সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
গাড়ির এসি ঠান্ডা না হলে মেকানিকের আগে নিজেই যা পরীক্ষা করবেন
গাড়ির এসি ঠান্ডা করছে না? শপে যাওয়ার আগে ৫ মিনিটে যা পরীক্ষা করবেন

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গরমের সময় গাড়ির এসি ঠিকমতো ঠান্ডা না করলে সরাসরি অটো মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিজেই পরীক্ষা করে দেখা যায়। কেবিনের বাতাসের ফিল্টার, বাতাসের প্রবাহ, ফ্যান ও কনডেনসারের মতো সাধারণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করলে সমস্যার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে রেফ্রিজারেন্ট কমে যাওয়া, কোথাও লিক থাকা কিংবা এসির যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকলে পেশাদার মেকানিকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই নিশ্চিত করুন, গাড়ির এসি চালু আছে কি না। অনেক গাড়িতে এসি এবং ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আলাদা থাকে। ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু থাকলে বাইরের গরম বাতাসের পরিবর্তে গাড়ির ভেতরের তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাসই আবার এসি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর ফ্যানের বিভিন্ন গতিতে বাতাসের প্রবাহ পরীক্ষা করুন। ফ্যান চললেও বাতাস খুব কম বের হলে কেবিনের বাতাসের ফিল্টারে ধুলা বা ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ফিল্টার পরীক্ষা ও পরিবর্তন করা যেতে পারে। এরপর গাড়ির ফ্যানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না খেয়াল করুন। গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় এসি চালু করে প্রয়োজনীয় ফ্যান ঘুরছে কি না দূর থেকে দেখা যায়। বিশেষ করে গাড়ি চলার সময় এসি কিছুটা ঠান্ডা করলেও ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গরম হয়ে গেলে বাতাস চলাচল বা ফ্যানের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে হুডের ভেতরের চলন্ত যন্ত্রাংশের কাছে হাত দেওয়া কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলে পরীক্ষা করা উচিত নয়। গাড়ির সামনের কনডেনসারেও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। রেডিয়েটরের সামনে থাকা এই অংশে পাতা, পোকামাকড় বা অতিরিক্ত ময়লা জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে এসির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। দৃশ্যমান ময়লা থাকলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কনডেনসারের মতো সংবেদনশীল অংশে অতিরিক্ত চাপের পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এসি ঠান্ডা না হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমে যাওয়া। তবে এসি ঠান্ডা করছে না মানেই রেফ্রিজারেন্ট কমে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোথাও লিক থাকলে রেফ্রিজারেন্ট কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু নতুন করে রেফ্রিজারেন্ট যোগ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিক থাকলে সেটি শনাক্ত ও মেরামত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ রেফ্রিজারেন্ট দিতে হয়। তাই নিজের মতো করে রেফ্রিজারেন্ট কিনে গাড়ির এসিতে ব্যবহার করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। গাড়িতে কোন ধরনের রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। মোটরগাড়ির এসি ব্যবস্থায় রেফ্রিজারেন্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অনুমোদিত যন্ত্রপাতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রাথমিক পরীক্ষা করেও এসি ঠান্ডা না করলে অটো মেরামতের দোকানে গিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করানো ভালো। মেকানিককে জানিয়ে দিন, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে, বাতাসের চাপ কমেছে কি না, গাড়ি চলার সময় এবং জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এসি কেমন কাজ করছে এবং কেবিনের বাতাসের ফিল্টার সর্বশেষ কবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব তথ্য সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে এসি পরীক্ষা করার খরচ কত, রেফ্রিজারেন্ট দেওয়ার খরচ আলাদা কি না এবং মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব পাওয়া যাবে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। এতে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানোর পাশাপাশি কী কাজ করা হবে সে বিষয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। গরমের সময় গাড়ির এসি শুধু আরামের বিষয় নয়, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত তাপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কোনো শিশুকে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:৪১
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের অভিযোগ
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের চেষ্টা, লাস ভেগাসের পুলিশ কর্মকর্তা ও স্ত্রী হেফাজতে

