সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে নিউইয়র্ক সিটি। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহান মামদানি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।   ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে করা মামলায় নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একাধিক স্থানীয় সরকার এই নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন বিধির মাধ্যমে ফেডারেল সরকার ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার প্রচলিত ও দীর্ঘদিনের আইনি ব্যাখ্যার সীমা অতিক্রম করেছে।   ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি প্রকাশ করে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বিধির আওতায় নির্দিষ্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় আগের তুলনায় বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।   এর মধ্যে আয়ভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং আবাসন সহায়তার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে কোনো অভিবাসী এসব সুবিধার একটি গ্রহণ করলেই তার ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন বিধান নেই। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।   নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যিনি মূলত সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তার ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মামলাকারীদের মতে, সাময়িক, সম্পূরক বা নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধাকে এই ধারণার আওতায় বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঐতিহাসিক আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেস অতীতে ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে নতুন বিধির মাধ্যমে এর অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।   মেয়র মামদানি বলেন, নতুন নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সরকারি কর্মসূচি থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যেগুলো তারা আইন অনুযায়ী পাওয়ার অধিকার রাখে। তার আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা বা আবাসন সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে।   মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায় কোনো বোঝা নয়। তারা শহর ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।   নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে শিকাগো ও সিয়াটলসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় সরকার এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, নতুন নীতি কার্যকর হলে বৈধভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরাও প্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, অভিবাসন আইনে আবেদনকারীদের ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং নতুন বিধি সেই আইনগত কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, অভিবাসীদের নিজেদের আর্থিকভাবে সক্ষম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু একটি সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য নয়, বরং তার বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, পারিবারিক পরিস্থিতি, চাকরি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি দীর্ঘদিনের। তবে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই নীতির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে সেই বিস্তৃত বিধান বাতিল করে তুলনামূলকভাবে সীমিত কাঠামো চালু করে।   নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকারের করা মামলার কারণে বিষয়টি আবার আদালতের সামনে এসেছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হবে কি না এবং এর কতটা অংশ বাস্তবে প্রয়োগ করা যাবে।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য শহরের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২০:৪৬
মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীকে ঘিরে গোলযোগের অভিযোগ
সম্পূর্ণ পোশাক খুলে আশপাশের যাত্রীদের সঙ্গে অশা লী ন আচরণ, নারী আ ট ক

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে এক নারী যাত্রীর পোশাক খুলে অশা লী ন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই নারীকে আ ট ক করে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ, যা বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রকাশিত এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম, সংক্ষেপে একার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা ককপিটে যাত্রীর আচরণ সম্পর্কে জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ নম্বর সারির ৯ডি আসনে থাকা ওই নারী সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অশা লী ন আচরণ করেন বলে ক্রুরা রিপোর্ট করেন। কেবিন ক্রুর বার্তার পর বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে ফ্লাইটটি মাঝপথে অন্য কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামির দিকেই এগিয়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং রাত প্রায় ১১টা ২৩ মিনিটে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিমানটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়। বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই নারীকে বিমান থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস জানিয়েছে, উড়োজাহাজে একটি গোলযোগের ঘটনায় তাদের সদস্যরা সাড়া দেন এবং ঘটনাটি বিমানের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি এফবিআইকে জানানো হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, বয়স এবং কেন তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ঘটনাটিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হলেও, প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হলো—ফ্লাইটে ওই নারীকে ঘিরে একটি গুরুতর আচরণগত গোলযোগের অভিযোগ ওঠে, বিমানটি মিয়ামিতে অবতরণ করে এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কেন এমন আচরণ করেছিলেন বা তার পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।   সোর্স: ইউএসএ টুডে, মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিসের বক্তব্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২০:৪০
ইরানি ব্লগার মারজিয়ে ‘সেভদা’ এব্রাহিমি শামসাবাদি
বিদায়ের বার্তা দিয়েছিলেন আগেই, ইরানি ব্লগারের মৃ ত্যু দ ণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য

ইরানে ৩২ বছর বয়সী ব্লগার মারজিয়ে ‘সেভদা’ এব্রাহিমি শামসাবাদিকে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠন ও ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অপমান, জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী প্রচার, শত্রু রাষ্ট্রের হয়ে গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড এবং সামরিক স্থাপনার ছবি তুলে বিদেশি ফারসি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মারজিয়েকে বন্দর আব্বাস রেভল্যুশনারি কোর্টের একটি শাখা ‘করাপশন অন আর্থ’ বা ‘পৃথিবীতে দুর্নীতি’—ইরানের আইনে মৃ ত্যু দ ণ্ডযোগ্য একটি অভিযোগ—এ দোষী সাব্যস্ত করে মৃ ত্যু দ ণ্ড দিয়েছে বলে হেংগাও ও এইচআরএএনএ জানিয়েছে। আদালত তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং সরকারি ও জনসেবামূলক কাজে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশও দিয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আইনজীবীকে ২৩ আগস্ট মৃ ত্যু দ ণ্ডের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মামলার অন্যতম অভিযোগ হলো, মারজিয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের ছবি তুলেছিলেন এবং সেটি ইরানের বাইরে থাকা একটি ফারসি ভাষার গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ এটিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই মামলায় তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ নেতাকে অপমান এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে মিডিয়া ও প্রোপাগান্ডা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার গ্রে প্তারের আগে দেওয়া একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট। ২৩ ফেব্রুয়ারির ওই পোস্টে প্রায় ১০ হাজার অনুসারীর উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, একদিন যদি তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, তাহলে যেন মনে রাখা হয়—তিনি নিজের বিশ্বাসের পথ বেছে নিয়েছিলেন। পোস্টটিতে একটি সাদা কবুতর ও লাল গোলাপের ছবিও ছিল। পরে তার মৃ ত্যু দ ণ্ডের খবর প্রকাশ হলে পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মারজিয়েকে ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে বা এপ্রিল মাসে আ ট ক করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হেংগাও ও এইচআরএএনএ বলছে, যুদ্ধসংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে তাকে এপ্রিল মাসে আ ট ক করা হয়; অন্যদিকে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তিনি মার্চ থেকেই বন্দি ছিলেন। তাকে বন্দর আব্বাস কারাগারে রাখা হয় এবং প্রায় ২০ দিন একাকী বন্দিত্বে থাকার অভিযোগও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, মারজিয়ের শারীরিক অবস্থাও উদ্বেগজনক। হেংগাও ও এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএস, সোরিয়াসিস, নার্কোলেপসি এবং গুরুতর পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কারাগারে চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তার ঘটনাটি ইরানে রাজনৈতিক ও বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলায় মৃ ত্যু দ ণ্ড ব্যবহারের ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৯ জনের মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি বলছে, আরও অনেকে মৃ ত্যু দ ণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মারজিয়ে দেশটিতে মৃ ত্যু দ ণ্ডের মুখে থাকা অন্তত আট নারীর একজন। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি জানুয়ারির বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মারজিয়ের মামলাটি মূলত যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২০:২
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধির হারানো ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৩ লাখ রুপি
বিমান ছাড়তে ৩০ মিনিট, হারাল ৩ লাখ রুপি—৩৫ মিনিটে ব্যাগ উদ্ধার করে সুনাম কুড়াল দিল্লি পুলিশ

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে আসা দক্ষিণ আফ্রিকার এক প্রতিনিধির প্রায় ৩ লাখ রুপি থাকা ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার মাত্র ৩৫ মিনিটের মধ্যে সেটি উদ্ধার করেছে দিল্লি পুলিশ। বিমান ছাড়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগে প্রতিনিধির হাতে পুরো টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি দুমিসা মরিস সোবেকওয়ে গুরগাঁওয়ের একটি শপিং মলে যাওয়ার পর একটি ক্যাবে করে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার হোটেলে ফেরেন। হোটেলে পৌঁছানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, ভারতীয় ও মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ রুপি থাকা ছোট ব্যাগটি তার সঙ্গে নেই। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে পুলিশ নিখোঁজ ব্যাগের খবর পায়। এরপর নিউ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ শচীন শর্মার নেতৃত্বে পুলিশ দল ক্যাবটির সন্ধানে নামে। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ হোটেলে গিয়ে প্রতিনিধির যাত্রাপথ ও ক্যাবের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে ক্যাব ও চালককে শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়ির একটি আসনের নিচ থেকে টাকাসহ ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চালক প্রথমে তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে সহযোগিতা করেন। ব্যাগ ও টাকার মালিকানা যাচাই শেষে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে পুরো অর্থ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে নির্ধারিত ফ্লাইট ছাড়ার তখনও প্রায় ৩০ মিনিট বাকি ছিল। ফলে শেষ মুহূর্তে নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ফিরে পান তিনি। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ওই প্রতিনিধি ভারতে এসেছিলেন। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। দ্রুত ক্যাব শনাক্ত করে টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে দিল্লি পুলিশের তাৎক্ষণিক সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাটিতে অর্থ হারানোর পর সেটি চুরি হয়েছে—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাগটি ক্যাবের আসনের নিচে পাওয়া যায় এবং যাচাইয়ের পর পুরো অর্থ প্রতিনিধিকে ফেরত দেওয়া হয়। ফলে ৩৫ মিনিটে উদ্ধার এবং ফ্লাইটের মাত্র ৩০ মিনিট আগে টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টিই ঘটনাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৯:৫৩
চীনে সফরকালে পরিবারের সঙ্গে মার্কিন গবেষক মিন জিনের একটি পুরোনো ছবি
চীনে আমন্ত্রণ পেয়ে গেলেন মার্কিন গবেষক, এরপরই আ ট ক

চীনে তিন দিনের একটি কর্মশালায় অংশ নিতে গিয়ে আ ট ক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক মিন জিন। চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছে। তবে তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জুন চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মিয়ানমার থেকে চীনের কুনমিংয়ে পৌঁছান মিন জিন। বিমানবন্দরে নামার পরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি কুনমিংয়ে পৌঁছেছেন। এরপরই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এক চীনা অধ্যাপক। অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরিবারও এ সফর নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল না। কারণ এর আগেও তিনি একাধিকবার একাডেমিক কাজে চীন সফর করেছিলেন। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরেও চীনা সরকারের সমর্থনে আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ৩ জুন দুপুরে কুনমিংয়ে পৌঁছানোর পর মিন জিন ওই অধ্যাপকসহ তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অধ্যাপককে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ল্যান্ডেড, ব্রো’। এরপর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে অধ্যাপক তাঁকে একাধিকবার ফোন করেন এবং বার্তা পাঠান। সন্ধ্যার দিকে মিন জিনের পরিবারও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি যে হোটেল বুক করেছিলেন, সেখানেও তিনি ওঠেননি। তাঁর ফোনের অবস্থান পরে কুনমিং বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে আনিংয়ের লিয়ানরান এলাকায় দেখা যায়। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করার তথ্যও আর পাওয়া যায়নি। পরদিন মিন জিনের স্ত্রী সিলভিয়া জিন একটি চীনা নম্বর থেকে ফোন পান। ফোনে তিনি ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক তদন্ত’ এবং চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য উল্লেখ শুনতে পান। তিনি মিন জিন আ ট ক আছেন কি না জানতে চাইলে ফোনটি কেটে দেওয়া হয়। ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াংঝু কনস্যুলেট থেকে পরিবারকে জানানো হয়, মিন জিনকে চীনের ইউনান প্রদেশে আ ট ক করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন। বর্তমানে মিন জিনকে চীনের ‘নির্দিষ্ট স্থানে আবাসিক নজরদারি’ ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রে প্তার বা অভিযুক্ত করার আগেই গোপন কোনো স্থানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। চীনের আইনে এমন ব্যবস্থায় একজনকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত আ ট ক রাখা সম্ভব। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিন জিনকে একটি ছোট জানালাবিহীন কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বলে এবং সব সময় এক বা দুজন প্রহরী তাঁকে নজরদারিতে রাখেন। তিনি বাইরে যেতে বা সূর্যের আলো পেতে পারেন না। প্রতিদিন প্রায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কখনো এর চেয়েও বেশি সময় ধরে। গত তিন মাসে মিন জিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কর্মকর্তার সঙ্গে তিনবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিবার প্রায় ৩০ মিনিট করে হোটেলের একটি কনফারেন্স রুমে তাঁদের দেখা হয়েছে এবং চীনা কর্মকর্তারা পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিন জিনের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও হাঁটুর ব্যথা রয়েছে। মিন জিন মিয়ানমারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নাগরিকত্ব পান। তিনি মিয়ানমারের গণতন্ত্রায়ন ও জাতিগত সংঘাত নিয়ে গবেষণা করেছেন। ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুদানও ছিল বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, ঠিক কোন কারণে মিন জিনকে আ ট ক করা হয়েছে। তবে তাঁর সাবেক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত একাডেমিক কাজ চীনা নিরাপত্তা সংস্থার নজরে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মিন জিনকে অন্যায়ভাবে আ ট ক করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে। এক মুখপাত্র বলেছেন, চীনা সরকারি সংস্থাগুলো মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেছেন, মিন জিন ‘ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা’র আওতায় রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁর ‘বৈধ অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। চীনে বর্তমানে মিন জিনসহ দুই মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অন্যায়ভাবে আ ট ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যজন হলেন মার্কিন ভূকম্পবিদ ইউলিন চেন, যিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চীনে আ ট ক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে, যা তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার অস্বীকার করেছে। মিন জিনের পরিবার আশা করছে, চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে তাঁর মুক্তির বিষয়টি উঠে আসবে। এর আগে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্য থাকা চীনা যাজক এজরা জিনকে মুক্তি দিয়েছিল। মিন জিনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের আরেকটি স্পর্শকাতর দিক সামনে এনেছে। একদিকে চীন বিদেশি বিনিয়োগকারী, গবেষক ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির কঠোর ও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চীনে ভ্রমণ নিয়ে আরও কঠোর সতর্কতা জারি করা কিংবা চীনকে ‘অন্যায়ভাবে আ ট ক করার রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থান নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৯:৪৭
মদিনায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান, মিলেছে ইউরেনিয়াম
সৌদি আরবে ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক, বড় খনিজ সম্পদের সন্ধান

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাতে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।  মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে এই সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সৌদি মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আকরিকটিতে বিশেষ করে ভারী ধরনের বিরল মৃত্তিকা খনিজের ঘনত্ব বেশি এবং ইউরেনিয়ামেরও আশাব্যঞ্জক ঘনত্ব রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে, এমন নয়। ১১ কোটি টন হলো ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজসমৃদ্ধ আকরিকের আনুমানিক পরিমাণ। এই আকরিক থেকে ঠিক কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা যাবে বা তা বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।  এই আবিষ্কার সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও খনিজ কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সৌদি সরকার অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সম্পদ অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করছে।  এর আগে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর জানিয়েছে, এই চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি ভিত্তি তৈরি করবে এবং সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানির অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।  চুক্তিটি ঘিরে অবশ্য পারমাণবিক বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ভবিষ্যতে সামরিক পারমাণবিক সক্ষমতার পথও সহজ করতে পারে। সৌদি আরব অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য বলে আসছে।  আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, সৌদি আরব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি ও একটি গবেষণা চুল্লি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সংস্থাটি এ কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীও বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাইরে বা গোপন কোনো স্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে না।  ফলে জাবাল সায়িদের নতুন খনিজ সম্পদ সৌদি আরবের জন্য শুধু ইউরেনিয়াম নয়, বিরল মৃত্তিকা খনিজের ক্ষেত্রেও কৌশলগত গুরুত্ব তৈরি করতে পারে। তবে প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, উৎপাদনের সময়সূচি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা স্পষ্ট হতে আরও গবেষণা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।   সোর্স: রয়টার্স, সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়/সৌদি প্রেস এজেন্সি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৯:৩১
এআইয়ের ঝুঁকিকে ‘হোক্স’ বললেন ট্রাম্প
এআই নিয়ে সতর্কবার্তাকে ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ডেটা সেন্টার নিয়েও ক্ষোভ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—এমন সতর্কবার্তাকে ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগকেও তিনি আক্রমণ করেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যাল-এ ধারাবাহিক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।  এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যারা এআই পৃথিবী ধ্বংস করবে বলে সতর্ক করছেন এবং ডেটা সেন্টারকে নিজেদের এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলছেন, তারা অতীতেও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাদের বক্তব্যকে ‘হোক্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, একই ধরনের লোকজন এখন নতুন একটি বিষয় নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এটি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য; এর সত্যতা যাচাই না করে এটিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে এবং এতে চীন লাভবান হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো গার্ডরেল বা অতিরিক্ত বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট’। ট্রাম্পের এই অবস্থান এসেছে এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সতর্কবার্তার পর। অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অত্যাধুনিক এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এআই উন্নয়নে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুধু মানবজাতির অস্তিত্বের ঝুঁকিই নয়, চাকরি, গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ও স্থানীয় প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার স্থাপনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের যুক্তির বিপরীতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না প্রযুক্তি খাতের সবাই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের অপব্যবহার এবং দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে শিল্পখাতের ভেতর থেকেই সতর্কতা বাড়ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাও এআই নীতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে।  এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধীর করে দিতে পারে এবং এতে চীন সুবিধা পেতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ফলে ওয়াশিংটনে এখন মূল বিতর্ক দাঁড়িয়েছে—এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে, নাকি নিরাপত্তার জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনা হবে।  সোর্স: রয়টার্স ও ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট।   

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৯:২৩
আটলান্টায় ভাড়াটিয়াদের জন্য ৫০০ ডলারের সুদমুক্ত ঋণ কর্মসূচি
ভাড়া দিতে আটলান্টায় মিলবে ৫০০ ডলারের সুদমুক্ত ঋণ, নেই ক্রেডিট চেকও

