পাইলটের গাঁজা সেবন ধরা পড়তেই ভারতের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা
এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের পাইলটের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের সব বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার পাইলটকে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব পাইলটের একবার মাদক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে ভারতের বিমান চলাচল খাতে মাদক পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এ৩২০ উড়োজাহাজ মাঝ-আকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। উড়োজাহাজটি তখন প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ঘটনার সময় যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের মধ্যে মোট ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে ফিরে দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে।
ঘটনাটির তদন্তে উড়োজাহাজটির তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটির তথ্য উঠে আসে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির পাইলট-ইন-কমান্ডের মাদক পরীক্ষার ফলও তদন্তকারীদের নজরে আসে। প্রথম পরীক্ষায় মাদক ব্যবহারের সম্ভাবনা ধরা পড়ার পর নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় গাঁজা বা মারিজুয়ানার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তবে তদন্তকারীরা এখনো পাইলটের মাদক গ্রহণের সঙ্গে উড়োজাহাজটির আকস্মিক উচ্চতা কমে যাওয়ার সরাসরি কারণগত সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি।
ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া ওই পাইলটকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পাশাপাশি সংস্থাটি নিজেদের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা শুরু করে। এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের পাইলটদের জন্য এই পরীক্ষা বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ মাদক বা অন্যান্য নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার অবস্থানও জানানো হয়েছে।
এর পর বিষয়টি শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ভারতীয় বিমান চলাচল খাতে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ডিজিসিএ। নতুন নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থার সব পাইলটকে একবার বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রায় ১৪ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমান নিয়মে ভারতের সব পাইলটের নিয়মিত মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিসিএর বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রতি বছর পাইলটদের একটি অংশকে এলোমেলোভাবে পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ পাইলটের মাদক পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। তবে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনায় পাইলটের পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর এই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।
ডিজিসিএ এখন নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মাদক পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সব পাইলটকে বছরে অন্তত একবার এলোমেলোভাবে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছিল। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে পাইলটদের মাদক ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হবে।
ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনাটি এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্তে পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিমান চলাচলে মাদক বা মনঃপ্রভাবক পদার্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ডিজিসিএকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পরই বিমান সংস্থাগুলোর পাইলটদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ভারতের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোর সব পাইলটকে অন্তত একবার মাদক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিমান সংস্থার পরিবর্তে পুরো বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় পাইলটদের মাদক পরীক্ষাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ঝুঁকি কমানোই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreলোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রকেট হামলার পর স্থল অভিযান চালিয়ে তারা এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় হুথি যোদ্ধাদের ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের এই সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুথিরা কৌশলগত মোখা বন্দরনগরীরও নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, মোখা বন্দরটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, বন্দর শহরটিতে প্রবেশের সময়ও হুথিরা আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দেয়। ইতোমধ্যে তারা পার্শ্ববর্তী হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। যাকার দ্বীপ এবং মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের জন্য এক বিরাট সামরিক ও কৌশলগত বিজয়। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এই অবস্থানগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই নৌপথ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য বাজারে জ্বালানি তেল ও বিপুল পণ্য পরিবহন করা হয়। উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের ওপর হুথিদের চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এদিকে হুথিদের এই আকস্মিক অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এএফপির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে চলা তীব্র সংঘাতে অন্তত ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। সংঘাতের কারণে প্রাণভয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুথিদের ঠেকাতে মরিয়া হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