লাস ভেগাসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দামী পণ্য ও গিফট কার্ড কেনার পর সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লেনদেন বাতিলের আবেদন করতেন। অভিযোগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার ঘটনাও রয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আন্তোনিও শ্যাভেজ, বয়স ২৮ বছর। তাঁর স্ত্রী ক্লদিয়া গুজম্যান-মারকেজের বয়স ৩০ বছর। লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা শ্যাভেজ ২০২০ সাল থেকে বিভাগটিতে কর্মরত। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত কথিত অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি নিজেদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দামি পণ্য ও গিফট কার্ড কিনতেন। পরে কার্ড বা ওয়ালেট হারিয়ে বা চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কাছে ওই লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানাতেন। এতে পণ্য নিজেদের কাছে রেখেই অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ মে সাউথ লাস ভেগাস বুলেভার্ডের টাউন স্কয়ার কনসিয়ার্জ থেকে দম্পতি ১৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের গিফট কার্ড কেনেন। পরে তাঁরা ক্যাপিটাল ওয়ান ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের কাছে ওই লেনদেন নিয়ে অভিযোগ করেন। শ্যাভেজ একটি অ্যাপল স্টোরে ১ হাজার ২০০ ডলারের বেশি মূল্যের কেনাকাটা নিয়েও আপত্তি জানান এবং তাঁর ওয়ালেট হারিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। একই সময়ে গুজম্যান-মারকেজের বিরুদ্ধেও একাধিক দামী কেনাকাটার পর লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, দুটি লুই ভুইটন থেকে করা কেনাকাটার মূল্যই ছিল ১১ হাজার ডলারের বেশি। কথিত অনিয়মের ঘটনা নেভাদা ছাড়িয়ে ক্যালিফোর্নিয়াতেও পৌঁছায়। নিউপোর্ট বিচের ফ্যাশন আইল্যান্ডে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ওই গিফট কার্ড ব্যবহার করে লাস ভেগাসের একটি গাড়ির দোকান ও আরিতজিয়া স্টোর থেকে কেনাকাটা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শ্যাভেজ নিজের কার্ড চুরি যাওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হেন্ডারসন পুলিশ ডিপার্টমেন্টে একটি ভুল তথ্যসম্বলিত রিপোর্টও করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, তদন্তকারীদের কাছে শ্যাভেজ তাঁর স্ত্রী এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তৃতীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথিত আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর আইনজীবী শ্যাভেজের নির্দোষ থাকার সাংবিধানিক অধিকার এবং তাঁর আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসের আদালতে শ্যাভেজ হাজির হলে প্রসিকিউশন তাঁর জন্য ১ লাখ ডলার নগদ জামিন এবং গৃহবন্দিত্বের আবেদন করে। তবে বিচারক রেবেকা স্যাক্স সেই আবেদন নাকচ করেন। শ্যাভেজের আগের কোনো অপরাধের ইতিহাস না থাকা, স্থানীয়ভাবে তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং অভিযোগগুলো সহিংস ধরনের না হওয়াকে বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে নগদ জামিন ছাড়াই মুক্তির নির্দেশ দেন। শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রী দুজনকেই ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। দম্পতির বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ১ লাখ ডলারের কম মূল্যের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগ, সম্পদ আত্মসাৎ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের বিষয়ে যোগসাজশ এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রীকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:৩৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়।  ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।  ২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।  তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ।  সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়।  ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:২৫
সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের
এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের

লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংবাদিক এলিয়ানা মোরেনো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মোরেনোর সঙ্গে হেলিকপ্টারের পাইলট জর্জ মার্সিনিউ এবং মাটিতে থাকা আরও একজন প্রাণ হারান। ওই সময় হেলিকপ্টারটি কাছাকাছি একটি বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করছিল। এলিয়ানা মোরেনো এনবিসি৪ ও টেলিমুন্ডো ৫২-এর জন্য আকাশপথে সংবাদ সংগ্রহ করতেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে চ্যাটসওয়ার্থের নর্থ মেসন অ্যাভিনিউ এলাকায় নিউজ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকটি গাড়ি ও দুটি স্টোরেজ কনটেইনারও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে এলিয়ানা ও পাইলট জর্জ মার্সিনিউ কাছাকাছি একটি মেট্রো বাস ও একটি এসইউভির সংঘর্ষের খবর কভার করছিলেন। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন প্রাণ হারান এবং ছয়জন আহত হন। একই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে একাধিক নিউজ হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলের ওপর অবস্থান করছিল। এর কিছুক্ষণ পরই এনবিসির নিউজচপার৪ বিধ্বস্ত হয়। মোরেনো দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পরিচিত আকাশপথের সংবাদ প্রতিবেদকদের একজন ছিলেন। তিনি চ্যাপম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রচার সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১০ সালে তিনি অ্যাঞ্জেল সিটি এয়ারের হেলিকপ্টার টিমে যুক্ত হন। পরে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। পাইলট জর্জ মার্সিনিউয়ের সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিত উড়ছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মোরেনো। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণ হারানোর এক বছরেরও কম সময় আগে তাঁর বাগদান হয়েছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেমে গেল। দুর্ঘটনার খবরটি এনবিসি৪-এর সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই সহকর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়। পরে সম্প্রচারে মোরেনো ও মার্সিনিউয়ের প্রাণ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সহকর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী হিসেবে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেন। এনবিসি৪ ও টেলিমুন্ডো ৫২ এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৭০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:১৫
পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে প্রাণ গেল দোকানির
‘কিছু হবে না’ বলে পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ দোকানির প্রাণ গেল

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুল ইসলাম নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর প্রাণ গেছে। একই মাছ খাওয়ার পর তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজহারুল ইসলাম বড়দল গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে এবং বড়দল বাজারের মুদি দোকানি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে পটকা বা টেপা মাছ কিনে বাড়িতে রান্না করে পরিবারের সদস্যরা খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজহারুলের বমি শুরু হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আজহারুলের আট বছরের ছেলে, ১১ বছরের মেয়ে এবং ৬০ বছর বয়সী মা-ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ওই মাছ খাননি। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, পটকা মাছ খাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের সতর্ক করেছিলেন। তবে আজহারুল বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে জানা গেছে। পটকা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হলো টেট্রোডোটক্সিন নামের শক্তিশালী এক ধরনের বিষ। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মাছটির ডিম্বাশয়, যকৃত, অন্ত্র ও চামড়ায় এই বিষ বেশি থাকতে পারে। শরীরে এটি প্রবেশ করলে ঠোঁট ও মুখে অবশভাব বা ঝিনঝিন করা, বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কথা বলা, গিলতে কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যাও হতে পারে। পটকা মাছ রান্না করলেই এর ক্ষতিকর উপাদান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় না। কোন প্রজাতির মাছ কতটা ক্ষতিকর এবং এর কোন অংশে বিষের পরিমাণ বেশি—তা ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া পটকা মাছ প্রস্তুত করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন। জাপানে ‘ফুগু’ নামে পটকা মাছ খাবার হিসেবে পরিচিত। সেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রাঁধুনিরা মাছটি প্রস্তুত করেন। বিষাক্ত অংশ অপসারণের পর নির্দিষ্ট অংশ খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। জাপানের সরকারি তথ্যেও পটকা মাছের যকৃত ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অংশে উচ্চমাত্রার টেট্রোডোটক্সিন থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। আশাশুনির ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ার পর পটকা মাছের বিষের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, পটকা মাছ খাওয়ার পর বমি, মুখ বা শরীর অবশ হয়ে আসা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:৮
শেখ হাসিনাসহ ৩০ পলাতক অভিযুক্তের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী
শাপলা চত্বর মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ পলাতক আসামির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

