করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির সন্দেহে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরকারি ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
করোনাকালীন সরকারি ঋণ কর্মসূচিতে জালিয়াতির সন্দেহে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার মিসৌরির কানসাস সিটিতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ভ্যান্স বলেন, করদাতাদের অর্থ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের আর সরকারি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, সন্দেহভাজন এসব ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচিতে আবেদন করা থেকে বিরত রাখা হবে।
মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএর প্রশাসক কেলি লফলার জানান, নতুন করে স্থগিত করা প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আনুমানিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির যোগসূত্র রয়েছে। এই অর্থ ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের সরকারি তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের পদক্ষেপগুলোসহ দেশজুড়ে প্রায় ৪৯ বিলিয়ন ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসবিএ।
এসবিএ জানিয়েছে, স্থগিত করা ঋণগ্রহীতারা ভবিষ্যতে সংস্থাটির ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি এসবিএর ৮(এ) ফেডারেল ঠিকাদারি কর্মসূচিসহ কিছু সরকারি সুবিধাও তাদের জন্য বন্ধ থাকবে। সন্দেহভাজন ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। অর্থ পরিশোধ না করলে বিষয়টি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পদক্ষেপও হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভ্যান্সের ঘোষণার সঙ্গে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কয়েক মাসের একটি বড় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ফলাফল প্রকাশ করেছে। ১২ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ৪০টির বেশি মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং ২০টির বেশি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারী সংস্থা অংশ নেয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৬০ জনের বেশি আসামিকে ঘিরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার।
এই অভিযানে প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। আরও প্রায় ৪৩ জন এসবিএ-সংশ্লিষ্ট করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ৪০ জনের সাজাও হয়েছে, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন ব্যবসা দেখিয়ে ঋণের আবেদন, কর্মী ও বেতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, আয় ও ব্যবসার হিসাব পরিবর্তন করা এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া।
করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ২০২০ সালে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম বা পিপিপি চালু করেছিল মার্কিন সরকার। লকডাউন ও ব্যবসায়িক বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের বেতনসহ নির্দিষ্ট খরচ মেটাতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে পরে তা মওকুফ করার সুযোগও ছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির আওতায় প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। তবে কর্মসূচি দ্রুত চালু করার কারণে ঋণ অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায়।
মার্কিন সরকারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পিপিপি এবং করোনাকালীন আরেকটি ঋণ কর্মসূচি, অর্থনৈতিক ক্ষতি দুর্যোগ ঋণ বা ইআইডিএল থেকে বিতরণ করা ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থে জালিয়াতির লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে এই পরিমাণকে সরাসরি প্রমাণিত জালিয়াতির অর্থ হিসেবে ধরা যায় না। এটি বিভিন্ন তথ্য, অসঙ্গতি ও জালিয়াতির সম্ভাব্য সংকেতের ভিত্তিতে করা সরকারি হিসাব।
করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির অনেক ঘটনা এত বছর পরও কেন সামনে আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সিবিএস নিউজকে বলেন, আগে যেসব মামলার তদন্ত বা বিচার করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও অর্থ ছিল না, এখন সেসব মামলা হাতে নেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ প্রসিকিউটর এ ধরনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।
গত মাসে বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি শনাক্তকরণ কেন্দ্র চালু করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আলাদা তথ্যভান্ডার থেকে তথ্য নিয়ে সন্দেহজনক লেনদেন ও আবেদন শনাক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত মার্কিন সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতি নিয়ে করা প্রায় ৩০ লাখ রেফারেলের মধ্যে প্রায় ২০ লাখেই অসম্পূর্ণ, ভুল অথবা পুনরাবৃত্ত তথ্য ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
নতুন অভিযানে মিসৌরির একটি মামলাও বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সেখানে জেমি গ্রে নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গ্রে পিপিপি ও ইআইডিএল ঋণের আবেদনে এমন কয়েক ডজন ব্যবসার মালিকানা দাবি করেছিলেন, যেগুলোর বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগে বাস্তবে চালু ছিল না। ব্যবসার মালিকানা, কর্মী, আয় এবং কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আইওয়াতেও পৃথক একটি মামলায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা আরও শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে প্রায় ৪৭০টি ভুয়া পিপিপি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বিতরণও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মহামারির সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন অভিযান সেই পুরোনো প্রশ্নও সামনে এনেছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির বিস্তৃত স্বয়ংক্রিয় যাচাই ও পর্যালোচনা ব্যবস্থা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর করা হয়। তখন পর্যন্ত ৫২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পিপিপি ঋণ অনুমোদিত হয়ে গিয়েছিল।
