চার্চের ৭ লাখ ডলার চুরি করে মাদক, ভ্রমণ ও বিলাসী জীবনযাপন; সাবেক পুরোহিত গ্রেপ্তার
পেনসিলভানিয়ার এক সাবেক ক্যাথলিক পুরোহিতের বিরুদ্ধে তিনটি গির্জা, গির্জার সদস্য ও দাতাদের পাশাপাশি নিজের বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট চুরির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গ্রেগরি অ্যালেন মাদেয়া নামের ৬৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চুরি করা অর্থের একটি অংশ মাদক কেনা, যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ ব্যয়, বিদেশ ভ্রমণ, প্রমোদতরী ভ্রমণ এবং একটি ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের গাড়ি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। পশ্চিম মিফলিনের বাসিন্দা মাদেয়ার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাকে পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ডলার এবং আগামী মাসে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা থেকে মাদেয়া প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং তার বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা, তাদের সদস্য, দাতা এবং তার মায়ের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ মিলিয়ে কথিত চুরির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট। তদন্তে বলা হয়েছে, গির্জার সংগ্রহের খাম থেকেও অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ এমন একজন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ব্যবহারের জন্য হেরোইন কেনায় ব্যয় করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির সঙ্গে মাদেয়ার হোটেলে দেখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ডেরি টাউনশিপের একটি গির্জার সাধারণ তহবিল থেকে মাদেয়া ৭৫ হাজার ডলার তুলে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ওই গির্জার নাম দ্য অ্যাসাম্পশন অব দ্য ব্লেসড ভার্জিন মেরি ইউক্রেনিয়ান ক্যাথলিক চার্চ। সেখানে তিনি পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওই গির্জা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কাছাকাছি ম্যাককিসপোর্ট ও জিনেট শহরের ইউক্রেনীয় ক্যাথলিক গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি গির্জা থেকেও তিনি অর্থ নিয়েছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে একটি ঘটনায় একটি গির্জা থেকে ১৯ হাজার ৪০০ ডলার মূল্যের সোনার পাত্র নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রায় তিন বছর ধরে চলা তদন্তে মাদেয়াকে ঘিরে আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তার ফেলে দেওয়া আবর্জনার মধ্যে গির্জার সংগ্রহের খাম পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন যন্ত্রেও ডেবিট কার্ড ও ব্যাংকের নথির ছবি পাওয়া গেছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, চুরি করা অর্থের একটি অংশ বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রমোদতরীতে ভ্রমণের পেছনেও ব্যয় করা হয়েছিল। একই ব্যক্তিকে উপহার দেওয়ার জন্য ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের একটি ফোর্ড মুস্তাং কেনার অভিযোগও রয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি মাদেয়ার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদেয়ার বিরুদ্ধে নিজের মায়ের আর্থিক সম্পদ নেওয়ার অভিযোগও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তিনি এমন এক সময়ে তার মায়ের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন, যখন ওই বৃদ্ধা নিজের আর্থিক বিষয়গুলো পরিচালনা করতে পারছিলেন না। পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু যে গির্জাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেগুলোর ওপর থাকা আস্থার অপব্যবহার করেছেন তা নয়, নিজের মায়ের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পর তা সামাল দেওয়ার অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদেয়াকে ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচে গ্রেপ্তারের পর পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আদালতে তার জামিন ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলোতে গির্জার তহবিল, সদস্য ও দাতাদের অর্থ এবং তার মায়ের অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি ওই অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং মামলাটি আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগোবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকানাডার অন্টারিওর মিল্টনে হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে প্রার্থী হয়েছেন ড. খাদিজা আর মেটওয়ালি। তিনি ওয়ার্ড ১ ও ২-এর জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার ছেলে আবদুর রহমান এল বাহনাসাওয়ি ২০১৬ সালে আইএসের হয়ে নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই হামলা পরিকল্পনায় টাইমস স্কয়ার ও নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থায় বোমা বিস্ফোরণ এবং কনসার্টে গুলি চালানোর পরিকল্পনা ছিল। মেটওয়ালির প্রার্থিতার বিষয়টি ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় নিশ্চিত করা হয়েছে। টাউন অব মিল্টনের সরকারি তালিকায় তার নাম হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ট্রাস্টি, ওয়ার্ড ১ ও ২-এর প্রার্থী হিসেবে রয়েছে। সেখানে তার মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ ১৫ জুন ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। একই পদে অ্যান্ড্রু জে. উডও প্রার্থী হয়েছেন। মেটওয়ালির ছেলে আবদুর রহমান এল বাহনাসাওয়ি কানাডার নাগরিক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আইএসের সমর্থনে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং টাইমস স্কয়ার ও নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়েতে বিস্ফোরক ব্যবহার করার পাশাপাশি কনসার্টে বেসামরিক মানুষকে গুলি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি হামলার সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে সাবওয়ের মানচিত্রও ব্যবহার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, এল বাহনাসাওয়ি অন্য কয়েকজনের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি ২০১৬ সালের রমজান মাসে নিউইয়র্কের জনবহুল এলাকায় বোমা হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তদন্তের সময় এফবিআইয়ের একজন গোপন এজেন্ট ওই চক্রে প্রবেশ করেন। কানাডা থেকে নিউইয়র্ক এলাকায় যাওয়ার পর ২০১৬ সালের মে মাসে এল বাহনাসাওয়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। এল বাহনাসাওয়ি পরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি হামলার পরিকল্পনা করতে গিয়ে নিজের ভাষায় ‘পরবর্তী ৯/১১’ ঘটানোর আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা সফল হলে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা ছিল বলে প্রসিকিউটররা আদালতে তুলে ধরেন। কারাগারে যাওয়ার পরও এল বাহনাসাওয়ির বিরুদ্ধে নতুন সহিংসতার ঘটনা সামনে আসে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পেনসিলভানিয়ার একটি ফেডারেল কারাগারে তিনি দুই কারা কর্মকর্তার ওপর হামলা করেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরে তার ডান চোখ হারানোর কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই কারাগার-সংক্রান্ত হামলার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় আরও সাজা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। মেটওয়ালি অবশ্য ছেলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের অবস্থানকে আলাদা করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি সব ধরনের সহিংসতা ও উগ্রবাদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ছেলের কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডকে কখনো সমর্থন করেননি। নিজের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ভোটারদের তার শিক্ষা, মানব উন্নয়ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা এবং মিল্টনের শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য পরিকল্পনার ভিত্তিতে তাকে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। মিল্টনটুডের প্রার্থী পরিচিতিতেও মেটওয়ালিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কানাডিয়ান সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালটেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু উডও একই ওয়ার্ডের প্রার্থী। মিল্টনের স্থানীয় নির্বাচন ২৬ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, মেটওয়ালি ওয়ার্ড ১ ও ২-এর হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ট্রাস্টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে তার প্রার্থিতা সামনে আসার পর ছেলে এল বাহনাসাওয়ির পুরোনো সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: ডেইলি মেইল
চার্চের ৭ লাখ ডলার চুরি করে মাদক, ভ্রমণ ও বিলাসী জীবনযাপন; সাবেক পুরোহিত গ্রেপ্তার
সাধারণ রেজুমে নয়, ডোনাটের বাক্সে রেজুমে পাঠিয়ে ১০টি চাকরির ইন্টারভিউ
ক্যালিফোর্নিয়ার ১০ হাজার স্কুলে বিনামূল্যে অ্যাজমার ইনহেলার
