- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি ইয়েমেন ও সৌদি আরবে তাদের একের পর এক হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে। গত সপ্তাহে হুতিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের বিশাল 'ইস্ট-ওয়েস্ট' তেল পাইপলাইনে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে পাইপলাইনটির কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে; গত মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম লাফিয়ে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সমর্থিত হুতি-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোও এই শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বরে এই মিত্রদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএই-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর জন্য আসা অস্ত্রের ওপর সৌদি বাহিনী বোমা হামলা চালালে আবুধাবি এই সংঘাত থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়, যার ফলে হুতি-বিরোধী জোট ভেঙে পড়ে। এই অন্তর্দ্বন্দ্ব জোটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়, কারণ ইউএই-সমর্থিত বাহিনীর হাতেই ছিল বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত 'পেরিম দ্বীপ'-এর নিয়ন্ত্রণ। ফলে গত সপ্তাহান্তে হুতিদের আকস্মিক হামলায় দ্বীপটি এবং ইয়েমেন উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর পতন ঘটে। এখন ২০ মাইল চওড়া এই প্রণালী দিয়ে পার হতে যাওয়া যেকোনো সৌদি জাহাজের জন্যই হুতিরা বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে এই জলপথটিই সৌদির প্রধান রপ্তানি রুটে পরিণত হয়েছিল। এখন সৌদির সামনে কেবল সুয়েজ খালের পথ খোলা আছে, যা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর যাত্রায় আরও কয়েক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দেবে। মিত্রদের এই বিভাজনের কারণে হুতিদের মোকাবিলার পুরো চাপ এখন সৌদি আরবের ওপর এসে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াদের ধীরগতির প্রতিক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরানের দিক থেকে চাপের মুখে থাকা সৌদি আরব হুতিদের হামলার বিরুদ্ধে ইয়েমেন থেকে আসা বিমান হামলার অনুরোধে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন সামরিক সহায়তার জন্য গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে কোনো হামলায় জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লোহিত সাগরের প্রধান বন্দর থেকে গত মাসে সৌদির তেল রপ্তানি প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার পর, এবার তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আরও বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৪৫ মাইল দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর, ইয়ানবু বন্দরে এখন সৌদির কাছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানিযোগ্য তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া ‘সেভ’ (SAVE) রিপেমেন্ট প্ল্যান থেকে সরে এসে নতুন ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন শিক্ষার্থী। তবে এখনও এই প্ল্যানের আওতায় থাকা বাকি প্রায় ৬০ লাখ ঋণগ্রহীতার ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মূলত মাসিক কিস্তির পরিমাণ কমানো এবং দ্রুত ঋণ মওকুফের সুবিধা দিতে এই প্ল্যানটি চালু করা হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের বসন্তে তা বাতিল করে দেয়। এরপর গত ১ জুলাই থেকে ঋণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্ল্যানের আওতাভুক্তদের ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নোটিশ পাঠাতে শুরু করে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো প্ল্যান বেছে না নিলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের সর্বোচ্চ কিস্তির ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বা সাধারণ প্ল্যানে যুক্ত করা হবে বলে সতর্ক করা হয়। জানা গেছে, প্রথম ধাপে নোটিশ পাওয়া ঋণগ্রহীতাদের ৯০ দিনের সময়সীমা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। মার্কিন শিক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ঋণগ্রহীতা নতুন প্ল্যান বেছে নেওয়ায় তারা এখন ঋণ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন, যা থেকে বাকিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে প্রায় ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬০ লাখ গ্রহীতা এখনও সেভ প্ল্যান থেকে সরে আসেননি। এদের মধ্যে অনেকেই এখনও নোটিশের অপেক্ষায় আছেন। আবার কেউ কেউ ঋণ মওকুফের সুবিধা পেতে নোটিশ পাওয়ার আগেই ইনকাম-ড্রিভেন বা পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস-এর মতো অন্য প্ল্যানে যুক্ত হয়েছেন। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেভ প্ল্যানের আওতাভুক্ত সব গ্রহীতাকে পর্যায়ক্রমে নোটিশ পাঠানো সম্পন্ন হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন প্ল্যান বেছে না নিলে কীভাবে তাদের স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যানে স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে শিক্ষা দপ্তর বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে, নতুন প্ল্যানে যুক্ত হতে গিয়ে অনেককেই নানা রকম কারিগরি ত্রুটি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, তাদের আসল কিস্তির চেয়ে ভুল করে বেশি অর্থের বিল পাঠানো হয়েছে। এমনকি কাউকে কাউকে বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও তাদের অ্যাকাউন্ট খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিভ্রান্তিকর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তর এসব ত্রুটির কথা স্বীকার করে তা সমাধানের দাবি করলেও, অনেক গ্রহীতা এখনও তাদের সঠিক কিস্তির পরিমাণ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এর মাঝেই ঋণগ্রহীতাদের জোরপূর্বক নতুন প্ল্যানে যুক্ত করার এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ‘পাবলিক গুডস প্র্যাকটিস’ নামের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান গত জুনে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও ঝুলে থাকলেও, শিক্ষা দপ্তর এসব আইনি অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রহীতাদের দ্রুত যেকোনো একটি ‘বৈধ’ রিপেমেন্ট প্ল্যান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের তহবিলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শহরের মেয়র কারেন বাস। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই সাব-কমিটির শুনানিতে 'ব্যস্ততা'র কারণ দেখিয়ে উপস্থিত হননি তিনি। এর বদলে প্যাসিফিক প্যালিসেডসে একটি কমিউনিটি প্রজেক্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির (LAHSA) ভেতরে ‘অপচয়, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার’ নিয়ে জবাবদিহি করার জন্যই তাকে ওয়াশিংটন ডিসিতে তলব করা হয়েছিল। সাব-কমিটির দাবি, গৃহহীনদের এই সংস্থাটি সম্পর্কিত সব নথি মেয়র তাদের কাছে হস্তান্তর করেননি এবং শেষমেশ তাকে ছাড়াই মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, গত বছর ভয়াবহ দাবানলের সময়ও মেয়রের ঘানায় কূটনৈতিক সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল, যার পুনরাবৃত্তি আবারও ঘটল। শুনানিতে সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ও টেনেসি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান প্রতিনিধি টিম বারচেট জানান, লস অ্যাঞ্জেলেস বর্তমানে আমেরিকার গৃহহীন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি লাসা-এর (LAHSA) বিলাসবহুল দাপ্তরিক পরিবেশের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটির কার্যালয় এমন এক বহুতলে অবস্থিত যেখানে নিজস্ব হেলিপ্যাড ও মেব্যাচ (মার্সিডিজের বিলাসবহুল মডেল) গাড়ির সুবিধা রয়েছে। ২০২৩ সালে গৃহহীন সংকটে রদবদল আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র বাস নিজেই এর পরিচালনা বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন, তবে তলব করার পর গত সপ্তাহেই তিনি সেখান থেকে পদত্যাগ করেন। মেয়রের অনুপস্থিতিকে কলোরাডোর প্রতিনিধি লরেন বোয়েবার্ট স্রেফ ‘অবমাননাকর’ এবং সাউথ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। শুনানিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় গৃহহীনদের করুণ অবস্থা তুলে ধরেন আইনপ্রণেতারা। সাংবাদিক জোনাথন চোর ধারণ করা লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কিড রো এলাকার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গৃহহীনদের মাঝে মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। শুনানিতে বারচেট নিজে একটি ক্র্যাক পাইপ প্রদর্শন করেন। সিসেরো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো পল ওয়েবস্টার সাক্ষ্য দেন যে, ২০০৫ সাল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস গৃহহীন তহবিল হিসেবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পেলেও ২০০৯ সালের পর থেকে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি বলেন, "আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি অর্থ ও সক্ষমতা থাকলেও, রাস্তায় অসুস্থ ও গৃহহীন মানুষের সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি।" অন্যদিকে, শুনানির সময়েই দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র কারেন বাস এই ঘটনাকে শুধু তার ওপর নয়, বরং পুরো শহরের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসে তাদের মিত্রদের রাজনৈতিক আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, প্রশাসন এই তহবিলটি বাতিল করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু একজন ফেডারেল বিচারক তা আটকে দিয়েছেন; তাই আইনি লড়াইয়ে হেরে এখন তারা শুনানির নামে নাটক সাজাচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি একাই লাসা পরিচালনা করেন না, এটি একটি যৌথ সিটি-কাউন্টি এজেন্সি, এবং তিনি ইতিহাসের প্রথম মেয়র হিসেবে এর বোর্ডে বসেছিলেন। দুই ঘণ্টার শুনানি শেষে কমিটি মুলতবি করা হয় এবং সাক্ষীদের কাছে আরও প্রশ্ন জমা দেওয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণের আগমুহূর্তে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারলে যে কারও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নাগরিকের ক্ষেত্রে ঘটল সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে মাত্র আট মিনিটে নিজের পাসপোর্ট নবায়ন করে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন তিনি। আমিরাতি কর্তৃপক্ষের এমন অভাবনীয় ও দ্রুতগতির সেবার একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে ওই ব্যক্তি জানান, পরিকল্পিত ভ্রমণের মাত্র এক দিন আগে তিনি খেয়াল করেন তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। অথচ তার গন্তব্যের নিয়মানুযায়ী, ভ্রমণের তারিখের পর অন্তত ছয় মাস পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এই অবস্থায় দ্রুততম সমাধানের খোঁজে তাকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাসপোর্ট নবায়ন সেবা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি ভেবেছিলেন এতে অন্তত ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র আট মিনিটেই সম্পন্ন হয়ে যায়! ভিডিওতে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, "আমাকে বলা হয়েছিল দুবাই বিমানবন্দরের চেয়ে দ্রুত আর কিছু নেই এবং এতে ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ১০ মিনিটও নয়, বরং আট মিনিটেই কাজ শেষ।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সেবার সাথে এর তুলনা করে নানা মন্তব্য করছেন। একজন নাইজেরিয়ান ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লেখেন, তাদের দেশের কাস্টমসে ১০০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং চরম ভোগান্তির পর কর্মকর্তাদের বকশিশও দিতে হয়। আরেকজন মার্কিন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ডাকঘরের মাধ্যমে আবেদন ও ছবি জমা দিয়ে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পেতেও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগে। অন্যদিকে, আরেক ব্যবহারকারীর মতে, যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী, তাই তাদের নাগরিকদের জন্য এমন বিশ্বমানের সেবা থাকাটাই স্বাভাবিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ড ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড সুদহার বাড়াতে পারে—এমন জোরালো আশঙ্কায় মঙ্গলবার মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। এদিন ট্রেজারি ইয়েল্ড ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫.০৪১ শতাংশে পৌঁছায়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বুধবারের বৈঠকে ফেড সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে পারে। ট্রেজারি ইয়েল্ড বাড়ার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়; এর ফলে মর্টগেজ, গাড়ি এবং ব্যবসায়িক ঋণের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেলের দামে ব্যাপক উল্লম্ফন ইয়েল্ড বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ডিজেলের এই মূল্যস্ফীতি সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে পোশাক এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য পরিবহনে মূলত ট্রাক ব্যবহৃত হয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬.২৭ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া গ্যাসলিনের দাম গ্যালন প্রতি ৪.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কোনো সুরাহা না হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮.৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সার্বিক এই অর্থনৈতিক অস্থিরতায় মঙ্গলবার ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৪৬৫ পয়েন্ট বা ০.৯ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক যথাক্রমে ০.৫ ও ০.৮ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্যমতে, বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৯৪ শতাংশ নিশ্চিত যে, ফেড তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদহার এক-চতুর্থাংশ বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। মরগান স্ট্যানলি এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো শীর্ষ ব্যাংকগুলোও সুদহার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে তা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট মূল্যস্ফীতি কমার কিছু লক্ষণ দেখলেও, মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শের অধীনে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সুদহার বাড়ানো নিয়ে মতভেদ জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই খাতের শেয়ারগুলোতেও এ সপ্তাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকি হতে পারে—গবেষকদের এমন সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার মাইক্রন ও ইন্টেলের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ০.৪ ও ০.