- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে পেট্রলের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের পর গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সরকার পেট্রলের দাম দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে। ইরানের পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক কমিশনের সদস্য জাফর ঘাদেরি জানিয়েছেন, দেশটিতে প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি লিটার পেট্রলের ঘাটতি রয়েছে। আমদানি করা পেট্রলের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ১ ডলার খরচ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। আগে আমদানির প্রায় ৮৩ শতাংশই দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রপথে আসত। রাজধানী তেহরানের ভেলেনজাক, ফারমানিয়েহ ও পাসদারানসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল স্টেশনে দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মাশহাদ, রাশত, সারাভান ও চাবাহারেও। কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে, আবার অনেক স্টেশন জ্বালানি শেষ হয়ে বন্ধ রয়েছে। এক বাসিন্দা জানান, পেট্রল পেতে তাঁকে পাঁচটি স্টেশনে যেতে হয়েছে। সংকটের আরেকটি দিক হলো জ্বালানির মান। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পেট্রল নেওয়ার পর গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা, সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠা, গতি কমে যাওয়া ও ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। শাহর-ই রে ও রাফসানজানেও জ্বালানি নেওয়ার পর একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল বিকল হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকে পানি ঢোকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সমস্যার ঘটনায় জ্বালানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পেট্রল উৎপাদনে মিথানলের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত মাত্রার বেশি মিথানল থাকলে গাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থা ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দেশটির তেল মন্ত্রণালয় বলছে, মিথানলের ব্যবহার সীমিত এবং নির্ধারিত মান মেনেই করা হচ্ছে। এর মধ্যে পেট্রলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে ইরান সরকার। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় স্তরের পেট্রলের দাম ৫ হাজার থেকে বেড়ে ১০ হাজার তোমানে উঠবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ের তুলনায় পেট্রল অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক ইরানি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বলেও বিভিন্ন বাসিন্দা জানিয়েছেন। পেট্রলের সংকটে যানবাহন কম চলাচল, গাড়ি মেরামতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকার জ্বালানি সংকটের জন্য যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আমদানির উচ্চ ব্যয়কে দায়ী করছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শোধনাগার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের ঘাটতি, পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থা, জ্বালানি-অদক্ষ গাড়ি উৎপাদন এবং সামরিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যয়ের কারণেও বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানে পেট্রল সংকট এখন শুধু জ্বালানি পাওয়ার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি দাম, জ্বালানির মান নিয়ে উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ।
‘জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চিত’—নিজের লেখা বইয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান মূল্যায়ন করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, নেতৃত্বে পরিবর্তনসহ পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের ৪ মে মৃত্যুর আগে ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটি লিখে যান আবদুর রাজ্জাক। বইটি গত মাসে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) প্রকাশ করে। বইয়ের শেষ দিকে ‘জামায়াতের সামনে এগোনোর পথ’ অধ্যায়ে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন তিনি। আবদুর রাজ্জাকের মতে, ১৯৭১ সালের ভূমিকা এখনো জামায়াতের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলছে। স্বাধীনতাসংগ্রামের বিরোধিতা এবং সে সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটি পুরোপুরি জবাবদিহি করেনি—এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, অতীতের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জামায়াতের পক্ষে টেকসই রাজনৈতিক পুনরুত্থান কঠিন। এজন্য নিজেদের ইতিহাসের সঙ্গে সৎভাবে সম্পৃক্ত হয়ে দায় স্বীকার ও আত্মসমালোচনার পথে যেতে হবে। দলের সাংগঠনিক কাঠামোকেও বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখেছেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর ভাষ্য, দ্রুত পরিবর্তনশীল বাংলাদেশে জামায়াত এখনো অনেকটাই পুরোনো ও রক্ষণশীল কাঠামোয় আটকে আছে। এতে তরুণদের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ছে। তরুণ কর্মীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়া এবং নতুন চিন্তার প্রতি অনাগ্রহ দলটির ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। জামায়াতের ভাবমূর্তির সংকট নিয়েও বইয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দলটির ওপর রাজনৈতিক ও আবেগগত প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন রাজ্জাক। একই সঙ্গে কঠোর রক্ষণশীল ও আধুনিকতার প্রতি অনাগ্রহী দল হিসেবে জামায়াতের যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা শহুরে ও শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশকে দূরে রাখছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় চাপ, গণমাধ্যমে প্রান্তিকতা ও আইনি চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত অনেক সময় নিজেদের নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছে বলেও বইয়ে উল্লেখ করেছেন রাজ্জাক। তাঁর মতে, এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও জাতীয় ইস্যুতে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। ১৯৮৬ সালে জামায়াতে যোগ দেওয়া আবদুর রাজ্জাক ২০০৩ সালে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়ার প্রশ্নে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন সময়ের সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করলেও জামায়াত পুরোনো বয়ান ও কৌশলে আটকে আছে বলে মনে করেন রাজ্জাক। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের সময়ও দলটি রাজনৈতিকভাবে বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে না পারাকে তিনি দলটির অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বইয়ের শেষাংশে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে জামায়াতকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। এগুলো হলো— ১. অতীতের মুখোমুখি হওয়া: ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দেওয়া। ২. নেতৃত্বের আধুনিকায়ন: তরুণ ও সংস্কারপন্থীদের নেতৃত্বে আনা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো। ৩. রাজনৈতিক কর্মসূচির বৈচিত্র্য আনা: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া। ৪. তরুণদের সম্পৃক্ত করা: তরুণদের আকৃষ্ট করতে সময়োপযোগী রাজনৈতিক বয়ান ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। ৫. আস্থা পুনর্গঠন: নাগরিক সমাজের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং জাতীয় ইস্যুতে উন্মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপে অংশ নেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে মাঝারি আয়ের একজন পূর্ণকালীন কর্মীর বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হতে পারে। নতুন এক হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত হার কতটা বাড়ানো হবে তার ওপর নির্ভর করে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটির মাসিক সুবিধা পরিশোধে সহায়তা করা ট্রাস্ট তহবিল ২০৩২ সালের শেষ তিন মাসে শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সর্বশেষ ট্রাস্টি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তহবিলের ঘাটতি পূরণে অন্য কোনো ব্যবস্থা না নিলে তখন সুবিধাভোগীদের জন্য একসঙ্গে ২২ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এই ট্যাক্স কর্মী ও নিয়োগকর্তা সমানভাবে বহন করেন। