সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন

নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের সাউথ শোর এলাকায় নতুন একটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার চালু হয়েছে। মুসলিমদের নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে নতুন এই কেন্দ্র।   শনিবার হুগেনটন অ্যাভিনিউয়ের নতুন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আয়োজন করে মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (এমএএস)। অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। স্টেটেন আইল্যান্ডে এটি সংগঠনটির দ্বিতীয় কেন্দ্র। সাবেক নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির একটি ভবন সংস্কার করে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। ভবনটি হুগেনটন স্টেশন থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।   মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির রাজনৈতিক ও জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আকল বলেন, সাউথ শোর এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এতদিন স্থানীয় অনেক মুসল্লিকে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে ডংগান হিলস এলাকার মসজিদে যেতে হতো। হুগেনটন এলাকার অনেক বাসিন্দাকে সেখানে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালাতে হতো।   এমএএস একটি জাতীয় সংগঠন, যার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০টির বেশি শাখা রয়েছে। নিউইয়র্ক শাখার অধীনে বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাতটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।   স্টেটেন আইল্যান্ডে সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্রটি বার্গার অ্যাভিনিউয়ে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই কেন্দ্রটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণকাজ হয়েছে এবং আগামী মাসে কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আকল।   নতুন হুগেনটন কেন্দ্রটি শুধু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকবে। কেন্দ্রটিতে কারাতে ও ফুটবল প্রশিক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাপ্তাহিক খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।   আকল বলেন, নতুন কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য শুধু মসজিদ পরিচালনা করা নয়। মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এখানকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন।   নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির হুগেনটন শাখার সঙ্গেও নতুন কেন্দ্রটির সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিশুদের পড়াশোনা ও বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সাক্ষরতা ও পাঠাভ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।   ভবনটি আগে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নতুন জায়গায় লাইব্রেরি স্থানান্তরের সময় কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এমএএস কর্তৃপক্ষ তাদের আগের ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে লাইব্রেরিটি নতুন স্থানে চলে যাওয়ার পর ভবনটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের কাজ শেষ করা হয়।   আকল জানান, লাইব্রেরির নতুন জায়গায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তাদের পুরোনো ভবনে লাইব্রেরির সেবা চালু রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল এমএএস।   নতুন কেন্দ্রটির সরকারি ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। শুরুতে সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি ও অংশগ্রহণকারীকে সেবা দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে ভবনটি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাসের সংস্কারকাজে লাইব্রেরির তাক সরানো, ভবন পরিষ্কার করা এবং নামাজের জন্য কার্পেট বসানোসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শৌচাগার ও ভবনের অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।   কেন্দ্রটি সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। শুক্রবার দুপুরের জুমার নামাজ হবে সাপ্তাহিক প্রধান ধর্মীয় আয়োজন। এছাড়া মুসলিমদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।   আকলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেটেন আইল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুরোনো কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি মানুষের চাহিদা সামাল দিতে হচ্ছে। এমনকি সংগঠনটির পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও প্রতি সপ্তাহে খাবার শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।   এমএএস স্টেটেন আইল্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি আগে থেকেই স্থানীয় মুসলিম ও বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।   নতুন কেন্দ্র চালুর উদ্যোগটি স্টেটেন আইল্যান্ডে এমএএসের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। সংগঠনটির আগের কেন্দ্রটি জায়গার সংকটে একাধিক জুমার জামাত, বিভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক স্কুল এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: স্টেটেন আইল্যান্ড অ্যাডভান্স/সিলাইভ, মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি স্টেটেন আইল্যান্ড

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২০:৪৩
মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার
মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে রাইডশেয়ার গাড়ির এক অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবদুলায়ে দিয়া নামের এক অবৈধ অভিবাসী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির নাগরিক এই চালকের বিরুদ্ধে পূর্বেও নিউইয়র্কে যৌন নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ইতিহাস রয়েছে।   মেরিল্যান্ডের ল্যানহ্যামের বাসিন্দা এই চালকের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ, অপহরণ, দ্বিতীয় ডিগ্রির শারীরিক নির্যাতন এবং তৃতীয় ডিগ্রির যৌন অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে।   পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার মন্টগোমারি কাউন্টির একটি হাসপাতালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়।   ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, 'এমপাওয়ার' নামের একটি রাইডশেয়ারের গাড়িতে ওঠার পর চালক তাকে সিলভার স্প্রিং এলাকার একটি নির্জন পার্কিং লটে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে।   পরে রাইডশেয়ার অ্যাপ থেকে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে চালক আবদুলায়ে দিয়াকে শনাক্ত করে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   ডিএইচএসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আবদুলায়ে দিয়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সময় তিনি মুক্তি পান।   এরপর গত বছরের ১০ জুন নিউইয়র্ক সিটিতে ১৭ বছরের কম বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন ও আঘাতের অভিযোগে তিনি একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।   এদিকে অভিযুক্তের এমন অপরাধের ইতিহাস থাকার পরও কীভাবে তিনি রাইডশেয়ারের গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে এমপাওয়ার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, উবার ও লিফটের মতো তারাও চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড, সেক্স অফেন্ডার তালিকা ও অপরাধের রেকর্ড আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করে থাকে।   গত ১৬ জুলাই দিয়ার যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের সময় তার রেকর্ডে কোনো ধরনের নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলে নিশ্চিত করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৯:৫৫
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ঐতিহাসিক চুক্তি, স্বাক্ষর জাতিসংঘে
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ঐতিহাসিক চুক্তি, স্বাক্ষর জাতিসংঘে

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বহুল আলোচিত এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।     মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না, অথচ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে ওয়াশিংটন।   এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিপক্ষ দেশ সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বা সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।   অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন, এটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, চুক্তিটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়।   উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যাপারে সরব ছিলেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘে হতে যাওয়া এই চুক্তিকে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মাঝে একটি বড় সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৯:৩৯
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শতাধিক নেতাকর্মীর প্রস্তুতি
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শতাধিক নেতাকর্মীর প্রস্তুতি

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে সামনে রেখে তাঁকে স্বাগত জানাতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।    ‘চল চল, নিউইয়র্ক চলো’ কর্মসূচির আওতায় গ্রেটার ওয়াশিংটন বিএনপির নেতা এজেএম হোসেনের নেতৃত্বে এসব প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়, গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা করা হচ্ছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডের কমফোর্ট ইন-এ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের গণসংবর্ধনা ও নিউইয়র্ক যাত্রার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।   পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ডেরা রেস্টুরেন্টে আরেকটি আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ সেপ্টেম্বর কাবাব কিং রেস্টুরেন্টে নেতাকর্মীদের নিয়ে আরও একটি মিলন ও গণসংযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে উপস্থিত থাকার জন্যও নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।   জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সফরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।    এজেএম হোসেন বলেন, ওয়াশিংটন বিএনপি অতীতের মতো বর্তমানেও দলীয় কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৯:২৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালাল গাড়ি, র ক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে মৃ ত্যু
ক্যালিফোর্নিয়ায় হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালাল গাড়ি, র ক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে মৃ ত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে একটি মর্মান্তিক হিট-অ্যান্ড-রান সড়ক দুর্ঘটনায় হুইলচেয়ারে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।   লং বিচ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে সেভেন্থ স্ট্রিট এবং প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ের (পিসিএইচ) সংযোগস্থলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।   খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শরীরের উপরিভাগে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন।   ঘটনাস্থলেই লং বিচ প্যারামেডিকরা তাকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করেন, তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের কারণে পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার পরপরই সন্দেহভাজন সাদা রঙের একটি সেডান গাড়ি দক্ষিণমুখী পিসিএইচ মহাসড়ক ধরে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।   পরবর্তীতে আশপাশের এলাকায় টহলরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক তৎপরতা চালিয়ে সেকেন্ড স্ট্রিট এবং পিসিএইচের সংযোগস্থলের কাছে সন্দেহভাজন গাড়িটিকে শনাক্ত করে এবং চালককে আটক করে।   দুর্ঘটনার আসল কারণ এবং কীভাবে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৯:১০
