মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমবার স্বীকার করল ওয়াশিংটন
পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর কাছে বর্তমানে কক্ষপথে থাকা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণাত্মক তৎপরতার বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মহাকাশে পরিবর্তিত ও ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই কক্ষপথে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা, কীভাবে কাজ করে কিংবা ঠিক কখন এগুলো কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মেইঙ্ক। সাংবাদিকদের সঙ্গে পরে এক বৈঠকেও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এসব সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করলে প্রতিরোধমূলক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মেইঙ্কের এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে মহাকাশে অস্ত্র থাকার সবচেয়ে সরাসরি প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা মহাকাশে সম্ভাব্য সামরিক সক্ষমতা, প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট মোকাবিলা এবং মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললেও কক্ষপথে ইতোমধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি এভাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি।
মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, রাশিয়া ও চীন মহাকাশে এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্যাটেলাইটের যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত বা অকার্যকর করতে পারে। এসব আশঙ্কার কারণেই ওয়াশিংটন মহাকাশে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে।
মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর ভাষায়, ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ’ বলতে এমন সক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মহাকাশে নিজেদের ও মিত্রদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা, দুর্বল করা বা অকার্যকর করা যায়। এসব ব্যবস্থা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব বলে বাহিনীটি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই পরিকল্পনার আওতায় কক্ষপথ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে। বিমানবাহিনীর সচিব জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার জন্য ইতোমধ্যে উড়ান-প্রস্তুত হার্ডওয়্যার তৈরি হয়েছে।
মেইঙ্ক আরও জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত করার স্যাটেলাইট ব্যবস্থার প্রথম উপগ্রহ চলতি মাসেই উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে থাকা শত্রু বিমান বা অন্যান্য উড়ন্ত লক্ষ্য শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট ও মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। ফলে পৃথিবীর কক্ষপথ ভবিষ্যতে সামরিক প্রতিযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ নয়। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি বা মহাকাশ চুক্তি পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু প্রচলিত অস্ত্র, স্যাটেলাইট বাধাগ্রস্ত করার ব্যবস্থা বা অন্যান্য অ-পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা নেই।
গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কার্যক্রম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর মতে, চীন সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশ-বিরোধী সক্ষমতা তৈরি করছে। রাশিয়াকেও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে বলে তারা মনে করে, যা অন্য মহাকাশযানকে আক্রমণ করার সক্ষমতা রাখতে পারে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার দুটি স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত এক ডজন স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনী ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন শাখা। মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ, নজরদারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখাই শুরুতে এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। এখন সেই দায়িত্বের পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতা মোকাবিলার জন্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বাহিনীটি।
মেইঙ্কের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কক্ষপথে মার্কিন অস্ত্র থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো। তবে সেগুলো কী ধরনের অস্ত্র এবং কী পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতার প্রকৃত পরিধি আপাতত অজানাই থাকছে।
সূত্র: বিবিসি, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন ও মার্কিন মহাকাশ বাহিনী।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বারব্যাঙ্ক শহরে হ্যালোইন উপলক্ষে এক অভিনব আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। নিজেদের বাড়ির সামনের আঙিনা, বাগান ও প্রবেশপথকে ভয়ংকর ভৌতিক জগতে রূপান্তরিত করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতা দেখতে প্রতিবছর ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কোথাও বিশাল আকৃতির কঙ্কাল, কোথাও ভয়ংকর মুখোশ পরা চরিত্র, আবার কোথাও আলো, শব্দ ও আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে জীবন্ত ভূতের মতো পরিবেশ। রাতের অন্ধকারে এসব সাজসজ্জা আরও বেশি আকর্ষণীয় ও রহস্যময় হয়ে ওঠে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এসব আয়োজনের পেছনে বড় কোনো বিনোদন প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে রয়েছেন সাধারণ বাড়ির মালিকেরা। নিজেদের অর্থ, সময় ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা বাড়িগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণে পরিণত করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারব্যাঙ্কের জনপ্রিয় ‘বারব্যাঙ্ক ক্লাউন হাউস’ অতীতে হ্যালোইনের এক রাতে আনুমানিক ১৫ হাজার দর্শনার্থী আকর্ষণ করেছিল। বিপুল মানুষের সমাগম সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় আয়োজকেরা চলতি মৌসুমে আয়োজনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভৌতিক বাড়ির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বারব্যাঙ্কের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে পরিবার, বন্ধু ও শিশুদের নিয়ে মানুষ এসব আয়োজন দেখতে আসেন। তবে বিপুল দর্শনার্থীর উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে যানজট, গাড়ি পার্কিং, শব্দদূষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন একটি সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সৃজনশীলতা ও পরিকল্পনা কীভাবে একটি আবাসিক এলাকাকে মৌসুমি পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করতে পারে, বারব্যাঙ্ক তার একটি দৃষ্টান্ত। হ্যালোইনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর নানা আয়োজন হয়। তবে বারব্যাঙ্কের এই বাড়িভিত্তিক ভৌতিক প্রদর্শনী প্রমাণ করে, আকর্ষণীয় কিছু তৈরি করতে সব সময় বড় বিনিয়োগ বা বিশাল প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো একটি বাড়ির আঙিনাও হাজারো মানুষের আনন্দের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
