সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যে কোনো সময় আসতে পারে এক দফা দাবি জামায়াত আমিরের হুশিয়ার
যে কোনো সময় আসতে পারে এক দফা দাবি জামায়াত আমিরের হুশিয়ার

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের বর্তমান আট দফা দাবি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে এবং জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় তা এক দফায় পরিণত হতে পারে। এক দফায় রূপ নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।    শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে লংমার্চটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।    শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে আট দফা দাবি রয়েছে। এটি নয় বা ১০ দফায় রূপ নিতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক দফা কর্মসূচি এলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।    সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকিতে তারা পিছিয়ে যাবেন না। সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আগেই জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।    ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।    সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। আয়োজকদের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।    সূত্র: কালবেলা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২:৫৯
বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি

১৯৪৫ সাল থেকে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে উঠলেও তাদের বড় একটি অংশ এখনও পূর্ব লন্ডনকেন্দ্রিক। তবে শুধু আবাসিক ঘনত্ব দেখে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজকে পিছিয়ে থাকা বা একই জায়গায় আটকে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ধরা পড়ে না। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের কয়েক দশকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফল, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের হার নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ ছিল। অনেক পরিবার তখন দারিদ্র্য, আবাসন সংকট ও বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করত।   সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ সালে জিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। একই বয়সে সাদা ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ। গত এক দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।   শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মরত ছিলেন। একই বয়সী সাদা ব্রিটিশ নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭৯ শতাংশ। আবার ওই বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ১৪ শতাংশ পেশাদার বা ম্যানেজার পর্যায়ের চাকরিতে ছিলেন, যা সাদা ব্রিটিশদের একই বয়সী জনগোষ্ঠীর হারের কাছাকাছি।   তবে অগ্রগতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনও বড় বাস্তবতা। দ্য ইকোনমিস্টের হিসাবে, আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ব্রিটেনের প্রতি দুই বাংলাদেশি পরিবারের একটি জাতীয় আয়ের নিচের ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যম সম্পদের পরিমাণও এক লাখ পাউন্ডের নিচে, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে গড় সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ শিক্ষাগত অগ্রগতি দ্রুত হলেও সম্পদ ও আয় বৃদ্ধিতে সেই অগ্রগতির পুরো প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি।   ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সামগ্রিক পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই ব্রিটেনের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে নতুন করে আসা অভিবাসী এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মকে একই পরিসংখ্যানে ধরলে দুই প্রজন্মের আর্থসামাজিক অবস্থানের পার্থক্য অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। গবেষণা ও সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থানে পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে দ্রুত ঘটছে।   ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ইতিহাসও দীর্ঘ। উনিশ শতক থেকেই সিলেট ও ব্রিটেনের মধ্যে যাতায়াতের ইতিহাস রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে সিলেটি নাবিকদের মাধ্যমে ব্রিটেনে বাংলাদেশি উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরবর্তী দশকগুলোতে বিশেষ করে সিলেট থেকে আসা অভিবাসীরা পূর্ব লন্ডনে বসতি গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে এই সম্প্রদায় ব্যবসা, শিক্ষা, পেশাজীবন ও ব্রিটিশ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।   ফলে পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশিদের ঘনবসতি এখনও দৃশ্যমান হলেও সেটিকে পুরো সম্প্রদায়ের অগ্রগতির একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষা, পেশা ও কর্মসংস্থানে নতুন প্রজন্মের পরিবর্তন দেখাচ্ছে, কয়েক দশক আগে যে বাংলাদেশি পরিবারগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২:৩৯
মাত্র ২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরি পেলেন সিলেটের রিজভী ইসলাম
মাত্র ২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরি পেলেন সিলেটের রিজভী ইসলাম

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কানলী গ্রামের তরুণ রিজভী ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে চাকরি পেয়েছেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, এনওয়াইপিডিতে তিনি ট্রাফিক-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে কাজ করবেন। এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   রিজভী ইসলাম কানলী গ্রামের শাহিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে যাওয়ার পর নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান।   রিজভীর চাচা সাইদুল ইসলাম সেলিম জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর থেকেই রিজভী নিজের পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়তে নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এনওয়াইপিডির ট্রাফিক-সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাকরির সুযোগ পান তিনি।   রিজভীর এই অর্জনে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি কানলী গ্রামের মানুষের মধ্যেও আনন্দ দেখা দিয়েছে। বিয়ানীবাজারের একজন তরুণ হিসেবে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগে কাজের সুযোগ পাওয়াকে স্থানীয়রা তাঁর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পরিবেশে বসবাস শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যে পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে রিজভীর এই অর্জন তাঁর পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এনওয়াইপিডিতে তাঁর নির্দিষ্ট পদবি, নিয়োগের তারিখ এবং দায়িত্বের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি সূত্রে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টার পর পাওয়া এই চাকরির মাধ্যমে রিজভীর যুক্তরাষ্ট্রের পেশাজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২:১৩