ক্যালিফোর্নিয়ায় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে অভিযুক্ত পলাতক অবৈধ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ায় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে অভিযুক্ত পলাতক অবৈধ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে জড়িত এক পলাতক ট্রাকচালককে উটাহ অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৩০ বছর বয়সী চমকৌর সিং নামের ওই ভারতীয় নাগরিককে গত ১ সেপ্টেম্বর মোয়াব পুলিশ স্পিড লিমিট অমান্য করার কারণে আটক করে।   পুলিশ জানায়, ৩০ মাইল বেগের রাস্তায় তিনি ৫০ মাইল বেগে সেমি-ট্রাক চালাচ্ছিলেন। তাকে থামানোর পর পুলিশ তার ক্যালিফোর্নিয়ার কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্স (সিডিএল) চেক করে জানতে পারে যে, গত ৪ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল তার বিরুদ্ধে নরহত্যার (ভেহিকুলার ম্যানস্লটার) অভিযোগে জামিন অযোগ্য একটি দেশব্যাপী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে গ্র্যান্ড কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তার ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) মতে, সিং একজন ভারতীয় নাগরিক যিনি অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। উটাহতে গ্রেপ্তারের পরদিন আইসিই তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন পরোয়ানা জারি করে। ডিএইচএস জানিয়েছে, গত ২৯ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে ওই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল যখন আগের একটি দুর্ঘটনার কাজ করছিল, তখন ধীরগতির লেনে চলা একটি সেমি-ট্রাক পিছন থেকে একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে একজন নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হন। ট্রাকটি এরপর অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে দ্বিতীয় আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ভয়াবহ সেই ঘটনায় মোট সাতটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।   সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এমন গুরুতর অপরাধের পরও ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সিংকে একটি কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করেছিল, যা এখনও সক্রিয় রয়েছে। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও তার বিরুদ্ধে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং ভুল লেনে গাড়ি চালানোর মতো তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল।   এই ঘটনার পর ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের 'স্যাংচুয়ারি' নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ভারত ছেড়ে বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে ২০২১ সালের আগস্টে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন সিং।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৮:৪২
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই অভাবনীয় প্রতিশ্রুতিতে খোদ রিপাবলিকান মিত্ররাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।   ট্রাম্পের এই ঘোষণার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এই নীতি তদারকির দায়িত্বে থাকা সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।   সাধারণ ভোটাররাও ট্রাম্পের এই আশ্বাসকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। নর্থ ক্যারোলিনার এক বাসিন্দা, যিনি আগে তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে তার হতাশার কথা জানিয়েছেন।   তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমি এখনও আমার শুল্কের চেকের (ট্যারিফ চেক) জন্য অপেক্ষা করছি, আর অপেক্ষা করছি কবে জ্বালানি তেলের দাম কমবে।"   তার এই বক্তব্যেই স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের আগের অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় কট্টর সমর্থক ও ভোটাররা এখন তার নতুন কোনো অর্থনৈতিক আশ্বাস সহজে বিশ্বাস করতে চাইছেন না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৮:২০
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়

কানাডার নাগরিক জ্যাকুলিন মুসা, যিনি জ্যাকি নামেই বেশি পরিচিত, একটি ঐতিহ্যবাহী ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও উপলব্ধির পর ২০১১ সালে তিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার এই ধর্মান্তরিত হওয়ার গল্পটি বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে 'দ্য রিলিজিয়ন অব ইসলাম'-এর মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আর্কাইভে তার এই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনযাত্রা সংরক্ষিত রয়েছে।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি বক্তব্য বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি ইসলামে 'ব্যাপক সম্মান' পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপগুলোতে অন্যান্য ধর্মান্তরিত নারীদের মতো তিনিও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।   জ্যাকুলিন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, ইসলাম ধর্ম তার ব্যক্তিগত যুক্তি, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলামে আসা অনেক নারীই প্রায়শই এমন সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন যে, এই ধর্মটি তাদের যে সম্মান, মর্যাদা ও জীবনের স্বচ্ছতা প্রদান করেছে, তা সত্যিই অনন্য ও অতুলনীয়।   জ্যাকুলিনের এই ধর্মান্তরের কাহিনি ও প্রাসঙ্গিক ভিডিওগুলো বর্তমানে ইউটিউবে '#thequranmotivation' হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ব্যাপক সচেতনতা ও তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, ভিডিওর কিছু ছবিতে সামান্য সম্পাদনা বা এডিটিং করা হলেও জ্যাকুলিনের মূল বক্তব্য এবং তার ইসলাম গ্রহণের পুরো কাহিনিটি সম্পূর্ণ খাঁটি ও প্রামাণিক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৭:৫৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বে ৩০ বছর সামরিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বে ৩০ বছর সামরিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

