সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে, চীনের সঙ্গে জিততে চান ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:১০
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে

চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতার মধ্যেই তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে। 

 

আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গার্ডরেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ ধীর করার পক্ষে তিনি অবস্থান নেননি। বরং এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরির জন্য কিছু ‘নেতিবাচক শক্তিকে’ দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে। 

 

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই নতুন উদ্বেগ তৈরির সময়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসও দ্রুত এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

 

এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে কৃষিজমি, পানি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া বা কিছু কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এআইয়ের নিরাপত্তা, শিশুদের ওপর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চাকরি হারানোর বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। 

 

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পরস্পরকে টেক্কা দিতে গিয়ে এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সক্ষমতার ব্যবধান তৈরি হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দুই দেশ একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে পারে। 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বামীর হাতে খু ন ভারতীয় তরুণী, আট মাসের শিশুকে বুকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বামীর হাতে খু ন ভারতীয় তরুণী, আট মাসের শিশুকে বুকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ্যাসমিন গিলের (৩০) হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তার স্বামী গুরিন্দর সিং গিলকে গত ১৪ অক্টোবর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতির মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। গুরিন্দর শুরুতে দাবি করেছিলেন যে অভিবাসন কর্মকর্তারা জ্যাসমিনকে তুলে নিয়ে গেছে, তবে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ তার সেই মিথ্যা দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।   গত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিয়ের পর ভারতের লুধিয়ানা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নার্সিংয়ে স্নাতক জ্যাসমিন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর বাড়ি থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। জ্যাসমিনের মৃত্যুর পর তার আট মাস বয়সী ছেলে জুগাদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফস্টার কেয়ারে (শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রে) রয়েছে।   মেয়ের শেষকৃত্য ভারতেই সম্পন্ন করতে তার মৃতদেহ ফেরত আনা এবং একমাত্র নাতির আইনি হেফাজত পেতে জ্যাসমিনের পরিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছে।   সন্তানহারা মা সুখবিন্দর কৌর চরম হতাশা ও শোক প্রকাশ করে বলেন, "আমার মেয়ের পুরো পৃথিবীটাই ছিল ওই ছোট্ট বাচ্চাকে ঘিরে। সে-ই আমার মেয়ের শেষ স্মৃতি। আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে ওর মাঝেই আমার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে অনুভব করতে চাই।" জ্যাসমিনের পরিবার এখন দুই দেশের সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন তারা দ্রুত তাদের নাতিকে কাছে ফিরে পায় এবং মেয়ের শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ৭:২৮
টেক্সাসে ভাঙা হাতের থেরাপি দিতে গিয়ে ১৪ বছরের ছাত্রীকে যৌ ন নির্যাতন, স্কুল ট্রেনারের ৫ বছরের কারাদণ্ড

টেক্সাসে ভাঙা হাতের থেরাপি দিতে গিয়ে ১৪ বছরের ছাত্রীকে যৌ ন নির্যাতন, স্কুল ট্রেনারের ৫ বছরের কারাদণ্ড

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, নিউইয়র্কে গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের জ্যাভিটসের

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, নিউইয়র্কে গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের জ্যাভিটসের

হ্যালোইনের ২৫তম পার্টিতে বিশাল রক্তাক্ত হাত সেজে হাজির ‘হ্যালোইনের রানি’ হেইডি ক্লাম

হ্যালোইনের ২৫তম পার্টিতে বিশাল রক্তাক্ত হাত সেজে হাজির ‘হ্যালোইনের রানি’ হেইডি ক্লাম

বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি
বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। গত ২৯ অক্টোবর সংঘটিত এই সাইবার হামলাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার ট্রেডারট্রেইটর নামের হ্যাকার গোষ্ঠী এই অর্থ চুরির জন্য দায়ী। চুরি করা অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের হামলায় বাইন্যান্স থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছে। এই বিপুল অর্থের পরিমাণ গত বছরের বহুল আলোচিত বাইবিট ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ফলে ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এফবিআইয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর বা ওই সময়ের কাছাকাছি বাইন্যান্স থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি হয়। তদন্তে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীর কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই গোষ্ঠী আগেও বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে হামলায় ঠিক কোন নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল ছিল এবং কীভাবে প্রথম প্রবেশাধিকার পাওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এফবিআইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস এবং ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আইআরএস-সিআই এই অর্থের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদের বড় একটি অংশ ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরপর ডেসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স বা ডিফাই প্ল্যাটফর্ম এবং দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময়ের সেবা ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে।   এই ধরনের প্রক্রিয়ায় চুরি করা ডিজিটাল সম্পদ একাধিক ওয়ালেট ও লেনদেন ব্যবস্থার মধ্যে স্থানান্তর করা হয়। এর ফলে অর্থের প্রকৃত উৎস, মালিকানা এবং শেষ গন্তব্য শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তবে ব্লকচেইনে অনেক লেনদেনের তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। ফলে তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট ওয়ালেটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অর্থ শনাক্ত কিংবা লেনদেন বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন।   এফবিআই বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ, ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান, ডিফাই সেবা এবং ভার্চুয়াল সম্পদ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি চুরি করা অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা প্রকাশ করেছে। এসব ওয়ালেট থেকে কিংবা এর সঙ্গে সম্পর্কিত লেনদেন শনাক্ত হলে তা আটকে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য চুরি করা অর্থ আরও ছড়িয়ে পড়া এবং নগদ অর্থে রূপান্তর করার সুযোগ সীমিত করা।   এবারের সাইবার হামলার সঙ্গে ২০২৫ সালের বাইবিট ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনারও মিল রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরি হয়েছিল। এফবিআই সেই হামলার জন্যও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল। নতুন ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ আগেরটির তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বড় ধরনের আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ তদন্ত করছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব সাইবার কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থ উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সহায়তা করতে ব্যবহার করা হয়। তবে এবারের বাইন্যান্স হামলায় চুরি করা অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামলার জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী কি না, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাঁর এই মন্তব্যের সঙ্গে এফবিআইয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। এফবিআই সরাসরি উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করলেও প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। ফলে সংবাদে উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতাকে এফবিআইয়ের তদন্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।   বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া অর্থের বড় একটি অংশের ক্ষতি মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে। তাদের দাবি, হারানো সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ মেটানোর সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কতজন ইতিমধ্যে অর্থ ফেরত পেয়েছেন কিংবা কবে নাগাদ পুরো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল সম্পদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ একসঙ্গে চুরি হলেও তা দ্রুত নগদ অর্থে রূপান্তর করা সব সময় সহজ নয়। চুরি করা সম্পদের ওপর নজরদারি বাড়লে অপরাধীরা অর্থকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করতে পারে। ফলে অর্থ অনুসরণ, লেনদেন বন্ধ এবং সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ যাঁরা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেন, তাঁদের জন্যও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো এক্সচেঞ্জে অর্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, গ্রাহকের সম্পদ সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং ক্ষতির ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়ার নীতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। শুধু বড় বা পরিচিত প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করলেই সাইবার হামলার ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায় না।   একই সঙ্গে এমন ঘটনার পর ভুয়া ক্ষতিপূরণ, অ্যাকাউন্ট যাচাই কিংবা অর্থ ফেরতের নামে নতুন প্রতারণার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই অপরিচিত লিংকে প্রবেশ করে ওয়ালেটের গোপন তথ্য, পাসওয়ার্ড কিংবা সিড ফ্রেজ দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের নামে অর্থ পাঠানোও ঝুঁকিপূর্ণ।   সব মিলিয়ে বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এফবিআই উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীকে দায়ী করে চুরি করা সম্পদের গতিবিধি শনাক্ত ও লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে বাইন্যান্স গ্রাহকদের ক্ষতি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে। তবে চুরি হওয়া অর্থের কতটা উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং পুরো ঘটনার তদন্তে আরও কী তথ্য পাওয়া যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ৬:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প, নিকি মিনাজ

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিকি মিনাজকে নিয়োগের প্রস্তাবে সায় ট্রাম্পের

বাবা ২৫ বছর বয়সী ফারমিন মেদ্রানো-পেরেজ এবং মা ২৪ বছর বয়সী জেনেইক্সা রদ্রিগেজ-ক্রেসপো

