- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা ও ক্রিমসন এডুকেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেমি বিটনের শিক্ষাজীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি খুব অল্প বয়সেই হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল ও অক্সফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁর ব্যতিক্রমী একাডেমিক যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। বিটন ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাগনা কাম লডে স্নাতক হন। একই সময়ে তিনি অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিকসে মাস্টার্স ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন বছরে এই পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি রোডস স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক পলিসি নিয়ে ডিফিল করেন। এরপর তাঁর শিক্ষাজীবনে যোগ হয় আরও কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি এমবিএ করেন। ইয়েল ল স্কুল থেকে অর্জন করেন জুরিস ডক্টর বা জেডি ডিগ্রি। অক্সফোর্ডে রোডস স্কলার হিসেবে পাবলিক পলিসিতে ডিফিল সম্পন্ন করেন। রোডস ট্রাস্টের জীবনী অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল অনলাইন লার্নিং ও পাবলিক পলিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়। তবে এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন সময়ে সরাসরি ক্যাম্পাসে এবং অনলাইনে পড়াশোনা করে আরও একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন বিটন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে এডুকেশন এন্ট্রাপ্রেনারশিপ, স্ট্যানফোর্ড থেকে এডুকেশন, প্রিন্সটন থেকে ফাইন্যান্স, কর্নেল থেকে হেলথ পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিকস, ডার্টমাউথ থেকে ইমপ্লিমেন্টেশন সায়েন্স, কিংস কলেজ লন্ডন থেকে ওয়ার স্টাডিজ এবং বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স। সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিটি তিনি শোয়ার্জম্যান স্কলার হিসেবে সম্পন্ন করেন। তাঁর একাডেমিক প্রোফাইলে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন, পেনসিলভানিয়া, সিংহুয়া এবং কিংস কলেজ লন্ডনের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জীবনীতে তাঁর ডিগ্রির তালিকায় কিছু পার্থক্য থাকলেও একাধিক সূত্র তাঁর এই বিস্তৃত শিক্ষাজীবনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিটনের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোক্তা পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি ক্রিমসন এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউটরিং এবং ক্যারিয়ার মেন্টরশিপ নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর এই শিক্ষাযাত্রা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয় কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি ক্লাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাসে বিটনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ধরন দেখে অধ্যাপক লিসা বেলকিন তাঁর পরিচয় সম্পর্কে জানতে গিয়ে তাঁর বিস্তৃত একাডেমিক পটভূমির সন্ধান পান। এরপরই সামনে আসে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে তাঁর একের পর এক ডিগ্রি অর্জনের গল্প। জেমি বিটনের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরামর্শ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাধিক ডিগ্রিধারী হয়ে ওঠেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী একাডেমিক পথ এখন উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত কিছু মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকের তুলনায় এখনো খুবই ছোট একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সাধারণ কোনো প্রশাসনিক ফরম পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিককে সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয়। এরপর পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন অনুমোদন করে Certificate of Loss of Nationality বা CLN ইস্যু করলে নাগরিকত্ব হারানোর বিষয়টি কার্যকর হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত সাধারণত চূড়ান্ত এবং এটি সহজে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। CLN ইস্যু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন না। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে চাইলে অন্য বিদেশি নাগরিকের মতো তাকে নতুন করে ন্যাচারালাইজেশনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। নাগরিকত্ব ত্যাগের সঙ্গে কর ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগকারী ব্যক্তি ‘কভার্ড এক্সপ্যাট্রিয়েট’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এর ক্ষেত্রে আগের পাঁচ বছরের ফেডারেল ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়কর দায় অথবা ২০ লাখ ডলার বা তার বেশি নেট ওয়ার্থের মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার পর সম্পদের ওপর বিশেষ এক্সপ্যাট্রিয়েশন ট্যাক্সের বিধানও রয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও এ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদেশে বসবাস করলেও মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিক ও অন্যান্য করদাতারা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফেডারেল ট্যাক্স রিপোর্ট করেন। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক হারে মানুষ বেরিয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বাইরে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। একইভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় খুবই কম। নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি, বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা, কর-সংক্রান্ত জটিলতা এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়সহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট কারণকে সামগ্রিক প্রবণতার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত সরকারি তথ্য নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বিদেশে বসবাসকারী কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা বিবেচনা করলে সংশ্লিষ্ট আইনি ও কর-সংক্রান্ত পরিণতি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের ঘোষিত ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পর শেষ ধাপে গিয়ে সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, বিমানভাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা বলা হলেও তাদের হাতে আসা অফার লেটারে এসবের বড় অংশের উল্লেখ নেই। ফলে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও এখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোরের আওতায় ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উচ্চশিক্ষা কমিশন বা এইচইসির তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিগুলো আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের আওতায় দেওয়ার কথা। এর এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসাশিক্ষায় দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল। পাকিস্তানের এইচইসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিটি পূর্ণ অর্থায়িত এবং এর আওতায় টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, হোস্টেল ও মেসের খরচ, সেটেলমেন্ট অ্যালাউন্স, বিমানভাড়া এবং বই ও স্টেশনারির খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। এই তথ্য এখনো এইচইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৃত্তির বিবরণে রয়েছে। তবে মাস্টার্সে নির্বাচিত কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অভিযোগ, দীর্ঘ আবেদন, পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে পাওয়া অফার লেটারে ঘোষিত সুবিধাগুলোর সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফার লেটারে শুধু টিউশন ফি ও আবাসন ফি মওকুফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাসিক ভাতা, খাবার, যাতায়াত, বিমানভাড়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ নিজেদের বহন করতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আবেদন করার সময় তারা যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছিলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের সম্মতি ছাড়াই সেই পছন্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে যারা পূর্ণ অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এখন নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মাসিক ভাতা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচ না থাকলে বিদেশে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এদিকে পাকিস্তানের এইচইসি জানিয়েছে, নলেজ করিডোরের আওতায় দেওয়া বৃত্তি সম্পূর্ণ অর্থায়িত। তাদের প্রকাশিত শর্তে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট এইচইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। ২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এইচইসি জানিয়েছিল, প্রথম ধাপে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন। প্রকৌশল, মেডিকেল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা ভর্তি হয়েছেন। নলেজ করিডোরের দ্বিতীয় ধাপও ২০২৬ সালে চালু করা হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপোর মাধ্যমে ২০টি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলে ধরে। ওই সময়ও ৫০০টি ফুললি ফান্ডেড আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের কথা প্রচার করা হয়। ফলে ঘোষিত সুবিধা ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা অফার লেটারের শর্তের মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগটি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। কারণ, সরকারি বৃত্তির প্রকাশিত শর্তে যে সুবিধাগুলোকে পূর্ণ অর্থায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো চূড়ান্ত অফার লেটারে কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেটিই এখন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রশ্ন। আপাতত এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।
সৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স বাহিনী ধ্বংস করে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোট জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি বাধা দেওয়া হয়। এটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এমন প্রচেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগও করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই ঘটনার পর এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আল-মালিকি। মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সেখানে যান। সৌদি জোটের মুখপাত্র বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সৌদি দাবিকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মক্কা বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি সত্য নয়। ফলে ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ঘটনার আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইরানঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের একাধিক হামলার পর সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে, যার মধ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও রয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব সৌদি আরবের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়ছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নৌপথ বিশ্ব বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের টুইন সিটিজ এলাকায় অলিনা হেলথের দুটি হাসপাতালে প্রায় ১৫০ জন ইউনিয়নভুক্ত চিকিৎসক সোমবার চার দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন। কুন র্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল এবং ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসে কর্মরত এসব চিকিৎসকের এই কর্মবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের হাসপাতাল চিকিৎসকদের প্রথম ধর্মঘট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ইউনিয়ন ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ বলছে, দীর্ঘদিনের চুক্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কর্মপরিবেশ, রোগীসেবায় চিকিৎসকদের ভূমিকা এবং কর্মীদের অধিকার নিয়ে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ছুটির সুযোগের অভাব চিকিৎসকদের বার্নআউট বাড়াচ্ছে। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ সরাসরি রোগীসেবার মানের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তারা শুধু বেতন ও বেনিফিট নয়, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের আরও বেশি মতামতের সুযোগ, পেইড সিক ডে এবং ছুটির মতো বিষয়েও চুক্তিতে সুরক্ষা চান। মার্সি হাসপাতালের কুন র্যাপিডস ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসের চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্ব করছে ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ। ইউনিয়নটি ২০২৪ সালের শুরুতে স্বীকৃতি পেলেও চিকিৎসকদের প্রথম চুক্তি নিয়ে অলিনা হেলথের সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে আলোচনা চলছে। জুনে ইউনিয়নের সদস্যদের ৯১ শতাংশ ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দেন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের নোটিশ দিয়ে জানায়, ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি হবে। এই ইউনিটে হাসপাতালিস্ট, অবসটেট্রিকস ও গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ, সাইকিয়াট্রিস্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় রোগীসেবার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চিকিৎসকদের মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। অলিনা হেলথ অবশ্য চিকিৎসকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইউনিয়নটি দুই হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের সবাই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন না। ধর্মঘটের সময় রোগীসেবা চালু রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, কুন র্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাস স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং রোগীদের সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটার কথা নয়। অলিনা হেলথ আরও বলেছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। তবে বেতন ও বেনিফিট নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তে থাকা ব্যয়, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্লেইম প্রত্যাখ্যানের চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন চুক্তির প্রভাব রোগীসেবার খরচ ও ভবিষ্যতে সেবার প্রাপ্যতার ওপরও পড়তে পারে। ধর্মঘটটি এমন সময়ে শুরু হয়েছে, যখন অলিনা হেলথের প্রায় ৬০ জন হসপিস নার্সও আলাদা শ্রম বিরোধে কর্মসূচিতে রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের ধর্মঘট হাসপাতালের নার্সদের ওই কর্মসূচি থেকে আলাদা। চিকিৎসকদের চার দিনের কর্মবিরতি শেষ হওয়ার কথা ১৭ সেপ্টেম্বর। এদিকে অলিনা হেলথ ও ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সাটার হেলথের মধ্যে সম্ভাব্য অধিগ্রহণ চুক্তির বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। মিনেসোটার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসকদের ইউনিয়নভিত্তিক শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে চিকিৎসকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত ছুটি, কাজের পরিবেশ এবং রোগীসেবার সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক চাপের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ধর্মঘট চলাকালে রোগীসেবায় বাস্তবে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটিও এখন দুই পক্ষের দাবির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় কম আয়ের পরিবারের শিশুদের ডে-কেয়ার খরচে সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা লাইসেন্সধারী বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার দাবি করে শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে ভুয়া তথ্য জমা দিয়ে সরকারি ভর্তুকির অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ২৫০ জনের বেশি ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। সান দিয়েগোর বিভিন্ন এলাকায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি করা ১২টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে ১২ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিক হওয়া ব্যক্তি এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাও রয়েছেন। বিচার বিভাগের নথিতে অভিযুক্তদের আদি দেশ হিসেবে সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, আফগানিস্তান ও ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি নথিতে অভিযুক্তদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার পাশাপাশি আদি দেশের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো মূলত সরকারি শিশু পরিচর্যা ভর্তুকির অর্থ নিয়ে কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব অভিযোগ এখন আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্স নেন এবং শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএর মাধ্যমে পরিচালিত সরকারি ভর্তুকি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হন। এসব কর্মসূচির আওতায় যোগ্য কম আয়ের পরিবারগুলো শিশুদের জন্য অনুমোদিত ডে-কেয়ার সেবা নিতে পারে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রদানকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য ডে-কেয়ার পরিচালকদের প্রতি মাসে কোন শিশু কোন দিন এবং কতক্ষণ তাদের তত্ত্বাবধানে ছিল, তার সঠিক উপস্থিতির হিসাব জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফেডারেল কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা শিশুদের উপস্থিতির হিসাব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য জমা দেন এবং সেগুলো সঠিক বলে শপথের আওতায় ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা নজরদারি ভিডিও, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্ত পারাপারের তথ্যসহ বিভিন্ন নথি যাচাই করে