থাকতেন বস্তিতে, স্কুলের বেতন দিতে পারেনি মা, সেই ছেলে এখন নাসার বিজ্ঞানী
মুম্বাইয়ের কুরলার বস্তিতে মাত্র ৮ বাই ১০ ফুটের একটি ঘরে মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা জয়কুমার বৈদ্য আজ নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কাজ করছেন। শৈশবে অর্থাভাবে স্কুলের বেতন দিতে না পারায় একসময় তার পরীক্ষার ফল আটকে রাখা হয়েছিল। সংসারের খরচ ও নিজের পড়াশোনা চালাতে টেলিভিশন মেরামতের কাজও করেছেন তিনি। পরে সেই জয়কুমারই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় ও চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার জিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের জগতে নিজের জায়গা করে নেন।
জয়কুমারের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে। তার মা একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতেন। স্কুলের বেতন দিতে না পারার সময়গুলোতে পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়ত। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে জয়কুমার টেলিভিশন মেরামতের দোকানে কাজ করে মাসে প্রায় ৪ হাজার রুপি আয় করতেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াতেন এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতেন।
তবে অর্থের অভাব তার পড়াশোনার আগ্রহ থামাতে পারেনি। মুম্বাইয়ের কেজে সোমাইয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনেই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় পর্যায়ের এবং চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার পান। এরপর তিনি লারসেন অ্যান্ড টুব্রোতে শিক্ষানবিশির সুযোগও পান।
২০১৬ সালে জয়কুমার ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে জুনিয়র গবেষণা ফেলো হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপাদান তৈরি ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। নাসার জীবনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেছেন এবং উচ্চ তাপমাত্রার অতিপরিবাহীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে কাজ করেছেন।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় স্নাতকোত্তর গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জয়কুমার। ২০২১ সালে সেখান থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে অর্ধপরিবাহী তৈরির প্রযুক্তি ও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন তিনি।
নাসার সঙ্গে তার যাত্রাও শুরু হয় গবেষণার ধারাবাহিকতায়। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে তিনি প্রথমে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রকল্পে এক্স-রে দূরবীক্ষণযন্ত্রের জন্য বিশেষ ধরনের পাতলা স্তরের উপাদান তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি গ্রহের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণে ব্যবহৃত চতুর্মেরু ভর বর্ণালিমাপক তৈরির সঙ্গে যুক্ত।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জয়কুমার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রহীয় পরিবেশ গবেষণাগারে ভূমি সহায়তা সরঞ্জাম প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন মহাকাশ মিশনের জন্য ভর বর্ণালিমাপকের মান নির্ধারণ, ভূমি ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির দায়িত্বে রয়েছেন।
তার কাজের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদসহ সৌরজগতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মিশনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ও উর্ধ্ববায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি যন্ত্রের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের নিরপেক্ষ গ্যাস ও আয়নের গঠন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল ও আয়নমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য তৈরি একটি মিশনের যন্ত্রের ভূমি সহায়তা ও পরিচালনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
যে ছেলেটির পরিবারের জন্য একসময় স্কুলের বেতন জোগাড় করাই কঠিন ছিল, সেই জয়কুমার বৈদ্য এখন মহাকাশবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র তৈরির কাজে যুক্ত। তার জীবনের পথচলা দেখিয়েছে, আর্থিক সংকট শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে সেখান থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণায়ও জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ক্যারিয়ার
View moreবিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইন্টেলে কাজ করার পর এবার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সারোয়ার মোর্শেদ। বর্তমানে তিনি টেসলার সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটির রোবোট্যাক্সি ও সেমি ট্রাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে উৎপাদন পরিকল্পনা, সাপ্লাই চেইন এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম সমন্বয়ে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে বুয়েটের অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার্স (এআইপিই)। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা এই প্রকৌশলীর সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সারোয়ার মোর্শেদ, যিনি রিপন নামেও পরিচিত, বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে তিনি বুয়েট থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্সে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে বোস্টনের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং ২০২২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল অপারেশনস রিসার্চ, ম্যাথমেটিক্যাল অপ্টিমাইজেশন এবং জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানে উন্নত অ্যালগরিদম তৈরি। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন সারোয়ার। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বড় আকারের তথ্য বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিং এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা অর্জনের গাণিতিক পদ্ধতি। অপারেশনস রিসার্চের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান কীভাবে উৎপাদন ব্যয় কমাতে পারে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং জটিল সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনা করতে পারে, সেসব সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ম্যাথমেটিক্যাল প্রোগ্রামিং, কম্পিউটারস অ্যান্ড অপারেশনস রিসার্চসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে। এআইপিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা ১৭টি। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালের গবেষণাপত্র পর্যালোচনার কাজেও যুক্ত রয়েছেন। পিএইচডি শেষ করার পর ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের চ্যান্ডলারে ইন্টেল কর্পোরেশনে অপারেশনস রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন সারোয়ার মোর্শেদ। বিশ্বের অন্যতম বড় সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটিতে তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র ছিল উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাপ্লায়ার ক্যাপাসিটি প্ল্যানিং এবং জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়ার সমস্যা শনাক্ত করা। বিশেষ করে চিপ তৈরির মতো ব্যয়বহুল শিল্পে কোথায় উৎপাদনে বাধা তৈরি হচ্ছে, কীভাবে সরঞ্জাম ও বিনিয়োগের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন পরিকল্পনার সমন্বয় করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। বুয়েটের এআইপিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইন্টেলে কর্মরত অবস্থায় সারোয়ার ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সাপ্লায়ার ক্যাপিটাল প্ল্যানিং উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উৎপাদন ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নত গাণিতিক মডেল তৈরির মাধ্যমে মূলধনি ব্যয় সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশেষ করে উৎপাদনের অনিশ্চয়তা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সরঞ্জামের সক্ষমতা বিশ্লেষণে তাঁর কাজের কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তবে এই উদ্যোগে তাঁর ব্যক্তিগত অবদান থেকে ঠিক কত অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, সে বিষয়ে পৃথক কোনো পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ইন্টেলের পর তাঁর পেশাগত জীবনে আসে নতুন অধ্যায়। তিনি যোগ দেন ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায়। প্রতিষ্ঠানটিতে তাঁর দায়িত্ব প্রযুক্তিগত প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং উৎপাদনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা। বুয়েটের এআইপিই জানিয়েছে, টেসলার রোবোট্যাক্সি এবং সেমি ট্রাকের মতো প্রকল্পে নতুন পণ্য উৎপাদনে আনা, প্রোডাকশন কন্ট্রোল, ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্লো, লজিস্টিকস ও বাইরের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয়ে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কাজের মাধ্যমে প্রকৌশল নকশা থেকে বাস্তব উৎপাদনে যাওয়ার জটিল প্রক্রিয়া পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন তিনি। টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজারের দায়িত্ব শুধু কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন গাড়ি বা প্রযুক্তি উৎপাদনে আনার ক্ষেত্রে প্রকৌশল, কারখানা পরিচালনা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং উৎপাদন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি যন্ত্রাংশের সরবরাহে বিলম্ব কিংবা উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতি পুরো প্রকল্পের সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব জটিলতা মোকাবিলায় তথ্য বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। সারোয়ারের একাডেমিক গবেষণা ও ইন্টেলে অর্জিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে সারোয়ারের পেশাগত যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের শিল্প খাতেও। বুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করার পর তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, বিজিএমইএ ও বুয়েটের যৌথ একটি প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেখানে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা মূল্যায়নসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। এর আগে শিক্ষাজীবনে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে ইন্টার্নশিপের সময় উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য শিডিউলিং অ্যালগরিদম তৈরির কাজেও অংশ নেন। ফলে বাংলাদেশের শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্প পর্যন্ত তাঁর কর্মজীবনে উৎপাদনব্যবস্থা ও গাণিতিক বিশ্লেষণের ধারাবাহিক প্রয়োগ দেখা যায়। সারোয়ার মোর্শেদের এই অর্জন বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণভাবে এই বিভাগের পড়াশোনাকে কারখানা পরিচালনা বা উৎপাদন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ অনেক বিস্তৃত। ডেটা সায়েন্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, অপারেশনস রিসার্চ এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ রয়েছে। সারোয়ারের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা সেই বিস্তৃত সম্ভাবনারই একটি বাস্তব উদাহরণ। বুয়েট থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে ইন্টেল ও টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর এই যাত্রা বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে অংশগ্রহণের আরেকটি দৃষ্টান্ত। শুধু গবেষণাগার নয়, বিশ্বের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা নিজেদের দক্ষতার প্রয়োগ করছেন। সারোয়ার মোর্শেদের কর্মজীবন দেখিয়েছে, শিল্প প্রকৌশলের গাণিতিক ও বিশ্লেষণভিত্তিক শিক্ষা আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পথ তৈরি করতে পারে।
