গাড়ির এসি ঠান্ডা করছে না? শপে যাওয়ার আগে ৫ মিনিটে যা পরীক্ষা করবেন
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গরমের সময় গাড়ির এসি ঠিকমতো ঠান্ডা না করলে সরাসরি অটো মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিজেই পরীক্ষা করে দেখা যায়। কেবিনের বাতাসের ফিল্টার, বাতাসের প্রবাহ, ফ্যান ও কনডেনসারের মতো সাধারণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করলে সমস্যার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে রেফ্রিজারেন্ট কমে যাওয়া, কোথাও লিক থাকা কিংবা এসির যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকলে পেশাদার মেকানিকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমেই নিশ্চিত করুন, গাড়ির এসি চালু আছে কি না। অনেক গাড়িতে এসি এবং ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আলাদা থাকে। ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু থাকলে বাইরের গরম বাতাসের পরিবর্তে গাড়ির ভেতরের তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাসই আবার এসি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর ফ্যানের বিভিন্ন গতিতে বাতাসের প্রবাহ পরীক্ষা করুন। ফ্যান চললেও বাতাস খুব কম বের হলে কেবিনের বাতাসের ফিল্টারে ধুলা বা ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ফিল্টার পরীক্ষা ও পরিবর্তন করা যেতে পারে।
এরপর গাড়ির ফ্যানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না খেয়াল করুন। গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় এসি চালু করে প্রয়োজনীয় ফ্যান ঘুরছে কি না দূর থেকে দেখা যায়। বিশেষ করে গাড়ি চলার সময় এসি কিছুটা ঠান্ডা করলেও ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গরম হয়ে গেলে বাতাস চলাচল বা ফ্যানের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে হুডের ভেতরের চলন্ত যন্ত্রাংশের কাছে হাত দেওয়া কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলে পরীক্ষা করা উচিত নয়।
গাড়ির সামনের কনডেনসারেও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। রেডিয়েটরের সামনে থাকা এই অংশে পাতা, পোকামাকড় বা অতিরিক্ত ময়লা জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে এসির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। দৃশ্যমান ময়লা থাকলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কনডেনসারের মতো সংবেদনশীল অংশে অতিরিক্ত চাপের পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়।
এসি ঠান্ডা না হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমে যাওয়া। তবে এসি ঠান্ডা করছে না মানেই রেফ্রিজারেন্ট কমে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোথাও লিক থাকলে রেফ্রিজারেন্ট কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু নতুন করে রেফ্রিজারেন্ট যোগ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিক থাকলে সেটি শনাক্ত ও মেরামত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ রেফ্রিজারেন্ট দিতে হয়।
তাই নিজের মতো করে রেফ্রিজারেন্ট কিনে গাড়ির এসিতে ব্যবহার করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। গাড়িতে কোন ধরনের রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। মোটরগাড়ির এসি ব্যবস্থায় রেফ্রিজারেন্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অনুমোদিত যন্ত্রপাতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
এসব প্রাথমিক পরীক্ষা করেও এসি ঠান্ডা না করলে অটো মেরামতের দোকানে গিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করানো ভালো। মেকানিককে জানিয়ে দিন, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে, বাতাসের চাপ কমেছে কি না, গাড়ি চলার সময় এবং জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এসি কেমন কাজ করছে এবং কেবিনের বাতাসের ফিল্টার সর্বশেষ কবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব তথ্য সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে এসি পরীক্ষা করার খরচ কত, রেফ্রিজারেন্ট দেওয়ার খরচ আলাদা কি না এবং মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব পাওয়া যাবে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। এতে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানোর পাশাপাশি কী কাজ করা হবে সে বিষয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