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আরও এক বছর বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই নিয়ম চালু করা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়। তবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।    নতুন ঘোষণাটি এসেছে যখন এই ফি নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত এই অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাকে বেআইনি বলে রায় দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলমান রয়েছে। ফলে নীতিটি আগামী এক বছর বহাল রাখার পাশাপাশি এর আইনি বৈধতাও আদালতে পর্যালোচনার মধ্যে থাকছে।    হোয়াইট হাউসের দাবি, এই নীতির লক্ষ্য এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি বন্ধ করা। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর বড় আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে।    তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এই নীতির প্রভাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, অতিরিক্ত ব্যয় দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাধা তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি খাতসহ যেসব শিল্প এইচ-১বি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে নিয়োগ পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।    নতুন ঘোষণায় বর্তমান এইচ-১বি ভিসাধারীদের সব ক্ষেত্রকে একইভাবে এই ১ লাখ ডলারের অর্থের আওতায় আনা হয়নি। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে এই অর্থ পরিশোধের শর্ত প্রযোজ্য। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথকভাবে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় কাজের সুযোগ পান। তাই নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে এইচ-১বি ভিসায় যেতে আগ্রহী বিদেশি কর্মী এবং তাঁদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। তবে আদালতের চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতিটির ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১:৪৩
বুয়েটের মেকানিক্যাল থেকে শিক্ষকতা, এবার পিএইচডির জন্য প্রিন্সটনে সানজানা
বুয়েটের মেকানিক্যাল থেকে শিক্ষকতা, এবার পিএইচডির জন্য প্রিন্সটনে সানজানা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে একই বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেছেন সানজানা। এবার বুয়েটের সেই একাডেমিক পথ পেরিয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে।   বুয়েটে ভর্তি হওয়ার আগে প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনার লক্ষ্য থাকলেও সেখানে শিক্ষকতা করবেন, এমন পরিকল্পনা শুরু থেকেই তাঁর ছিল না। তবে বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নিয়মিত একাডেমিক কাজ, পড়াশোনা ও গবেষণার প্রস্তুতি চালিয়ে যান তিনি। পাশাপাশি বুয়েটের শিক্ষাজীবনও উপভোগ করেছেন।   পিএইচডির জন্য সানজানা প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের পর মাত্র ১০ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকারেই তাঁর সামনে খুলে যায় পিএইচডির সুযোগ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বিশ্বখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ তাঁর একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হয়ে উঠেছে।   এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই পথচলার নানা দিক তুলে ধরেছেন সানজানা। সেখানে এইচএসসি পর্যায় থেকে শুরু করে বুয়েটে ভর্তি হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি এবং একাডেমিক কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।   বুয়েটে পড়াশোনার পাশাপাশি কীভাবে একাডেমিক কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনকে সামলে চলেছেন, সেই অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে তাঁর কথায়। একই সঙ্গে বুয়েটে শিক্ষকতা পেশায় আসার কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।   পিএইচডির প্রস্তুতি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, সাক্ষাৎকার এবং শেষ পর্যন্ত প্রিন্সটনে সুযোগ পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিও ছিল তাঁর এই পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে একই বিভাগের শিক্ষক এবং সেখান থেকে প্রিন্সটনে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া তাঁর একাডেমিক যাত্রায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে।   সূত্র: বিয়ন্ড স্টোরিস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১:৩৯
ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প
ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়ে একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ আইনের আওতায় ভারত ও চীনের মতো বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতারা নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে।    তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনটি ভারতীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেনি। বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে।    রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করাই নতুন আইনের অন্যতম লক্ষ্য। এতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ছায়া বহরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।    আইনটি আগে সিনেটে পাস হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২ ভোটে ১৫৯ ভোটে অনুমোদিত হয়। এরপর শুক্রবার ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন আইন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞাও সম্প্রসারিত করেছে।    ভারত দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে। এ কারণে নতুন আইন নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ব্যবস্থার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রভাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ভারত।    নতুন আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের বিষয়টি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনই কার্যকর হয়েছে এমন নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে এমন একটি বড় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা চলে আসায় ভারত ও চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১:২১
নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ
পরিশ্রমে স্বপ্নজয়, নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক এজেন্ট হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের তরুণ আবদুল্লাহ। তিনি বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খাসা বিলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁর এই সাফল্যের খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শৈশব থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ প্রবাসে গিয়েও নিজের লক্ষ্য ধরে রাখেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের পর তিনি নিউইয়র্কের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদে সফল হয়েছেন।   আবদুল্লাহর এই অর্জনে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন মহল থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সাফল্যের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   নিউইয়র্কে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা শহরের সড়কে যানবাহন ও পার্কিংসংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কাজটির মধ্যে ট্রাফিক ও পার্কিং বিধি প্রয়োগ, রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যান চলাচল ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব রয়েছে।   প্রবাসজীবনে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এমন পেশায় জায়গা করে নেওয়া আবদুল্লাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর সাফল্যের খবর বিয়ানীবাজারের স্থানীয় পর্যায়ে আনন্দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। সূত্র: বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:৪৬