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কিনেন ফোন, নাসিম এখন মাইক্রোসফটে
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত সুপারভাইজার খুঁজে পাওয়া বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যাঁরা বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তা নিয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চান, তাঁদের অনেকেই শুধু গুগল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। অথচ পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন ব্যবহার করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক এবং অর্থায়নসহ গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল হাকিম তিস্তি লিংকডইনের মাধ্যমে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার খোঁজার কয়েকটি কার্যকর কৌশল তুলে ধরেছেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, শুধু অধ্যাপকদের খুঁজে বের করাই যথেষ্ট নয়। নিজের শিক্ষাগত ও গবেষণাসংক্রান্ত পরিচিতি তৈরি, গবেষণার সঙ্গে মিল খোঁজা এবং সঠিকভাবে যোগাযোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই নিজের লিংকডইন পরিচিতি পেশাদারভাবে সাজাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগের আগে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহের বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা জরুরি। একটি ভালো পরিচিতিমূলক ছবি, আকর্ষণীয় সংক্ষিপ্ত পরিচয়, শিক্ষাগত তথ্য, গবেষণা প্রকল্প, প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং প্রাসঙ্গিক দক্ষতা যুক্ত করতে হবে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবতথ্যবিজ্ঞান নিয়ে পিএইচডি করতে চান, তাহলে নিজের পরিচিতিতে উল্লেখ করতে পারেন, তিনি জিনতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবতথ্যবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী এবং এসব বিষয়ে পিএইচডি করার পরিকল্পনা করছেন। এতে পরিচিতি দেখেই সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক শিক্ষার্থীর গবেষণার আগ্রহ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক শব্দ ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা। শুধু অধ্যাপক লিখে খোঁজার পরিবর্তে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগ, নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থী নিয়োগ, সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডি, গবেষণা সহকারী নিয়োগ এবং গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থী নেওয়ার মতো বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে হবে। এসব শব্দের সঙ্গে নিজের বিষয় বা গবেষণার ক্ষেত্র যুক্ত করলে অনুসন্ধান আরও কার্যকর হয়। যেমন, জীবতথ্যবিজ্ঞানে পিএইচডির সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডি কিংবা জিনতত্ত্বে গবেষণার সুযোগ খুঁজতে পারেন। একইভাবে প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, ব্যবসায় শিক্ষা বা অন্য যেকোনো বিষয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণার ক্ষেত্র অনুযায়ী অনুসন্ধান করতে পারবেন। লিংকডইনে অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন বাছাইয়ের সুবিধা ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদের পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রকাশিত পোস্ট অনুসন্ধান করলে গবেষণার সুযোগ বা আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত ঘোষণা পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য কিংবা অন্য কোনো দেশের অবস্থান নির্বাচন করেও অনুসন্ধানের পরিধি সীমিত করা সম্ভব। অনেক অধ্যাপক তাঁদের গবেষণাগারে নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থী নেওয়ার ঘোষণা সরাসরি লিংকডইনে প্রকাশ করেন। কেউ কেউ গবেষণা প্রকল্পে সহকারী নিয়োগের তথ্যও জানান। তাই শুধু অধ্যাপকদের পরিচিতি দেখার পরিবর্তে তাঁদের সাম্প্রতিক পোস্ট ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করা উপকারী। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অধ্যাপকের গবেষণা ও নিজের আগ্রহের মধ্যে মিল খুঁজে বের করা। কোনো অধ্যাপককে বার্তা পাঠানোর আগে তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, কোন বিভাগে গবেষণা করছেন এবং তাঁর সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলো কী বিষয়ে, তা ভালোভাবে দেখতে হবে। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছেন কি না এবং তাঁর গবেষণাগারে নতুন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট, অধ্যাপকের গবেষণাগারের তথ্য এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ লিংকডইনের পরিচিতিতে সব সময় গবেষণার সর্বশেষ তথ্য বা নতুন শিক্ষার্থী নেওয়ার সুযোগ উল্লেখ নাও থাকতে পারে। উপযুক্ত অধ্যাপক খুঁজে পাওয়ার পর প্রথমেই বড় বার্তা পাঠানোর প্রয়োজন নেই। বরং সংক্ষিপ্ত ও পেশাদারভাবে যোগাযোগের অনুরোধ পাঠানো যেতে পারে। সেখানে নিজের পরিচয়, গবেষণার আগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের কাজের প্রতি আগ্রহের কথা জানানো যথেষ্ট। যেমন, কোনো অধ্যাপক যদি জিনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন, তাহলে তাঁকে জানানো যেতে পারে যে শিক্ষার্থী তাঁর গবেষণা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তাঁকে সুপারভাইজার হিসেবে নিয়ে পিএইচডি করার সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোচনা করতে চান। প্রথম বার্তাটি এমনভাবে লিখতে হবে, যাতে অধ্যাপক সহজেই বুঝতে পারেন কেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ করার পর পরবর্তী বার্তায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং কাঙ্ক্ষিত মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামের কথা সংক্ষেপে জানানো যেতে পারে। বিশেষ করে অধ্যাপকের সাম্প্রতিক কোনো গবেষণার সঙ্গে নিজের আগ্রহের মিল থাকলে সেটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণসংবলিত জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো যেতে পারে। তবে অধ্যাপকের বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ইমেইল ঠিকানা পাওয়া গেলে সেখানেও যোগাযোগ করা কার্যকর পদ্ধতি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তির জন্য আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে কোনো অধ্যাপক আগ্রহ দেখালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। এদিকে মাস্টার্স ও পিএইচডির আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ ও শিক্ষাক্রমভেদে আলাদা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষকতা সহকারী, গবেষণা সহকারী কিংবা বিশেষ গবেষণা বৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে একই ধরনের আর্থিক সহায়তা থাকে না। তাই কোনো শিক্ষাক্রমে অর্থায়নের সুযোগ থাকলে শিক্ষাব্যয় কতটা বহন করা হবে, মাসিক বা বার্ষিক ভাতা কত, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা রয়েছে কি না এবং কত বছর পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। আবদুল হাকিম তিস্তির পরামর্শ অনুযায়ী, সুপারভাইজার খোঁজার সময় একটি সাধারণ ভুল হলো একই বার্তা অসংখ্য অধ্যাপকের কাছে পাঠানো। এতে শিক্ষার্থীর প্রকৃত গবেষণার আগ্রহ বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। বরং প্রতিটি অধ্যাপকের গবেষণা সম্পর্কে জেনে আলাদাভাবে বার্তা তৈরি করা ভালো। এ ছাড়া প্রথম যোগাযোগেই শুধু বৃত্তি চাওয়ার পরিবর্তে নিজের গবেষণার দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাগারে কীভাবে অবদান রাখতে পারবেন, তা তুলে ধরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগের ভাষা সংক্ষিপ্ত, ভদ্র ও পেশাদার হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, লিংকডইন ব্যবহার করে কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলেই ভর্তি বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা, গবেষণার বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য, অর্থায়নের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত সুযোগ নির্ভর করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য লিংকডইন হতে পারে গবেষকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন সুযোগ সম্পর্কে জানার একটি অতিরিক্ত মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভর্তি নির্দেশনা ও গবেষণাগারের তথ্যের সঙ্গে লিংকডইন ব্যবহার করলে উপযুক্ত সুপারভাইজার এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও গোছানো ও কার্যকর হতে পারে।
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন বেকার ভাতা চাওয়ার আবেদন কমেছে। তবে একই সময়ে নতুন চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতা আবেদনের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এর আগে প্রায় ২ লাখ আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। নতুন আবেদন কমে যাওয়াকে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ছাঁটাই না থাকার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চাকরির বাজারের পুরো চিত্র ইতিবাচক নয়। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারে একটি ভিন্ন ধরনের প্রবণতা তৈরি করেছে। একদিকে বড় ধরনের ছাঁটাই তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন নিয়োগও আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। এর ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যাতেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে। চাকরি খোঁজার সময়ও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বেকার থাকা ব্যক্তিদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে গড়ে ১১ সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছে। অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত, কারণ শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ থাকলেও নিয়োগের গতি কমে গেলে বেকার মানুষের কর্মসংস্থানে ফিরতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। অবসর গ্রহণের প্রবণতা, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন খাতে নিয়োগের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করছে।তবে নতুন বেকার ভাতা আবেদন কমে যাওয়ায় এখনো ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কম ছাঁটাই এবং কম নিয়োগের শ্রমবাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চাইছেন অথবা প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগের গতি কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন নিয়োগের তথ্য শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থার আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।
চাকরি বাড়ার গতি থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে, বেকারত্বের হার বেড়ে নতুন শঙ্কা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর টেক জায়ান্টে ক্যারিয়ার: আশরাফুলের সাফল্যে