পাইলটের গাঁজা সেবন ধরা পড়তেই ভারতের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান
কিম জং উনের ‘সিক্রেট ছেলে’! উত্তরসূরি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তদন্ত
শুধু সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে ৩ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে হেলিওস ১১ নামের একটি হালকা ওজনের নৌযান। ফিনল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে ইউরোপের খালপথ ও স্পেনের মূল ভূখণ্ড অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত জিব্রাল্টারে পৌঁছেছে নৌযানটি। ট্রু নর্থ ইয়টসের এক ইউটিউবার এই দীর্ঘ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফিনল্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় হেলিওস ১১ ইউরোপের বিভিন্ন খালপথ অতিক্রম করে। এরপর নৌযানটি স্পেনের মূল ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে এগিয়ে যায় এবং জিব্রাল্টারের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। অভিযানের শেষ অংশে স্পেনের মারবেলা থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায় নৌযানটি। হেলিওস ১১ প্রচলিত জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। প্রতিবেদনে নৌযানটির আনুমানিক দাম ২০ হাজার ৭২৪ ডলার বলা হয়েছে। হালকা কাঠামোর এই নৌযানে সৌরশক্তিকে প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ পথের এই অভিযানকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। অভিযানের পুরো পথ ছিল কয়েক হাজার নটিক্যাল মাইল দীর্ঘ। ফিনল্যান্ড থেকে ইউরোপের বিভিন্ন জলপথ পেরিয়ে স্পেনে পৌঁছানোর পর নৌযানটি দেশটির ভূখণ্ড অতিক্রম করে দক্ষিণ উপকূলের দিকে এগিয়ে যায়। এরপর মারবেলা থেকে জিব্রাল্টার পর্যন্ত শেষ ধাপ সম্পন্ন করে হেলিওস ১১। জিব্রাল্টারে পৌঁছানোর আগে মারবেলা থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইলের শেষ পথটিও এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দীর্ঘ যাত্রার পুরো সময়ে নৌযানটির জ্বালানির প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সৌরশক্তির ওপর নির্ভরশীলতার কারণেই এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এই অভিযান শেষ হলেও হেলিওস ১১-এর যাত্রা এখানেই থেমে যাচ্ছে না। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হিসেবে আরও বড় ও বিলাসবহুল একটি নৌযানে নতুন অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক ছোট ও হালকা নৌযান দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতার পর এবার আরও বড় নৌযান নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি চলছে। সৌরশক্তিনির্ভর এই অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প শক্তি ব্যবহার করে নৌযাত্রার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সূর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যেও এ ধরনের অভিযান বিশেষ মনোযোগ তৈরি করছে। ফিনল্যান্ড থেকে জিব্রাল্টার পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার এই যাত্রা তাই শুধু একটি নৌভ্রমণ নয়, বিকল্প শক্তিনির্ভর নৌযানের সক্ষমতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ছোট নৌযান দিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর এখন আরও বড় নৌযান নিয়ে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিযানের সঙ্গে যুক্তরা।
ইন্দোনেশিয়ায় সিজদায় থাকা অবস্থায় ইমামের মৃত্যু, জামাত শেষ করেন মুসল্লিরা
২২ বছর হিমায়িত ছিল ভ্রূণ, ৫৪ বছর বয়সে সন্তানের মা হলেন নারী
গ্রিনল্যান্ড সফর শেষে গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহার করেও আটক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত কিং ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স পবিত্র কোরআন মুদ্রণের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একটি অনন্য নাম। বর্তমানে এই কমপ্লেক্সটিতে আধুনিক ওয়েব এবং ডিজিটাল প্রিন্টিং সিস্টেমসহ ২৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক প্রিন্টিং ও প্রোডাকশন মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্টারে প্রতি ঘণ্টায় ৫,৫০০-এরও বেশি কোরআনের কপি ছাপানো সম্ভব হচ্ছে। বিশাল এই মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় কমপ্লেক্সটি মূলত তিনটি বৃহৎ 'কম্প্যাক্টা' (Kompacta) এবং 'রোটোম্যান' (Rotoman) প্রিন্টিং মেশিন পরিচালনা করে। প্রতিটি মেশিনের ইতোমধ্যে ৩১,৮৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলার রেকর্ড রয়েছে এবং এগুলো থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ কোটির বেশি মুদ্রিত শিট উৎপাদিত হয়েছে। কোরআন ছাপানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত ও সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। শুধুমাত্র ছাপানোই নয়, বরং বাঁধাই (binding), ফিনিশিং, সূক্ষ্ম পর্যালোচনা এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় পবিত্র কোরআন উৎপাদনের সর্বোচ্চ মানদণ্ড।
আফগানিস্তানে তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেসমেন্টে পড়াশোনা, বিশ্ববাসীর কাছে মেয়েদের চিঠি
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে প্রথমবার ইরানের অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার