সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা
ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা, খুনিকে খুঁজছে পুলিশ

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন হাইটসে ২৭ বছর বয়সী লোভে উইলিয়ামসকে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এনওয়াইপিডি। রোববার দুপুরে ওয়েস্ট ১৫৬তম স্ট্রিটের বাসায় তাকে মুখ ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্নসহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ঘরোয়া সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।    সোমবার রাতে ইস্ট হারলেমে উইলিয়ামসের স্মরণে স্বজন ও স্থানীয়রা জড়ো হন। তার সম্মানে আকাশে সবুজ বেলুন উড়ানো হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, উইলিয়ামস ছিলেন তার মেয়ের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল একজন মা। তার মৃত্যুর পর ৭ বছরের মেয়েটি মাকে হারিয়েছে।    পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে এক স্বজনের অনুরোধে ওই অ্যাপার্টমেন্টে ওয়েলনেস চেক করতে যান কর্মকর্তারা। সেখানে উইলিয়ামসকে অচেতন ও সাড়াহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসাকর্মীরা। তার মুখ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তার ৭ বছরের মেয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ছিল এবং পুলিশ পৌঁছালে দরজা খুলে দেয়। কতক্ষণ শিশুটি মায়ের মরদেহের পাশে ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিউইয়র্কের প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করছে।    তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তদন্তে ঘরোয়া সহিংসতার দিকটি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর নেই এবং পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো সন্দেহভাজনের নামও জানায়নি।    উইলিয়ামসের পরিবার বলছে, হত্যার সঙ্গে তার পরিচিত এক পুরুষের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   উইলিয়ামসের বাবা নুকোয়ান উইলিয়ামস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার মেয়ে সংগীত ও মানুষের সঙ্গ পছন্দ করতেন এবং সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন তার মেয়েকে। পরিবারের সদস্যরা হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।    এনওয়াইপিডি এখন ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে। একটি ভবনের নিরাপত্তা ভিডিওতে রোববার সকালে এক ব্যক্তিকে ওই অ্যাপার্টমেন্টে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তদন্তকারীরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২:৪৬
৩০ সেপ্টেম্বর, প্রায় ২০০ বছর পর টেনেসিতে প্রথম নারীকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি
৩০ সেপ্টেম্বর, প্রায় ২০০ বছর পর টেনেসিতে প্রথম নারীকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের বেশি সময় পর কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী বন্দি ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কার্যকরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। কার্যকর হলে ১৮১৯ সালের পর টেনেসিতে কোনো নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগও এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য গণমাধ্যমের সাক্ষী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।    পাইকের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালে নক্সভিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। জব কর্পস প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একই প্রতিষ্ঠানে থাকা স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইকের সঙ্গে আরও দুই কিশোর জড়িত ছিল। তবে তিনজনের মধ্যে শুধু পাইকই মৃত্যুদণ্ড পান।    পাইকের তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়নি এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং পরে প্রবেশন পান। পাইকের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি এখনো মামলাটির অন্যতম আলোচিত দিক।    পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, অপরাধের সময় তার বয়স এবং শৈশবের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পাইক শৈশবে যৌন নির্যাতন, শারীরিক সহিংসতা, অবহেলা ও অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, বিচার চলাকালে এসব পরিস্থিতি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।    মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে পাইকের আইনজীবীরা সেপ্টেম্বরে টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে ক্ষমা বা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। তারা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।    এর আগে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। আগস্টে তিন দিনের শুনানির পর বিশেষ বিচারক মার্ক ওয়ার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইকের আইনজীবীরা বর্তমান পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয় বা অসাংবিধানিক কষ্টের ঝুঁকি প্রমাণ করতে পারেননি। পরে তার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।    পাইকের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। একদিকে ১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে অপরাধের সময় পাইকের বয়স, তার শৈশবের নির্যাতনের ইতিহাস এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা।   ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে পাইক হবেন টেনেসিতে ১৮১৯ সালের পর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। একই সঙ্গে আধুনিক সময়ে অঙ্গরাজ্যটিতে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম ব্যক্তিও হবেন তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২:২২
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে চাকরির বাজারে চাহিদায় এগিয়ে যেসব দক্ষতা
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে চাকরির বাজারে চাহিদায় এগিয়ে যেসব দক্ষতা, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এখনো কর্মীর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। একই সময়ে ন্যাশভিল, আটলান্টা, কলম্বাস ও র‍্যালেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে বেকারত্বের হারও তুলনামূলক কম ছিল।   তবে শুধু একটি দক্ষতা থাকলেই ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত হবে বা চাকরি নিজে থেকে খুঁজে আসবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ভাষাগত দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর।   চাহিদার দিক থেকে নার্সিং ও সেবাযত্নের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। আগামী ১০ বছর এ পেশায় কর্মসংস্থান আরও ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।   নার্সিং সহকারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। আগামী ১০ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৩০০টি নার্সিং সহকারী ও রোগীসেবাকর্মীর পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করতে অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রয়োজন।   