যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে কয়েক দশক আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ শিশু যৌন নিপীড়ন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
দক্ষিণ ওয়েলসের গুয়েন্ট পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাজ্যের নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার, এডিনবার্গ এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল অ্যান্ড বিউট এলাকা থেকে এই আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। 'অপারেশন ওক' নামের বিশেষ এই পুলিশি অভিযানের আওতায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৭টি ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট ৩৪টি সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শিশু অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন নারীর সাম্প্রতিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। গ্রেপ্তারকৃত এই আটজনের বয়স বর্তমানে ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে এবং তারা প্রত্যেকেই ব্রিটিশ নাগরিক। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রয়েছেন। তারা হলেন—মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী।
এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর সব অপরাধের বিবরণ উঠে এসেছে। বার্মিংহামের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী শাফাক মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ১১ বছরের কম বয়সী ও ১৬ বছরের ঊর্ধ্বের নারী ধর্ষণসহ সর্বোচ্চ ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এডিনবার্গের মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নানের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও এর ষড়যন্ত্রসহ আটটি এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের শাকিল বাবুরের (৫৮) বিরুদ্ধে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে শ্লীলতাহানির চারটি অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নিউপোর্টের সৈয়দ মোহাম্মদ আশান তাকভি (৬৫) ও সোয়ানসির মুরাদ আলীর (৫৭) বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিউপোর্টের শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহর (৭৩) বিরুদ্ধে দুটি, টটেনহ্যামের আমিনুর রহমান চৌধুরীর (৫৮) বিরুদ্ধে একটি এবং স্কটল্যান্ডের কেভিন লরেন্সের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ওয়েলসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর জেনি হপকিন্স জানিয়েছেন, আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করতে এবং জনস্বার্থে অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটররা যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আট আসামিকে হাজির করার কথা রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের প্রবাসী কমিউনিটি ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের জেরে এবার সরাসরি ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হত্যার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের এই কর্মকাণ্ডের 'দ্রুত শাস্তি' নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টির যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা আরও দুর্বল করে দেওয়াই এই বিমান হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ভারতের গুরুগ্রামে নিজ বাবার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে তাকে গুলি করে হত্যা করেন তার বাবা দীপক যাদব। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) হয়ে খেলা এই তরুণী সম্প্রতি কোচিং পেশায় যুক্ত হয়ে একটি টেনিস একাডেমি পরিচালনা করছিলেন। গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এক তরুণীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। তবে সেখানে রাধিকার চাচা কুলদীপ যাদব ছাড়া তার বাবা-মায়ের কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কুলদীপের অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ পুলিশ স্টেশনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রাধিকার টেনিস একাডেমি চালানো নিয়ে বাবা দীপক যাদবের চরম আপত্তি ছিল। মূলত মেয়ে উপার্জন করায় স্থানীয়রা দীপককে কটূক্তি করত এবং 'মেয়ের আয়ে সংসার চলে' বলে খোঁটা দিত। নিজের কয়েকটি ছোট সম্পত্তির ভাড়া থেকে দীপকের সামান্য আয় আসত। প্রতিবেশীদের এমন উপহাস সহ্য করতে না পেরে তিনি মেয়েকে একাধিকবার একাডেমি বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু রাধিকা তাতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভে তিনি তাকে পেছন থেকে তিনবার গুলি করে হত্যা করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পুলিশের কাছে দীপক নিজের এই মর্মান্তিক অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। আইটিএফ-এর ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, রাধিকা তার ক্যারিয়ারে ৩৬টি সিঙ্গেলস এবং ৭টি ডাবলস ম্যাচ খেলেছিলেন। ২০২৪ সালের মার্চে সর্বশেষ সিঙ্গেলস এবং ২০২৩ সালের জুনে তিনি ডাবলস ম্যাচ খেলেন। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় এক বছর দূরে থাকার পর তিনি গুরুগ্রামে নিজের একাডেমিতে কোচ হিসেবে পুরোমাত্রায় কাজ শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত তার ও তার বাবার মধ্যে ভয়াবহ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে। সম্ভাবনাময় একজন ক্রীড়াবিদ ও কোচের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বাত্মক যুদ্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মহসেন রেজায়ি এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরান আর কেবল সমপর্যায়ের বা গতানুগতিক প্রতিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো দেশের 'রাজনৈতিক সীমান্ত' আর নিরাপদ থাকবে না বলেও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। মার্কিন হামলার জবাবে ইরান যে যেকোনো মুহূর্তে পুরোদমে আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলেছে এই ঘোষণায়। এদিকে মার্কিন বাহিনী টানা সপ্তম রাতের মতো শুক্রবার ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর সদরদপ্তর হিসেবে পরিচিত বন্দর আব্বাসের আশপাশের বেশ কয়েকটি সেতু, নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে মার্কিন হামলায় বন্দর আব্বাসের একটি সেতু ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক ও কেশম দ্বীপেও তীব্র বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে বসে নেই তেহরানও। জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পালটা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতের মিনা আল আহমাদি বন্দরে মার্কিন নৌবহরের জ্বালানি সহায়তা কেন্দ্র এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি ও একটি গোয়েন্দা তথ্য কেন্দ্রে হামলা করেছে। অন্যদিকে, জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১০টি ইরানি মিসাইল জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। সেখানে কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন; যদিও পেন্টাগন এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই পালটাপালটি হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র এক মাস আগে শুরু হওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে 'শেষ' বলে ঘোষণা করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি আর ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতী নন। অন্যদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাউদিও যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত 'আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের' কারণে তেহরান 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক'-এর আওতায় থাকা নিজেদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে এবং সেগুলো আর বাস্তবায়ন করছে না।