- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের এডমন্ড শহরে ১৫ বছর বয়সী বড় ভাইকে গুলি করে হত্যার দায়ে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে একটি কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এডমন্ড পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের (ইচ্ছাকৃত কিন্তু পূর্বপরিকল্পিত নয় এমন হত্যা) অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নাম বা অন্যান্য পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাদের মা বাড়িতে ছিলেন না। ওই কিশোরীই প্রথমে তার মাকে ফোন করে জানায় যে, কেউ একজন তার ভাইকে গুলি করেছে। এরপর মা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। ব্রডকাস্টিফাই-এর অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, নিহত কিশোরের মাথায় গুলির আঘাত ছিল। পুলিশ বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কিশোরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং এরপর থেকে তদন্ত শুরু করে। এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে এডমন্ড পুলিশ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি পরিস্থিতি এবং এই শোকাবহ সময়ে তাদের প্রতি সমবেদনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বা ওবামাকেয়ারের আওতায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, কেন্দ্রীয় হেলথকেয়ার এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে আগামী অক্টোবর মাসে ৫০০ ডলারের এই চেক ডাকযোগে পাঠানো হবে। যাদের অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত খরচের মুখে ফেলা হয়েছিল, তাদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিয়ে প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ইউজার ফি আদায় করেছিল, যা পরবর্তীতে বর্ধিত প্রিমিয়াম আকারে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়। ট্রাম্পের যুক্তি, এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ তহবিলের প্রয়োজন ছিল, আদায়কৃত অর্থ তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে কেন্দ্রীয় এক্সচেঞ্জ ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের যেসব গ্রাহক ওবামাকেয়ারের অধীনে কোনো প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি, তাদের এই বাড়তি অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে বর্ধিত এসিএ ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লাখ লাখ গ্রাহকের জন্য স্বাস্থ্যবীমার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এই অর্থ ফেরত পাওয়ার তালিকায় থাকা ৩০টি অঙ্গরাজ্য হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা কেএফএফ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশ অর্থ চিকিৎসা সেবায় ব্যয়ের যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার আওতায়ও গ্রাহকদের জন্য পৃথক রিবেটের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই ৫০০ ডলারের স্বাস্থ্যবীমা রিফান্ড তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও তার নীতি নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, সাধারণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের বদলে প্রশাসন ব্যক্তিস্বার্থ ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গার্সিয়া এই কড়া সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ‘অদ্ভুত’ ও ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ পোস্ট দিতেই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই ধরনের আচরণ একটি দেশের শীর্ষ নেতার কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করেন তিনি। ডেমোক্র্যাট শিবিরের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা আর্থিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠছেন এবং ক্রমেই আরও ধনী হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের একটি বিশাল অংশ এখনো তাদের প্রাত্যহিক জীবনধারণের জন্য কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবার্ট গার্সিয়ার এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের চলমান তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতারই আরেকটি সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
জার্মানিতে সামরিক দায়িত্বে থাকাকালীন দুই শিশুর ওপর ভয়ংকর মাত্রায় শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের দায়ে আটলান্টার এক সাবেক মার্কিন সেনাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। ৩৭ বছর বয়সী অ্যাডাম শুয়েটার নামের ওই অপরাধী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জার্মানির গ্রাফেনওয়ের ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার একজন ফেডারেল বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আজীবন নজরদারিতে (সুপারভাইসড রিলিজ) রাখার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ইউরোপে অবস্থানকালে শুয়েটার ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন চালান। বিচারের সময় এক ভুক্তভোগী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, শুয়েটার তাকে দোতলার জানালা দিয়ে বাইরে ধাক্কা দিয়ে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। এই জঘন্য অপরাধের কথা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। গত এপ্রিলে জুরি বোর্ড শুয়েটারকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর চরম মাত্রার যৌন নিপীড়ন ও গুরুতর শারীরিক আঘাতের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, শুয়েটার মার্কিন সেনাবাহিনীর পোশাকের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের চরম সহিংসতা ও যৌন শোষণের শিকার বানানোর মধ্যে কোনো সম্মান নেই। মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই রায় প্রমাণ করে যে অপরাধ সংঘটনের বহু বছর পর এবং মহাসাগরের ওপারে হলেও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।
যুক্তরাজ্যের দুই ননদ-ভাবি হোলি ও বেকি স্টিভেন্স শুধু একে অপরের সন্তানের দেখভালই করেন না, বরং তারা একে অপরের সন্তানদের নিয়মিত স্তন্যপানও করান। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘দিস মর্নিং’-এ উপস্থিত হয়ে মাতৃত্বের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা। বিগত সাত বছর ধরে তারা একে অপরের সন্তানদের বুকের দুধ খাইয়ে আসছেন। হোলির ছেলে ফ্রেডির বয়স যখন মাত্র পাঁচ দিন, তখন সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবেই নিতান্ত প্রয়োজনে এই অভ্যাসের সূচনা হয়েছিল। একদিন বেকি যখন ফ্রেডির দেখাশোনা করছিলেন, তখন শিশুটি হঠাৎ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে তাকে বুকের দুধ খাওয়ান তিনি। সে সময় বেকি তার নিজের ছেলে ফয়কেও স্তন্যপান করাতেন। পরবর্তীতে আরেক দিনের স্মৃতিচারণ করে হোলি জানান, একবার তিনি ব্রেস্ট পাম্প ছাড়াই বেকির বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং উপায় না পেয়ে বেকির ছেলে ফয়কে নিজের বুকের দুধ খাইয়েছিলেন। তাদের মতে, এর ফলে বাইরে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের বিশাল ব্যাগ বওয়ার ঝক্কিও অনেকটা কমে যায়। দীর্ঘ সাত বছর পর আজও তাদের এই অভ্যাস অব্যাহত রয়েছে; সম্প্রতি বেকির নবজাতক কন্যা পার্লকেও স্তন্যপান করিয়েছেন হোলি। তাদের দাবি, একে অপরের সন্তানদের স্তন্যপানের কারণে তাদের দুই পরিবারের পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করানোর বা ‘ওয়েট নার্স’-এর ধারণাটি অবশ্য মানব ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। অন্তত খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। ২০২৫ সালের ‘জামা’ (JAMA) জার্নালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ হাজার মায়ের মধ্যে ৩.