- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ পাচারে ব্যবহৃত চীনা ভাষার অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘জিনবি গ্যারান্টি’-র বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একদিনের অভিযানে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট থেকে ৫২ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জব্দের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস ও ট্রেজারি বিভাগের সমন্বিত অভিযানে জিনবি গ্যারান্টির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে জিনবির ব্যবহৃত দুটি ক্রিপ্টো ওয়ালেট জব্দ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার ছিল। আরও ৪৭টি সংশ্লিষ্ট ওয়ালেটের অর্থ আটকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫২ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। জিনবি গ্যারান্টি টেলিগ্রামভিত্তিক একটি চীনা ভাষার অবৈধ অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করত বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। সেখানে স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনাকারীদের কাছে প্রতারণার ওয়েবসাইট তৈরি, প্রতারণার অর্থ ‘ধোয়া’ বা পাচার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে কাজের জন্য মানুষ সংগ্রহসহ বিভিন্ন অবৈধ সেবা বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এলিপটিক জানিয়েছে, ২০২২ সালে কার্যক্রম শুরুর পর জিনবি গ্যারান্টি ও এর ব্যবসায়ীরা অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন প্রক্রিয়া করেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিনবি পে আরও প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একই দিনে জিনবি গ্যারান্টিকে গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। জিনবির কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা মার্কিন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্লক হয়ে যাবে। ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ তারা ম্যাকলিস বলেন, মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ বিদেশে পরিচালিত অপরাধী চক্রগুলো জিনবি গ্যারান্টি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার করত। তদন্তকারীরা ক্রিপ্টো লেনদেন অনুসরণ করে নেটওয়ার্কটির বিস্তৃতি শনাক্ত করেছেন। তদন্তে সহায়তা করেছে এলিপটিকের ব্লকচেইন গোয়েন্দা দল। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারির ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) এবং ট্রেজারি এক্সিকিউটিভ অফিস ফর অ্যাসেট ফরফেইচার-ও অভিযানে সহযোগিতা করেছে। তবে অর্থ আটকে দেওয়া মানেই তা ইতিমধ্যে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে - এমন নয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দেশটিতে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে জ্বালানির দামে বড় ধরনের স্বস্তি আসার সম্ভাবনা কম। ৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম শেষ পর্যন্ত গ্যালনপ্রতি ২ ডলারের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। ট্রাম্প জ্বালানির বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহে বিঘ্নকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, যুদ্ধ নভেম্বরের নির্বাচনের পরপরই শেষ হতে পারে এবং এর ফলে তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন আসবে। তবে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের দিন আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম বেড়ে প্রায় ৪.২২ ডলারে পৌঁছায়। ডিজেলের গড় দামও রেকর্ড ৫.৯৪ ডলারে ওঠে। তবে জ্বালানির দাম দ্রুত কমবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ২০২৭ সালের ডিজেলের গড় দাম নিয়ে আগের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির বাইরে চলে যায় মাত্র ৩ বছরের এক শিশু। পরে ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিষয়টি জানতে পারেন তার মা ব্রিট। ঘটনাটি তাকে এতটাই ভয় পাইয়ে দেয় যে তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে যেন তার ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। ব্রিট জানান, সম্প্রতি তিনি ছেলেকে খাটের বদলে নতুন ‘বিগ বয় বেডে’ ঘুমানোর সুযোগ দিয়েছিলেন। এতে শিশুটির রাতে ঘরের ভেতর চলাফেরার স্বাধীনতা বেড়ে যায়। এক রাতে প্রায় ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে যায় তার। শিশুটি বাবা-মাকে খুঁজতে প্রথমে তাদের শোবার ঘরের দিকে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে সে বাড়ির সামনের দরজার দিকে এগিয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, দরজা তালাবদ্ধ থাকার পরও শিশুটি সেটি খুলে বাইরে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবার বাড়িতে ফিরে আসে। ঘটনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর ব্রিট সন্তানের নিরাপত্তার জন্য দরজায় অতিরিক্ত চাইল্ড লক লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি শেয়ার করে অন্য অভিভাবকদেরও শিশুদের দরজা খোলার সক্ষমতা এবং ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
মেটা যুক্তরাষ্ট্রে চালু করেছে নতুন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তব ডিজিটাল কাজও সম্পন্ন করতে পারে। ই-মেইল পাঠানো, ভ্রমণ বুক করা, অনলাইন কেনাকাটা, ফর্ম পূরণ এবং পেমেন্ট করার মতো কাজ করতে পারবে এই এআই এজেন্ট। বর্তমানে মিউজের সেবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে। মিউজকে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, শপিং, স্মার্ট হোম এবং অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারী কোন অ্যাপের সঙ্গে মিউজকে সংযুক্ত করবেন এবং তাকে কী ধরনের অনুমতি দেবেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করা যাবে। প্রচলিত চ্যাটবটের সঙ্গে মিউজের বড় পার্থক্য হলো - ব্যবহারকারী কোনো কাজের লক্ষ্য জানালে মিউজ নিজেই পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি এগিয়ে নিতে পারে। যেমন, ভ্রমণের পরিকল্পনা করা, ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা, পণ্য খোঁজা কিংবা ব্যবহারকারীর হয়ে কোনো কাজের জন্য দর-কষাকষি করা। দীর্ঘ সময়ের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও মিউজ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অনলাইন কেনাকাটা সম্পন্ন করার সক্ষমতা। মেটা এ জন্য স্ট্রাইপের লিংক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা তাদের লিংক অ্যাকাউন্ট মিউজের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করতে পারবেন। যেসব ব্যবসায় লিংক সরাসরি গ্রহণ করা হয় না, সেখানে অনুমোদিত কেনাকাটার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করতে পারে লিংক। এতে প্রকৃত কার্ডের তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রকাশ না করার ব্যবস্থা থাকে। মেটার দাবি, ই-মেইল