এসব হিসাবের সঙ্গে অসঙ্গতি পান। বিচার বিভাগের দেওয়া একটি উদাহরণে বলা হয়েছে, আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে যথাক্রমে ২৩ ও ২৫ শিশুকে নিয়মিত সেবা দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু ৫৭ দিনের নজরদারি ভিডিওতে তার ডে-কেয়ারে শিশু প্রবেশ বা বের হওয়ার ঘটনা মাত্র একদিন দেখা যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই দিনই একজন অঙ্গরাজ্য পরিদর্শক আকস্মিক পরিদর্শনে সেখানে গিয়েছিলেন। আরেক অভিযুক্ত তুরকিয়া মামদুহ আলাওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, সীমান্ত পারাপারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যান এবং প্রায় ৩০ দিন পর ফিরে আসেন। কিন্তু বিদেশে অবস্থানের সময়ও তিনি ডে-কেয়ার সেবা দেওয়ার উপস্থিতির হিসাব জমা দিয়েছেন বলে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে তার হিসাবে মোট ১৪ হাজার ৯৭০ ডলারের আটটি অর্থ জমা হয় বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযুক্ত কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ধরে সরকারি কর্মসূচি থেকে কয়েক লাখ ডলার করে পেয়েছেন। ব্যক্তিভেদে কথিত অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ১২ লাখ ডলারের মধ্যে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৫ সালেই সান দিয়েগো কাউন্টি, শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিযুক্তের ক্ষেত্রে মোট অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। মামলাটির তদন্তে ফেডারেল ও স্থানীয় একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠনের পর এটি তাদের প্রথম দিকের বড় ধরনের পদক্ষেপগুলোর একটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত বৈদ্যুতিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ১২ অভিযুক্তকেই আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রতলে বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপার উপস্থিতি থাকা একটি বড় খনিজভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা গবেষকেরা। চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পরিচালিত ১৮ দিনের এক সমুদ্র অভিযানে উচ্চ তাপমাত্রার হাইড্রোথার্মাল এলাকায় এই খনিজভান্ডারের সন্ধান মেলে। চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি, সাংহাই জিয়াও থং বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। গবেষণা জাহাজ শিয়াং ইয়াং হং ১০ গত ১০ আগস্ট শেনজেন থেকে যাত্রা করে। অভিযানের সময় গবেষকেরা সাবমার্সিবল ব্যবহার করে সমুদ্রতলে সাতবার ডুব দেন। গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সমুদ্রতল থেকে সংগ্রহ করা কিছু আকরিকের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৪ গ্রাম সোনা এবং ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রুপা রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, কিছু নমুনায় সোনা ও রুপার ঘনত্ব স্থলভাগের অনেক খনিজভান্ডারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে। তবে এগুলো প্রাথমিক নমুনা বিশ্লেষণের ফল এবং পুরো এলাকার মোট মজুত নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অভিযানে সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির তিনটি বড় খনিজ স্তর শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো মূলত হাইড্রোথার্মাল তরল থেকে তৈরি সালফাইডের স্তর। এ ধরনের খনিজভান্ডারে সাধারণত তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি সোনা ও রুপা পাওয়া যায়। নতুন আবিষ্কৃত এলাকায় এসব ধাতুর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে গবেষকেরা আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। চীনা গবেষকদের দাবি, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওই ব্যাক-আর্ক অববাহিকায় থাকা পলিমেটালিক সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজভান্ডারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। গবেষণা দলের বিজ্ঞানী সং শিজির মতে, আবিষ্কৃত বিশাল সমুদ্রতলীয় খনিজ এলাকার অর্থনৈতিক মূল্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তবে এই আবিষ্কারকে এখনই বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য সোনার খনি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে খনিজ উত্তোলন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে খনন কার্যক্রমের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। সমুদ্রতলের এসব এলাকায় বিশেষ ধরনের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য থাকায় ভবিষ্যতে খনন শুরু হলে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন হবে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খনিজভান্ডারটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। গবেষকদের এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের খনিজসম্পদ নিয়ে বৈশ্বিক আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে এর কিছুক্ষণ আগেই প্রাণঘাতী একটি বাস দুর্ঘটনার ঘটনা যেখানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য হেলিকপ্টারটি আকাশে ছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি দুটি বাণিজ্যিক ভবনের মাঝের একটি এলাকায় পড়ে আগুন ধরে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। আরও একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফায়ার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে নর্থ মেসন অ্যাভিনিউয়ের ৯১০০ ব্লকে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সেটি দুটি বাণিজ্যিক ভবনের মাঝের একটি পার্কিং এলাকায় পড়ে। দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশে থাকা কয়েকটি গাড়ি ও দুটি বড় মালবাহী কনটেইনারেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৫০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার কাজ করেন। এটি একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার ছিল বলে নিশ্চিত করেছে এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস। দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় একাধিক টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার ছিল। তারা কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া একটি প্রাণঘাতী বাস দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছিল। হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার কিছু পর চ্যাটসওয়ার্থের নর্ডহফ স্ট্রিট ও ডি সোটো অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি এসইউভি লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর একটি বাসে ধাক্কা দেয়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল বাসের ভেতরে আটকে পড়া লোকজনকে বের করতে কাজ করে। সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টারটি ওই বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহের সময় আকাশে ছিল। বাস দুর্ঘটনার স্থান থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয় বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। হেলিকপ্টারটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এর ভেতরে কতজন ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করতে হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। ফায়ারফাইটাররা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তল্লাশি চালান। প্রাথমিকভাবে মাটিতে থাকা একজন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে কর্তৃপক্ষ মোট তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। নিহতদের মধ্যে কতজন হেলিকপ্টারে ছিলেন এবং কতজন মাটিতে ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়নি। হেলিকপ্টারটির দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ, উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য এবং দুর্ঘটনার আগে এর গতিপথসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করবেন। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ঘুমিয়ে সময় কাটানো নয়, এবার ভালো ঘুমই হতে পারে পুরস্কার জেতার উপায়। জাপানের টোকিওতে এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে কোরালা জেপি। ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৯০ মিনিট ঘুমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সবচেয়ে ভালো ঘুমের জন্য বিজয়ী পাবেন ২২২ লাখ ইয়েনের পুরস্কার। প্রতিযোগিতাটি আগামী ৫ অক্টোবর টোকিওর মিনামি আওয়ামার শেয়ার গ্রিন মিনামি আওয়ামা এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগীদের কোরালা ম্যাট্রেসে শুয়ে ঘুমাতে হবে এবং বিশেষ ঘুম পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের ঘুমের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হলো, সেটিই এখানে মূল বিষয় নয়। ঘুম কতটা গভীর ও মানসম্মত ছিল, কত দ্রুত ঘুম এসেছে এবং ঘুম কতটা স্থিতিশীল ছিল, এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রতিযোগীদের জন্য একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’ তৈরি করা হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এই স্কোর নির্ধারণ করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছে। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া প্রতিযোগী হবেন বিজয়ী। তবে প্রতিযোগিতায় জিততে হলে আগে থেকেই সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে আসার সুযোগ নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুম বঞ্চিত থাকা, ঘুমের ওষুধ বা ঘুম আনতে সহায়তা করে এমন ওষুধ ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ প্রতিযোগিতায় দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার সুবিধা নিতে কেউ আগের রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারবেন না। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ ধরনের ‘ঘুমের ব্যায়াম’। এরপর প্রত্যেককে এলোমেলোভাবে একটি করে ঘুম-সংক্রান্ত সামগ্রী দেওয়া হবে। এসব সামগ্রী ঘুমের পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং প্রতিযোগিতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে। এরপর শুরু হবে মূল ৯০ মিনিটের ঘুমের পর্ব। প্রতিযোগীরা যখন ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন আয়োজকেরা পরিকল্পিতভাবে কিছু বিঘ্ন ঘটাবেন। এর মাধ্যমে হঠাৎ কোনো বাধা তৈরি হলেও কে কতটা স্থিরভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, সেটিও যাচাই করা হবে। ফলে শুধু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়াই নয়, পুরো সময়জুড়ে ঘুমের মান ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মূল পুরস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকছে। সবচেয়ে গভীর ঘুমের জন্য ‘ডিপ স্লিপ ডাইভ অ্যাওয়ার্ড’ এবং অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে ঘুমানোর জন্য ‘স্লিপ-টার্নিং অ্যাক্রোব্যাট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রতিযোগিতায় তিনটি পর্ব থাকবে। প্রতিটি পর্বে প্রায় ২০ জন করে অংশ নেবেন এবং প্রতিটি ঘুমের পর্বের সময় ৯০ মিনিট। পুরো আয়োজনটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেই। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর এবং ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। জাপানে ঘুমের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ঘুমকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে এমন একটি আয়োজন, যেখানে শারীরিক শক্তি বা দ্রুততার বদলে প্রতিযোগিতার মূল মাপকাঠি হবে বিশ্রামের মান। কোরালা জেপি জানিয়েছে, ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ তাদের কোরালা ম্যাট্রেসকে ঘিরে আয়োজিত একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক অনুষ্ঠান। আয়োজনটির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ইভেন্ট নির্মাতা আফ্রোম্যান্স। সূত্র: কোরালা জেপি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সংঘাতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ায় সেগুলো পুনরায় পূরণ করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ব্যবহৃত মজুত পুনর্গঠনে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, উৎপাদন বাড়ানো হলেও। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবের মধ্যে যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম, সামরিক উড্ডয়ন, জ্বালানি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিবিও বলছে, সংঘাতের তীব্রতা যদি মে ও জুনের মতো তুলনামূলক কম থাকে, তাহলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। আর জুলাইয়ের মতো সংঘাতের মাত্রা বেড়ে গেলে মাসিক ব্যয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এই ব্যয়ের বড় অংশই গেছে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সিবিওর হিসাব উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহৃত গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলাবারুদের অংশ প্রায় ১৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং স্থলভিত্তিক হামলায় ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্তরের অংশ প্রায় ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সামরিক মজুত নিয়ে প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলাবারুদের ঘাটতি। সিবিওর হিসাবে, ২০২৫ সালের জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট, থাড, এসএম-৩ ও এসএম-৬সহ নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ব্যবহার করে থাকতে পারে। এসব অস্ত্রের প্রকৃত মজুতের সংখ্যা প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রকাশ না করায় সিবিও সরকারি তথ্য ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই হিসাব করেছে। সিবিও বলছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। উৎপাদনের গতি বাড়ানো হলেও এই সময় কমানো কঠিন হতে পারে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের তুলনায় কমসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র মজুত থাকবে। বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত থাকা কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে নতুন সংঘাত তৈরি হলে এই ঘাটতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সিবিওর হিসাবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পেট্রল, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে পড়ছে। জ্বালানি পরিবহন ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর মূল্যবৃদ্ধি অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও পরোক্ষ চাপ তৈরি করছে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ের মূল্যসূচক বা পিসিইভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে করা পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে মূল মূল্যস্ফীতিও একই সময় পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। মূল্যস্ফীতির এই চাপ সুদের হারেও প্রভাব ফেলতে পারে। সিবিওর হিসাবে, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে তিন মাস মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বিলের সুদের হার ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে এই ব্যবধান শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্টের নিচে নেমে আসতে পারে। তবে সিবিও সতর্ক করেছে যে তাদের হিসাবের মধ্যে যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের সম্ভাব্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয় এই হিসাবের বাইরে রয়েছে। কূটনৈতিক কার্যক্রম ও বিদেশি সহায়তার অতিরিক্ত ব্যয়েরও নির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেনি সংস্থাটি। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে আরেকটি সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে সিবিও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের তথ্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। ফলে সিবিওকে সরকারি বিভিন্ন তথ্যভান্ডার ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এ কারণে সামরিক ব্যয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। সিবিওর এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের একটি পৃথক প্রতিবেদনে যুদ্ধের ব্যয় ও সামরিক মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে ২৯ জুন পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যয় প্রায় ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুতে কৌশলগত ঘাটতির কথাও বলা হয়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ যুদ্ধের কারণে দেশটির সামরিক সক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেছে এমন দাবির সঙ্গে একমত নয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় ও স্থানে হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। জুলাইয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। নতুন সিবিওর হিসাব সেই সংখ্যার কাছাকাছি। সিবিওর প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানির দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত অব্যাহত থাকলে সামরিক ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনও দীর্ঘমেয়াদি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে। সূত্র: কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (CBO), রয়টার্স।
নিউইয়র্কে ইউটিলিটি বিলের খরচ কমাতে নতুন করে প্রায় ২৫ লাখ পরিবারের জন্য ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা এসেছে। স্টেটের সম্প্রসারিত এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক ইউটিলিটি বিলের ওপর ছাড় পেতে পারে। আয় ও পরিবারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বছরে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই কর্মসূচিতে আরও বেশি পরিবারকে যুক্ত করতে রাজ্যব্যাপী নতুন এনরোলমেন্ট উদ্যোগের ঘোষণা দেন। স্টেটের হিসাবে, প্রায় ১০ লাখ পরিবার ইতোমধ্যে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের সুবিধা পাচ্ছে। নতুন করে আরও প্রায় ২৫ লাখ পরিবার এই মাসিক ইউটিলিটি বিল ছাড়ের জন্য যোগ্য হতে পারে। তবে এই সুবিধাকে সবার জন্য নিশ্চিত ৫০০ ডলারের নগদ সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত ইউটিলিটি বিলের ওপর মাসিক ছাড়। পরিবারের আয় অনুযায়ী ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারিত হবে এবং কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যোগ্য পরিবারের বার্ষিক আয়ের তুলনায় সাধারণ ইউটিলিটি খরচ ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা। ২০২৬ সালে কর্মসূচিটির যোগ্যতার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে স্টেট বা সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের নিচে থাকা আরও অনেক পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। ফলে আগে যোগ্য না থাকা কিছু পরিবারও এখন ইউটিলিটি বিলের ছাড়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, কিছু পরিবার অন্য সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে থাকার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিটি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ, মেডিকেইড, সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই, ফেডারেল পাবলিক হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স এবং ভেটেরান্সের নির্দিষ্ট সুবিধার মতো কর্মসূচি রয়েছে। তবে কোন কর্মসূচির সুবিধাভোগী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবেন আর কাদের নিজে অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে, তা প্রোগ্রাম ও ইউটিলিটি কোম্পানির নিয়মের ওপর নির্ভর করে। যারা ইতোমধ্যে হিপের সুবিধা পান, তারা নিজেদের ইউটিলিটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিটি প্রোগ্রামে অ্যাকাউন্টটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারেন। অন্যদিকে আয়ভিত্তিক যোগ্য গ্রাহকরা সরাসরি তাদের ইউটিলিটি কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় ও যোগ্যতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। নির্দিষ্ট কাগজপত্র ইউটিলিটি কোম্পানি ও আবেদনকারীর যোগ্যতার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ইউটিলিটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেটের হিসাবে, নতুন ও পুরোনো সুবিধাভোগী মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় মাসিক ইউটিলিটি বিল ছাড় পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। যোগ্য পরিবারগুলো এখনই তাদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারে।
তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর মারদিন ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক শায়েভন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘আবদুল্লাহ’ নাম বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়। দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের মারদিন শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বহু শতাব্দীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শহরটিতে আসা শায়েভন ইসলাম সম্পর্কে জানার পর নিজ ইচ্ছায় মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। পরে শায়েভনের জন্য আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ে ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরতুকলু জেলা মুফতি সুলেমান বারান উপস্থিত ছিলেন এবং ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়। এরপর শায়েভন কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন এবং মুসলিম হন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবদুল্লাহ নামটি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুফতি সুলেমান বারান তাঁর হাতে পবিত্র কোরআনের একটি কপি তুলে দেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নাম গ্রহণের পর শায়েভন মুফতি বারানের সঙ্গে আলিঙ্গন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। মারদিন তুরস্কের এমন একটি শহর, যার স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিভিন্ন সভ্যতার প্রভাব রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। শায়েভনের ইসলাম গ্রহণের খবরটি মারদিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ তৈরির নির্দিষ্ট কারণ বা কতদিন ধরে তিনি এ বিষয়ে জানাশোনা করছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের পিওরিয়ায় পরিবারের বাড়ির বাইরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাড়িতে কয়েক ঘণ্টা থাকার পর ৫ বছরের থিও সাবোর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে প্রায় ৫০ জন অতিথি নিয়ে পারিবারিক আয়োজন চলছিল। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা মিহাইল সাবো ও আনকা সাবোকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ১৩ সেপ্টেম্বর, রোববার। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা গির্জায় অন্য এক সন্তানের বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দুপুর ১টার দিকে পিওরিয়ার বাড়িতে ফেরেন। এরপর বাড়িতে পারিবারিক আয়োজন চলতে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, থিওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে শিশুটির মা আনকা সাবো বাড়ির বাইরে থাকা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থিওকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা তাকে গাড়ি থেকে বের করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিন পিওরিয়া এলাকায় তাপমাত্রা ১০৫ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি উঠেছিল। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ফিনিক্স এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিশুটিকে গাড়িতে কীভাবে এতক্ষণ রেখে দেওয়া হলো, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কে শিশুটিকে গাড়ি থেকে বের করে আনবেন, তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আদালতে পরিবারের আইনজীবী লিয়া ডডের বক্তব্য অনুযায়ী, থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনার দায়িত্ব প্রথমে বাবার ওপর থাকার কথা ছিল। পরে মিহাইল সাবো তাঁদের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনতে বলেছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেন। তবে আদালতে ওই কিশোর জানায়, তাকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তার মনে নেই। এই বক্তব্যের কারণে ঘটনার দায়িত্ব কার ওপর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটির অনুপস্থিতি বুঝতে পারেন। এরপর খোঁজাখুঁজির সময় গাড়ির ভেতর তাকে পাওয়া যায়। থিওর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা মিহাইল ও মা আনকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ করেনি এবং মামলার কিছু নথি আদালতের নির্দেশে গোপন রাখা হয়েছে। সোমবার মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে পৃথক শুনানিতে হাজির হন থিওর বাবা-মা। শুনানির সময় আনকা সাবো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান। তাঁর আইনজীবী আদালতে বলেন, শিশুটিকে গাড়িতে পাওয়া যাওয়ার পর আনকাই জরুরি নম্বরে ফোন করেন, জীবন রক্ষার চেষ্টা করেন এবং তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেন। আইনজীবী লিয়া ডড আরও বলেন, ঘটনাটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি অভিযোগ করেন, অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এ ঘটনায় প্রযোজ্য নয়। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়িতে ছিল এবং ওই পুরো সময় বাবা-মা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতেন না। আদালত মিহাইল ও আনকা সাবোর প্রত্যেকের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের অন্য চার সন্তানের সঙ্গে তত্ত্বাবধানে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই চার সন্তানের বয়স ৯, ১৪, ১৫ ও ১৮ বছর। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দম্পতির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাঁরা প্রায় ১৯ বছর ধরে বিবাহিত এবং ২০১১ সাল থেকে অ্যারিজোনায় বসবাস করছেন বলে তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন। পরিবারের প্রতিবেশীরাও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দম্পতিকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির ক্ষতি করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না বলে জানিয়েছেন। অ্যারিজোনায় প্রচণ্ড গরমের কারণে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরে থাকা তাপমাত্রার তুলনায় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। পিওরিয়া পুলিশের কর্মকর্তা উইলিয়াম কেনেডি পরিবারগুলোর প্রতি গাড়ি থেকে নামার আগে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পোষা প্রাণী কেউ ভেতরে রয়ে গেছে কি না তা নিশ্চিতভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কিডস অ্যান্ড কার সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে অ্যারিজোনায় গরম গাড়িতে অন্তত ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের গাড়িতে রেখে না যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি থেকে নামার পর শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়। থিওর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। মিহাইল ও আনকা সাবো আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে আবার হাজির হবেন। পরবর্তী শুনানিতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এজেডফ্যামিলি, কেজেডজেড, পিওরিয়া পুলিশ বিভাগ।
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে নতুন করে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে সমাবেশ করতে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের আটক করা হয়। এর একদিন আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী, সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। মঙ্গলবারের সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আগের অভিযানে আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এলজিবিটিকিউ হওয়া অপরাধ নয়’ লেখা একটি ব্যানারও প্রদর্শন করেন। এরপর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। তুরস্কের সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক অভিযানকে ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামে একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও তাদের সংগঠনগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশে এলজিবিটিকিউ সংগঠনের কার্যালয়, সমকামীদের জন্য পরিচালিত বার এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কিছু সংগঠন ও গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবেও প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ অভিযানের আওতায় ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, নয়টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনি কার্যক্রম চলছে। ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আইদিন ও মেরসিনের প্রধান কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে। তুরস্ক সরকার এসব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে যৌন ব্যবসায় সহায়তা, অশ্লীল উপকরণ তৈরি বা বিতরণ এবং শিশুদের এ ধরনের উপকরণের সংস্পর্শে আনার অভিযোগও রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলজিবিটিকিউ সংগঠনগুলোর বিদেশি ও সরকারি উৎস থেকে পাওয়া অর্থায়ন নিয়েও তদন্তের কথা বলা হয়েছে। তবে এই অভিযানের পর ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও’ফ্লাহার্টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এলজিবিটিকিউ নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব বন্ধের প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানান। ও’ফ্লাহার্টি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার নিয়ে কাজ করা বা বৈষম্যহীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিজে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পরিচয়, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা বৈধ অর্থায়ন পাওয়ার কারণে নয়, বরং স্বীকৃত অপরাধের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও আটক হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, বিচারিক পর্যালোচনা এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেকোনো বিধিনিষেধ আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তুরস্কে সমলিঙ্গের সম্পর্ক নিজে অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তবে দেশটিতে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং জনসংখ্যা ও পারিবারিক মূল্যবোধের আলোচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক অভিযানের পর অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু এখন আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কর্মকাণ্ডে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না। ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকার, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: বিবিসি, ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয়, এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মনমাউথে স্মিথফিল্ড ফুডসের মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় এক কর্মীর মৃত্যুর পর কাজ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন প্রায় ১০০ শ্রমিক। কর্মীদের দাবি, মৃত্যুর ঘটনা জানার পরও সেদিন উৎপাদন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে। স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানায় কর্মরত এক ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রের একটি ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। কোম্পানি পরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মিলে ঘটনার তদন্ত করছেন। নিহত কর্মীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসি জানিয়েছে, সোমবার ভোরে প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে কর্মীদের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে কারখানায় সেদিন কাজ শুরুতে দেরি হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মীরা কারখানায় পৌঁছে জানতে পারেন, সেখানে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কারখানার এক কর্মী কেডব্লিউকিউসিকে জানান, কর্মীরা তখন স্বাভাবিকভাবে কাজে না গিয়ে মধ্যাহ্নভোজের কক্ষে জড়ো হন। সেখানে কয়েকজনকে কাঁদতে এবং অন্যদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় বলে তিনি জানান। ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মীদের একাংশ কারখানার ব্যবস্থাপকের কাছে প্রশ্ন তোলেন, মৃত্যুর ঘটনার পরও কেন তাঁদের কাজে থাকতে হবে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাজ বন্ধ রাখার দাবিও জানান। ব্যবস্থাপক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান বলে ওই কর্মী দাবি করেন। তবে কর্মীদের দাবি, এরপরও সেদিন উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক কর্মী জানান, তিনি তাঁর তত্ত্বাবধায়ককে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে। এরপর তিনি মানবসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে কারখানা থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে আরও অনেক কর্মী কারখানা থেকে বেরিয়ে যান এবং পরে সেটি বড় আকারের কর্মী ওয়াকআউটে পরিণত হয়। ওই কর্মীর হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১০০ জন সেদিন কাজ ছেড়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মীদের একজন বলেন, তাঁদের কাছে ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সহকর্মীর পাশাপাশি তাঁর পরিবার, বন্ধু ও অন্যান্য কর্মীদের প্রতিও যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি বলে তাঁদের মনে হয়েছে। তবে এটি কর্মীদের ব্যক্তিগত বক্তব্য এবং কোম্পানি এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। স্মিথফিল্ড ফুডস পরে জানায়, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া কিংবা চলে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, একজন সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং ঘটনার তদন্তে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে তদন্তে অংশ নিচ্ছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সোমবারের ঘটনাটি একটি কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন, ওএসএইচএ, ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে ওই কর্মী আহত হন এবং মৃত্যুর জন্য ঠিক কী কারণে দায়ী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওই কারখানার এক কর্মী দাবি করেন, মনমাউথ কারখানায় এটি তাঁর জানা মতে চতুর্থ কর্মীর মৃত্যু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের তিনটি মৃত্যু স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। এবারের ঘটনাটিই যন্ত্রপাতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম মৃত্যু বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানাটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্র। বিভিন্ন সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটিকে মনমাউথ এলাকার অন্যতম বড় নিয়োগদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানাটি শূকরের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি শূকরের অন্ত্র বা আবরণজাত পণ্য সরবরাহ করে। ঘটনার পর কর্মীদের ওয়াকআউট এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ, কারখানায় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং উৎপাদন চালুর সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহত কর্মীর নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: কেডব্লিউকিউসি, গ্রে নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ১২ বছরের স্যামুয়েল হেন্ডারসন ১০০টির বেশি পাখির ডাক হুবহু নকল করতে পারেন। নিজের কণ্ঠ, জিহ্বা ও শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি করা তাঁর এসব শব্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দর্শক টেনেছে। ২০২৪ সালে তাঁর স্কুলের প্রতিভা প্রদর্শনীতে পাখির ডাক নকল করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় তাঁর পরিচিতি আরও বেড়েছে। স্যামুয়েল ওকলাহোমার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই পাখি ও প্রকৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। ৪ বছর বয়সে চিড়িয়াখানায় একটি গ্রেট-টেইলড গ্র্যাকলের ডাক নকল করার পর পাখিটি যেন পাল্টা সাড়া দিয়েছিল। সেই ঘটনাই পাখির ডাক শেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় বলে স্যামুয়েল জানিয়েছেন। পরে বাইরে পাখির ডাক শোনা, ইউটিউবের ভিডিও দেখা এবং পাখি শনাক্ত করার বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তিনি