সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১০:১২
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ কোটজেন স্কলারশিপ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ কোটজেন স্কলারশিপ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ একটি বড় অর্থায়নের সুযোগ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। সিমন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চার বছরের স্নাতক পড়াশোনার জন্য পূর্ণ টিউশন ও রুম-অ্যান্ড-বোর্ড সুবিধা পান। পাশাপাশি একাডেমিক কাজে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ডলারের সহায়তাও রয়েছে। 

 

বস্টন, ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ মূলত অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের গুণ, বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল এবং সৃজনশীলতার মতো যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি স্কলারশিপ এবং আলাদা আবেদন করতে হয়। 

 

স্কলারশিপটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো চার বছরের টিউশন এবং রুম-অ্যান্ড-বোর্ডের অর্থায়ন। এর সঙ্গে ৩ হাজার ডলারের অতিরিক্ত অর্থ গবেষণা, বিদেশে শিক্ষাভ্রমণ, স্বল্পমেয়াদি কোর্স কিংবা গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপের টিউশনের মতো একাডেমিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, কোটজেন স্কলারশিপ চার বছরের পূর্ণকালীন স্নাতক পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়। 

 

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সাধারণ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হলেও সেগুলো সাধারণত পুরো পড়াশোনার খরচ বহন করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের হিসাবে আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক খরচ প্রায় ৭৪ হাজার ডলার। 

 

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আবেদন জমা দেওয়ার সময় বিভিন্ন মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হন। এসব সাধারণ স্কলারশিপের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি তথ্যপৃষ্ঠায় কিছু মেধাভিত্তিক পুরস্কারের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৩৩ হাজার ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো কোটজেন স্কলারশিপের সমান নয় এবং পুরো খরচ মেটানোর নিশ্চয়তা দেয় না। 

 

কোটজেন স্কলারশিপের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারদের জন্য ৩.৩ জিপিএ বজায় রাখার শর্ত ছিল। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্দিষ্ট আবেদনচক্রের সব শর্ত ও সময়সীমা আবেদন করার আগে সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান নির্দেশনা থেকে যাচাই করা জরুরি। 

 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন করার আগে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা বা নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড সিমন্স ইউনিভার্সিটি দেয় না। তাই কোটজেনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ ছাড়াও আবেদনকারীকে অন্যান্য সম্ভাব্য অর্থায়ন এবং নিজের অবশিষ্ট শিক্ষাব্যয়ের পরিকল্পনা আগে থেকেই করতে হবে। 

 

সিমন্স ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণকালীন আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য নির্ধারিত খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬ ডলার দেখানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবীমা, বই, ব্যক্তিগত খরচ এবং অন্যান্য ব্যয়ও শিক্ষার্থীর মোট বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ‘ফুল স্কলারশিপ’ বলা হলেও কোন কোন খরচ সরাসরি এর আওতায় রয়েছে, তা আবেদন করার আগে ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। 

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই কোটজেন স্কলারশিপের পাশাপাশি সিমন্স ইউনিভার্সিটির অন্যান্য মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ, ভর্তি যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার নিয়মও দেখে আবেদন প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কলারশিপের আবেদনপত্রে একাডেমিক অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা আবেদনকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনে সহায়ক হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
মিশিগান থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আবদুল এল-সায়েদের সিনেটর বেতন কত, বাংলাদেশি টাকায় কত এবং কী কী সুবিধা পাবেন?