পাঠানো বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে মিউজ ব্যবহারকারীর অনুমোদন চাইবে। প্রতিটি কাজের একটি অডিট ট্রেইলও থাকবে, যাতে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন এআই কী করেছে এবং কী করতে যাচ্ছে। মেটা মিউজের জন্য সিকিউর ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করেছে। এতে এআই এজেন্ট ও ব্যবহারকারীর সংযুক্ত ডেটা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। ‘সেন্টিনেল’ নামে আলাদা একটি সিস্টেম মিউজের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন চায়। মেটা বলছে, মিউজ সরাসরি ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট তথ্য দেখতে পারে না। তবে এখানেই নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের দেখা মেটার অভ্যন্তরীণ পোস্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় কিছু কর্মী মিউজের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একটি পরীক্ষায় মিউজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যক্তিগত আইক্লাউড ছবি প্রকাশ করার মতো আচরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্য পরীক্ষায় ব্যবহারকারীরা এজেন্টের বারবার লগ-আউট হওয়া এবং নির্দিষ্ট কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন। মেটা অবশ্য বলছে, নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য মিউজের আগের পরিকল্পিত উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে সিস্টেমটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নিরাপত্তা মান পূরণ করেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পাওয়া নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে মেটা বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। মিউজের মৌলিক সংস্করণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। বেশি ব্যবহারের জন্য মেটা মাসে ২০ ডলার এবং ১০০ ডলারের দুটি সাবস্ক্রিপশন স্তরও চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে মিউজ অ্যাপ, আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মেটার স্মার্ট গ্লাসেও মিউজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গের বৃহত্তর ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মিউজকে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এআইকে শুধু তথ্য দেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে নয়, মানুষের হয়ে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করার ডিজিটাল সহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মেটা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রায় ১০ দিন আগে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তবে নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এ প্রকাশিত একটি বইয়ের উদ্ধৃতি থেকে এই দাবি সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন - এমন তথ্য নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেন। হামলাটি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সতর্কবার্তায় উদ্বিগ্ন না হয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সম্ভাব্য হামলা পশ্চিম তীর থেকে আসতে পারে এবং ইসরায়েল যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তবে এই ফোনালাপ বা সতর্কবার্তার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, তারা হারেৎজের প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। নেতানিয়াহুর কার্যালয় অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাঁর দাবি, তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন কোনো সতর্কবার্তা পাননি। নেতানিয়াহু হারেৎজ ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে বলেছে, তারা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বা জল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে না। এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে ঘিরে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলা ও পরবর্তী আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমর্থন চাপে রয়েছে। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটও শক্ত অবস্থানে উঠে এসেছেন। সাম্প্রতিক একটি জরিপে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২৩টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পেয়েছে ২০টি। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনে পৌঁছাতে পারছে না। একই জরিপে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে ৩৮ শতাংশ এবং নেতানিয়াহুকে ৩৫ শতাংশ মানুষ বেশি উপযুক্ত বলেছেন। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের জরিপেও দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি ভোটারের কাছে ৭ অক্টোবরের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে দল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে হামলার আগে কী সতর্কতা ছিল এবং নেতানিয়াহু তা কীভাবে মোকাবিলা করেছিলেন - এই প্রশ্নটি নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ভারতীয় দম্পতি তরুণদের বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের দাবি, যে সুযোগ ও উন্নত জীবনের আশায় একসময় তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেসব সুযোগের অনেকটাই এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। দম্পতিটি বিদেশে বসবাসের আর্থিক ও পেশাগত সুযোগের পাশাপাশি এর মানসিক দিক নিয়েও কথা বলেছেন। তাদের মতে, পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের ছেড়ে দীর্ঘদিন অন্য দেশে বসবাস করা সহজ নয়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিচিত জীবন থেকে দূরে থাকার বিষয়গুলো অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারা বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে শুধু ক্যারিয়ার বা আয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করলেই হবে না। নিজের পরিবার, সামাজিক বন্ধন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে থাকা সুযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। দম্পতির মতে, ভারতের তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। তাদের বক্তব্য, বিদেশে যাওয়াই ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ নয়। দেশে থেকেই পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের একটি অংশ যেমন নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বক্তব্যটির মিল খুঁজে পাচ্ছেন, তেমনি অন্যরা মনে করছেন, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তির পেশা, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা ভারতীয় তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিনের। উচ্চশিক্ষা, চাকরি, আয় ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে যান। তবে প্রবাসজীবনের সুযোগের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার মতো বাস্তবতাও অনেকের অভিজ্ঞতার অংশ। এই দম্পতির বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সুযোগের পাশাপাশি এর ব্যক্তিগত ও মানসিক মূল্যও বিবেচনা করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে নেভিডিয়ার ৩২ বছর বয়সী সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তার পরিবার। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার কার্যালয়ে জরুরি আবেদন করেছেন এবং নির্ধারিত দাহকাজ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। এনবিসি বে এরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরফানকে জুলাইয়ে পালো আল্টোর নিজ বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আট দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরিবার ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরফান স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিলেন। মৃত্যুর দিন সকালে তিনি একটি পেশাগত প্রেজেন্টেশনও দেন। এরপর কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়লেন, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। ইরফানের পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি স্যাক্রামেন্টোতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও জরুরি আবেদন জমা দেন। তাদের আশঙ্কা, দাহ করা হলে মৃত্যুর ঘটনাটি পুনরায় পরীক্ষা বা ফরেনসিক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ইরফানের বোন সারাহ আল-হুসাইনি এনবিসি বে এরিয়াকে বলেন, শরীর দাহ হয়ে গেলে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ আর পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই তারা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দেহটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। ইরফান আল-হুসাইনি নেভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার ব্যক্তিগত পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং বিশেষ করে হেলথকেয়ারে ব্যাখ্যাযোগ্য এআই নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি জর্জিয়া টেক থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটের শিক্ষার্থী ছিলেন। জর্জিয়া টেকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন আথেনা একই সময়ে বুয়েটে পড়লেও তাদের পরিচয় হয় পরে জর্জিয়া টেকে। দুজনই সেখানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেন এবং ২০২২ সালে বিয়ে করেন। ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে একটি পৃথক তদন্তের দাবিও উঠেছে। আগস্টে প্রকাশিত এক আপডেটে জানানো হয়, বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের নজরে আনা হয়েছিল। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, পালো আল্টো পুলিশ তদন্ত করছে এবং সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের ফরেনসিক প্যাথলজিস্টও মৃত্যুর কারণ ও ধরন নিয়ে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করছেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ মামলাটি পরবর্তী আইনি পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে পারে বলেও ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে পরিবারের অভিযোগ ও প্রশ্নের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে নানা দাবি ছড়ালেও সেগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। নির্ধারিত দাহকাজ বন্ধ করে দেহটি আরও পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়াই এখন পরিবারের প্রধান দাবি। তারা বলছেন, ইরফানের মৃত্যুর পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে গুদাম ও লজিস্টিকস খাতে ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ শ্রেণিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কথা জানিয়েছে সিআইভিএ ইউএসএ ইনক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হেলপার, সহযোগী কর্মী এবং প্যাকেজিং কর্মী পদে সম্ভাব্য নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের প্রোফাইল বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত পদগুলোর ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১৫ থেকে ১৬.৩৫ ডলার বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণি। সাধারণভাবে দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এমন অস্থায়ী বা মৌসুমি নয়, এমন কাজ এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে। যোগ্যতার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাকে নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় এবং শ্রম সনদ, অভিবাসন আবেদন ও ভিসা প্রাপ্যতার মতো বিষয়ও প্রক্রিয়াটিতে গুরুত্বপূর্ণ। সিআইভিএ ইউএসএ ইনক নিজেদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক প্রকাশনায় ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে কাজ করার কথা জানানো হয়েছে। ডালাস যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিবহন, বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রগুলোর একটি হওয়ায় গুদাম ও লজিস্টিকস খাতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো পদে চাকরি পাওয়া বা ইবি-৩ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়। সিআইভিএ ইউএসএ ইনকের প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তার পদ খালি থাকা, প্রার্থীর যোগ্যতা, শ্রম বিভাগের প্রয়োজনীয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের সিদ্ধান্ত, ভিসা প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য অভিবাসন আইনের ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে। তাই কোনো মধ্যস্থতাকারীর পক্ষ থেকে চাকরি, ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তার দাবি করা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত বা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এই তথ্য জানিয়েছে। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা ২ হাজার ১৫০ জনের বেশি পরিচিত বা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে ২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যখন নিহতদের স্মরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জুনে মেক্সিকোর নাগরিক আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজকে গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি ইউএফসি অনুষ্ঠানে ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে কথিত হামলার পরিকল্পনায় তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার দর্শনার্থী ভিসার মেয়াদ ২০০১ সালে শেষ হলেও ২০১৪ সালে তিনি শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের জন্য চালু করা ডাকা কর্মসূচির আওতায় সাময়িক সুরক্ষা পেয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে। আরেক ঘটনায় ব্রাজিলের নাগরিক ফেলিপে লিনারেস ডি অলিভেইরা ডেল আকুইয়াকে গ্রেপ্তার করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদন্ত সংস্থা। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি দুটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় তাকে গ্রেপ্তারের সময় একটি হ্যান্ডগান, নগদ অর্থ এবং কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ট্রেন দে আরাগুয়ার চার সদস্য ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে দুইজন নিহত হওয়ার একটি গুলির ঘটনায় মে মাসে দোষ স্বীকার করেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, চারজনই ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিন বলেন, ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্ক থাকার গুরুত্ব আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলায় নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ২০০২ সালে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরের বছর গঠিত হয় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা।
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ডাক্তার ও তাদের পরিবারের আরও দুই সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যার সময় তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বন্যার পানিতে হোটেলটি ভেসে যাওয়ার পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ডা. ইশান প্যাটেল ও তার স্ত্রী ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেল। সঙ্গে ছিলেন ইশানের মা শিলপা প্যাটেল এবং শ্বশুর উমেশকুমার প্যাটেল। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব অর্থোপেডিক সার্জারি জানিয়েছে, ইশান সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডাল্ট রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। ফেলোশিপ শেষ করার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তীর্থযাত্রায় নেপালে গিয়েছিলেন ইশান। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যা শুরু হলে তারা সম্ভবত যে হোটেলে ছিলেন, সেটি পানির তোড়ে ভেসে যায়। এরপর থেকেই চারজনকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেলও মিনেসোটার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার সূত্রে যুক্ত ছিলেন। তিনি আগে ফ্রিডলির মার্সি হাসপাতাল-ইউনিটি ক্যাম্পাসে সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অলিনা হেলথ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন। ইশান ও আকাঙ্কশা দ্বৈত মার্কিন-কানাডীয় নাগরিক। তাদের সঙ্গে থাকা ইশানের মা ও শ্বশুর কানাডার নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তা করতে নেপালে গেছেন। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। দুর্যোগের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হিমালয় অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। নিখোঁজ ইশান, তার পরিবারের সদস্য এবং এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা না করেও প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার উদাহরণ তৈরি করেছেন ভারতের গন্তব্য মালভিয়া। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এই তরুণ অ্যামাজনে চাকরির জন্য প্রায় ১৫ বার আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন। কিন্তু থেমে না গিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে আবেদন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে অ্যামাজনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে সুযোগ পান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বার্ষিক প্যাকেজ প্রায় ১.১ কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মালভিয়া ভারতের এলএনসিটি ভোপাল থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক সম্পন্ন করেন। কম্পিউটার সায়েন্স তাঁর মূল বিষয় না হলেও প্রথম বর্ষের শেষ দিক থেকেই প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। ধীরে ধীরে ডেটা স্ট্রাকচার অ্যান্ড অ্যালগরিদম, পাইথন, মেশিন লার্নিং, প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে ছিল নিয়মিত কোডিং অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিং। পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি লিটকোডে ৬৫০টির বেশি সমস্যা সমাধান করেছেন এবং ১ হাজার ৯৮০-এর বেশি রেটিং অর্জন করেছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কোডিং কমিউনিটিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন এবং কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। শুধু অনলাইন কোডিং অনুশীলনেই থেমে থাকেননি মালভিয়া। পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ করেছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ্লিকেশনও ছিল, যেখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই, এপিআই, ডেটাবেস ও রিঅ্যাক্টভিত্তিক ফ্রন্টএন্ডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় অ্যামাজনে চাকরির আবেদন। যোগ্য পদ খুঁজে পেলে তিনি বিভিন্ন দেশ ও লোকেশনের জন্য নিয়মিত আবেদন করতেন। একের পর এক প্রত্যাখ্যান এলেও আবেদন বন্ধ করেননি। প্রায় ১৫ বার ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে অ্যামাজনের একটি সুযোগের জন্য নির্বাচিত হন এবং বাছাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এলএনসিটির প্লেসমেন্ট রেকর্ডেও অ্যামাজনে প্রায় ১.১০ কোটি রুপির প্যাকেজে তাঁর নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা এই প্যাকেজের অঙ্কটি মোট পারিশ্রমিকের হিসাব হতে পারে, যেখানে বেতন, সুবিধা ও অন্যান্য উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাই এটিকে সরাসরি হাতে পাওয়া বেতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২৩ সালের আগস্টে মালভিয়া অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। জার্মানিতে তাঁর কাজের সঙ্গে বড় পরিসরের ব্যাকএন্ড সিস্টেম, বিতরণকৃত প্রযুক্তি, এপিআই ও ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার সেবার মতো বিষয় যুক্ত ছিল। তবে মালভিয়ার অ্যামাজন অধ্যায় এখন শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক এক পেশাগত আপডেটে তিনি জানিয়েছেন, অ্যামাজন ছেড়ে ট্যাক্সফিক্সে যোগ দিচ্ছেন। অর্থাৎ ১৫টি প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে অ্যামাজনে পৌঁছানোর গল্পের পর তাঁর প্রযুক্তি ক্যারিয়ারে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। মালভিয়ার গল্পের মূল শিক্ষা শুধু ১.