ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
১৯৪৫ সাল থেকে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে উঠলেও তাদের বড় একটি অংশ এখনও পূর্ব লন্ডনকেন্দ্রিক। তবে শুধু আবাসিক ঘনত্ব দেখে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজকে পিছিয়ে থাকা বা একই জায়গায় আটকে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ধরা পড়ে না। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের কয়েক দশকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফল, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের হার নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ ছিল। অনেক পরিবার তখন দারিদ্র্য, আবাসন সংকট ও বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করত।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ সালে জিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। একই বয়সে সাদা ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ। গত এক দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মরত ছিলেন। একই বয়সী সাদা ব্রিটিশ নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭৯ শতাংশ। আবার ওই বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ১৪ শতাংশ পেশাদার বা ম্যানেজার পর্যায়ের চাকরিতে ছিলেন, যা সাদা ব্রিটিশদের একই বয়সী জনগোষ্ঠীর হারের কাছাকাছি।
তবে অগ্রগতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনও বড় বাস্তবতা। দ্য ইকোনমিস্টের হিসাবে, আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ব্রিটেনের প্রতি দুই বাংলাদেশি পরিবারের একটি জাতীয় আয়ের নিচের ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যম সম্পদের পরিমাণও এক লাখ পাউন্ডের নিচে, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে গড় সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ শিক্ষাগত অগ্রগতি দ্রুত হলেও সম্পদ ও আয় বৃদ্ধিতে সেই অগ্রগতির পুরো প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি।
ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সামগ্রিক পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই ব্রিটেনের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে নতুন করে আসা অভিবাসী এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মকে একই পরিসংখ্যানে ধরলে দুই প্রজন্মের আর্থসামাজিক অবস্থানের পার্থক্য অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। গবেষণা ও সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থানে পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে দ্রুত ঘটছে।
ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ইতিহাসও দীর্ঘ। উনিশ শতক থেকেই সিলেট ও ব্রিটেনের মধ্যে যাতায়াতের ইতিহাস রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে সিলেটি নাবিকদের মাধ্যমে ব্রিটেনে বাংলাদেশি উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরবর্তী দশকগুলোতে বিশেষ করে সিলেট থেকে আসা অভিবাসীরা পূর্ব লন্ডনে বসতি গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে এই সম্প্রদায় ব্যবসা, শিক্ষা, পেশাজীবন ও ব্রিটিশ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
ফলে পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশিদের ঘনবসতি এখনও দৃশ্যমান হলেও সেটিকে পুরো সম্প্রদায়ের অগ্রগতির একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষা, পেশা ও কর্মসংস্থানে নতুন প্রজন্মের পরিবর্তন দেখাচ্ছে, কয়েক দশক আগে যে বাংলাদেশি পরিবারগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে ব্যস্ত মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর জ্বলন্ত গাড়িতে আটকে পড়েন চারজন। গাড়িটি থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হচ্ছিল। যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত। এমন পরিস্থিতিতে নিজের গাড়ি থামিয়ে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন কেনেথ টেলর নামের এক ব্যক্তি। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিক অন ডেট্রয়েটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথফিল্ড ফ্রিওয়ের জয় রোডের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কেনেথ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে তিনি থেমে যান। গাড়ির ভেতরে তখন চারজন আটকে ছিলেন। কেনেথ ও অন্য কয়েকজন গাড়িচালক মিলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রথমে একজনকে বের করে আনা হয়। পরে কেনেথ গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে আটকে থাকা আরেক যাত্রীকে টেনে বের করেন। আগুন বাড়তে থাকলেও তিনি ফিরে গিয়ে আরও একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। ভাঙা কাচের ওপর দিয়ে আহত ব্যক্তিকে টেনে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন তিনি। তাঁর বাগ্দত্তা এবং অন্য সহায়তাকারীদের সঙ্গে মিলে আহতদের পাশে থাকেন। দুর্ঘটনায় আহত দুজন জানিয়েছিলেন, তাঁদের পা নাড়াতে পারছেন না। ফলে উদ্ধার করার পর তাঁদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ডেট্রয়েট ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, প্রথম জরুরি ফোন পাওয়ার ৪ মিনিট ২১ সেকেন্ডের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তাকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আহতদের সিনাই-গ্রেস হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কেনেথ জানতে পারেন, আহতদের মধ্যে দুজনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছে। কেনেথ জানিয়েছেন, তিনি আহতদের সুস্থতার খবর জানতে চান। এমন অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিপদের মুহূর্তে কাউকে একা ফেলে না যাওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের জয়
ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারে হার্ভার্ড গবেষকের মামলা প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র
স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে মিলবে জানুয়ারি থেকেই সুবিধা