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা গোপন করছে পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা গোপন করছে পেন্টাগন, তথ্যে ধোঁয়াশা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে ছয় মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ২২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অথচ পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারে নিহতের সংখ্যা ১৮ জন দেখানো হয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিহত সেনার সংখ্যা অন্তত ২২ জন। আরেক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সংখ্যা ২৩ জন হতে পারে। তবে প্রকাশ্য হিসাবের বাইরে থাকা সব মৃত্যুই সরাসরি ইরান যুদ্ধের কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় সেখানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনার মৃত্যুও এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ওই অঞ্চলে থাকা তিন মার্কিন ঠিকাদারও মারা গেছেন বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।    পেন্টাগনের প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা হতাহত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ইরান সংঘাত শুরুর পর ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে শত্রুর হামলা এবং অন্যান্য কারণে হওয়া মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর পরিচয়, কখন, কোথায় এবং কীভাবে তারা মারা গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়।    এই হিসাব নিয়ে পেন্টাগনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পরে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।   মার্কিন সেনাদের হতাহতের সরকারি হিসাব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় ইরান যুদ্ধের মৃত্যুগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং আরও চারজনের মৃত্যু ‘বিদেশি অভিযান’ শ্রেণিতে দেখানো হচ্ছিল। ফলে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ের হতাহতের সংখ্যা কীভাবে সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলেও পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে। তাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি পাল্টা হামলার সময় মস্তিষ্কে আঘাতসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের ওপরও চাপ বেড়েছে।    যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এই অঙ্কের মধ্যে নেই।    মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন এই তথ্য প্রকাশের ফলে পেন্টাগনের হতাহত তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি এবং সরকারি হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের কর্মকর্তাভিত্তিক হিসাব এবং পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের চূড়ান্ত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ সম্পর্কে সরকারি ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:৪২
স্ত্রীর অপারেশন নিয়ে দুশ্চিন্তায় অজ্ঞান স্বামী
স্ত্রীর অপারেশন নিয়ে দুশ্চিন্তায় অজ্ঞান স্বামী, ভিডিও ভাইরাল

রাজবাড়ীতে স্ত্রীর অপারেশন চলার সময় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দুশ্চিন্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন এক স্বামী। স্ত্রীর অস্ত্রোপচার নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের নজরে এসেছে। তবে ঘটনাটির নির্দিষ্ট হাসপাতাল, দম্পতির পরিচয় ও ঠিক কখন এটি ঘটেছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   অপারেশন চলাকালে রোগীর স্বজনদের উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষ করে কাছের মানুষ অস্ত্রোপচারের মধ্যে থাকলে উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে সেই চাপ শারীরিক অসুস্থতার কারণও হতে পারে।   এই ঘটনার ক্ষেত্রেও স্ত্রীর অস্ত্রোপচার নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বামী অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা করতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা বা পরে কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে স্বামীর উদ্বেগকে দাম্পত্য ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: জনবাণী নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:৩২
পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া ঘোষণায় তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সমালোচনা করে ট্রাম্প এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য প্রচারের অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি। এই সিদ্ধান্তের ফলে হোয়াইট হাউস কভার করা এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহে নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মকাণ্ড কভার করা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলন, প্রেস পুল এবং সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরকারি সংবাদ কাভারেজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, নতুন ঘোষণার পর সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।   সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে কাভার করে। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত হলে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিষয়টি আদালতে গড়ালে হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, তা পরবর্তী developments-এর ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:১৫
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের লোহার গেট গাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক সেন্টারে হামলা, তেল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে একটি ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে দুটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গেট ভেঙে ফেলা এবং পরে সেখানে দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটিকে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ।   কর্নওয়ালের কার্নন ডাউনস এলাকায় অবস্থিত কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিককে এক প্রতিবেশী ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কেন্দ্রের লোহার গেটটি ভেঙে কবজা থেকে ছিটকে গেছে।   তবে গেট ভাঙার পাশাপাশি কেন্দ্রের আঙিনা থেকে মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত এবং ভবনের দেয়ালে তেলজাতীয় একটি পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিলিক জানান, কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে দুটি ভ্যানকে গেটে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে। এরপর দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে তেল ছড়িয়ে দেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   ঘটনার পর কিলিক বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে হামলাকারীরা প্রবেশ করতে পারেনি বা প্রবেশের চেষ্টা করেনি। তবে ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে জানান।   এটি ওই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে গত ১৮ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সম্ভাব্য জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনা। এর আগে ২০০৮ সালে কেন্দ্রটি যে সাবেক মেথডিস্ট চার্চ ভবনে পরিচালিত হতো, তার দরজায় শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভবনে বর্ণবাদী গ্রাফিতিও লেখা হয়েছিল বলে CornwallLive জানিয়েছে।   সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কেন্দ্রটির নেতারা উত্তেজনার পরিবর্তে ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন।   হাসান কিলিক CornwallLive-কে বলেন, ঘটনাটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্টদায়ক। তবে তারা এটিকে স্থানীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন বা কয়েকজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে সংজ্ঞায়িত করা হবে না।   