১ কোটি রুপির চাকরি নয়। কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি না থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি করা, বাস্তব প্রকল্পে কাজ করা, ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও উপযুক্ত সুযোগের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই তাঁর ক্যারিয়ার গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের জন্য চিকিৎসা পেশাজীবী নিয়োগ দিচ্ছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। বর্তমানে নিবন্ধিত নার্স এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বিদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামোর পরিবেশে কাজ করতে হবে এসব পদে। নিবন্ধিত নার্স পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সেবার চিকিৎসা দলের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মস্থলে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেবেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন, আঘাতজনিত রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও টিকা দেওয়া, হাসপাতালে রোগী দেখানো, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করাও তাঁদের দায়িত্বের অংশ। এসব নার্সকে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা জরুরি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই পদের বার্ষিক বেতন ৮২ হাজার ৪৫০ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৮০ ডলার। এটি পূর্ণকালীন ও সীমিত মেয়াদের বৈদেশিক সেবা নিয়োগ। প্রাথমিক নিয়োগের মেয়াদ ১৮ মাস হলেও কর্মদক্ষতা ও দপ্তরের প্রয়োজন অনুযায়ী তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমানে ইরাক, পাকিস্তান ও হাইতিসহ উচ্চঝুঁকির কিছু কর্মস্থলে এসব নার্স নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। নিবন্ধিত নার্স পদে আবেদনকারীর অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি স্বীকৃত নার্সিং শিক্ষাক্রম থেকে কমপক্ষে দুই বছরের ডিগ্রি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলাম্বিয়া জেলায় বৈধ নিবন্ধিত নার্স লাইসেন্স এবং বর্তমান মৌলিক জীবন রক্ষা প্রশিক্ষণের সনদ থাকতে হবে। গত ছয় বছরের মধ্যে অন্তত পাঁচ বছর নিবন্ধিত নার্স হিসেবে সরাসরি রোগীসেবার অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন। অন্যদিকে, চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদটি আরও বিশেষায়িত। এই পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সুরক্ষা দলের অংশ হিসেবে কাজ করবেন। গুরুতর আহত ব্যক্তিকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা হামলার পর জরুরি চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথে রোগী সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। এই চাকরিতে সাধারণ হাসপাতালের কাজের তুলনায় ঝুঁকি বেশি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামো, চরম আবহাওয়া কিংবা দুর্গম এলাকায় কাজ করতে হতে পারে। দায়িত্ব পালনের সময় অস্ত্র বহন করতে হবে এবং উচ্চঝুঁকির পরিবেশে বিশেষ কৌশলগত প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৩ থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪২৭ ডলার। এটিও সীমিত মেয়াদের বৈদেশিক সেবা নিয়োগ। প্রাথমিক মেয়াদ ১৮ মাস হলেও তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, বৈধ ইউএস ড্রাইভার লাইসেন্স থাকা এবং সর্বোচ্চ গোপনীয়তার বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ নিবন্ধন সংস্থার প্যারামেডিক সনদ, মৌলিক জীবন রক্ষা এবং উন্নত হৃদ্যন্ত্র জীবন রক্ষা প্রশিক্ষণের সনদ প্রয়োজন। জরুরি বা সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় কমপক্ষে দুই বছরের প্যারামেডিক অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নিয়োগ মূলত দেশটির নাগরিকদের জন্য। বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী এবং কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা ও জরুরি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন পেশাজীবীদের জন্য এটি বৈদেশিক সেবায় কাজের সুযোগ তৈরি করছে। এসব পদে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, ফেডারেল অবসর সুবিধা এবং বেতনসহ ছুটির মতো বিভিন্ন সুযোগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের কারণে এই অর্থ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থের উৎস, অর্থ বিতরণের পদ্ধতি কিংবা কবে নাগাদ এই অর্থ দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যোগ্যতা হবে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক হওয়া এবং রিপাবলিকানদের উভয় কক্ষে জয় পাওয়া। তিনি আরও বলেছেন, এই ডিভিডেন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে। তবে প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার তালিকা বা আয়ের কোনো সীমা ঘোষণা করা হয়নি। এই ঘোষণার সঙ্গে ট্রাম্পের আগের ২ হাজার ডলারের ‘ট্যারিফ ডিভিডেন্ড’ প্রস্তাবের পার্থক্যও রয়েছে। আগের প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিনদের ট্যারিফ থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো আইন এখনো হয়নি। নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এর সম্ভাব্য ব্যয়ও হবে বিশাল। এপি জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের এই অর্থ দিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে অর্থের উৎস ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণা এখনো কোনো অনুমোদিত সরকারি পেমেন্ট প্রোগ্রাম নয়। কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে ৫ হাজার ডলারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য কোনো অ্যাপ্লিকেশন, রেজিস্ট্রেশন বা নির্দিষ্ট পেমেন্ট তারিখও নেই। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ঘোষণা রিপাবলিকান প্রচারণায় সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নির্বাচনে রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
চীনের গুয়াংডং প্রদেশের হুইঝৌ শহরের এক পেশাদার স্ক্র্যাপ-মেটাল রিফাইনার প্রায় দুই টন টেলিকম ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৯১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন। সোনাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ইউয়ান বা ২৯ হাজার মার্কিন ডলার। তাঁর এই প্রক্রিয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুরোনো সিম কার্ড ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ‘চাও’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি মূল্যবান ধাতু রিফাইনিংয়ের কাজ করেন। ২০ জানুয়ারি তিনি সোনা উদ্ধারের প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ সেটি দেখেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুরোনো সিম কার্ডসহ বিভিন্ন স্ক্র্যাপ রাসায়নিক দ্রবণে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এরপর ক্ষয়, রাসায়নিক বিক্রিয়া, পরিশোধন ও উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করার বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে সোনাযুক্ত অবশিষ্টাংশ আলাদা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন চাও। তবে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৯১ গ্রাম সোনা শুধু সিম কার্ড থেকেই পাওয়া