একের পর এক ডাক অনুকরণ করতে শেখেন। বর্তমানে স্যামুয়েল ১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর সংগ্রহে ১২০টির বেশি, এমনকি ১৩০টিরও বেশি ডাক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নকল করা ডাকের মধ্যে নর্দার্ন কার্ডিনাল, আমেরিকান রবিন, মর্নিং ডাভ, রেড-টেইলড হক, ব্যার্ড আউল, বাল্ড ঈগলসহ নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে। তাঁর বিশেষত্ব শুধু অনেক পাখির ডাক নকল করতে পারায় নয়। স্যামুয়েলের তৈরি শব্দ এতটাই কাছাকাছি যে কখনো কখনো আশপাশের বন্য পাখিও তার জবাব দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে তাঁকে পাখির ডাক দেওয়ার পর কাছাকাছি থাকা পাখির প্রতিক্রিয়া পেতে দেখা গেছে। তাঁর কিছু নকল ডাক পাখি শনাক্ত করার অ্যাপেও আসল পাখির ডাক হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্যামুয়েল জানান, নতুন কোনো পাখির ডাক শেখার সময় তিনি সেটি বারবার শোনেন। এরপর শব্দটির বিভিন্ন অংশ আলাদা করে বোঝার চেষ্টা করেন এবং নিজের গলা, জিহ্বা ও শ্বাসের ব্যবহার পরিবর্তন করে সেটি তৈরি করার অনুশীলন করেন। তবে সব পাখির ডাক নকল করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব হয় না। কিছু ডাক খুব জটিল বা অতিরিক্ত উচ্চস্বরের হওয়ায় সেগুলো অনুকরণ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন তিনি। পাখির ডাকের প্রতি স্যামুয়েলের আগ্রহ অবশ্য শুধু শব্দ নকল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাখি দেখার সময় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির আচরণ, আবাসস্থল এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করেন। তাঁর প্রিয় পাখির মধ্যে রয়েছে রেজপ্লেনডেন্ট কুয়েটজাল। অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাইয়ের ডাকও তিনি পছন্দ করেন। ২০২৪ সালে স্কুলের একটি প্রতিভা প্রদর্শনীতে স্যামুয়েলের পাখির ডাক নকল করার ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন তাঁর বয়স ছিল ১০ বছর এবং তিনি প্রায় ৫০ ধরনের পাখির ডাক নকল করতে পারতেন। অনুষ্ঠানে তিনি গ্রেট হর্নড আউল, ওয়াইল্ড টার্কি, কানাডা গুজ ও রেড-টেইলড হকের মতো পাখির ডাক নকল করে সহপাঠীদের চমকে দেন। তাঁর মায়ের প্রকাশ করা ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দর্শক পায়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্যামুয়েলের পরিচিতি দ্রুত বাড়তে থাকে। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীর সংখ্যাও কয়েক লাখে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্কুল, স্থানীয় অনুষ্ঠান ও প্রকৃতিবিষয়ক আয়োজনে নিজের প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন। চলতি বছর তাঁর পাখির ডাক নকল করার দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগস্টে আরকানসাসের হট স্প্রিংস কর্তৃপক্ষ জানায়, স্যামুয়েল অক্টোবরের একটি পাখি পর্যবেক্ষণ উৎসবে অংশ নেবেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁকে ১২০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে সক্ষম এক তরুণ পাখিপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ফিলাডেলফিয়া ঈগলসও তাঁকে দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে আমন্ত্রণ জানায়, যেখানে তিনি খেলোয়াড়দের সামনে পাখির ডাক নকল করে দেখান। পাখির শব্দ মানুষের কণ্ঠে নকল করা সহজ নয়। পাখি মানুষের মতো স্বরযন্ত্র ব্যবহার করে না। তাদের শব্দ তৈরির বিশেষ অঙ্গের নাম সিরিংক্স, যা শ্বাসনালির গোড়ায় অবস্থিত। এর সাহায্যে অনেক পাখি অত্যন্ত জটিল ও বৈচিত্র্যময় শব্দ তৈরি করতে পারে। মানুষের রয়েছে ল্যারিংক্স বা স্বরযন্ত্র। ফলে পাখির ডাকের কাছাকাছি শব্দ তৈরি করতে মানুষের কণ্ঠ, জিহ্বা, মুখ ও শ্বাসের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। স্যামুয়েলের এই প্রতিভা তাঁকে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখই করেনি, প্রকৃতি ও পাখি সংরক্ষণ নিয়েও মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর ভবিষ্যৎ আগ্রহ হিসেবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার কথা উঠে এসেছে। পাখির প্রতি নিজের আগ্রহের মাধ্যমে অন্য শিশুদেরও বাইরে গিয়ে প্রকৃতি দেখা ও পাখি সম্পর্কে জানার উৎসাহ দিতে চান তিনি। তাঁর গল্পটি শুরু হয়েছিল ছোট্ট একটি শখ থেকে। কয়েক বছর ধরে পাখির ডাক শুনে, পর্যবেক্ষণ করে এবং অনুশীলন করে সেই শখই এখন অসাধারণ এক দক্ষতায় পরিণত হয়েছে। ১২ বছর বয়সেই ১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করার সক্ষমতা নিয়ে স্যামুয়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ পাখিপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিত একটি নাম। সূত্র: ইয়াহু নিউজ, এবিসি নিউজ, ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটি।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে পাতালরেলের লাইনে উঠে পড়ার পর চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণী ও তাঁর বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে তাঁরা রেললাইনে চলে গেলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে একজনকে সাহায্য করতে অন্যজন লাইনে নেমেছিলেন বলে ধারণা করা হলেও পুরো ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। নিহত দুজন হলেন ২৪ বছর বয়সী মালাইকা চিত্রে ও তাঁর বন্ধু নাভাম কাউল। মালাইকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ডেটনের বাসিন্দা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত। নাভাম নিউ জার্সির সায়রভিলের বাসিন্দা এবং নেপালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান। দুজনই রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের স্প্রিং স্ট্রিট পাতালরেল স্টেশনে। স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ৩টা ১৪ মিনিটে দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের সময় মালাইকা ও নাভাম রেললাইনের ওপর ছিলেন। ট্রেনের চালক তাঁদের দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেন। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনটি তাঁদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষের পর তাঁদের নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রেনটি থামার সময় এর ১০টি বগির মধ্যে চারটি স্টেশনের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কীভাবে দুজন রেললাইনে গেলেন, সেটিই এখন তদন্তের প্রধান বিষয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, নাভাম প্রথমে লাইনে পড়ে যেতে পারেন বা নিজে নিচে নেমে থাকতে পারেন। এরপর তাঁকে সাহায্য করতে মালাইকা লাইনে নেমেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার আগের মুহূর্তের একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুজনকে রেললাইনের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কীভাবে তাঁরা সেখানে পৌঁছেছিলেন বা তার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয় না। ফলে ভিডিওর ভিত্তিতে দুর্ঘটনার পুরো কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা তাঁরা ওই সময় মদ্যপ ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো প্রতিবেদনে মদ বা মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। আত্মহত্যার সম্ভাবনাও তদন্তকারীরা পুরোপুরি বাদ দেননি, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনাস্থলে কোনো আত্মহত্যার নোট পাওয়া যায়নি বলে নিউইয়র্ক পোস্টের সূত্রগুলো জানিয়েছে। মালাইকা ও নাভাম দুজনেরই রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মালাইকা ২০২৪ সালের মে মাসে রাটগার্স-নিউ ব্রান্সউইকের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি নিউ জার্সির একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান একাডিয়া ফার্মাসিউটিক্যালসে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাসংক্রান্ত কাজে যোগ দেন। চলতি বছরের আগস্টে তিনি টেম্পল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসিতে ফার্মেসি বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। নাভাম রাটগার্স বিজনেস স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ২০২৪ সালে অর্থ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক আর্থিক তথ্য ও সংবাদ প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গে আর্থিক তথ্য বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছিলেন। দুজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়েও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ ও গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডোরি ডেভলিন বলেন, দুই সাবেক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জেনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত। নাভামের পরিবার নেপাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসতি গড়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই মালাইকা ও নাভাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তাঁদের পরিচিত মহলে তাঁরা সুপরিচিত ছিলেন। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যু নিউ জার্সির পরিবার, বন্ধু ও সাবেক সহপাঠীদের মধ্যে শোক তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। রেললাইনে দুজন কীভাবে পৌঁছেছিলেন এবং দুর্ঘটনার ঠিক আগে কী ঘটেছিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ইউরোপে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার পারদ আরও একধাপ বেড়েছে। লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথমবারের মতো তাদের আকাশসীমায় কোনো ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা এটি। দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের প্রধান ভিলমান্টাস ভিটকাসকাস জানিয়েছেন, ড্রোনটি সম্ভবত রুশ মিত্র বেলারুশ থেকে প্রবেশ করেছিল এবং ভূপাতিত করার আগে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে লিথুয়ানিয়ার আকাশে ওড়ে। ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল এবং তা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস। সম্প্রতি জার্মানি, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য ন্যাটো মিত্ররাও রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও নাশকতার অভিযোগ করে আসছে। এর পাশাপাশি, ডেনমার্ক অভিযোগ করেছে যে বাল্টিক সাগরে তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার যখন রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিল, তখন সেটিকে লক্ষ্য করে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ‘ফ্লেয়ার’ বা সতর্কতামূলক গোলা ছোড়া হয়। ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। তবে ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন পাল্টা দাবি করেছেন যে ডেনিশ হেলিকপ্টারটি রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক আচরণ করছিল। এই দুই ঘটনা প্রসঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বৃহত্তর আগ্রাসন ও উসকানিরই অংশ। এদিকে, ইউক্রেনেও রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মস্কো তাদের জ্বালানি ও লজিস্টিক খাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জবাবে কিয়েভও পশ্চিম রাশিয়ার সিজরান শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ক্রেমলিন ট্রাম্পের জ্বালানি অবকাঠামোতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘ভালো ধারণা’ বলে উল্লেখ করলেও জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণেই বিশ্বজুড়ে গ্যাস ও ডিজেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।
ভারতের গুজরাটে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর তদন্ত করতে গিয়ে ৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্টের একটি বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডের তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনের সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা এক ক্রেতার যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে গুজরাট পুলিশ। গুজরাট পুলিশের সাইবার তদন্ত শুরু হয় ১০ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাজ্য সরকারের একটি দপ্তরে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়। ওই বার্তায় গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও হুমকির আওতায় আনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে হুমকিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করা হয়। হুমকির ই-মেইলের ডিজিটাল সূত্র অনুসরণ করে তদন্তকারীরা বিহারের ভাগলপুরে পৌঁছান। সেখানে রোশন কুমার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যে তথ্য দেন, তার ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর থেকে গুলশন কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গুলশন দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে অন্যদের কাছে সরবরাহ করছিলেন। তদন্তে উদ্ধার হওয়া ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্ট সরকারি অফিস, স্কুল, কলেজ ও আদালতে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে ব্যবহারের জন্য তৈরি ও সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে উদ্ধার হওয়া সব অ্যাকাউন্ট বাস্তবে বোমা হামলার হুমকিতে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এই তদন্তে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে গুজরাট পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশে থাকা একজন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। ওই ব্যক্তি জিমেইল অ্যাকাউন্টের কয়েকটি চালান কিনেছিলেন এবং ভুয়া হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠাতে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এসব লেনদেনের কিছু অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার নাগরিকত্বও প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত ভারতের পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সম্ভাব্য আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক জিমেইল অ্যাকাউন্ট কীভাবে তৈরি ও পরিচালনা করা সম্ভব হলো। গুজরাট পুলিশের সাইবার অপরাধ কর্মকর্তা বিবেক ভেদার মতে, উদ্ধার হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রতিটিতেই দুই ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল। এত বড় পরিসরে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে গিয়ে কীভাবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটিও এখন তদন্তের অংশ। এই ঘটনায় গুগলকেও তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে গুজরাট পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে চান, কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালিত হলো এবং গুগলের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলো। পুলিশ গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়। গুগলের পক্ষ থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে গুজরাট পুলিশ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্টের উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সাইবার অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার ওলনি এলাকার একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে চলা দীর্ঘ তদন্তে এবার নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তদন্তে ওই বাড়ির সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচজন নারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ফিলাডেলফিয়া পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিভিআই জানিয়েছে, নিখোঁজ ওই নারীদের মধ্যে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন নিকোল ফুসারো, যিনি ২০১৮ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেল জানিয়েছেন, তদন্তের এই পর্যায়ে চলতি সপ্তাহেই নতুন কোনো বড় আপডেট আসতে পারে। মূলত ৪৪ বছর বয়সী ইউজিন হর্শের বাড়িকে কেন্দ্র করেই গত জুন মাস থেকে এই ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নিখোঁজ অন্য নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, যিনি ২০১২ সালে ২২ বছর বয়সে নিখোঁজ হন এবং মারিবেল ফ্রেসেস, যিনি ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। গত মাসে পুলিশ জানিয়েছিল যে, তদন্তে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে ওই দুই নারীকে দেখা গেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা আর বেঁচে নেই। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই রহস্যময় ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে নিখোঁজ হওয়া ৩৫ বছর বয়সী ব্লেয়ার টনজেলির অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে। ইউজিন হর্শকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে টনজেলির নাম লেখা একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, হর্শই তাকে ওই আইডি কার্ডটি দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া ৪৪ বছর বয়সী অ্যামি ম্যাকহেলকেও সর্বশেষ এই বাড়িতেই দেখা গিয়েছিল বলে তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। ম্যাকহেল ছিলেন ইউজিন হর্শের প্রয়াত বাবা রেমন্ড হর্শের স্ত্রী। তদন্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন রেমন্ড হর্শ। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এমন একটি ভিডিও উদ্ধার করেছেন, যেখানে রেমন্ডকে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে দেখা গেছে; যদিও ওই নারীর পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র আইনের মামলায় ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন ইউজিন হর্শ। গত ১৯ জুন রাতে ইনডিপেনডেন্স মলের কাছে একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি সন্দেহজনকভাবে পার্ক করা অবস্থায় দেখে এক পার্ক রেঞ্জার তাদের পরিচয় জানতে চাইলে পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রাসায়নিক পদার্থ, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং পানির পাইপের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় ড্রাম উদ্ধার করে। বাড়ির সামনের মাটির নিচের পাইপগুলোও পরীক্ষার জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডি ও লাশ গুম করার পদ্ধতি নিয়ে লেখা একটি নোটও ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। গত জুলাইয়ের শুরুতে অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের দায়ে ইউজিন হর্শের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।