কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ, দেশে ভুয়া চিকিৎসকের ভয়াবহ চিত্র
বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদ নিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর একটি চক্রের চিত্র উঠে এসেছে যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুমোদনহীন বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে অনেকে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেও রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখানো হয়েছে, ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ হতে পারে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২২ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে একটি এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সনদ সংগ্রহই নয়, ভুয়া চিকিৎসকের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছেন, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিচ্ছেন যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। রোগীদের কাছে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পরিচয়ও দেখানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি যমুনা টিভির প্রতিবেদনে উত্থাপিত একটি অনুমান বা দাবি হিসেবে এসেছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে সংখ্যাটিকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখালে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
বাংলাদেশে বৈধভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসির নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে দাবি করলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিএমডিসির নিবন্ধন যাচাই করা যায়। তবে অনুসন্ধানে ভুয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক প্রতারণার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে তার স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে।
যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে আসা এই চিত্রের পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তকরণ, সনদের সত্যতা যাচাই এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: যমুনা টিভি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreবাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদ নিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর একটি চক্রের চিত্র উঠে এসেছে যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুমোদনহীন বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে অনেকে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেও রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখানো হয়েছে, ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ হতে পারে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২২ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে একটি এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সনদ সংগ্রহই নয়, ভুয়া চিকিৎসকের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছেন, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিচ্ছেন যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। রোগীদের কাছে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পরিচয়ও দেখানো হচ্ছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি যমুনা টিভির প্রতিবেদনে উত্থাপিত একটি অনুমান বা দাবি হিসেবে এসেছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে সংখ্যাটিকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখালে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বাংলাদেশে বৈধভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসির নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে দাবি করলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিএমডিসির নিবন্ধন যাচাই করা যায়। তবে অনুসন্ধানে ভুয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক প্রতারণার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে তার স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে আসা এই চিত্রের পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তকরণ, সনদের সত্যতা যাচাই এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: যমুনা টিভি
৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন, সবগুলোতেই চান্স; বৃত্তি ৯০ লাখ ডলারের বেশি
“সে উধাও হয়ে আমাদের অসহায় করে গেছে”: মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য
৪০ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, এতদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসলে আপন দুই বোন
সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল ভিজন পার্টি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটি বলেছে, মুসলিমদের শুধু অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁরা সুইডিশ সমাজের নাগরিক, পেশাজীবী, অভিভাবক ও ভোটার এবং তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের অধিকারও অন্য নাগরিকদের মতোই সুরক্ষিত হওয়া উচিত। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিজন পার্টি সংখ্যালঘু অধিকার, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পরিবারনীতি এবং সমতার বিষয়গুলোকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেছে। নির্বাচনের আগে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, এবারের নির্বাচন সুইডেনের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দলটির অভিযোগ, সুইডেনের রাজনৈতিক আলোচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলাম, মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং উগ্রবাদকে অনেক সময় একই আলোচনার মধ্যে আনা হচ্ছে। ভিজন পার্টির মতে, সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলা করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনকারী মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করা দুটি আলাদা বিষয়। তাদের আশঙ্কা, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আড়ালে সাধারণ মুসলিম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। এদিকে সুইডেনের রাজনীতিতে অভিবাসন ও ইসলাম নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনের আগে আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির ডানপন্থি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের শীর্ষ নেতা রিচার্ড জোমশফ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আগস্টে সুইডিশ সংবাদমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছিল, জোমশফ এক সাক্ষাৎকারে সুইডিশ মুসলিমদের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনও সমালোচনা করেন এবং বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক মূল্যবোধ। জোমশফ অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইসলামকে সুইডেনের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন এবং নির্বাচনের আগে ইসলাম নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যৎ সরকারে এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলাম ও তথাকথিত ‘ইসলামায়ন’ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে। এই রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই ভিজন পার্টি জানিয়েছে, তারা সুইডেনে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তুলেছে। দলটির দাবি, তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার অধীন তিনজন বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে ২১ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে। সেখানে সুইডেনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে ৮৮টি তথ্যসূত্র ও নথিভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে। ভিজন পার্টির ভাষ্য, তারা সুইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম নিষিদ্ধ করার অভিযোগ করছে না। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য ও সংখ্যালঘু অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। দলটির দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকেরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুইডিশ সরকারের কাছে উদ্বেগ জানাতে পারেন। তবে সুইডেনে ইসলাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যে শুধু ভিজন পার্টির অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। রিচার্ড জোমশফের বক্তব্য নিয়ে দেশটির অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও সমালোচনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন বলেছেন, রাজনৈতিক ইসলাম ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক অধিকার। জোমশফের বক্তব্যের পক্ষে তাঁর দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নেতা জিমি অকেরসনও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী বিতর্কে জোমশফের বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে। তবে বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এর আগে ইসলাম নিয়ে জোমশফের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সুইডেনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ইসলামকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। ২০২৪ সালেও ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। ভিজন পার্টি বলেছে, মুসলিমদের জন্য তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছে না। তাদের দাবি মূলত সংবিধান ও আইনে স্বীকৃত সমঅধিকার বাস্তবায়ন। দলটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্যের শিকার না হন এবং মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দলটি ধর্মীয় বৈষম্য ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং ধর্মীয় পোশাক, উপাসনা কিংবা মুসলিমদের পরিচালিত সংগঠনের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ভিজন পার্টির তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদে আসন পাওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে দলটি। তাদের বক্তব্য, মুসলিমদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা সুইডেনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে। সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, নাগরিকত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে ভিজন পার্টির অবস্থান এবং জোমশফের ইসলামবিষয়ক বক্তব্য দেশটির নির্বাচনী বিতর্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এসভিটি নিউজ
সিলিকন পুতুলের মতো চেহারা, কোরীয় রিয়েলিটি শো তারকার ত্বক নিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা
ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করছে সরকার, স্পাউজ ভিসা ও নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা
জার্মানির অপরচুনিটি কার্ডে নতুন সুবিধা, ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন ৮ দেশের নাগরিক
গভীর শোকের মধ্যেও নতুন করে পরিবার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গ্রিসের এক দম্পতি। ২১ বছর বয়সী ছেলেকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারানোর কয়েক মাস পর ২২ বছর ধরে সংরক্ষিত একটি ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। মেয়েটির নাম রাখা হয়েছে জর্জিয়া, প্রয়াত ছেলে জিওর্গোসের স্মরণে। এথেন্সে বুধবার জন্ম নেওয়া শিশুটির ওজন ছিল ৩ দশমিক ৪৯ কিলোগ্রাম। শুক্রবার একটি বেসরকারি মাতৃসদন কেন্দ্রে নবজাতককে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত ছিলেন ক্রিস্টিনা ও তাঁর ৬০ বছর বয়সী স্বামী কনস্তানতিনোস রাপ্তিস। দীর্ঘদিন হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়া শিশুটির ঘটনাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি পরিবারটির ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠেছে। দম্পতির বড় ছেলে জিওর্গোসও আইভিএফ বা কৃত্রিম প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে ২০০৪ সালে জন্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাত্র ২১ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর শোকের মধ্যে থাকা পরিবারটি সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর একটি ব্যবহার করে আবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাঁদের হাতে সময় ছিল খুব কম। গ্রিসের আইনে নারীদের ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত চিকিৎসকের সহায়তায় প্রজনন চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৫০ বছর এক দিন থেকে ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত এ ধরনের চিকিৎসার জন্য জাতীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। ভ্রূণ স্থানান্তরের দিন পর্যন্ত বয়সসীমার এই বিধান প্রযোজ্য। ক্রিস্টিনা জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য তাঁর হাতে ছিল মাত্র প্রায় আড়াই মাস। সময়ের চাপ, মানসিক কষ্ট এবং নানা বাধার মধ্যেও চিকিৎসক ও তাঁর দলের সহযোগিতায় তাঁরা প্রক্রিয়াটি শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করা ভ্রূণটি সফলভাবে গর্ভধারণে পরিণত হয়। চিকিৎসক কস্তাস পানতোস, যিনি ক্রিস্টিনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেলেনিক সোসাইটি অব রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের প্রধান, গ্রিসের বর্তমান বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশটিতে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন চিকিৎসার ক্ষেত্রে বর্তমান বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, সন্তান নেওয়ার সুযোগ থেকে অভিভাবকদের বঞ্চিত করা উচিত নয়। গ্রিসের জাতীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন কর্তৃপক্ষের ২০২২ সালের নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, ৫০ বছর এক দিন থেকে ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন চিকিৎসা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসংক্রান্ত মতামতেরও শর্ত রয়েছে। নতুন সন্তানকে কোলে নিয়ে কনস্তানতিনোস বলেন, চিকিৎসক তাঁদের পরিবারের গভীর অন্ধকার সময় থেকে বের হয়ে আসার পথ দেখিয়েছেন। পরিবারটির কাছে এই শিশুর জন্ম শুধু নতুন একজন সদস্যের আগমন নয়, বরং ছেলেকে হারানোর পর জীবনে আবারও আশার জায়গা তৈরি হওয়ার প্রতীক। দম্পতি মেয়েটির নাম রেখেছেন জর্জিয়া। নামটি তাঁদের প্রয়াত ছেলে জিওর্গোসের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। ক্রিস্টিনা জানিয়েছেন, তিনি চান তাঁর মেয়ে সুস্থ ও আনন্দময় জীবন কাটাক এবং তাঁদের প্রথম সন্তানের মতোই পরিবারের ঘরে হাসি ফিরিয়ে আনুক। ২২ বছর ধরে হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম অবশ্য বিশ্বরেকর্ড নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক দম্পতির ঘরে থ্যাডিয়াস ড্যানিয়েল পিয়ার্স নামে এক ছেলে জন্ম নেয়, যার ভ্রূণ অন্তত ৩১ বছর ৫৬ দিন হিমায়িত অবস্থায় ছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের হিসাবে এটিই সফল গর্ভধারণে ব্যবহৃত সবচেয়ে পুরোনো মানব ভ্রূণের রেকর্ড। ক্রিস্টিনা ও কনস্তানতিনোস ভবিষ্যতে আরও সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেননি। তবে গ্রিসে বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে প্রয়োজনে তাঁদের দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবতে হতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP
আমেরিকা মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের শত্রু বানাতে চায়: পেজেশকিয়ান
ইরানের শাহেদ ড্রোন নকল করে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস তৈরির দাবি তেহরানের