৭ শতাংশ মা তাদের শিশুর জীবনের প্রথম ছয় মাসে অন্যের বুকের দুধ খাইয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভ্যাস নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কেউ একে ইতিবাচক ও স্বাভাবিকভাবে নিলেও অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা বন্ধুদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি অনিরাপদ নয়, যদি উভয় মায়ের স্বাস্থ্য, নিয়মিত সেবনকৃত ওষুধ ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকে। তবে পেডিয়াট্রিক নার্স প্র্যাকটিশনার জোয়ানা ক্রেইলিং সতর্ক করে বলেছেন, এতে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ, সম্পূরক উপাদান এমনকি এইচআইভি বা হারপিসের মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত দুধ না পেলে নবজাতকের পানিশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। এতসব ঝুঁকি ও সমালোচনার পরও হোলি ও বেকি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। সব নেতিবাচকতা উড়িয়ে দিয়ে হোলির সহজ উত্তর, “এটি খুবই সুবিধাজনক। দুধ তো দুধই।”
ব্রনওয়েন জেমস নামের ৩০ বছর বয়সী ব্রিটেনের এক নারী শরীরচর্চা শিক্ষিকা তার ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দায়ে বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১৩ ও ১৪ বছর বয়সী আরও দুই স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ৯টি অভিযোগও আদালতে স্বীকার করেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শিক্ষকতা করার সময় ওই কিশোরের সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে আলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলেন জেমস। এমনকি নিজের মোবাইল ফোনে ওই কিশোরকে তিনি ‘নম্বর ৮’ হিসেবে সেভ করে রেখেছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষিকা তার প্রেমিককে নিয়ে যে বাড়িতে থাকতেন, সেখানে ডেকে নিয়ে সবচেয়ে কম বয়সী (১৩) ছাত্রীর সঙ্গে চারবার এবং নিজের গাড়ির পেছনের আসনে ১৪ বছর বয়সী আরেক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। এছাড়া শিশুদের অশালীন ছবি তৈরি এবং ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানের আরও দুটি অভিযোগও স্বীকার করেছেন তিনি। চিপেনহ্যাম ও সাউদাম্পটনের একাধিক স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় তার এই ধারাবাহিক বিকৃত আচরণের প্রমাণ মিলেছে। এর আগে একটি নামিদামি বেসরকারি স্কুলে বার্তা আদান-প্রদানের কারণে তাকে লিখিতভাবে সতর্কও করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের কর্মকর্তা বেথনি অ্যাডামস জানান, শিশুদের শিক্ষিত ও সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব দেওয়া হলেও জেমস সুপরিকল্পিতভাবে সেই আস্থার অপব্যবহার করেছেন এবং দিনের পর দিন শিশুদের নিজের শিকারে পরিণত করেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে জেমস দাবি করেছেন, মাত্র ২১ বছর বয়সে শিক্ষকতা পেশায় আসার কারণে তার যথেষ্ট পরিপক্বতা ছিল না এবং তিনি ভুল মানুষের কাছ থেকে বৈধতা খুঁজছিলেন। উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে পরবর্তীতে এই শিক্ষিকার সাজা ঘোষণা করা হবে।
একসময় উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বিকাশ ও অনুরাধা সিনহা। সেই শিক্ষাই পরে বদলে দিয়েছে তাদের জীবন। এবার সেই সুযোগ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসকে ২ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি। তাদের অনুদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স কলেজের নাম রাখা হয়েছে অনুরাধা অ্যান্ড বিকাশ সিনহা কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স। ৮ সেপ্টেম্বর অনুদানের ঘোষণা দেয় ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এই অর্থ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্সের শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজের জন্য ছয়টি স্থায়ী তহবিল গঠন করা হবে। নতুন কলেজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারসিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স, অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স ও হেলথ ইনফরমেটিক্সসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়কে একসঙ্গে আনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে যৌথ গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করাও থাকবে এর অন্যতম লক্ষ্য। সিনহা দম্পতির সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দুজনই ভারতের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তারা ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। বিকাশ সিনহা ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস থেকে ইনফরমেশন সায়েন্সে ডেটা সায়েন্স বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে বিকাশ সিনহা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্রডকমের মেইনফ্রেম সফটওয়্যার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালে সিনহা দম্পতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেটা সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠায় অনুদান দেন। পরের বছর তারা ডেটা সায়েন্স ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্যও বড় ধরনের অনুদান দেন। বিকাশ সিনহা বলেন, শিক্ষা তাদের জীবনে নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে এবং তারা সেই সুযোগ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও তৈরি করতে চান। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অন্য একজন তার ওপর বিনিয়োগ করেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি কী অর্জন করবেন তা না জেনেই। সেই অভিজ্ঞতাই তাদের বর্তমান উদ্যোগের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু এআই ব্যবহার শেখানো নয়, বরং এটি তৈরি, বোঝা, মূল্যায়ন এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগের সক্ষমতাও গড়ে তোলা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের প্রেসিডেন্ট হ্যারিসন কেলার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজের ধরন, গবেষণা এবং সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি দ্রুত বদলে দিচ্ছে। সিনহা দম্পতির এই অনুদান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি টেক্সাসে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিনহা দম্পতির ২ কোটি ডলারের এই অনুদান তাদের নিজেদের শিক্ষাজীবনে পাওয়া সুযোগকে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস জানিয়েছে, নতুন কলেজের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দক্ষ শিক্ষার্থী ও গবেষক তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকেও মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার পর পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী এই সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুর্দিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মার্কিন জোটের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির চূড়ান্ত অবসান ঘটতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কুর্দিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে জোটের সব সেনা প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী এই বাহিনী প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিনই সেনাদের ইরাকের বাইরে অন্যান্য অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমানও জানিয়েছেন, বিদেশি সেনারা তাদের এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোট মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সময় আইএস দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় গোষ্ঠীটির আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটে। তবে আইএসের কিছু সদস্য এখনো মরুভূমি ও পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের হামলার মাত্রা ব্যাপকভাবে কমে গেলেও, অবশিষ্ট জঙ্গিদের নির্মূলে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এখনো নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরাকের অন্যান্য ঘাঁটি থেকে জোটের সেনারা প্রত্যাহার সম্পন্ন করে এবং এরপর থেকে তারা শুধু দেশটির উত্তরাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছিল। আইএসের পরাজয়ের পরও ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের উপস্থিতি নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ বিতর্ক অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে জোটের সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়েও তেহরানের সমর্থনপুষ্ট এসব গোষ্ঠীর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রকেট হামলার পর স্থল অভিযান চালিয়ে তারা এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় হুথি যোদ্ধাদের ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের এই সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুথিরা কৌশলগত মোখা বন্দরনগরীরও নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, মোখা বন্দরটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, বন্দর শহরটিতে প্রবেশের সময়ও হুথিরা আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দেয়। ইতোমধ্যে তারা পার্শ্ববর্তী হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। যাকার দ্বীপ এবং মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের জন্য এক বিরাট সামরিক ও কৌশলগত বিজয়। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এই অবস্থানগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই নৌপথ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য বাজারে জ্বালানি তেল ও বিপুল পণ্য পরিবহন করা হয়। উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের ওপর হুথিদের চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এদিকে হুথিদের এই আকস্মিক অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এএফপির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে চলা তীব্র সংঘাতে অন্তত ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। সংঘাতের কারণে প্রাণভয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুথিদের ঠেকাতে মরিয়া হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের পাইলটের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের সব বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার পাইলটকে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব পাইলটের একবার মাদক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে ভারতের বিমান চলাচল খাতে মাদক পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এ৩২০ উড়োজাহাজ মাঝ-আকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। উড়োজাহাজটি তখন প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ঘটনার সময় যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের মধ্যে মোট ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে ফিরে দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনাটির তদন্তে উড়োজাহাজটির তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটির তথ্য উঠে আসে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির পাইলট-ইন-কমান্ডের মাদক পরীক্ষার ফলও তদন্তকারীদের নজরে আসে। প্রথম পরীক্ষায় মাদক ব্যবহারের সম্ভাবনা ধরা পড়ার পর নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় গাঁজা বা মারিজুয়ানার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তবে তদন্তকারীরা এখনো পাইলটের মাদক গ্রহণের সঙ্গে উড়োজাহাজটির আকস্মিক উচ্চতা কমে যাওয়ার সরাসরি কারণগত সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া ওই পাইলটকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পাশাপাশি সংস্থাটি নিজেদের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা শুরু করে। এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের পাইলটদের জন্য এই পরীক্ষা বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ মাদক বা অন্যান্য নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার অবস্থানও জানানো হয়েছে। এর পর বিষয়টি শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ভারতীয় বিমান চলাচল খাতে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ডিজিসিএ। নতুন নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থার সব পাইলটকে একবার বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রায় ১৪ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান নিয়মে ভারতের সব পাইলটের নিয়মিত মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিসিএর বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রতি বছর পাইলটদের একটি অংশকে এলোমেলোভাবে পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ পাইলটের মাদক পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। তবে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনায় পাইলটের পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর এই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। ডিজিসিএ এখন নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মাদক পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সব পাইলটকে বছরে অন্তত একবার এলোমেলোভাবে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছিল। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে পাইলটদের মাদক ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হবে। ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনাটি এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্তে পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিমান চলাচলে মাদক বা মনঃপ্রভাবক পদার্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ডিজিসিএকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পরই বিমান সংস্থাগুলোর পাইলটদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ভারতের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোর সব পাইলটকে অন্তত একবার মাদক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিমান সংস্থার পরিবর্তে পুরো বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় পাইলটদের মাদক পরীক্ষাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ঝুঁকি কমানোই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
কানাডার অন্টারিওর মিল্টনে হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে প্রার্থী হয়েছেন ড. খাদিজা আর মেটওয়ালি। তিনি ওয়ার্ড ১ ও ২-এর জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার ছেলে আবদুর রহমান এল বাহনাসাওয়ি ২০১৬ সালে আইএসের হয়ে নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই হামলা পরিকল্পনায় টাইমস স্কয়ার ও নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থায় বোমা বিস্ফোরণ এবং কনসার্টে গুলি চালানোর পরিকল্পনা ছিল। মেটওয়ালির প্রার্থিতার বিষয়টি ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় নিশ্চিত করা হয়েছে। টাউন অব মিল্টনের সরকারি তালিকায় তার নাম হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ট্রাস্টি, ওয়ার্ড ১ ও ২-এর প্রার্থী হিসেবে রয়েছে। সেখানে তার মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ ১৫ জুন ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। একই পদে অ্যান্ড্রু জে. উডও প্রার্থী হয়েছেন। মেটওয়ালির ছেলে আবদুর রহমান এল বাহনাসাওয়ি কানাডার নাগরিক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আইএসের সমর্থনে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং টাইমস স্কয়ার ও নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়েতে বিস্ফোরক ব্যবহার করার পাশাপাশি কনসার্টে বেসামরিক মানুষকে গুলি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি হামলার সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে সাবওয়ের মানচিত্রও ব্যবহার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, এল বাহনাসাওয়ি অন্য কয়েকজনের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি ২০১৬ সালের রমজান মাসে নিউইয়র্কের জনবহুল এলাকায় বোমা হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তদন্তের সময় এফবিআইয়ের একজন গোপন এজেন্ট ওই চক্রে প্রবেশ করেন। কানাডা থেকে নিউইয়র্ক এলাকায় যাওয়ার পর ২০১৬ সালের মে মাসে এল বাহনাসাওয়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। এল বাহনাসাওয়ি পরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি হামলার পরিকল্পনা করতে গিয়ে নিজের ভাষায় ‘পরবর্তী ৯/১১’ ঘটানোর আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা সফল হলে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা ছিল বলে প্রসিকিউটররা আদালতে তুলে ধরেন। কারাগারে যাওয়ার পরও এল বাহনাসাওয়ির বিরুদ্ধে নতুন সহিংসতার ঘটনা সামনে আসে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পেনসিলভানিয়ার একটি ফেডারেল কারাগারে তিনি দুই কারা কর্মকর্তার ওপর হামলা করেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরে তার ডান চোখ হারানোর কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই কারাগার-সংক্রান্ত হামলার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় আরও সাজা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। মেটওয়ালি অবশ্য ছেলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের অবস্থানকে আলাদা করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি সব ধরনের সহিংসতা ও উগ্রবাদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ছেলের কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডকে কখনো সমর্থন করেননি। নিজের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ভোটারদের তার শিক্ষা, মানব উন্নয়ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা এবং মিল্টনের শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য পরিকল্পনার ভিত্তিতে তাকে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। মিল্টনটুডের প্রার্থী পরিচিতিতেও মেটওয়ালিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কানাডিয়ান সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালটেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু উডও একই ওয়ার্ডের প্রার্থী। মিল্টনের স্থানীয় নির্বাচন ২৬ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, মেটওয়ালি ওয়ার্ড ১ ও ২-এর হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ট্রাস্টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে তার প্রার্থিতা সামনে আসার পর ছেলে এল বাহনাসাওয়ির পুরোনো সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: ডেইলি মেইল
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে সরাসরি তথ্য থাকা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় প্রায় আটটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে এবং সেটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো পরে আবার কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। আল আজরাক এলাকার কাছে অবস্থিত ঘাঁটিটি জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিবিএস নিউজ জানায়, হামলার সময় ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সরাসরি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তারা প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোর ক্ষয়ক্ষতিকে তুলনামূলকভাবে সামান্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আটটি এফ-১৫ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলোকে আবার পরিষেবায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানটির ক্ষতি ছিল বেশি। সিবিএসের সূত্র অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত লাগে এবং পরে সেটির একটি ডানা অনুপস্থিত অবস্থায় পাওয়া যায়। রয়টার্সও সিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে একই ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে। হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ওই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানে চালানো এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা একাধিক সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানায়। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের একটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ওই ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করা হয়। চারটি ট্যাংকারে ওমান উপসাগরে এবং একটি ট্যাংকারে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির দিকে ছোড়া ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। জর্ডানের পক্ষ থেকে ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি। হামলার পর জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও এ-১০ যুদ্ধবিমানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসায় ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তবে সিবিএসের প্রতিবেদনে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে পুনরায় কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও এ-১০ যুদ্ধবিমানটির পরবর্তী ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার নতুন একটি পর্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং এর পর ইরানের পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেল। সিবিএস নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মধ্যে রয়েছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানের ডানা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সামান্য ক্ষতি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
পেনসিলভানিয়ার এক সাবেক ক্যাথলিক পুরোহিতের বিরুদ্ধে তিনটি গির্জা, গির্জার সদস্য ও দাতাদের পাশাপাশি নিজের বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট চুরির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গ্রেগরি অ্যালেন মাদেয়া নামের ৬৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চুরি করা অর্থের একটি অংশ মাদক কেনা, যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ ব্যয়, বিদেশ ভ্রমণ, প্রমোদতরী ভ্রমণ এবং একটি ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের গাড়ি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। পশ্চিম মিফলিনের বাসিন্দা মাদেয়ার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাকে পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ডলার এবং আগামী মাসে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা থেকে মাদেয়া প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং তার বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা, তাদের সদস্য, দাতা এবং তার মায়ের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ মিলিয়ে কথিত চুরির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট। তদন্তে বলা হয়েছে, গির্জার সংগ্রহের খাম থেকেও অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ এমন একজন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ব্যবহারের জন্য হেরোইন কেনায় ব্যয় করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির সঙ্গে মাদেয়ার হোটেলে দেখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ডেরি টাউনশিপের একটি গির্জার সাধারণ তহবিল থেকে মাদেয়া ৭৫ হাজার ডলার তুলে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ওই গির্জার নাম দ্য অ্যাসাম্পশন অব দ্য ব্লেসড ভার্জিন মেরি ইউক্রেনিয়ান ক্যাথলিক চার্চ। সেখানে তিনি পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওই গির্জা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কাছাকাছি ম্যাককিসপোর্ট ও জিনেট শহরের ইউক্রেনীয় ক্যাথলিক গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি গির্জা থেকেও তিনি অর্থ নিয়েছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে একটি ঘটনায় একটি গির্জা থেকে ১৯ হাজার ৪০০ ডলার মূল্যের সোনার পাত্র নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা তদন্তে মাদেয়াকে ঘিরে আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তার ফেলে দেওয়া আবর্জনার মধ্যে গির্জার সংগ্রহের খাম পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন যন্ত্রেও ডেবিট কার্ড ও ব্যাংকের নথির ছবি পাওয়া গেছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, চুরি করা অর্থের একটি অংশ বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রমোদতরীতে ভ্রমণের পেছনেও ব্যয় করা হয়েছিল। একই ব্যক্তিকে উপহার দেওয়ার জন্য ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের একটি ফোর্ড মুস্তাং কেনার অভিযোগও রয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি মাদেয়ার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদেয়ার বিরুদ্ধে নিজের মায়ের আর্থিক সম্পদ নেওয়ার অভিযোগও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তিনি এমন এক সময়ে তার মায়ের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন, যখন ওই বৃদ্ধা নিজের আর্থিক বিষয়গুলো পরিচালনা করতে পারছিলেন না। পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু যে গির্জাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেগুলোর ওপর থাকা আস্থার অপব্যবহার করেছেন তা নয়, নিজের মায়ের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পর তা সামাল দেওয়ার অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মাদেয়াকে ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচে গ্রেপ্তারের পর পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আদালতে তার জামিন ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলোতে গির্জার তহবিল, সদস্য ও দাতাদের অর্থ এবং তার মায়ের অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি ওই অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং মামলাটি আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগোবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
সান ফ্রান্সিসকোর প্রতিযোগিতাপূর্ণ টেক ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি খুঁজছিলেন ২৫ বছর বয়সী লুকাস ইলা। সাধারণ নিয়মে রেজুমে পাঠিয়ে সাড়া না পাওয়ার বদলে তিনি বেছে নেন অভিনব এক কৌশল। ডেলিভারি কর্মীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন কোম্পানির অফিসে ডোনাটের বাক্স পৌঁছে দিতে শুরু করেন তিনি। তবে বাক্সের ভেতরে ডোনাটের সঙ্গে ছিল তার রেজুমে। লিথুয়ানিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা লুকাস বুঝতে পেরেছিলেন, সান ফ্রান্সিসকোর চাকরির বাজারে অন্য প্রার্থীদের ভিড়ে শুধু রেজুমে পাঠিয়ে আলাদা করে নজরে পড়া কঠিন। তাই সরাসরি কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। ডোনাটের প্রতিটি বাক্সের ভেতরে রেজুমের সঙ্গে একটি ছোট বার্তাও রাখা ছিল। সেখানে লেখা ছিল, “বেশির ভাগ রেজুমে শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনে যায়। আমারটা যাবে আপনার পেটে।” ২০১৬ সালে লুকাস প্রায় ৪০টি কোম্পানিতে এভাবে ডোনাট পৌঁছে দেন। তিনি খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পোস্টমেটসের ডেলিভারি কর্মীর মতো পোশাক পরে এসব বাক্স নিজ হাতে কোম্পানিগুলোর অফিসে নিয়ে যেতেন। তার লক্ষ্য ছিল সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন টেক ও মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সরাসরি নজরে আসা। অভিনব এই কৌশলের ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। প্রায় ৪০টি ডেলিভারির পর লুকাস ১০টি চাকরির ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পান। তিনি জানিয়েছিলেন, স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হতে পারে। তাই নিজের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাও নিয়োগদাতাদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তবে ইন্টারভিউ পেলেও তখনই চাকরি নিশ্চিত হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ভিসা না পাওয়ায় লুকাসকে দেশ ছাড়তে হয়। এরপর ইউরোপে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন তিনি। লুকাসের ডোনাট-রেজুমে কৌশলটি কয়েক বছর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় ফিরে এসেছে। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা কীভাবে নিজেদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে উপস্থাপন করতে পারেন, সেই আলোচনায় তার গল্পটি প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কোনো ছেলে সন্তান আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে, কিমের বড় ছেলে থাকার খবর যাচাই করা হচ্ছে। তবে ছেলে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং কিমের কিশোরী মেয়ে কিম জু অ্যাইকে এখনও উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি। কিমের পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জুর কোনো ছেলে সন্তান নেই। এর পরই এনআইএস জানায়, কিমের বড় ছেলে আছে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনও তথ্য যাচাই করছে। এনআইএসের আগের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের মেয়ে জু অ্যাইকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। তবে তার নাম বা বয়স উত্তর কোরিয়ার সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কিমের মেয়ের নাম জু অ্যাই হওয়ার তথ্যের মূল ভিত্তি সাবেক এনবিএ তারকা ডেনিস রডম্যানের বক্তব্য। ২০১৩ সালে পিয়ংইয়ং সফরের সময় কিমের শিশুকন্যাকে কোলে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কিম জং উনের সঙ্গে মেয়েটির প্রকাশ্য উপস্থিতি ক্রমেই বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক কুচকাওয়াজ, অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন এবং সামরিক মহড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে বাবার পাশে দেখা গেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাকে কিমের ‘সবচেয়ে প্রিয়’ বা ‘সম্মানিত’ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছে। চলতি মাসের শুরুতেও কিম জং উনের সঙ্গে একটি নতুন যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে মেয়েটিকে দেখা যায়। এর আগে সামরিক মহড়ায় বাবার সঙ্গে অস্ত্র পরিদর্শন ও পিস্তল পরীক্ষাতেও তাকে দেখা গেছে। এসব প্রকাশ্য উপস্থিতি তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে দেশটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কিম পরিবারের তিন প্রজন্মের শাসকই পুরুষ। কিম জং উনের আগে তার বাবা কিম জং ইল এবং দাদা কিম ইল সুং দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে একজন নারীকে সর্বোচ্চ নেতৃত্বে মেনে নেওয়া নিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এনআইএস জানিয়েছে, কিমের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই সন্তানের লিঙ্গ নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে কিমের বড় ছেলে আদৌ আছেন কি না, সেটিও এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কিম জং উনের বয়স বর্তমানে ৪২ বছর। ফলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এত অল্প বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি নির্ধারণ করা তার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। উত্তরসূরি ঘোষণা করলে তার নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বেও প্রভাব পড়তে পারে বলে তাদের মত। তারপরও মেয়ের ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে চলেছে। আপাতত দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন হলো, কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে জু অ্যাইয়ের অবস্থানই সবচেয়ে শক্তিশালী।
মুম্বাইয়ের কুরলার বস্তিতে মাত্র ৮ বাই ১০ ফুটের একটি ঘরে মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা জয়কুমার বৈদ্য আজ নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কাজ করছেন। শৈশবে অর্থাভাবে স্কুলের বেতন দিতে না পারায় একসময় তার পরীক্ষার ফল আটকে রাখা হয়েছিল। সংসারের খরচ ও নিজের পড়াশোনা চালাতে টেলিভিশন মেরামতের কাজও করেছেন তিনি। পরে সেই জয়কুমারই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় ও চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার জিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের জগতে নিজের জায়গা করে নেন। জয়কুমারের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে। তার মা একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতেন। স্কুলের বেতন দিতে না পারার সময়গুলোতে পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়ত। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে জয়কুমার টেলিভিশন মেরামতের দোকানে কাজ করে মাসে প্রায় ৪ হাজার রুপি আয় করতেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াতেন এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতেন। তবে অর্থের অভাব তার পড়াশোনার আগ্রহ থামাতে পারেনি। মুম্বাইয়ের কেজে সোমাইয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনেই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় পর্যায়ের এবং চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার পান। এরপর তিনি লারসেন অ্যান্ড টুব্রোতে শিক্ষানবিশির সুযোগও পান। ২০১৬ সালে জয়কুমার ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে জুনিয়র গবেষণা ফেলো হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপাদান তৈরি ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। নাসার জীবনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেছেন এবং উচ্চ তাপমাত্রার অতিপরিবাহীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে কাজ করেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় স্নাতকোত্তর গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জয়কুমার। ২০২১ সালে সেখান থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে অর্ধপরিবাহী তৈরির প্রযুক্তি ও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। নাসার সঙ্গে তার যাত্রাও শুরু হয় গবেষণার ধারাবাহিকতায়। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে তিনি প্রথমে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রকল্পে এক্স-রে দূরবীক্ষণযন্ত্রের জন্য বিশেষ ধরনের পাতলা স্তরের উপাদান তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি গ্রহের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণে ব্যবহৃত চতুর্মেরু ভর বর্ণালিমাপক তৈরির সঙ্গে যুক্ত। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জয়কুমার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রহীয় পরিবেশ গবেষণাগারে ভূমি সহায়তা সরঞ্জাম প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন মহাকাশ মিশনের জন্য ভর বর্ণালিমাপকের মান নির্ধারণ, ভূমি ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার কাজের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদসহ সৌরজগতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মিশনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ও উর্ধ্ববায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি যন্ত্রের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের নিরপেক্ষ গ্যাস ও আয়নের গঠন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল ও আয়নমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য তৈরি একটি মিশনের যন্ত্রের ভূমি সহায়তা ও পরিচালনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। যে ছেলেটির পরিবারের জন্য একসময় স্কুলের বেতন জোগাড় করাই কঠিন ছিল, সেই জয়কুমার বৈদ্য এখন মহাকাশবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র তৈরির কাজে যুক্ত। তার জীবনের পথচলা দেখিয়েছে, আর্থিক সংকট শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে সেখান থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণায়ও জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ১০ হাজার সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জরুরি অ্যাজমার ইনহেলার সরবরাহ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ২৫ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রতিটি প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির স্কুল বছরে একবার দুটি অ্যালবিউটেরল ইনহেলার ও ২৫টি একবার ব্যবহারযোগ্য স্পেসার বিনামূল্যে পাবে। এ সুবিধা টানা তিন বছর দেওয়া হবে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ২০ আগস্ট কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম কোনো রাজ্যব্যাপী উদ্যোগ, যেখানে সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে জরুরি অ্যাজমার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। কর্মসূচিটি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালরেক্স উদ্যোগ, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ এবং অ্যামনিয়াল ফার্মাসিউটিক্যালসের অংশীদারত্বে পরিচালিত হচ্ছে। অ্যালবিউটেরল সাধারণত জরুরি বা দ্রুত-কার্যকর ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে এটি শ্বাসনালির চারপাশের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। স্কুলে এমন ইনহেলার হাতের কাছে থাকলে জরুরি মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত। এ রোগের কারণে স্কুলে অনুপস্থিতিও শিশুদের জন্য বড় সমস্যা। নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য হলো স্কুলে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি কমানো এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা। বিনামূল্যের ইনহেলার পেতে স্কুলগুলোকে ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগের অ্যালবিউটেরল স্থায়ী নির্দেশনার আওতায় থাকতে হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই স্কুলে জরুরি ব্যবহারের জন্য অ্যালবিউটেরল মজুত রাখা যায়। ইনহেলার সরবরাহের পাশাপাশি স্কুল কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া স্কুল নার্সেস অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় সরকারি স্কুল জেলাগুলো বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা পাবে। এতে শ্বাসকষ্টের লক্ষণ চেনা, জরুরি পরিস্থিতিতে ইনহেলার ব্যবহারের নিয়ম এবং প্রয়োজন হলে ৯১১-এ কল করা ও অভিভাবককে জানানোর প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বেসরকারি স্কুলগুলো এই কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ইনহেলার পাবে না। তারা নিজেদের খরচে ক্যালরেক্সের মাধ্যমে ইনহেলার ও স্পেসার কিনতে পারবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ইনহেলারও তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ থাকবে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্কুলে অ্যাজমাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো। বিশেষ করে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ সহজলভ্য রাখার মাধ্যমে শ্বাসকষ্টের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় রাতের আকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির (ইএসও) নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে কক্ষপথে ১৪ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। এর বড় অংশই স্পেসএক্সের স্টারলিংক নেটওয়ার্কের স্যাটেলাইট। নতুন প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ১৭ লাখের বেশি হতে পারে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে। ১ জুলাই প্রকাশিত গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, কক্ষপথে অতিরিক্ত সংখ্যক ও উজ্জ্বল স্যাটেলাইট যুক্ত হলে রাতের আকাশ শুধু আলোকিতই হবে না, দূরবীক্ষণযন্ত্রে মহাকাশ পর্যবেক্ষণও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ছবি তোলার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের আলো উজ্জ্বল রেখা তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক বস্তুর ছবি ঢেকে দিতে পারে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও ইএসওর জ্যোতির্বিজ্ঞানী অলিভিয়ে হাইনো বলেন, সূর্যের আলোয় আলোকিত স্যাটেলাইট দূরবর্তী গ্যালাক্সির তুলনায় অনেক বেশি উজ্জ্বল হতে পারে। ফলে কোনো স্যাটেলাইট দূরবীক্ষণযন্ত্রের দৃষ্টিসীমার মধ্য দিয়ে গেলে ছবিতে উজ্জ্বল দাগ তৈরি হয় এবং তার পেছনে থাকা মহাজাগতিক বস্তুর পর্যবেক্ষণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ইএসওর হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের প্রস্তাবিত বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে চিলিতে অবস্থিত ইএসওর ভেরি লার্জ টেলিস্কোপে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে তোলা প্রতিটি ছবিতে কয়েক ডজন পর্যন্ত স্যাটেলাইটের রেখা দেখা যেতে পারে। এতে একটি ছবির পর্যবেক্ষণযোগ্য এলাকার সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু স্যাটেলাইটের রেখাই সমস্যা নয়। বিপুলসংখ্যক স্যাটেলাইট থেকে ছড়িয়ে পড়া আলো পুরো রাতের আকাশকে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশেষ করে খুব উজ্জ্বল স্যাটেলাইটের বিশাল বহর থাকলে আকাশের সামগ্রিক উজ্জ্বলতা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দূরবর্তী গ্যালাক্সি, অন্য নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা সম্ভাব্য পৃথিবীর মতো গ্রহ এবং পৃথিবীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গ্রহাণু পর্যবেক্ষণেও। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু রাতের আকাশের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মহাবিশ্ব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সক্ষমতাও এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইএসওর গবেষণায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা ধরে রাখতে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা মোট স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১ লাখের মধ্যে রাখা এবং সেগুলোকে খালি চোখে দেখা যায় না এমন মাত্রায় ম্লান রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে ১ লাখকে কোনো কঠোর সীমা হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। উজ্জ্বল স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়লে গ্রহণযোগ্য সীমা আরও কমতে পারে। এদিকে স্পেসএক্স ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ রিফ্লেক্ট অরবিটাল নতুন বড় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপনের অনুমতির জন্য মার্কিন ফেডারেল যোগাযোগ কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। ইএসও জানিয়েছে, এসব প্রস্তাব নিয়ে সংস্থাটিও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত দিয়েছে। মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধার জন্য নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের ব্যবহার বাড়লেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ম ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা জরুরি। কারণ পৃথিবীর কক্ষপথ যেমন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
চার মাসের ছেলে জুনউকে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোগামী প্রায় ১০ ঘণ্টার ফ্লাইটে উঠেছিলেন এক মা। শিশুটির এটাই ছিল প্রথম বিমানযাত্রা। দীর্ঘ ফ্লাইটে সে কাঁদতে পারে এবং এতে সহযাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় আগেই ২০০টির বেশি গুডি ব্যাগ তৈরি করে সঙ্গে নেন তিনি। প্রতিটি ব্যাগে ছিল কোরিয়ান মিষ্টি ও ইয়ারপ্লাগ। সঙ্গে ছিল ছোট্ট একটি চিঠি, যা লেখা হয়েছিল চার মাসের শিশু জুনউর পক্ষ থেকে। চিঠিতে জানানো হয়, এটি তার জীবনের প্রথম ফ্লাইট। তাই সে কান্না করতে বা কিছুটা শব্দ করতে পারে। এমন হলে যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি বোঝার অনুরোধ জানানো হয়। ঘটনাটি ২০১৯ সালে সিউল থেকে সান ফ্রান্সিসকোগামী একটি ফ্লাইটে ঘটে। পরে ওই ফ্লাইটের যাত্রী ডেভ করোনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুডি ব্যাগ ও চিঠির ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তখন ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মায়ের আশঙ্কা অবশ্য শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি। প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রায় জুনউ প্রায় কোনো শব্দই করেনি। যে শিশুর কান্নার কথা ভেবে মা আগে থেকেই ২০০টির বেশি গুডি ব্যাগ প্রস্তুত করেছিলেন, সেই শিশুই পুরো ফ্লাইটে যাত্রীদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ছিল। ঘটনাটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই মায়ের আগাম প্রস্তুতি ও সহযাত্রীদের প্রতি বিবেচনাবোধের প্রশংসা করেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের জন্য অভিভাবকদের আগেই ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না। তবে জুনউর প্রথম বিমানযাত্রাকে ঘিরে মায়ের এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি ঘটনাটিকে দীর্ঘদিন পরও মানুষের মনে রাখার মতো করে তুলেছে।
শুধু সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে ৩ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে হেলিওস ১১ নামের একটি হালকা ওজনের নৌযান। ফিনল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে ইউরোপের খালপথ ও স্পেনের মূল ভূখণ্ড অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত জিব্রাল্টারে পৌঁছেছে নৌযানটি। ট্রু নর্থ ইয়টসের এক ইউটিউবার এই দীর্ঘ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফিনল্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় হেলিওস ১১ ইউরোপের বিভিন্ন খালপথ অতিক্রম করে। এরপর নৌযানটি স্পেনের মূল ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে এগিয়ে যায় এবং জিব্রাল্টারের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। অভিযানের শেষ অংশে স্পেনের মারবেলা থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায় নৌযানটি। হেলিওস ১১ প্রচলিত জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। প্রতিবেদনে নৌযানটির আনুমানিক দাম ২০ হাজার ৭২৪ ডলার বলা হয়েছে। হালকা কাঠামোর এই নৌযানে সৌরশক্তিকে প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ পথের এই অভিযানকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। অভিযানের পুরো পথ ছিল কয়েক হাজার নটিক্যাল মাইল দীর্ঘ। ফিনল্যান্ড থেকে ইউরোপের বিভিন্ন জলপথ পেরিয়ে স্পেনে পৌঁছানোর পর নৌযানটি দেশটির ভূখণ্ড অতিক্রম করে দক্ষিণ উপকূলের দিকে এগিয়ে যায়। এরপর মারবেলা থেকে জিব্রাল্টার পর্যন্ত শেষ ধাপ সম্পন্ন করে হেলিওস ১১। জিব্রাল্টারে পৌঁছানোর আগে মারবেলা থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইলের শেষ পথটিও এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দীর্ঘ যাত্রার পুরো সময়ে নৌযানটির জ্বালানির প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সৌরশক্তির ওপর নির্ভরশীলতার কারণেই এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এই অভিযান শেষ হলেও হেলিওস ১১-এর যাত্রা এখানেই থেমে যাচ্ছে না। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হিসেবে আরও বড় ও বিলাসবহুল একটি নৌযানে নতুন অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক ছোট ও হালকা নৌযান দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতার পর এবার আরও বড় নৌযান নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি চলছে। সৌরশক্তিনির্ভর এই অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প শক্তি ব্যবহার করে নৌযাত্রার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সূর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যেও এ ধরনের অভিযান বিশেষ মনোযোগ তৈরি করছে। ফিনল্যান্ড থেকে জিব্রাল্টার পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার এই যাত্রা তাই শুধু একটি নৌভ্রমণ নয়, বিকল্প শক্তিনির্ভর নৌযানের সক্ষমতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ছোট নৌযান দিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর এখন আরও বড় নৌযান নিয়ে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিযানের সঙ্গে যুক্তরা।