৩ শতাংশ কমেছে। এছাড়া বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর কারণে শব্দ, আলো ও পানি দূষণের পাশাপাশি আমেরিকানদের কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কাও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে মাত্র ৯৭৭ ডলার বকেয়ার জেরে প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি বাড়ি হারানোর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মেসা শহরের বাসিন্দা টোবি নিউটন ২০২২ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার খরচ করে চার বেডরুমের ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। কিন্তু দুই বছর পর চাকরি হারানো এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এর ফলে তিনি ‘সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন’-এর ত্রৈমাসিক ১৭০ ডলারের ‘এইচওএ’ (HOA) বা হাউজিং ফি পরিশোধে ব্যর্থ হন। ধীরে ধীরে তার বকেয়া ফি ও সুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৭ ডলারে। বকেয়া মেটাতে নিউটন মাসে ২০০ ডলার করে কিস্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও, তা প্রত্যাখ্যান করে হাউজিং সমিতি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন বাড়িটি ফোরক্লোজার বা বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে সামান্য ওই বকেয়ার অঙ্কও লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বকেয়া ফি, বাদীর খরচ এবং আইনজীবীর ফিসহ নিউটনের মোট দেনা গিয়ে ঠেকে ৬ হাজার ৫৭৯ ডলারে। শেষমেশ ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক সরকারি নিলামে বাড়িটি মাত্র ৮ হাজার ১৭২ ডলারে কিনে নেয় খোদ সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন! আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এমন ঘটনা ঠেকাতেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা 'সিনেট বিল ১৪৯৪' নামের একটি নতুন আইন পাস করেছিলেন। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো বাড়ির মালিকের বকেয়া অন্তত ১৮ মাসের পুরোনো হতে হবে অথবা তাকে ন্যূনতম ১০ হাজার ডলারের বেশি ফি বকেয়া রাখতে হবে, তবেই কেবল এইচওএ তার বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। এছাড়া বাজেয়াপ্ত করার আগে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তিসঙ্গত কিস্তির প্রস্তাব দেওয়ারও নিয়ম করা হয়েছিল ওই আইনে। কিন্তু নিউটনের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই কাজে আসেনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চরম আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ে পড়া নিউটনের জন্য তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শেরি প্যাটেন বর্তমানে ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe)-এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) একটি নতুন নীতি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাসের মেয়াদকাল ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ম্যাসাচুসেটসের ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ. ডেনিস সেয়লর ফোরথ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নীতিটি দেশব্যাপী কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বিচারকের আদেশের ফলে আইনি প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় তা আর কার্যকর হচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আগের সেই ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থাই আপাতত বহাল থাকছে। গত ১৭ জুলাই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের চূড়ান্ত নিয়মনীতি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করে। এর অধীনে এফ, জে এবং আই ভিসার ক্ষেত্রে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-এর বদলে নির্দিষ্ট মেয়াদের সময়সীমা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছিল। নতুন নীতি অনুযায়ী, এফ এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্টদের জন্য তাদের প্রোগ্রাম বা কোর্সের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। যেসব শিক্ষার্থী বা এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতো, তাদের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এছাড়া, বিশেষ ক্ষেত্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাবও ছিল এই নীতিতে। অন্যদিকে, আই স্ট্যাটাসধারী বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মাত্র ২৪০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে বিচারক সেয়লর উল্লেখ করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই সিদ্ধান্তটি অনেকটাই খামখেয়ালি ও যুক্তিহীন। সংস্থাটি জনসাধারণের মতামতের যথাযথ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি। নতুন নীতিটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারক। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে এবং সরাসরি প্রায় ৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। নফসা (NAFSA), প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য সংগঠনের দায়ের করা একটি সম্মিলিত মামলার প্রেক্ষিতেই বিচারক এই সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। আপাতত নতুন নীতি কার্যকর না হওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের একটি স্বস্তি মিলেছে, তবে এটি চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় আইনি লড়াই এখনও চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সরকারের লাভজনক চুক্তি বাগিয়ে নিতে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার আদালতে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চলমান ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতি থেকে অর্জিত ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠান। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের নজরে ছিলেন। অর্থ পাচারের এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতার শর্তে প্রসিকিউটররা তার সাজা কমানোর সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সাবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে বিমান জ্বালানি নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় ভেনেজুয়েলা সরকার তার সেই যাত্রাকে ইরানের উদ্দেশে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের মানবিক মিশন’ বলে দাবি করেছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাব জানান, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন এবং নিয়মিত অবসাদ দূর করার ওষুধ সেবন করছেন। ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় বন্দি বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং তারা দ্রুত তার অন্যান্য অপরাধের তদন্ত শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালেক্স সাবকে মাদুরোর দুর্নীতির অন্যতম ‘প্রধান সহযোগী’ বা অর্থ পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে ম্যানহাটনে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে সাবকে ব্যবহার করা হতে পারে। এদিকে, সাব ও মাদুরোর এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানোর লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাচ্ছে। সাব মূলত ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে তেল বিক্রি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মাদুরোকে সহায়তা করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় দরিদ্রদের জন্য চাল, ভুট্টা ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ‘ক্ল্যাপ’ (CLAP) কর্মসূচির আড়ালে ভুয়া কোম্পানি খুলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন তিনি এবং তার সহযোগীরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজেদের অভাবনীয় সক্ষমতার এক নতুন চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানিয়েছেন, সফল টিকাদান কর্মসূচির দিক থেকে ইরান বর্তমানে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের আধুনিক চিকিৎসাতেও দেশটির অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ইরানের স্বাস্থ্য খাতের এই চমকপ্রদ সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্য খাতে ইরানের এই অভাবনীয় অগ্রগতির পেছনের অন্যতম কারণ হলো তাদের শক্তিশালী চিকিৎসক কাঠামো। মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানান, বর্তমানে দেশটিতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি চিকিৎসক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে জনসংখ্যার অনুপাতে ইরানে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের গড় সংখ্যা যেখানে ১৬ জন, সেখানে প্রাপ্যতার দিক থেকে বৈশ্বিক গড়ের চেয়েও বেশ এগিয়ে রয়েছে দেশটি। টিকাদান ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জটিল অস্ত্রোপচারেও বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান দাবি করেন, লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও তারা বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বা শ্রবণযন্ত্র প্রতিস্থাপন, হৃদ্যন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল সার্জারির ক্ষেত্রেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। রাইসজাদেহের মতে, চিকিৎসা খাতের এই ধারাবাহিক অর্জনগুলো মূলত ইরানের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, দক্ষ চিকিৎসক ও শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থারই এক অনন্য প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ইরানে যুদ্ধ পরিচালনার অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই বিস্ময়কর ঘোষণা দেন তিনি। ম্যাসির অভিযোগ, হেগসেথ ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধক্ষমতা আইনটি লঙ্ঘন করেছেন। ওই আইনে স্পষ্ট বলা আছে—৯০ দিনের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। প্রস্তাব উত্থাপনকালে ম্যাসি দাবি করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে পিট হেগসেথ বেআইনি নির্দেশ দিয়েছেন, যা সংবিধান ও আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং তাকে এই পদে বহাল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্য হুমকিস্বরূপ। চলতি সপ্তাহের শেষদিকে এই প্রস্তাবের ওপর হাউজে ভোটাভুটির দাবি জানিয়েছেন ম্যাসি, যদিও রিপাবলিকানরা চাইলে ভোটের মাধ্যমে এটি বাতিল করে দিতে পারে। গত মে মাসে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর কাছে প্রাইমারি নির্বাচনে হেরে যান ৫৫ বছর বয়সী ম্যাসি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র সাত সপ্তাহ আগে বিদায়ী এই কংগ্রেসম্যান নতুন করে যুদ্ধক্ষমতা বিতর্কের জন্ম দিলেন। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এর আগে হাউজ ও সিনেট উভয় কক্ষই একটি প্রস্তাব পাস করেছিল। তবে হোয়াইট হাউজের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ের লড়াইয়ের পরই সংঘাতের অবসান হয়েছে, যার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমা নতুন করে গণনা শুরু হয়েছে। এর মাঝেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাধীনচেতা রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত থমাস ম্যাসি এর আগেও হোয়াইট হাউজের সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছেন; বিশেষ করে আলোচিত জেফরি এপস্টেইনের সরকারি নথি প্রকাশে বাধ্য করার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা ছিল। এদিকে, যুদ্ধের বৈধতা সংক্রান্ত ম্যাসির অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পিট হেগসেথের কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পেন্টাগন। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এক বিবৃতিতে জানান, হেগসেথের নেতৃত্বে বাহিনীতে মেধা ও মান ফিরে এসেছে, অস্ত্রাগার আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর প্রতিটি শাখায় নিয়োগ ও সদস্যদের মনোবল বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হেগসেথের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেছে পেন্টাগন।
বকেয়া করের দায়ে একটি বিতর্কিত কর্মসূচির অধীনে বাজেয়াপ্ত হওয়া ভবনের মালিকদের ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে নিউইয়র্ক শহর। গত শুক্রবার ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা একটি আপস-মীমাংসা চুক্তির অধীনে, শহর কর্তৃপক্ষের বাজেয়াপ্ত করা ৬৪টি সম্পত্তির মালিকরা ক্ষতিপূরণের এই অর্থ পাবেন। প্রায় এক দশক আগে দায়ের করা একটি 'ক্লাস-অ্যাকশন' বা গণমামলার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। বাড়ির মালিকদের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী সারা কেইন এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরে আনন্দিত। ২০১৯ সালে দায়ের করা ওই মামলার নথিতে বাদীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, "যথাযথ ক্ষতিপূরণ" ছাড়াই তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, যা সরাসরি তাদের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। এমনকি তাদের বাড়িগুলো যে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও শহর কর্তৃপক্ষ কোনো আগাম নোটিশ দেয়নি বলে দাবি করা হয়। মূলত 'থার্ড পার্টি ট্রান্সফার প্রোগ্রাম' নামের ওই কর্মসূচির অধীনে, যেসব ভবনে হাউজিং কোড লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি কর বকেয়া থাকে, সেগুলোর মালিকানা যেকোনো অলাভজনক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যায়। পরবর্তীতে সংস্থাগুলো সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাতাদের কাছে ওই ভবনগুলো হস্তান্তর করে। কিন্তু আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বকেয়া করের তুলনায় বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিগুলোর বাজারমূল্য অনেক বেশি ছিল। গত এক দশকের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম বৃহৎ এই ক্ষতিপূরণ চুক্তির খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি তার 'ফিক্স দ্য সিটি' আবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিতর্কিত এই কর্মসূচিটিকে আবারও চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। শহরের আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু স্টার্ন অবশ্য দাবি করেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সাবেক মালিকদের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়নি। তবে একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই শহর কর্তৃপক্ষ এই আপস-মীমাংসায় সম্মত হয়েছে। বর্তমান চুক্তিটি শুধুমাত্র ২০১৯ সালে বাজেয়াপ্ত হওয়া সর্বশেষ সম্পত্তিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাদীদের আইনজীবীদের মতে, গণমামলাটির অংশ হিসেবে এখনও আরও ৫০০টির বেশি সম্পত্তির নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। আইনজীবী কেইন আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত ব্যবস্থা বাকি মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও এমন ইতিবাচক রায় দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীর হাত থেকে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হলেও, পথচারী বা আশেপাশের কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি; বরং তারা নির্দয়ভাবে তার ভিডিও ধারণ করেছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে বেলটাউন এলাকায় একটি অবৈধ 'স্ট্রিট টেকওভার'-এর সময় আইজ্যাক এলাইজাহ রিওস (২০) নামের এক যুবককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে এক নারী ও এক পুরুষ। এ সময় তার বন্ধু ম্যাথু ল্যান্সক (২১) তাকে বাঁচাতে ছুটে গেলে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে প্রাণ হারান আইজ্যাক। অন্যদিকে, ল্যান্সকের পেটে দুটি ও পেলভিসে একটি গুলি লাগে, যার ফলে তার একটি প্রধান ধমনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুন হওয়া তিনজনের মধ্যে আইজ্যাক ছিলেন অন্যতম। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ল্যান্সক সাহায্য চাইতে কাছের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরের দিকে ছুটে যান। কিন্তু দোকানের কর্মীরা তাকে সাহায্য করার বদলে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং মোবাইল ফোনে তার ভিডিও ধারণ করতে থাকে। ফক্স ১৩-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্যান্সকের মা শান্ডা বার্নি আক্ষেপ করে বলেন, "আমার ছেলে চোখের জলে আমাকে বলেছে যে, তারা তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি এবং দরজা আটকে দিয়ে ভিডিও করছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সে ভেবেছিল ওখানেই মারা যাবে।" ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের এমন অমানবিক আচরণ তাকে গভীরভাবে আহত করেছে বলে জানান তিনি। আইজ্যাকের খালা বেনেটা লালও একই ধরনের অমানবিকতার কথা জানিয়েছেন। আইজ্যাকের শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে তিনি লিখেছেন, "ওই ভয়ংকর মুহূর্তে আইজ্যাক ও তার বন্ধুকে গুলি করে ফেলে রাখা হয়েছিল, আর সবাই তখন ভিডিও করছিল।" পরবর্তীতে ল্যান্সককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে একাধিক অস্ত্রোপচারের পর তার জ্ঞান ফেরে এবং তিনি বন্ধুর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। ল্যান্সকের বোন কমো (KOMO) নিউজকে জানান, বন্ধুকে বাঁচাতে না পারার অপরাধবোধ এখন তাকে তীব্রভাবে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনায় নিহত ও আহতের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশের কাছে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর জন্য ১ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ক্রাইম স্টপারস।
ডিজিটাল দুনিয়ার ‘ব্রেইন রট’ বা মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যা দূর করে নাগরিকদের মধ্যে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। ‘রিডএসজি’ (ReadSG) নামক পাঁচ বছর মেয়াদি এই নতুন জাতীয় কর্মসূচির আওতায়, দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়লেই দেশের নাগরিকদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড (NLB)-এর চালু করা এই ক্যাম্পেইনের অধীনে আগ্রহীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের পড়ার সময় ট্র্যাক করে ভার্চুয়াল রিওয়ার্ড বা কয়েন জিততে পারবেন। জানা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার বিনিময়ে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন পাওয়া যাবে এবং ১০০০ কয়েন জমলে তা নগদ এক ডলারে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। ক্যাম্পেইনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিদিন তিনটি এমআরটি (MRT) স্টেশন পার হওয়ার সময়টুকু, বাসের জন্য অপেক্ষার প্রহর কিংবা সকালের কফি পানের ফাঁকে ব্যয় করা মাত্র ১৫ মিনিট সময়ই একটি শক্তিশালী পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানান, শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট মানুষকে দ্রুত তথ্য দিলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে বই পড়ার অভ্যাস মনোযোগ, কল্পনাশক্তি এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে শাণিত করে। দিন দিন জটিল হয়ে ওঠা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নাগরিকদের আরও বেশি কৌতূহলী, চিন্তাশীল ও দূরদর্শী হিসেবে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তাছাড়া নতুন পাঠকদের আকৃষ্ট করতে এই কার্যক্রমে বিভিন্ন মজার ‘ফ্লেভার অব রিডিং’ বা রিডিং প্রোফাইল যুক্ত করা হয়েছে— যেমন ‘কুইহ লাপিস’, ‘কুলফি’, ‘আং কু কুইহ’ এবং ‘তাং ইউয়ান’, যা অংশগ্রহণকারীদের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লোহ চিন ই-এর মতে, পড়ার অভ্যাসটিকে ‘গ্যামিফাই’ বা আনন্দদায়ক করে তোলার কৌশলটিই সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি জানান, অনেকেই হয়তো স্ক্রিনে দ্রুত কিছু পড়ে নেন, কিন্তু গভীরভাবে পড়ার প্রতি যে নিবেদন, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে; আর সেই গভীর মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ১৫ মিনিটের এই লক্ষ্যমাত্রা একটি অত্যন্ত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উপায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিকে মানবতার জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে এর উন্নয়ন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক দেশগুলো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার বিকাশ নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের এই সতর্কতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছে। দেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, মানবতার পরবর্তী প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে চলমান প্রতিযোগিতাকে মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়ানোর একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তুর্ক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পথ নির্ধারণে দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে তৈরি করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ গত সপ্তাহে আরও বেড়ে যায়। অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষক সতর্ক করেছিলেন, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এই প্রযুক্তি খুব দূরবর্তী ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এর পর অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় তৈরির একটি কাঠামোও তুলে ধরেন। আমোদেইয়ের আহ্বান বড় কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছে। ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও তাঁর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আমোদেই বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানো প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীন সুবিধা পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বই যথেষ্ট। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেইয়ের প্রস্তাব নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং তাঁর প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান। চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকির বয়ানকে সমর্থন করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা নিয়ে হুমকি, সংঘাত ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার বয়ানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বয়ান বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। চীনের পক্ষ থেকে সব দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুও জিয়াকুনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে এটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবার জন্য উপকারী এবং মানবকল্যাণমুখী থাকে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামন্ত্রী চেন ইশিন রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল চীনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা উন্মুক্ত ওজনের মডেল ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের মডেল সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো পরীক্ষা, পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। জুলাইয়ে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রযুক্তিটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঝুঁকির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা উচিত। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কতা, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণবিরোধী অবস্থান এবং চীনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফ্রিসকোর এক প্রবীণ নারীর সঙ্গে ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার ডলারের প্রতারণা করা হয়। পরে একই চক্র তাঁর কাছ থেকে আরও ২২ হাজার ডলার নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ব্যাংক ও পুলিশের সহায়তায় প্রতারকদের ফাঁদে ফেলতে সহযোগিতা করেন। পুলিশের দেওয়া নকল টাকা নিতে আসা এক বাহককে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সোনা চুরি চক্রের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই চক্রটি দুই শতাধিক প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে ২৫ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে। পরিচয় প্রকাশ না করা ওই নারী জানান, এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে দাবি করেন, ওহাইওতে কেউ তাঁর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে হাজার হাজার ডলারের শিশুপণ্য কিনেছে। একই সঙ্গে তাঁর নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেগুলো অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তাঁকে জানানো হয়। ফোনকারী নিজেকে ওয়াশিংটনে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রতারণা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। প্রতারক নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন নথি দেখান। ওই নথির মাধ্যমে তাঁকে বোঝানো হয়, তাঁর অর্থ নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে টাকা তুলে দিতে হবে। প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী প্রথমে ৩০ হাজার ডলার দেন। পরে তাঁকে আরও ২২ হাজার ডলার অন্য একটি ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় টাকা তোলার সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওই নারীকে সতর্ক করেন। তিনি বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাটিই প্রতারণার অংশ। এরপর তিনি ফ্রিসকো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ তখন ওই নারীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারকদের ধরার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশ ওই নারীকে প্রতারকদের দেওয়ার জন্য নকল টাকা দেয়। নির্ধারিত সময়ে চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক বাহক তাঁর কাছ থেকে টাকার বাক্স নিতে আসে। ওই নারী তাকে বাক্সটি তুলে দেন এবং ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি একটি বড় আন্তর্জাতিক সোনা চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত প্রবীণ ব্যক্তিদের ফোন করে নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। এরপর তাঁদের ব্যাংক হিসাব জালিয়াতির শিকার হয়েছে বা অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখানো হতো। প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আনতে অথবা সোনা কিনে নির্দিষ্ট বাহকের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত সোনা পরে গলিয়ে গয়না তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। নগদ অর্থের একটি অংশ ডিজিটাল মুদ্রা কেনার কাজে ব্যবহার করা হতো এবং সেই অর্থ বিদেশে পাঠানো হতো। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ এবং মোট চুরির পরিমাণ ২৫ কোটি ডলারের বেশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত এই চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৩ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোনা জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে। ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফিল সরেলস জানিয়েছেন, এক ভুক্তভোগী তাঁর পুরো জীবনের সঞ্চয় হারানোর পর আত্মহত্যা করেন। চক্রটির তদন্তে ৪০টির বেশি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে ১৮টি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযুক্তদের ১২ জন এখনো ট্যারান্ট কাউন্টি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া ৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি চক্রটির অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি এবং দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আহমেদ নিউ জার্সি থেকে চক্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং প্রবীণদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ পাচারের জন্য ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ট্যারান্ট কাউন্টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। একই দিনে গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুজনকে ট্যারান্ট কাউন্টিতে এনে মামলার মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে। ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফিল সরেলস সতর্ক করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো ফোন করে কাউকে নিরাপত্তার নামে সোনা কিনতে, ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলতে বা ডিজিটাল মুদ্রা কিনতে বলবে না। এমন নির্দেশ পেলে ফোন কেটে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ফ্রিসকোর ওই প্রবীণ নারীর সাহস ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে চক্রটির একজন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এই প্রতারণা চক্রের তদন্ত এখনো চলছে এবং এর সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: ফক্স ৪
সৌদি আরবের জেদ্দায় আগামী ৮ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী। বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে হজযাত্রীদের সেবা আরও উন্নত করতে চিকিৎসা, পরিবহন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। সম্মেলনে সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক খাতের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ৫২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা অংশ নেবেন। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স কর্মসূচির সহযোগিতায় সম্মেলনটির আয়োজন করছে। হজসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষকে একই প্ল্যাটফর্মে আনা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা এবং হজযাত্রীদের জন্য দেওয়া সেবার মান উন্নত করাই আয়োজনটির অন্যতম লক্ষ্য। সম্মেলনে গবেষক, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকেরা হজসেবা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে দেশটির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক দপ্তর ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও মক্কা ও মদিনার সেবাব্যবস্থার অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজনে তিনটি প্রধান ধারায় হজসেবা নিয়ে আলোচনা হবে। অবকাঠামো ও পরিচালনাসেবা বিষয়ক ধারায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও স্থাপনা পরিচালনা, আবাসন ও আতিথেয়তা এবং খাবার সরবরাহের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে। হজের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে এসব খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। ক্ষমতায়ন ও সমন্বয় বিষয়ক ধারায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবা, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সেবা ও উদ্ভাবনী সমাধান কীভাবে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করবেন। তৃতীয় ধারায় থাকবে টেকসই উন্নয়ন। এতে অলাভজনক খাত, উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। গবেষক, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরবেন। সম্মেলনের পাশাপাশি একটি বিশেষায়িত প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। এতে ১৫০টির বেশি দেশের হজসেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতারা অংশ নেবেন। তারা হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সেবা ও সমাধান তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। প্রদর্শনীতে বিমান চলাচল, পরিবহন, আতিথেয়তা, চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জনবল, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা উন্নয়ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। হজবিষয়ক দপ্তর, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সম্মেলন ও প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে বিশেষায়িত ফোরাম, প্যানেল আলোচনা, গোলটেবিল বৈঠক, কর্মশালা এবং ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন থাকবে। এসব আয়োজনে নতুন উদ্যোগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি হজসেবা খাতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের লক্ষ্য, হজসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে এক জায়গায় এনে হজযাত্রীদের জন্য আরও উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করার পথ তৈরি করা। গতবারের হজ সম্মেলনে ১৫০টির বেশি দেশের ২৭০টি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। ওই আয়োজনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি ছিল। এছাড়া ১৩৪টি বিশেষায়িত অধিবেশন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করেন। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সম্মেলনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সময়সূচিও অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: আরব নিউজ
