- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের স্কুলশিক্ষক ছায়েদ উল্লাহর পরিবারের শিক্ষাসাফল্য এখন অনন্য এক দৃষ্টান্ত। একে একে তাঁর ছয় সন্তানই পড়ার সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ছোট ছেলে আরফাত হোসেন ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্ণ হয়েছে এই অর্জন। এই পরিবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় বড় ছেলে শামসুল আলম দিপুর মাধ্যমে। ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনা শেষে ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর লোক প্রশাসন বিভাগে পড়েছেন দ্বিতীয় ছেলে শাজাহান সিরাজ আল মামুন। তিনি বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। তৃতীয় ছেলে আশরাফুল ইসলাম শহীদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মরত। চতুর্থ ছেলে শরীফুল ইসলাম বিজয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। আর সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ছোট ছেলে আরফাত। প্রায় ৩০ বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন ছায়েদ উল্লাহ। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে একসময় পারিবারিক সম্পত্তিও বিক্রি করতে হয়েছে তাঁকে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী শামীমা বেগম। ছয় সন্তানের এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের অর্জন নয়—এটি প্রমাণ করে, বড় স্বপ্ন পূরণে অর্থের চেয়ে বেশি প্রয়োজন শিক্ষার প্রতি বিশ্বাস, পরিশ্রম ও বাবা-মায়ের ত্যাগ।
বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল সম্প্রতি তাঁর দাম্পত্য জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি স্বামী শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘরের কাজও ভাগাভাগি করে করেন তিনি। শিলাদিত্য নিজেই বাসন ধোয়া ও রান্নাঘর পরিষ্কার করার মতো কাজ করেন বলে জানিয়েছেন শ্রেয়া। ‘দ্য মেল ফেমিনিস্ট’ পডকাস্টে শ্রেয়া বলেন, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন এমন একজন জীবনসঙ্গী পেয়ে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিলাদিত্য নিজের কাজ নিজে করতে অভ্যস্ত। এমনকি শ্রেয়া রান্নাঘর পরিষ্কার করতে গেলে তিনি নাকি বিরক্ত হন, কারণ এসব কাজ তিনি নিজেই করতে পছন্দ করেন। শ্রেয়ার ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় তাঁকে মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। তবে এ নিয়ে শিলাদিত্য কখনো তাঁকে জবাবদিহির মধ্যে রাখেননি বলেও জানান তিনি। দুজনেরই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা থাকায় সংসারের দায়িত্বও তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি আস্থার কথাও তুলে ধরেছেন শ্রেয়া। তাঁর মতে, শিলাদিত্যের মধ্যে এ নিয়ে কোনো অহমিকা নেই, তাঁরও নেই। তাঁদের সন্তানই এখন পরিবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শ্রেয়া ও শিলাদিত্যর সম্পর্কের শুরু আরও অনেক আগে। দুজনের পরিচয় স্কুলজীবন থেকে এবং প্রায় ১০ বছর প্রেমের পর ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন তাঁরা। ২০২১ সালে তাঁদের ছেলে দেবযানের জন্ম হয়। শিলাদিত্য প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। ২০২২ সাল থেকে তিনি ট্রুকলার ফর বিজনেসের গ্লোবাল হেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ক্লেভারট্যাপের পাশাপাশি পয়েন্টশেলফ ও হিপক্যাস্কের মতো প্রযুক্তি উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্ল্যানিফাইয়ের ২০২৫ সালের অনুমান উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, শিলাদিত্যের সম্পদের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি রুপির মধ্যে হতে পারে। এটি কোনো সরকারি বা নিরীক্ষিত সম্পদ হিসাব নয়, বরং প্রকাশিত একটি অনুমান। ব্যস্ত ক্যারিয়ার, সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে শ্রেয়া ও শিলাদিত্যের পারস্পরিক সহযোগিতার এই দিকটিই এখন আলোচনায় এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা আজাদ রহমান। মঙ্গলবার রাতে কাউন্সিলের সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পেলেন তিনি। এলিজা আজাদ রহমানের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। দুই দশকের বেশি সময় আগে শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। পরে দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর এবার কাউন্সিলরদের ভোটে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পেলেন তিনি। একই সভায় ভিন্স ফেরেরি মেয়র নির্বাচিত হন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর এলিজা আজাদ বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বেড়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশি নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ এর আগেও দেখা গেছে। এলিজার আগে সুমন সাহা ও মাসুদ খলিল সিডনির বিভিন্ন সিটি কাউন্সিলে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মাসুদ চৌধুরীও ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলিজার এই অর্জনে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে তাঁর উঠে আসা অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের রাজনীতি ও জনসেবায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
আফগান নারী অধিকারকর্মী ও উদ্যোক্তা নিলোফার আয়ুবি শৈশবের প্রায় এক দশক ছেলে সেজে কাটিয়েছেন। তালেবান শাসনের সময় মেয়েদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বাইরে চলাফেরা, পড়াশোনা ও খেলাধুলার মতো সাধারণ সুযোগ পেতেই তাকে ছেলের পোশাক পরিয়েছিলেন তার বাবা। ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় কুন্দুজে জন্ম নিলোফারের শৈশব কেটেছে তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে। চার বছর বয়সে একদিন বাইরে খেলতে গিয়ে মাথায় ওড়না না থাকায় এক ব্যক্তি তাকে চড় মারেন এবং তিনি মেয়ে কি না, তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন বলে নিলোফার জানিয়েছেন। বাড়ি ফিরে কান্নার পর তার বাবা চুল কেটে দেন এবং মাকে ছেলের মতো পোশাক পরাতে বলেন। এরপর প্রায় ১০ বছর নিলোফার প্রকাশ্যে ছেলে হিসেবেই জীবন কাটান। বাবার সঙ্গে বাইরে যাওয়া, বাজারে যাওয়া, সাইকেল চালানো এবং জুডো-কারাতের মতো খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তিনি পরে বলেছেন, ছেলের পরিচয়ে বেড়ে ওঠার ফলে এমন অনেক স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা সেই সময়ে আফগান মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। আফগানিস্তানে এই প্রথাকে বলা হয় ‘বাচা পোশ’, যার অর্থ মোটামুটি ‘ছেলের মতো পোশাক পরানো’। কিছু পরিবার মেয়েশিশুকে ছেলের মতো বড় করে তোলে, যাতে সে স্কুলে যেতে, কাজ করতে, পরিবারের প্রয়োজনে বাইরে যেতে কিংবা খেলাধুলা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলে সন্তানের প্রতি সামাজিক পছন্দ, পরিবারের অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং মেয়েদের চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কিছু পরিবার এই প্রথা অনুসরণ করে। তবে বাচা পোশ সাধারণত সাময়িক। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর অনেক মেয়েকেই আবার মেয়ের পরিচয়ে ফিরতে হয়। নিলোফারের ক্ষেত্রেও সেই পরিবর্তন ছিল কঠিন। শৈশবের দীর্ঘ সময় ছেলের মতো স্বাধীনভাবে চলার পর হঠাৎ করে মেয়েদের ওপর আরোপিত সামাজিক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। নিলোফার পরে সাংবাদিকতা, ব্যবসা ও নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। আফগানিস্তানে তিনি নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ করেন এবং উইমেন’স পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে নিলোফার পরিবারসহ দেশ ছাড়েন। পরে তিনি পোল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন এবং সেখান থেকেও আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিলোফারের শৈশবের এই অভিজ্ঞতা আবারও আলোচনায় এনেছে বাচা পোশ প্রথাকে। যে সমাজে মেয়েদের জন্য স্বাভাবিক চলাফেরার সুযোগও সীমিত, সেখানে একজন মেয়েকে ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতে বাধ্য হওয়ার গল্পটি আফগানিস্তানের গভীর লিঙ্গবৈষম্যের বাস্তবতাই তুলে ধরে।
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতের ঘটনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নিজ বাসার গ্যাস লাইনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের হোসেনপুর আল-মাহমুদ এভিনিউ রোডে অবস্থিত মন্ত্রীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বজ্রপাতের পর বাড়ির প্রধান ফটকের পাশের গ্যাস লাইনের একটি রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী শফিকুল ইসলাম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে যায় বলে জানান সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরীফুল ইসলাম। নিরাপত্তা প্রহরী শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের কারণেই গ্যাস লাইনের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় এ ঘটনায় তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে খাবারের সংকটে থাকা মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও গ্রোসারি পাওয়ার বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। নিম্নআয়ের পরিবার, অভিবাসী, চাকরি হারানো ব্যক্তি কিংবা খাবারের প্রয়োজন থাকা অন্যরাও এসব খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে সহায়তা নিতে পারেন। নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতেই রয়েছে ফুড প্যান্ট্রি, স্যুপ কিচেন ও মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি। এসব জায়গায় চাল, পাস্তা, ক্যানজাত খাবার, সিরিয়াল, ফল, সবজি, হিমায়িত খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। কিছু কেন্দ্রে আবার বিনামূল্যে রান্না করা খাবারও পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি খুঁজতে নিউইয়র্ক শহরের ‘ফুড হেল্প এনওয়াইসি’ সেবা ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ফুড প্যান্ট্রিজ’ বললেও কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যায়। নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ‘নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন’-এর পাঁচটি কেন্দ্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাবার দেওয়া হয়। শুধু প্রবেশনের আওতায় থাকা ব্যক্তিরাই নন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী কমিউনিটির যে কেউ এসব কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা চাইতে পারেন। ব্রঙ্কন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ১৯৮ ইস্ট ১৬১স্ট স্ট্রিট, ব্রঙ্কন, নিউইয়র্ক ১০৪৫১ সময়: মঙ্গলবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাদ্যসামগ্রী। ব্রুকলিন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ৩৪৫ অ্যাডামস স্ট্রিট, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০১ সময়: সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে গ্রোসারি ও খাদ্যসামগ্রী। ম্যানহাটন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ১২৭ ওয়েস্ট ১২৭থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৭ সময়: বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাবার। কুইন্স: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ১৬২-২৪ জামাইকা অ্যাভিনিউ, জামাইকা, নিউইয়র্ক ১১৪৩২ সময়: মঙ্গলবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ৩৪০ বে স্ট্রিট, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক ১০৩০১ সময়: সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী। তবে নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার সুযোগ শুধু এই পাঁচটি কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটি-এর বর্তমান ডিরেক্টরি অনুযায়ী, শহরে প্রায় ৮০০টি স্থানে বিনামূল্যে গ্রোসারি, রান্না করা খাবার ও এসএনএপি-সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। প্রতিটি কেন্দ্রের নিয়ম, সময়সূচি ও খাবারের ধরন এক নয়। কোনো কোনো জায়গায় খাবার শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ম্যানহাটন: নিউইয়র্ক কমন প্যান্ট্রি ঠিকানা: ৮ ইস্ট ১০৯থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৯ সেবা: খাদ্য সহায়তা ও গ্রোসারি। ম্যানহাটন: ওয়েস্ট সাইড ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট হাঙ্গার ঠিকানা: ২৬৩ ওয়েস্ট ৮৬থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৪ সেবা: খাদ্য সহায়তা। ম্যানহাটন: ট্রিনিটি’স সার্ভিসেস অ্যান্ড ফুড ফর দ্য হোমলেস ঠিকানা: ৬০২ ইস্ট ৯থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০০৯ সেবা: রান্না করা খাবারসহ খাদ্য সহায়তা। ব্রুকলিন: রিচিং আউট কমিউনিটি সার্ভিসেস ঠিকানা: ৬৪১৭ ১৮থ অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৪ সেবা: খাদ্য সহায়তা ও গ্রোসারি। স্থায়ী ফুড প্যান্ট্রি কাছে না থাকলে মোবাইল ফুড প্যান্ট্রিও হতে পারে বিকল্প। ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটির মোবাইল প্যান্ট্রিগুলোতে মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং হিমায়িত প্রোটিনজাত খাবার বিতরণ করা হয়। এসব কার্যক্রম নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। ব্রঙ্কন: মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি ঠিকানা: ১০২৫ মরিসন অ্যাভিনিউ এবং ১৩০ ওয়েস্ট কিংসব্রিজ রোড। সেবা: তাজা ফল-সবজি, সংরক্ষণযোগ্য খাবার ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। সময়সূচি: সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রকাশিত সূচিতে এসব স্থানে বিতরণের সময় উল্লেখ রয়েছে। কুইন্স: মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি ঠিকানা: ৩৩-৩৪ ৭৭থ স্ট্রিট, কুইন্স। সেবা: বিভিন্ন ধরনের বিনামূল্যের খাদ্যসামগ্রী। তবে মোবাইল প্যান্ট্রির ঠিকানা ও সময়সূচি নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সর্বশেষ ক্যালেন্ডার দেখে নেওয়া জরুরি। ব্রঙ্কন: কমিউনিটি প্যান্ট্রি ও ফ্রিজ ঠিকানা: ৫৭১ ইস্ট ১৪১স্ট স্ট্রিট, ব্রঙ্কন, নিউইয়র্ক ১০৪৫৪। সেবা: স্থানীয়ভাবে পাওয়া খাবার প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়ার সুযোগ। নিউইয়র্কের কিছু এলাকায় কমিউনিটি রেফ্রিজারেটর ও কমিউনিটি প্যান্ট্রিও রয়েছে। তবে এসব জায়গায় খাবারের সরবরাহ, ব্যবহারের নিয়ম ও কার্যক্রম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অনলাইন তালিকা দেখে যাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। এসএনএপি ব্যবহারকারীদের জন্য: ‘গেট দ্য গুড স্টাফ’ নিউইয়র্কে এসএনএপি বা ইবিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ‘গেট দ্য গুড স্টাফ’ নামে আলাদা একটি কর্মসূচিও রয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সুপারমার্কেটে এসএনএপি বা ইবিটি দিয়ে যোগ্য ফল, সবজি ও বিনস কিনলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অতিরিক্ত সমপরিমাণ সুবিধা পাওয়া যায়। এই সুবিধার আওতায় তাজা ফল ও সবজির পাশাপাশি কিছু হিমায়িত ও ক্যানজাত পণ্য এবং বিনস রয়েছে। তবে এটি ফুড প্যান্ট্রি থেকে সরাসরি বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এসএনএপি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট খাবার কেনার পর অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার একটি কর্মসূচি। খাবারের সহায়তা কোথায় খুঁজবেন? নিউইয়র্কে খাবারের প্রয়োজন হলে নিজের এলাকার সবচেয়ে কাছের ফুড প্যান্ট্রি বা স্যুপ কিচেন খুঁজতে ‘ফুড হেল্প এনওয়াইসি’ ব্যবহার করা যায়। ৩১১ নম্বরে ফোন করেও খাদ্য সহায়তার তথ্য নেওয়া যায়। এ ছাড়া ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটির ‘ফাইন্ড ফুড’ ডিরেক্টরিতে বরো ও এলাকার ভিত্তিতে ফুড প্যান্ট্রি, রান্না করা খাবার এবং মোবাইল প্যান্ট্রির তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ডিরেক্টরিতে বর্তমানে প্রায় ৮০০টি স্থানের তথ্য রয়েছে। তবে কোনো কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সময়সূচি, খাবারের ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং বিতরণের নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে মোবাইল প্যান্ট্রিতে খাবার সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ বন্ধ হতে পারে। কিছু কেন্দ্রে নাম নিবন্ধন করতে হতে পারে এবং কোথাও পরিচয় বা স্থানীয় ঠিকানার তথ্য চাওয়া হতে পারে। আবার কিছু কমিউনিটি প্যান্ট্রি সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার বা গ্রোসারি নিতে চাইলে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এমন পর্যায়ে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে - এমন আশঙ্কা জানিয়ে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিয়েছেন। ২৭ বছর বয়সী জ্যাকব কক্সন বলেছেন, এআই শিল্পের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কক্সন আগে অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক - দুই প্রতিষ্ঠানেই এআই মডেলের প্রশিক্ষণ বা প্রি-ট্রেনিং নিয়ে কাজ করেছেন। অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ২০২৩ সাল থেকে অপেনএআইয়ের প্রযুক্তিগত কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কক্সন অভিযোগ করেন, অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক কেউই যথেষ্ট দায়িত্বশীলভাবে এগোচ্ছে না। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির প্রতিযোগিতায় এমনভাবে ছুটছে, যা শেষ পর্যন্ত মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কক্সনের মতে, এআই নিয়ে কাজ করা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আশঙ্কা করছেন, আগামী দশকের মধ্যেই এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, এই আশঙ্কা কোনো প্রচারণার কৌশল নয় - বরং এআই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অ্যানথ্রপিকের ভেতর থেকেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইভান হুবিঙ্গার, যিনি প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের নেতৃত্ব দেন। কক্সনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি নিজেও মনে করেন এআই সব মানুষকে হত্যা করার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আগামী দশকে এমন ঘটনার সম্ভাবনা তাঁর হিসাবে ১০ শতাংশের বেশি। তবে হুবিঙ্গার একই সঙ্গে বলেন, অ্যানথ্রপিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে। তাঁর উদ্বেগ মূলত আরও শক্তিশালী এআই বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরি হওয়ার পর সেটিকে মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রযুক্তিগত সমাধান এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। কক্সনের এই পদত্যাগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই মডেলের পরীক্ষামূলক পরিবেশের বাইরে যাওয়ার এবং অনুমতি ছাড়া অন্য সিস্টেমে প্রবেশের ঘটনাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে কক্সন বলেছেন, শিল্পের প্রতিযোগিতা যদি বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তাহলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিছু সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে কক্সনের বক্তব্য এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবেই - এমন কোনো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। এটি একজন এআই গবেষকের ব্যক্তিগত ঝুঁকি-আশঙ্কা। তাঁর পদত্যাগ এবং অ্যানথ্রপিকের আরেক জ্যেষ্ঠ গবেষকের মন্তব্য মূলত অত্যন্ত শক্তিশালী ভবিষ্যৎ এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চেয়ে দেশের অভ্যন্তরে থাকা উগ্রপন্থীদেরই বড় হুমকি মনে করছেন বেশি মানুষ। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কোনটি। এতে ৩৩ শতাংশ মানুষ ‘দেশীয় সন্ত্রাসবাদ’কে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০ শতাংশ বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে হুমকি মনে করেন। আর ৪২ শতাংশের মতে, গণগুলির মতো নির্বিচার সহিংসতাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। গত ২৮ থেকে ৩১ আগস্ট অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ১৬৭ জনের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। দেশীয় উগ্রপন্থার বিষয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে আরেকটি প্রশ্নে। আদর্শ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সংঘটিত হামলার ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দেশের অভ্যন্তরের উগ্রপন্থীদের বেশি বড় হুমকি মনে করেন। বিপরীতে, ৩৪ শতাংশ বিদেশি উগ্রপন্থীদের বড় হুমকি হিসেবে দেখেছেন। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় সন্ত্রাসী হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা মানুষের এই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৬ সালে ফ্লোরিডার একটি সমকামী নাইটক্লাবে হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এদিকে ৯/১১ হামলার প্রভাবও এখনো মার্কিনদের মধ্যে রয়ে গেছে। জরিপে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ছয়জন জানিয়েছেন, তারা এখনো মাঝেমধ্যে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার কথা ভাবেন। একই সংখ্যক মানুষ বলেছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের বড় কোনো হামলা হলে এর জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়াকে তারা সমর্থন করবেন। তবে ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে যাওয়াকে অনেকেই সমর্থন করেন না। জরিপে ৪৮ শতাংশ বলেছেন, আফগানিস্তান যুদ্ধের জন্য যে মূল্য দিতে হয়েছে তা সার্থক ছিল না। বিপরীতে মাত্র ২১ শতাংশ এটিকে সার্থক মনে করেন। ইরাক যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ৫১ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন, আর সমর্থন করেছেন ২১ শতাংশ। ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও মানুষের জীবনযাত্রায় এর স্থায়ী প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক। গ্যালাপের আলাদা এক জরিপে ৬৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ওই হামলার কারণে মানুষের জীবনযাপনের ধরন স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। ১০ বছর পর এই মত পোষণ করেছিলেন ৫৮ শতাংশ এবং পঞ্চম বার্ষিকীতে ৫৩ শতাংশ মানুষ। তবে নিজেদের জীবনযাত্রা স্থায়ীভাবে বদলে ফেলেছেন—এমনটা বলেছেন মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও মার্কিনদের মধ্যে কঠোর অবস্থানের সমর্থন রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ৯/১১-এর পর ফেডারেল সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কিছুটা কার্যকর হয়েছে। বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও বেশির ভাগ মানুষ সমর্থন করেন। ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৭৫ শতাংশ মনে করেন, ৯/১১-এর পর বিমানবন্দরে বাড়ানো নিরাপত্তা ভ্রমণকারীদের জন্য তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ঝামেলার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে মানুষের সমর্থন কম। ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা এই প্রস্তাবকে ২৩ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন, আর ৪৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। এ ছাড়া ২০০১ সালের পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও জনপ্রিয় নয়। ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া মার্কিন নাগরিকদের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ নজরদারি করার সুযোগ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দেওয়া উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে উদ্ধার করেছে ইউএস মার্শালস সার্ভিস। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে আগস্টজুড়ে চলা এই অভিযানকে কর্তৃপক্ষ ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছর। এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন আমান্ডা বেরি। ২০০৩ সালে ক্লিভল্যান্ডে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং মুক্ত হন। এবার নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযানে যুক্ত হয়ে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিটি শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে উদ্ধারের আহ্বান জানান। ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, আগস্টজুড়ে চলা ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’-এ ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে তদন্তকারীরা ওহাইওর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও অন্য অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান। কিছু শিশুর সন্ধান জর্জিয়া পর্যন্ত পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এসব মামলার মধ্যে মানবপাচারের আশঙ্কা, যৌন পাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অবহেলা এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর একটি ছিল ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনকে উদ্ধার। ১৩ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এবং ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিল। তদন্তের পর ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে লকবোর্নের একটি বাড়ির বেডরুমের আলমারির মেঝের নিচের গোপন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিন কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ১৬ বছর বয়সী বোনকেও উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দুই মেয়ের মাকে একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্তও চলমান রয়েছে। আরেক ঘটনায়, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে টোলিডোতে উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরীকে আগে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তদন্তের সূত্র ধরে তাকে এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে খুঁজে পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও মূল্যায়ন করা হয়, আর ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য অপরাধ নিয়ে স্থানীয় তদন্ত চলছে। ইউএস মার্শালসের কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ছিল অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফেডারেল সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের কর্মকর্তারাও অভিযানে যুক্ত ছিলেন। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, আমান্ডা বেরির সঙ্গে কাজ করতে পারা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বেরি অভিযানের আগে কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করতে। আমান্ডা বেরির নিজের অভিজ্ঞতাই এই অভিযানের মানবিক দিকটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘ বন্দিত্বের পর নিজে মুক্ত হয়ে এখন নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন তিনি। ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, শিশুদের খুঁজে বের করা অভিযানের প্রথম ধাপ। উদ্ধার হওয়ার পর তাদের নিরাপদ পুনর্বাসন, মানসিক চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