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই ট্যাক্স প্রযোজ্য। সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট সামাল দিতে এই হার বাড়ানোর বিষয়টি অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিকদের বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের এক হিসাব অনুযায়ী, বছরে ৬১ হাজার ৫৮৩ ডলার আয় করা একজন মাঝারি আয়ের পূর্ণকালীন কর্মীর অতিরিক্ত ট্যাক্স বছরে প্রায় ২ হাজার ৬১৭ থেকে ৩ হাজার ২৪ ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই হিসাব নির্ভর করছে নতুন বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার কত নির্ধারণ করা হবে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তার ওপর। সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্টিরা চলতি বছর হিসাব করে দেখেছেন, তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি পূরণে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার ১৬ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের আগের এক হিসাব অনুযায়ী, এই হার ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ হলে অর্থসংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ট্যাক্সের পুরোটা কর্মীর বেতন থেকে কাটা হবে এমন নয়। কারণ বর্তমানে এই ট্যাক্স কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে ভাগ করা থাকে। তবে যারা স্বনিযুক্ত, তাদের পুরো যৌথ হার নিজেরাই পরিশোধ করতে হয়। ফলে ট্যাক্সের হার বাড়লে এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর সরাসরি বেশি আর্থিক চাপ পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্যাক্স বাড়ার প্রভাব শুধু বেতন থেকে কেটে নেওয়া অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ডুরান্তের মতে, অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী নিয়োগকর্তার অংশের বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের বোঝাও দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের কম মজুরির মাধ্যমে বহন করতে হতে পারে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের একটি বিশ্লেষণেও বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, এক শতাংশীয় পয়েন্ট ট্যাক্স বাড়ানো হলে স্বল্পমেয়াদে কর্মীরা এর প্রায় ৫৮ শতাংশ আর্থিক প্রভাব বহন করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। সামাজিক নিরাপত্তার মতো অর্থ স্থানান্তরমূলক ব্যয়ে রাজস্ব ব্যবহার করা হলে কর্মীদের ওপর মোট আর্থিক প্রভাব রাজস্ব বৃদ্ধির পরিমাণের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় শুধু ট্যাক্সের হার বাড়ানোর প্রস্তাবই নেই। বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত যে ট্যাক্স প্রযোজ্য, সেই সীমা বাড়ানোর দাবিও রয়েছে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও সিনেটর বার্নি মোরেনোসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বেশি আয়ের মানুষের ওপর আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের জন্য এই সীমা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই পরিকল্পনা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, আয়সীমা তুলে দেওয়ার মতো একটি পরিকল্পনা তহবিলকে মাত্র চার বছর পর্যন্ত ঘাটতির বাইরে রাখতে পারে। এরপর আবার অর্থসংকট দেখা দিতে পারে। আরও কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পূর্ণ অবসর বয়স ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা সুবিধার পরিমাণ সীমিত করা। বর্তমানে পূর্ণ অবসর বয়স ৬৭ বছর। প্রতি বছর তিন মাস করে এটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কার্যত সুবিধা কমানোর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এগুলোও বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পূর্ণ অবসর বয়স ৬৯ বছরে উন্নীত করা হলে তা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নতুন অবসরগ্রহণকারীদের সুবিধা সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়, বার্ষিক কোলা হিসাব করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের কোলা নির্ধারণের একটি প্রস্তাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এই প্রস্তাবে ২০তম শতাংশক স্তরের একজন সুবিধাভোগী যে কোলা পান, সেটিকেই সবার জন্য নির্ধারিত করার কথা বলা হয়েছে। এআরপির মতে, এমন ব্যবস্থা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ মানুষ তুলনামূলক কম সুবিধা পেতে পারেন। সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। সাবেক মার্কিন মিন্ট পরিচালক ফিলিপ ডাইলের মতে, এই সংকট সমাধানে সম্ভবত একটি মাত্র পদক্ষেপ যথেষ্ট হবে না। তার মতে, একাধিক পদক্ষেপ একসঙ্গে নিতে হতে পারে এবং এর ফলে বিভিন্ন পক্ষকেই আর্থিক চাপ বহন করতে হবে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত প্যাকেজে এস-৩০০-এর আদলে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র, জিএএম-৬৭ ক্ষেপণাস্ত্র, বর্ধিত পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা রকেট ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রতিরোধী রাডার রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কংগ্রেসে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইউক্রেন বর্ধিত পাল্লার লেজার-নির্দেশিত আকাশ প্রতিরক্ষা রকেট ব্যবস্থা, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পরিবর্তনের কিট এবং ড্রোন প্রতিরোধী রাডারও চেয়েছে। এসব সরঞ্জাম ইউক্রেনের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্যাকেজে রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিক্রির মধ্যে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার নয়, বিভিন্ন সহায়ক সরঞ্জামও রয়েছে। এর মধ্যে খাড়া করে স্থাপনযোগ্য মাস্ট ট্রেলার, খুচরা যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার এবং প্রকৌশল ও লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাও প্যাকেজটির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এর অর্থায়ন ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া অর্থ এবং আগের মার্কিন প্রশাসনের সময়ে বরাদ্দ করা বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন থেকে করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই অর্থ একের বিনিময়ে এক অনুপাতে ইউক্রেন পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান হিসেবে গণনা করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিক্রির লক্ষ্য ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো। দপ্তরটি বলেছে, এই বিক্রি আঞ্চলিক মৌলিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না। একই সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে ইউক্রেনে অতিরিক্ত কোনো মার্কিন সামরিক বা সরকারি কর্মী পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অস্ত্র সরবরাহ চুক্তি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এটিকে সম্ভাব্য বৈদেশিক সামরিক বিক্রির অনুমোদন হিসেবে জানিয়েছে। ফলে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি কার্যকর হবে। এই ঘোষণার আগে ও একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, চলতি বছরে ইউক্রেনের ৫ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ও ২২০টির বেশি বসতি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইউক্রেন ওই দাবির তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি এবং চলমান যুদ্ধের কারণে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই কঠিন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একই দিনে রাশিয়ার হামলার জবাবে নতুন দূরপাল্লার হামলার প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি বলেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মার্কিন প্যাকেজটি মূলত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে। ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পরিবর্তনের সরঞ্জাম এবং কারিগরি সহায়তার সমন্বয়ে তৈরি এই সম্ভাব্য বিক্রির আনুমানিক মূল্য ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছের লাফায়েত স্কয়ার এলাকায় শনিবার দুপুরে এক ব্যক্তি গাড়ি ফুটপাথে তুলে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেন। ১৬তম স্ট্রিট ও এইচ স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে নিরাপত্তাবেষ্টনীর পাশে গাড়িটি নেওয়ার ঘটনায় দ্রুত মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে কাছের একটি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য নেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুরের দিকে লাফায়েত স্কয়ারের কাছে। ওই ব্যক্তি নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাছাকাছি ফুটপাথে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা তৈরি হয়। আশপাশের সড়কও সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ওই গাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও বিপজ্জনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। আটকের সময় ওই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানাচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন না। তিনি মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থান করছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের একজন মুখপাত্র জানান, ব্যক্তিটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য। তবে তার পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিপজ্জনক বস্তু না পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও লাফায়েত স্কয়ারের আশপাশে যানবাহন নিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের মার্চে ম্যাডিসন প্লেস ও এইচ স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি গাড়ি অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। চালককে পরে আটক করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ধূসর রঙের আকিউরা গাড়ির চালক হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করার পর গ্রেপ্তার হন। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুতর ঘটনার কারণে হোয়াইট হাউসের আশপাশে এমন যেকোনো অস্বাভাবিক যানবাহন চলাচলকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটন হিলটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী কোল অ্যালেনকে অভিযুক্ত করা হয় এবং একজন সিক্রেট সার্ভিস অফিসার গুলিতে আঘাত পেলেও বুলেটপ্রুফ ভেস্টের কারণে গুরুতর আহত হননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টাসহ ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় ট্রাম্প আহত হন এবং হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকসকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি কোনো গাড়ি নিরাপত্তাবেষ্টনীর দিকে চলে গেলে কেন দ্রুত সিক্রেট সার্ভিস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, শনিবারের ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।
জিআরই বা গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশনে সর্বোচ্চ ৩৪০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ৩৪০ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেটস কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর তাহমিদ। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে ১৭০ এবং ভার্বাল রিজনিংয়েও ১৭০ নম্বর পেয়েছেন তিনি। এমন ফলের পর তার কাছে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন এসেছে, তা হলো কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তানভীরের উত্তর, প্রস্তুতির মূলনীতি ছিল ‘ভলিউম’ - প্রচুর প্রশ্ন সমাধান, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা এবং নিজের ভুল বারবার বিশ্লেষণ করা। তার মতে, জিআরই প্রস্তুতির লক্ষ্য শুধু পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা নয়। বরং এত বেশি প্রশ্ন অনুশীলন করা দরকার, যাতে পরীক্ষার হলে নতুন কোনো প্রশ্ন দেখলেও তার ধরন অপরিচিত মনে না হয়। প্রশ্নটি আগে দেখা না থাকলেও একই ধরনের সমস্যা বহুবার অনুশীলন করা থাকলে সেটি সমাধানের পথ দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জিআরই অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগের ক্ষেত্রে ভালো স্কোর আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। তানভীরের অভিজ্ঞতায়, জিআরইকে শুধু গণিত ও ইংরেজির পরীক্ষা হিসেবে দেখলে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যেতে পারে। সময়ের চাপের মধ্যে প্রশ্ন বোঝা, তথ্য বিশ্লেষণ করা, ভুল বিকল্প বাদ দেওয়া এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নের সঙ্গে পরিচিতি তৈরি করাকে তাই তিনি প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছেন। শুরুতে একটি প্রশ্ন হাতে নিয়ে কোন পদ্ধতিতে সমাধান করবেন, কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কোথায় ফাঁদ থাকতে পারে, এসব নিয়ে ভাবতে সময় লাগত। কিন্তু একই ধরনের শত শত প্রশ্ন সমাধানের পর এই প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট প্রশ্নটি নতুন হলেও তার ধরন পরিচিত থাকার কারণে দ্রুত সমাধানের দিকে যাওয়া সম্ভব হয়। তবে শুধু বেশি প্রশ্ন সমাধান করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তানভীর। কোনো প্রশ্ন ভুল হলে সঠিক উত্তর দেখে এগিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন কেন ভুল হয়েছে। কোথায় ভুল চিন্তা করেছেন, প্রশ্নের কোন অংশ ভুল বুঝেছেন কিংবা কোন কৌশল প্রয়োগ করা উচিত ছিল, সেসব বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, অনুশীলনের সঙ্গে ভুল বিশ্লেষণ না করলে একই ধরনের ভুল আবারও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ের প্রস্তুতিতে প্রথমে মৌলিক ধারণাগুলো পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, অনুপাত, শতকরা, সম্ভাবনা, পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলোর ভিত্তি শক্ত থাকা জরুরি। এরপর তার বড় মনোযোগ ছিল সময় ধরে অনুশীলনে। প্রস্তুতির একটি পর্যায়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত প্রশ্ন সময় ধরে সমাধান করেছেন তিনি। কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও আলাদাভাবে নোট করতেন তানভীর। জ্যামিতি, ওয়েটেড অ্যাভারেজ এবং নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সমাধানের ধরন তার তুলনামূলক দুর্বল জায়গা ছিল। তাই সব ধরনের প্রশ্ন একসঙ্গে অনুশীলনের পরিবর্তে এসব বিষয় আলাদা করে চর্চা করেছেন। তার মতে, কোয়ান্টে ভালো করার জন্য গতি ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। দ্রুত সমাধান করতে গিয়ে ভুল করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি একটি প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করাও পরীক্ষায় সমস্যার কারণ হতে পারে। ভার্বাল রিজনিংয়ের প্রস্তুতিতে শুধু কঠিন শব্দ মুখস্থ করার ওপর নির্ভর করেননি তিনি। প্রায় ২ হাজার শব্দের ভোকাবুলারি প্রস্তুত করলেও শব্দের অর্থের পাশাপাশি কোন পরিস্থিতিতে শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যের মধ্যে তার ভূমিকা কী, সেটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। প্যাসেজে লেখক কী বলতে চেয়েছেন, যুক্তির কাঠামো কী এবং প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে কোনটিতে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোও নিয়মিত অনুশীলন করেছেন। তানভীরের মতে, ভার্বালের ক্ষেত্রে প্রশ্নের ফাঁদগুলো চিনতে পারার দক্ষতা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তৈরি হয়। একই ধরনের প্রশ্ন বারবার সমাধান করতে থাকলে ভুলের ধরন যেমন বোঝা যায়, তেমনি সঠিক উত্তর বেছে নেওয়ার যুক্তিও পরিষ্কার হয়। তাই শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, সেই জ্ঞান দ্রুত প্রয়োগ করার অভ্যাস তৈরি করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে মক টেস্ট ছিল তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মক টেস্ট দেওয়ার পর তিনি শুধু মোট স্কোর দেখতেন না। কোন প্রশ্ন ভুল হয়েছে, কেন ভুল হয়েছে, কোন প্রশ্নে বেশি সময় চলে গেছে এবং কোথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করতেন। শুরুতে তার মক স্কোর ৩২৮ থেকে ৩৩০-এর আশপাশে ছিল। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত অনুশীলন ও ভুল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই স্কোর বাড়তে থাকে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অফিশিয়াল উপকরণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তানভীর। তার মতে, পরীক্ষার প্রশ্নের ভাষা, কাঠামো ও প্রশ্নের ধরন বোঝার জন্য মূল পরীক্ষার সংস্থার উপকরণ সবচেয়ে কার্যকর। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্সও ব্যবহার করেছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা হলো, কতগুলো রিসোর্স ব্যবহার করা হচ্ছে তার চেয়ে একটি রিসোর্স কতটা গভীরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জিআরইর আগে আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা ও স্যাটের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতাও তানভীরের কাজে এসেছে। সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা, প্রশ্নের ভাষা বিশ্লেষণ করা এবং ভুল বিকল্প বাদ দেওয়ার মতো দক্ষতাগুলো আগের প্রস্তুতি থেকেই তৈরি হয়েছিল। পরে জিআরইর জন্য সেই দক্ষতাগুলোকে আরও বেশি অনুশীলনের মাধ্যমে শানিত করেছেন তিনি। ৩৪০-এ ৩৪০ পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তানভীরের মূল বার্তা হলো, জিআরই প্রস্তুতিতে কোনো একটি গোপন কৌশলের চেয়ে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অনুশীলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, পরীক্ষার হলে প্রশ্ন নতুন হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নের ধরন যেন নতুন না লাগে। সেই পরিচিতি তৈরি করতে প্রচুর প্রশ্ন সমাধান, ভুল বিশ্লেষণ এবং সময় ধরে নিয়মিত অনুশীলনই ছিল তার প্রস্তুতির মূল ভিত্তি।
জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে প্রায় ১৯ বছর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। শুধু চাকরি হারানোই নয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে গোলাম মাওলাকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে চাকরিতে যোগ দেন। � BarTabazar দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৯/২০২১ করা হয়। বিভাগীয় কার্যক্রমে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারি বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তবে বিষয়টি চাকরিচ্যুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে তাঁর নিয়োগ হওয়ায় চাকরিটি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, বৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার কারণে চাকরির পুরো সময়ের বেতন-ভাতার ওপর তাঁর অধিকারও স্বীকৃত হবে না—এমন অবস্থানই নেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে। হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোলাম মাওলা বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় পুরো অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে তাঁকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। ঘটনাটি সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জাল বা ভুয়া সনদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন চাকরি করার একাধিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, ২০২৬ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ৭৩ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বন্ধ এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ার নির্দেশের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনাটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রায় দুই দশক চাকরি করেছেন। ২০০৭ সালে যোগদানের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালে বিভাগীয় মামলা এবং ২০২৬ সালে চাকরি থেকে অপসারণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত। এখন অফিস আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ৪২ লাখের বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে গোলাম মাওলার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ইতালির স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে স্কুলব্যবস্থায় একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। প্রস্তাবিত এসব ব্যবস্থা শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার ইতালির ক্ষমতাসীন ব্রাদার্স অব ইতালি দলের যুব সংগঠনের আয়োজিত ফেনিক্স নামের জাতীয় যুব উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। মেলোনি বলেন, ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় শিশুরা যেন নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে ইতালীয় শিশুরাই নিজেদের কোণঠাসা মনে করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেই সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা মেলোনি তাঁর বক্তব্যে জানাননি। ফলে এখনো শ্রেণিপ্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সীমা প্রকাশ করা হয়নি। বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টিকেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন মেলোনি। তিনি বলেছেন, কোনো শ্রেণিতে ইতালীয় ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তাদের ইতালীয় সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে স্কুলব্যবস্থায় গুরুতরভাবে একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ শুধু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির বিষয় নয়, তাদের পরিবারের ভাষাগত একীভূত হওয়ার বিষয়টিকেও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। স্কুলে পোশাকের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মেলোনি। তিনি বলেছেন, তাঁর সরকার স্কুলে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করবে। অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রস্তাবটিকে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত আইনে নিষেধাজ্ঞার পরিধি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের পর আরও স্পষ্ট হবে। মেলোনির এই বক্তব্য এসেছে ইতালির স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে ভাষাগত পরিবেশ নিয়ে সরকারের চলমান আলোচনার মধ্যে। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়টি সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। মেলোনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ইতালির স্কুলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যেখানে ইতালীয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের শ্রেণিকক্ষেই সংখ্যালঘু মনে করে। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনার পেছনে স্কুলের শিক্ষা ও একীভূতকরণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। মেলোনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনি ব্যবস্থা শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রস্তাবের বিস্তারিত নিয়ম, বিদেশি শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সীমা এবং স্কুলে পোশাকসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগের বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী এমন সময় এসব পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন, যখন দেশটির সরকার স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন নীতি তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানো এবং হিজাব-বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব একই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। এখন মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের পর এর পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মুম্বাইয়ের কোলাবার ১০৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্যাফে অলিম্পিয়া কফি হাউসের খাবারের লাইসেন্স স্থগিত করেছে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। ১৬ সেপ্টেম্বর ভোক্তার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তারা ক্যাফেটিতে তেলাপোকা ও মাছির উপদ্রব, মেঝেতে সরাসরি খাবার রাখাসহ গুরুতর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিয়ম দেখতে পান। এফডিএর পরিদর্শন প্রতিবেদনের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্যাফেটির খাবার সংরক্ষণের জায়গার ভেতরেই একটি ইউরিনাল পাওয়া যায়। রান্না ও বাসন ধোয়ার জায়গার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও আপত্তিকর পরিস্থিতি দেখা যায়। একই সঙ্গে অপরিষ্কার পানি ব্যবহারের অভিযোগ এবং খাবার সরাসরি মেঝেতে রেখে বা মেঝের ওপর পরিচালনা করার বিষয়ও পরিদর্শনে উঠে আসে। পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, ক্যাফেটির একটি রেফ্রিজারেটরে মাংসের রক্তের অবশিষ্টাংশ ছিল। কাঁচা নিরামিষ ও আমিষ খাবার যথাযথভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়নি। কিছু কাঠের কাটিং বোর্ডও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে। খাবার পরিবেশন ও প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা পোশাক না থাকার বিষয়টিও এফডিএর নজরে আসে। কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিয়েও গুরুতর ঘাটতি পাওয়া গেছে। পরিদর্শনের সময় ৩৫ জন খাবারকর্মীর মধ্যে ৩৪ জনের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের সনদ ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি পরীক্ষার বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন এবং পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিও কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারেনি ক্যাফেটি। এই পরিস্থিতিতে এফডিএ তাৎক্ষণিকভাবে অলিম্পিয়া কফি হাউসের খাদ্য লাইসেন্স স্থগিত করে। লাইসেন্স স্থগিত থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে খাবার কেনা, প্রস্তুত করা, সংরক্ষণ, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিগুলো সংশোধন করে পুনরায় পরিদর্শনে সন্তোষজনক ফল পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ক্যাফেটির দীর্ঘ ইতিহাস ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে। ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অলিম্পিয়া কফি হাউস মুম্বাইয়ের কোলাবা এলাকার পুরোনো খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। চা, বান মাসকা ও মুঘলাই খাবারের জন্য পরিচিত এই ক্যাফে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে হলিউড অভিনেতা ম্যাট ডেমন ও টম হল্যান্ড এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান মুম্বাই সফরের সময় এই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। তাদের সেখানে চা ও স্থানীয় খাবার খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঐতিহাসিক ক্যাফেটি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স স্থগিতের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মহারাষ্ট্র এফডিএ সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাইয়ে অভিযান জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অলিম্পিয়া কফি হাউসের ক্ষেত্রেও ত্রুটি সংশোধন ও পুনঃপরিদর্শনের ফলাফলের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে না এলে তার সামনে তিনটি পথ রয়েছে। এগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দেওয়া অথবা দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে বলেন, তিনি এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন এবং খুব শিগগিরই বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় তিনি প্রশ্ন করেন, কখন পুরো দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর তেহরানকে আচরণ পরিবর্তন করার সতর্কবার্তাও দেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের জন্য একটি পথ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো। আরেকটি হলো দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার পরিস্থিতির মধ্যে রাখা। তৃতীয় পথ হিসেবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। এই সময়ে ট্রাম্প বারবার সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা অথবা ইরানের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতার পথে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ শিগগির শেষ হতে পারে বলেও জানিয়েছেন। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে বলেছিলেন, ইরান নিয়ে তার সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত আসছে। তখন তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে তা ধ্বংস করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি একটি বড় সিদ্ধান্ত এবং যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। রোববারের বক্তব্যে ট্রাম্প কূটনৈতিক পথের সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেননি। ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি তার বিবেচনায় থাকা তিনটি সম্ভাব্য পথের একটি হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে তার বক্তব্যে একই সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ এবং আলোচনার পথের কথা রয়েছে। এদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। রোববার ইরানের সামরিক কমান্ড জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন করে বড় কোনো হামলা চালালে ইরান পাল্টা জবাব দেবে। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বলেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না, তবে চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও আলোচনায় রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়েও ট্রাম্প ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে রোববার পর্যন্ত ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে ভাষণ দেবেন তিনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। এই সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কথা রয়েছে। এবারের ভাষণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের এবারের জাতিসংঘ কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জিয়া পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ধারাবাহিকতার শুরু ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছিল। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্বের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে আরও কয়েকবার বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারকসভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার তথ্য রয়েছে। বাসসের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে মোট পাঁচবার বক্তব্য দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের প্রথম ভাষণ থেকে তারেক রহমানের নির্ধারিত ২০২৬ সালের ভাষণ পর্যন্ত ব্যবধান ৪৬ বছর। ফলে তাঁর এই উপস্থিতি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়ও থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ভাষণটি তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম উপস্থিতি। একই সঙ্গে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর এই ভাষণ চার দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১২৭ রোগীর জন্য নির্ধারিত ১৩৯টি প্রেসক্রিপশন সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের এক সাবেক কর্মীকে ১৮ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেলবি উলকেন নামের ওই কর্মী রোগীদের জন্য নির্ধারিত ব্যথানাশক ওষুধের পরিবর্তে সাধারণ ওষুধ দিয়েছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের মাদকাসক্তির কথা স্বীকার করেন। ঘটনাটি সামনে আসে ২০২৪ সালের ১ জুলাই। সেদিন সেন্ট জোসেফস হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মীরা উলকেনকে থামান। তিনি হাসপাতালের ওষুধের দোকান থেকে এক রোগীর জন্য নির্ধারিত অক্সিকোডোনের প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করে কাছের একটি বাথরুমে ঢুকেছিলেন। পরে বোতলটি রোগীর নেওয়ার জন্য ফেরত দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বোতলটি পরীক্ষা করে সেখানে নির্ধারিত অক্সিকোডোনের পরিবর্তে অ্যালার্জির ওষুধ লোরাটাডিন পায়। নথি অনুযায়ী, একই দিন এর আগে উলকেন ওই ওষুধের দোকান থেকেই অ্যালার্জির ওষুধ কিনেছিলেন। সে সময় উলকেন সেন্ট জোসেফস হাসপাতালে রোগী ব্যবস্থাপনা সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। এই পদে তিনি রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর রোগীদের বিভিন্ন সেবার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে উলকেন স্বীকার করেন, নিজের পরিচয়পত্র ও পদ ব্যবহার করে অন্তত ১০টি প্রেসক্রিপশনে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। এসব ঘটনা ডেনভারের সেন্ট জোসেফস হাসপাতাল ছাড়াও হুইট রিজের লুথেরান হাসপাতাল এবং লাফায়েতের গুড সামারিটান হাসপাতালে ঘটেছিল। তিনটি হাসপাতালই একই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। পরে ফেডারেল তদন্তকারীরা উলকেনকে তার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি আরও ওষুধ বদলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা নির্ধারণ করেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় আট মাসে তিনি প্রায় ১২৭ রোগীর জন্য প্রায় ১৩৯টি প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করেছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি করা ওষুধের পরিবর্তে উলকেন বিভিন্ন ধরনের আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন, অ্যাসিটামিনোফেন এবং লোরাটাডিন দিয়েছিলেন। ফলে কিছু রোগী কোনো শারীরিক সমস্যায় না পড়লেও অন্যরা উল্লেখযোগ্য থেকে তীব্র ব্যথা এবং ঘুমাতে না পারার কথা তদন্তকারীদের জানান। ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের মধ্যে দুই নারী ছিলেন, যারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। আরেক নারী অন্য একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর পর্যাপ্ত ব্যথানাশক না পাওয়ায় তীব্র কষ্টের কথা জানান। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে আক্রান্ত এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারী আরেক রোগী তদন্তকারীদের জানান, প্রেসক্রিপশনে কারসাজির ঘটনা তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল। নিজের বাড়িতে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের তদন্তকারীদের কাছে উলকেন স্বীকার করেন, তিনি আফিমজাত মাদকে আসক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে রোগীদের তিনি যে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন, সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঝুঁকির মধ্যে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ছিল। কলোরাডো জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি পিটার ম্যাকনিলি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করে, রোগীদের ভোগান্তি বাড়ায় এবং চিকিৎসাজনিত সমস্যায় থাকা মানুষদের ঝুঁকিতে ফেলে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের নির্ধারিত ওষুধ চুরি করে নিজের আসক্তির চাহিদা পূরণের কথা যারা ভাবছেন, তাদের জন্য এই সাজা একটি বার্তা। উলকেন মার্চে ভোক্তা পণ্যে কারসাজির একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ওই অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে সাজা ঘোষণার আগে ফেডারেল কৌঁসুলিরা সাজা কমানোর আবেদন করেন। তারা জানান, তদন্তে উলকেন সহযোগিতা করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। সাজার পর ইন্টারমাউন্টেন হেলথের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, উলকেন আর প্রতিষ্ঠানটির কর্মী নন। ইন্টারমাউন্টেন হেলথ ইউটা, আইডাহো, নেভাদা, কলোরাডো, মন্টানা ও ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে ৩৩টি হাসপাতাল এবং ৪০০টির বেশি চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত। সূত্র: সিবিএস