শাপলা চত্বর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেনজীর আহমেদসহ পলাতক ৩০ অভিযুক্তের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিষয়ে এ আদেশ দেন। মামলায় মোট ৪১ জন অভিযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জন বর্তমানে পলাতক এবং তাদের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলায় অভিযুক্ত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বুধবার সকালে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে তাঁর আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান ও ফারজানা রুপাসহ ১১ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার পলাতক অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য এর আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি। পরে তাদের পক্ষে আইনি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনাকে ঘিরে করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে আসামিদের পারস্পরিক যোগসাজশে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৭:৪৬
ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রিজভীর বক্তব্য
ব্রিকসে না গিয়ে দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন তারেক রহমান: রিজভী

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তারেক রহমান সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা না থাকায় তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান অংশ নেবেন না—এ কথা জানানোর পরদিনই কারিগরি ত্রুটির কথা বলে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নিছক কারিগরি ত্রুটি নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। রিজভীর এই দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণের কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই। ভারতে অবস্থানরত আসামিদের ফেরত আনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া আসামিদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। বিষয়টিকে তিনি গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশে যাদের বিচার চলছে, তাদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—সে প্রশ্ন তোলেন।   দেশের অর্থনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিক সুশাসনের কারণে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বর্তমান সরকারের আমলে বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন রিজভী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দল সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পারছে এবং দেশে গুম বা জুলুমের মতো ঘটনা ঘটছে না। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য নষ্ট করার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন রিজভী। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদ মধুর স্মৃতির সঙ্গে জড়িত এই স্থানের প্রতি অসম্মানজনক কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৭:৩৪
১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে
জাপানে প্রথমবার লাখ ছাড়াল ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা, ৮৮ শতাংশ নারী

দীর্ঘায়ুর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা টানা ৫৬ বছর ধরে বাড়ছে। এবার এই সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শতবর্ষীদের বড় অংশই নারী। মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনের মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো এই পরিসংখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাপন করছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘায়ুর দিক থেকে জাপান বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালে দেশটির মানুষের গড় আয়ু ছিল ৮৪ বছর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ছিল ৭৯ বছর। গবেষকদের মতে, জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের পেছনে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে। জাপানি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের সংস্কৃতি থাকলেও অনেক মানুষ ‘ইকিগাই’ দর্শন অনুসরণ করেন। এই দর্শনে জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য ও আনন্দ খুঁজে নিয়ে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষদের কয়েকজনও বর্তমানে জাপানে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে কিয়োটোর ১১৪ বছর বয়সী নারী ফুয়ো কিশিমোতো এবং কুমামোতোর ১১২ বছর বয়সী পুরুষ হিকারু কাতো উল্লেখযোগ্য। তবে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও জাপানের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটির জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় মোট জনসংখ্যা ক্রমেই কমছে। প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বয়স্কদের পরিচর্যা ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকটও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষ ও সাধারণ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে বিদেশিবিরোধী মনোভাবের মধ্যে সরকার ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু নিয়মকানুন আরও কঠোর করার উদ্যোগও নিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৭:২১
নিউইয়র্কে শীতকালে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ
নিউইয়র্কে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, ৪০ ঘণ্টা পেরোলেই ৪৫!

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে শীত মৌসুমে জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে কাজ করা কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পাওয়া যাবে। সপ্তাহে প্রথম ৪০ ঘণ্টা কাজের পর প্রতি ঘণ্টার পারিশ্রমিক বেড়ে হবে ৪৫ ডলার।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মঙ্গলবার এই নতুন পারিশ্রমিক কাঠামোর ঘোষণা দেন। গত শীতের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত বছর ঘণ্টায় ১৯ দশমিক ১৪ ডলার এবং সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের পর ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭১ ডলার দেওয়া হয়েছিল। গত শীতে ভারী তুষারপাত, তুষারঝড় ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে নিউইয়র্কের জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে ৭ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। শহরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তুষার সরানোর কর্মী ও স্যানিটেশন বিভাগের কর্মীরা মিলে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার পথচারী পারাপারের স্থান, ৩৪ হাজার বাসস্টপ এবং ২৯ হাজার অগ্নিনির্বাপক হাইড্র্যান্ট পরিষ্কার করেছিলেন। এবার কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্যানিটেশন বিভাগের কোনো নিবন্ধন আয়োজনে নাম নিবন্ধন করলে আবেদনকারীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য পারিশ্রমিক পাবেন। দ্রুত পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে; কাজ করার দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ কর্মসূচির প্রথম নিবন্ধন আয়োজন হবে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্রঙ্কসের টাফট হাইস্কুলে। পরে পাঁচ বরোতে আরও নিবন্ধন আয়োজনের তথ্য স্যানিটেশন বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি ওয়েবসাইটে জানাবে। মামদানি বলেন, গত শীতে হাজারো নিউইয়র্কবাসী ভারী তুষার ও বরফ সরিয়ে নিজেদের প্রতিবেশীদের সহায়তা করেছেন। এবার পারিশ্রমিক বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে, যাতে তুষারপাত শুরু হলে শহর দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারে। এই কাজে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আইন অনুযায়ী কাজের অনুমতিও থাকতে হবে এবং শীতের কঠিন আবহাওয়ায় শারীরিকভাবে পরিশ্রম করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আবেদনকারীদের একটি বৈধ ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, ফেডারেল ও স্টেট উইথহোল্ডিং ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রসহ আই-৯ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এবার আর নিজের ছবি প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে না; নিবন্ধনের সময় স্যানিটেশন বিভাগের কর্মীরাই ছবি তুলে দেবেন। নিউইয়র্ক সিটির জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ থাকায় শীত মৌসুমের আগে অনেকেই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তুষারপাতের সময় পথচারীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাসস্টপসহ বিভিন্ন জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করতেই এই কর্মীদের কাজে লাগানো হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৭:৮
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ চলাকালে এক নারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীদের ধরপাকড়, তুরস্কে কয়েক ডজন গ্রে প্তার