তদন্তের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। কংগ্রেস করোনাকালীন পিপিপি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত ও মামলা করার আইনি সময়সীমা ১০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ২০৩০ বা ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন মামলা সামনে আসার সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি অর্থের অপচয় ও জালিয়াতি বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে। চলতি বছর বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠন করেছে। পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরকারি অর্থের অপচয়, অপব্যবহার ও জালিয়াতি শনাক্তে একটি আন্তঃসরকারি টাস্কফোর্সও কাজ করছে।
বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাকালীন সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখা। এখন তদন্তকারীদের লক্ষ্য হলো যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেই অর্থের অপব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা এবং সম্ভব হলে সরকারি অর্থ ফেরত আনা।
সূত্র: সিবিএস নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরসের (জিএম) বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর তথ্য এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহের অভিযোগে ২২ কোটি ডলারের সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতার অংশ হিসেবে মেইন অঙ্গরাজ্য পাবে ২৮ লাখ ডলারের কিছু বেশি। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মেইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি এই সমঝোতার আওতায় রয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জিএম তাদের স্মার্ট ড্রাইভার কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাহকদের গাড়ি চালানোর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিল। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল চালকের গাড়ি চালানোর ধরন, ভ্রমণের অভ্যাস এবং গাড়ির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, গ্রাহকদের যথাযথ সম্মতি ছাড়াই এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। বিশেষ করে গাড়িবিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে চালকদের তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জিএমের স্মার্ট ড্রাইভার কর্মসূচি ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এই সময়ে লাখ লাখ গাড়িচালক কর্মসূচিটির আওতায় যুক্ত হয়েছিলেন।কর্মসূচিটির মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এর মধ্যে গাড়ির গতি, ব্রেক ব্যবহারের ধরন, গাড়ি চালানোর সময় এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব তথ্য গ্রাহকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, এর ফলে গাড়িচালকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক সমঝোতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ মেনে চলতে সম্মত হয়েছে জিএম।সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে গাড়ির তথ্য সংগ্রহ ও অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করার আগে গ্রাহকদের স্পষ্ট সম্মতি নেবে। একই সঙ্গে কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা সীমিত করার ব্যবস্থাও থাকবে। জিএমের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।এই সমঝোতার আওতায় মেইন অঙ্গরাজ্য ২৮ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাবে। পুরো সমঝোতার অর্থ ২২ কোটি ডলার।এর আগে ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনীয়তার অভিযোগে আলাদা তদন্তের অবসান ঘটাতে জিএম ১২৭ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য গাড়ির অবস্থান ও চালকের আচরণসংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা-তথ্য প্রতিবেদনকারী সংস্থার কাছে প্রকাশ না করার শর্ত মেনে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি আবাসন নিয়ে বড় উদ্যোগ, লাখো পরিবারের জন্য খুলছে নতুন তথ্যের দরজা
প্রেমিক হত্যা মামলার অভিযুক্ত তরুণীর আবেদন, জেল নয় কলেজের হোস্টেলে থাকতে চান!
৩৫ হাজার ডলারে বাড়ির পেছনে ছোট ঘর বানিয়ে মাসে ১২০০ ডলার ভাড়া পাচ্ছেন নারী
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরপ্রাপ্ত ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। চিকিৎসকের ফি, অস্ত্রোপচার, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার খরচ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে নিজেদের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এখন বয়স্ক ভোটারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ৮৩ বছর বয়সী বারবারা ওয়েইগ্যান্ডের জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। অবসর জীবনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চলতি বছর কাঁধের অস্ত্রোপচার এবং মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যানসারের চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে তাঁকে অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে ৪ হাজার ডলার তুলে নিতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে নতুন চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ২০২৭ সাল থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে। ফলে বয়স্ক নাগরিকদের নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা, ওষুধের খরচ এবং মাসিক প্রিমিয়াম নতুন করে যাচাই করতে হচ্ছে। মেডিকেয়ারের ওষুধ সুবিধা পার্ট ডিতে নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় করার সর্বোচ্চ সীমা, সাময়িক ফেডারেল প্রিমিয়াম সহায়তার অবসান এবং ওষুধের দাম নিয়ে নতুন সমঝোতা—এসব বিষয় আগামী বছরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্যে বিমা কোম্পানিগুলো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় নতুন গ্রাহক গ্রহণ সীমিত করছে। কোথাও কোথাও কিছু পরিকল্পনা বন্ধ বা বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হচ্ছে।ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল বয়স্ক ব্যক্তিদের নতুন পরিকল্পনা খুঁজতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম।কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের মার্চ মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৪ জন গত এক বছরে ওষুধের ব্যয়ের কারণে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে পারেননি। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় পাঁচজনের একজন জানিয়েছেন, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য তাঁরা ওষুধ অর্ধেক করেছেন অথবা নির্ধারিত মাত্রার কিছু অংশ বাদ দিয়েছেন।ওহাইওর ৮৩ বছর বয়সী বারবারা ওয়েইগ্যান্ডও ওষুধ দীর্ঘদিন চালিয়ে নিতে একদিন পরপর সেবনের কথা ভাবছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপ কতটা গভীর, তা তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশি সাইম মাহমুদ
নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসের ব্যাপক অভিযান, গ্রেপ্তার শত শত কৃষিশ্রমিক
২৬ বছরে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ! ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে নতুন মসজিদ ও ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি পৃথক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরে একটি সাবেক ব্যাংক ভবন কিনে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে দুটি প্রকল্প নিয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরের ৭০২ পার্ক অ্যাভিনিউতে সাবেক ব্যাংক অব আমেরিকার ভবনটিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছে ইসলামিক লিডারশিপ ইনস্টিটিউট অব আমেরিকা। মেরিল্যান্ডভিত্তিক এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সেখানে মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জায়গার পাশাপাশি তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কার্ডিনাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ভবনটি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট আয়মান নাসার জানিয়েছেন, শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা নয়, দক্ষিণ-পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মানুষের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশেও কাজ করতে চান তাঁরা। পরিকল্পিত কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টারে তরুণদের জন্য কর্মশালা, ছোট লাইব্রেরি, বিনোদনের জায়গা এবং বিভিন্ন কমিউনিটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে তারা। তবে নর্টনে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছেন। অক্টোবরের শুরুতে সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে এক ডজনের বেশি বাসিন্দা প্রকল্পটির বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কয়েকজন বাসিন্দা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। ২৭ অক্টোবর আয়োজিত একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেন উদ্যোক্তারা। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এদিকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কির নর্থ ভ্যালি এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বাধা দূর হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর বার্নালিলো কাউন্টি কমিশনাররা চার ভোটের বিপরীতে এক ভোটে প্রকল্পটির অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেন। এর ফলে আলবুকার্কি ইসলামিক সেন্টারের নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই কাউন্টির পরিকল্পনা কমিশন পাঁচ ভোটের বিপরীতে এক ভোটে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলবুকার্কির সেকেন্ড স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এলাকায় নতুন মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান মসজিদে জায়গার সংকট থাকায় বড় পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা করতে চাইছে মুসলিম কমিউনিটি। প্রকল্পের প্রকৌশলী জোসেফ তাহাত জানিয়েছেন, জুমার নামাজের সময় বর্তমান মসজিদে প্রায় ১২০টি গাড়ি এলেও পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে মাত্র ৬৪টি। নতুন প্রকল্পে ২৩৫টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত মসজিদকে ঘিরে যানজট, সড়কের সক্ষমতা এবং এলাকার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। একটি স্থানীয় নেইবারহুড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির করা আপিলে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। আপিলকারীর প্রতিনিধির দাবি, তাঁদের আপত্তি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, বরং যানবাহন চলাচল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে। অন্যদিকে প্রকল্পটির পক্ষে অবস্থান নেওয়া বাসিন্দারা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মুসলিম কমিউনিটির উপাসনালয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। কাউন্টি কর্তৃপক্ষ মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের সঙ্গে ১৫টি শর্ত যুক্ত করেছে। এর মধ্যে ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৬ ফুট রাখা, সেখানে স্কুল পরিচালনা না করা এবং ভবনের বাইরে শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার না করার শর্ত রয়েছে। নির্মাণের পারমিট দেওয়ার আগে যানবাহন চলাচলের প্রভাবসংক্রান্ত সমীক্ষাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে হবে। প্রয়োজনে সড়ক উন্নয়নের ব্যয়ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হতে পারে। নিউ মেক্সিকোতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগের পক্ষে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সমর্থন জানিয়েছেন সান্তা ফের ক্যাথলিক আর্চবিশপ জন চার্লস ওয়েস্টার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে প্রশাসনিক অনুমোদনের অগ্রগতি হলেও নির্মাণকাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোর এই দুটি উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পৃথক উদাহরণ। একটি প্রকল্পে বিদ্যমান ভবনকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যটিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ এগোচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্মাণসংক্রান্ত নিয়মকানুন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কোনো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা
নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজারের আব্দুল খালিক লালুর ইন্তেকাল, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া