ট্রাক চালনাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চালকদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। আগামী ১০ বছরে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল থাকতে হয়।   কারিগরি পেশাগুলোর চাহিদাও কম নয়। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর এবং ওয়েল্ডারের মতো কাজে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে। এসব পেশায় সবসময় চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, তথ্যনিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজে চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে কম্পিউটার সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬২ হাজার ৮৯০ ডলার। তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। আগামী ১০ বছরে তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়তে পারে।   শহরভেদেও শ্রমবাজারের চিত্র আলাদা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিলে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। আটলান্টা, কলম্বাস ও র‍্যালেইয়ে তা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং শার্লটে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে র‍্যালেইয়ে এক বছরে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে মোট বেতনভুক্ত চাকরি ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং শার্লটে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।   তাই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার সময় শুধু কোন শহরে বেশি চাকরি রয়েছে, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের দক্ষতার চাহিদা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ইংরেজি দক্ষতা, বেতন, বাসাভাড়া, কর এবং যাতায়াত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দক্ষতাই চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং বাস্তব কাজের দক্ষতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিজের চাকরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২:০
আমেরিকায় ইহুদি নিরাপত্তায় বছরে ১০১ কোটি ডলার
আমেরিকায় ইহুদি নিরাপত্তায় বছরে ১০১ কোটি ডলার! এক বছরে বেড়েছে কোটি কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় বছরে ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। ইহুদি ফেডারেশনগুলোর নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিনাগগ, ইহুদি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, সামার ক্যাম্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় এই বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।   এমন সময় এই ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে, যখন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে শুরু হচ্ছে ইহুদি ধর্মীয় বর্ষপঞ্জির নতুন বছর রোশ হাশানাহ। একই দিনে ২০০১ সালের ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তিও হবে। ফলে এবারের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।    ইহুদি ফেডারেশনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২০২৫ সালে নিরাপত্তায় গড়ে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার করে খরচ হয়েছে। ২০২৪ সালে এই ব্যয়ের হিসাব ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় ২৫ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।    নিরাপত্তা ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, নজরদারি ক্যামেরা, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খরচ। এই হিসাব মূলত ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। ব্যক্তিমালিকানাধীন কোশার রেস্টুরেন্ট, বাজার বা অন্যান্য ব্যবসার নিরাপত্তা ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের মোট নিরাপত্তা ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।    নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও হুমকি বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৫ সালের এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘৃণাজনিত অপরাধের ৬০ শতাংশের বেশি ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও কম ইহুদি।    এবারের উচ্চ ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৭ কোটি ডলারের নিরাপত্তা তহবিল ঘোষণা করেছেন। প্রায় ২৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা পাবে। পাশাপাশি ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে স্টেট পুলিশের উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে।    পিটসবার্গেও রোশ হাশানাহ সামনে রেখে স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করেছে ইহুদি ফেডারেশন। প্রায় ৩০টি ইহুদি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।    নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালাতে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে।   ফলে এবারের রোশ হাশানাহ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনাস্থলের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১:৪২
বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ
ডিভি লটারি ২০২৬: বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি ২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশের নাগরিকরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে এসব দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করায় দেশগুলোকে ২০২৬ সালের ডিভি লটারির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।    বাংলাদেশ ছাড়াও অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, কানাডা, চীন, কলম্বিয়া, কিউবা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ভিয়েতনাম।    ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কর্মসূচি, যা সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠায় এমন দেশের নাগরিকদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে। আইনের আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।    তবে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রকৃত ভিসা সংখ্যা ৫৫ হাজারের চেয়ে কম। নিকারাগুয়ান অ্যান্ড সেন্ট্রাল আমেরিকান রিলিফ অ্যাক্ট বা নাকারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা বাদ যাওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের সংশোধনের কারণে আরও ভিসা কমানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ডিভি-২০২৬-এর বার্ষিক সীমা প্রায় ৫২ হাজার ১০১-এ নেমে এসেছে।    ডিভি লটারিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে শুধু নাগরিকত্বই নয়, কোন দেশের ‘নেটিভ’ হিসেবে আবেদনকারী গণ্য হচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের অভিবাসন হার আগের পাঁচ বছরে নির্ধারিত সীমার বেশি হলে সেই দেশের নেটিভরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন না।    বাংলাদেশিদের জন্য এই নিয়ম নতুন নয়। ডিভি-২০২৫ কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় ছিল এবং আগের বছরগুলোর কর্মসূচিতেও একই কারণে বাংলাদেশি নেটিভরা আবেদন করতে পারেননি।    ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচিত হওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব যোগ্যতা পূরণ করে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ২০২৬ অর্থবছরের ডিভি ভিসার সুবিধা পাওয়ার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।    এদিকে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু করা সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারলেও বর্তমানে নতুন ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে না।    তাই বাংলাদেশিদের জন্য ডিভি লটারি নিয়ে পুরোনো তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১:৩৫