ভুয়া মার্কিন নাগরিকত্ব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাকাশ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে টানা ৩০ বছর চাকরি করার অভিযোগে এক মেক্সিকান নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আলমা প্যাট্রিসিয়া কনট্রেরাস ভিলাফানা নামের ৫৪ বছর বয়সী ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।   তিনি ‘হাউমেট অ্যারোস্পেস’ নামের একটি কারখানায় যন্ত্রবিদ হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় কারখানার একটি কনফারেন্স রুমে লুকিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বেরিয়ে এলে এজেন্টরা তাকে হাতকড়া পরান।   আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ওই নারী নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করে হাউমেট-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে প্রথম চাকরি পান। অথচ ২০০৩ সালেই একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। চাকরি বাঁচাতে চলতি বছর তিনি আবারও ভুয়া নাগরিকত্ব দাবি করে অন্য এক ব্যক্তির ন্যাচারালাইজেশন নম্বর ব্যবহার করেন।   দীর্ঘ ৩০ বছরের এই চাকরিতে তিনি অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার বেতন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া নথির ব্যবহার, পরিচয় চুরি এবং মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবিসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসায়লি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে ভুয়া পরিচয়ে কাজ করা দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। হাউমেট অ্যারোস্পেস মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এফ-৩৫ ফাইটার জেটের মতো অত্যাধুনিক বিমানের বিভিন্ন সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে।   অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভিলাফানাকে প্রতারণার প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছরসহ অন্যান্য অভিযোগে আরও দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৭:৩৯
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এক নতুন আইনি মতামতে জানিয়েছে যে, ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণদের কাছে হ্যান্ডগান বা এর গুলি বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক। বিচার বিভাগের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে পাওয়া অস্ত্র রাখার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।   সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনের ঠিক একদিন পরই এই নতুন মতামতটি প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, বিচার বিভাগ সাইলেন্সার এবং শর্ট-ব্যারেল রাইফেলের মতো বেশ কিছু অস্ত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া আদালতের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর আপিল করবে না।   অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেলের (ওএলসি) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল টি. এলিয়ট গাইসার এই প্রসঙ্গে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে একজন ১৮ বছর বয়সী তরুণ সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, ভোট দেওয়া বা জুরির দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট পরিণত।   এমনকি ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকেও একজন ১৮ বছর বয়সী শুটার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ বছর বয়সীদের একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের কাছে পিস্তল বিক্রি করাকে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে গণ্য করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।   যদিও বিচার বিভাগের এই আইনি মতামতের কোনো সরাসরি বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি দেশজুড়ে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা থেকে বিরত রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কাজ করা সংগঠন 'গিফোর্ডস' এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এমা ব্রাউন একে "অস্ত্র লবি ও অনুদানকারীদের মন জয় করতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি বেআইনি ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ" বলে আখ্যায়িত করেছেন।   তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল শুটিং ও ব্যাপক প্রাণহানির মতো ঘটনাগুলোতে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের জড়িত থাকার হার তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের গান কন্ট্রোল অ্যাক্ট অনুযায়ী ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে হ্যান্ডগান বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল মার্কিন কংগ্রেস, যদিও তারা রাইফেল বা শটগান কিনতে পারতো। বয়সসীমার এই আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সার্কিট আদালতে মিশ্র রায় দেখা গেলেও, সুপ্রিম কোর্ট গত বছর এ বিষয়টি নিয়ে কোনো শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৬:৪৯