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় তিনি আলোচনায় এসেছেন। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁর বেতন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন সাধারণ মার্কিন সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলার। সেই হিসাবে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এল-সায়েদও একই বেতন কাঠামোর আওতায় পড়বেন।   বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার প্রায় ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে তাঁর বার্ষিক বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মাসিক হিসাবে বেতন দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে টাকার অঙ্ক কমবেশি হতে পারে। এই হিসাব কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তনের আগের বেতনের ভিত্তিতে করা হয়েছে।   আবদুল এল-সায়েদ ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বেতন কার্যকর হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। ওই দিন থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিনেটরের বেতন পাবেন।   বেতনের বাইরে সিনেটরদের জন্য রয়েছে স্বাস্থ্যবিমা ও অবসরকালীন সুবিধা। তবে এসব সুবিধা মানেই বিনা খরচে সব চিকিৎসা বা অবসরের পর আজীবন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পাওয়া নয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সিনেটররা ডিসি হেলথ লিংকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফেডারেল সরকার বিমার প্রিমিয়ামের একটি অংশ বহন করে। কোন স্বাস্থ্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং তার প্রিমিয়াম কত, তার ওপর ব্যক্তির নিজের পরিশোধযোগ্য অংশ নির্ভর করে।   সিনেটররা ফেডারেল কর্মীদের জন্য নির্ধারিত জীবনবিমা কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মীদের অবসর পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। তবে কত টাকা পেনশন বা অবসর সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা, বয়স, চাকরির মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তের ওপর। সাধারণভাবে অবসর সুবিধা পাওয়ার জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছর চাকরির শর্ত রয়েছে।   সিনেটরদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা সরকারি বরাদ্দ। এই অর্থ ব্যক্তিগত বেতন বা অতিরিক্ত আয় নয়। সিনেটরদের অফিস পরিচালনা, কর্মী নিয়োগ, স্টাফদের বেতন, দাপ্তরিক সরঞ্জাম, চিঠিপত্র এবং নিজ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে সরকারি কাজে যাতায়াতের মতো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়। ২০২৬ অর্থবছরে একজন সিনেটরের জন্য এই দাপ্তরিক বরাদ্দের পরিমাণ অঙ্গরাজ্যভেদে প্রায় ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ডলার থেকে ৬৬ লাখ ২১ হাজার ডলারের মধ্যে। গড় বরাদ্দ প্রায় ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ডলার।   এই দাপ্তরিক বরাদ্দ দিয়ে সিনেটর নিজের ব্যক্তিগত খরচ, রাজনৈতিক প্রচার বা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ব্যয় মেটাতে পারেন না। অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিনেটের নির্ধারিত নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একইভাবে সিনেটের বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করার জন্য সাধারণ সিনেটররা মূল বেতনের বাইরে অতিরিক্ত বেতন পান না।   যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের বেতন ২০০৯ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো একই থাকলেও তাঁদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অবসরকালীন সুবিধার জন্য আলাদা নিয়ম ও বরাদ্দ রয়েছে। ফলে একজন সিনেটরের বার্ষিক বেতন এবং তাঁর অফিস পরিচালনার জন্য সরকারের দেওয়া অর্থকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২০:৯
আদালতের আদেশের পর ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় দুই মুসলিম সংগঠনসহ তিন সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর

ধর্মীয় সংগঠন চার্চ অব সায়েন্টোলজি

ফ্লোরিডায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি সড়ক হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত, প্রতিবাদে হাজারো বাসিন্দা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি

‘আমেরিকায় আবারও নতুন সকাল এসেছে’— ডেমোক্র্যাটদের জয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ
মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের জয়ে ভারতের কর্ণাটকে উৎসব, ‘জামাইবাবু’র সাফল্যে উচ্ছ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর হিসেবে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। তার এই বিশাল বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ভাটকলেও! কারণ, এল-সায়েদের স্ত্রী ডা. সারাহ জুকাকুর পরিবারের শেকড় প্রোথিত রয়েছে এই উপকূলীয় শহরেই। 'কর্ণাটকের জামাইবাবু'র এই সাফল্যে সারাহর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে এখন রীতিমতো আনন্দের জোয়ার বইছে।   এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সারাহর মামাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া এবং চাচাতো বোন বিবি হুসনা জানিয়েছেন, ভোটের পুরোটা সময় চরম মানসিক চাপে থাকলেও বিজয়ের খবর শোনার পর তাদের আনন্দ বাঁধভাঙা রূপ নেয়। আত্মীয়স্বজনরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকায় পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোই হয়ে উঠেছিল অভিনন্দনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এল-সায়েদের সঙ্গে ভাটকলের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। সারাহর বাবা ডা. তায়েব জুকাকু সবসময় সন্তানদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে চাইতেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে একটি পারিবারিক বিয়ে উপলক্ষে আবদুল এল-সায়েদ ভাটকলে এসেছিলেন এবং বেশ কয়েকদিন এখানে কাটিয়েছিলেন। আত্মীয়দের কাছে তিনি একজন অত্যন্ত বিনয়ী, অমায়িক এবং আড্ডাপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভাটকলের ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানি ও 'লোনমিরি' নামের স্থানীয় খাবারগুলো তার বেশ পছন্দের।   বেঙ্গালুরুতে বসবাসরত জিয়া এই বিজয়ের মাঝে তার প্রয়াত দাদা জুকাকু শামসুদ্দিনের স্মৃতি খুঁজে পান, যিনি একসময় মহীশূর রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি মনে করেন, তার দাদার মতোই এল-সায়েদ জনসেবা ও সততার প্রতি দারুণভাবে দায়বদ্ধ। অন্যদিকে, বিবি হুসনা এই বিজয়কে কেবল ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে না দেখে, বরং এটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইসলামোফোবিয়া, দুর্নীতি এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একটি বড় জয় হিসেবেই দেখছেন। তবে বিপুল প্রত্যাশার এই নতুন পদে দায়িত্ব পালনকালে এল-সায়েদ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিতও তারা। সব মিলিয়ে হাজার মাইল দূরের এক বড় রাজনৈতিক বিজয়ের সঙ্গে নিজেদের মাটির এই নিবিড় সংযোগে ভাটকলবাসী এখন গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:৩২
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে নীতি ও প্রশাসন বদলানোর চাপ দিচ্ছেন রিপাবলিকান নেতারাই

নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে নীতি ও প্রশাসন বদলানোর চাপ দিচ্ছেন রিপাবলিকান নেতারাই

ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড

ধর্ষণ ও তিন যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রুকলিন ও শিকাগোয় বসতবাড়িতে ভ য়াবহ অ গ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল অন্তত ১০ জনের

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রুকলিন ও শিকাগোয় বসতবাড়িতে ভ য়াবহ অ গ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল অন্তত ১০ জনের

ওয়াশিংটনে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে সাড়া দিতে গিয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে এক শেরিফ ডেপুটি নিহত। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশসহ চারজন নিহত, লাইফ সাপোর্টে আরো এক কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে সাড়া দিতে গিয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে এক শেরিফ ডেপুটি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরেক ডেপুটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর বেঁচে থাকার আশা দেখছেন না বলে জানিয়েছে স্থানীয় শেরিফ অফিস। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্পোকেন কাউন্টি শেরিফ অফিস এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের  প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে স্পোকেন কাউন্টির স্প্যাঙ্গল এলাকার সাউথ স্মাইথ রোডের একটি বাড়িতে গুলির খবর পায় পুলিশ। এক নারী প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে জানান, তাঁর ভাই তাঁকে গুলি করেছেন। একই বাড়িতে আরও কয়েকজন আটকা থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাঁর কাছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র থাকার আশঙ্কাও ছিল। বাড়ির ভেতরে অন্যদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষায়িত সোয়াট টিমকে ডাকা হয়। বিকেল সোয়া তিনটার দিকে কর্মকর্তারা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে হঠাৎ গুলি চালানো হয়। এতে সোয়াট টিমের দুই ডেপুটি গুরুতর আহত হন। অন্য কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি চালানোর পাশাপাশি আহত সহকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।   গুলিবিদ্ধ দুই ডেপুটিকে দ্রুত প্রভিডেন্স সেক্রেড হার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তাঁদের একজন মঙ্গলবার রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যজনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বুধবার শেরিফ অফিস জানায়, দ্বিতীয় কর্মকর্তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি অঙ্গদাতা হিসেবে নিবন্ধিত থাকায় তাঁর অঙ্গদানের বিষয়েও প্রস্তুতি চলছে। নিহত কর্মকর্তা স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। অন্য আহত কর্মকর্তারও দুই সন্তান রয়েছে।   এদিকে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীসহ তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ বাড়ির উঠানে এবং অন্য দুজনের মরদেহ বাড়ির ভেতরে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি কীভাবে মারা গেছেন, তা এখনো তদন্তাধীন। যে নারী প্রথমে পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   স্পোকেন কাউন্টির শেরিফ জন নাওয়েলস জানিয়েছেন, আহত দুই কর্মকর্তা সোয়াট টিমের অপেক্ষাকৃত তরুণ সদস্য ছিলেন। অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে তাঁরা বিপদের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো শেরিফ অফিস শোকাহত। ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসনও নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে স্পোকেন ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ রেসপন্স টিম। তদন্তে সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন স্টেট প্যাট্রোল। পুলিশের পাল্টা গুলি চালানোর ঘটনা এবং প্রাথমিক পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ—দুটি বিষয়ই তদন্তের আওতায় রয়েছে। নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে পরিবারগুলোকে বিষয়টি জানানো এবং তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:২৯
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের বিতর্কেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে মার্কিন শিক্ষার্থীকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলগামী মার্কিন শিক্ষার্থীকে আটক ও হাত ভাঙার অভিযোগ, হাসপাতালে অস্ত্রোপচার

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন ড. আবদুল এল সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল সাঈদ, গবেষণাতেও উজ্জ্বল

0 Comments