তুরস্কে এ ল জি বি টি কিউ+ অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের সাম্প্রতিক অভিযানের মধ্যে কয়েক ডজন মানুষকে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে বিক্ষোভে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়। সপ্তাহান্তে স ম কা মী দের কয়েকটি বারে এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একদল এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীকে গ্রে প্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে সেখানে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন। তুরস্ক সরকার এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের সদস্য ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালাচ্ছে, সেটিকে ‘মাই ফ্যামিলি ইজ সেফ’ বা ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। সরকারের ভাষ্য, পরিবার ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক’ বলে স্লোগান দেন এবং আটক অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এ ল জি বি টি কিউ হওয়া কোনো অ প রা ধ নয়’ লেখা একটি ব্যানার মেলে ধরলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রে প্তার করে। এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন যা দেখছি, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’ অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তুরস্কে এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বিস্তৃত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে অধিকার সংগঠনের কার্যালয়ে অভিযান, ওয়েবসাইট বন্ধ এবং গ্রে প্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক পোস্টে বলা হয়েছে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ ল জি বি টি কিউ+, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের কয়েক ডজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ বা সীমিত করেছে। তুরস্কে স ম কা মী সম্পর্ক আইনত অ প রা ধ নয়। তবে দেশটিতে এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিরূপ মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এ ল জি বি টি কিউ+ মানুষদের ‘বি কৃ ত’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তাঁদের দেশের জন্মহার কমে যাওয়ার জন্য দায়ী করেছেন। তুরস্কে সাম্প্রতিক গ্রে প্তার ও অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও'ফ্লাহার্টি। তিনি বলেন, তুরস্কজুড়ে এ ল জি বি টি আই অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন এবং মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক গ্রে প্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধের খবর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। ও'ফ্লাহার্টির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের সমন্বয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৬:৪৯
সোনার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ফ্রেন্ডসউড পুলিশের তদন্ত
পুলিশ সেজে বয়স্ক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে সোনা হাতানোর চেষ্টা, গ্রে প্তার ৩

