সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২২:৩৪
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে চান অনেকেই। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছর বৈধভাবে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিতে চান। তবে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ভিসা প্রযোজ্য নয়। পরিবারের একজন সদস্যের যোগ্যতা, পেশা, শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয় এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইমিগ্রেশনের পথ আলাদা হয়।

 

বর্তমান মার্কিন ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কয়েকটি বাস্তব ও বৈধ পথ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে, আবার কিছু পথ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেয়।

 

১. ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন: প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত পথ হলো ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নাগরিকের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং ভাই-বোন ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় আসতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত তার স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।

 

তবে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হয় এবং সময়টা মোটামুটি ১২-১৪ বছর।

 

২. এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন। কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য চাকরির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি, বিশেষ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

 

এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমপ্লয়ার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়। আবার ইবি-২-এর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজে পিটিশন করতে পারেন।

 

এই ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারী যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে একই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।

 

৩. ইবি-২ ও ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার: উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রি, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা বা বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা এই ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে পারেন।

 

আর যোগ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর বিষয়টি প্রমাণ করা গেলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভারের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে জব অফার বা লেবার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ওয়েইভার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

 

এই পথের বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও একই কেসের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন।

 

৪. ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: যেসব পরিবারের বড় অঙ্কের বৈধ বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

 

ইবি-৫-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য ইবি-৫ ইনভেস্টরের সঙ্গে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

 

৫. ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা। বাংলাদেশ ই-২ ট্রিটি কান্ট্রি হওয়ায় যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

 

ই-২-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাস্তব ও পরিচালনাযোগ্য ব্যবসায় সাবস্ট্যানশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট করতে হয় এবং ইনভেস্টরকে ব্যবসাটি পরিচালনা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়।

 

মূল ই-২ আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য ই-২ স্পাউস নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারেন। তবে ই-২ গ্রিন কার্ড নয়।

 

এটি একটি ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা। অর্থাৎ ব্যবসা ও ই-২ স্ট্যাটাসের শর্ত বজায় রেখে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়।

 

৬. এইচ-১বি ও এইচ-৪: কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য এমপ্লয়ার-এর মাধ্যমে এইচ-১বি স্ট্যাটাস পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এইচ-১বি নিজে গ্রিন কার্ড নয়। তবে যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি হতে পারে।

 

বর্তমানে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থপ্রদানের শর্তসহ কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এইচ-১বি-এর মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আবেদন করার সময়কার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

৭. এল-১ ও এল-২: বাংলাদেশে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা একই কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ অথবা স্পেশালাইজড নলেজ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল-১ স্ট্যাটাস পেতে পারেন।

 

এল-১ কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এল-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য এল-২ স্পাউস নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগও পেতে পারেন।

 

বিশেষ করে বাংলাদেশে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে অফিস রয়েছে, এমন পেশাজীবীদের জন্য এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

৮. এফ-১ ও এফ-২ : পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।

 

তবে এফ-১ ও এফ-২ হলো ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস। অর্থাৎ এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। শিক্ষার্থী পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট-বেসড বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন পথ তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

 

পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কী দেখবেন: বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে পরিবারের লক্ষ্য কী। স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ডের দিকে যেতে চাইলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন এবং ইবি-৫-এর মতো ইমিগ্র্যান্ট পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ই-২, এইচ-১বি, এল-১ এবং এফ-১ মূলত টেম্পোরারি বা ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা।

 

পরিবারের একজন সদস্যের ভিসা বা পিটিশন অ্যাপ্রুভ হলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অধিকার পান না। স্পাউস ও চিলড্রেনকে ডিপেন্ডেন্ট বা ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করতে হয়।

 

তাই বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে পরিবারের বয়স, শিক্ষা, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং স্থায়ী নাকি অস্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক ইমিগ্রেশন পথ বেছে নেওয়া জরুরি।

 

অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএস ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফোবানার কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ
ফোবানার কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ, চেয়ারম্যান এম রহমান জহির ও সেক্রেটারি ড. প্রিয়লাল কর্মকার

উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফোবানার প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুবুর রহিম এবং নির্বাচন কমিশনার ডিউক খান ও মোহাম্মদ আলমগীর।   নতুন কার্যকরী পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ফোবানার নতুন মেয়াদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।   নতুন কার্যকরী পরিষদের নেতৃত্বে যাঁরা: ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ফ্লোরিডার এম রহমান জহির।   এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিউইয়র্কের আবীর আলমগীর, কার্যকরী সেক্রেটারি হিসেবে ভার্জিনিয়ার ড. প্রিয়লাল কর্মকার, জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে ভার্জিনিয়ার এন্থনী পিয়ুস গোমেজ এবং ট্রেজারার হিসেবে টেক্সাসের নাহিদা নাছের ইয়াসমিন শপথ গ্রহণ করেন।   আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে শপথ গ্রহণ: ফোবানার নবগঠিত কার্যকরী পরিষদে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পেনসিলভানিয়ার রবিউল করিম বেলাল, ক্যালিফোর্নিয়ার ড. জয়নুল আবেদীন ও মোহাম্মদ ইকবাল, টেক্সাসের শামসুদ্দোহা সাগর, জর্জিয়ার ড. মোহাম্মদ আলী মানিক ও মাহবুবুর ভূঁইয়া, ইলিনয়ের মকবুল আলী, ফ্লোরিডার বাবুল হাই এবং ভার্জিনিয়ার ড. আবদুস সাত্তার।   কার্যকরী সংগঠনের প্রতিনিধিদের শপথ: এ ছাড়া কার্যকরী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন টেক্সাসের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, হাসনাত মোব্বিন, আজমল এ খান ও নাদিম ভূঁইয়া; মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী; জর্জিয়ার জসিমউদ্দীন ও রাসেল ভূঁইয়া; কানসাসের রেহান রেজা; ভার্জিনিয়ার আবু রুমী, সামছুদ্দীন মাহমুদ, আখতার হোসেন, নুরুল আমিন, দিলশাদ চৌধুরী ও করিম সালাউদ্দীন।   এ ছাড়া ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার তৌফিক এস খান তুহিন ও মোহাম্মদ এস হক সেন্টুও কার্যকরী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।   উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব: নতুন কার্যকরী পরিষদে নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, ইলিনয়, মিশিগান ও কানসাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিরা স্থান পেয়েছেন।   উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় সাধনে ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।   নতুন কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করল।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৩:১৮
এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

মরিচা ধরা ঢেউটিনে মোড়ানো অদ্ভুত এই গাড়িটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির শোতে ঢেউটিনের গাড়ি! বিলাসবহুল গাড়ির ভিড়ে এ যেন চলন্ত টিনের চালা!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে প্রচারণায় নামলেন বারাক ওবামা

ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি নাকি সামরিক অভিযান—কোন পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাবছেন বলে ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তি নাকি সামরিক হামলা, দুই বিকল্প বিবেচনায় ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করবেন, নাকি দেশটির বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান চালাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৫ অক্টোবর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করা এবং সামরিকভাবে দেশটিকে আরও দুর্বল করার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে তাঁকে। এর আগে শুক্রবারও নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এমন বক্তব্যের মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, নতুন হামলা হলেও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না তারা।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে ইরান নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাবেন, নাকি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযান শেষ করবেন। তবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিংবা নতুন হামলা কবে হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি তিনি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নতুন সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত নির্দেশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন তিনি। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি থেকে ট্রাম্প তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। ফলে প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।   অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলেও তেহরানের নীতিগত অবস্থান বদলাবে না। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও ইরান ইতোমধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ হোক কিংবা না হোক, ইরান নিজের নীতিতে অটল থাকবে। এর মাধ্যমে নতুন সামরিক চাপের মুখেও অবস্থান পরিবর্তন না করার বার্তা দিয়েছে তেহরান।   ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে হামলা, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা হয়েছে। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি ও ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান আলোচনায় প্রস্তুত।   তবে ইরানের রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ বজায় রাখার অবস্থানে অনড় থাকায় কূটনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে কার্যকর সমঝোতা প্রয়োজন। দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।   এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন শুক্রবার সতর্ক করেছেন, বিদেশে মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা বাড়িয়েছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি গোয়েন্দা স্মারকলিপিতে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ওই স্মারকলিপিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা সম্ভাব্য হামলার সময় উল্লেখ করা হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকেও এসব অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।   আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন দূতাবাসে কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না।   ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।   এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়িয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে এই দাম ছিল ৯৭ ডলারের নিচে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে।   তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। একইভাবে ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির নির্দিষ্ট সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ কূটনৈতিক আলোচনা হবে, নাকি নতুন সামরিক সংঘাত, তা এখনো অনিশ্চিত।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১২:৬
ফ্লোরিডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুকধারীর হা মলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক

ফ্লোরিডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুকধারীর হা মলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক

নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও নিরাপত্তার উদ্বেগে ফ্লোরিডায় নতুন বসতি গড়ছেন অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ইহুদিদের উপর হামলা ও নিরাপত্তার উদ্বেগে ফ্লোরিডায় পাড়ি জমাচ্ছে শতাধিক ইহুদি পরিবার

নিউইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনলে মিলবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা

নিউইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনলে মিলবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, জেনে নিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের র‍্যান্ডলফ কাউন্টিতে খুচরা কেনাকাটার ওপর নতুন একটি সারচার্জ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস (EMS) বা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে চরম আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করতেই এই নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কাউন্টির সীমানায় থাকা ওয়ালমার্টের মতো বড় রিটেইল চেইন থেকে শুরু করে ছোট ছোট যেকোনো দোকানে প্রতিটি কেনাকাটার লেনদেনে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ১০ সেন্ট সারচার্জ দিতে হবে। গত বুধবার র‍্যান্ডলফ কাউন্টি কমিশন 'স্পেশাল ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ফি' নামের এই নতুন কর ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে।   কাউন্টিতে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার কল আসে। এই বিশাল চাপ সামলাতে ইএমএস কর্মীদের বেতন এবং চারটি অ্যাম্বুলেন্স ট্রাকের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। কাউন্টি কমিশন ইএমএস সেবার ব্যয় কমানো অথবা তহবিল বাড়ানোর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর তহবিল বাড়ানোর পক্ষেই রায় দেয়।   র‍্যান্ডলফ কাউন্টি কমিশনের প্রেসিডেন্ট ডেভিড কেসলিং জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শেই তারা লেনদেনের ওপর এই ফি আরোপের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, রাজ্যের আইন অনুযায়ী কাউন্টি কমিশনের এই ফি নির্ধারণ এবং যেকোনো সময় তা বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।   আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন এই ফি কার্যকর হবে এবং জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রেতারা প্রথমবারের মতো সংগৃহীত অর্থ কাউন্টির নির্দিষ্ট ইএমএস তহবিলে জমা দেবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য হবে না; এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেল ক্রয়, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং পরিষেবা এবং ভেন্ডিং মেশিনের লেনদেন।   খুচরা বিক্রেতারা চাইলে মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এই অর্থ জমা দিতে পারবেন। তবে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, কমিশন এটিকে একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। ডেভিড কেসলিং জানিয়েছেন, ইএমএস সেবা আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী এক থেকে দুই বছরের জন্য এই ফি চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৯:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করেও আর্থিক চাপে রয়েছেন ৩৬ শতাংশ উচ্চ আয়ের মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩ লাখ ডলার আয়েও মাস শেষে টাকা থাকছে না অনেকের

গ্যালাপের জরিপে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মাত্র ৪৪ শতাংশ জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের সুখ কমছে, জীবনে সবচেয়ে অসন্তুষ্ট জেন জি

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১,৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে লটারি

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১,৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে লটারি

0 Comments