ফ্লোরিডায় পুকুরের পানিতে একা চার বছরের শিশু, অবহেলার অভিযোগে মা-বাবা গ্রেপ্তার

শিক্ষার্থীর মাকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউইয়র্কে স্কুলে যাওয়ার পথে নিহত ছাত্রের মাকে ভিসা দিতে রাজি ট্রাম্প, জানালেন মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগে বিশাল একটি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু
জর্জিয়ায় ওয়ালমার্টের নতুন ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে ১ হাজার চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগে বিশাল একটি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু করেছে খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের ফ্রাঙ্কলিন কাউন্টির কার্নসভিল শহরে নির্মাণাধীন এই কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার ফুলটাইম চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয়। নতুন এই কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইন অর্ডার দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ও পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসবি টিভির ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্নসভিলের ১০৭২৫ ওল্ড ফেডারেল রোডে প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক কেন্দ্রটি। এটি হবে ওয়ালমার্টের ষষ্ঠ পরবর্তী প্রজন্মের ফুলফিলমেন্ট সেন্টার। এখানে অটোমেশন প্রযুক্তি, মেশিন লার্নিং এবং কর্মীদের সমন্বয়ে অনলাইন অর্ডার ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হবে। ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, নতুন কেন্দ্রে কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় এক হাজার ফুলটাইম কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। সাধারণ পরিচালনাগত কাজের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পদেও চাকরির সুযোগ থাকবে। কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সব পদে নিয়োগ কবে শুরু হবে, নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি কী হবে কিংবা নতুন কর্মীদের প্রারম্ভিক বেতন কত নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   নতুন কেন্দ্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে স্বয়ংক্রিয় পণ্য সংরক্ষণ ও সংগ্রহ ব্যবস্থা। ওয়ালমার্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে একটি অর্ডার প্রক্রিয়াকরণে যে ১২টি ধাপ অনুসরণ করতে হয়, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তা কমিয়ে পাঁচটি ধাপে আনা সম্ভব হবে। এতে প্রতিদিন প্রক্রিয়াকরণ করা অর্ডারের সংখ্যা দ্বিগুণ করার সক্ষমতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সংরক্ষণ করা যাবে। এই প্রযুক্তিগত সুবিধার মাধ্যমে ওয়ালমার্ট অনলাইন ক্রেতাদের কাছে আরও দ্রুত পণ্য পৌঁছে দিতে চায়। বিশেষ করে একই দিনে কিংবা পরের দিনে ডেলিভারি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। নতুন কেন্দ্রটি ওয়ালমার্টের অনলাইন ব্যবসা এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ।   প্রকল্পটির ঘোষণা প্রথম দেওয়া হয়েছিল গত ২৭ আগস্ট। সে সময় জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প জানান, ফ্রাঙ্কলিন কাউন্টিতে ওয়ালমার্টের এই বিনিয়োগ স্থানীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে চাকরির জন্য দূরের বড় শহরে যাতায়াতের প্রয়োজন কমতে পারে। জর্জিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগের কমিশনার প্যাট উইলসনও প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের বড় বিনিয়োগ উত্তর-পূর্ব জর্জিয়ার বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রকল্পটি আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।   জর্জিয়ায় ওয়ালমার্টের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আগে থেকেই বিস্তৃত। গভর্নরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটিতে ওয়ালমার্ট ও স্যামস ক্লাব মিলিয়ে ২০৯টি স্টোর এবং ১১টি সাপ্লাই চেইন স্থাপনা রয়েছে। এসব কার্যক্রমে ৬৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মী নিয়োজিত। এ ছাড়া ২০২৫ অর্থবছরে জর্জিয়ার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ওয়ালমার্ট ২ হাজার ৬২০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য ও সেবা সংগ্রহ করেছে। নতুন কেন্দ্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করলেও নিয়োগের বিষয়ে এখনো সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। এক হাজার চাকরি তৈরির ঘোষণা দেওয়া হলেও সব পদে এখনই আবেদন নেওয়া হচ্ছে, এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের সঙ্গে ধাপে ধাপে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আগ্রহী প্রার্থীদের ওয়ালমার্টের আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।   নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে কেন্দ্রটি কবে পুরোপুরি চালু হবে এবং এক হাজার কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া কখন শেষ হবে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ওয়ালমার্টের এই বিনিয়োগ উত্তর জর্জিয়ার কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য সরবরাহ খাতের সম্প্রসারণে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১:২১
শিশু সাবারের ডাইনোসরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ একপর্যায়ে তার আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

খেলনা ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহে বদলে গেল শিশুর আচরণ, খেলনা ছুড়ে আহত করল দাদাকে

মিশিগানের ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ সালে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ২২৩ জন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় দৌড়ানোর সময় ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর গলায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে সন্ধ্যায় জগিংয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নারী, হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

0 Comments