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বয়স্ক বাসিন্দাকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে সোনার প্রতা রণা চালানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রে প্তার করেছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে প্ররোচিত করেছিলেন। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তদন্তকারীরা আগস্টে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন। এক বয়স্ক বাসিন্দা সন্দেহজনক যোগাযোগের বিষয়ে পুলিশকে জানান। ফোন করা ব্যক্তিরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই বাসিন্দাকে তাঁর অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে বলা হয়। তদন্তকারীরা ওই বাসিন্দার সঙ্গে সমন্বয় করে ২৫ আগস্ট একটি পরিকল্পিত সোনা লেনদেনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় ক্যালিফোর্নিয়ার লাথ্রপের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিংকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ তাঁকে অনুসরণ করে পিয়ারল্যান্ডের একটি ওয়ালমার্টের ভেতরে থাকা ফেডএক্সের একটি শাখায় পৌঁছায়। সেখানে সোনা রাখা প্যাকেটগুলো পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় সুখবিন্দর সিংকে গ্রে প্তার করা হয়। গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে সুখবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চু রি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের একটি আটকাদেশও রয়েছে। সুখবিন্দর সিং গ্রে প্তার হওয়ার পরও কথিত প্রতা রণা চক্রের সদস্যরা ওই বয়স্ক বাসিন্দাকে ফোন করা অব্যাহত রাখে। পুলিশ জানায়, তারা কলার আইডি স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনগুলো এমনভাবে দেখাত, যেন সেগুলো সরাসরি ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতা রকরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি ওই বাসিন্দার মামলার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দার পরিচয়ও ব্যবহার করা হয়। এভাবে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে তাঁর কাছ থেকে আরও অর্থ ও সম্পদ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আরও দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। তাদের বিরুদ্ধে চক্রটির নেতৃত্ব দেওয়া, অর্থের জোগান দেওয়া এবং প্রতা রণা থেকে পাওয়া অর্থ পাচারে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা গ্যালভেস্টন কাউন্টি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডের বাসিন্দা ডামান প্রীত সিং এবং লস এঞ্জেলেসের বাসিন্দা মানদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রে প্তারি পরোয়ানা নেন। ডামান প্রীত সিংয়ের জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ডলার এবং মানদীপ সিংয়ের জা মিন ৫০ লাখ ডলার। ৯ সেপ্টেম্বর ফ্রেন্ডসউড পুলিশের তদন্তকারীরা ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফের অফিসের মেজর ক্রাইমস ইউনিটের সহায়তায় ডামান প্রীত সিংকে তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গ্রে প্তার করেন। একই সময়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই প্রতা রণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। পরদিন লস এঞ্জেলেসে মানদীপ সিংয়ের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে লস এঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ফুটহিল ডিভিশনের সহায়তায় তাঁকে তাঁর বাসা থেকে গ্রে প্তার করা হয়। দুইজনই বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ জানিয়েছে, এটি তাদের তদন্ত করা সাম্প্রতিক বড় সোনা প্রতা রণার ঘটনাগুলোর একটি। এর আগে মার্চে একই ধরনের সংঘবদ্ধ সোনা প্রতা রণার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রে প্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় টেক্সাসজুড়ে বয়স্ক ভুক্তভোগীদের প্রায় ২৮ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ওই তদন্ত শুরু হয়েছিল ফ্রেন্ডসউডের ৮১ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে কেন্দ্র করে। তাঁকে প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার ডলার অর্থ ১৭৭টি এক আউন্সের কানাডিয়ান গোল্ড ম্যাপল লিফ কয়েনে রূপান্তর করতে রাজি করানো হয়েছিল। পরে ফ্রেন্ডসউডের গোয়েন্দারা সব ১৭৭টি কয়েন উদ্ধার করেন। একই তদন্তে হাম্বল, সাইপ্রেস, ক্লেবার্ন ও নিউ ব্রাউনফেলসের আরও কয়েকজন বয়স্ক বাসিন্দা একই ধরনের প্রতা রণার শিকার হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ প্রতা রণা চক্রগুলো একই ধরনের কৌশলে বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করে আসছে। কখনো তারা ফেডারেল এজেন্ট, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংকের তদন্তকারী কিংবা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে জানায়, তাঁর ব্যাংক হিসাব বা অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থ নিরাপদ রাখা কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর কথা বলে তাঁকে সঞ্চিত অর্থ সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদে রূপান্তর করতে বলা হয়। পরে সেই সম্পদ সংগ্রহের জন্য একজন কুরিয়ার পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফ্রেন্ডসউড পুলিশের প্রধান জশ রজার্স বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং তারা যেখানেই থাকুক, তাদের শনাক্ত ও গ্রে প্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি ওই ভুক্তভোগীর দ্রুত পুলিশের কাছে বিষয়টি জানানোর প্রশংসা করেন। রজার্স বলেন, ভুক্তভোগী দ্রুত প্রতা রণার বিষয়টি পুলিশকে জানানোয় এবার সফলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনার পরিণতি এতটা ভালো হয় না বলেও সতর্ক করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের উচিত বয়স্ক স্বজনদের এ ধরনের প্রতা রণা সম্পর্কে সচেতন করা। কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তা অর্থ নিরাপদ রাখার কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর জন্য কাউকে সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদ কিনতে বলবেন না। কেউ এমন প্রতা রণার শিকার হচ্ছেন বলে সন্দেহ হলে প্রতা রকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দ্রুত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৬:৩৫
ইরান সংঘাতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শহর।
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার, সামনে মাসে আরও ৩ বিলিয়ন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের খরচ ইতোমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত এই ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে নিরপেক্ষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি খরচ হতে পারে। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন। প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই মূল্যায়ন তৈরি করেছে সিবিও। তাদের হিসাব এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের কাছাকাছি। সিবিও বলেছে, ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে যুদ্ধে ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় কেনার পেছনে। তবে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সম্পর্কিত খরচ এবং ভবিষ্যতে সাবেক সেনাসদস্যদের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়নি। সিবিওর প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরান সংঘাতের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি এখন সপ্তম মাসে পড়েছে এবং দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চিত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে জুনে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছিল। এর মধ্যে ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি ইরান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সিবিও মনে করছে। এই অঙ্ক সিবিওর হিসাব করা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে এই হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিভাগ সিবিওর তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ফলে বাজেট অফিসকে সরকারি তথ্যভান্ডার ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনসহ অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সিবিও জানিয়েছে, এ কারণে তাদের হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুতে “কৌশলগত ঘাটতি” তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৬:১৬
সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব
৪০ ঘণ্টার বদলে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজ! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব আবারও কংগ্রেসে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মার্ক তাকানো এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ৮ সেপ্টেম্বর ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করেন। তাকানো প্রথমবার ২০২১ সালে এই প্রস্তাব দেন। বিলটিতে ফেয়ার লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট সংশোধন করে নন-এক্সেম্পট কর্মীদের জন্য সপ্তাহের নিয়মিত কর্মঘণ্টা ৪০ থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব রয়েছে। ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ওভারটাইম হিসেবে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকদের যুক্তি, প্রযুক্তি, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কিন্তু সেই উৎপাদনশীলতার সুফল কর্মীদের সময় ও মজুরিতে যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়নি বলে তারা মনে করেন। তাকানো বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে গেছে, তাই শ্রম আইনও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হওয়া দরকার। বিল অনুযায়ী, কর্মঘণ্টা কমলেও কর্মীদের বেতন বা সুবিধা কমানোর কথা নয়। অর্থাৎ ৩২ ঘণ্টাকে নিয়মিত কর্মসপ্তাহ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর এর বেশি কাজ করলে ওভারটাইমের বিধান কার্যকর হবে। বিলটি মূলত নন-এক্সেম্পট কর্মীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিলের আগের সংস্করণগুলোতে ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় যেতে তিন বছরের সময়সীমা রাখা হয়েছিল। নতুন বিলের বিস্তারিত বিধানেও কর্মসপ্তাহ কমানোর পাশাপাশি ৩২ ঘণ্টার পর ওভারটাইম দেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, একই মজুরি রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে নিয়োগকর্তাদের শ্রম ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের ও সেবার দামের ওপর পড়তে পারে বলে তারা মনে করেন। বিলটি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমর্থন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এএফএল-সিআইও, ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স, সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন, ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেড এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টসসহ আরও কয়েকটি সংগঠন। এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত আইন; কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পর্যায়ে প্রচলিত ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহই বহাল রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৫:৫৮
দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের ওপর নতুন ভিসা বিধিনিষেধ
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন

দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভূমি নীতি ও ব র্ণভিত্তিক ব ৈ ষ ম্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি দখল, ব র্ণভিত্তিক বৈ ষ ম্য অথবা সংখ্যালঘু জাতিগত বা ব র্ণগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স হিং তায় উসকানি দেওয়ার মতো আইন বা নীতির জন্য দায়ী কিংবা এতে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের ওপর এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। তবে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সব নাগরিকের ওপর ব্ল্যাঙ্কেট ভিসা নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং নির্দিষ্ট নীতি বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে মার্কিন প্রশাসন যাদের মনে করছে, তাদের লক্ষ্য করেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রুবিও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে আগে থেকেই এসব বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, দেশটির সরকার সেসব উদ্বেগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করেনি। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা কমিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছেন। ট্রাম্প এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে বৈ ষ ম্য ও নি পী ড় নের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দেশটিতে ‘শ্বেতাঙ্গ গ ণ হ ত্যা’ চলছে বলেও দাবি করেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও রামাফোসার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা যায়। বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে স হিং সা তায় প্রমাণ হিসেবে কিছু ভিডিও ও ছবি দেখান। জবাবে রামাফোসা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের নি পী ড় ন করে—এমন কোনো নীতি দেশটির নেই। রামাফোসা আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অ প রা ধ ও হ ত্যা কা ণ্ডের ঘটনা রয়েছে, তবে এর শিকার শুধু শ্বেতাঙ্গরা নন; কৃষ্ণাঙ্গরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভুক্তভোগী। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৫:৪৫
প্রচণ্ড গরমে কাজ করা তরুণ নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে অজ্ঞাত কারণে কিডনি বিকলের ঘটনা নজরে চিকিৎসকদের
২০-এর কোঠায় কিডনি বিকল, টেক্সাসে চিকিৎসকদের নজরে রহস্যজনক রোগ

টেক্সাসে নির্মাণ ও ছাদ তৈরির মতো প্রচণ্ড গরমে করা কাজে যুক্ত তরুণ শ্রমিকদের মধ্যে অজানা কারণে কিডনি বিকলের কিছু ঘটনা চিকিৎসকদের নজরে এসেছে। হিউস্টনের কয়েকটি হাসপাতালে ২০ ও ৩০-এর কোঠার এমন কিছু পুরুষের চিকিৎসা হয়েছে, যাদের কিডনি বিকলের প্রচলিত ঝুঁকি—যেমন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ—ছিল না। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    এই রোগকে বলা হয় ক্রনিক কিডনি ডিজিজ অব আননোন ইটিওলজি (CKDu)—অর্থাৎ যে কিডনি রোগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিশ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে এ ধরনের কিডনি রোগের ঘটনা দেখা গেছে। তবে টেক্সাসের বর্তমান ঘটনাগুলো একই রোগের অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।  হিউস্টনের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক, যারা নির্মাণ, ছাদ নির্মাণসহ বাইরে প্রচণ্ড গরমে কাজ করেন। এসব কাজে দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম, অতিরিক্ত গরম এবং পর্যাপ্ত পানি বা বিশ্রামের অভাব কিডনির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।  হারিস কাউন্টির হাসপাতালের তথ্য নিয়ে করা একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিমাবিহীন বা অনিবন্ধিত রোগীদের জরুরি ডায়ালাইসিসের প্রায় ছয়টির মধ্যে একটি ক্ষেত্রে কিডনি বিকলের নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা যায়নি। চিকিৎসক গোকুল পাইদি এটিকে CKDu-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই তথ্য একা টেক্সাসে CKDu-এর উপস্থিতি বা বিস্তারের প্রমাণ নয়।  রোগটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, শুরুতে অনেকেরই তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। পরে ক্লান্তি, দুর্বলতা, বমিভাব, ঘুমের সমস্যা বা রক্তস্বল্পতার কারণে শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তখন অনেক রোগীর কিডনি ইতোমধ্যে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।  CKDu-এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে বারবার অতিরিক্ত গরমে কাজ করা ও পানিশূন্যতা অন্যতম প্রধান সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি রাসায়নিকের সংস্পর্শ, দূষিত পানি এবং ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ও কর্মক্ষেত্রের কারণ নিয়েও গবেষণা চলছে।  টেক্সাসে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমের কারণে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে আগেও গবেষণা হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে তাপের মধ্যে কাজ করা টেক্সাসের শ্রমিকদের মধ্যে কিডনি ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। গবেষকদের মতে, ছায়া, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত বিশ্রামের সুযোগ ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।  CKDu শনাক্ত করার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষা নেই। চিকিৎসকরা সাধারণত কিডনি রোগের অন্যান্য কারণ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি রোগীর কাজের ধরন ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে কিডনির ক্ষতি গুরুতর হওয়ার আগেই শনাক্ত করা যায়।  সোর্স- ফক্স নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৫:২১
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত, চাকরি হারিয়েও আপোষ করেননি তিনি