‘চাঁদ আমাদের’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে চাঁদের ছবি ও মার্কিন পতাকার সঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা ছিল। ট্রাম্পের এই পোস্ট সামনে আসার পরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। চাঁদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট করেছেন তিনি। তবে চাঁদ কোনো দেশের মালিকানাধীন নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ফলে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি বাস্তব মালিকানার দাবি নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন স্থান ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক ওন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এবার সেই বিতর্কের সঙ্গে যেন নতুন করে যুক্ত হলো চাঁদ। একই সময়ে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অনেকেই নাকি এমন নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমনকি ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগের। ট্রাম্পের ধারাবাহিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর গভর্নরের মতে, এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়ও রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কতটা সিরিয়াস ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সব মিলিয়ে ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্টটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য।
যুক্তরাষ্ট্রে অবসর জীবন কাটানোর জন্য সেরা ছোট শহরগুলোর নতুন তালিকায় পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ার শহরগুলো তালিকায় বড় জায়গা দখল করেছে। MoneyLion-এর ২০২৬ সালের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো শহর সেরা ৫০-এ জায়গা পায়নি। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ক্যাম্প হিল, পেনসিলভানিয়া। হ্যারিসবার্গের কাছে অবস্থিত ছোট এই শহরের জনসংখ্যা ৮ হাজারের কিছু বেশি। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ ডলার, আর বছরে জীবনযাত্রার গড় খরচ প্রায় ৪৩ হাজার ৭৯৪ ডলার। এর জীবনযাত্রার মানের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯২। পেনসিলভানিয়ার আধিপত্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সেরা ৫০টি ছোট শহরের মধ্যে ১৫টিই পেনসিলভানিয়ার। ক্যাম্প হিলের পর জেনকিনটাউন দ্বিতীয় এবং অ্যাসপিনওয়াল অষ্টম স্থানে রয়েছে। রাজ্যটির আরও কয়েকটি শহরও শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে পূর্বাঞ্চলের ২২টি ছোট শহর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাইরে মেইন, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের শহরও রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে কলেজ প্লেস, ওয়াশিংটন, যা তালিকায় নবম। এরপর ওয়াশিংটনের স্টেইলাকুম ২০তম এবং ওরেগনের ফিলোমাথ ২১তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ পশ্চিম উপকূল পুরোপুরি বাদ পড়েনি, তবে তালিকার শীর্ষে পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। MoneyLion-এর বিশ্লেষণে ছোট শহরগুলোর গড় বাড়ির মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, সম্পত্তি অপরাধের হার, সহিংস অপরাধের হার এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর স্কোর তৈরি করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। তবে অবসর জীবনের জন্য ভালো জায়গা নির্ধারণে একটি তালিকাই শেষ কথা নয়। অন্য সাম্প্রতিক গবেষণায় পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকেও অবসর জীবনের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়াসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের শহর রয়েছে। সেখানে বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এদিকে অবসর জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেক ইনভেস্টোপিডিয়া বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরের জন্য জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, চিকিৎসা সুবিধা, কর, জীবনযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফর উপলক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই ভাষণকে বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার বলে মনে করা হচ্ছে। এর একটি বিশেষ কারণও রয়েছে—তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের এক কূটনীতিক আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের দুজনের সাক্ষাৎ হতে পারে। এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। তবে সেসব কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন নিয়ে বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। এদিকে নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু। ২৫ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত। ১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না। অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে। গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই এজেন্টদের বৈদ্যুতিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কিনতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, গ্লাভসটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ দস্তানার মতো হলেও এটি সক্রিয় করার পর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এতে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। আইসিই এখনো শক গ্লাভস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার, আটককেন্দ্রে অভিযান কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে গ্লাভসটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপদে গ্রেপ্তার এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, আইসিই যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেগুলো আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিস্থিতি শান্ত করার কৌশল এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, শক গ্লাভসগুলো আইসিইর দুটি প্রধান কার্যক্রম—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কর্মকর্তাদের দেওয়া হতে পারে। শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, গ্লাভসটি প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমন যন্ত্রের ব্যবহার নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন। সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা হয়েছে। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর গত ২৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা গ্লাভসটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কর্মকর্তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এর ব্যবহার কীভাবে নজরদারি করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি করার পরিকল্পনা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শক গ্লাভস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কম প্রাণঘাতী প্রযুক্তির সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সরঞ্জাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে। সাবেক মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি বলেন, শক গ্লাভস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত সমস্যা রয়েছে। তার মতে, গ্লাভস পরা অবস্থায় একজন কর্মকর্তা সহজে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনো কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে একাধিক হুমকির মুখে ওই কর্মকর্তা নিজেই আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রের মতো জায়গায় সীমিত ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু রাস্তায় গ্রেপ্তার, গাড়ি থামানো বা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের সময় এটি ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র নিষিদ্ধ করে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ওপর শক গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ এখন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিলটির তালিকাভুক্ত সমর্থকদের মধ্যে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন না। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার নীতিকে ঘিরে আইসিই ও ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যেই আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে শক গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনা এবং তা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো করেছে।
প্যালেস্টাইনি মুসলিম কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুসেইর ইয়াসিন, যিনি ‘নাস ডেইলি’ নামে পরিচিত, এবং ইহুদি মার্কিন লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইজা মেরক তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্প প্রথমবারের মতো একসঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন। ভিন্ন ধর্ম, পরিচয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে শুরু থেকেই সম্পর্কটি সহজ ছিল না। তবে দুজনের দাবি, এসব পার্থক্যের চেয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়াই তাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়েছে। দুজনের পরিচয় করিয়ে দেন এক পারস্পরিক বন্ধু। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের প্রোফাইল দেখার পর তারা ডিনারে দেখা করেন। সময়টিও ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তাদের প্রথম দেখা হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে। নুসেইর শুরু থেকেই সম্পর্কটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখলেও আইজার ক্ষেত্রে বিষয়টি সময় নিয়ে গভীর হয়। নুসেইর জানান, প্রথম দেখার পরই তার মনে হয়েছিল আইজাকে তিনি ভবিষ্যৎ সঙ্গী হিসেবে দেখতে পারেন। অন্যদিকে আইজা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি মুহূর্তে তিনি প্রেমে পড়েননি। বরং ২০২৩ সালের যুদ্ধ ও এর পরের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের দীর্ঘ আলোচনাই সম্পর্ককে আরও গভীর করে। কঠিন সময়ের মধ্যে নুসেইরের সঙ্গে কথা বলেই তিনি স্বস্তি পেতেন বলে জানান আইজা। তাদের সম্পর্ক অবশ্য সবার কাছে সহজভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইজা জানান, এই সম্পর্কের কারণে তাকে একবার একটি শাবাতের খাবারের অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। নুসেইরও পরিবারের এক দূরসম্পর্কের সদস্যের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। তবে দুজনেরই দাবি, এমন প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা খুবই কম। আইজা মেরক ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় বেড়ে উঠেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে ইহুদি সম্প্রদায়ের সংখ্যা কম থাকায় ছোটবেলায় ইহুদিবিদ্বেষের নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। পরে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা নিয়ে পড়াশোনা করেন। লেখালেখি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের পাশাপাশি তিনি ইহুদি সম্প্রদায় ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন। অন্যদিকে নুসেইর ইয়াসিন উত্তর ইসরায়েলের আরাবা শহরে বেড়ে ওঠেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় প্রথমবার একজন ইহুদি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন বলে তিনি জানান। ২০১৬ সালে চাকরি ছেড়ে ৬৪টি দেশ ঘুরে এক হাজার দিনের ভ্রমণ শুরু করেন এবং প্রতিদিন এক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন। এভাবেই ‘নাস ডেইলি’ নামে তার বিশাল অনলাইন অনুসারী তৈরি হয়। বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনের সম্পর্কের আরেকটি পার্থক্য ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। নুসেইর নিজের সম্পর্ক, জীবন ও অর্থনৈতিক অবস্থাসহ ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আইজা তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি গোপনীয়তা পছন্দ করেন। নুসেইরের ভাষায়, তাদের সম্পর্কের বড় চ্যালেঞ্জ ধর্ম বা রাজনীতি নয়, বরং একজনের অতিরিক্ত প্রকাশ্য জীবন আর অন্যজনের ব্যক্তিগত থাকতে চাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। তারা এরই মধ্যে একসঙ্গে মিয়ামিতে বসবাস করছেন এবং নিজেদের সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন। তবে আইজা জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এখনো তার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর। নুসেইর ও আইজার সম্পর্ককে ঘিরে মূল আলোচনাটি শুধু ভিন্ন ধর্মের দুই মানুষের প্রেম নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইহুদি ও মুসলিম পরিচয় নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের মধ্যেও তারা নিজেদের সম্পর্ককে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ও সহাবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। দুজনই বলেছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কের সমস্যাগুলো ধর্ম বা রাজনীতির চেয়ে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের মতোই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য কারচুপি ও প্রমাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের দায়ে সাবেক এক ফরেনসিক বিশ্লেষককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কলোরাডো ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) সাবেক বিশ্লেষক ইয়vonne “মিসি” উডসের কর্মকাণ্ডে শত শত ফৌজদারি মামলার ডিএনএ প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, যৌন হামলা ও ডাকাতির ঘটনাও রয়েছে। ৬৬ বছর বয়সী উডস ৮ সেপ্টেম্বর কলোরাডোর জেফারসন কাউন্টি জেলা আদালতে চারটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর সাজা পান। তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, প্রথম-ডিগ্রি মিথ্যা সাক্ষ্য, সরকারি কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। চুক্তির আওতায় আরও অনেক অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উডস ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য পরিবর্তন, কিছু তথ্য মুছে ফেলা এবং পরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে নথিভুক্ত না করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, কোনো কোনো নমুনা থেকে ডিএনএর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হতো অথবা কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। সিবিআই জানিয়েছে, উডসের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক হাজারের বেশি মামলা পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৪০০টির বেশি মামলা ছিল যৌন হামলার। তদন্তকারীরা জানান, উডসের কর্মকাণ্ডের কারণে বহু মামলার প্রমাণ নতুন করে যাচাই করতে হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। সিবিআইয়ের এক শিক্ষানবিশ ২০১৮ সালের একটি মামলার নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত দেখতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, উডসের কাজ নিয়ে ২০১৪ সাল থেকেই উদ্বেগ ছিল। ২০১৮ সালে তাকে সাময়িকভাবে ডিএনএ-সংক্রান্ত কাজ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। উডসের অনিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় পড়েছে। মাইকেল ক্লার্ক নামে এক ব্যক্তির হত্যার সাজা বাতিল হওয়ার পর তিনি ২০২৫ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই মামলায় উডসের ব্যবস্থাপনা করা ডিএনএ প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রসিকিউটররা পরে মামলাটি পুনরায় চালানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। আরও দুটি হত্যা মামলায় উডসের সংশ্লিষ্টতার কারণে আসামিদের সঙ্গে তুলনামূলক কম সাজায় সমঝোতা করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উডসের বিরুদ্ধে তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ডিএনএ শনাক্তকরণ, মিথ্যা তুলনা বা মিথ্যা পজিটিভ ফল তৈরি করেছিলেন। বরং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল বিষয় ছিল পরীক্ষার তথ্য পরিবর্তন, বাদ দেওয়া এবং প্রমাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম। আদালতে উডস নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন, তার দায়িত্ব ছিল এমন প্রমাণ নিয়ে কাজ করা যার ওপর আসামি, ভুক্তভোগী, পরিবার ও আদালতের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে। তবে তার ক্ষমা চাওয়া ক্ষতির পুরোপুরি সমাধান করতে পারবে না বলেও তিনি স্বীকার করেন। উডস ২০২৩ সালে সিবিআই থেকে অবসর নেন। তার কর্মকাণ্ডের কারণে কলোরাডোতে বিপুলসংখ্যক ফৌজদারি মামলা পুনরায় যাচাই করতে হচ্ছে। রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়ার ব্যয় কয়েক মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিবিআই একই সঙ্গে পরীক্ষাগারের কার্যক্রমে সংস্কার এনে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক জ্যাকব কক্সন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের পর সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমেই শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী এআই ‘ক্লড’-এর নির্মাতা অ্যানথ্রপিক এআই নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে কক্সন জানান, গত তিন বছর তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই উভয় প্রতিষ্ঠানে এআই প্রিট্রেনিং নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ‘স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে ছুটছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। কক্সনের মতে, ভবিষ্যতের অতিমানবীয় এআই যেকোনো কিছু হ্যাক করার পাশাপাশি বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনে সক্ষম হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে অনেক এআই নির্বাহী ও গবেষকের মধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির সবাইকে হত্যা করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিঙ্গারও প্রকাশ্যে কক্সনের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, "কিছু গবেষক সত্যিই বিশ্বাস করেন যে উন্নত এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।" হাবিঙ্গার নিজে মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এআই মডেলগুলো তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মূল উদ্বেগ ভবিষ্যতে এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ব্যবস্থার আবির্ভাব নিয়ে, যা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা বারবার উন্নত করতে পারবে অর্থাৎ ‘রিকরসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে অ্যানথ্রপিকও এর আগে এআই নিরাপত্তা ও ঝুঁকি সংক্রান্ত আলোচনায় সতর্ক করেছে।
