সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

কলোরাডোয় রোগীদের ১৩৯ প্রেসক্রিপশন চুরির দায়ে হাসপাতালে কর্মীর ১৮ মাসের কারাদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১০:৪৩
রোগীদের ব্যথানাশক ওষুধ সরিয়ে নেওয়ার অপরাধে হাসপাতালের সাবেক কর্মীকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: সংগৃহীত
রোগীদের ব্যথানাশক ওষুধ সরিয়ে নেওয়ার অপরাধে হাসপাতালের সাবেক কর্মীকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১২৭ রোগীর জন্য নির্ধারিত ১৩৯টি প্রেসক্রিপশন সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের এক সাবেক কর্মীকে ১৮ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেলবি উলকেন নামের ওই কর্মী রোগীদের জন্য নির্ধারিত ব্যথানাশক ওষুধের পরিবর্তে সাধারণ ওষুধ দিয়েছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের মাদকাসক্তির কথা স্বীকার করেন।

 

ঘটনাটি সামনে আসে ২০২৪ সালের ১ জুলাই। সেদিন সেন্ট জোসেফস হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মীরা উলকেনকে থামান। তিনি হাসপাতালের ওষুধের দোকান থেকে এক রোগীর জন্য নির্ধারিত অক্সিকোডোনের প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করে কাছের একটি বাথরুমে ঢুকেছিলেন। পরে বোতলটি রোগীর নেওয়ার জন্য ফেরত দেওয়া হয়।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বোতলটি পরীক্ষা করে সেখানে নির্ধারিত অক্সিকোডোনের পরিবর্তে অ্যালার্জির ওষুধ লোরাটাডিন পায়। নথি অনুযায়ী, একই দিন এর আগে উলকেন ওই ওষুধের দোকান থেকেই অ্যালার্জির ওষুধ কিনেছিলেন।

 

সে সময় উলকেন সেন্ট জোসেফস হাসপাতালে রোগী ব্যবস্থাপনা সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। এই পদে তিনি রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর রোগীদের বিভিন্ন সেবার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতেন।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে উলকেন স্বীকার করেন, নিজের পরিচয়পত্র ও পদ ব্যবহার করে অন্তত ১০টি প্রেসক্রিপশনে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। এসব ঘটনা ডেনভারের সেন্ট জোসেফস হাসপাতাল ছাড়াও হুইট রিজের লুথেরান হাসপাতাল এবং লাফায়েতের গুড সামারিটান হাসপাতালে ঘটেছিল। তিনটি হাসপাতালই একই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত।

 

পরে ফেডারেল তদন্তকারীরা উলকেনকে তার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি আরও ওষুধ বদলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা নির্ধারণ করেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় আট মাসে তিনি প্রায় ১২৭ রোগীর জন্য প্রায় ১৩৯টি প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করেছিলেন।

 

তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি করা ওষুধের পরিবর্তে উলকেন বিভিন্ন ধরনের আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন, অ্যাসিটামিনোফেন এবং লোরাটাডিন দিয়েছিলেন। ফলে কিছু রোগী কোনো শারীরিক সমস্যায় না পড়লেও অন্যরা উল্লেখযোগ্য থেকে তীব্র ব্যথা এবং ঘুমাতে না পারার কথা তদন্তকারীদের জানান।

 

ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের মধ্যে দুই নারী ছিলেন, যারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। আরেক নারী অন্য একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর পর্যাপ্ত ব্যথানাশক না পাওয়ায় তীব্র কষ্টের কথা জানান। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে আক্রান্ত এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারী আরেক রোগী তদন্তকারীদের জানান, প্রেসক্রিপশনে কারসাজির ঘটনা তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

 

নিজের বাড়িতে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের তদন্তকারীদের কাছে উলকেন স্বীকার করেন, তিনি আফিমজাত মাদকে আসক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে রোগীদের তিনি যে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন, সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঝুঁকির মধ্যে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ছিল।

 

কলোরাডো জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি পিটার ম্যাকনিলি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করে, রোগীদের ভোগান্তি বাড়ায় এবং চিকিৎসাজনিত সমস্যায় থাকা মানুষদের ঝুঁকিতে ফেলে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের নির্ধারিত ওষুধ চুরি করে নিজের আসক্তির চাহিদা পূরণের কথা যারা ভাবছেন, তাদের জন্য এই সাজা একটি বার্তা।