শুক্রবার মুসলমানদের সাপ্তাহিক প্রধান নামাজের দিন হওয়ায় ওই দিন কেন্দ্রটিতে দেওয়া বক্তব্যেও শান্তি, ধৈর্য, ঐক্য ও আশার বার্তা তুলে ধরার কথা জানান কিলিক। তিনি বলেন, এই ঘটনা তাদের ভয় দেখাতে বা কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কর্নওয়াল ও আইলস অব সিলির পুলিশ কমান্ডার চিফ সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেন, ঘটনার স্থান ও পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে জাতিগতভাবে প্ররোচিত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশে সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির উপস্থিতি কেউ দেখে থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে শুক্রবার ও সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্নওয়ালে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাহিনীর আওতাধীন এলাকায় ২৮২টি ঘটনায় মুসলিমবিরোধী ধর্মীয় বিদ্বেষের ধরন নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে এসব পরিসংখ্যানের মধ্যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার কোনো তথ্য নেই।   পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক তথ্য থাকা ব্যক্তিদের ১০১ নম্বরে অথবা পুলিশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বেনামে তথ্য দিতে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়।   সূত্র: CornwallLive, Devon & Cornwall Police

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:৭
কেপ কডে পাওয়া দুই মাথার বিরল ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন কচ্ছরছানা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কডে বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপের সন্ধান, চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেপ কড এলাকায় একটি বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপের ছানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ব্যতিক্রমী এই প্রাণীটিকে দেখে অবাক হয়েছেন স্থানীয় পশু চিকিৎসকরা।   বার্নস্টেবলে অবস্থিত কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার বৃহস্পতিবার এই ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন প্রজাতির কচ্ছপটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। মাত্র ৫ দশমিক ২ গ্রাম ওজনের এই সদ্য জন্ম নেওয়া ছানাটিকে ওয়েলফ্লিটের একটি সংরক্ষিত বাসা তৈরির স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় দুই মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়ার এই বিরল শারীরিক অবস্থাকে বলা হয় বাইসেফালি। ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তারা এমন আরও মাত্র দুটি কচ্ছপ দেখেছেন। ফলে পশু চিকিৎসকদের দলটির কাছে এটি এখনও একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা।   দুই মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া এই কচ্ছপটির আচরণ ও শারীরিক কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চিকিৎসক দলটি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে তারা এমন বিরল প্রাণীর দেখা পেলেও প্রতিটি নতুন ঘটনাই তাদের এসব প্রাণীর শারীরস্থান ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দেয়। আপাতত কচ্ছপটির ক্ষুধা, শারীরিক বৃদ্ধি এবং আচরণের দিকে কড়া নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।   নিউ ইংল্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারস এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক মের্টজ জানিয়েছেন, তাদের পশু চিকিৎসক দলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কচ্ছপটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ করছে এবং এর দুটি অংশই বেশ সুস্থ ও সক্রিয় দেখাচ্ছে। তারা এই ব্যতিক্রমী কচ্ছপটি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।   ম্যাসাচুসেটসে ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিনকে একটি সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পশু চিকিৎসকদের জন্য অদ্ভুত প্রাণী নিয়ে কাজ করা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। গত বছর তারা বার্নস্টেবলের একটি বাড়ির বাথরুমে আটকে পড়া একটি প্যাঁচার চিকিৎসা করেছিলেন। এর আগে ২০২২ সালে এক পরিবার ভুল করে একটি নেকড়ের ছানাকে হারিয়ে যাওয়া কুকুরছানা ভেবে তাদের কাছে নিয়ে এসেছিল। এছাড়াও ২০২১ সালে সঙ্গীর কড়া পাহারার মধ্যে একটি রাজহাঁসের পায়ের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছিলেন এখানকার চিকিৎসকরা।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২৩:৪৮
ভুয়া পরিচয়ে ৩০ বছর মার্কিন সামরিক কারখানায় কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিক পরিচয় জাল করে ৩০ বছর সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন নাগরিকত্বের ভুয়া দাবি করে প্রায় তিন দশক একটি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিযোগে মেক্সিকোর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ।   আলমা প্যাট্রিসিয়া কনত্রেরাস ভিয়াফানা নামে ৫৪ বছর বয়সী ওই নারী দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা। শুক্রবার তাকে টরেন্সে হাওমেট অ্যারোস্পেসের একটি কারখানার বাইরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি যন্ত্রকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মোট আটটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।   অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার মামলা, ভুয়া বা জাল নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের একটি অভিযোগ, গুরুতর পরিচয় চুরির একটি অভিযোগ এবং মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার একটি অভিযোগ।   ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভিয়াফানা ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে টরেন্সের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার সময় ফর্ম আই-৯-এ নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মীদের পরিচয় ও কাজের বৈধ অনুমতি যাচাইয়ের জন্য এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়।   তবে মার্কিন অভিবাসন নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাকরি ধরে রাখার জন্য আবারও ফর্ম আই-৯ জমা দেন ভিয়াফানা। এবারও তিনি নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে উল্লেখ করেন এবং এমন একটি ন্যাচারালাইজেশন সনদের নম্বর ব্যবহার করেন, যা অন্য একজনের ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের হিসাবে, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠান ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ভিয়াফানা অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এর একটি অংশ সরাসরি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।   শুক্রবার গ্রেপ্তারের আগে টরেন্সের কারখানায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিস্থিতি জটিল ছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে ভিয়াফানা নিজের কর্মস্থল ছেড়ে একটি সম্মেলনকক্ষে অবস্থান নেন বলে তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে। পরে তিনি সেখান থেকে বের হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সেটি বিমান ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবসা করে। হাওমেট অ্যারোস্পেস জেট ইঞ্জিনের উপাদান, মহাকাশযানের জন্য টাইটানিয়াম কাঠামোসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও শিল্পপণ্য তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি কিছু উপাদান লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি বলেন, সামরিক খাতের সঙ্গে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানে ভিয়াফানা এত দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে কাজ করতে পেরেছেন, তা উদ্বেগের বিষয়। তিনি দাবি করেন, এমন ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এগুলো প্রসিকিউটরের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত কোনো তথ্য নয়।   ভিয়াফানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হাওমেটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর, মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।   তবে মার্কিন বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগপত্র কেবল অভিযোগের আনুষ্ঠানিক উপস্থাপন। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভিয়াফানাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আগামী সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২৩:৩২
নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে চার শিশু নিহতের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মা ও নানির হাতে চার শিশু খুন, ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাবার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে চার সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনায় ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের বাবা ব্র্যাডি হারমন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার নানা সংকেত থাকার পরও স্থানীয় সরকারি সংস্থা, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।   ১০ সেপ্টেম্বর দাখিল করা আইনি নোটিশে হারমন মেকানিকভিল শহর, সারাটোগা কাউন্টি, মেকানিকভিল সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, বলস্টন স্পা সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং মেকানিকভিল হাউজিং অথরিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের আইনে এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে আনুষ্ঠানিক মামলা করা যায়।   হারমনের চার সন্তান হলেন ১৩ বছর বয়সী হার্পার, ১১ বছর বয়সী হাডসন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্রেসলিন ও গ্যাভিন। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে মেকানিকভিলের একটি আবাসিক ভবনে চার শিশুসহ তাদের মা সারাহ মায়ার্স ও নানি অ্যামি স্টেডম্যানের মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, শিশুদের অধিকাংশের মৃত্যু বিষক্রিয়ার কারণে হয়েছে। একজন শিশুর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতও পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্ত ও বিষতত্ত্ব পরীক্ষার ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।   হারমনের আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, সন্তানদের মায়ের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও চিকিৎসাজনিত নির্যাতন করা হয়েছিল। নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেলাটোনিন, বেনাড্রিল ও ক্রাটমসহ বিভিন্ন পদার্থ নিয়মিত দেওয়া হতো। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   মামলার নথিতে ২০২৪ সালের মে মাসের একটি ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় চার শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে মাদকজাতীয় অতিরিক্ত ব্যবহারের লক্ষণ দেখা যায়। তিন শিশুকে আলবানি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। গ্রেসলিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ন্যালোক্সোন, যা ওপিওয়েডের অতিরিক্ত মাত্রার প্রভাব কাটাতে ব্যবহৃত হয়, দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে শিশু সুরক্ষা সংস্থাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হারমনের আইনজীবীদের অভিযোগ, এত গুরুতর ঘটনার পরও শিশুদের মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া বা দ্রুত ফৌজদারি ও নির্যাতনের তদন্ত শুরু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।   আইনি নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে গ্যাভিন কথিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ করছিল। পরে তাকে একাধিক মানসিক রোগের ভুল রোগনির্ণয় করিয়ে মানসিক চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন হারমন। এসব দাবিরও বিচারিক যাচাই এখনো হয়নি।   হারমন ও তাঁর সাবেক স্ত্রী সারাহ মায়ার্সের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০১৯ সালে মায়ার্স শিশুদের নিয়ে ইউটাহ থেকে নিউইয়র্কে চলে আসার পর থেকে হারমন তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে পারেননি বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের চিকিৎসা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যও পর্যাপ্তভাবে পেতেন না।   সন্তানদের মৃত্যুর আগে তাঁদের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে হারমন একাধিকবার পুলিশকে খোঁজ নিতে বলেছিলেন বলেও আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রায় দুই সপ্তাহ পর প্রতিবেশীর কাছ থেকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।   পুলিশের আগের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে মায়ার্স হারমনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং সন্তানদের রক্ষা করার জন্যই তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। হারমন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ব্যবহার করে সহানুভূতি, সরকারি সহায়তা ও অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।   হারমনের আইনজীবী নিকোলাস লিয়াকাস ও ক্যাসান্দ্রা রোমে বলেছেন, শিশু সুরক্ষা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একাধিক সতর্কসংকেত থাকার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটির উদ্দেশ্য শুধু হারমন পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্কের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পথ তৈরি করাও।   তবে যেসব সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশে আসামি করার কথা বলা হয়েছে, তাদের কয়েকটি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। বলস্টন স্পা সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্টও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   হারমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ৪০ কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রাথমিক দাবি এবং তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নোটিশে আরও তথ্য যুক্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, এই অর্থের পরিমাণ সন্তানদের হারানোর ব্যক্তিগত ক্ষতির কোনো বাস্তব মূল্য নির্ধারণ করে না, বরং অভিযোগ করা ক্ষতি ও সম্ভাব্য আইনি দাবির পরিসর বোঝায়।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, টাইমস ইউনিয়ন, স্পেকট্রাম নিউজ ১

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২৩:১২