গর্ভবতী কর্মীদের প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্রের সুবিধা না দেওয়া এবং বেশি সময় ছুটি নেওয়ার অভিযোগে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা করেছেন চার সাবেক গুদামকর্মী। মামলায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজনের নীতির কারণে হাজারো গর্ভবতী কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। মামলাটি করা হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন এ বেটার ব্যালান্স এবং একটি নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান চার সাবেক কর্মীর পক্ষে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গর্ভবতী কর্মীদের বসার জন্য চেয়ার, অতিরিক্ত পানি ও বাথরুম ব্যবহারের বিরতি এবং গর্ভকালীন চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার সময় দেওয়ার মতো মৌলিক সুবিধা পেতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গর্ভাবস্থাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় বিরতি বা ছুটি নেওয়ার পর অনেক কর্মীর ছুটির হিসাব থেকে সময় কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে কেউ কেউ সতর্কবার্তা পাওয়ার পর চাকরি হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মীর কাছ থেকে সাধারণ গর্ভকালীন সুবিধা পাওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাগজপত্রও চাওয়া হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। চার বাদীর একজন উইলামিনা বার্কলে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গর্ভাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থায় তাকে অ্যামাজনের রচেস্টার, নিউইয়র্কের গুদাম থেকে হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালে নিতে হয়। পরদিন তাকে চাকরি হারানোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বার্কলের দাবি, ভারী জিনিস তোলার কারণে তার তীব্র পেটব্যথা হচ্ছিল। হাসপাতাল যাওয়ার সময়কে অ্যামাজন তার বেতনবিহীন ছুটির সীমার মধ্যে হিসাব করে এবং পাঁচ দিন পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব আচরণ ফেডারেল প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্ট এবং নিউইয়র্কের শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে। ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া এই ফেডারেল আইনে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান বা সংশ্লিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় যুক্তিসংগত কর্মক্ষেত্রের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বাথরুম বিরতি, পানি পান, বসার ব্যবস্থা এবং গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ছুটিও রয়েছে। অ্যামাজন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেছেন, অ্যামাজন প্রতি বছর হাজারো কর্মীকে গর্ভাবস্থাজনিত সুবিধা দিয়ে থাকে এবং গত এক বছরে এ ধরনের অনুরোধের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি অনুমোদন করা হয়েছে। চার বাদীর বক্তব্যে ভুল তথ্য রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বাদ পড়েছে বলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অ্যামাজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে গর্ভবতী কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা করে। নিউইয়র্কেও ২০২২ সালে একই ধরনের অভিযোগে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। নতুন মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বকেয়া বেতন ও সুবিধা, ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অ্যামাজনের কর্মক্ষেত্রের নীতি পরিবর্তনের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মামলাটি আদালতে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা হিসেবে এগোবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে।
ইরানে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২০ বছর বয়সী যমজ দুই বোন তারানেহ রাহিমি ও রোমিনা রাহিমিকে কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চার মাস নিখোঁজ থাকার পর তাদের মায়ের সঙ্গে দেখা হলে মেয়েদের চেহারা এতটাই বদলে গিয়েছিল যে তিনি প্রথমে তাদের চিনতেই পারেননি। পরে তারানেহকে মৃত্যুদণ্ড এবং রোমিনাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইরানের ইসফাহানে জানুয়ারির বিক্ষোভকে ঘিরে ১৬ জনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় দুই বোনকেও আসামি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মুখোশধারী নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের আলাদা অভিযানে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় চার মাস তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মে মাসে ইসফাহানের দৌলতাবাদ কারাগারে মেয়েদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তাদের মা মারজিয়েহ নুরমোহাম্মাদি। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের চাচাতো ভাই মাসুদ নুরমোহাম্মাদির দাবি, তখন দুই বোনের শরীরে মারধরের চিহ্ন ছিল, মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং চুলের বড় অংশ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতেরও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, তারানেহকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করতে তার যমজ বোন রোমিনাকে যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, চাপের মুখে তারানেহ এমন একটি স্বীকারোক্তিতে সই করেন, যা পরে মামলায় ব্যবহার করা হয়। আইনজীবীদের বরাত দিয়ে পরিবার আরও বলেছে, স্বীকারোক্তিগুলো নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। তারানেহের আগে পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং সেখানে ধাতব প্লেট ও স্ক্রু লাগানো ছিল বলে জানিয়েছেন তাদের চাচাতো ভাই। কারাগারে নির্যাতনের পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এমনকি কারাগারের একজন চিকিৎসক তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। দুই বোনের বিরুদ্ধে ‘মোহরাবেহ’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসফাহানের বিক্ষোভের সময় একটি জুতার দোকানের কাছে মলোটভ ককটেল তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের সময় দুজনের মৃত্যুর জন্যও আসামিদের দায়ী করার অভিযোগ তুলেছে, যদিও তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়নি। পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দুই বোনের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তাদের আইনজীবীরা মামলার নথি পর্যালোচনা করে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে করা আইনজীবীদের অভিযোগও এখনো ইসফাহানের আদালতে এগোয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানে বিক্ষোভকারীদের আটক, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছিল, বিক্ষোভে আটক অনেক মানুষ নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং অন্যায্য বিচারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারানেহ ও রোমিনার পরিবার এখন তাদের সাজা বাতিল ও পুনর্বিচারের দাবি জানাচ্ছে। মামলাটি ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া, জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।