গরমের সময় গাড়ির এসি শুধু আরামের বিষয় নয়, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত তাপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কোনো শিশুকে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়।
সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreনিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গরমের সময় গাড়ির এসি ঠিকমতো ঠান্ডা না করলে সরাসরি অটো মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিজেই পরীক্ষা করে দেখা যায়। কেবিনের বাতাসের ফিল্টার, বাতাসের প্রবাহ, ফ্যান ও কনডেনসারের মতো সাধারণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করলে সমস্যার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে রেফ্রিজারেন্ট কমে যাওয়া, কোথাও লিক থাকা কিংবা এসির যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকলে পেশাদার মেকানিকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই নিশ্চিত করুন, গাড়ির এসি চালু আছে কি না। অনেক গাড়িতে এসি এবং ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আলাদা থাকে। ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু থাকলে বাইরের গরম বাতাসের পরিবর্তে গাড়ির ভেতরের তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাসই আবার এসি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর ফ্যানের বিভিন্ন গতিতে বাতাসের প্রবাহ পরীক্ষা করুন। ফ্যান চললেও বাতাস খুব কম বের হলে কেবিনের বাতাসের ফিল্টারে ধুলা বা ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ফিল্টার পরীক্ষা ও পরিবর্তন করা যেতে পারে। এরপর গাড়ির ফ্যানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না খেয়াল করুন। গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় এসি চালু করে প্রয়োজনীয় ফ্যান ঘুরছে কি না দূর থেকে দেখা যায়। বিশেষ করে গাড়ি চলার সময় এসি কিছুটা ঠান্ডা করলেও ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গরম হয়ে গেলে বাতাস চলাচল বা ফ্যানের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে হুডের ভেতরের চলন্ত যন্ত্রাংশের কাছে হাত দেওয়া কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলে পরীক্ষা করা উচিত নয়। গাড়ির সামনের কনডেনসারেও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। রেডিয়েটরের সামনে থাকা এই অংশে পাতা, পোকামাকড় বা অতিরিক্ত ময়লা জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে এসির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। দৃশ্যমান ময়লা থাকলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কনডেনসারের মতো সংবেদনশীল অংশে অতিরিক্ত চাপের পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এসি ঠান্ডা না হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমে যাওয়া। তবে এসি ঠান্ডা করছে না মানেই রেফ্রিজারেন্ট কমে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোথাও লিক থাকলে রেফ্রিজারেন্ট কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু নতুন করে রেফ্রিজারেন্ট যোগ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিক থাকলে সেটি শনাক্ত ও মেরামত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ রেফ্রিজারেন্ট দিতে হয়। তাই নিজের মতো করে রেফ্রিজারেন্ট কিনে গাড়ির এসিতে ব্যবহার করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। গাড়িতে কোন ধরনের রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। মোটরগাড়ির এসি ব্যবস্থায় রেফ্রিজারেন্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অনুমোদিত যন্ত্রপাতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রাথমিক পরীক্ষা করেও এসি ঠান্ডা না করলে অটো মেরামতের দোকানে গিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করানো ভালো। মেকানিককে জানিয়ে দিন, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে, বাতাসের চাপ কমেছে কি না, গাড়ি চলার সময় এবং জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এসি কেমন কাজ করছে এবং কেবিনের বাতাসের ফিল্টার সর্বশেষ কবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব তথ্য সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে এসি পরীক্ষা করার খরচ কত, রেফ্রিজারেন্ট দেওয়ার খরচ আলাদা কি না এবং মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব পাওয়া যাবে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। এতে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানোর পাশাপাশি কী কাজ করা হবে সে বিষয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। গরমের সময় গাড়ির এসি শুধু আরামের বিষয় নয়, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত তাপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কোনো শিশুকে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