চার মাসের ছেলে জুনউকে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোগামী প্রায় ১০ ঘণ্টার ফ্লাইটে উঠেছিলেন এক মা। শিশুটির এটাই ছিল প্রথম বিমানযাত্রা। দীর্ঘ ফ্লাইটে সে কাঁদতে পারে এবং এতে সহযাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় আগেই ২০০টির বেশি গুডি ব্যাগ তৈরি করে সঙ্গে নেন তিনি। প্রতিটি ব্যাগে ছিল কোরিয়ান মিষ্টি ও ইয়ারপ্লাগ। সঙ্গে ছিল ছোট্ট একটি চিঠি, যা লেখা হয়েছিল চার মাসের শিশু জুনউর পক্ষ থেকে। চিঠিতে জানানো হয়, এটি তার জীবনের প্রথম ফ্লাইট। তাই সে কান্না করতে বা কিছুটা শব্দ করতে পারে। এমন হলে যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি বোঝার অনুরোধ জানানো হয়। ঘটনাটি ২০১৯ সালে সিউল থেকে সান ফ্রান্সিসকোগামী একটি ফ্লাইটে ঘটে। পরে ওই ফ্লাইটের যাত্রী ডেভ করোনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুডি ব্যাগ ও চিঠির ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তখন ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মায়ের আশঙ্কা অবশ্য শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি। প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রায় জুনউ প্রায় কোনো শব্দই করেনি। যে শিশুর কান্নার কথা ভেবে মা আগে থেকেই ২০০টির বেশি গুডি ব্যাগ প্রস্তুত করেছিলেন, সেই শিশুই পুরো ফ্লাইটে যাত্রীদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ছিল। ঘটনাটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই মায়ের আগাম প্রস্তুতি ও সহযাত্রীদের প্রতি বিবেচনাবোধের প্রশংসা করেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের জন্য অভিভাবকদের আগেই ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না। তবে জুনউর প্রথম বিমানযাত্রাকে ঘিরে মায়ের এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি ঘটনাটিকে দীর্ঘদিন পরও মানুষের মনে রাখার মতো করে তুলেছে।
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দিতে লাগতে পারে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার! অর্থের উৎস অনিশ্চিত
নাশতা সময়মতো না খাওয়ায় ৫ বছরের ছেলেকে গলায় চাপ, ক্যালিফোর্নিয়ায় শেরিফ ডেপুটি
বিশ্ব জয় করলেও ঘর সামলাতে পারছেন না ইলন মাস্ক? মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে নাস্তানাবুদ
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের Medicaid জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মামলায় জাকিয়া খান নামে এক ডে-কেয়ার মালিককে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। ৫৫ বছর বয়সী খানকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতির অর্থ হিসেবে আরও ৫০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, কনি আইল্যান্ড এলাকায় খানের মালিকানাধীন দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টার এবং একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই জালিয়াতি পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে খান হেলথ কেয়ার জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা ও অবৈধ হেলথ কেয়ার কিকব্যাক দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, খান হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন। তিনি রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং নামের একটি হোম হেলথ কেয়ার ফিসকাল ইন্টারমিডিয়ারিও পরিচালনা করতেন। জালিয়াতির অর্থ গ্রহণ ও গোপন করার জন্য টানউই সার্ভিসেস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কেটারের মাধ্যমে Medicaid সুবিধাভোগীদের এসব ডে-কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করানো হতো। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, খান ও তার সহযোগীরা সুবিধাভোগীদের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে এমন সেবার জন্য নিবন্ধিত করতেন, যা পরে Medicaid-এর কাছে বিল করা হলেও প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয়নি। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দুই ডে-কেয়ার সেন্টার Medicaid-এর কাছে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে Medicaid প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করে। জালিয়াতির অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নগদ করা হতো এবং সেই অর্থের একটি অংশ মার্কেটার ও Medicaid সুবিধাভোগীদের ঘুষ ও কিকব্যাক হিসেবে দেওয়া হতো বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ভুয়া অ্যাটেনডেন্স শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। তদন্তের অংশ হিসেবে খানের অফিসে অবৈধ কিকব্যাক দেওয়ার একটি আন্ডারকভার রেকর্ডিংও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে আসে। খানের বাড়িতে তল্লাশির সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও দুটি সম্পত্তিসহ জালিয়াতির অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এসব সম্পদের অংশ হিসেবে মোট ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারক নাতাশা সি. মার্লে খানের সাজা ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের জন্য লিংকডইনে চাকরির বদলে পাত্রী খুঁজে ভাইরাল ভারতীয় মা
২ কোটি ডলারের অনুদানে এআই নিয়ে নতুন কলেজ চালু করল ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস