সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
পাম্পে খরচ কমাতে চালকদের বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে
পাম্পে গ্যাস নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না, জানুন কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাড়িতে গ্যাস ভরতে গিয়ে একটু সচেতন হলেই কিছুটা খরচ কমানো সম্ভব। লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার, নগদে পেমেন্ট এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনের দাম তুলনা করার মতো কয়েকটি সহজ কৌশলে প্রতি গ্যালনে সাশ্রয় করা যেতে পারে।   বর্তমানে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের হিসাবে নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালনে ৪ দশমিক ৪৭ ডলার। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম উঠেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।   এই পরিস্থিতিতে পাম্পে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে অতিরিক্ত টাকা খরচ এড়ানো যেতে পারে।   লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন   অনেক গ্যাস স্টেশন বিনামূল্যে লয়্যালটি প্রোগ্রাম বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এসব প্রোগ্রামে যুক্ত হলে প্রতি গ্যালনে ছাড়, পয়েন্ট কিংবা ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।   নিউইয়র্কের একটি এক্সন স্টেশনের উদাহরণ দিয়েছে এবিসি নিউজ। সেখানে নিয়মিত গ্যাসের দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৭৯ ডলার। তবে এক্সনের রিওয়ার্ডস অ্যাপে যুক্ত হলে নির্দিষ্ট সুবিধার মাধ্যমে দাম কমে ৪ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে আসে। অর্থাৎ প্রতি গ্যালনে ৩৪ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব হয়।   কিছু গ্যাস স্টেশন নগদে পেমেন্ট করলেও ছাড় দেয়। একই নিউইয়র্কের স্টেশনে নগদ অর্থে পেমেন্ট করলে প্রতি গ্যালনে আরও ১৬ সেন্ট কম দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে নগদে ছাড়ের পরিমাণ স্টেশনভেদে আলাদা হতে পারে।   গ্যাস নেওয়ার আগে দাম তুলনা করুন   একই শহর বা এলাকার সব গ্যাস স্টেশনে জ্বালানির দাম এক থাকে না। তাই পাম্পে ঢোকার আগে আশপাশের কয়েকটি স্টেশনের দাম তুলনা করা যেতে পারে।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ওই সময় রাজ্যটিতে নিয়মিত গ্যাসের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ০৮ ডলার। কিন্তু উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কস্টকো স্টেশনে একই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল ৫ দশমিক ৫৭ ডলারে।   আবার কস্টকো ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে গ্যাসে ৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ থাকায় কার্যকর খরচ আরও কমে ৫ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়। ওই উদাহরণে প্রতি গ্যালনে সর্বোচ্চ ৭৯ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছে।   তবে সদস্যভিত্তিক গ্যাস স্টেশনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সদস্যপদের খরচও হিসাব করা জরুরি। কস্টকোর সাধারণ সদস্যপদের বার্ষিক ফি ৬৫ ডলার। নিয়মিত বেশি পরিমাণে গ্যাস কিনলে শুধু জ্বালানিতে সাশ্রয় দিয়েই এই খরচ উঠে আসতে পারে।   গ্যাসের দাম কখনো কমতে পারে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে আরও বাড়তেও পারে। তাই নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্য পাম্পে যাওয়ার আগে দাম যাচাই করা, লয়্যালটি সুবিধা নেওয়া এবং কোথায় কম দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে নেওয়া বাড়তি খরচ কমানোর কার্যকর উপায় হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:৪৪
জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা স্বপ্নের বাড়ি নিয়ে বিপাকে জর্জিয়ার এক দম্পতি
সব পাওনা শোধ করে স্বপ্নের বাড়ি কিনেছিলেন, এক বছর পর ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় জীবনের প্রথম স্বপ্নের বাড়ি কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন এক দম্পতি। বাড়ি কেনার নথিপত্রে কোনো ধরনের বকেয়া না থাকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, হঠাৎ করেই স্থানীয় হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচওএ) তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার ডলারের বিলের অভিযোগ এনে বাড়িটি বাজেয়াপ্ত (ফোরক্লোজার) করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাতিয়ানা পিমেন্টেল নামের ওই নারী আমেরিকায় ২৫ বছর কাটানোর পর ২০২৪ সালে ডেকাব কাউন্টির হোয়াইটহল ফরেস্ট কমিউনিটিতে নিজের জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। কিন্তু এক বছর না পেরোতেই হোয়াইটহল ফরেস্ট ইস্ট কন্ডোমিনিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ তাদের পথে বসার উপক্রম করেছে।   আটলান্টা নিউজ ফার্স্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে আট হাজার ডলারের বকেয়া দাবি করা হলেও মাসিক ফি ও আইনি খরচ মিলিয়ে তা এখন ২০ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অবাক করা বিষয় হলো, তাতিয়ানা বাড়িটির মালিক হয়েছেন দুই বছরেরও কম সময় ধরে, অথচ তাকে চার বছরের বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে! বাড়ি কেনার সময় সরকারি নথিতে এইচওএ-এর ব্যালেন্স শূন্য ছিল এবং ২০২১ সালেই এই অ্যাসোসিয়েশনটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু ২০২৪ সালে ডিন হার্ড নামের এক ব্যক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচন বা ভোটাভুটি ছাড়াই নিজেকে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এটি পুনরায় চালু করেন, যা নিয়ে স্থানীয় অন্য বাসিন্দাদের মাঝেও চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।   আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রথমে কোনো আইনজীবী না পেলেও পরবর্তীতে ডেকাব প্রো বোনো-এর ক্যান্ডেস স্নিড নামের একজন আইনজীবী বিনা পারিশ্রমিকে তাদের পক্ষে লড়তে রাজি হন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে তাতিয়ানার টাইটেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ৯ হাজার ৬০০ ডলারের একটি চেক দিলেও অ্যাসোসিয়েশনটি বাড়তি কয়েক হাজার ডলার আইনি ফি দাবি করে বসে আছে। এদিকে, পুরো হোয়াইটহল ফরেস্ট কমিউনিটিই এক নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। তাদের পানির বিল বাবদ ৫১ লাখ ডলার এবং আবর্জনা পরিষ্কার বাবদ আরও ২৪ হাজার ডলার বকেয়া রয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতার কারণে কমিউনিটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মাসিক চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। উদ্ভূত এসব সমস্যার সমাধানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য সম্প্রতি এইচওএ-এর ওপর নজরদারি বাড়াতে নতুন একটি আইন পাস করলেও, তা ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:১২