বেলজিয়ামের পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশে কর্মরত শিক্ষিকা হাজিয়া আমাজুদ কর্মস্থলে হিজাব খুলতে অস্বীকার করায় চাকরি হারিয়েছেন। আসেনেডে শহরের কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাস নামের বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি। প্রদেশের স্কুলগুলোতে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক নিষিদ্ধ করার নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।    আমাজুদ স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই হিজাব পরতেন। ২০২৪ সালে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্মীদের বিধিমালা পরিবর্তন করে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়। ধর্মীয় বা জীবনদর্শনভিত্তিক বিষয় পড়ানো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পরও আমাজুদ হিজাব পরেই শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নেন।    এ নিয়ে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের পর একাধিক শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের শৃঙ্খলামূলক কমিটির সামনে হাজির হন। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।    আমাজুদের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনের সময় আগে থেকেই হিজাব পরতেন এবং তার কাজের দক্ষতা নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পেয়েছিলেন। চাকরি হারানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এর ফলে শুধু চাকরিই নয়, তার আয়, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী নিয়োগও হারাতে হচ্ছে।    অন্যদিকে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ বলছে, কর্মীদের জন্য অনুমোদিত বিধিমালা কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কার্ট মোয়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে পরিচালনার নীতির সঙ্গে এই বিধিমালা সম্পর্কিত।    এর আগে চলতি বছরের মে মাসে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের একটি আদালত আমাজুদের হিজাব পরার অধিকার নিয়ে করা কয়েকটি দাবি খারিজ করেছিল। আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পরও বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।    আমাজুদের পক্ষে থাকা সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন ACOD চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রাসেলসের আপিল চেম্বারে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ইউনিয়নটির মতে, এই মামলার রায় বেলজিয়ামের স্কুলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার নীতির মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।    ঘটনাটি বেলজিয়ামে শিক্ষক ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি ও অভিন্ন কর্মবিধির কথা বলছে, অন্যদিকে আমাজুদ ও তার ইউনিয়ন ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। এখন আপিল প্রক্রিয়ায় এই দুই নীতির মধ্যে আইনি সীমারেখা কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৪:৫৯
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে গু/লিতে নি/হত ভারতীয় নারী

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিতকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ৮ সেপ্টেম্বর একটি শপিং সেন্টারে শালিনীকে ধাওয়া করে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হাইওয়ে ৫০-এ পুলিশের সঙ্গে অবস্থানের সময় রোহিতকে গাড়ির ভেতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি নিজের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন।   তদন্তে জানা গেছে, শালিনী ও রোহিতের পরিচয় হয়েছিল শালিনীর কর্মস্থলের সূত্রে। রোহিত DoorDash-এর খাবার সরবরাহের কাজ করতেন এবং শালিনীর কর্মস্থলে অর্ডার নিতে যেতেন। আদালতে দেওয়া শালিনীর আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে রোহিত তার পিছু নেওয়া ও বিরক্ত করা শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সেই আচরণ আরও বাড়তে থাকে।   শালিনীর অভিযোগ অনুযায়ী, রোহিত প্রায়ই তার বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন। ২৩ এপ্রিলের একটি ঘটনায় তিনি কয়েক ঘণ্টা বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়। শালিনী আরও অভিযোগ করেন, রোহিত তার গাড়ির টায়ারের বাতাস ছেড়ে দিতেন এবং পরে সাহায্য করার অজুহাতে তার কাছে আসতেন।   এরপর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার অভিযোগ ওঠে। জানুয়ারি মাসে শালিনীর গাড়ির হুডের নিচে একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ পাওয়া যায়। তার অভিযোগ ছিল, এই যন্ত্রের মাধ্যমে তার চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানান, রোহিত তার অ্যাপার্টমেন্টের চাবির একটি কপি সংগ্রহ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাসায় ঢুকেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   শালিনী আদালতে আরও অভিযোগ করেছিলেন, রোহিত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতেন। এমনকি তিনি বিয়ে না করলে নিজেকে বা অন্যদের গুলি করার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শালিনী। এসব তথ্য শালিনীর আদালতে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে মে মাসে শালিনী আদালতের কাছে সুরক্ষা আদেশ নেন। এই আদেশে রোহিতকে তার কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, এর আগে কর্মকর্তারা শালিনীকে আদালতের এই সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।   কিন্তু জুলাইয়ে আবারও ওই আদালতের নির্দেশ ভঙ্গের অভিযোগ করেন শালিনী। তিনি পুলিশকে জানান, রোহিত তার বাড়ির দরজার সামনে বাজারসামগ্রী রেখে গেছেন। শেরিফের কার্যালয় বলেছে, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের সম্ভাব্য কারণ ছিল। কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও কয়েকবার তাকে পাওয়া যায়নি।   এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ঘটে প্রাণঘাতী ঘটনা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শালিনীকে তার গাড়ির কাছে দেখতে পেয়ে রোহিত তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। শালিনী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাকে ধাওয়া করেন এবং গুলি করেন। পরে তিনি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করে হাইওয়ে ৫০-এ। সেখানে কিছু সময়ের পুলিশি অবস্থানের পর রোহিতকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   ঘটনার পর সামনে এসেছে প্রায় এক বছরের ধারাবাহিক অভিযোগ—শালিনীর পিছু নেওয়া, তার গাড়িতে নজরদারি, গাড়ির টায়ারে হস্তক্ষেপ, বাসায় প্রবেশ এবং আদালতের সুরক্ষা আদেশ ভঙ্গের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি, কারণ শালিনী হত্যার পর রোহিতও মারা গেছেন।   এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আদালতের নথি ও তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে পুরোনো কোনো শত্রুতা বা পারস্পরিক বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। বরং শালিনীর আদালতে দেওয়া অভিযোগে রোহিতের পক্ষ থেকে বিয়ের চাপ, পিছু নেওয়া ও হয়রানির ধারাবাহিকতার কথাই উঠে এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৪:৪৯
ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল
ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল, অতঃপর বরখাস্ত

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবল অস্ত্র হাতে ইনস্টাগ্রাম রিল তৈরি করে পোস্ট করার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। কনস্টেবল দীপক বাঙ্গারকে সম্মেলনের সময় মধ্য দিল্লির একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ছাদে স্নাইপার হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। তার পোস্ট করা অন্তত দুটি ভিডিও পুলিশের নজরে আসার পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ।    দীপক বাঙ্গার দিল্লি পুলিশের উত্তর-পশ্চিম জেলার ফরেনার্স সেলের সদস্য। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের অবস্থানের জন্য নির্ধারিত একটি হোটেলের ছাদে তাকে স্নাইপার ডিউটিতে রাখা হয়েছিল। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনকে ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।    পুলিশের কাছে আসা ভিডিওগুলোর একটিতে বাঙ্গারকে সিভিল পোশাকে দেখা যায়। তার গায়ে ছিল ব্রিকস সম্মেলনের পরিচয়পত্র এবং কোমরে ছিল সার্ভিস পিস্তল। আরেকটি ভিডিওতে তাকে হোটেলের ছাদ থেকে স্নাইপার রাইফেলের স্কোপ দিয়ে তাকাতে দেখা যায়। ভিডিওতে আশপাশের ভবন ও স্থাপনাও দৃশ্যমান ছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্যের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে উচ্চ নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় অস্ত্র, নিরাপত্তা অবস্থান ও আশপাশের এলাকার দৃশ্য ধারণ করে প্রকাশ করার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।   দিল্লি পুলিশ পরে বাঙ্গারকে ব্রিকসের নিরাপত্তা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করে। তাকে উত্তর-পশ্চিম জেলায় ফিরিয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওগুলো কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ ও পোস্ট করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভিডিও ধারণের সময় তিনি ঠিক কোন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ ও অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কারণে নয়াদিল্লিতে সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল বিশেষভাবে জোরদার। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি দিল্লি পুলিশের জন্য আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৪:৩৩
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। সেটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তা ভূপাতিত করে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে পড়ে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    আল-মালিকি এই ঘটনাকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও ওমরাহ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।    তবে হুতি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা, তাইফসহ কয়েকটি এলাকাও সতর্কতার আওতায় ছিল। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। তাই নগরীর আকাশসীমার কাছাকাছি এমন কোনো সামরিক ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে।    মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দুই পক্ষের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র নগরী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৩:৩০
মৃত মাকে এআই দিয়ে তৈরি করে কথা বলি
‘মৃত মাকে এআই দিয়ে তৈরি করে কথা বলি’, শোক পালন বদলে দিচ্ছে ‘এআই ঘোস্ট’ ও ডেথস্লপ

মৃত প্রিয়জনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের মতো কথা বলা ‘গ্রিফবট’ তৈরি করছেন কিছু মানুষ। শোক সামলানোর এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কারও কাছে সাময়িক সান্ত্বনার মাধ্যম হলেও, এটি মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এআইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের একটি ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রাখার এই নতুন প্রবণতা।   গ্রিফবট তৈরি করতে ব্যবহারকারীরা মৃত স্বজনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্বভাব ও মূল্যবোধের তথ্য এআই সিস্টেমে দেন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় একটি ডিজিটাল চরিত্র, যার সঙ্গে ব্যবহারকারী কথোপকথন করতে পারেন। সিয়াঁস, রিমেমোরি ও ভারসোনার মতো কিছু সেবা ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সাধারণ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেও মৃত স্বজনের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার চেষ্টা করা সম্ভব।   এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। ভারসোনার প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন হ্যারিসন তাঁর মায়ের অসুস্থতার সময় এআই প্রতিরূপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মা জীবিত থাকতেই সেটি দেখেছিলেন এবং এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি মাঝে মাঝে ওই বটের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত সান্ত্বনা ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়।   তবে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া সম্ভব হয় না। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডারের গবেষক জ্যাক ম্যানিং ডিজিটাল শোক ও এআইভিত্তিক ‘জেনারেটিভ ঘোস্ট’ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের বোন কিশোর বয়সে মারা যান। ম্যানিং বলেন, বোনের স্পষ্ট সম্মতি না থাকায় তিনি নিজে কোনো জেনারেটিভ ঘোস্ট ব্যবহার করেননি। তাঁর আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন কিছু বলতে পারে যা মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত্ব বা স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এদিকে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এআই তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও গানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই ধরনের কনটেন্টকে ‘ডেথস্লপ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে ঘিরেও এআই দিয়ে তৈরি গান ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ‘ফেক এআই’ কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এসব কনটেন্ট পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   প্রযুক্তিটির আইনগত ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের এআই অবতার মৃত্যুর পর ব্যবহারের অনুমতি দেবেন কি না, সেটি এখনো সাধারণ কোনো প্রক্রিয়ার অংশ নয়। ফলে কারও মৃত্যুর পর তাঁর কণ্ঠ, ছবি বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে এআই চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।   তবে এআই দিয়ে শোক সামলানোর ব্যবহার এখনো সীমিত। জুনে প্রকাশিত এমপ্যাথির এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তারা মেমোরিয়াল অ্যাপ বা গ্রিফবটের মতো ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভর করেছেন। তবে যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, তাদের ৮৮ শতাংশ এটিকে সহায়ক বলে জানিয়েছেন।   শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য সতর্কতার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যান উলফসন মনে করেন, শোকের সময় মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মানুষকে প্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না।   ফলে গ্রিফবট নিয়ে বিতর্ক শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার অধিকার, মৃত ব্যক্তির সম্মতি এবং শোকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই যখন মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্কের আরও গভীরে প্রবেশ করছে, তখন এই প্রযুক্তি সান্ত্বনার মাধ্যম হবে, নাকি বাস্তব মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল করবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৩:২৩