মাত্র তিন ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন পাকিস্তানি অভিবাসী কাজী মান্নান। জীবিকার সন্ধানে একসময় নানা ধরনের কাজ করেছেন। পরে নিজের রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করে সেই ব্যবসাকেই পরিণত করেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি উদ্যোগে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাকিনা হালাল গ্রিলের মাধ্যমে প্রথম পাঁচ বছরেই ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করা হয় বলে ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল এনডিটিভি। হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক ব্লক দূরে অবস্থিত সাকিনা হালাল গ্রিল দীর্ঘদিন ধরে গৃহহীন ও আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের কাছে পরিচিত একটি নাম। রেস্টুরেন্টটির নীতি ছিল সহজ। কারও খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকলেও তিনি সেখানে গিয়ে খাবার খেতে পারবেন। অন্য ক্রেতাদের মতোই তাঁকে সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে খাবার পরিবেশন করা হবে। কাজী মান্নানের এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছে তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতা। পাকিস্তানের একটি গ্রামে সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক সংকট দেখেছেন কাছ থেকে। তবে অভাবের মধ্যেও তাঁর মা প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের জন্য বাড়তি খাবার রান্না করতেন। মায়ের সেই উদারতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেখান থেকেই তিনি শিখেছিলেন, নিজের কাছে খাবার থাকলে ক্ষুধার্ত মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ১৯৯৬ সালে মাত্র তিন ডলার সম্বল করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মান্নান। নতুন দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। জীবিকা নির্বাহের জন্য একাধিক কাজ করেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর ২০১৩ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের রেস্টুরেন্ট চালু করেন। প্রয়াত মায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর নাম রাখেন সাকিনা হালাল গ্রিল। রেস্টুরেন্ট চালুর পর থেকেই মান্নান সিদ্ধান্ত নেন, অর্থের অভাবে কাউকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন না। গৃহহীন কিংবা আর্থিক সংকটে থাকা মানুষ সেখানে এসে বিনামূল্যে খাবার খেতে পারতেন। তাঁদের পরিচয় বা আর্থিক অবস্থা নিয়ে বিব্রতকর প্রশ্ন করা হতো না। মান্নানের কাছে খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালের ২১ মে প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেস্টুরেন্টটির প্রথম পাঁচ বছরে ৮০ হাজারের বেশি বিনামূল্যের খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। এই উদ্যোগের কারণে স্থানীয় কমিউনিটিতে পরিচিতি পান মান্নান। তাঁর মানবিক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে রেস্টুরেন্টটি। ব্যবসা কমে যাওয়ায় বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সে সময় রেস্টুরেন্টটি টিকিয়ে রাখতে ফান্ডরেইজিং ক্যাম্পেইন শুরু হয়। হাজারো মানুষ অনুদান দিয়ে তাঁর উদ্যোগের পাশে দাঁড়ান। ২০২০ সালের নভেম্বরে এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কাজী মান্নানের উদ্যোগ দেখিয়েছে, একটি ছোট ব্যবসাও কমিউনিটির অসহায় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর রেস্টুরেন্টে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশনের এই উদ্যোগ শুধু ক্ষুধা নিবারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আর্থিক সংকটে থাকা মানুষকে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টাও ছিল। সূত্র: এনডিটিভি
বিপুল অর্থ ব্যয় করেও হারলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামী
গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম, সরকারি সুবিধা ব্যবহারে বাড়তি যাচাই
ভবিষ্যতে টাকা জমানোর প্রয়োজন নেই, এআই সবাইকে ধনী বানিয়ে দিবে: ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে এলাকায় আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন ব্রিটানি গ্রান্ট ও তাঁর ছেলে। বাড়ির ভেতরে দ্রুত পানি ঢুকতে থাকায় প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা রান্নাঘরের কাউন্টারের ওপর উঠে আশ্রয় নেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল তিনটি পোষা কুকুর। গত ২ নভেম্বরের প্রবল বৃষ্টিতে ওই এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে ব্রিটানি তিনবার জরুরি নম্বরে ফোন করেন। কিন্তু বন্যার কারণে উদ্ধারকর্মীরা তখনই তাঁদের কাছে পৌঁছাতে পারছিলেন না। উপায় না পেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান। সেই আবেদন চোখে পড়ে এক মায়ের। তিনি নিজের দুই কিশোর ছেলেকে বিষয়টি জানান। বিপদের কথা শুনে এক মুহূর্ত দেরি করেনি ১৫ বছর বয়সী জোনাহ মার্শাল ও তার ১৭ বছর বয়সী ভাই লুকাস মার্শাল। জোনাহ প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি কায়াক ধার করে এবং লুকাস নেয় একটি প্যাডেলবোর্ড। আরেক প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে তারা বন্যার পানির মধ্য দিয়ে ব্রিটানির বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। উদ্ধার অভিযানটি সহজ ছিল না। বাড়ির ভেতরে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে ছিলেন মা ও ছেলে। পানি বাড়তে থাকায় তাঁদের আতঙ্কও বাড়ছিল। কিশোর দুই ভাই পৌঁছানোর পর প্রথমে শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করে। লুকাস শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার ভয় কমানোর চেষ্টা করে। স্কুলের কথা জিজ্ঞেস করে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে থাকে, যাতে আতঙ্কিত শিশুটি কিছুটা সাহস পায়।শেষ পর্যন্ত ব্রিটানি, তাঁর ছেলে এবং তিনটি পোষা কুকুরকে নিরাপদ শুকনো জায়গায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয় তারা। ব্রিটানি গ্রান্ট উদ্ধারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পুরো এলাকার মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এসে তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছে। প্রতিবেশীদের সহায়তা না পেলে কী হতো, তা তিনি জানেন না। উদ্ধার হওয়ার পর মা ও ছেলে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।ব্রিটানির কাছে সবচেয়ে আবেগের বিষয় ছিল, যেসব প্রতিবেশীর সঙ্গে আগে কখনো পরিচয় ছিল না, তাঁরাই বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস নতুন করে ফিরিয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ৩ নভেম্বর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅরল্যান্ডো প্রকাশ করে। দুই কিশোরের সাহসিকতা এবং প্রতিবেশীদের সম্মিলিত উদ্যোগ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় মানবিক সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
জর্জিয়ায় সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে আবারও জয়ী ডেমোক্র্যাট জন অসফ
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, বাড়ছে চাকরির সুযোগ, নতুন হিসাবে শূন্যপদ ৭৫ লাখ