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের গু লি তে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে শহরের উত্তরাংশে এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটে। অস্টিন-ট্রাভিস কাউন্টির ইএমএস প্রধান রবার্ট লাকরিৎজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই ব্যক্তির শরীরে একটি গু লি লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর। তবে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন নিশ্চিত করেছেন যে, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও আপাতত তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।   এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস। তবে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন অস্টিন ডিস্ট্রিক্ট ৭-এর সিটি কাউন্সিল সদস্য মাইক সিগেল। তিনি অভিযোগ করেন, আইসিই কর্মকর্তা প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে ওই ব্যক্তির গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেন এবং এরপর গাড়ি থেকে নেমে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গু লি চালান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে একটি ফ্লাইওভারের নিচে পার্ক করা গাঢ় নীল রঙের একটি টয়োটা করোলা গাড়ির যাত্রীর দিকের দরজায় ব্যাপক ক্ষতি ও অন্তত দুটি গু লি র ছিদ্র দেখা গেছে।   এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ এবং আইন ভঙ্গকারী আইসিই কর্মকর্তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানান। মেয়র ওয়াটসনও এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তে স্থানীয় কর্মকর্তাদের যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইসিই-এর নিজস্ব তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আসলে কী ঘটেছিল তা জানার অধিকার অস্টিনবাসীর আছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক মাত্রায় অভিবাসী বি তা ড় ন কর্মসূচির মধ্যেই এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটল। এর আগেও গত জুলাইয়ে হিউস্টনে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো এবং মেইনে জোহান সেবাস্তিয়ান নামে এক কলম্বিয়ান যুবক আইসিই কর্মকর্তাদের গু লি তে হতাহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, পরপর এসব ঘটনা অভিবাসন নীতি ও কেন্দ্রীয় এজেন্টদের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে চলমান আইনি ও মানবিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:২
গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সেলাই বিভাগে কাজ করছেন শ্রমিকেরা (সম্পাদিত ও সংগৃহিত)
বাংলাদেশের গার্মেন্টস ঠান্ডা রাখার খরচ চার বছরেই উঠে আসতে পারে, গবেষণা

বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত গরম থেকে সুরক্ষা দিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে সেই খরচ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, শ্রমিকদের তাপজনিত চাপ কমানোর পাশাপাশি এসব ব্যবস্থা কারখানার উৎপাদন ও আয় ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষণায় ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেক সময় কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি থাকে। বিশেষ করে আয়রনিং ও ফিনিশিং বিভাগে কাজ করা শ্রমিকেরা অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। অতিরিক্ত তাপের কারণে শ্রমিকদের কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানার আয়েও প্রভাব পড়ে।   গবেষকদের হিসাবে, ওই আটটি কারখানায় অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের কারণে বার্ষিক আয় গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ফলে গরমের সমস্যা শুধু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের বিষয় নয়, এটি পোশাক প্রস্তুতকারক এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে।   তাপ কমাতে ছাদে প্রতিফলনশীল রং ব্যবহার, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং কারখানায় বায়ু চলাচল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে গবেষণায়। গবেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে পারে এবং প্রায় চার বছরের মধ্যে সেই অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।   গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড রয়টার্সকে বলেন, নতুন গবেষণা পোশাকের ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকে তাপ মোকাবিলায় কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিচ্ছে। তাঁর মতে, শীতলীকরণে বিনিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে কারখানার কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা জানা না থাকলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিভিন্ন পোশাক ব্র্যান্ডও কারখানায় তাপ মোকাবিলার বিনিয়োগ কত দিনে উঠে আসতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার খরচ কে বহন করবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন। গবেষকেরা ব্র্যান্ডগুলোকে এমন সরবরাহকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যারা শ্রমিকদের জন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে।   এর আগে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও অংশীদারদের গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করা না হলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি আয় হারাতে পারে। এসব দেশ বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   এদিকে, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন বা এএএফএ গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রমিকদের অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষায় নতুন Heat Stress Toolkit প্রকাশ করেছে। এতে পোশাক ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলোর জন্য তাপ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, কর্মপদ্ধতি এবং সরবরাহকারীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তাপ মোকাবিলার কিছু বিনিয়োগ যদি কোনো কারখানার জন্য এককভাবে আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভজনক না হয়, তাহলে ব্র্যান্ডগুলোকেও সেই খরচ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।   বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং উৎপাদন ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, কারখানা ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা শুধু শ্রমিক সুরক্ষার খরচ নয়; সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হলে এটি উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি কমানোর একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৮:৪৯
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে
নেপালে বন্যার এক মাস পরও নিখোঁজ ৬ হাজার, মৃ তের সংখ্যা ছাড়াল ১,৪৫০

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় শুরু হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো খোঁজ মেলেনি প্রায় ৬ হাজার মানুষের। রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃ তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়ে গেছে। ভোতেকোশি নদীর তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাড়ি ও সেতু ভেসে যায়। এর ফলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন, যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতেও।   রোববার নেপাল পুলিশের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলমান উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আরও ম র দে হ পাওয়ায় মোট মৃ তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চিতওয়ান জেলায়, যেখানে ৩৬৭ জনের ম র দে হ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া রাসুয়ায় ২৩৬ জন, পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ২৩২ জন এবং পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ২২২ জনের ম র দে হ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নুওয়াকোট, গোর্খা, ধাদিং ও তানাহু জেলা থেকেও বহু মানুষের ম র দে হ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।   ভয়াবহ এই দুর্যোগের এক মাস পরও নিখোঁজ থাকা প্রায় ৬ হাজার মানুষের সন্ধানে নদীর তীরবর্তী এলাকা, পলিমাটি জমে থাকা স্থান এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে চিরুনি তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকর্মীরা। রাসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে মাটি ও রডের জালের নিচ থেকে ১৭টি ম র দে হ উদ্ধারের জন্য গ্যাস কাটার ও গ্রাইন্ডারের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে এই কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম র দে হ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া। পানিতে ভেসে থাকা অধিকাংশ ম র দে হ পচে গলে বা খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় থাকছে না। এখন পর্যন্ত ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ম র দে হ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে মাত্র ১১০টি ম র দে হ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।   বন্যার ভয়াল থাবায় নেপালের বন্যাদুর্গত অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ঘরবাড়ি ও সম্বল হারিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলো এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙা সেতু এবং রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ শুরু করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারঘাট, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৮:২৫
৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক
৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভার্জিনিয়া টেক সম্প্রতি বার্ষিক ৫৪ হাজার ডলার বেতনে একজন 'রোটেটিং ইন্টার্ন' নিয়োগের জন্য এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার আবেদন করেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে দেশীয় কর্মীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে বিদেশি কর্মী আনার অভিযোগ তুলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্রিস ব্রুনেট নামের এক ব্যক্তি মার্কিন শ্রম দপ্তরের একটি লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের (LCA) ছবি শেয়ার করে দাবি করেন, এই পদের জন্য কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক পাওয়া যায়নি বলেই প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তার এই পোস্টটি শেয়ার করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (রিপাবলিকান) রাইলি এম. মুর এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন।   ৫৪ হাজার ডলার বেতনের একটি ইন্টার্ন পদের জন্য একজনও যোগ্য আমেরিকান খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি এই কর্মসূচিকে ‘স্ক্যাম’ বা প্রতারণা আখ্যা দেন এবং অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান।   তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই নথিটি মূলত একটি এলসিএ (LCA), যা এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। মার্কিন শ্রম দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে এই আবেদন করে থাকে। এর মানে এই নয় যে, কোনো বিদেশি কর্মীকে ইতোমধ্যেই নিয়োগ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে বা ভিসা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে গেছে।   এলসিএ জমা দেওয়ার সময় নিয়োগকর্তাকে আইনিভাবে নিশ্চিত করতে হয় যে, তারা কর্মীকে নির্দিষ্ট বা প্রচলিত মজুরি প্রদান করবে এবং এর ফলে সমমনা দেশীয় কর্মীদের কাজের পরিবেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   ভার্জিনিয়া টেকের ক্ষেত্রে কেবল এই এলসিএ নথির ওপর ভিত্তি করে এমনটি প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই যে, তারা মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে ইচ্ছে করেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে কিংবা ওই পদের জন্য কতজন মার্কিনি আবেদন করেছিলেন।   পাবলিক ডেটাবেস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভার্জিনিয়া টেক (যার আইনি নাম ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অ্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি) এর আগেও 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন করেছিল, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেতনসীমা ছিল ৪০ হাজার থেকে ৫২ হাজার ডলারের মধ্যে।   এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও বিশেষায়িত পদের জন্য তৈরি হলেও, 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এই ভিসার ব্যবহার এবং এর বেতনকাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, যে কাজগুলো মার্কিন কর্মীরা খুব সহজেই করতে পারেন, সেগুলোর জন্যই সস্তা বিদেশি শ্রমিকের খোঁজে এই ভিসার অপব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:৫৪
অ্যামাজন প্রাইমের যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড
প্রাইম সাবস্ক্রাইবারদের অ্যাকাউন্টে আসছে ২০০ ডলার, কারা পাবেন এই অর্থ

অ্যামাজন প্রাইমের গ্রাহকদের জন্য রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়ছে। ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে অ্যামাজনের প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের সমঝোতার আওতায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে সবাই এই অর্থ পাবেন না, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।   এর আগে যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমা বেড়ে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।   নতুন নিয়মে আগে যেসব প্রাইম গ্রাহক ১০টির কম সুবিধা ব্যবহার করেছেন, তাদের পাশাপাশি ১১ থেকে ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকরাও রিফান্ডের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। অর্থাৎ আগের তুলনায় আরও বেশি গ্রাহক এই অর্থ ফেরতের আওতায় আসতে পারেন।   রিফান্ডের অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যোগ্য গ্রাহকদের ভেনমো, পেপ্যাল অথবা চেকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতে পারে। তবে কার কত টাকা ফেরত দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যামাজন প্রাইম ব্যবহারের তথ্য ও যোগ্যতার ওপর।   যেসব গ্রাহক এরই মধ্যে রিফান্ড পেয়েছেন, তারাও অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তহবিল অবশিষ্ট থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন। সব মিলিয়ে একজন গ্রাহকের মোট রিফান্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   এফটিসির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন গ্রাহকদের প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা গ্রাহকদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই অ্যামাজনকে গ্রাহকদের রিফান্ড দেওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের দেওয়ানি জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে।   সমঝোতার আওতায় অ্যামাজন রিফান্ডের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার এবং দেওয়ানি জরিমানা হিসেবে আরও ১০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। রিফান্ডের অর্থ বিতরণের পরবর্তী ধাপ ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এফটিসি—রিফান্ডের নামে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বা টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রাইবাররা তাদের যোগ্যতা ও রিফান্ড পাওয়ার বিষয়ে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করাই নিরাপদ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:৫৩
কিশোরী দারিয়া সারকভের স্মরণে ব্যস্ত সড়কে রাখা সিটি বাইকের পাশে ফুল ও বেলুন (প্রতীকী ছবি)
সাইকেল চালাতে ভালোবাসত দারিয়া, নিউইয়র্কে সেই সিটি বাইকেই হলো শেষ যাত্রা

সাইকেল চালাতে খুব ভালোবাসত ১৫ বছরের দারিয়া সারকভ। নিয়মিত সাইকেল চালানোর স্মৃতির মধ্যে সিটি বাইকে তোলা একটি ছবিও রয়েছে তার। কিন্তু এক বছর পর সেই সিটি বাইকেই চড়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল কিশোরীটি।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ম্যানহাটনের ইস্ট ভিলেজ এলাকায় ১৪তম স্ট্রিটে ১৩ বছর বয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে সিটি বাইকে যাচ্ছিল দারিয়া। এ সময় একটি ভারী নির্মাণকাজের ট্রাকের সঙ্গে তার সাইকেলের সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত দারিয়াকে উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই প্রায় ১০ মিনিট ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   দুর্ঘটনায় দারিয়া ও তার সাইকেল ভারী গাড়িটির নিচে আটকে যায় বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে থাকা ১৩ বছর বয়সী বন্ধুটিও আহত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দারিয়ার পরিণতি বুঝতে পেরে চালক কান্নায় ভেঙে পড়েন।   দারিয়ার পরিবারের এক বন্ধু ক্রিস জ্যানসেন জানিয়েছেন, পরিবারের জন্য এই কঠিন সময়ে সহায়তা করতে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। দারিয়ার শেষকৃত্যসহ অন্যান্য খরচ এবং পরিবারকে সহযোগিতার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। রোববার সকাল পর্যন্ত তহবিলে ৬২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি জমা পড়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারিয়ার সাইকেল চালানোর বেশ কিছু ছবি রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তোলা একটি ছবিতে তাকে সিটি বাইকে দেখা যায়। দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর আগে তোলা সেই ছবিটি এখন পরিবারের কাছে দারিয়ার আনন্দময় সময়ের একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে উঠেছে।   দারিয়ার যমজ বোন গ্রেটার পাশেও দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন পরিবারের বন্ধুরা। পরিবারের বন্ধু জ্যানসেন দারিয়ার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:৪১
