সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ডাউন সিনড্রোম জয় করে ১৭ বছর বয়সেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট শ্যানি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ২১:৩১
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পর বিমানকর্মীদের সঙ্গে শ্যান্টেল পুজার। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পর বিমানকর্মীদের সঙ্গে শ্যান্টেল পুজার। ছবি: সংগৃহীত

শৈশব থেকেই আকাশে ওড়ার প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। কিন্তু জন্মগত নানা জটিলতা, ডাউন সিনড্রোম এবং গুরুতর শ্বাসনালির সমস্যার কারণে শ্যান্টেল ‘শ্যানি’ পুজারের জীবন কেটেছে হাসপাতাল আর চিকিৎসার মধ্যে। বারবার অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ধকলের মধ্যেও তার স্বপ্ন ছিল একদিন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার।

 

শেষ পর্যন্ত ১৭তম জন্মদিনে সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেয় আমেরিকান এয়ারলাইন্স। ২০১৮ সালে জন্মদিনের বিশেষ আয়োজনে শ্যানিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাকে দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিক ইউনিফর্ম, ব্যাজ ও ডানা প্রতীক। এরপর বিভিন্ন ফ্লাইটে তিনি কেবিন ক্রুদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান।

 

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ডেনমার্কের বাসিন্দা শ্যান্টেলের শৈশব অন্য অনেক শিশুর মতো ছিল না। ডাউন সিনড্রোমের পাশাপাশি তার ছিল হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং ল্যারিঙ্গোম্যালেশিয়া, ট্র্যাকিওম্যালেশিয়া ও ট্র্যাকিওব্রঙ্কোম্যালেশিয়াসহ গুরুতর শ্বাসনালির জটিলতা। এসব সমস্যার কারণে তার শ্বাসনালি কখনো কখনো ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যেত বলে তার মা ডিয়ানা মিলার-ব্যারি জানিয়েছিলেন।

 

চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়মিত দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ওহাইওর সিনসিনাটি চিলড্রেনস হাসপাতালে যেতে হতো। দীর্ঘ যাত্রার জন্য বিমানই ছিল তার পরিবারের অন্যতম ভরসা। আর সেই নিয়মিত বিমানযাত্রার মধ্যেই শ্যানির মনে জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন।

 

একটি ফ্লাইটে এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তার সঙ্গে বিশেষভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাকে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ব্যবহৃত ডানা প্রতীক দেন। এরপর থেকেই শ্যানি নিজেও এই পেশায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। বিমানে তিনি কেবিন ক্রুদের কাজ গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখতেন এবং তাদের নিরাপত্তা নির্দেশনাও অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন।

 

শ্যানির মা ডিয়ানা একসময় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে কিছু স্মারক সামগ্রী চেয়েছিলেন। কিন্তু বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে যে সাড়া আসে, তা পরিবারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়।

শ্যানির জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ জন্মদিনের অনুষ্ঠান। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তার বন্ধু, পরিবারের সদস্য এবং বিশেষ অতিথিদের নিয়ে উদযাপন করা হয় দিনটি। তাকে দেওয়া হয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের আনুষ্ঠানিক পোশাক ও পরিচয়পত্র। পাশাপাশি তাকে সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের মর্যাদা দেওয়া হয়।

 

এরপর থেকে চিকিৎসার জন্য যখনই তিনি বিমানে যাতায়াত করতেন, ইউনিফর্ম পরে কেবিন ক্রুদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে অংশ নিতেন। ফ্লাইটের আগে প্রস্তুতিতে সহায়তা করা, যাত্রীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদর্শনে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য ছোটখাটো কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতেন তিনি।

শ্যানির জন্য এই স্বীকৃতি ছিল আরও বিশেষ একটি কারণে। তার ১৭তম জন্মদিনে পৌঁছানো নিয়েও চিকিৎসকদের একসময় গভীর উদ্বেগ ছিল। গুরুতর শ্বাসনালির সমস্যার কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

 

২০১৬ সালে তার একটি বড় অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর শ্যানি ‘ফ্রোজেন’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘লেট ইট গো’ গাইতে শুরু করেন বলে তার মা জানিয়েছেন। ঘটনাটি পরিবারের কাছে তার লড়াই করার মানসিকতার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।

 

শ্যানির গল্প শুধু একটি জন্মদিনের বিশেষ আয়োজনের গল্প নয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একটি শিশুর স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেও ঘটনাটি সামনে এসেছে।

 

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের নিউজরুমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শ্যানি পুজারকে সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিএসএ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইটে তিনি ৫০টিরও বেশি যাত্রা করেছিলেন। ২০১৭ সালে এমনই একটি যাত্রায় পাইলট ম্যাট কোয়েলিন ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ভ্যালারি বাটলারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের সঙ্গে শ্যানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।

 

পরবর্তী সময়ে তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের আগে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও পিএসএর কর্মীরা শ্যানির যাত্রাপথের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশেষ আয়োজন করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসাযাত্রাকে স্মরণীয় করে তুলতে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়।