নিউইয়র্কে ড্রাইভাররা সাবধান!  সামান্য ভুলেই বাড়িতে আসতে পারে টিকিট
নিউইয়র্কে ড্রাইভাররা সাবধান! সামান্য ভুলেই বাড়িতে আসতে পারে টিকিট

নিউইয়র্ক সিটিতে ইয়েলো ট্যাক্সি, উবার, লিফট বা লিভারি চালকদের জন্য রাস্তার ক্যামেরা এনফোর্সমেন্ট এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস লেনে ভুল করে গাড়ি চালানো, সেখানে দাঁড়ানো বা পার্ক করার মতো ঘটনায় শুধু রাস্তার ক্যামেরাই নয়, এমটিএ বাসে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমেও টিকিট আসতে পারে।    শহরের নির্দিষ্ট বাস লেনে থাকা ক্যামেরা গাড়ির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের ঠিকানায় নোটিস অব লায়াবিলিটি পাঠানো হয়। এমটিএ বাসে থাকা ক্যামেরাও বাস লেনে দাঁড়ানো বা পার্ক করা, বাসস্টপে দাঁড়ানো এবং ডাবল পার্কিংয়ের মতো লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারে।    বাস লেনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণভাবে সেখানে গাড়ি চালানো যায় না। তবে নিকটতম মোড়ে ডানে মোড় নেওয়া, দ্রুত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং বৈধ পার্কিং স্পটে যাওয়ার মতো কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই শুধু কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাস লেনে ঢুকলেও পরিস্থিতি ও সাইন অনুযায়ী সেটি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।    ক্যামেরায় ধরা পড়া বাস লেনের লঙ্ঘনের জরিমানা প্রথমবার ৫০ ডলার থেকে শুরু হয়। একই ধরনের লঙ্ঘন ১২ মাসের মধ্যে আবার হলে জরিমানা ধাপে ধাপে ১০০, ১৫০, ২০০ এবং পরবর্তী প্রতিটি লঙ্ঘনে ২৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এমটিএ বাসের ক্যামেরায় ধরা পড়া সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধাপে ধাপে জরিমানা প্রযোজ্য।    শুধু বাস লেন নয়, নিউইয়র্কে রেড লাইট ও স্পিড ক্যামেরার এনফোর্সমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের মধ্যে শহরের ৬০০টি ইন্টারসেকশনে রেড লাইট ক্যামেরা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নিউইয়র্ক সিটি। ২০২৬ সালের শুরুতে শহর প্রতি সপ্তাহে ৫০টি নতুন ইন্টারসেকশনে ক্যামেরা চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে।    রেড লাইট ক্যামেরায় ধরা পড়লে জরিমানা ৫০ ডলার এবং স্পিড ক্যামেরার ক্ষেত্রেও জরিমানা ৫০ ডলার থেকে শুরু হয়। এসব ক্যামেরা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাধারণত গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের কাছে নোটিস পাঠানো হয়।    সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে টিকিট জমিয়ে রাখলে। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং ও ক্যামেরা-সংক্রান্ত বকেয়া জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা চ্যালেঞ্জ না করলে তা জাজমেন্টে যেতে পারে। এরপর জরিমানা ও সুদের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।    নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮ মাসের মধ্যে তিন বা তার বেশি পার্কিং, রেড লাইট, বাস লেন বা স্পিড ক্যামেরার বকেয়া জাজমেন্ট থাকলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবায়ন স্থগিত বা আটকে যেতে পারে। একইভাবে ১২ মাসের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি পার্কিং টিকিট জাজমেন্টে থাকলেও রেজিস্ট্রেশন নবায়নে সমস্যা হতে পারে। টিএলসি গাড়িও এই নিয়মের আওতায় রয়েছে।    তাই নিউইয়র্কের ড্রাইভারদের জন্য বাস লেনের সাইন, পার্কিং সাইন ও কার্বের নির্দেশনা ভালোভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার উপস্থিতি চোখে না পড়লেও নিয়ম ভাঙলে পরে ডাকযোগে নোটিস আসতে পারে। আর কোনো টিকিট এলে সেটি উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ বা প্রয়োজন হলে হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা উচিত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১:১৯
সন্তানরা বাড়ি ছেড়েছে, কিন্তু ‘মিস করি না’ মিশেল ওবামার মন্তব্যে তুমুল আলোচনা
সন্তানরা বাড়ি ছেড়েছে, কিন্তু ‘মিস করি না’ মিশেল ওবামার মন্তব্যে তুমুল আলোচনা

সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, বড় হয়ে দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের খুব একটা মিস করেন না। ২৬ আগস্ট প্রকাশিত ‘আইএমও’ পডকাস্টের এক পর্বে কমেডিয়ান জন স্টুয়ার্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।    মিশেল অবশ্য পরিষ্কার করে বলেন, মেয়েদের তিনি ভালোবাসেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করেন। এমনকি ওই দিন রাতেই তাদের সঙ্গে ডিনারে দেখা করার কথা ছিল তার। তিনি বলেন, সন্তানরা কলেজে যাওয়ার সময় স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তার নিজের প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটা ভিন্ন।    মিশেলের ভাষ্য, মেয়েরা বাড়িতে থাকার সময় শুক্রবার রাতগুলোতে তাদের কোথায় আছে, কখন ফিরবে, নিরাপদে আছে কি না, এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হতো। এখন সেই চাপ নেই। বরং মেয়েদের বড় হয়ে নিজেদের জীবন তৈরি করতে দেখে তিনি খুশি।   মিশেল ও বারাক ওবামার দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশা। মালিয়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে পড়াশোনা শেষ করেন এবং পরে চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হন। সাশা ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন।    পডকাস্টে মিশেল আরও বলেন, সন্তানদের সঙ্গে তার দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে এবং তিনি তাদের খুব ভালোভাবে জানেন। এখন মেয়েরা নিজেদের মতো করে বড় হয়েছে, সেটি তিনি উপভোগ করছেন।   মিশেলের মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ তার কথাকে সন্তানদের বড় হয়ে স্বাধীন জীবন শুরু করার স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের না মিস করার অনুভূতির সঙ্গে তারা একমত নন।    তবে মিশেলের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার অভাব নয়। বরং সন্তানদের প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজেদের জীবন গড়ে তোলার পর একজন মায়ের জীবনে যে নতুন স্বাধীনতা ও পরিবর্তন আসে, সেটিই তিনি তুলে ধরেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ০:৪৩
৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা
৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা, ২০২৬ সালের ৭টি তথ্য জানলে চমকে যাবেন

যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালেই সরকার বিনা শর্তে টাকা, বাড়ি ও চিকিৎসার সব খরচ বহন করে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ২০২৬ সালে সিনিয়রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, সম্পূরক নিরাপত্তা আয়, মেডিকেড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং কর সুবিধাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা, আয়, কাজের ইতিহাস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে।   প্রথম বড় সুবিধা হলো সামাজিক নিরাপত্তা অবসর ভাতা। যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকেই এই সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ৬২ বছর বয়সে নিলে মাসিক ভাতার পরিমাণ কমে যায়। ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় যোগ হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক ভাতা প্রায় ৫৭ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   এই সুবিধার জন্য সাধারণত কাজ করে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০২৬ সালে একটি ক্রেডিট পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষের অবসর ভাতার জন্য ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসাল অনুযায়ী ৬৬ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাই ৬৫ বছর হলেই সবাই একই পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাবেন, এমন নয়।   দ্বিতীয় বড় সুবিধা হলো মেডিকেয়ার। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ারের জন্য যোগ্য হওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ কর্মজীবনে যথেষ্ট মেডিকেয়ার কর দেওয়ার কারণে হাসপাতালভিত্তিক পার্ট এ-এর জন্য মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। তবে পার্ট বি বিনামূল্যে নয়। ২০২৬ সালে এর স্ট্যান্ডার্ড Part B মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক কর্তনযোগ্য অর্থ ২৮৩ ডলার। আয় বেশি হলে পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে।   মেডিকেয়ারের পার্ট এ মূলত হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট রোগী ভর্তি চিকিৎসা কভার করে। পার্ট বি চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কভার করে এবং পার্ট ডি প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে সহায়তা করে। কম আয়ের মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আলাদা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। তবে ৬৫ বছর পূর্ণ হলেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যায় না।   তৃতীয় সুবিধা হলো সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, অন্ধ বা প্রতিবন্ধী এবং খুব কম আয় ও সীমিত সম্পদের মানুষ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬ সালে ফেডারেল পর্যায়ে এসএসআই-এর সর্বোচ্চ মাসিক হার একজনের জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয়, সম্পদ ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম হতে পারে।   চতুর্থ সুবিধা হলো মেডিকেড। কম আয়ের সিনিয়রদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেডিকেডের যোগ্যতা ও সুবিধা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও দাঁতের চিকিৎসা বা চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা থাকতে পারে, আবার কোথাও নিয়ম ভিন্ন। তাই শুধু ৬৫ বছর বয়স হলেই মেডিকেড পাওয়া যায় না।   পঞ্চম সুবিধা হলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি, যা অনেকের কাছে ফুড স্ট্যাম্প নামে পরিচিত। যোগ্য নিম্ন আয়ের সিনিয়ররা খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একজনের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক এসএনএপি বরাদ্দ ২৯৮ ডলার। তবে প্রকৃত সুবিধার পরিমাণ পরিবারের আয় ও অন্যান্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে।   ষষ্ঠ সুবিধা হলো আবাসন সহায়তা। সেকশন ৮ বা হাউজিং চয়েস ভাউচার কর্মসূচিতে নিম্ন আয়ের পরিবার, সিনিয়র, সাবেক সেনাসদস্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যোগ্য হতে পারেন। তবে সরকার সবার রেন্টের নির্দিষ্ট ৭০ শতাংশ দিয়ে দেয়, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও স্থানীয় নিয়মের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অনেক এলাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায়ও থাকতে হয়।   সপ্তম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে সিনিয়রদের জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল কর ছাড়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য করদাতারা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের করবর্ষে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার কর ছাড় দাবি করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যোগ্য হলে যৌথভাবে এই অতিরিক্ত কর ছাড় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা অতিক্রম করলে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যায়।   এ ছাড়া ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় উদ্যানের আজীবন সিনিয়র পাস রয়েছে। ২০২৬ সালে এই পাসের দাম ৮০ ডলার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফেডারেল বিনোদনমূলক এলাকায় প্রবেশ ফি ও কিছু সুবিধায় ছাড় পাওয়া যায়।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়স সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হলেও এটি কোনোভাবেই ‘সবকিছু ফ্রি’ পাওয়ার বয়স নয়। কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, কত টাকা পাওয়া যাবে বা কতটা খরচ কমবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির কাজের ইতিহাস, আয়, সম্পদ, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর। তাই কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ০:২৪
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে শোক পালন শুরু, ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে মৃত ভেবে তাঁর পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে।   ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারতলা বাড়িটি বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে। সেখানেই একটি ছোট বাতাসের জায়গার মধ্যে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন চন্দিকা।   ৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকাজ চালানোর সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের কাছে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শুনতে পান কেউ সাহায্যের জন্য ডাকছেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাঁকে চারতলা একটি ভবনের ওপরের অংশের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে নয় সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।   চন্দিকা ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময় বন্যার স্রোতে ভোতেকোশি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে একসময় স্বজনদের মধ্যে আশাও প্রায় শেষ হয়ে আসছিল।   চন্দিকার পরিবারও তাঁকে আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে জীবিত অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধারের ঘটনা স্বজনদের জন্য অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত হয়ে আসে।   