নিউইয়র্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেয়র জোহরান মামদানি
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটি ও এর বাসিন্দাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় বা সময় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়নি।   ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগে দুইবার সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার হোয়াইট হাউসে তাদের সাক্ষাৎ হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা বৈঠক করেন, যেখানে নিউইয়র্কের আবাসন উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   রাজনৈতিকভাবে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলেও আগের বৈঠকগুলোতে তাদের আলোচনার পরিবেশ ছিল তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। পরে অবশ্য মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।   ফেব্রুয়ারির বৈঠকে মামদানি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের আদলে তৈরি একটি বিশেষ পত্রিকার প্রথম পাতা উপহার দেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’। ১৯৭৫ সালের আলোচিত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের আদলে তৈরি করা ওই উপহার দিয়ে নিউইয়র্কে নতুন ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন।   সোমবারের বৈঠকটি নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। এর পর ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:২৫
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে—সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এমন উদ্বেগ ও জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।   সম্প্রতি সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জো লিং কেন্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এআই সংক্রান্ত সব ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ বা বিশ্ব ধ্বংসের তত্ত্বকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। হুয়াং জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই এবং এর সম্ভাবনা একেবারে শূন্য শতাংশ। তিনি আরও যোগ করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া অকারণে মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।   সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের পর। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপাররা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দায়িত্বহীনভাবে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার শামিল।   তাঁর এমন আশঙ্কার পর অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদেউ এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ বেশ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা এআইয়ের উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানান। তবে জেনসেন হুয়াং এই ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান এআই বিপ্লবে এনভিডিয়া অন্যতম প্রধান অংশীদার, যারা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিকে তাদের মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহ করে থাকে।   এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো নীতিমালার বা ‘গার্ডরেইল’-এর প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতের সাথে সুর মিলিয়ে জানান যে, বর্তমান মার্কিন আইনই যথেষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা, পণ্যের দায়বদ্ধতা এবং অননুমোদিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেই এআই খাতকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।   এনভিডিয়া সিইওর মতে, বিশ্ব ধ্বংসের মতো কাল্পনিক গল্পের দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের বর্তমান আইনি কাঠামোর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:২১
অবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অ-মার্কিন নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করা এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।   ডিওজে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার মামলাগুলোর ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিভাগটি অবৈধভাবে মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করেছে।   ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বসবাসকারী আটজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আইডাহো, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, উইসকনসিন, নিউ জার্সি ও মিশিগানেও মামলা হয়েছে।   অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া। তদন্তে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি, তার জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে।   জর্জিয়ায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও ডিএসিএ সুবিধাভোগী অ্যানালিয়া মিলিসেন্ট একলেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নয়বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।   আইডাহোতে বসবাসকারী মেক্সিকোর নাগরিক অ্যাভিলা গোমেজের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি এবং ২০২২ সালের মে ও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হয়েছে।   