যায়নি। চাও জানিয়েছেন, তিনি প্রায় দুই টন স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়াজাত করেছেন, যার মধ্যে টেলিকম খাতের চিপ বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক উপাদান ছিল। সিম কার্ড ও কিছু ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টে খুব অল্প পরিমাণে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ভালো হওয়া এবং সহজে ক্ষয় না হওয়ার কারণে ইলেকট্রনিক সংযোগস্থলে সোনা ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সিম কার্ডে থাকা সোনার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পেতে বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য প্রয়োজন হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোনো সিম কার্ড কেনাবেচার আগ্রহও বেড়ে যায়। অনেকেই পুরোনো সিম কার্ডে মূল্যবান ধাতু থাকার বিষয়টি জানতে পেরে এগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট রিফাইনাররা সতর্ক করেছেন, এটি কোনো সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতি নয়। সোনা উদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় বিপজ্জনক রাসায়নিক, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং নিয়ন্ত্রিত শিল্পপ্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দেখে ব্যক্তিগতভাবে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা গুরুতর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চাও নিজেও সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রক্রিয়া বাড়িতে অনুসরণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর প্রদর্শন মূলত শিল্প পর্যায়ের স্ক্র্যাপ রিফাইনিংয়ের উদাহরণ, পুরোনো সিম কার্ড থেকে সহজে সোনা তৈরির কোনো ঘরোয়া কৌশল নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরিস্ট ভিসায় প্রবেশ করে অন্যের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ ডলার (১ মিলিয়ন ডলার) হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক মেক্সিকান দম্পতিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভিক্টর হুগো ভিলালোবোস আলমাযান এবং নায়েলি নোয়েমি মন্তোয়া রদ্রিগেজ নামের ওই স্বামী-স্ত্রী ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে বৈধ মালিক সেজে সান দিয়েগোর দুটি সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন। প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অপরাধ স্বীকার করার পর সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ভিক্টরকে ২৭ মাস এবং তার স্ত্রীকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই দম্পতি সান ডিয়েগোতে দুটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক সেজে সেগুলো বিক্রি করে দেন। এর মধ্যে একটি ছিল ৭,০০০ বর্গফুটের একটি লট, যা তারা ৪ লাখ ডলারে বিক্রি করেন। অন্যটি ছিল ৪.৪৬ একরের একটি জমি, যা তারা ৫ লাখ ৬১ হাজার ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি করেন। ক্রেতাদের বোকা বানানোর জন্য তারা প্রকৃত মালিকদের স্বাক্ষরের জালিয়াতি করতেন এবং সমস্ত যোগাযোগ কেবল ইমেইলের মাধ্যমেই করতেন, কখনো সামনাসামনি দেখা করতেন না। এমনকি আসল মালিকদের নামের সাথে মিল রেখে তারা ভুয়া ইমেইল আইডি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলেছিলেন। সম্পত্তি বিক্রির পর সেই টাকা মেক্সিকো এবং জর্ডানের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাচার করা হতো। অবশেষে গত নভেম্বরে মেক্সিকো থেকে ফেরার পথে হিউস্টনের জর্জ বুশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের 'সেলার আইডেন্টিফিকেশন ফ্রড' বা বিক্রেতা সেজে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আমেরিকান ল্যান্ড টাইটেল অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২৮% টাইটেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি গত এক বছরে অন্তত একবার এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েল্টরসের ২০২৫ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, ফাঁকা জমি বা পরিত্যক্ত বাড়ির ক্ষেত্রে এই প্রতারণা সবচেয়ে বেশি ঘটে। প্রতারকরা সাধারণত বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তাব দেয় এবং দ্রুত নগদ লেনদেনের জন্য চাপ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বিক্রেতা যদি সরাসরি বা ভিডিও কলে দেখা করতে না চায় এবং একাধিক দেশের ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে চায়, তবে ক্রেতাদের অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ফস্টার কেয়ার বা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সিস্টেমে আশ্রিত শিশুদের একটি বড় অংশই হলো এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ফস্টার সিস্টেমে থাকা শিশুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই নিজেদের এলজিবিটিকিউ+ হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের বেশ কিছু রক্ষণশীল নীতির কারণে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের রক্ষাকারী আইনি সুরক্ষাগুলো এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা (এইচএইচএস) মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বাইডেন আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বাতিল করেছেন। বাইডেন প্রশাসনের ওই নিয়মে বলা হয়েছিল, এলজিবিটিকিউ+ শিশুদের এমন পরিবারে (ফস্টার হোম) পাঠাতে হবে যারা তাদের লিঙ্গপরিচয় ও যৌন অভিমুখিতাকে সম্মান ও সমর্থন করবে। নিয়মটি বাতিলের ফলে এই শিশুরা এখন এমন পরিবারে নিক্ষিপ্ত হতে পারে, যেখানে তাদের পরিচয় অস্বীকৃত হবে বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হবে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'ইউনিকর্ন সল্যুশনস'-এর প্রতিষ্ঠাতা এলিয়ট হিঙ্কল সতর্ক করে বলেছেন, এর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। এমনিতেই সাধারণ শিশুদের তুলনায় এই শিশুদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি এবং পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হয়ে তাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার হার প্রায় চারগুণ। হিঙ্কল জোর দিয়ে বলেন, ফস্টার প্যারেন্ট হওয়া একটি অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ। একটি শিশুকে তার নিজস্ব পরিচয়ে মেনে নেওয়াটা শিশু সুরক্ষার সবচেয়ে বড় নৈতিক দায়িত্ব। ট্রাম্প প্রশাসন শুধু নিয়ম বাতিল করেই থামেনি; ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সিস্টেমের তদারকিকারী সংস্থা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ (এসিএফ) ১৩টি অঙ্গরাজ্যকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে। চিঠিতে বলা হয়, ফস্টার পরিবারগুলোকে শিশুদের লিঙ্গপরিচয় সমর্থন করতে বাধ্য করার নিয়মটি অনেক পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। এরপর অন্তত ম্যাসাচুসেটস এবং ভারমন্ট নামের দুটি