 

উলকেন মার্চে ভোক্তা পণ্যে কারসাজির একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ওই অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে সাজা ঘোষণার আগে ফেডারেল কৌঁসুলিরা সাজা কমানোর আবেদন করেন। তারা জানান, তদন্তে উলকেন সহযোগিতা করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

 

সাজার পর ইন্টারমাউন্টেন হেলথের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, উলকেন আর প্রতিষ্ঠানটির কর্মী নন।

 

ইন্টারমাউন্টেন হেলথ ইউটা, আইডাহো, নেভাদা, কলোরাডো, মন্টানা ও ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে ৩৩টি হাসপাতাল এবং ৪০০টির বেশি চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত।

 

সূত্র: সিবিএস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে আপাতত বন্ধ আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন
নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে আপাতত বন্ধ আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছেন। মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট জজ ভ্যালেরি ক্যাপ্রোনি এই আদেশ জারি করেন। আদালতে সরকারি আইনজীবীরা নিশ্চিত করেন যে, অন্তত চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত আফগানদের ফেরত পাঠানোর জন্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কোনো চার্টার্ড বা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পরিকল্পনা নেই।   এই প্রেক্ষাপটেই শনিবার পর্যন্ত কার্যকর থাকা ওই অস্থায়ী নির্দেশটি দেন আদালত। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগের এক নথিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করা আফগানদের আত্মীয়স্বজনসহ ডজনখানেক আফগান অভিবাসীকে চলতি সপ্তাহেই জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।   আদালতের এই সিদ্ধান্তকে সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। 'আফগানইভ্যাক' (AfghanEvac) নামের একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সভাপতি শন ভ্যানডাইভার জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মী ও কংগ্রেসের ৬৬ জন সদস্যের প্রবল চাপের মুখেই সরকার এই ফ্লাইট থামাতে বাধ্য হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত কোনো সমাধান নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।   অন্যদিকে, কংগ্রেস সদস্য স্কট পিটার্স জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় যেসব আফগান নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তাদের তালেবানের হাতে তুলে দেওয়াটা আমেরিকার দেওয়া প্রতিশ্রুতির চরম লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে লুইজিয়ানার আইসিই বন্দিশিবিরে বর্তমানে শত শত আফগান অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে সাধারণত আন্তর্জাতিক ডিপোর্টেশন ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যায়। সম্ভাব্য এই ডিপোর্টেশন বা ফ্লাইটের বিষয়ে আইসিই কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৮:৩৭
মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়ার পথে হাকিম জেফ্রিজ, হতে যাচ্ছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার

মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়ার পথে হাকিম জেফ্রিজ, হতে যাচ্ছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার

টেনেসির কারাগার থেকে পালিয়ে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে মিসৌরিতে ধরা পড়লেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি

টেনেসির কারাগার থেকে পালিয়ে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে মিসৌরিতে ধরা পড়লেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি

ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-সহ তিনজনের মৃ ত্যু, দুই বছর পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চালক

ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-সহ তিনজনের মৃ ত্যু, দুই বছর পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চালক