নিউ জার্সিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা সান্তানা কৌলিবালির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   নাইজেরিয়ার নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা গ্ল্যাডিস আদাইজে ওকাফোরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ডিওজের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন।   ডিওজের ফ্রড বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত ৫০ জন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখের বেশি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।   তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবারের এসব মামলা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সব আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:১৪
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় টিম কুক ও অ্যান্থনি আলবানিজ
অস্ট্রেলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিম কুকের প্রশংসা, নজরে শিশুদের নিরাপত্তা

অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ অনলাইন নিরাপত্তা উদ্যোগকে ‘বিশ্বসেরা’ বলে প্রশংসা করেছেন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল পার্কে কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ কথা জানিয়েছেন।   রোববার অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রচারিত বক্তব্যে আলবানিজ বলেন, কুক তাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যে কাজ করছে, সেটিকে তিনি ‘বিশ্বসেরা’ হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।   অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। দেশটি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম এমন উদ্যোগ নেয়। চলতি মাসে অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিডে কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে চান, সে বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়েছে সরকার।   বৈঠকে কুক আলবানিজকে অ্যাপলের নতুন কিছু নিরাপত্তা ফিচার দেখান। এসব ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে—এসব বিষয় আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।   অ্যাপলের পক্ষ থেকেও কুকের বক্তব্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। কুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আলবানিজের সঙ্গে নতুন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও কথা বলেছেন আলবানিজ। তার মতে, এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই এর ব্যবহারের জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রয়োজন এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা উচিত। অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থান এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়ার অভিযোগ
গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে প্তার মেক্সিকান নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মেক্সিকোর এক গ্রিন কার্ডধারীকে গ্রে প্তার করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। ৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের এল পাসোতে লুডভিগ উরিয়েল এসপেহো-ক্যারিলোকে গ্রে প্তার করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, এসপেহো-ক্যারিলোর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন। বর্তমানে তাকে আইসিইর হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।   মার্কিন আইন অনুযায়ী, অ-মার্কিন নাগরিকরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। একইভাবে কোনো অ-মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়া ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন। তবে কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ ভোট ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে দেশজুড়ে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়া, নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতারণা এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো অভিযোগ রয়েছে।   টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টে সাতজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধেও ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বৈধ গ্রিন কার্ডধারী।   তবে এসব মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে মাত্র; আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিচার বিভাগও তাদের সাম্প্রতিক ঘোষণায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।   অন্যদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কোনো অ-মার্কিন নাগরিক ফেডারেল বা রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্মন্ট, মেরিল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসির অন্তত ১৬টি স্থানীয় এলাকায় স্কুল বোর্ড, সিটি কাউন্সিল বা মেয়র নির্বাচনের মতো কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অনুমতি রয়েছে।   এসপেহো-ক্যারিলোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন বিচার বিভাগ অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া এবং নির্বাচনী নিবন্ধন নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা ঘোষণা করেছে। তবে এসব পৃথক মামলার অভিযোগ ও প্রমাণ আদালতে বিচারাধীন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:৪৪
ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা
ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:৩১
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:১৭
১২ লাখ ডলারের সঞ্চয়ে স্টেটভেদে বদলে যাচ্ছে অবসরজীবনের হিসাব
১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:২
ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার সেজে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ভুয়া ফুটবলার সেজে ১৩ কোটি টাকার প্র তা র ণা, সামনে এল আরও ৩৫ নারী