বেত্রাবতী ছিল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় বাজারসহ বহু আবাসিক ভবন কয়েক ফুট পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। কোনো কোনো ভবন ছিল চারতলা পর্যন্ত উঁচু। উদ্ধারকারীরা এখনো সেখানে কোদাল দিয়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে কেউ আটকে থাকলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিয়মিত বাঁশি বাজানো হচ্ছে।   চন্দিকাকে উদ্ধারের পাঁচ দিন আগে বেত্রাবতীর বাজার এলাকার একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোই পচে গিয়েছিল। এ অবস্থায় উদ্ধারকাজে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছিল। তবু চন্দিকার উদ্ধার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ, কাদার স্তর ও বিভিন্ন স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা।   ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ভেসে অনেক মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু দূরে গিয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের গণদাফনও করা হয়েছে।   ত্রিশূলী নদীর আশপাশেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে কয়েকটি সুড়ঙ্গের মধ্যে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখান থেকে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি এক চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি সুড়ঙ্গে এখনো শত শত মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   চন্দিকার মতো আরও কয়েকজনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আট বছর বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো ক্ষীণ চিহ্ন পেলেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও কাদার স্রোত বসতি, বাজার এবং অবকাঠামোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।   চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠার উদ্ধার সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের বেঁচে থাকার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁকে হারিয়ে শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট বাতাসের জায়গায় টিকে ছিলেন তিনি। দশ দিন পর তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর জীবিত থাকার খবর।   সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ০:২
মৃত্যুর সময় লুসিয়া সিসিচের বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২২ বছরেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ, না ফেরার দেশে 'মিস অস্ট্রিয়া' লুসিয়া সিসিচ

মাত্র ২২ বছর বয়সেই মারা গেলেন মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ লুসিয়া সিসিচ। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান মিশন অস্ট্রিয়া। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   মিশন অস্ট্রিয়া এক বিবৃতিতে লুসিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁর চলে যাওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পেরেছে তারা। লুসিয়াকে একজন অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করে তাঁর পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে আয়োজক সংস্থাটি। ২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জিতেছিলেন ভিয়েনার এই তরুণী। একই বছর তিনি মিস ভিয়েনাও নির্বাচিত হন। পরে ভিয়েনা ফ্যাশন উইকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিস অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ক্রিস্টোফার ডেংয়ের সঙ্গে যথাক্রমে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া নির্বাচিত হন।   লুসিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মিস অস্ট্রিয়ার শিরোপা ধরে রেখেছিলেন। কারণ ২০২৪ সালের পর আর জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন অস্ট্রিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৪ সালের বিজয়ী লুসিয়াই ছিলেন সর্বশেষ মিস অস্ট্রিয়া। লুসিয়ার ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য ছোটবেলা থেকেই ছিল নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জে ভরা। জন্মের সময়ই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভে ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপর জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সাতবার হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারটি হয়েছিল ২০২৫ সালের শীতকালে।   তবে নিজের শারীরিক সমস্যাকে কখনোই জীবনের একমাত্র পরিচয় হিসেবে দেখেননি লুসিয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার কারণে কঠিন সময়গুলো পেরিয়ে পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মিশন অস্ট্রিয়া বা অন্য কোনো সরকারি সূত্র মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি। তাই হৃদ্‌রোগের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কারণের সম্পর্ক স্থাপন করা এখনই সমীচীন নয়।   লুসিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ২০২৪ সালের মিস্টার অস্ট্রিয়া ক্রিস্টোফার ডেংও। অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম ও২৪-কে তিনি বলেন, লুসিয়ার মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একই সময়ে শিরোপা ধরে রাখার কারণে লুসিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে নিজের বোনের মতো মনে হতো বলেও জানান ডেং।   মিশন অস্ট্রিয়া লুসিয়ার মৃত্যুকে শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপাধারীর বিদায় হিসেবে দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি তাঁদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন এবং তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সবার মধ্যে বেঁচে থাকবে। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন লুসিয়া। ১২ আগস্ট দেওয়া তাঁর শেষ দিকের একটি পোস্টে সোনালি পোশাকে নিজের ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। তখনও তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই নিজের জীবন উপভোগ করতে দেখা যায়।   মাত্র ২২ বছরের জীবনে লুসিয়া একদিকে অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিলেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তাই অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের পাশাপাশি তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: মিশন অস্ট্রিয়া, ও২৪, দ্য ডেইলি বিস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২৩:৪১
দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত
‘কারাগারেই বাবাকে মেরে ফেলতে চায় তারা’, ইমরান খানের দুই ছেলের গুরুতর অভিযোগ