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলজেরিয়ার সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশের সরকারি জ্বালানি নীতিতেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের কথা রয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের মধ্যে ভিডিও বৈঠকে বিষয়টি আরও এগিয়ে নেওয়া হয়। বৈঠকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সোনাত্রাকের প্রধান নির্বাহী নুরেদ্দিন দাউদি, আলজেরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আলজেরিয়া থেকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে এলএনজি ক্রয় ও সরবরাহ চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গ্যাসবাজারে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সোনাত্রাকের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু এলএনজি কেনাবেচায় সম্পর্ক সীমাবদ্ধ না রেখে দুই দেশের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব তৈরির বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এলএনজির পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুই দেশ। আলোচনাগুলো এগিয়ে নিতে একটি যৌথ কার্যকরী দল গঠনের বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। আলজেরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতার আলোচনা অবশ্য সেপ্টেম্বরেই শুরু হয়নি। গত ৯ জুলাই ঢাকায় আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে আলজেরিয়ার সঙ্গে এই খাতে সম্পর্ক শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করে। জ্বালানির পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, মৎস্য এবং জনশক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জন্য নতুন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস খোঁজার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা আমদানি করা কয়লা, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়। সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর ইউনিটের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট এলএনজি গ্রহণ করতে পারে। দেশের বার্ষিক এলএনজি চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে মোট চাহিদা বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে বলে সরকারি পর্যায়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আলজেরিয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য নতুন সরবরাহ উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনাগুলো মূলত সম্ভাব্য সরবরাহ ব্যবস্থা, চুক্তি ও অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত এলএনজি সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা পাওয়া যায়নি। দুই দেশের যৌথ কার্যকরী দলের পরবর্তী আলোচনা থেকে মূল্য, সরবরাহের পরিমাণ, মেয়াদ ও পরিবহন ব্যবস্থাসহ সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত নির্ধারিত হতে পারে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো কোনো একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না রেখে একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা। আলজেরিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনা বাস্তব চুক্তিতে রূপ নিলে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলে নতুন একটি সরবরাহ পথ যুক্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ একটি বড় অর্থায়নের সুযোগ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। সিমন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চার বছরের স্নাতক পড়াশোনার জন্য পূর্ণ টিউশন ও রুম-অ্যান্ড-বোর্ড সুবিধা পান। পাশাপাশি একাডেমিক কাজে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ডলারের সহায়তাও রয়েছে। বস্টন, ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ মূলত অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের গুণ, বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল এবং সৃজনশীলতার মতো যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি স্কলারশিপ এবং আলাদা আবেদন করতে হয়। স্কলারশিপটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো চার বছরের টিউশন এবং রুম-অ্যান্ড-বোর্ডের অর্থায়ন। এর সঙ্গে ৩ হাজার ডলারের অতিরিক্ত অর্থ গবেষণা, বিদেশে শিক্ষাভ্রমণ, স্বল্পমেয়াদি কোর্স কিংবা গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপের টিউশনের মতো একাডেমিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, কোটজেন স্কলারশিপ চার বছরের পূর্ণকালীন স্নাতক পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সাধারণ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হলেও সেগুলো সাধারণত পুরো পড়াশোনার খরচ বহন করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের হিসাবে আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক খরচ প্রায় ৭৪ হাজার ডলার। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আবেদন জমা দেওয়ার সময় বিভিন্ন মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হন। এসব সাধারণ স্কলারশিপের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি তথ্যপৃষ্ঠায় কিছু মেধাভিত্তিক পুরস্কারের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৩৩ হাজার ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো কোটজেন স্কলারশিপের সমান নয় এবং পুরো খরচ মেটানোর নিশ্চয়তা দেয় না। কোটজেন স্কলারশিপের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারদের জন্য ৩.৩ জিপিএ বজায় রাখার শর্ত ছিল। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্দিষ্ট আবেদনচক্রের সব শর্ত ও সময়সীমা আবেদন করার আগে সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান নির্দেশনা থেকে যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন করার আগে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা বা নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড সিমন্স ইউনিভার্সিটি দেয় না। তাই কোটজেনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ ছাড়াও আবেদনকারীকে অন্যান্য সম্ভাব্য অর্থায়ন এবং নিজের অবশিষ্ট শিক্ষাব্যয়ের পরিকল্পনা আগে থেকেই করতে হবে। সিমন্স ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণকালীন আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য নির্ধারিত খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬ ডলার দেখানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবীমা, বই, ব্যক্তিগত খরচ এবং অন্যান্য ব্যয়ও শিক্ষার্থীর মোট বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ‘ফুল স্কলারশিপ’ বলা হলেও কোন কোন খরচ সরাসরি এর আওতায় রয়েছে, তা আবেদন করার আগে ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই কোটজেন স্কলারশিপের পাশাপাশি সিমন্স ইউনিভার্সিটির অন্যান্য মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ, ভর্তি যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার নিয়মও দেখে আবেদন প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কলারশিপের আবেদনপত্রে একাডেমিক অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা আবেদনকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনে সহায়ক হতে পারে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত মরিয়ম খাতুনের মরদেহ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান। কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি জানান, তখনও মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম যাওয়ার কথা ছিল এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসে। পরে গাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং তাদের বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মরিয়মও পৃথক বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলামকে তার স্বামী বলে দাবি করেছিলেন। তবে সেই বিয়ের দাবি ও বিভিন্ন নথি নিয়ে তখন প্রশ্নও উঠেছিল। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মরিয়মের একটি বায়োডাটার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ২২ জুনের তারিখে গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর ছিল এবং বৈবাহিক অবস্থায় ‘অবিবাহিত’ লেখা থাকার দাবি করা হয়েছিল। একই সময়ে প্রকাশ্যে আসা কাবিননামা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যের অসঙ্গতির কথা উঠে আসে। এসব নথির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মরিয়মের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিমের পরীক্ষা এবং পুলিশের আইনানুগ প্রক্রিয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে আত্মহত্যা বা অন্য কোনো কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এদিকে ঘটনাটির পর গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কালবেলার প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশ ও ফরেনসিক তদন্তের পর মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। সূত্র: কালবেলা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের সময় ‘বু সুনাইদাহ’ নামে একটি মানবাকৃতির রোবটকে মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গি অনুসরণ করতে দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ২৭ মে ঈদের দিন ধারণ করা ওই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তি ও ধর্মীয় পরিবেশের সংযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গালফ নিউজও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী আমিরাতি পোশাক কান্দুরা ও শেমাগ পরা বু সুনাইদাহ একটি গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যায়। পরে মুসল্লিদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গি অনুসরণ করতে দেখা যায় রোবটটিকে। বু সুনাইদাহর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এই আয়োজনকে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বু সুনাইদাহ মূলত ইউনিট্রি জি১ মডেলের একটি মানবাকৃতির রোবট। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এটি আমিরাতি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন জনসমাগমের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। প্রযুক্তি ও স্থানীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে তৈরি এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দর্শক আকর্ষণ করেছে। এর আগে বু সুনাইদাহকে আজান দেওয়ার একটি ভিডিওও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিও ১৩ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছিল। রোবটটির নাম ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ঘিরে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ঈদের নামাজের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ভিন্নধর্মী। কেউ প্রযুক্তি ও আমিরাতি সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধনকে আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলক হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ ধর্মীয় ইবাদতের পরিবেশে একটি রোবটের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মতামত, কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় সিদ্ধান্ত নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভিডিওকে দুবাইয়ের মসজিদগুলোতে নিয়মিত রোবট দিয়ে আজান দেওয়া বা রোবটকে আনুষ্ঠানিক মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানোর মতো তথ্য পাওয়া যায় না। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বু সুনাইদাহর মসজিদে উপস্থিতিকে মূলত একটি ব্যতিক্রমী ও শিক্ষামূলক প্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রোবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শিশুদের ঐতিহ্য ও ঈদের সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখানোর উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। দুবাইয়ে ঈদুল আজহার নামাজের জন্য ২০২৬ সালে ৯৩৭টি মসজিদ প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে। ফলে বু সুনাইদাহর মসজিদে উপস্থিতির ভিডিওটি বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজের সময় ধারণ করা একটি বিশেষ দৃশ্য হিসেবে সামনে আসে। বু সুনাইদাহর কর্মকাণ্ড এর আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি বিভিন্ন জনসমাগম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছে এবং প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে একসঙ্গে তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। রোবটটির নির্মাতা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এসএস লুতাহ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ইউসুফ লুতাহ রয়টার্সকে বলেছেন, শিশুদের আমিরাতি ঐতিহ্য ও ঈদের সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখানোর উদ্দেশ্যেই মসজিদে রোবটটির উপস্থিতি দেখানো হয়েছিল। ফলে দুবাইয়ের মসজিদে রোবটের ঈদের নামাজ অনুসরণের ঘটনাটি প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির একটি আলোচিত প্রদর্শন হলেও, এটিকে মসজিদে নিয়মিত রোবট দিয়ে আজান বা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের নতুন ব্যবস্থা চালুর ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যসম্মত হবে না।
এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার তাদের হাতে ‘চাঁদাবাজির চাবি’ তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দ্রব্যমূল্য, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ; উল্লিখিত ‘এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি’ দেওয়ার দাবির পক্ষে তিনি কোনো পরিসংখ্যান বা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহরের মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। একই দিন সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর পথসভাতেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য দেন। সরকারের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের চাকরির কথা বলেছিল, কিন্তু তাঁর ভাষায়, এর পরিবর্তে এক কোটি মানুষের হাতে ‘চাঁদাবাজির চাবি’ তুলে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাও ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষি খাতের পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তাঁর অভিযোগ, সারের দাম বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। এসব সংকটকে লংমার্চ আয়োজনের অন্যতম কারণ হিসেবেও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণেরা চাকরির অধিকার ও বৈষম্য দূর করার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। প্রয়োজনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনে নামার কথাও বলেন তিনি। এই নিয়োগসংক্রান্ত বক্তব্যও শফিকুর রহমানের অভিযোগ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। তিনি দাবি করেন, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন এবং সেই রায়ের প্রতিফলন ঘটানো উচিত। ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবি সরকার মেনে না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে ‘এক দফা’ কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না; অন্যথায় এক দফার আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে যাত্রা করা ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চটি গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় পৌঁছায়। বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে শতাধিক গাড়ির বহর লংমার্চে যুক্ত হয় বলে জাগো নিউজ জানিয়েছে। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। বগুড়ার কর্মসূচি শেষে বহরটি রংপুরের দিকে যাত্রা করে। শফিকুর রহমান আরও বলেন, এবারের কর্মসূচি ঢাকা থেকে রংপুরমুখী হলেও ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকামুখী লংমার্চ আয়োজন করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আট দফা দাবি আদায় না হলে ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে।
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাবের মতো মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এ ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ দলের যুব সংগঠনের এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে মেলোনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে। একইসঙ্গে ইতালীয় ভাষা শেখায় গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন, সেই সংখ্যা মেলোনি এখনো নির্দিষ্ট করেননি। মেলোনির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষা না জানলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তার ভাষা শেখা এবং স্কুলে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে তাদের একীভূত করার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। মুখঢাকা পোশাকের বিষয়ে মেলোনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে। কোনো প্রচলিত রীতি বা ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে কোনো তরুণীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়—এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ইতালিতে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশটির মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থানের কারণে সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনও একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে আছে। ইতালির স্কুলগুলোতে অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ফন্ডাজিওনে আইএসএমইউর ২০২৩/২৪ শিক্ষাবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইতালির প্রি-স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অ-ইতালীয় নাগরিক। তারা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অবশ্য ইতালিতেই জন্মেছে। আইএসএমইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা ছোট বয়সে দেশটিতে আসা। ফলে স্কুলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অন্তর্ভুক্তি ও নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মেলোনির ঘোষিত উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইতালিতে অভিবাসন, ধর্মীয় প্রতীক ও সাংস্কৃতিক একীভূতকরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই পরবর্তী বিষয়।