শ্যানির মা ডিয়ানা মেয়ের জন্য একটি দীর্ঘ ইচ্ছেতালিকাও তৈরি করেছিলেন। জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও শ্যানি একে একে নিজের পছন্দের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করেছেন। বিমানকর্মী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ তার সেই তালিকার অন্যতম বড় অর্জন হয়ে ওঠে।

 

তার গল্পে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে তার স্বপ্নকে থামিয়ে না দিয়ে পরিবার ও বিমান সংস্থার কর্মীরা তাকে নিজের আগ্রহের জগতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই সুযোগই শ্যানির জন্য বিমানযাত্রাকে চিকিৎসার প্রয়োজনের পাশাপাশি আনন্দ ও স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতায় পরিণত করে।

 

সূত্র: আমেরিকান এয়ারলাইন্স নিউজরুম, এবিসি নিউজ ও সিবিএস নিউজ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
চাকরি হারানোর পর বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বর্তমান সুযোগ পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি হারালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ভারতীয় কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মীদের যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ক ভিসার কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার বর্তমান সুযোগ হারাতে পারেন। এতে ভারতীয় কর্মীদের ওপর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে, কারণ ভারতীয় নাগরিকরা এইচ-১বি কর্মীদের বড় একটি অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের প্রস্তাবটির নাম দেওয়া হয়েছে “৬০ দিনের বিবেচনামূলক গ্রেস পিরিয়ড বাতিল”। প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান অভিবাসন বিধির সেই অংশটি বাদ দেওয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।   বর্তমান নিয়মে যোগ্য কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়ে গেলে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা আই-৯৪-এ অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। এই সময়ে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।   প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এই ৬০ দিনের সুরক্ষা আর থাকবে না। চাকরি বা সংশ্লিষ্ট যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর বর্তমান নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ভিত্তি শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ভিত্তি না থাকলে তাকে দেশ ছাড়তে হতে পারে। প্রস্তাবটি শুধু এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নয়। এইচ-১বি১, এল-১, ও-১, টি-এন, ই-১, ই-২ এবং ই-৩ ভিসার কর্মীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ওপরও পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।   এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও চীন থেকে আসা কর্মীদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি হলো, কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাকরি বা যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক থাকা উচিত। চাকরি শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় একই স্ট্যাটাস বজায় রাখার সুযোগ বর্তমান ব্যবস্থায় সেই সম্পর্ককে দুর্বল করে বলে মনে করছে বিভাগটি।   প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোনো কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার পর নতুন আই-১২৯ আবেদন করতে পারেন। আবেদন অনুমোদন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ হলে কর্মী নতুন চাকরির জন্য আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এই মতামত পর্যালোচনার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবটি পরিবর্তন, প্রত্যাহার অথবা চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   অর্থাৎ এখনই এইচ-১বি বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসার ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। বর্তমান নিয়ম এখনো কার্যকর রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য কর্মীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয়সহ অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য এটি অভিবাসন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ২২:৮
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পর বিমানকর্মীদের সঙ্গে শ্যান্টেল পুজার। ছবি: সংগৃহীত

ডাউন সিনড্রোম জয় করে ১৭ বছর বয়সেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট শ্যানি

প্যারিসের অভিজাত আবাসন বাজারে আমেরিকান ক্রেতাদের উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিজ দেশের রাজনীতি ও ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে প্যারিসে বাড়ি কিনছেন মার্কিনীরা

ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

৩০ অঙ্গরাজ্যের ১০ লাখ ওবামাকেয়ার গ্রাহককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেবেন ট্রাম্প

ফ্লোরিডায় স্টোর থেকে শিশুখাদ্য চুরি করে বিক্রি, ১১ লাখ ডলারের চক্রের মূল হোতা দম্পতি গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় স্টোর থেকে শিশুখাদ্য চুরি করে বিক্রি, ১১ লাখ ডলারের চক্রের মূল হোতা দম্পতি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চুরি করা শিশুখাদ্য বা বেবি ফর্মুলা কেনাবেচার ১১ লাখ ডলারের এক বিশাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন ৫৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলসাইদি এবং ৪৯ বছর বয়সী জেইনা আব্দুল-হাসান সু জাবিব। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এবং পাম বিচ শেরিফ অফিস গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চুরি করা সম্পত্তি কেনাবেচার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   দীর্ঘ ১৫ মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে লেক ওয়ার্থের একটি বাড়ি এবং ডেভি এলাকার একটি গুদাম থেকে এই অবৈধ চক্রটি পরিচালিত হওয়ার প্রমাণ পায় কর্তৃপক্ষ। চক্রের সাথে জড়িত পেশাদার চোরেরা (যাদের বুস্টার বলা হয়) পুবলিক্স, টার্গেট, ওয়ালমার্ট, সিভিএস এবং ওয়ালগ্রিনসের মতো বড় স্টোর থেকে বেবি ফর্মুলা চুরি করে আনত।   এরপর তারা বাজারদরের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ দামে, অর্থাৎ প্রতি কৌটা ১০ ডলারে সেগুলো ওই দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিত। পরবর্তীতে আলসাইদি এবং জাবিব বেশি লাভের আশায় এই শিশুখাদ্যগুলো গুদামে মজুত করে পুনরায় চড়া দামে বিক্রি করতেন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফ্লোরিডাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি চুরির ঘটনার সাথে এই সংঘবদ্ধ চক্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।   এই ন্যক্কারজনক অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার বলেন, যেসব বাবা-মা সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য বেবি ফর্মুলার ওপর নির্ভরশীল, তাদের কাছ থেকে এটি চুরি করা অত্যন্ত বিবেকহীন কাজ।   পাম বিচ শেরিফ রিক ব্র্যাডশ জানান, স্টোরগুলোতে শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিলে তা সাধারণ পরিবারগুলোর মধ্যে মারাত্মক ভীতি ও ভোগান্তির সৃষ্টি করে।   এই ঘটনার সাথে জড়িত কেনেথ এল. জোন্স জুনিয়রসহ মোট ৯ জন পেশাদার চোরকে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু কেনেথই ৭০ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের শিশুখাদ্য চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৯:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকী ঘিরে বাড়ছে ইসলামভীতি, সতর্ক ডালাসের মসজিদগুলো

যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকী ঘিরে বাড়ছে ইসলামভীতি, সতর্ক ডালাসের মসজিদগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নিজের দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যার অভিযোগে আদালতে হাজির মা

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নিজের দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যার অভিযোগে আদালতে হাজির মা

শিশু নিপীড়কদের ধরতে গিয়ে ছুরিকাহত মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই গ্রেপ্তার

শিশু নিপীড়কদের ধরতে গিয়ে ছুরিকাহত মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে জননিরাপত্তা নিয়ে শীর্ষ ৩৮ প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ, মেয়রের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে জননিরাপত্তা নিয়ে শীর্ষ ৩৮ প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ, মেয়রের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা কারবার এবং পুলিশের মন্থর কার্যক্রমে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শহরটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিয়াটলের মেয়র কেটি উইলসনের কাছে অবিলম্বে একটি কার্যকর ও দৃশ্যমান ‘জননিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা’ দাবি করেছে মাইক্রোসফট, স্টারবাকস, কস্টকো, টি-মোবাইলের মতো প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো।   গত বৃহস্পতিবার সিয়াটল ম্যারিনার্সসহ ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের স্বাক্ষরিত এক কড়া চিঠিতে সিটি কাউন্সিলের কাছে এই দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি বেলটাউন এলাকায় গোলাগুলিতে তিন তরুণের প্রাণহানি ও তিনজন গুরুতর আহতের মর্মান্তিক ঘটনার পর এই অভূতপূর্ব চাপের মুখে পড়লেন মেয়র।   ব্যবসায়িক জোটের পক্ষ থেকে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট জননিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রতি মাসে এর অগ্রগতি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে ৯১১-এ আসা জরুরি কলে পুলিশের সাড়া দেওয়ার সময়সীমা সাত মিনিটে নামিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে নর্ডস্ট্রমের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, তাদের ডাউনটাউন স্টোর থেকে করা জরুরি কলের মাত্র ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ সাড়া দিয়েছে, যেখানে অন্যান্য এলাকায় এই হার শতভাগ।   এছাড়া পায়োনিয়ার স্কোয়ারসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু, মাদকের বাজার উচ্ছেদ এবং স্কুল-পার্কের ২৫০ ফুটের মধ্যে থাকা ভাসমান ক্যাম্পগুলো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জোটের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, শহরের মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার বর্তমান নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্ট।   ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত মেয়র কেটি উইলসনের জন্য এই পরিস্থিতি একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে ‘বাইট অব সিয়াটল’ গোলাগুলির ঘটনায় প্রশাসনের তথ্য সরবরাহে গাফিলতির সমালোচনার জেরে মেয়রের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন পুলিশ প্রধান শন বার্নস।   বর্তমানে আন্দ্রে সেলস অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের দায়িত্বে থাকলেও, নতুন পুলিশ প্রধান খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে। তবে শীর্ষ ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিছক প্রতিশ্রুতি আর যথেষ্ট নয়; ভোটার ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৮:১
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, গৃহহীনদের টাকা দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, গৃহহীনদের টাকা দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

টেক্সাসে মেডেল অব অনার অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্পের আবদার, নিজেকেও দিতে চান মেডেল

টেক্সাসে মেডেল অব অনার অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্পের আবদার, নিজেকেও দিতে চান মেডেল

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্ক্যাফোল্ডিংয়ে টেসলার ভয়াবহ ধাক্কায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের যাত্রীর, গ্রেপ্তার নারী চালক

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্ক্যাফোল্ডিংয়ে টেসলার ভয়াবহ ধাক্কায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের যাত্রীর, গ্রেপ্তার নারী চালক

0 Comments