পেনসিলভানিয়ার ভ্যালেন্সিয়ার ২১ বছর বয়সী জোনাথন হান্টার ক্রেমারকে আইএসআইএসের পক্ষে একটি সহিংস হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। তার কাছ থেকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ক্রেমারের অনলাইন কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনায় তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং বিস্ফোরক তৈরির ম্যানুয়াল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের কথিত পরিকল্পনাকে একটি ‘মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ১২ সেপ্টেম্বর ক্রেমার বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে উবারে করে পেনসিলভানিয়ার গিবসোনিয়ায় যান। সেখানে একটি ওয়ালমার্ট থেকে রাইফেল সংগ্রহের পর তিনি একটি ডিসপোজেবল ফোন কেনেন এবং নগদ অর্থে ক্র্যানবেরি এলাকার একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি একটি গান স্টোরেও যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হোটেল ও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি রাইফেল ম্যাগাজিন, ১৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ, রাইফেল স্কোপ ও বাইপড উদ্ধার করেন। এছাড়া একটি এনট্রেঞ্চমেন্ট টুল, পেপার স্প্রে এবং প্রায় ৩০টি ছুরিও পাওয়া গেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হোটেল থেকে একটি হাতে লেখা নোটও উদ্ধার করা হয়। ক্রেমারের বিষয়ে এফবিআইয়ের নজর অবশ্য নতুন নয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী রাখার ঘটনায় তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। পরে পেনসিলভানিয়ায় কিশোর আদালতের মাধ্যমে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মার্চে একটি টিপ পাওয়ার পর তার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনলাইনে ‘হামজা আল রশিদ’ নামে পরিচিত ক্রেমার আইএসআইএস-সমর্থক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ত্র সংগ্রহ করছিলেন। তবে কথিত হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, অনলাইন কর্মকাণ্ড, উগ্রপন্থী বক্তব্য এবং অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনাগুলো মিলিয়ে কর্মকর্তারা তাকে হামলার প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন। ক্রেমারের বিরুদ্ধে এমন একটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে তিনি এমন অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণ করেছিলেন, যেগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ফেডারেল অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি জানতেন বা জানার যথেষ্ট কারণ ছিল। তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং প্রসিকিউটররা জামিন না দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, তিনি সমাজের জন্য চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তবে ক্রেমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা বাস্তবায়নের আগেই এফবিআইয়ের অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি থাকা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় কয়েকটি সাধারণ ভুল শুধু ট্রাফিক জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়তে পারে গাড়ির বীমা, টোল, মেরামত ও জ্বালানি খরচেও। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, টোল বা পার্কিংয়ের জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করা এবং বীমার মূল্য তুলনা না করার কারণে বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। সাম্প্রতিক লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে ১১ থেকে ১৫ মাইল বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা হলে গাড়ির বীমার খরচ গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বছরে গড়ে ৫২৪ ডলার ৭৪ সেন্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত বীমা খরচ হতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্যে এই বৃদ্ধি আরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একই ধরনের ট্রাফিক টিকিটের পর বীমার গড় খরচ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। অর্থাৎ একটি ট্রাফিক টিকিটের আর্থিক প্রভাব শুধু জরিমানা দেওয়ার মধ্যেই শেষ হয় না, পরবর্তী কয়েক বছরও বাড়তি বীমা খরচ বহন করতে হতে পারে। আরেকটি সাধারণ ভুল হলো লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থেমে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া। লাল বাতির ক্যামেরায় ধরা পড়ার নিয়ম এবং জরিমানার পরিমাণ শহর ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। তাই পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করা যায় না। তবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বিষয়টি নথিভুক্ত করলে তা চালকের ড্রাইভিং রেকর্ডে প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বীমার খরচ বাড়ার কারণ হতে পারে। নিরাপদ অভ্যাস হলো লাল বাতি ও স্টপ সাইনে সম্পূর্ণভাবে গাড়ি থামানো। গাড়ির বীমার ক্ষেত্রেও শুধু কম মাসিক খরচ দেখেই পলিসি নেওয়া ঠিক নয়। শুধু দায়বদ্ধতার বীমা থাকলে দুর্ঘটনায় অন্য ব্যক্তি বা তার সম্পত্তির ক্ষতির দায় মেটানো যায়, কিন্তু নিজের গাড়ির সব ধরনের ক্ষতির সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বীমাবিহীন বা অপর্যাপ্ত বীমা থাকা চালকের কারণে দুর্ঘটনা হলে বীমাবিহীন চালকের সুরক্ষা কাজে আসতে পারে। চুরি, আগুন, ভাঙচুর, শিলাবৃষ্টি বা সংঘর্ষ ছাড়া অন্যান্য কারণে গাড়ির ক্ষতি হলে ব্যাপক বীমা সুরক্ষা কাজে লাগতে পারে। কোন ধরনের বীমা বাধ্যতামূলক এবং কোনটি অতিরিক্ত, তা অঙ্গরাজ্য ও পলিসিভেদে ভিন্ন। গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পিছিয়ে দেওয়াও পরে বড় খরচের কারণ হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে ইঞ্জিনের তেল পরিবর্তন, টায়ারের বাতাসের চাপ পরীক্ষা, ব্রেক, ব্যাটারি এবং গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সার্ভিস করানো গুরুত্বপূর্ণ। ছোট সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত হলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। একইভাবে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ইঞ্জিন সংক্রান্ত সতর্কতার বাতি জ্বলে উঠলে সেটি দীর্ঘদিন উপেক্ষা না করে কারণ পরীক্ষা করা উচিত। তবে শুধু সতর্কতার বাতি জ্বলেছে বলেই নির্দিষ্ট কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরীক্ষা করে প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করার পর মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। টোল ও পার্কিংয়ের জরিমানাও সময়মতো পরিশোধ করা জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং বা ক্যামেরার জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, পার্কিং টিকিট পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ১০ ডলার বিলম্ব জরিমানা যোগ হতে পারে এবং সময় গড়ালে অতিরিক্ত পেনাল্টিও যুক্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে গাড়িতে চাকা আটকানো বা গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থাও হতে পারে। টোলের ক্ষেত্রেও একইভাবে সময়মতো বিল পরিশোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট থ্রুওয়ের বিভিন্ন রুটে ই-জেডপাস ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে টোল বাই মেইলের তুলনায় কম হারে টোল দিতে পারেন। টোল বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ফি যোগ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। নিয়মিত গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের তাই ই-জেডপাস অ্যাকাউন্ট সচল রাখা এবং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও পেমেন্টের তথ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় খরচ হতে পারে। গাড়ির মালিকের নির্দেশিকায় যে ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, সেটিই ব্যবহার করা উচিত। যেসব গাড়িতে সাধারণ মানের পেট্রোল ব্যবহার করা যায়, সেখানে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বেশি দামের প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করলে সাধারণত বাড়তি পারফরম্যান্স বা জ্বালানি সাশ্রয়ের উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায় না। তবে গাড়ি প্রস্তুতকারক যদি প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার বাধ্যতামূলক বা সুপারিশ করে, সে ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। সবশেষে, একই ড্রাইভিং রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বীমা কোম্পানি একই চালকের জন্য ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। তাই পলিসি নবায়নের সময় শুধু বর্তমান কোম্পানির প্রস্তাবিত মূল্য গ্রহণ না করে কয়েকটি কোম্পানির বীমা কোট তুলনা করা যেতে পারে। ক্রেডিট স্কোরও কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়ির বীমার মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এর নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন এবং সব জায়গায় ক্রেডিট স্কোরের প্রভাব একই নয়। গাড়ির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় কোনো পদক্ষেপের চেয়ে নিয়মিত ছোট ছোট বিষয় নজরে রাখাই বেশি কার্যকর হতে পারে। গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে টায়ারের বাতাসের চাপ, ড্যাশবোর্ডের সতর্কতার বাতি, ই-জেডপাস বা টোল অ্যাকাউন্ট এবং বীমা পলিসির তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো ট্রাফিক টিকিট, পার্কিং জরিমানা বা টোল বিল পেলে সেটি ফেলে না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা প্রয়োজন হলে আপত্তি জানানো উচিত। অঙ্গরাজ্য, শহর, গাড়ির মডেল, চালকের ড্রাইভিং রেকর্ড এবং বীমা পলিসির ধরন অনুযায়ী প্রকৃত খরচ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট জরিমানা বা বীমার খরচের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান কর্তৃপক্ষ, টোল কর্তৃপক্ষ এবং বীমা কোম্পানির সর্বশেষ তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে ২৪টি অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্টের লটারি চলছে। ২৯০৫ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটের নতুন আবাসিক ভবনের এসব অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৬৮১ ডলার থেকে। যোগ্য আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার শর্ত পূরণ করা আবেদনকারীরা লটারির জন্য বিবেচিত হবেন। আটতলা মিশ্র-ব্যবহারের এই ভবনে মোট ৭৭টি আবাসিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি ইউনিট অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এসব ইউনিটের জন্য যোগ্য পরিবারের বার্ষিক আয় ৬৩ হাজার ২৫৮ ডলার থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও নির্দিষ্ট ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে আয়সীমা পরিবর্তিত হবে। মোট ২১টি এক-বেডরুম এবং তিনটি দুই-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্ট এই লটারিতে রয়েছে। ৮০ শতাংশ এরিয়া মিডিয়ান ইনকাম বা এএমআই শ্রেণিতে রয়েছে ১৫টি ইউনিট। এর মধ্যে ১৩টি এক-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৬৮১ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য যোগ্য পরিবারের আয় ৬৩ হাজার ২৫৮ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়া ৮০ শতাংশ এএমআই শ্রেণিতে দুটি দুই-বেডরুম ইউনিট রয়েছে, যার মাসিক রেন্ট ২ হাজার ২ ডলার এবং আয়সীমা ৭৬ হাজার ১৮৩ থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬০ ডলার। বাকি নয়টি ইউনিট ১৩০ শতাংশ এএমআই শ্রেণির। এর মধ্যে আটটি এক-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ২ হাজার ৫০০ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৩৮ থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একটি দুই-বেডরুম ইউনিটের মাসিক রেন্ট ২ হাজার ৮৫০ ডলার এবং এর জন্য আয়সীমা ১ লাখ ৫ হাজার ২৫৮ থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত পার্কিং স্পেসসহ গ্যারেজ, বাইক স্টোরেজ লকার, পার্সেল লকার, লিফট এবং রুফটপ টেরেস। অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে ওয়াশার ও ড্রায়ার, ইন্টারকম, এয়ার কন্ডিশনিং এবং আধুনিক কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও ফিনিশিং রয়েছে। তবে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিল নিজেদের বহন করতে হবে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক স্টোভ ও হিটিংয়ের খরচও রয়েছে। গরম পানির খরচ রেন্টের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ও সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী কোন ইউনিটের জন্য যোগ্যতা রয়েছে তা যাচাই করা। শুধু সর্বনিম্ন ১ হাজার ৬৮১ ডলারের রেন্ট দেখেই আবেদন করা যাবে না। ওই ইউনিটের জন্য নির্ধারিত আয়সীমা ও পরিবারের আকারের শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন করতে হবে নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল NYC Housing Connect প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। প্রথমবার আবেদনকারীদের Housing Connect-এ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বর্তমান ঠিকানা ও আয়সংক্রান্ত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় প্রোফাইল সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ২৯০৫ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটের লটারি খুঁজে যোগ্য ইউনিটের জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন করতে কোনো ফি নেই। এই লটারির আবেদন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খোলা হয়েছে এবং শেষ হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। অনলাইনে আবেদন করলে ওই তারিখের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। ডাকযোগে আবেদন করলে আবেদনপত্র ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পোস্টমার্ক হতে হবে। আবেদন শেষ হওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া এগোবে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই সরাসরি অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নয়। নির্বাচিত আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার প্রমাণপত্র যাচাই করা হবে। সব শর্ত পূরণ করার পরই অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। তাই আগ্রহী আবেদনকারীদের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে নির্ধারিত আয়সীমা ও পরিবারের আকারের শর্ত যাচাই করে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এই লটারির জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।