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লাম্পকিন কাউন্টিতে একটি স্কুল বাসের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে হাইল্যান্ড ট্রেস অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নামানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, নিয়ম ভেঙে বাসে প্রবেশ করা এবং চালকের কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, কট্রেল এলিমেন্টারি স্কুল থেকে ছেড়ে আসা ২২-৩৬ নম্বর বাসে যাত্রা শুরুর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা চিৎকার, মারামারি ও জিনিসপত্র ছুড়ে বিশৃঙ্খলা করছিল। বাসের চালক ছিলেন একজন বদলি কর্মী, যিনি ওই রুটে নতুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তার নিয়ম মানতে বাধ্য করতে তাকে পথিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাস থামাতে হয়েছিল।   বাসটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের প্রথম স্টপেজে পৌঁছালে, দ্বিতীয় স্টপেজের এক শিক্ষার্থী নেমে পড়ে। চালক তাকে বাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সেখানে উপস্থিত কিছু অভিভাবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।   বাসচালক যখন সব শিক্ষার্থীকে তাদের আসনে বসানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কয়েকজন অভিভাবক সেখানে জড়ো হয়ে তাদের সন্তানদের নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। চালক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নামানোর সুযোগ নেই।   কিন্তু অভিভাবকরা বাইরে থেকে জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী বাসের জরুরি দরজা খুলে দিলে অভিভাবকরা ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক তাদের সন্তানদের নামিয়ে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালককে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাইতে হয়েছিল।   পরবর্তীতে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, চালক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ মিনিট বাসে আটকে রেখেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এসি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে চালকের কোনো অপরাধ বা গাফিলতি পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, পাহাড়ি খাড়া রাস্তায় বাসের ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে কেবল সাময়িকভাবে এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল।   সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাসে প্রবেশ করে চালককে হেনস্তা করার দায়ে এপ্রিল মিশেল ডিসপেইন, টনি রে চ্যাস্টেইন এবং মারিয়া কুইনোনেস নামের ওই তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, বাসের কাজে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৬:১০
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি নদীতে তলিয়ে যাওয়া জিপ থেকে ভ্যানেসা বাউতিস্তা (২৪) এবং অ্যালেক্সা নাভারো (২৩) নামের দুই তরুণী মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেন্ট জোসেফ নদী থেকে তাদের ডুবন্ত গাড়িটি টেনে তোলার পর এই মর্মান্তিক পরিণতি সামনে আসে।   ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের বাসিন্দা এই দুই নারী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপক খোঁজ করা হচ্ছিল। সম্প্রতি ভ্যানেসার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হৃদয়বিদারক শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাকে দুই সন্তানের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক স্নেহময়ী মা হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।   শোকবার্তায় বলা হয়, ভ্যানেসার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার মাতৃত্ব। তিনি তার দুই ছেলে জাইরে ও জেসিয়াহকে নিজের পৃথিবী মনে করতেন এবং তাদের নিঃশর্ত ভালোবাসতেন। সন্তানদের প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকতেন।   উষ্ণ ও সুন্দর মনের অধিকারী ভ্যানেসা তার বোনের অনাগত সন্তানের আগমনের অপেক্ষায়ও প্রহর গুনছিলেন। এমনকি ৯ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনের আগে বোনকে মজা করে বলেছিলেন, সন্তান যেন তার জন্মদিনের দিন পৃথিবীতে না আসে। কিন্তু জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন পরই এমন মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হলো তাকে।   নাইলস পুলিশের প্রধান জেমস মিলিন জানিয়েছেন, গত রবিবার ভোর ৪টার দিকে জিপটি একটি বাঁধের ওপর দিয়ে প্রায় ৭০ ফুট নিচে নদীতে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকেই ইন্ডিয়ানা সীমান্তবর্তী মিশিগানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরে তাদের সন্ধানে জোরালো তল্লাশি শুরু হয়েছিল।   নিখোঁজ হওয়ার রাতে এই দুই মাকে অন্য কোনো গাড়ি তাড়া করেছিল কি না বা কেউ তাদের অনুসরণ করেছিল কি না, তদন্ত কর্মকর্তারা এখন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৫:৪৯
সিমেন্টের বদলে মানুষের মল ব্যবহার, ৪২% বেশি শক্তিশালী কংক্রিট বানালেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা
সিমেন্টের বদলে মানুষের মল ব্যবহার, ৪২% বেশি শক্তিশালী কংক্রিট বানালেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা

সাধারণত সিমেন্ট উৎপাদনের সময় বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘস্থায়ী এই পরিবেশগত সংকট কাটাতে এবার এক অভাবনীয় সমাধান নিয়ে এসেছেন ভারতের একদল গবেষক। তারা সিমেন্টের বিকল্প হিসেবে মানুষের মল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।   গবেষক দলটি পরীক্ষামূলকভাবে পরিশোধিত মল থেকে বিশেষ ধরনের 'বায়োচার' তৈরি করেছেন। পরবর্তীতে এই বায়োচারকে মিহি গুঁড়ো করে সিমেন্টের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সিমেন্টের মাত্র ১০ শতাংশ যদি এই বায়োচার দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, তবে কংক্রিটের ভেতরের শক্তি প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।   বিজ্ঞানীদের মতে, বায়োচারের ভেতরের সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো মূলত পানির আধার হিসেবে কাজ করে। এর ফলে কংক্রিট জমে ওঠার রাসায়নিক প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে সচল থাকে, যা কংক্রিটকে আরও মজবুত করে তোলে। এছাড়া এই বায়োচারে থাকা সিলিকাও সিমেন্টের ঘনত্ব বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।   গবেষকদের এই অভিনব উদ্ভাবন একদিকে যেমন দৈনন্দিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, তেমনি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তি তৈরিতেও নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৫:১৮
সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধে ইউরোপে নতুন সংকট, বিকল্পের সন্ধানে শোধনাগারগুলো
সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধে ইউরোপে নতুন সংকট, বিকল্পের সন্ধানে শোধনাগারগুলো

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর অন্তত দুটি ইউরোপীয় শোধনাগারকে আগামী মাসে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ না করার কথা জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরামকো। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো সাধারণত মাসিক সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকা চুক্তির আওতায় সৌদি তেল কিনে থাকে।   তবে আরামকো তাদের জানিয়েছে যে, আগামী মাসের পরিকল্পিত সরবরাহগুলো আর হচ্ছে না। তিনটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার কারণে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং বিঘ্নিত হওয়ায় এর আগেই ইউরোপীয় গ্রাহকদের সরবরাহ বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করেছিল সৌদি আরব।   সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো এখন তেলের বিকল্প উৎস খুঁজছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, পোল্যান্ডের অরলেন বাতিল হওয়া সৌদি আমদানির ঘাটতি মেটাতে নর্থ সি বা উত্তর সাগর থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি আংশিকভাবে এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে আরামকো।   লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওমানের সোহার বন্দরে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানিও বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর সাথে চলমান লড়াইয়ের কারণে চলতি মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারের বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জি-৭ জোটের একটি বৈঠক ডাকার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ।   তিনি জানান, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিণতি। সাধারণ পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিদ্যমান পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগে এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের দিকেই সবার বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৫:০
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও তারা চিকিৎসা ঋণের পাহাড় জমিয়ে তুলছেন। দ্য কমনওয়েলথ ফান্ড নামের একটি নির্দলীয় স্বাস্থ্য নীতি গবেষণা গ্রুপের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা, 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' মার্কেটপ্লেস বা বেসরকারি খাত থেকে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে একজন চিকিৎসা ঋণের কবলে পড়েছেন। তারা সময়ের সাথে সাথে কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।     এই ঋণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিল থেকেই তাদের এই ঋণের সূত্রপাত। এছাড়া নিয়মিত চেকআপ, চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া এবং ল্যাব বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মতো সাধারণ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও রোগীরা ঋণের সম্মুখীন হচ্ছেন।   গবেষণার প্রধান লেখক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ সারা কলিন্স সিবিএস নিউজকে জানান, বিমা থাকার পরও রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে ঠিক কতটা খরচ করতে হচ্ছে, মূলত তার ওপর ভিত্তি করেই এই ঋণের বিশাল বোঝা তৈরি হয়।   জরিপের তথ্যমতে, চিকিৎসা ঋণে থাকা প্রায় অর্ধেক আমেরিকানের অন্তত দুই হাজার ডলার বা তার বেশি ঋণ রয়েছে, যা কর্মক্ষম ও বেসরকারি বিমাভুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৫ শতাংশ। এই বিল পরিশোধ করতে গিয়ে ৩৭ শতাংশ মানুষ তাদের জমানো সঞ্চয় ভেঙেছেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে খাবার, ঘর গরম রাখার জ্বালানি বা বাড়ি ভাড়ার মতো দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদাগুলো কমিয়ে দিয়েছেন।   এমনকি টাকার অভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে দেরি করছেন বা একেবারেই নিচ্ছেন না। সারা কলিন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকে না। আকস্মিক কোনো বড় খরচ সামনে এলে তা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৩৫৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর টেলিফোন ও অনলাইনে পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।   বিশাল এই চিকিৎসা ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুল চার্জ যুক্ত করে বিল পাঠায়, তাই কোনো অসংগতি মনে হলে গ্রাহকদের অবশ্যই সেই বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। যদিও ক্রেডিট স্কোর কমার ভয়ে অনেকেই এটি করতে দ্বিধাবোধ করেন, তবে প্রকৃত বিল যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।   এছাড়া, কোনো চিকিৎসার জন্য বিমা কভারেজ প্রত্যাখ্যান করা হলে গ্রাহকরা তাদের বিমা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুবিধা বা নিজস্ব খরচের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:২৭
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছবি:সংগৃহীত
