্কিন স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চলমান বা বিচারাধীন মামলা নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির বিরোধিতা করেছে এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থায় কঠোরতা এনেছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লটারি চালুর আদালতের নির্দেশকে এখনই আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। নিবন্ধনের তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। ভুয়া ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিতভাবে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি। সূত্র: নিউজউইক, কোর্টহাউস নিউজ সার্ভিস, মার্কিন আদালতের সংশোধিত সময়সূচিসংক্রান্ত প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জানাজা চলাকালীন মসজিদের পাশে গোলাগুলি, নিহত এক
নিউইয়র্কের ম্যাকআর্থার বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ছোট বিমানবন্দর, সম্প্রসারণে ব্যয় ১৫ কোটি ডলার