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ
রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের চরম ভরাডুবির পর ব্যর্থতার দায়ভার কার কাঁধে পড়বে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব ওয়ার) পিট হেগসেথ। দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের জন্য তাকেই 'বলির পাঁঠা' বানানো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   তবে অভিশংসন বা পদচ্যুতির মতো কঠিন লড়াই এড়িয়ে সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার একটি সহজ সুযোগ থাকলেও সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন হেগসেথ। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নবনির্বাচিত গভর্নর মার্থা ব্ল্যাকবার্নের শূন্য হওয়া সিনেট আসনে তাকে নিয়োগের একটি গুঞ্জন থাকলেও, হেগসেথ সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।   পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের হুমকি সত্ত্বেও হেগসেথ ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের পদে বহাল থাকতে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। আর এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল হেগসেথের পরিচালিত যুদ্ধ। ফলে এই পরাজয়ের উল্লেখযোগ্য দায়ভার স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর বর্তায়।   হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন হেগসেথের ওপর চরম ক্ষুব্ধ এবং তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প তার মিত্রদের মতামত নিচ্ছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় আগামী বছর হেগসেথকে একটি প্রকাশ্য অভিশংসন বিচার বা শুনানির মুখোমুখি হতে হতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।   গুঞ্জন জোরালো হলেও ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে হেগসেথের প্রশংসাই করেছেন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হেগসেথ খুব ভালো কাজ করছেন এবং তাকে বরখাস্ত করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরের খবর হলো, এর আগে প্যাম বন্ডি এবং ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার আগেও ট্রাম্প ঠিক এভাবেই তাদের প্রশংসা করেছিলেন।   হেগসেথের বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৬ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেবার ইরাক যুদ্ধের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিশাল পরাজয়ের ঠিক পরের দিনই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা জন উলিওটও কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, হেগসেথ মার্কিন সামরিক কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছেন এবং আত্মসম্মানবোধ থাকলে তার নিজে থেকেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।   উল্লেখ্য, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সিনেটে সাতটি আসন হারিয়েছে এবং আরও দুটি আসন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) তারা কমপক্ষে ২৯টি আসন হারিয়েছে।   এর ফলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে, যারা আগামীতে ট্রাম্পের যেকোনো নীতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং খোদ প্রেসিডেন্টকেও তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের মুখে ফেলতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৭:১৩
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের আইনি লড়াইয়ে মেয়র মামদানির জয়

নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের আইনি লড়াইয়ে মেয়র মামদানির জয়

দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর প্রশান্ত মহাসাগরে কুকুরসহ উদ্ধার ৮৬ বছরের নাবিক

দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর প্রশান্ত মহাসাগরে কুকুরসহ উদ্ধার ৮৬ বছরের নাবিক

ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের সুখবর, ২০২৭ সালে দেড় ও ২০২৮ সালে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত করছাড়

ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের সুখবর, ২০২৭ সালে দেড় ও ২০২৮ সালে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত করছাড়

ক্যালিফোর্নিয়ায় ময়লার ডাস্টবিন খুলতেই মিলল চার ফুটের অজগর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ময়লার ডাস্টবিন খুলতেই মিলল চার ফুটের অজগর, উদ্ধার করলেন বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি পার্কের ডাস্টবিন পরিষ্কার করতে গিয়ে রীতিমতো চমকে গেছেন এক রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। ময়লার পাত্রটি খুলতেই তিনি ভেতরে চার ফুট লম্বা একটি জীবন্ত 'বল পাইথন' কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে দেখেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেল এলাকার ব্র্যান্ড পার্কে। অপ্রত্যাশিতভাবে ডাস্টবিনের ভেতর এমন বিশাল সাপ দেখার পর ওই কর্মী বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন।   খবর পেয়ে পাসাডেনা হিউম্যান সোসাইটির অ্যানিমেল কন্ট্রোল অফিসাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সাপটিকে উদ্ধার করেন। পরে সাপটির শরীরে কোনো রোগ বা আঘাত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য সেটিকে পাসাডেনা হিউম্যান সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, সাপটি বর্তমানে তাদের একটি তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত ঘেরে নিরাপদে বিশ্রাম নিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে সেখানকার ছোট পুলে শরীর ভিজিয়ে আরাম উপভোগ করছে।   তবে এত বড় একটি সাপ কোথা থেকে এল বা কীভাবে এটি ডাস্টবিনে এসে পড়ল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পাসাডেনা হিউম্যানের কর্মকর্তারা সাপটি উদ্ধারের বিষয়ে জানিয়েছেন, এ ধরনের সাপের দেখা তারা প্রতিদিন পান না। তবে যখন এমন কোনো ঘটনা ঘটে, তখন এই ধরনের বিরল ও বিশেষ প্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় যত্ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তারা এক মুহূর্তও দেরি করেন না।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৫:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারিতে ভাগ্য খুলল দুই ভাইয়ের, জিতলেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারিতে ভাগ্য খুলল দুই ভাইয়ের, জিতলেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল, তবু এইচ-১বি অনুমোদনের হার ৯৭ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল, তবু এইচ-১বি অনুমোদনের হার ৯৭ শতাংশ

বাঁয়ে ওপরে আবদুল এল-সায়েদ, নিচে বারাক ওবামা। ডানে মাইক জনসন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ

0 Comments