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৭০ জনের বেশি ব্যবহারকারী, ক্রেতা ও চশমার ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে করা একটি প্রস্তাবিত গণমামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব চশমায় ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা ঠিকাদারি কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা সংশোধিত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার স্মার্ট চশমার মাধ্যমে পোশাক পরিবর্তন, গোসল, শৌচাগার ব্যবহার, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশের মতো দৃশ্য ধারণ হয়েছে। মামলাকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চশমাটি তখন ভিডিও ধারণ করছে, তা তারা জানতেন না। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মেটা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালানোর কথা জানিয়েছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার এক মামলাকারী, যাকে পিএল১৮ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেছেন তিনি স্মার্ট চশমা একটি বাথরুমের কাউন্টারে রেখে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের গোসল ও বাথরুম ব্যবহারের ছবি পরবর্তী সময়ে নিজের গ্যালারিতে দেখতে পান। তাঁর দাবি, পরিবারের কেউ এসব ছবি ধারণ করার উদ্দেশ্যে চশমাটি ব্যবহার করেননি।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা ‘হে মেটা’ বলে এআই সহকারী সক্রিয় করলে চশমার ক্যামেরা ও অডিও ব্যবস্থা চালু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চশমা অনিচ্ছাকৃতভাবেও সক্রিয় হয়েছে বলে মামলাকারীরা দাবি করেছেন। এরপর ধারণ করা তথ্য মেটার সার্ভারে পাঠানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহারের জন্য মানব কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলায় কেনিয়ার ঠিকাদারি কর্মীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের কাজে যুক্ত কিছু কর্মী এসব চশমায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন। সুইডেনের সংবাদপত্র সুয়েনস্কা ডাগব্লাডেট ও গ্যোটেবর্গস-পোস্টেনের ফেব্রুয়ারির এক অনুসন্ধানেও কেনিয়ায় মেটার এক ঠিকাদারের কর্মীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ পর্যালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছিল।   মামলাকারীদের আইনজীবী টিনা উলফসন বলেছেন, যারা চশমাটি কিনেছেন তারা এটিকে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্য হিসেবেই ব্যবহার করেছেন এবং এআই সুবিধা চালু করলে ধারণ করা ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে যেতে পারে, এমন বিষয় সম্পর্কে তারা যথেষ্ট অবগত ছিলেন না। তাঁর মতে, মামলাটি শুধু চশমা ব্যবহারকারীদের নয়, এমন ব্যক্তিদের গোপনীয়তার বিষয়ও সামনে আনছে যারা নিজেরা চশমা ব্যবহার না করেও এর ক্যামেরায় ধারণ হয়েছেন।   মেটা অবশ্য বলেছে, এআই ব্যবহারের সময় কিছু তথ্য পণ্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরিচয় শনাক্ত করতে পারে এমন তথ্য ফিল্টার করার চেষ্টা করা হয়। মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী নিজে মেটার সঙ্গে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করলে সেই গণমাধ্যম সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই থাকে।   মামলাটির নথিতে মেটার স্মার্ট চশমার গোপনীয়তা-সংক্রান্ত প্রচারণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চশমাগুলোকে ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাজারজাত করা হলেও এআই ব্যবহারের সময় ধারণ করা তথ্য মানব কর্মীদের মাধ্যমে পর্যালোচনার বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না।   এই আইনি বিরোধের পাশাপাশি মেটার স্মার্ট চশমার সম্ভাব্য মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পরিচিত ব্যক্তিদের নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এমন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   এ নিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাবিত গণমামলা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে থাকা মানুষের ছবি ব্যবহার করে মেটা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুখ শনাক্তকরণ সুবিধায় ব্যবহার করা হতে পারে। মেটা বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কীভাবে তাদের এআই পণ্য উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে তারা স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করে এবং ‘নেমট্যাগ’ সুবিধাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   মামলাগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মেটা নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মেনলো পার্কে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপার সম্মেলনে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচনের কথা রয়েছে। একই সময়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মেটা ক্যামেরাবিহীন নতুন স্মার্ট চশমা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা গোপনীয়তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২২:৪০
৯৮ বছর বয়সে হাইস্কুলের সনদ হাতে পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত
পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তবু ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে পাশে ছিলেন পল

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডালাস সেন্টারের ৯৮ বছর বয়সী পল লিটল জীবনের প্রায় আট দশক পর ফিরে পেলেন তাঁর হাইস্কুলের সনদ। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ না পেলেও দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করে যাওয়া এই প্রবীণকে বৃহস্পতিবার তাঁর নার্সিংহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদটি তুলে দেওয়া হয়।   পল লিটল ১৯৪৬ সালে ডালাস সেন্টার হাইস্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন তিনি একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে স্কুল ছেড়ে কাজে যোগ দেন। এরপর আর পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ হয়নি তাঁর।   বৃহস্পতিবার ডালাস সেন্টারের একটি নার্সিংহোমে তাঁকে চমকে দিয়ে হাইস্কুলের সনদ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় স্কুল জেলার কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট সনদ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলে বিষয়টি দেখে বিস্মিত হয়ে যান পল।   সনদ পাওয়ার পর পল বলেন, এটি তাঁর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্কুল ছেড়ে দেওয়ার পর পল কৃষিকাজ শুরু করেন। পরে তাঁর স্ত্রী এলিনরের সঙ্গে মিলে কাছের একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করাকে নিজেদের অন্যতম অগ্রাধিকার বানান। গত ১৫ থেকে ১৮ বছরে তিনি শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপের পড়াশোনা ও জীবনের প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য নিয়মিত অর্থ দিয়েছেন।   প্যানোরামা কমিউনিটি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট কেসি হিউবনার জানান, পলের সহায়তায় এ পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এসব শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে একটি বিশেষ তালিকাও তৈরি করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পলের হল অব ফেম’।   বয়সের শেষ প্রান্তে এসে পল আবার ডালাস সেন্টারে ফিরে আসেন এবং একটি নার্সিংহোমে বসবাস শুরু করেন। সেখানে যাওয়ার সময় তিনি শুধু নিজের স্মৃতি ও ছবিই সঙ্গে নিয়ে আসেননি, শিক্ষার্থীদের জন্যও রেখে গেছেন বড় ধরনের সহায়তা। তিনি স্থানীয় শিক্ষা ফাউন্ডেশনে ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন।   স্কুল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা স্কট ব্লাম বলেন, পলের মতো একজন অসাধারণ মানুষকে সম্মান জানাতে তাঁরা সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরে আনন্দিত। তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এখন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে, একসময় সেটিই হয়তো তাঁর নিজের শিক্ষাজীবনের অংশ হতে পারত।   পল নিজে হাইস্কুলের শিক্ষা শেষ করতে পারেননি। জীবনের প্রয়োজনেই কিশোর বয়সে তাঁকে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী জীবনে নিজের সেই অসম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতাকে অন্য শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।   ৮০ বছর পর পাওয়া হাইস্কুলের সনদ তাই পলের জন্য শুধু একটি শিক্ষাগত স্বীকৃতি নয়, তাঁর দীর্ঘ জীবনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আসার অবদানেরও একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।   সূত্র: স্থানীয় আইওয়া সংবাদমাধ্যম ও প্যানোরামা কমিউনিটি স্কুল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২২:২৩
ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য ১০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ১০ লাখ ডলার দিচ্ছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল

ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোরের ১০ লাখ ডলারের অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা ও শিশুদের শিক্ষামূলক কনটেন্ট নির্মাতা মিস র‍্যাচেল। তাঁর আসল নাম র‍্যাচেল অ্যাকুরসো। ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থায় এই অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   ১৭ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মিস র‍্যাচেল জানান, ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের অনুদানের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ দিতে চান তিনি। তাঁর অনুদান যাবে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে।   মিস র‍্যাচেল তাঁর পোস্টে শিশুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে জনপরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অন্য ধনী তারকাদেরও একই ধরনের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ইউটিউবে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া মিস র‍্যাচেলের ২১ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক রয়েছে।   ম্যাকলমোর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এ উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দান করবেন। এই ঘোষণা আসে তাঁকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্রের সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর।   এর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁকে এড শিরানের সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।   ম্যাকলমোরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন গায়িকা পিংকও। তিনি ইহুদি দর্শকদের অনুভূতির বিষয়টি তুলে ধরে ম্যাকলমোরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালে ম্যাকলমোরের একটি বিতর্কিত পোশাক পরার ঘটনাও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার জন্য ম্যাকলমোর তখন প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন।   পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বার্তা শান্তি, ভালোবাসা এবং সব মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও সমতার পক্ষে।   এদিকে এড শিরান জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চাপের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিরান একই সঙ্গে বলেছেন, সংঘাত নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত রয়েছে, তবে তিনি সেগুলো প্রকাশ্যে না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের আরও কয়েকজন সহযোগী শিল্পী সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে ফিনিয়াস, অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম ও বিওগা রয়েছেন।   ম্যাকলমোরের অনুদানের ঘোষণার পর মানবিক সহায়তায় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিরান ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও। প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের অর্থ কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে, তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়।   মিস র‍্যাচেলের অনুদানের ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের উদ্যোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায় বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ন্যাশনাল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২২:১
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক ঘণ্টায় চার ছিনতাই, খোয়া গেল ৬ জনের মোবাইল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বন্দুক দেখিয়ে ছয়জনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার রাতে পার্কটির ইস্ট ড্রাইভ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে রাত ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে ইস্ট ৭৯তম স্ট্রিট ও ইস্ট ড্রাইভের কাছে। ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান, তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার কাছে আসে। তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর তিনজন সাইকেলে করে পার্কের ভেতর দিয়ে পূর্ব দিকে চলে যায়।   প্রায় ৫০ মিনিট পর একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে ইস্ট ১০৯তম স্ট্রিট ও ইস্ট ড্রাইভের কাছে। ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান, তিন ব্যক্তি তার কাছে এসে তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখায়। পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। এর মাত্র ১৫ মিনিট পর পুলিশ ইস্ট ১০৬তম স্ট্রিট ও ইস্ট ড্রাইভ এলাকায় আরও দুটি ছিনতাইয়ের খবর পায়। সেখানে ২২ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ২০ বছর বয়সী এক নারী পুলিশকে জানান, তিন ব্যক্তি তাদের মুখোমুখি হয়। তাদের মধ্যে একজন বন্দুক দেখানোর পর দুজনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।   একই স্থানে আরও দুই ব্যক্তি পুলিশের কাছে ছিনতাইয়ের অভিযোগ জানান। ৪৩ বছর বয়সী ওই দুই ব্যক্তি বলেন, তিন ব্যক্তি তাদের দিকেও বন্দুক তাকিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শেষ দুটি ঘটনার পর সন্দেহভাজনরা ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের দিকে পূর্ব দিকে পালিয়ে যায়। তবে চারটি ঘটনায় একই তিন ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি এনওয়াইপিডি।   ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনদের পরিচয় বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। চারটি ঘটনাতেই মূল লক্ষ্য ছিল পার্কে থাকা মানুষের মোবাইল ফোন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সেন্ট্রাল পার্ক নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় জনসাধারণের বিনোদনস্থল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে হাঁটাহাঁটি, সাইকেল চালানো ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজে অংশ নিতে আসেন। ফলে একই রাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পার্কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে নজর পড়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২১:৩৬
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র পেল স্থায়ী সামরিক অধিকার, চীন-রাশিয়ার ঘাঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিরাপত্তা ও সামরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তবে চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিচ্ছে না এবং এটি এখনো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে সামরিক প্রবেশাধিকার, ঘাঁটি ব্যবহারের অধিকার এবং আকাশপথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। প্রয়োজন মনে করলে নতুন সামরিক স্থাপনাও নির্মাণ করতে পারবে ওয়াশিংটন। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, নতুন সামরিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে না, যদিও তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।   চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য ন্যাটোবহির্ভূত দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সেনা মোতায়েন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সমুদ্রের নিচের যোগাযোগ কেবল, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ স্পর্শকাতর খাতে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বিনিয়োগ সীমিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সাফল্য এবং আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা স্বার্থকে স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে ধরে রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   তবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পাচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড এখনো ডেনমার্কের রাজ্যের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। নতুন চুক্তির আওতায় এর সার্বভৌমত্ব ডেনমার্কের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। বরং মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা আরও বিস্তৃত হওয়া।   চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পরও গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলে এর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়সহ চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।   গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। উত্তর গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিতুফিক মহাকাশ ঘাঁটি রয়েছে। ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও প্রবেশাধিকার রয়েছে। ২০০৪ সালে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল।   নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, গ্রিনল্যান্ডে বাড়তি সামরিক অবকাঠামো ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। তবে নতুন ঘাঁটি বা স্থাপনা ঠিক কোথায় এবং কখন নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   চুক্তিটি আসার পেছনে কয়েক মাসের গোপন আলোচনা কাজ করেছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। মার্কো রুবিও, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এবং মার্কিন পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।   রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও এর বিস্তারিত বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। চুক্তিটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।   ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ফলে ট্রাম্পের আগের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবির তুলনায় নতুন চুক্তিটি ভিন্ন কাঠামোর। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান অন্যতম কারণ। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে সামরিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের কার্যক্রম বাড়ায় ওয়াশিংটনের কৌশলগত উদ্বেগও বেড়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে।   তবে নতুন চুক্তির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে এর চূড়ান্ত আইনি কাঠামো, পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলে তার ওপর। আপাতত চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পরিবর্তনের পরিবর্তে দ্বীপটির নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করার দিকে যাচ্ছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ, রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২১:২০
চীনের মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া রহস্যময় লেজবিহীন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের ‘এরিয়া ৫১’ ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ড্রোনের পরীক্ষা, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন ধরনের বিশাল উড়োজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র ‘এরিয়া ৫১’-এর সঙ্গে তুলনা করা মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া এই উড়োজাহাজটি চীনের পরবর্তী প্রজন্মের নজরদারি ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সামরিক ও বিমান বিশেষজ্ঞরা।   চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে অবস্থিত মালান বিমানঘাঁটিতে সম্প্রতি রহস্যময় নতুন একটি উড়োজাহাজের ছবি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক উপগ্রহচিত্রেও একই ধরনের একটি বিশাল উড়োজাহাজকে ঘাঁটিটির কাছে দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেটিকে আকাশে উড়তে দেখা গেছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জেনস উড়োজাহাজটির সম্ভাব্য নাম ডব্লিউজেড-এক্স বলে উল্লেখ করেছে।   ছবিতে দেখা উড়োজাহাজটির নকশা অনেকটা লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার মতো। জেনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ডানার বিস্তার প্রায় ৫২ থেকে ৫৩ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ মিটার। আকার ও নকশা বিবেচনায় এটি দীর্ঘ সময় ও অনেক উচ্চতায় উড়তে সক্ষম গোয়েন্দা, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহকারী ড্রোন হিসেবে তৈরি করা হতে পারে। তবে এটি আক্রমণাত্মক কাজে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।   বিমান বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস রুপপ্রেখটের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মালান ঘাঁটি চীনের বিভিন্ন ধরনের ড্রোন পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ নতুন উড়োজাহাজটিকে ডব্লিউজেড-এক্স হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে এর প্রকৃত সক্ষমতা, ব্যবহার এবং চীনের সামরিক বাহিনীতে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।   মালান বিমানঘাঁটির গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। শিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি ঐতিহাসিকভাবে চীনের সামরিক ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাছাকাছি লপ নুর এলাকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চীন প্রায় ৪৫টি পরমাণু পরীক্ষা চালায়। পরবর্তী সময়ে মালান ঘাঁটি পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ ও ড্রোন উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘাঁটিটিতে উন্নত সামরিক উড়োজাহাজ পরীক্ষার কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মালানে জে-১১সহ বিভিন্ন ধরনের চীনা গোপনীয় ড্রোনের উপস্থিতি উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। বড় আকারের লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার নকশার একাধিক ড্রোনও সেখানে দেখা গেছে।   চীনের আরেকটি গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র লপ নুর বিমানঘাঁটিতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত স্যাটেলাইটচিত্র বিশ্লেষণে সেখানে নতুন হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দ্য ওয়ার জোনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘাঁটিটি এখন উন্নত সামরিক উড়োজাহাজের পরীক্ষার জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।   লপ নুর ঘাঁটিতে এর আগে চীনের নতুন প্রজন্মের জে-৩৬ ও জে-এক্সডিএস যুদ্ধবিমানের উপস্থিতিও উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। এসব উড়োজাহাজকে সাধারণত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ কারণেই চীনের প্রত্যন্ত সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সামরিক বিশ্লেষকদের আগ্রহ বাড়ছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা আশঙ্কাগুলোকে সরাসরি নিশ্চিত সামরিক সক্ষমতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন উড়োজাহাজটির উদ্দেশ্য, পাল্লা, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রকাশ্যে আসা ছবি ও উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতেই এসব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।   মালান বিমানঘাঁটির নতুন উড়োজাহাজের উপস্থিতি তাই চীনের উন্নত ড্রোন ও গোপনীয় বিমান প্রযুক্তি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উচ্চ আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম বড় আকারের গোয়েন্দা ড্রোন তৈরি হলে তা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে প্রকল্পটির প্রকৃত সামরিক প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।   সূত্র: ডেইলি মেইল, জেনস, দ্য ওয়ার জোন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২১:৩