দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত লেনক্স ও ওয়েস্টমন্টের আশপাশে এসব কম্পন রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা ছিল ১ দশমিক ০ থেকে ২ দশমিক ৭।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের ধারাটি শুক্রবার রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। বেশিরভাগ ভূমিকম্পই ছিল খুবই ছোট। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পগুলোর কেন্দ্র ছিল নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছাকাছি। এই ফল্টটি কালভার সিটি থেকে নিউপোর্ট বিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর একই ফল্ট জোনের কাছে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
ক্রেনশ, হান্টিংটন পার্ক, বেল, ওয়েস্ট অ্যাডামস, মিড-সিটি ও গার্ডেনাসহ দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ভূমিকম্পের এই ধারাকে ‘সিসমিক সোয়ার্ম’ বা ‘ভূমিকম্পের ঝাঁক’ বলা হচ্ছে। ইউএসজিএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একই ছোট এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক ভূমিকম্প ঘটলে এবং সেগুলো কোনো স্পষ্ট প্রধান ভূমিকম্পের পরবর্তী আফটারশক না হলে, সেটিকে সাধারণত ‘সোয়ার্ম’ বলা হয়।
তবে এসব ক্ষুদ্র ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউএসজিএস বলছে, ছোট ভূমিকম্পের এমন ধারার পর বড় ভূমিকম্প হবেই—এমন নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ধারার আচরণ পরিবর্তনশীল হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে। আগের গবেষণায় এই ফল্টে অতীতে ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বর্তমান ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের ধারাকে এমন বড় ভূমিকম্পের সরাসরি সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
এদিকে, ১৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে কয়েক ডজন ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ঘটনাগুলো নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছে কেন্দ্রীভূত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভূমিকম্পের ঝাঁক কয়েক দিন বা আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
অর্থাৎ, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে একসঙ্গে এতগুলো ছোট ভূমিকম্প বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও এ মুহূর্তে এটিকে বড় ভূমিকম্প আসার নিশ্চিত সংকেত বলা যাচ্ছে না। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এমন ঘটনা বাসিন্দাদের জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবি দেশে পরিচালিত সা ম রি ক অ ভি যা নে জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৪০৬ জন মার্কিন সে না আ হ ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ জন সে না নি হ ত হয়েছেন বলে পেন্টাগনের সর্বশেষ ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেম-এর তথ্য জানিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাবে আ হ তের সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় ৬৭ জন বেড়েছে। পেন্টাগনের এই হিসাব ওভারসিজ অপারেশনস নামে আলাদা একটি শ্রেণির আওতাভুক্ত। ৭ জুলাই থেকে এই শ্রেণিতে বি দেশি সা ম রি ক অ ভি যা নে মার্কিন সে না দের নি হ ত ও আ হ ত হওয়ার তথ্য রাখা হচ্ছে। এর আগে এসব হ ত হা তের একটি অংশ অপারেশন এপিক ফিউরি-র হিসাবের মধ্যে ছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০ আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর আরও ৬৭ জন সে না আ হ ত হয়েছেন। তবে নি হ ত সে না র সংখ্যা ৪ জনেই রয়েছে। জুলাইয়ে জর্ডানের মুয়াফাক সালতি এয়ার বেসে হা ম লায় তিনজন এবং ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে একটি ধ্বং স প্রা প্ত ড্রোন নি ষ্ক্রি য় করার সময় আরও একজন সে না নি হ ত হন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৪০৬ জন আ হ তের সবাই ই রা ন-সংক্রান্ত যু দ্ধে আ হ ত হয়েছেন—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। পেন্টাগনের ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণিতে বিভিন্ন বি দেশি সা ম রি ক কার্যক্রমের হ ত হা তের তথ্য একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। ফলে কোন ঘটনায় কতজন আ হ ত হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিভাজন প্রকাশিত হয়নি। এই হিসাব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। জুলাইয়ে পেন্টাগন ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেমে নতুন ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণি চালু করে। এর ফলে ই রা ন যু দ্ধের আগের হিসাব থেকে চারজন নি হ ত এবং বেশ কিছু আ হ ত সে না কে আলাদা শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়। এ নিয়ে হ ত হা তের হিসাব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এর আগে আগস্টের হিসাবে অপারেশন এপিক ফিউরি ও ওভারসিজ অপারেশনস মিলিয়ে ই রা ন যু দ্ধ শুরুর পর ৭৫০-এর বেশি মার্কিন সে না আ হ ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছিল। সর্বশেষ ৪০৬ জনের সংখ্যা মূলত ৭ জুলাই থেকে চালু হওয়া ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণির হিসাব। তাই দুই হিসাবকে সরাসরি একসঙ্গে যোগ করে নতুন মোট সংখ্যা বলা ঠিক হবে না।
কম দামে বিমানের টিকিট পেতে কখন কাটবেন? যে কৌশলে সাশ্রয় হতে পারে অনেক টাকা
গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
নিউইয়র্কে শিশুদের ফ্রি চাইল্ডকেয়ার, বছরে বাঁচবে ২৬ হাজার ডলার
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত লেনক্স ও ওয়েস্টমন্টের আশপাশে এসব কম্পন রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা ছিল ১ দশমিক ০ থেকে ২ দশমিক ৭। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের ধারাটি শুক্রবার রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। বেশিরভাগ ভূমিকম্পই ছিল খুবই ছোট। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। ভূমিকম্পগুলোর কেন্দ্র ছিল নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছাকাছি। এই ফল্টটি কালভার সিটি থেকে নিউপোর্ট বিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর একই ফল্ট জোনের কাছে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ক্রেনশ, হান্টিংটন পার্ক, বেল, ওয়েস্ট অ্যাডামস, মিড-সিটি ও গার্ডেনাসহ দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভূমিকম্পের এই ধারাকে ‘সিসমিক সোয়ার্ম’ বা ‘ভূমিকম্পের ঝাঁক’ বলা হচ্ছে। ইউএসজিএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একই ছোট এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক ভূমিকম্প ঘটলে এবং সেগুলো কোনো স্পষ্ট প্রধান ভূমিকম্পের পরবর্তী আফটারশক না হলে, সেটিকে সাধারণত ‘সোয়ার্ম’ বলা হয়। তবে এসব ক্ষুদ্র ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউএসজিএস বলছে, ছোট ভূমিকম্পের এমন ধারার পর বড় ভূমিকম্প হবেই—এমন নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ধারার আচরণ পরিবর্তনশীল হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে। আগের গবেষণায় এই ফল্টে অতীতে ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বর্তমান ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের ধারাকে এমন বড় ভূমিকম্পের সরাসরি সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এদিকে, ১৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে কয়েক ডজন ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ঘটনাগুলো নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছে কেন্দ্রীভূত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভূমিকম্পের ঝাঁক কয়েক দিন বা আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। অর্থাৎ, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে একসঙ্গে এতগুলো ছোট ভূমিকম্প বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও এ মুহূর্তে এটিকে বড় ভূমিকম্প আসার নিশ্চিত সংকেত বলা যাচ্ছে না। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এমন ঘটনা বাসিন্দাদের জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
মিয়ামিতে তিন গাড়ির ওপর হঠাৎ ধসে পড়ল বিশাল ক্রেন, আ হত ৪ জন
৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি কোনো ফাঁপা বুলি নয়, টাকার ঠিকানা জানেন ট্রাম্প!
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্যারামাউন্ট তাদের প্রধান কার্যালয় ও কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনীতিতে বছরে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫৮ হাজার কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) সঙ্গে প্যারামাউন্টের সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট বিতর্কের মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকস প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রথম হাতে পায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। ডব্লিউবিডির সঙ্গে প্যারামাউন্টের একীভূতকরণ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার নেতৃত্বে ১২টি ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যের আইনি পদক্ষেপের পর। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই একীভূতকরণ হলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন খাতে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্যারামাউন্টকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সরিয়ে নিতে হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে জর্জিয়া, টেনেসি ও টেক্সাসের নামও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তাদের সব কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটিতে স্থায়ীভাবে ২৮ হাজার ৯৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৮০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্যারামাউন্টের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের ব্যয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বছরে ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে ২১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের কর রাজস্ব বছরে প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হিসাব মূলত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাবের একটি চিত্র। এর কারণ, প্যারামাউন্ট অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পরিচালন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্যারামাউন্টের মোট পরিচালন ব্যয়ের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অর্থের হিসাবে এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন থেকে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এদিকে একীভূতকরণসংক্রান্ত প্রায় ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ফি ও অর্থায়ন ব্যয় সামাল দিতে প্যারামাউন্ট যদি ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যয় কমায়, সেক্ষেত্রেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচ বছরে সমান হারে ব্যয় কমানো হলে প্রতিবছর ৫৫০ থেকে ১ হাজার ১১০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ২০২ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ৪০৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমতে পারে। প্যারামাউন্ট ও ডব্লিউবিডির সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ১৩ জুলাই। সেদিন ১২টি অঙ্গরাজ্য চুক্তিটি রোধ করতে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের দাবি, একীভূতকরণ হলে বড় পরিসরের সিনেমা, সম্ভাব্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এবং বেসিক কেবল চ্যানেলের স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ গত জুনে নিজস্ব পর্যালোচনা শেষ করলেও একীভূতকরণ ঠেকাতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। বিভাগের মূল্যায়ন ছিল, এই চুক্তির ফলে স্ট্রিমিং, প্রচলিত টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণ খাতে প্রতিযোগিতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর চুক্তি সম্পন্ন হলে ডব্লিউবির শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এলএইডিইসির প্রতিবেদনের হিসাবে, ১ অক্টোবর থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টিকিং ফি’ বাবদ প্যারামাউন্টকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারামাউন্ট একীভূত প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে অন্তত ৩০টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ হাজার ২০ থেকে ২ হাজার ৭৬০টি চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ৩৭৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। .ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ব্যবসার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের মতে, শক্তিশালী অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ও ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। .তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্যারামাউন্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি যেন ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’
কফির কাপ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশে সাসপেন্ড মার্কিন ছাত্রী, নতুন নিয়ম ঘিরে স্কুলে চরম বিতর্ক