অঙ্গরাজ্য বাধ্য হয়ে তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে। এছাড়া ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি নির্বাহী আদেশও জারি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কোনো যোগ্য পরিবারকে ফস্টার প্যারেন্ট হওয়া থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এসব সরকারি পদক্ষেপের কারণে ফস্টার কেয়ার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থাগুলো (এনজিও) চরম আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। ওরেগনভিত্তিক একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শন সুইব জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে তারা এখন স্বাধীনভাবে শিশুদের কল্যাণে কাজ করতে পারছেন না। অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং শিশু অধিকার কর্মীরা এই নীতি পরিবর্তনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলছেন, এর ফলে আমেরিকার সবচেয়ে অরক্ষিত শিশুদের জীবনকেই সরাসরি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ব্যয়বহুল শহরগুলোতে তরুণদের বাড়ি কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্সোনাল ফাইন্যান্স ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের নতুন একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শহরে ৩৫ বছরের কম বয়সী ক্রেতার হার সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার চারটি শহর শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সান ডিয়েগোতে মর্টগেজ বা ঋণধারী তরুণদের হার ৮৪ শতাংশ। প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সান জোসেতে এই হার ৮২ শতাংশ, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭৮ শতাংশ এবং সান ফ্রান্সিসকোতে ৭৩ শতাংশ। তবে পশ্চিম উপকূলের অন্যান্য শহর যেমন সিয়াটলে ৮৭ শতাংশ এবং পোর্টল্যান্ডে ৮৬ শতাংশ তরুণ বাড়ি কিনেছেন। জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহর, যেখানে ৩৫ বছরের কম বয়সী বাড়ির মালিকের হার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ। এর ঠিক পরেই ৮৮ শতাংশ নিয়ে বাল্টিমোর এবং ৮৬ শতাংশ নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসি অবস্থান করছে। অন্যদিকে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম কঠিন শহর নিউইয়র্কে তরুণ মর্টগেজধারীর হার মাত্র ৬৬ শতাংশ এবং সবচেয়ে তলানিতে থাকা মিশিগানের ডেট্রয়েটে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ। ওয়ালেটহাবের এই উৎসাহব্যঞ্জক তথ্যের বিপরীতে পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগস্ট মাসের একটি গবেষণায় কিছুটা ভিন্ন ও উদ্বেগের চিত্র দেখা গেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার অর্ধেক তরুণই প্রথম বাড়ি কেনার জন্য গড়ে ৪৭ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় বয়স মাত্র ৩৭ বছর। গত ১৫ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিকের চেয়ে ভাড়াটিয়ার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে নিজস্ব বাড়ির মালিকানা হার মাত্র ৫৬ শতাংশ, যা জাতীয় হার ৬৬ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। কেবল নিউইয়র্কেই মালিকানার হার এর চেয়ে কম (৫৪%)। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ ও এশিয়ানরা কৃষ্ণাঙ্গ ও ল্যাটিনোদের তুলনায় অনেক কম বয়সে বাড়ি কেনেন। বিশেষ করে আমেরিকান বংশোদ্ভূত এশিয়ানরা সবচেয়ে কম বয়সে (গড়ে ৩৯ বছর) বাড়ির মালিক হচ্ছেন। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সেরা জায়গা হলো পোর্টারভিল, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে এক বাবার বিরুদ্ধে নিজের নবজাতক কন্যাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে ও তীব্রভাবে ঝাঁকিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ২৩ বছর বয়সী নোয়াহ হাম্পাস নামের ওই বাবাকে গত বুধবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ল অ্যান্ড ক্রাইম-এর প্রাপ্ত একটি এফিডেভিট অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ পান। জেফারসন সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাছে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির পাঁজরের হাড় ও ফিমার (ঊরুর হাড়) ভাঙা ছিল। এছাড়া তার মুখমণ্ডল ও শরীরে কালশিটে দাগ ছিল এবং তাকে তীব্রভাবে ঝাঁকানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে। শিশুটির মায়ের ভাষ্যমতে, নোয়াহ প্রতিদিন অন্তত দুবার মেয়েকে এভাবে ধরে ঝাঁকাতেন। পুলিশকে তিনি জানান, নোয়াহ তাকে বলতেন—বাচ্চাদের 'শক্ত' বা মজবুত করার জন্যই এমনটা করা দরকার এবং শিশুদের সাথে একটু 'কঠোর' আচরণ করাটা খুবই স্বাভাবিক। পুলিশের জেরার মুখে নোয়াহ নিজেও স্বীকার করেন যে, বাচ্চাটি যখন কাঁদত এবং তিনি বিরক্ত হতেন, তখন একাধিকবার তিনি তাকে এভাবে ঝাঁকিয়েছেন। একটি পুতুল ব্যবহার করে তিনি পুলিশকে দেখান কীভাবে তিনি মেয়েকে পা ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে দোলাতেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক এ কারণেই শিশুটির পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের ক্ষতগুলো শুকানোর বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে দীর্ঘ সময় ধরেই তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। নোয়াহ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি অন্তত ১০ থেকে ২০ বার নিজের সন্তানের ওপর এমন অমানবিক আচরণ করেছেন। বর্তমানে তাকে কোল কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন ও শিশুর জীবন বিপন্ন করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত কিং ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স পবিত্র কোরআন মুদ্রণের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একটি অনন্য নাম। বর্তমানে এই কমপ্লেক্সটিতে আধুনিক ওয়েব এবং ডিজিটাল প্রিন্টিং সিস্টেমসহ ২৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক প্রিন্টিং ও প্রোডাকশন মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্টারে প্রতি ঘণ্টায় ৫,৫০০-এরও বেশি কোরআনের কপি ছাপানো সম্ভব হচ্ছে। বিশাল এই মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় কমপ্লেক্সটি মূলত তিনটি বৃহৎ 'কম্প্যাক্টা' (Kompacta) এবং 'রোটোম্যান' (Rotoman) প্রিন্টিং মেশিন পরিচালনা করে। প্রতিটি মেশিনের ইতোমধ্যে ৩১,৮৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলার রেকর্ড রয়েছে এবং এগুলো থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ কোটির বেশি মুদ্রিত শিট উৎপাদিত হয়েছে। কোরআন ছাপানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত ও সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। শুধুমাত্র ছাপানোই নয়, বরং বাঁধাই (binding), ফিনিশিং, সূক্ষ্ম পর্যালোচনা এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় পবিত্র কোরআন উৎপাদনের সর্বোচ্চ মানদণ্ড।