সান ফ্রান্সিসকোর প্রযুক্তি অঙ্গনের ২৯ বছর বয়সী নির্বাহী ব্রুক লেব্লাঁর ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী নিয়ে প্রকাশ করা দীর্ঘ ‘নন-নেগোশিয়েবল’ তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি নিজের পছন্দের পুরুষের বয়স, ব্যক্তিত্ব, আর্থিক মানসিকতা, পেশা এবং পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক শর্ত তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তালিকাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লেব্লাঁ নিজের পোস্টে ৩৫ থেকে ৪২ বছর বয়সী একজন পুরুষকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। তার ভাষায়, ওই ব্যক্তির সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী পুরুষসুলভ ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, রসবোধ ও সহজ-স্বাভাবিক মানসিকতা থাকা উচিত। পাশাপাশি তিনি এমন একজন সঙ্গী চান, যার মধ্যে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা ও নিরাপত্তা দেওয়ার মানসিকতা থাকবে। প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন এমন পুরুষের প্রতিও তার বিশেষ পছন্দের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। তার তালিকায় আরও ছিল দয়ালু, উদার ও চিন্তাশীল হওয়ার মতো ব্যক্তিগত গুণ। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন সঙ্গী চান, যার এখনো সন্তান নেই এবং ভবিষ্যতে পরিবার গঠনের বিষয়ে নির্দিষ্ট আগ্রহ রয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই তালিকা তৈরি করেছেন বলে পরবর্তী পোস্টে জানান। তালিকাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী তার প্রত্যাশাকে কঠোর ও অতিরিক্ত নির্দিষ্ট বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ বলেন, এ ধরনের তালিকা একজন সম্ভাব্য সঙ্গীকে স্বাভাবিকভাবে জানার পরিবর্তে সম্পর্ককে একটি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় পরিণত করতে পারে। আবার অন্যরা মনে করেন, একজন মানুষ নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য চান, সেটি প্রকাশ করার অধিকার তার রয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মতামত, কোনো আনুষ্ঠানিক জরিপের ফল নয়। সমালোচনার জবাবে লেব্লাঁও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, একজন নারী নিজের চাওয়া সম্পর্কে কথা বললেই সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার প্রয়োজন নেই। নিজের দীর্ঘদিনের ডেটিং অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই তালিকা তৈরি করেছেন বলেও জানান। অনলাইনে সমালোচনার মধ্যেও তিনি ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বাধীন জীবন এবং পরিবার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আরেকটি দিক হলো সান ফ্রান্সিসকোর প্রযুক্তি খাতকেন্দ্রিক ডেটিং সংস্কৃতি। প্রযুক্তি খাতে কর্মরত তরুণ পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ শহরটিতে বসবাস করায় পেশা, জীবনযাপন, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ পারিবারিক পরিকল্পনা অনেকের সম্পর্কের পছন্দে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে লেব্লাঁর ব্যক্তিগত তালিকাকে পুরো শহরের ডেটিং সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখার মতো কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত পছন্দ প্রকাশ করে আলোচনায় আসার ঘটনা নতুন নয়। তবে লেব্লাঁর পোস্টটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে কারণ তিনি সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে লিখেছেন। ফলে এটি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের পছন্দের বিষয় না থেকে আধুনিক ডেটিং, ব্যক্তিগত প্রত্যাশা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মানদণ্ড প্রকাশের ধরন নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চোখে ঝাপসা দেখা, চশমার পাওয়ার বদলে যাওয়া কিংবা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে নিউইয়র্কে কোথায় যেতে হবে এবং কত খরচ পড়বে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তাদের জন্য আগে থেকে খরচ ও সুবিধা সম্পর্কে জেনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটিতে চোখের পরীক্ষার নির্দিষ্ট কোনো একক মূল্য নেই। চিকিৎসাকেন্দ্র, পরীক্ষার ধরন এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকাস বেস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অফারের আওতায় দুই জোড়া চশমা নিলে চোখের পরীক্ষা বিনা খরচে হতে পারে। আবার দুই জোড়া চশমা না কিনলে তাদের সাধারণ চোখের পরীক্ষার মূল্য ৮০ ডলার। কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষার জন্য আলাদা ১৩০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই শুধু একটি গড় মূল্য ধরে না নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে নিজের ক্ষেত্রে মোট খরচ জেনে নেওয়াই নিরাপদ। যাদের মেডিকেইড আছে, তাদের জন্য চোখের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কম হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেটের মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় চোখের পরীক্ষা, চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সাধারণভাবে দুই বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করার সুবিধা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মেডিকেইড সদস্যদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বছরে একবার চোখের বিশেষ পরীক্ষা করার সুবিধাও রয়েছে। চোখের চিকিৎসার বীমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু রোগী বিনা খরচেও চিকিৎসা পেতে পারেন। যারা স্বাস্থ্যবীমার জন্য যোগ্য নন কিংবা বীমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এনওয়াইসি কেয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চিকিৎসার খরচ তুলনা করার জন্য নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মূল্য তুলনা করার ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যায়। এতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সেবার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ফলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে একাধিক জায়গার খরচ তুলনা করা সম্ভব। শিশুদের চোখের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের আগে থেকে খোঁজ নেওয়া উচিত। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্কুল পর্যায়ে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। শিশুরা অনেক সময় নিজের চোখের সমস্যা বুঝতে পারে না। বারবার চোখ কচলানো, টেলিভিশন বা বই খুব কাছে নিয়ে দেখা, চোখ কুঁচকে দেখা, মাথাব্যথা কিংবা উজ্জ্বল আলো সহ্য করতে সমস্যা হলে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্য পেতে নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়। তবে কোথায় যাবেন, তা নির্ভর করবে চোখের সমস্যার ধরনেও। অপটোমেট্রিস্ট সাধারণ চোখ পরীক্ষা, চশমার পাওয়ার নির্ধারণ এবং অনেক সাধারণ চোখের সমস্যার পরীক্ষা ও চিকিৎসা করেন। অন্যদিকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চোখের জটিল রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও করতে পারেন। আর চশমা প্রস্তুত ও চোখে সঠিকভাবে বসানোর কাজ করেন অপটিশিয়ান। তিনি নিজে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করেন না। চোখ পরীক্ষা করাতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ফোন করে জেনে নেওয়া ভালো। জিজ্ঞেস করুন, বীমা ছাড়া সম্পূর্ণ পরীক্ষার খরচ কত, চোখের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করতে অতিরিক্ত কোনো পরীক্ষা লাগবে কি না, রেটিনার ছবি তোলার জন্য আলাদা খরচ আছে কি না এবং পরীক্ষার পর চশমার পাওয়ারের কাগজের কপি দেওয়া হবে কি না। শুধু চোখ পরীক্ষার খরচ কম হলেই মোট খরচ কম হবে এমন নয়। অতিরিক্ত পরীক্ষা, কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য আলাদা টাকা লাগতে পারে। তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। হঠাৎ চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন, চোখ অতিরিক্ত লাল বা ফুলে যাওয়া, চোখের সামনে হঠাৎ অনেক কালো দাগ বা ভাসমান ছায়া দেখা, আলোর ঝলকানি দেখা কিংবা দৃষ্টির সামনে কালো পর্দার মতো কিছু নেমে আসা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ জরুরি বিভাগেও যেতে হতে পারে। নিউইয়র্কে চোখের চিকিৎসা নিতে তাই শুধু কম খরচের চিকিৎসাকেন্দ্র খোঁজাই যথেষ্ট নয়। নিজের সমস্যার জন্য কোন ধরনের চিকিৎসক প্রয়োজন, কী কী পরীক্ষা লাগবে এবং বীমা বা সরকারি সহায়তার আওতায় কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, সেগুলোও আগে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তারা মেডিকেইড, এনওয়াইসি কেয়ার এবং নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতা যাচাই করলে চিকিৎসার খরচ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।