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার পরিচয়ে নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে আরও ৩৫ নারী সামনে এসেছেন। এ নিয়ে এফবিআইয়ের কাছে সম্ভাব্য ভু ক্ত ভো গীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার পোর্টল্যান্ড এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ ডগ ওলসন জানান, নতুন করে সামনে আসা ৩৫ নারী সত্যিই ডেজন লাভ ও টেলর চ্যানের প্র তা র ণার শিকার হয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ওলসন বলেন, অল্প সময়ে এত বেশি মানুষ ভু ক্ত ভো গী হওয়া এবং পরে আরও অনেকে সামনে আসায় তারা বিস্মিত। একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অন্যরাও মানুষকে টা র্গে ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে এফবিআই। এফবিআইয়ের ধারণা, লাভ ও চ্যানের আরও ভু ক্ত ভো গী থাকতে পারেন, যারা এখনো সামনে আসেননি। তাদের তথ্য দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। লজ্জা বা সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে কেউ যেন বিষয়টি গোপন না করেন, সে আহ্বানও জানিয়েছেন ওলসন। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর লাভ ও চ্যানের বি রু দ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এফবিআই। অভিযোগের সময়কাল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত। ওই দিন আইডাহোর বোইসি বিমানবন্দর থেকে দুজনকে আ ট ক করা হয়। তাদের বি রু দ্ধে ওয়্যার ফ্রড ও ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যে ২৬ জন পরিচিত ভু ক্ত ভো গীর কাছ থেকে ১৩ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী লাভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে নিজেকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্সের আমেরিকান ফুটবলার এবং ধনী সুইস রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী চ্যান কখনো লাভের আর্থিক পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি নারীদের বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, লাভের কাছে দেওয়া অর্থ তিনি বিনিয়োগ করবেন। এফবিআই কর্মকর্তা ওলসন জানান, প্রতিটি নারীর জন্য আলাদা কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। সবাইকে আমেরিকান ফুটবলারের পরিচয় দেওয়া হয়নি। তবে লাভ নিজের আর্থিক সামর্থ্য বোঝাতে পেশাদার খেলোয়াড়ের পরিচয়টি প্রায়ই ব্যবহার করতেন। তার পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই। কেউ তার পরিচয় যাচাই করতে গেলে সার্চের ফলাফলে যেন সেই তথ্যই দেখতে পান, সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের ভাষ্য, সাজানো বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট, ভুয়া ভিডিও কল এবং এআই-নির্ভর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের বিশ্বাস অর্জন করা হতো। এরপর তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। এদিকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেজন লাভ নামে কাউকে তারা চিনত না। আগস্টে এফবিআই যোগাযোগ করার আগে তার বিষয়ে দলটির কাছে কোনো তথ্যও ছিল না। এফবিআই জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করেছে ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ। যাচাই করে দেখা গেছে, লাভ কখনো ওই দলের খেলোয়াড় বা কর্মী ছিলেন না। এমনকি তিনি কখনো এনএফএলেও খেলেননি। উল্লেখ্য, আমেরিকান ফুটবল বিশ্বে প্রচলিত ফুটবলের চেয়ে আলাদা একটি খেলা। এতে মূলত হাতে বল নিয়ে খেলা হয়, পাশাপাশি পা দিয়েও কিক করা যায়; ডিম্বাকৃতির বল ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় এবং বল প্রতিপক্ষের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারলে পয়েন্ট পাওয়া যায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৫:২৬
ট্রাম্পের ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চে’ থাকবে ড্রোন ও স্নাইপার
স্মৃতিস্তম্ভের বদলে সামরিক কমপ্লেক্স! ট্রাম্পের আর্চে থাকবে ড্রোন-স্নাইপার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা ২৫০ ফুট উঁচু ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’কে সামরিক স্থাপনা হিসেবেও ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই স্থাপনায় ড্রোন, স্নাইপার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখা হবে।   রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুরোধে তিনি আর্চটিকে একটি ‘উচ্চমানের সামরিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থাপনাটির ছাদ ও প্লাজা এলাকায় স্নাইপার মোতায়েন করা যাবে এবং দ্রুত ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক ড্রোন রাখা হবে। স্নাইপারদের জন্য বড় পরিমাণ গোলাবারুদ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।   আর্চটি ওয়াশিংটনের মেমোরিয়াল ব্রিজের পাশে, লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছাকাছি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উচ্চতা হবে প্রায় ২৫০ ফুট বা ৭৬ মিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্প এর আগে আর্চটিকে ওয়াশিংটনের সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এখন সেটির সঙ্গে সামরিক ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করার কথা জানালেন তিনি।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণকারী সংগঠন, ভেটেরানদের একটি অংশ এবং স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ এর বিরোধিতা করছেন। আর্চটি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আর্চটি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ বলছেন, স্থাপনাটি ওয়াশিংটনের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:৪৫
এক লাফে পেট্রলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় মাথায় হাত ভোক্তার (প্রতীকী ছবি)
বাংলাদেশে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, ২০২২ সালের পর একবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

বাংলাদেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে। ২০২২ সালের পর একবারে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন দাম ঘোষণা করে। সোমবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। এর আগে গত এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বড় পরিমাণে বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়। এরপর জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হলেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ওই দামই বহাল ছিল। নতুন দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবের কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও দেশে একই হারে সমন্বয় করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে বিপিসির প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং একই পরিস্থিতি চললে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। সরকারের হিসাবে, চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর পেছনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দামের ব্যবধানকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী ও অন্যান্য কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বেশি। দেশে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সরকার। এ ছাড়া এলএনজি খাতে ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয়ের বিষয়টিও দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের মূল্য কাঠামোর বিস্তারিতও দেওয়া হয়েছে। কর-পরবর্তী এক্স-রিফাইনারি মূল্য ডিজেলের ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা, কেরোসিনে ১৪৩ টাকা ৭৮ পয়সা, অকটেনে ১৪৯ টাকা ৭৮ পয়সা এবং পেট্রোলে ১৪৪ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ভ্যাট, শুল্ক, বিপণন কোম্পানির মার্জিন, পরিবহন ব্যয়, বিপিসির উন্নয়ন তহবিল, ডিলার ও এজেন্ট কমিশনসহ বিভিন্ন খরচ যোগ করে ভোক্তা পর্যায়ের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চের দামের সঙ্গে তুলনা করলে সোমবার থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা, অকটেনে ৪৫ টাকা, পেট্রোলে ৪৪ টাকা এবং কেরোসিনে ৪৩ টাকা বেশি হবে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মার্জিন, ভ্যাট ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:২৭
যুদ্ধের ধাক্কায় ইরানে পেট্রল সংকট, স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি
পেট্রল সংকটে বিপর্যস্ত ইরান, দাম দ্বিগুণের পথে: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে পেট্রলের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের পর গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সরকার পেট্রলের দাম দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে। ইরানের পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক কমিশনের সদস্য জাফর ঘাদেরি জানিয়েছেন, দেশটিতে প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি লিটার পেট্রলের ঘাটতি রয়েছে। আমদানি করা পেট্রলের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ১ ডলার খরচ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। আগে আমদানির প্রায় ৮৩ শতাংশই দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রপথে আসত। রাজধানী তেহরানের ভেলেনজাক, ফারমানিয়েহ ও পাসদারানসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল স্টেশনে দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মাশহাদ, রাশত, সারাভান ও চাবাহারেও। কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে, আবার অনেক স্টেশন জ্বালানি শেষ হয়ে বন্ধ রয়েছে। এক বাসিন্দা জানান, পেট্রল পেতে তাঁকে পাঁচটি স্টেশনে যেতে হয়েছে। সংকটের আরেকটি দিক হলো জ্বালানির মান। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পেট্রল নেওয়ার পর গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা, সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠা, গতি কমে যাওয়া ও ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। শাহর-ই রে ও রাফসানজানেও জ্বালানি নেওয়ার পর একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল বিকল হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকে পানি ঢোকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সমস্যার ঘটনায় জ্বালানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পেট্রল উৎপাদনে মিথানলের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত মাত্রার বেশি মিথানল থাকলে গাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থা ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দেশটির তেল মন্ত্রণালয় বলছে, মিথানলের ব্যবহার সীমিত এবং নির্ধারিত মান মেনেই করা হচ্ছে। এর মধ্যে পেট্রলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে ইরান সরকার। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় স্তরের পেট্রলের দাম ৫ হাজার থেকে বেড়ে ১০ হাজার তোমানে উঠবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ের তুলনায় পেট্রল অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক ইরানি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বলেও বিভিন্ন বাসিন্দা জানিয়েছেন। পেট্রলের সংকটে যানবাহন কম চলাচল, গাড়ি মেরামতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকার জ্বালানি সংকটের জন্য যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আমদানির উচ্চ ব্যয়কে দায়ী করছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শোধনাগার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের ঘাটতি, পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থা, জ্বালানি-অদক্ষ গাড়ি উৎপাদন এবং সামরিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যয়ের কারণেও বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানে পেট্রল সংকট এখন শুধু জ্বালানি পাওয়ার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি দাম, জ্বালানির মান নিয়ে উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:৪