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে আর্থিক সংকটে থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ ঠেকাতে নতুন একটি সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। ‘নো-ফি মাইক্রোলোন অ্যান্টি-ডিসপ্লেসমেন্ট প্রোগ্রাম’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ নিতে কোনো ফি, সুদ বা জামানত দিতে হবে না।   আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্সের কার্যালয় জানিয়েছে, দুই বছরের পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে বাসাভাড়া পরিশোধে সহায়তা করা। এতে ভাড়া দিতে না পারার কারণে কোনো পরিবার যেন হঠাৎ করে উচ্ছেদের মুখে না পড়ে, সেটিই মূল উদ্দেশ্য।   এই কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—ঋণ পেতে ক্রেডিট চেক, সুদ, ফি, ক্রেডিট রিপোর্টিং কিংবা কালেকশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। এমনকি ঋণের জন্য কোনো জামানতও দিতে হবে না। ফলে প্রচলিত ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় থাকা ভাড়াটিয়ারাও এই সহায়তার সুযোগ পেতে পারেন।   তবে ৫০০ ডলারের ঋণটি পুরোপুরি ফেরত দিতে হবে। ঋণগ্রহীতাদের প্রতি সপ্তাহে ২০ ডলার করে মোট ২৫ সপ্তাহে অর্থটি পরিশোধ করতে হবে। কোনো সুদ বা অতিরিক্ত জরিমানাও দিতে হবে না।   মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স বলেন, অনেক সময় সাময়িক সংকট ও স্থিতিশীলতার মধ্যে পার্থক্য হতে পারে মাত্র কয়েকশ ডলার। তার মতে, এই কর্মসূচি পরিবারগুলোকে নিজেদের ঘরে থাকতে সহায়তা করবে এবং সাময়িক আর্থিক সমস্যাকে উচ্ছেদের মতো বড় সংকটে পরিণত হওয়া ঠেকাতে সাহায্য করবে।   এই উদ্যোগটি আটলান্টার সম্প্রতি অনুমোদিত ‘নেইবারহুড রিইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বৃহৎ প্রকল্পের লক্ষ্য শহরের আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও সহনীয় করা এবং বিভিন্ন এলাকায় বিনিয়োগ বাড়ানো।   প্রাথমিকভাবে কর্মসূচির জন্য আটলান্টা শহর ৫০ হাজার ডলার দিচ্ছে। এয়ারবিএনবিও ঋণের খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার ডলার দিয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার আটলান্টা এবং উইলিয়াম জোসেফ ফাউন্ডেশন—দুটি প্রতিষ্ঠান ঋণের মূলধন হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে দিয়েছে।   ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ফ্ল্যাগস্টোন ইনিশিয়েটিভ দুই বছরের পরীক্ষামূলক সময়ে আটলান্টা শহরের হয়ে কর্মসূচিটি পরিচালনা করবে। যোগ্য ভাড়াটিয়ারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন অথবা আটলান্টার হাউজিং হেল্প সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৯:৮
আইসিই কর্মকর্তার পরিবারকে হু ম কি দাতা হোসে
আইসিই কর্মকর্তার পরিবারকে হু মকির অভিযোগে গুয়াতেমালার নাগরিক আ টক

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর এক কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য প্রকাশ করে হু ম কি দেওয়ার অভিযোগে গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে এলিয়েসো বালান-জোকয়কে আ ট ক করেছে আইসিই। সংস্থাটির দাবি, বালান প্রকাশ্য একটি ফেসবুক গ্রুপে ওই কর্মকর্তার স্ত্রী ও সন্তানদের স্কুলসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেন এবং এক শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেন।   আইসিই জানিয়েছে, বালানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের একটি ডিইউআই (মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো) দণ্ডের রেকর্ডও রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগগুলোকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, আইসিইর অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত। সংস্থাটি বলেছে, আইসিই কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হু ম কি কে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে এবং এ ধরনের হু ম কি র জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বর্তমানে বালান আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৮:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভিসা নীতির প্রতীকী চিত্র
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ চার বছরে সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার আগেই আটকে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার চতুর্থ এ বিষয়ে একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা নতুন নিয়মটি আপাতত বাস্তবায়ন করা যাবে না।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা এবং নির্দিষ্ট বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জে ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা চার বছরে সীমিত করার কথা ছিল। চার বছরের বেশি সময় পড়াশোনা বা গবেষণা চালিয়ে যেতে হলে তাদের আলাদাভাবে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে অনুমোদন নিতে হতো। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ‘স্ট্যাটাসের মেয়াদ’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী বা গবেষক তাদের অনুমোদিত শিক্ষাগত বা গবেষণা কার্যক্রম চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন, যতক্ষণ তারা ভিসার শর্ত মেনে চলেন। এই নীতি কয়েক দশক ধরে চালু রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছে, এর সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধের বিষয়টিও নতুন নিয়মের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে প্রশাসন। তবে বিচারক সেলার প্রশাসনের যুক্তিকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করেননি। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএইচএস নতুন নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ এবং অপেক্ষাকৃত কম কঠোর বিকল্পগুলো যথেষ্টভাবে বিবেচনা করেনি। এই মামলায় একাধিক উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংগঠন নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদি ডিগ্রি ও গবেষণা কার্যক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা ছিল। কারণ অনেক গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি চার বছরের বেশি সময় ধরে চলে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জীবনবিজ্ঞান খাতে আন্তর্জাতিক গবেষকদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য এবং অনেক জৈবচিকিৎসাবিষয়ক পিএইচডি সম্পন্ন করতে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগে। বিচারকের আদেশে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান ‘স্ট্যাটাসের মেয়াদ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের অবদান বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং মার্কিন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন নিয়মকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি। এটি একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়মটি কার্যকর করা বন্ধ থাকবে। পরবর্তী আদালতীয় কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে নতুন ভিসা নীতির চূড়ান্ত পরিণতি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য চার বছরের নতুন সীমা কার্যকর হচ্ছে না। নতুন নিয়ম শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৮:৪৭
বিদেশে সামরিক অভিযানে মার্কিন চার সেনা
ইরানসহ বিদেশে অভিযানে ৪০৬ মার্কিন সেনা আ হ ত, ৪ জন সেনা নি হ তের তথ্য প্রকাশ পেন্টাগনের

  বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৪০৬ জন মার্কিন সেনা আ হ ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ জন সেনা নি হ ত হয়েছেন বলে পেন্টাগনের সর্বশেষ ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেম-এর তথ্য জানিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাবে আ হ তের সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় ৬৭ জন বেড়েছে। পেন্টাগনের এই হিসাব ওভারসিজ অপারেশনস নামে আলাদা একটি শ্রেণির আওতাভুক্ত। ৭ জুলাই থেকে এই শ্রেণিতে বিদেশি সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনাদের নি হ ত ও আ হ ত হওয়ার তথ্য রাখা হচ্ছে। এর আগে এসব হতাহতের একটি অংশ অপারেশন এপিক ফিউরি-র হিসাবের মধ্যে ছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০ আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর আরও ৬৭ জন সেনা আ হ ত হয়েছেন। তবে নি হ ত সেনার সংখ্যা ৪ জনেই রয়েছে। জুলাইয়ে জর্ডানের মুয়াফাক সালতি এয়ার বেসে হামলায় তিনজন এবং ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন সেনা নি হ ত হন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৪০৬ জন আ হ তের সবাই ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে আ হ ত হয়েছেন—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। পেন্টাগনের ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণিতে বিভিন্ন বিদেশি সামরিক কার্যক্রমের হতাহতের তথ্য একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। ফলে কোন ঘটনায় কতজন আ হ ত হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিভাজন প্রকাশিত হয়নি। এই হিসাব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। জুলাইয়ে পেন্টাগন ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেমে নতুন ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণি চালু করে। এর ফলে ইরান যুদ্ধের আগের হিসাব থেকে চারজন নি হ ত এবং বেশ কিছু আ হ ত সেনাকে আলাদা শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়। এ নিয়ে হতাহতের হিসাব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এর আগে আগস্টের হিসাবে অপারেশন এপিক ফিউরি ও ওভারসিজ অপারেশনস মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৭৫০-এর বেশি মার্কিন সেনা আ হ ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছিল। সর্বশেষ ৪০৬ জনের সংখ্যা মূলত ৭ জুলাই থেকে চালু হওয়া ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণির হিসাব। তাই দুই হিসাবকে সরাসরি একসঙ্গে যোগ করে নতুন মোট সংখ্যা বলা ঠিক হবে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৮:৩৫
ওজন কমানোর ইনজেকশন ও পাবের পানীয়—দুই ভিন্ন চিত্রের সমন্বয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি
ওজন কমানোর ইনজেকশনে বদলাচ্ছে খাবারের অভ্যাস, ব্যবসা হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ

ওজন কমানোর জনপ্রিয় ইনজেকশন ওষুধের ব্যবহার বাড়ায় ব্রিটেনের মানুষের খাবার ও বাইরে খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির পাব, বার, রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়। স্কটিশ লাইসেন্সড ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর করা এক জরিপে ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওজন কমানোর ওষুধের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক আসা কমেছে। আরও ২২ শতাংশ ব্যবসা জানিয়েছে, গ্রাহকেরা এখন খাবার ও পানীয় বাছাইয়ে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক বা বাছাইপ্রবণ।   স্কটল্যান্ডের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন এসএলটিএর গ্রীষ্মকালীন ব্যবসা পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিএলপি-১ ধরনের ওজন কমানোর ওষুধ এখন হসপিটালিটি খাতের জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তবে ব্যবসা কমার পেছনে শুধু ওজন কমানোর ওষুধ নয়, বাড়তি খরচ, কম ভোক্তা আস্থা এবং মানুষের হাতে কম খরচযোগ্য অর্থও ভূমিকা রাখছে। ওজন কমানোর ইনজেকশনগুলোর মধ্যে জিএলপি-১ ধরনের ওষুধ ক্ষুধা কমাতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করতে কাজ করে। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই শ্রেণির ওষুধের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ও টিরজেপাটাইডের মতো ওষুধ রয়েছে। এগুলো নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত শর্তে ওজন ব্যবস্থাপনার জন্য অনুমোদিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৬ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহার করছেন। এসব ওষুধ ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেওয়ায় অনেক ব্যবহারকারীর বাইরে খাওয়া, স্ন্যাকস ও অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাসেও পরিবর্তন আসছে। এর প্রভাব শুধু রেস্তোরাঁয় সীমাবদ্ধ থাকছে না। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জিএলপি-১ ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়ায় মানুষ কম স্ন্যাকস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কিনছে এবং প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝুঁকছে। ব্রিটেনের কিছু সুপারমার্কেটও ছোট পরিমাণের খাবার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পণ্যের দিকে নজর দিচ্ছে। এসএলটিএর জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তাদের ব্যবসা বর্তমানে সংকুচিত হচ্ছে। একই সময়ে ৯৭ শতাংশ ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে এবং ৫৭ শতাংশ বলেছে, তাদের খরচ মূল্যস্ফীতির হারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ, ওজন কমানোর ওষুধের প্রভাবের পাশাপাশি ব্রিটেনের হসপিটালিটি খাত একাধিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে শুধু ব্যবসার জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যকর, ছোট পরিমাণের এবং বেশি পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁ ও খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন ভোক্তা চাহিদার সঙ্গে নিজেদের মেনু ও ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করছে। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ওজন কমানোর এসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জিএলপি-১ ওষুধ কেবল অনুমোদিত চিকিৎসাগত ব্যবহারে এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত। অনিয়ন্ত্রিত বিক্রেতা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এসব ওষুধ কেনার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে সরকার। ফলে ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তা এখন শুধু স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের খাবার কেনা, রেস্তোরাঁয় যাওয়া এবং কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন—সেসব অভ্যাসেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্রিটেনের হসপিটালিটি খাতের সাম্প্রতিক জরিপ সেই পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৭:৫৩
বাংলাদেশের ফ্লাইটে কম ভাড়া পেতে জেনে নিন বুকিংয়ের কৌশল
কম দামে বিমানের টিকিট পেতে কখন কাটবেন? যে কৌশলে সাশ্রয় হতে পারে অনেক টাকা

বাংলাদেশে ভ্রমণের জন্য বিমানের টিকিট কম দামে পেতে হলে শুধু কখন টিকিট কাটছেন, সেটিই নয়, বরং কোন সময়ে ভ্রমণ করছেন এবং কতটা আগে বুকিং করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রার সময় কিছুটা নমনীয় রাখা, আগেভাগে ভাড়া পর্যবেক্ষণ করা এবং সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনের ফ্লাইট বেছে নেওয়ার মতো কৌশলে অনেক সময় টিকিটের খরচ কমানো সম্ভব।   নিউ ইয়র্ক ও আটলান্টা ভিত্তিক বাংলা ট্রাভেলের এজেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার একটি ভালো সময় হলো অফ সিজন। তার মতে, সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের সময় ভ্রমণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় এই সময়ে ভালো ভাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকে।   তার পরামর্শ, একেবারে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটার পরিবর্তে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ভালো। সাধারণভাবে অন্তত এক মাস আগে বুকিং করার পরামর্শ দিলেও তিনি দুই থেকে তিন মাস আগে টিকিটের দাম পর্যবেক্ষণ করে বুকিং করার কথা বলেন। কারণ বিমান ভাড়া প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে এবং একই রুটের টিকিটের দামও সময়ভেদে ওঠানামা করে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো যাত্রার দিন নিয়ে কিছুটা নমনীয় থাকা। আব্দুল্লাহ আল মামুনের মতে, মঙ্গলবার ও বুধবারের মতো সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ফ্লাইট নিলে অনেক সময় তুলনামূলক কম ভাড়া পাওয়া যায়। গুগল ফ্লাইটস এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারে উড়লে সপ্তাহান্তের তুলনায় গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ কম ভাড়া পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট রুটে প্রতিবার একইভাবে প্রযোজ্য নয়।   তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, মঙ্গলবার বা বুধবারে টিকিট কাটলেই যে কম দাম পাওয়া যাবে, এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। গুগল এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের কোন দিনে টিকিট কেনা হচ্ছে, তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই শুধু মঙ্গলবার আসার অপেক্ষায় না থেকে ভাড়া ভালো থাকলে আগেই বুকিং করা বেশি যুক্তিযুক্ত।   অনলাইনেও রয়েছে বেশ কিছু কার্যকর কৌশল। গুগল ফ্লাইটস এর প্রাইস ট্র্যাকিং চালু করলে নির্দিষ্ট রুট বা ফ্লাইটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ই-মেইল বা নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। যাদের যাত্রার তারিখে নমনীয়তা আছে, তারা নির্দিষ্ট তারিখের পরিবর্তে এনি ডেটস অপশন ব্যবহার করে কম ভাড়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন।   আরেকটি সুবিধা হলো ফ্লেক্সিবল ডেটস বা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা। একই গন্তব্যে একদিন আগে বা পরে যাত্রা করলেই কখনো কখনো ভাড়ায় বড় পার্থক্য দেখা যায়। গুগল ফ্লাইটস এর ক্যালেন্ডার ও প্রাইস গ্রাফ ব্যবহার করে বিভিন্ন দিনের ভাড়া একসঙ্গে তুলনা করা যায়। পাশাপাশি কাছাকাছি একাধিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটের দামও যাচাই করা যেতে পারে।   বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। গুগল এর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাধারণত আগেভাগে বুকিং করার প্রবণতাই ভালো ফল দেয়। তবে নির্দিষ্ট রুট ও যাত্রার তারিখ অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো সময় ভিন্ন হতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ না করে নিজের রুটের ভাড়া কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা বেশি কার্যকর।   কম দামের টিকিট খুঁজতে গিয়ে শুধু মূল ভাড়া দেখলেও চলবে না। লাগেজ ফি, সিট নির্বাচনের খরচ, দীর্ঘ লে-ওভার, বিমানবন্দর পরিবর্তন কিংবা আলাদা টিকিটে যাত্রার মতো অতিরিক্ত বিষয় থাকলে শেষ পর্যন্ত মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে সব অতিরিক্ত খরচ যোগ করে মোট ভাড়া তুলনা করা জরুরি।   সব মিলিয়ে কম দামে বিমানের টিকিট পেতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে অফ সিজনে ভ্রমণের পরিকল্পনা, দুই থেকে তিন মাস আগে থেকেই ভাড়া পর্যবেক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনের ফ্লাইট বিবেচনা, ফ্লেক্সিবল ডেটস ব্যবহার এবং প্রাইস ট্র্যাকিং চালু রাখা। তবে কোনো কৌশলই প্রতিটি রুটে কম দাম নিশ্চিত করে না। ভ্রমণের মৌসুম, চাহিদা, আসনসংখ্যা এবং এয়ারলাইন্সের মূল্য নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে টিকিটের দাম পরিবর্তিত হয়।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৭:৩২
‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা নেওয়ার কারণে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড বা নির্দিষ্ট ভিসার আবেদনে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে—এমন নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহরান মামদানি নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্কসহ কয়েকটি শহর ও কাউন্টির জোট সোমবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করে। একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিও পৃথকভাবে নীতিটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গ্রিন কার্ড বা নির্দিষ্ট ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা আয়ভিত্তিক বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। এর মধ্যে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, হাউজিংসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়মে সরকারি সহায়তা ব্যবহারের বিষয়টি আগের তুলনায় আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিধিও বাড়বে। শহরটির আশঙ্কা, এর ফলে আইনগতভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক অভিবাসী পরিবারও নিজেদের গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিতে অনীহা দেখাতে পারে। মেয়র মামদানি এই সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন নীতির প্রভাব শুধু সরাসরি আবেদনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এর কারণে অন্য যোগ্য পরিবারগুলোর মধ্যেও সরকারি সেবা নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা আইনগতভাবে পাওনা সহায়তা থেকে পরিবারগুলো দূরে থাকলে এর প্রভাব জনস্বাস্থ্যেও পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। মামলায় নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে রয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি এবং ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি। অন্যদিকে লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বাধীন পৃথক মামলায় নিউইয়র্কের সঙ্গে আরও ২১টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি যুক্ত হয়েছে। উভয় মামলাতেই নতুন নীতির বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি বিস্তৃত করার উদ্যোগ অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথমবারের মতো নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদেও অনুরূপ একটি নীতি চালু করা হয়েছিল। তখন মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা ও হাউজিং ভাউচারসহ আরও কিছু সরকারি সুবিধা আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ওই নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই হয় এবং পরে বাইডেন প্রশাসন তা বাতিল করে। বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির মাধ্যমে কর্মকর্তারা একজন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করতে পারবেন। এর লক্ষ্য হলো ভিসা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করা ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা মূল্যায়ন করা। তবে নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ দিয়েছে—শুধু নতুন নীতির কারণে প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা বন্ধ না করতে। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির অভিবাসন পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে এবং একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই কোনো সুবিধা বন্ধ করার আগে বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা অনুমোদিত আইনি সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও বিনামূল্যে ও গোপনীয় আইনি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এখনো আদালতে বিষয়টির শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ফলে নতুন নীতিটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, কিংবা আদালত এর বাস্তবায়নে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য কার্যকর হওয়ার তারিখ সামনে থাকায় অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নিজেদের পরিস্থিতি বুঝে আগে থেকেই আইনগত পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৭:২০
নিউইয়র্কে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যের ২-কে কর্মসূচি
নিউইয়র্কে শিশুদের ফ্রি চাইল্ডকেয়ার, বছরে বাঁচবে ২৬ হাজার ডলার

নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যের 2-K চাইল্ডকেয়ার ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার শিশু পূর্ণদিবস ও বছরব্যাপী বিনামূল্যের সেবা পাচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুলের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব পরিবারের জন্য 2-K সুবিধা নিশ্চিত করা।  প্রথম ধাপের কর্মসূচিতে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ছাড়া চার বরোর নির্দিষ্ট এলাকায় শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, বছরে ২৬০ দিন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি কাজে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।  এই কর্মসূচির চাহিদা যে কতটা বেশি, তা আবেদনসংখ্যাতেই স্পষ্ট। প্রথম ধাপে মাত্র ২ হাজারের কিছু বেশি আসনের বিপরীতে ৫ হাজার ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রায় তিনটি আবেদন ছিল। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পরিবারগুলোর ৮২ শতাংশ তাদের পছন্দের শীর্ষ তিনটির মধ্যে কোনো একটি কর্মসূচিতে জায়গা পেয়েছে এবং অর্ধেকের বেশি পরিবার পেয়েছে তাদের প্রথম পছন্দের আসন।  পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সাশ্রয়ও এই কর্মসূচির অন্যতম বড় দিক। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়ের হিসাবে, একটি বিনামূল্যের 2-K আসন একটি পরিবারকে গড়ে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে। কর্মসূচির উদ্বোধনের দিন মামদানি বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারগুলো অন্তত ২০ হাজার ডলারের বার্ষিক চাইল্ডকেয়ার ব্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।  উদ্বোধনের সময় মামদানি বলেন, এই কর্মসূচির ফলে বাবা-মায়েদের সন্তানদের চাইল্ডকেয়ারের খরচ নিয়ে আগের মতো দুশ্চিন্তা করতে হবে না। তিনি এটিকে নিউইয়র্কের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় কিছু পরিবার জানিয়েছে, বিনামূল্যের এই সেবা তাদের কাজে ফেরার বা অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে।  তবে শুরুতেই চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানান, কিছু কেন্দ্রে ১০০ জনের বেশি শিশুর ওয়েটলিস্ট ছিল এবং অতিরিক্ত আসন তৈরি হওয়ায় ওয়েটলিস্ট থেকে পরিবারগুলোকে অফার দেওয়া শুরু হয়েছে।  কর্মসূচিটি চালুর আগে অবশ্য কিছু প্রশাসনিক সমস্যাও সামনে এসেছিল। চাইল্ডকেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ পরিশোধে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আগস্টে মামদানি প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে ৪৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং চাইল্ডকেয়ার প্রদানকারীদের পেমেন্ট দ্রুত করার উদ্যোগ ঘোষণা করে।  2-K কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ আরও বড়। নিউইয়র্ক স্টেট প্রথম বছরে এই কর্মসূচিতে ৭৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে। ২০২৭ সালে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১২ হাজার শিশুকে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডও তখন অন্তর্ভুক্ত করার কথা। গভর্নর হোকুল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বছরে এ কর্মসূচির জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।  মামদানির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো তার প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিউইয়র্ক সিটির যে কোনো পরিবারের জন্য 2-K আসন নিশ্চিত করা। তবে প্রথম ধাপের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাইল্ডকেয়ার সেন্টার, কর্মী ও অর্থায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।  সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের নতুন 2-K কর্মসূচি শুধু দুই বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নয়; কর্মজীবী পরিবারগুলোর চাইল্ডকেয়ার ব্যয় কমানো এবং বাবা-মায়েদের কর্মক্ষেত্রে থাকার সুযোগ তৈরির একটি বড় সামাজিক কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রথম ধাপের বিপুল চাহিদা এর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে।  সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, নিউইয়র্ক স্টেট, Chalkbeat New York, NBC New York, FOX 5 New York। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৭:৩
লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত লেনক্স ও ওয়েস্টমন্টের আশপাশে এসব কম্পন রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা ছিল ১ দশমিক ০ থেকে ২ দশমিক ৭। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের ধারাটি শুক্রবার রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। বেশিরভাগ ভূমিকম্পই ছিল খুবই ছোট। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। ভূমিকম্পগুলোর কেন্দ্র ছিল নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছাকাছি। এই ফল্টটি কালভার সিটি থেকে নিউপোর্ট বিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর একই ফল্ট জোনের কাছে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ক্রেনশ, হান্টিংটন পার্ক, বেল, ওয়েস্ট অ্যাডামস, মিড-সিটি ও গার্ডেনাসহ দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভূমিকম্পের এই ধারাকে ‘সিসমিক সোয়ার্ম’ বা ‘ভূমিকম্পের ঝাঁক’ বলা হচ্ছে। ইউএসজিএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একই ছোট এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক ভূমিকম্প ঘটলে এবং সেগুলো কোনো স্পষ্ট প্রধান ভূমিকম্পের পরবর্তী আফটারশক না হলে, সেটিকে সাধারণত ‘সোয়ার্ম’ বলা হয়। তবে এসব ক্ষুদ্র ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউএসজিএস বলছে, ছোট ভূমিকম্পের এমন ধারার পর বড় ভূমিকম্প হবেই—এমন নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ধারার আচরণ পরিবর্তনশীল হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে। আগের গবেষণায় এই ফল্টে অতীতে ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বর্তমান ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের ধারাকে এমন বড় ভূমিকম্পের সরাসরি সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এদিকে, ১৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে কয়েক ডজন ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ঘটনাগুলো নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছে কেন্দ্রীভূত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভূমিকম্পের ঝাঁক কয়েক দিন বা আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। অর্থাৎ, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে একসঙ্গে এতগুলো ছোট ভূমিকম্প বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও এ মুহূর্তে এটিকে বড় ভূমিকম্প আসার নিশ্চিত সংকেত বলা যাচ্ছে না। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এমন ঘটনা বাসিন্দাদের জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৬:৫২
‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা নিউইয়র্ক সিটির
অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও কাউন্টির একটি জোট ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছে।   ১০৮ পৃষ্ঠার মামলায় নতুন বিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত ইমিগ্রেশন নির্দেশনা বাতিলের পাশাপাশি সেগুলো কার্যকর করা থেকে ফেডারেল সরকারকে বিরত রাখার আবেদন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে মামলায় বাদী হয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ও ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি। তাদের সঙ্গে রয়েছে পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট।   নতুন বিধিটি আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গ্রিন কার্ডের আবেদন পর্যালোচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সরকারি সহায়তা নেওয়ার ইতিহাস আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও মূল্যায়ন করা হতে পারে।   মামদানি অভিযোগ করেন, নতুন এই নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাঁর মতে, চিকিৎসা নিতে বা আইনসম্মত সরকারি সহায়তা চাইতে গিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট কিছু পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক মানুষও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া থেকে পিছিয়ে যেতে পারেন।   মেয়র বলেন, অভিবাসী কমিউনিটিকে বোঝা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, অভিবাসীরাই নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নতুন বিধিটিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে শহর ও কাউন্টিগুলোর জোটকে নেতৃত্ব দিতে পেরে নিউইয়র্ক সিটি গর্বিত বলেও জানান তিনি।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণে কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই শব্দটি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো, যারা জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে নগদ সরকারি সহায়তা বা সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাদীপক্ষের অভিযোগ, নতুন বিধিতে সেই সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ান—কংগ্রেসের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নতুন বিধি তৈরি করা হয়েছে।   একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি মামলাও করা হয়েছে। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো নতুন বিধিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেমস বলেন, সরকারি সহায়তা চাইলে ডি পোর্ট হওয়ার আশঙ্কায় পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ বিভিন্ন অভিবাসী পরিবারের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ অনেক পরিবার মেডিকেইড ও স্ন্যাপের মতো সরকারি কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকে। কমিউনিটি নেতাদের আশঙ্কা, নতুন বিধি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কেউ কেউ ভয়ের কারণে আইনসম্মত সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন।   তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে সরকারি সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাসের পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।   এদিকে নিউইয়র্কবাসী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিনা মূল্যের, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তা পেতে মেয়র অফিসের ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও নিজের ভাষায় আইনি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৬:২৯
মিয়ামিতে ভয়াবহ ক্রেন দুর্ঘ টনায় আ হত ৪
মিয়ামিতে তিন গাড়ির ওপর হঠাৎ ধসে পড়ল বিশাল ক্রেন, আ হত ৪ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে একটি ক্রেন ধসে অন্তত চারজন আ হত হয়েছেন। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, শহরের ডাউনটাউন এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আ হত চারজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মিয়ামি ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, আটলান্টিক উপকূলের কাছাকাছি একটি মোড়ে ক্রেনের ড্রিলিং রিগ তিনটি গাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে। দু র্ঘটনার পর একটি গাড়ির ভেতরে দুজন আটকা পড়েন। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।   দু র্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আ গুন লাগে। পরে দমকলকর্মীরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দু র্ঘটনায় মোট চারজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সবার অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে একটি চার দরজার এসইউভিতে আ গুন জ্বলতে দেখা যায়। পাশেই গাঢ় রঙের আরেকটি গাড়ি ক্রেনের একটি অংশের নিচে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দু র্ঘটনার পর উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্রেনটি কীভাবে ধসে পড়ল, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দু র্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।   এদিকে দু র্ঘটনার কারণে আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উ দ্ধার ও তদন্তকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ থাকতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৫:৩৬
৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের, কিন্তু সেই অর্থের উৎস নিয়ে রয়ে গেছে বড় প্রশ্ন
৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি কোনো ফাঁপা বুলি নয়, টাকার ঠিকানা জানেন ট্রাম্প!

মার্কিনদের জন্য ৫ হাজার ডলারের এককালীন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, এমনটাই দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, সেটিও তিনি ‘ঠিক কীভাবে’ জানেন বলে জানিয়েছেন। রোববার আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ক্লেয়ারের শ্যানন বিমানবন্দর ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এ সময় তাকে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে আমেরিকানদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হচ্ছে।” অর্থাৎ বিষয়টি কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাস্তবায়নের পথেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এত বিপুল অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের উত্তর ছিল আরও কৌতূহলোদ্দীপক। তিনি বলেন, “আমরা কীভাবে এর অর্থ পরিশোধ করব, তা আমি ঠিক জানি।” এরপর অবশ্য অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে দ্রুত প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন তিনি। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেন, ৫ হাজার ডলারের এই অর্থপ্রদান ‘১০০ শতাংশ’ হবে। এর আগে তার ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ এবং সামরিক সদস্যদের জন্য ১ হাজার ৭৭৬ ডলার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন যুক্তি দেখিয়ে ৫ হাজার ডলারের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। ডেমোক্র্যাটরা বলছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এমন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনের আগে তিনি এই অর্থ দিতে চান না। কারণ ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে এই অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে দেশ ‘ছিন্নভিন্ন’ হয়ে যাবে এবং তারা এই অর্থ দিতে পারবে না। বিপরীতে নিজের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি সবসময় অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এখন দেশের জন্যও অনেক অর্থ উপার্জন করছেন। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের জোগান। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এর পাশাপাশি ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতিও প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে জনসন বলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘সৃজনশীল ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অনেক মানুষকে উৎসাহিত করেছে। তবে বাস্তবায়নের আগে এর বিস্তারিত পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হলেও, সেই টাকা আসবে কোথা থেকে এবং কীভাবে দেওয়া হবে—সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনো সামনে আসেনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:৫৬
২০ বছর ধরে স্ত্রীর অজান্তে গুরুতর অ ন্যা য়ের অভিযোগ—আদালতে ষাটোর্ধ্ব স্বামীর দোষ স্বীকার
২০ বছর ধরে স্ত্রীর অজান্তে গুরুতর নি র্যাতনের অভিযোগ, ষাটোর্ধ্ব স্বামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্টে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে না জানিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গুরুতর নি র্যাতনের ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি সোমবার আদালতে ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। চলতি বছরের শুরুতে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্ত্রীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুতর যৌ ন অপরাধের অভিযোগও তিনি স্বীকার করেছিলেন। এর মধ্যে গুরুতর যৌ ন অপরাধ ও যৌ ন নি র্যাতনের অভিযোগ ছিল। সোমবার ম্যানচেস্টারের মিনশুল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে হাজির হয়ে তিনি ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্ত্রীকে শারী রিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগসহ একই ধরনের আরও কয়েকটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। স্ত্রীর পরিচয় সুরক্ষিত রাখার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। আদালতে গাঢ় ধূসর স্যুট, নীল শার্ট ও নীল টাই পরে হাজির হন তিনি। কাঠগড়া থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে বাকি অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়ার জন্য তাকে বসার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় তার স্ত্রী আদালতের দর্শকসারির সামনের দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে ছিলেন। এর আগে ওই ব্যক্তি স্ত্রীর সম্ম তি ছাড়া তার ব্যক্তি গত ছবি ও ভিডিও ব্যক্তি গত উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছিলেন। এ ঘটনায় একই নারীকে ঘিরে আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা সবাই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:১৭