ইমরান খানকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট তারকার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দীর্ঘদিনের বন্দিত্ব নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে বসবাসকারী দুই ভাই সাম্প্রতিক একাধিক সাক্ষাৎকারে বাবার কারাবন্দিত্ব, তাঁর স্বাস্থ্য, পাকিস্তান সরকারের ভূমিকা এবং যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, যাতে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু ঘটে এবং পরে সেটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়।   কাসিমের ভাষায়, তাঁদের আশঙ্কা হলো, কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘ভেতরেই মেরে ফেলতে’ চাইতে পারে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত আশঙ্কা ও অভিযোগ, যার স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তোশাখানা-২ মামলায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইমরান খান ও তাঁর দল মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে জমি-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলাতেও তিনি ১৪ বছরের সাজা পেয়েছেন।   ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন তিনি। পরে এ নিয়ে চিকিৎসা ও চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে তাঁকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর বোন উজমা খান আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর করার কথা রয়েছে।   ইমরানের ছেলেরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাবার পর্যাপ্ত চিকিৎসা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই তাঁদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তাঁদের দাবি, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে এবং এর পেছনে আরও গুরুতর কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে।   তবে পাকিস্তান সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইমরানকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তাঁর কারাবাসের পর প্রায় ১৯৮টি সাক্ষাৎ-পর্বে ৯০০টির বেশি দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর বোন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা। সরকার আরও বলেছে, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ তাঁর এক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছিল।   সরকারের দাবি, ইমরানকে সাত কক্ষের একটি আলাদা প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে, যেখানে ঘুম, স্যানিটেশন ও ব্যায়ামের ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁকে বাড়িতে রান্না করা খাবার, টেলিভিশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার।   এদিকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গভীর হতাশায় আছেন কাসিম ও সুলাইমান। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছিলেন, মার্চের ঈদের সময় সর্বশেষ বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁরা। সেই ফোনালাপও ছিল সীমিত সময়ের। দুই ভাইয়ের দাবি, তাঁরা এখন বাবার দৈনন্দিন অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারছেন না।   ইমরান খান ও ব্রিটিশ চলচ্চিত্র প্রযোজক জেমিমা গোল্ডস্মিথের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। বাবাকে দেখতে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভিসা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মা জেমিমাও ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং ইমরানের পরিস্থিতিকে মানবিক সংকট হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।   দুই ভাইয়ের বক্তব্যের পর ইমরান খানের কারাবন্দিত্বের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ চলাকালে তাঁদের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে স্কাই স্পোর্টসের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও আলোচিত করে তোলে।   আগস্টের ওই টেস্টের প্রথম দিনে স্কাই স্পোর্টসে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া কাসিম ও সুলাইমানের প্রায় ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের কথা ছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সম্প্রচার ঠেকানোর চেষ্টা করে এবং পাকিস্তান দল মাঠে না ফেরার হুমকি দিয়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয় এবং পাকিস্তান দলও মাঠে ফিরে আসে।   পরে কাসিম ও সুলাইমান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সাক্ষাৎকারে কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হয়নি। তাঁরা কেবল তাঁদের বাবার স্বাস্থ্য ও মানবিক অবস্থার কথা বলেছেন।   ইমরান খানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকেও সমর্থনের আওয়াজ এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, ইমরানের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত, যাতে যেকোনো মানুষের প্রাপ্য ন্যূনতম মর্যাদা নিশ্চিত হয়। সাবেক ক্রিকেটারদের একটি দলও তাঁর চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছে।   ইমরানের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও দুই ভাইয়ের উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই বছরের নভেম্বরে রাজনৈতিক সমাবেশের সময় তাঁর ওপর হামলাও হয়, যাতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।   সুলাইমানের মতে, রাজনীতিতে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের অবনতিই তাঁদের পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর ভাষায়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর থেকেই তাঁরা বাবার নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে শুরু করেন।   তবে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ের পেছনে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত এক গভীর শূন্যতা। তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, বাবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা। নিজেদের জীবন, কাজ, ভবিষ্যৎ কিংবা পড়া বই নিয়ে বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার সেই সুযোগটুকুই তাঁরা ফিরে পেতে চান।   শৈশবের স্মৃতিতে ইমরান খান তাঁদের কাছে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা ক্রিকেট কিংবদন্তি নন, তিনি একজন বাবা। পাকিস্তানের পাহাড়ে বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, টেনিস ও ক্রিকেট খেলা, সন্ধ্যায় একসঙ্গে সিনেমা দেখা কিংবা দাদির বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতি এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।   কাসিম ও সুলাইমানের আশঙ্কা, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাঁরা বাবার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কাসিমের ভাষায়, বড় হয়ে তাঁরা কেমন মানুষ হয়েছেন, সেটি তাঁদের বাবার জানা খুব প্রয়োজন ছিল।   এই পরিস্থিতিতে বাবাকে দেখতে প্রয়োজনে পাকিস্তানে যাওয়ার কথাও ভাবছেন দুই ভাই। কিন্তু তাঁরা জানেন, সেখানে গেলে তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সুলাইমানের ভয়, তাঁদের কোনো সিদ্ধান্ত যেন কারাগারে থাকা বাবার ওপর আরও মানসিক চাপ তৈরি না করে।   ইমরান খানের পরিবার ও সমর্থকদের অভিযোগের বিপরীতে পাকিস্তান সরকার অবশ্য বলছে, তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা ও কারাবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য, কারাবন্দিত্বের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।   সবকিছুর পরও কাসিম ও সুলাইমানের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক নয়। তাঁরা শুধু তাঁদের বাবাকে একবার সামনে থেকে দেখতে চান। তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে আবার কবে দেখা হবে, সেটিই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য টাইমস, আল জাজিরা, এবিসি নিউজ, রয়টার্স  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২৩:২৪