‘নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে সংসদ থেকে বিদায় করব’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের বিভিন্ন আইন ও নিরাপত্তা কাঠামোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্রের নামে দেশে নতুন করে স্বৈরাচারী কাঠামো তৈরি করা হলে তার বিরুদ্ধে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।   শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচিটি সরকারের মানবাধিকারবিষয়ক আইন, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।   মানববন্ধনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিশেষভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইন নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আইন প্রয়োজন হলেও সেই আইনের প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান আইনি কাঠামোয় এসব বিষয় যথেষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।   গুমসংক্রান্ত আইনের সমালোচনা করে পাটওয়ারী বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্তে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠার সুযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।   বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার সুযোগ নিয়ে এমন আইন তৈরি করা হচ্ছে, যা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে পারে। তাঁর ভাষায়, সরকার ‘গণতন্ত্রের নামে নতুন স্বৈরাচারী কাঠামো’ তৈরি করছে। এটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অভিযোগ; সরকারের অবস্থান এই প্রতিবেদনে পাওয়া উৎসগুলোতে অন্তর্ভুক্ত নেই।   তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। এসব প্রশ্নের সমাধান সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে ফয়সালা করার কথাও বলেন তিনি।   র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে বিশেষ বাহিনী গঠনের বিষয়েও আপত্তি জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর সমাধান হবে না। বরং যেসব ঘটনায় গুম, হত্যা বা অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।   নতুন নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের প্রয়োজন হলে তা সংসদে আলোচনা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুরোনো কাঠামোকে কেবল নতুন নামে ফিরিয়ে আনা গ্রহণযোগ্য হবে না।   কেন এনসিপি সংসদের পাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে, তার ব্যাখ্যাও দেন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, তাঁর দল সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং কালো কাপড় বেঁধেও প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।   দেশে ভবিষ্যতে কেউ যেন গুমের শিকার না হন, সেই দাবি জানিয়ে তিনি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গও টানেন। অতীতের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্ব দেন এনসিপির এই নেতা।   বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশেও রাজনৈতিক বার্তা দেন পাটওয়ারী। তিনি তাঁকে গণতান্ত্রিক পথে থাকার আহ্বান জানান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের পথ অনুসরণ না করার কথা বলেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।   মানববন্ধন থেকে এনসিপি গুমসংক্রান্ত আইন সংশোধন, সাইবার নিরাপত্তা আইনে নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাঠামো নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৩:৫৮
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের রাজনীতিতে এবার জড়িয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ পপ আইকন এড শিরান। নিজের ‘লুপ ট্যুর’-এর কনসার্ট থেকে ফিলিস্তিনপন্থী মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও বয়কটের মুখে পড়েছেন তিনি।   গত ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' নিয়ে কথা বলেছিলেন ম্যাকলমোর। এরপরই বিলিয়নিয়ার রবার্ট ক্রাফটসহ মার্কিন স্টেডিয়াম মালিকদের চাপে ম্যাকলমোরকে পরবর্তী কনসার্টগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা শিরানের ক্যারিয়ারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের জন্ম দিয়েছে।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সংগীতজগতের অনেকেই শিরানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। বিলি আইলিশের ভাই ও গায়ক ফিনিয়াসসহ আরও তিন সহশিল্পী শিরানের ট্যুর থেকে ওয়াকআউট করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিনিয়াস লেখেন, নির্যাতিতদের পক্ষে কথা বললে শিল্পীদের কখনোই থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়।   প্রবীণ ব্রিটিশ গায়ক বিলি ব্র্যাগ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিরানকে অহংকার ভুলে ট্যুর বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি সংগঠন পিএসিবিআই (PACBI) ম্যাকলমোরকে ট্যুরে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই কনসার্ট বয়কটের জন্য ভক্ত, সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।   সমালোচনার জবাবে এড শিরান দাবি করেছেন যে, তিনি তার পেশাদার প্ল্যাটফর্মকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেন না। তবে সমালোচকরা তার এই দাবি মানতে নারাজ। কারণ, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনপন্থী কনসার্টে পারফর্ম করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ব্রেক্সিট নিয়েও সরব ছিলেন।   ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্রেচেন লারসেন এবং সংগীত বিশ্লেষক নিল মার্চের মতে, ক্ষমতাধরদের চাপে অন্য শিল্পীদের চুপ করিয়ে রাখাকে সমর্থন করা এবং চুপ থাকাও এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মৃতদেহসহ এই সংখ্যা প্রায় ২ লাখ হতে পারে।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েল তা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে, যার জেরে নতুন করে আরও বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৩:৩৪
ভয়াবহ হামলার ছবি:সংগৃহীত
ঢাকাজুড়ে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতা, কারা ছড়াচ্ছে আতঙ্ক!

রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ীতে পৃথক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই দিনে ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলেও এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না কিংবা কারা এর পেছনে রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   দিনের প্রথম বিস্ফোরণের খবর আসে মালিবাগ থেকে। জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ককটেল দুটি নিচে ছুড়ে দেয়। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ।   মালিবাগের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় মহাখালীতে পরপর দুটি বিস্ফোরণের খবর আসে। প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কেও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। দুটি এলাকায় বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে।   দিন গড়িয়ে রাত নামতেই বিস্ফোরণের খবর আসে যাত্রাবাড়ী থেকে। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে তৎপরতা শুরু করেন।   যাত্রাবাড়ী থানার কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওপর থেকে ককটেল নিচে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশের দল ঘটনাস্থলে কাজ করছিল।   একই দিনে রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এসব বিস্ফোরণ ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—ঘটনাগুলো কি বিচ্ছিন্ন, নাকি একই পরিকল্পনার অংশ? এখন পর্যন্ত পুলিশের প্রকাশিত বক্তব্যে এমন কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীও এসব ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নেপথ্যে কারা ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   তবে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা শুধু শুক্রবারেই সীমাবদ্ধ নয়। এর তিন দিন আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। জগন্নাথ হলের গেট এলাকায় দুটি এবং পরে টিএসসি এলাকায় আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই দিন সুপ্রিম কোর্ট এলাকাতেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।   ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর আদালত এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং থানার সামনের মতো স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিস্ফোরণের খবর আসায় ঘটনাগুলোর উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।   মালিবাগের ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। মহাখালী, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনাতেও পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।   সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বিস্ফোরণগুলোর সময়গত নৈকট্য থাকলেও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে দায়ী করেনি। তাই এসব ঘটনাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করার মতো যাচাইকৃত তথ্যও এখনো নেই।   রাজধানীর চার এলাকায় একই দিনে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণগুলো তাই আপাতত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—কারা ককটেলগুলো ছুড়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে পুলিশের তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের ওপর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৩:২৯
'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড
'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে শিশু পর্নোগ্রাফি ও যৌন নিপীড়ন চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে লিংকন এরিকসন নামের ৩২ বছর বয়সী এক সাবেক চিকিৎসককে ৯ বছরের (১০৮ মাস) কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ডেট্রয়েট মেডিকেল সেন্টারের রিহ্যাবিলিটেশন ইনস্টিটিউট অফ মিশিগানে কর্মরত এই চিকিৎসক মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে অন্যান্য শিশু নির্যাতনকারীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   সেখানে তিনি গর্ব করে নিজেকে 'পেডোফাইল' দাবি করতেন এবং নিজের বিকৃত যৌন লালসার কথা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে প্রকাশ করতেন।   গত ১০ ডিসেম্বর এফবিআই এজেন্টরা এরিকসনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীরা তার ফোন থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতনের বিভিন্ন ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি বিকৃত শিশু পর্নোগ্রাফি উদ্ধার করেন। এফবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এরিকসন একটি বৃহত্তর শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।   এমনকি তিনি অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানদের গোসল করানোর অনুমতির জন্য রীতিমতো পীড়াপীড়ি ও পরিকল্পনাও করেছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি এরিকসনকে এখন থেকে তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী (সেক্স অফেন্ডার) হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে।   এরিকসনের গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে এই চক্রের আরও ভয়ংকর কিছু তথ্য সামনে আসে, যা জেরেমি ব্রায়ান ট্যাকন এবং জোশুয়া রনবাউম নামের আরও দুই ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পথ তৈরি করে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এরিকসন এবং রনবাউমের মধ্যকার ভয়ংকর ও বিকৃত সব চ্যাটের তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে তারা নবজাতক থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত শিশুদের গ্রুমিং ও নির্যাতনের জঘন্য ফ্যান্টাসি নিয়ে আলোচনা করতেন।   এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে এই চক্রের আরেক সদস্য টুম্যানকে ছদ্মবেশী এফবিআই এজেন্টের সাহায্যে গ্রেপ্তার করা হয়। এফবিআই ডেট্রয়েট ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট জেনিফার রুনিয়ান জানিয়েছেন, শিশুদের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনকারীদের সমাজ থেকে নির্মূল করতে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১২:৫৮
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি যাত্রীবাহী বাসে এসইউভি (SUV) গাড়ির ধাক্কা এবং এর জেরে এনবিসি (NBC) নিউজের একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঘটা এই জোড়া দুর্ঘটনার মূল অভিযুক্ত ৩৬ বছর বয়সী নারী চালক বেইলি লিন রিওসকে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি হত্যা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি হাড়হিম করা ভিডিওতে দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরের দৃশ্য উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ঘোরের মধ্যে থাকা অভিযুক্ত চালক বেইলি রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে বসে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার অবস্থা জানতে চাইলে তাকে হতভম্ব ও স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই নারী মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তল্লাশি চালিয়ে তার গাড়ি থেকেও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তার বেপরোয়া এসইউভি গাড়ির ধাক্কায় বাসের দুই যাত্রী নিহত হন।   তবে এই ট্র্যাজেডি এখানেই থেমে থাকেনি। বাস দুর্ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়, যার জেরে এনবিসি নিউজের একটি সংবাদবাহী হেলিকপ্টার মর্মান্তিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এই দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের পাইলট, একজন সাংবাদিক এবং নিচে থাকা এক পথচারী প্রাণ হারান। একটি বেপরোয়া ড্রাইভিং কীভাবে এতগুলো প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১২:৩২