ওজন কমানোর ইনজেকশনে বদলাচ্ছে খাবারের অভ্যাস, ব্যবসা হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ
বামহাতিদের জন্য নয় আইফোন ডুও, নকশা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্ক
‘ভালো ঘুম’ দেখালেও আসলে তা নাও হতে পারে, ট্র্যাকার নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা
ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী এক গাউন পরে নজর কেড়েছেন উগান্ডার প্রতিনিধি ট্রিভিয়া এল মুহোজা। ‘ল্যাপার্স অব লাইফ’ নামের গাউনটি শুধু সৌন্দর্যের প্রদর্শন নয়, বরং সিজারিয়ান সেকশনের সময় শরীরের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা সাতটি স্তরের প্রতীকী উপস্থাপন। উগান্ডার ডিজাইনার কিশা আবদাল্লাহ গাউনটি তৈরি করেছেন মিস ওয়ার্ল্ডের ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ডের জন্য। ডিজাইনে সাদা, হলুদ, গোলাপি ও লাল রঙের বিভিন্ন স্তর ব্যবহার করে সিজারিয়ান প্রসবের শারীরিক প্রক্রিয়াকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ডিজাইনের পেছনে রয়েছে আবদাল্লাহর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও। নতুন মা হওয়ার পর সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া তাকে এই ধারণা নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি সিজারিয়ান প্রসবের সঙ্গে জড়িত সাতটি অ্যানাটমিক্যাল স্তর নিয়ে গবেষণা করে সেগুলোকে কুট্যুর গাউনের নকশায় রূপ দেন। গাউনটির প্রতিটি স্তর সিজারিয়ান প্রসবের সময় অতিক্রম করা বিভিন্ন শারীরিক স্তরের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্বক, চর্বি, ফ্যাসিয়া, রেক্টাস মাংসপেশি, পেরিটোনিয়াম, জরায়ুর পেশি এবং অ্যামনিওটিক স্যাক। আয়োজনে গাউনটি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ফ্যাশনের সঙ্গে মাতৃত্ব ও সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজাইনারের উদ্দেশ্য ছিল একটি পরিচিত চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে তা শুধু পোশাকের সৌন্দর্য নয়, নারীর মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে। মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর ৭৩তম আসর ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজনের অংশ হিসেবেই ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ডে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের ডিজাইনারদের তৈরি বিশেষ পোশাক উপস্থাপন করছেন। তবে ‘ল্যাপার্স অব লাইফ’ গাউনটি ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বলে কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হলেও, পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এটিকে পুরস্কারজয়ী হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। নিশ্চিত তথ্য হলো, গাউনটি ওই প্রতিযোগিতায় উগান্ডার প্রতিনিধির জন্য তৈরি ও প্রদর্শন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা
বয়স মাত্র ২৪ বছর। অথচ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ডলারের সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন লন্ডনের তরুণী মিয়া ম্যাকগ্রাথ। লক্ষ্য আরও বড়। ৪০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই এমন আর্থিক অবস্থানে যেতে চান, যেখানে জীবন চালানোর জন্য নিয়মিত চাকরি করা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। এই লক্ষ্য পূরণে মিয়া বেছে নিয়েছেন কঠোর সঞ্চয় ও নিয়মিত বিনিয়োগের পথ। দামি কফি কেনা থেকে শুরু করে নিয়মিত বাইরে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় পোশাক কিংবা সৌন্দর্যচর্চায় বড় অঙ্কের খরচ, সবকিছুতেই লাগাম টেনেছেন তিনি। তার দৈনন্দিন সাশ্রয়ের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ সকালের নাশতা। অধিকাংশ দিন ডিমের সঙ্গে রুটি বা অর্ধেক ব্যাগেল খেয়ে সকাল শুরু করতেন মিয়া। খরচ পড়ত প্রায় ৫০ পেন্স, যা এক ডলারেরও কম। তবে শুধু সস্তা নাশতা খেয়ে যে তিনি এত অর্থ জমিয়েছেন, বিষয়টি তা নয়। মিয়ার আর্থিক অবস্থান তৈরির পেছনে আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুবিধা ও সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর প্রায় দুই বছর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকায় তাকে রেন্ট দিতে হয়নি। মিয়া নিজেও এই সুবিধার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে থাকার সুযোগ তাকে আর্থিকভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। রেন্ট ও বাসাবাড়ির অন্যান্য বড় খরচ না থাকায় আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে দিতে পেরেছেন তিনি। এর পাশাপাশি ফুলটাইম চাকরির সঙ্গে বিভিন্ন সাইড হাসল থেকেও বাড়তি আয় করেছেন। মিয়া নিজেই জানিয়েছেন, শুরু থেকেই তার আয় অস্বাভাবিক বেশি ছিল না। বরং অল্প বয়সে পার্সোনাল ফাইন্যান্স সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হওয়া এবং আয় হাতে আসার পর নিয়মিত বিনিয়োগ করাই তাকে দ্রুত এগিয়ে দিয়েছে। তার বাড়তি আয়ের পথগুলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন পণ্য পুনরায় বিক্রি, ব্যাংক সুইচিং, সার্ভে, কনটেন্ট তৈরি এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়ে তোলা। ছোট অঙ্কের বাড়তি আয়কেও তিনি বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। মিয়ার এই পরিকল্পনা মূলত ‘ফায়ার’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফায়ার অর্থ ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনডিপেনডেন্স, রিটায়ার আর্লি’। এই ধারণার অনুসারীরা কর্মজীবনের শুরুর দিক থেকেই আয়ের বড় অংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের আয় দিয়েই জীবনযাপনের ব্যয় চালানো সম্ভব হয়। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মিয়া জানিয়েছিলেন, তার সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে। সে সময় তার নির্ধারিত ‘ফায়ার নম্বর’ ছিল প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। অর্থাৎ তার হিসাবে ওই পরিমাণ বিনিয়োগ তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে সেখান থেকে পাওয়া আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিকভাবে স্বাধীন থাকা সম্ভব হতে পারে। পরবর্তী সময়ে তার সঞ্চয় আরও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদ মিয়া জানান, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রায় এক লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে নিজের লেখায় তিনি জানান, ২৫ বছর বয়সে তার নেট ওয়ার্থ প্রায় তিন লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে এবং তিনি নিজের ব্যবসাও পরিচালনা করছেন। তবে মিয়ার কাছে ‘আগে অবসর’ মানেই ৪০ বছর বয়সে সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া নয়। তার লক্ষ্য ‘সফট রিটায়ারমেন্ট’। অর্থাৎ অর্থ উপার্জনের বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কতটা এবং কখন কাজ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অর্জন করা। তিনি চান এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে, যখন ছুটি নেওয়ার জন্য প্রতিবার বসের অনুমতির অপেক্ষা করতে হবে না এবং শুধু মাসিক বিল পরিশোধের জন্য অপছন্দের চাকরি ধরে রাখার প্রয়োজন হবে না। মিয়ার গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিজের আর্থিক সুবিধার বিষয়টি তিনি আড়াল করেননি। বাবা-মায়ের সঙ্গে রেন্ট ছাড়া থাকার সুযোগ তার সঞ্চয়ের গতিকে বাড়িয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ফলে তার সাফল্যের পেছনে শুধু দৈনিক কফি বাদ দেওয়া বা ৫০ পেন্সের নাশতা নয়, কম খরচে থাকার সুযোগ, ধারাবাহিক বিনিয়োগ, বাড়তি আয়ের একাধিক পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা একসঙ্গে কাজ করেছে। অল্প বয়সে কিছু ভোগব্যয় কমিয়ে মিয়া যে লক্ষ্যটি অর্জন করতে চাইছেন, সেটি শুধু নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা করা নয়। তার কাছে মূল লক্ষ্য এমন আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করা, যেখানে জীবনের সময় কীভাবে ব্যয় করবেন, সেই সিদ্ধান্ত অর্থের প্রয়োজন নয়, বরং নিজের ইচ্ছাই নির্ধারণ করবে।
স্ত্রীর চুল কাটার বদলা নিতে ঘুমন্ত অবস্থার ছবি ট্যাটু করালেন স্বামী
সন্তানদের ফোন-ইউটিউব থেকে দূরে রেখেছেন শাকিরা, সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা আইপ্যাড