ওহাইওতে এক মাসব্যাপী অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করেছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। ছবি: সংগৃহীত
ওহাইওতে এক মাসের অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল মার্কিন মার্শালরা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে খুঁজে বের করেছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। সংস্থাটির দাবি, এটি ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে অভিযানটি আগস্টজুড়ে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।   উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এক ছিল না। কিছু শিশু নিখোঁজ হয়েছিল পালিয়ে যাওয়ার কারণে, আবার কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অবহেলা, সম্ভাব্য মানব পাচার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয় ছিল। তদন্তকারীরা শিশুদের খুঁজতে ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের বাইরেও অনুসন্ধান চালান। কয়েকটি শিশুকে জর্জিয়া পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে বের করা হয়।   ইউএস মার্শাল সার্ভিসের নর্দার্ন ও সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়সহ বহু সংস্থা অংশ নেয়। আকরন, ক্লিভল্যান্ড, কলম্বাস ও টলিডোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও বিভিন্ন মামলায় সরাসরি কাজ করেছে।   অভিযানের একটি ঘটনায় কলম্বাস এলাকার দুই বোনকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনের একজনকে ২০২৪ সালের জুলাই এবং অন্যজনকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা কলম্বাস পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের খোঁজ শুরু করেন।   তদন্তের সূত্র ধরে লকবোর্নের একটি বাড়িতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে খুঁজে পান কর্মকর্তারা। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়িটির একটি শোবার ঘরের আলমারির মেঝের নিচে থাকা বেজমেন্টের একটি গোপন জায়গায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় মেয়েদের মাকে ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়।   তদন্তের সময় পাওয়া অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরে ১৬ বছর বয়সী বোনটির অবস্থানও শনাক্ত করা হয়। তাকে কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুই বোনকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।   আরেকটি ঘটনায় টলিডোতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খুঁজে বের করা হয়। ১৮ আগস্ট তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, ওই কিশোরীকে আগে মানব পাচারের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। টলিডো পুলিশ এবং ইউএস মার্শালদের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ওহাইও ও মিশিগানে বিভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে।   পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেয়েটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে থাকতে পারে। টলিডোর একটি ঠিকানায় দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিশোরীটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই পুরো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয় বলে জানিয়েছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। শিশু ও পরিবারবিষয়ক সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব সহায়তার মধ্যে মানসিক আঘাত মোকাবিলায় পরামর্শ, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   অভিযানে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন আমান্ডা বেরি। ক্লিভল্যান্ডের এই নারী ২০০৩ সালে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন এবং ২০১৩ সালে পালিয়ে মুক্ত হন। পরে তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন।   অপারেশন মেরিডিয়ান শুরুর আগে বেরি ইউএস মার্শালদের দলের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে খোঁজার আহ্বান জানান। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, কর্মকর্তারা সেই পরামর্শ অনুসরণ করেই কাজ করেছেন।   ইউএস মার্শাল সার্ভিসের কর্মকর্তা মাইকেল ব্ল্যাক বলেন, তাদের সংস্থা সাধারণত পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে যে দক্ষতা ও অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে, একই সক্ষমতা নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।   তবে ৭৯ শিশুর উদ্ধারের সঙ্গে কতজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএস মার্শাল সার্ভিস কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, উদ্ধার হওয়া সব শিশু যে মানব পাচারের শিকার ছিল, এমন নয়। তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি ছিল, যার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া, নির্যাতন, অবহেলা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে।   ইউএস মার্শাল সার্ভিসের হিসাবে, আগস্টজুড়ে পরিচালিত অপারেশন মেরিডিয়ানে ৭৯ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ওহাইওতে এ ধরনের একক অভিযানে সর্বোচ্চ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা শুধু একটি নিখোঁজ মামলা সমাধান নয়, বরং তাদের আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়া ঠেকানোরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   সূত্র: ইউএস মার্শাল সার্ভিস, সিবিএস নিউজ এবং ওহাইওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২৩:৭
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান জব্দের দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোজাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ দাবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওই ডুবোযানটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সরঞ্জাম ছিল না।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক চালকবিহীন ডুবোজাহাজ আটক করেছে। ইরানের দাবি, ডুবোযানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।   ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডুবোযানটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই যানটি মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারে।   অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি একবার ঘাঁটি থেকে বের হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে সক্ষম এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় নামার জন্য নকশা করা হয়েছে।   তবে ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের বক্তব্য ভিন্ন। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি ডুবো ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। সেটি আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি পুরোনো একটি মডেল ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। একই সঙ্গে এতে শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।   