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে চান অনেকেই। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছর বৈধভাবে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিতে চান। তবে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ভিসা প্রযোজ্য নয়। পরিবারের একজন সদস্যের যোগ্যতা, পেশা, শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয় এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইমিগ্রেশনের পথ আলাদা হয়। বর্তমান মার্কিন ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কয়েকটি বাস্তব ও বৈধ পথ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে, আবার কিছু পথ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেয়। ১. ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন: প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত পথ হলো ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পিটিশন করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নাগরিকের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং ভাই-বোন ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় আসতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত তার স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য পিটিশন করতে পারেন। তবে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হয় এবং সময়টা মোটামুটি ১২-১৪ বছর। ২. এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন। কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য চাকরির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি, বিশেষ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমপ্লয়ার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়। আবার ইবি-২-এর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজে পিটিশন করতে পারেন। এই ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারী যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে একই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন। ৩. ইবি-২ ও ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার: উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রি, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা বা বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা এই ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে পারেন। আর যোগ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর বিষয়টি প্রমাণ করা গেলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভারের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে জব অফার বা লেবার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ওয়েইভার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এই পথের বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও একই কেসের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন। ৪. ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: যেসব পরিবারের বড় অঙ্কের বৈধ বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইবি-৫-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য ইবি-৫ ইনভেস্টরের সঙ্গে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। ৫. ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা। বাংলাদেশ ই-২ ট্রিটি কান্ট্রি হওয়ায় যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ই-২-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাস্তব ও পরিচালনাযোগ্য ব্যবসায় সাবস্ট্যানশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট করতে হয় এবং ইনভেস্টরকে ব্যবসাটি পরিচালনা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়। মূল ই-২ আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য ই-২ স্পাউস নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারেন। তবে ই-২ গ্রিন কার্ড নয়। এটি একটি ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা। অর্থাৎ ব্যবসা ও ই-২ স্ট্যাটাসের শর্ত বজায় রেখে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়। ৬. এইচ-১বি ও এইচ-৪: কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য এমপ্লয়ার-এর মাধ্যমে এইচ-১বি স্ট্যাটাস পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এইচ-১বি নিজে গ্রিন কার্ড নয়। তবে যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থপ্রদানের শর্তসহ কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এইচ-১বি-এর মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আবেদন করার সময়কার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭. এল-১ ও এল-২: বাংলাদেশে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা একই কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ অথবা স্পেশালাইজড নলেজ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল-১ স্ট্যাটাস পেতে পারেন। এল-১ কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এল-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য এল-২ স্পাউস নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগও পেতে পারেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে অফিস রয়েছে, এমন পেশাজীবীদের জন্য এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ৮. এফ-১ ও এফ-২ : পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। তবে এফ-১ ও এফ-২ হলো ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস। অর্থাৎ এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। শিক্ষার্থী পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট-বেসড বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন পথ তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কী দেখবেন: বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে পরিবারের লক্ষ্য কী। স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ডের দিকে যেতে চাইলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন এবং ইবি-৫-এর মতো ইমিগ্র্যান্ট পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ই-২, এইচ-১বি, এল-১ এবং এফ-১ মূলত টেম্পোরারি বা ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা। পরিবারের একজন সদস্যের ভিসা বা পিটিশন অ্যাপ্রুভ হলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অধিকার পান না। স্পাউস ও চিলড্রেনকে ডিপেন্ডেন্ট বা ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে পরিবারের বয়স, শিক্ষা, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং স্থায়ী নাকি অস্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক ইমিগ্রেশন পথ বেছে নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএস ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।