নিজের দেশেই পরবাসী! যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও ১০ মাস ধরে আইসিইর বন্দিশিবিরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম
৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরসের (জিএম) বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর তথ্য এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহের অভিযোগে ২২ কোটি ডলারের সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতার অংশ হিসেবে মেইন অঙ্গরাজ্য পাবে ২৮ লাখ ডলারের কিছু বেশি। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মেইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি এই সমঝোতার আওতায় রয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জিএম তাদের স্মার্ট ড্রাইভার কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাহকদের গাড়ি চালানোর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিল। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল চালকের গাড়ি চালানোর ধরন, ভ্রমণের অভ্যাস এবং গাড়ির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, গ্রাহকদের যথাযথ সম্মতি ছাড়াই এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। বিশেষ করে গাড়িবিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে চালকদের তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জিএমের স্মার্ট ড্রাইভার কর্মসূচি ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এই সময়ে লাখ লাখ গাড়িচালক কর্মসূচিটির আওতায় যুক্ত হয়েছিলেন।কর্মসূচিটির মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এর মধ্যে গাড়ির গতি, ব্রেক ব্যবহারের ধরন, গাড়ি চালানোর সময় এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব তথ্য গ্রাহকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, এর ফলে গাড়িচালকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক সমঝোতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ মেনে চলতে সম্মত হয়েছে জিএম।সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে গাড়ির তথ্য সংগ্রহ ও অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করার আগে গ্রাহকদের স্পষ্ট সম্মতি নেবে। একই সঙ্গে কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা সীমিত করার ব্যবস্থাও থাকবে। জিএমের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।এই সমঝোতার আওতায় মেইন অঙ্গরাজ্য ২৮ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাবে। পুরো সমঝোতার অর্থ ২২ কোটি ডলার।এর আগে ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনীয়তার অভিযোগে আলাদা তদন্তের অবসান ঘটাতে জিএম ১২৭ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য গাড়ির অবস্থান ও চালকের আচরণসংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা-তথ্য প্রতিবেদনকারী সংস্থার কাছে প্রকাশ না করার শর্ত মেনে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি আবাসন নিয়ে বড় উদ্যোগ, লাখো পরিবারের জন্য খুলছে নতুন তথ্যের দরজা
প্রেমিক হত্যা মামলার অভিযুক্ত তরুণীর আবেদন, জেল নয় কলেজের হোস্টেলে থাকতে চান!
৩৫ হাজার ডলারে বাড়ির পেছনে ছোট ঘর বানিয়ে মাসে ১২০০ ডলার ভাড়া পাচ্ছেন নারী
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরপ্রাপ্ত ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। চিকিৎসকের ফি, অস্ত্রোপচার, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার খরচ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে নিজেদের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এখন বয়স্ক ভোটারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ৮৩ বছর বয়সী বারবারা ওয়েইগ্যান্ডের জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। অবসর জীবনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চলতি বছর কাঁধের অস্ত্রোপচার এবং মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যানসারের চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে তাঁকে অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে ৪ হাজার ডলার তুলে নিতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে নতুন চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ২০২৭ সাল থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে। ফলে বয়স্ক নাগরিকদের নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা, ওষুধের খরচ এবং মাসিক প্রিমিয়াম নতুন করে যাচাই করতে হচ্ছে। মেডিকেয়ারের ওষুধ সুবিধা পার্ট ডিতে নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় করার সর্বোচ্চ সীমা, সাময়িক ফেডারেল প্রিমিয়াম সহায়তার অবসান এবং ওষুধের দাম নিয়ে নতুন সমঝোতা—এসব বিষয় আগামী বছরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্যে বিমা কোম্পানিগুলো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় নতুন গ্রাহক গ্রহণ সীমিত করছে। কোথাও কোথাও কিছু পরিকল্পনা বন্ধ বা বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হচ্ছে।ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল বয়স্ক ব্যক্তিদের নতুন পরিকল্পনা খুঁজতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম।কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের মার্চ মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৪ জন গত এক বছরে ওষুধের ব্যয়ের কারণে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে পারেননি। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় পাঁচজনের একজন জানিয়েছেন, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য তাঁরা ওষুধ অর্ধেক করেছেন অথবা নির্ধারিত মাত্রার কিছু অংশ বাদ দিয়েছেন।ওহাইওর ৮৩ বছর বয়সী বারবারা ওয়েইগ্যান্ডও ওষুধ দীর্ঘদিন চালিয়ে নিতে একদিন পরপর সেবনের কথা ভাবছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপ কতটা গভীর, তা তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশি সাইম মাহমুদ
নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসের ব্যাপক অভিযান, গ্রেপ্তার শত শত কৃষিশ্রমিক