তবে পেন্টাগনের বক্তব্যে ডুবোযানটি কীভাবে ইরানের হাতে পৌঁছেছে বা ইরান সেটি জব্দ করেছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি। রয়টার্সও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অ্যান্ডুরিলের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করত। সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, আগের দিন যা ছিল আটটি।   হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুধু জ্বালানি পরিবহনের জন্য নয়। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এটি। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।   মার্কিন সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চালকবিহীন নৌযান ও ডুবোযানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা। এসব প্রযুক্তি প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে।   ডাইভ-এলডি সেই নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানগুলোর একটি। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপ জানিয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ-এলডির মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ডলার।   ইরানের হাতে এমন একটি মার্কিন ডুবোযান চলে যাওয়ার দাবি সত্য হলে ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান কী ধরনের সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা ও নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তা প্রতিপক্ষের হাতে গেলে সেগুলো বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় ইরান আসলে কী ধরনের ডুবোযান জব্দ করেছে এবং সেটির ভেতরের প্রযুক্তি কতটা অক্ষত রয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব হরমুজ প্রণালির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ ও তেল পরিবহনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপও হয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।   ফলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডুবোযান নিয়ে ইরানের দাবি কেবল একটি সামরিক সরঞ্জাম আটকের ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের চলমান সংঘাতে পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তারও একটি উদাহরণ। তবে ডুবোযানটির প্রকৃত অবস্থা এবং এটি কীভাবে ইরানের হাতে এসেছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন ও ইরানের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২২:৩২
আসন্ন 'মাস্ক' প্রামাণ্যচিত্রে ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গৃহযুদ্ধের আগে ‘সন্তানের বাহিনী’ গড়তে চেয়েছিলেন ইলন মাস্ক, দাবি প্রাক্তন সঙ্গীর

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, তাদের সম্পর্কের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘গৃহযুদ্ধের আগে অনেক সন্তান’ প্রয়োজন। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত নতুন তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ প্রদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।   সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, মাস্ক তাকে এ কথা একটি খুদে বার্তায় জানিয়েছিলেন। তবে তিনি ঠিক কোন অর্থে ‘গৃহযুদ্ধের’ কথা বলেছিলেন, সেটি স্পষ্ট নয়। মাস্ক সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করতেন, নাকি এমন ধারণাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সেন্ট ক্লেয়ার মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ব্যবহারের সমালোচনা করেন।   সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, এক্সে মাস্কের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলছে এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটিতে এমন বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে বড় ধরনের সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের ব্যক্তিগত মতামত ও অভিযোগ, যার সঙ্গে মাস্ক একমত কি না তা তিনি নিজে এই প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য করেননি।   অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৪ সালে মাস্কের একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রোমুলাস। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দুজনকে ঘিরে ব্যক্তিগত ও আইনি নানা আলোচনা চলছে। সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোমুলাসের একক হেফাজত চেয়ে মামলা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাস্কও সন্তানের হেফাজত নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে জানান।   সেন্ট ক্লেয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, তিনি দাবি করেছেন, মাস্কের পক্ষ থেকে তাকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির সঙ্গে এককালীন অর্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি মাসিক অর্থ দেওয়ার বিষয় ছিল। তিনি শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তিতে সই করেননি।   ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিকদের সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকার প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করেন। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের জন্য সত্য বলার সিদ্ধান্তকে তিনি আর্থিক সুবিধার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।   এর আগে জুনে ডন লেমন শো পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সেন্ট ক্লেয়ার একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম দিকে মাস্ক তাকে ১৫ লাখ ডলার বাড়ি কেনা ও সঞ্চিত মূলধনের জন্য দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তার সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে গোপনীয়তা চুক্তির বিষয়টি তোলা হয়।   তবে এই দাবিগুলোর বিষয়ে মাস্কের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়নি। সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অর্থের প্রস্তাব কিংবা ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়গুলোকে সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তিনি বর্তমানে ১৪ সন্তানের বাবা হিসেবে পরিচিত এবং চার নারীর সঙ্গে তার সন্তান রয়েছে বলে তথ্যচিত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ারের সঙ্গে তার সন্তান রোমুলাস ছাড়াও নেভাদা, ভিভিয়ান, গ্রিফিন, কাই, স্যাক্সন, ড্যামিয়ান, এক্স অ্যাশ এ-টুয়েলভ, এক্সা, স্ট্রাইডার, অ্যাজুর, টেকনো, আর্কাডিয়া এবং সেলডন লাইকর্গাসের নাম প্রকাশ্যে এসেছে।   ‘মাস্ক’ তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি। প্রায় চার ঘণ্টার এই ছবিতে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসায়িক উত্থান, টেসলা ও স্পেসএক্সসহ তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ৮ সেপ্টেম্বর ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।   তথ্যচিত্রে সেন্ট ক্লেয়ার ছাড়াও মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, তার বাবা এরল মাস্ক, প্রযুক্তি সাংবাদিক জো শিফার, টেসলার সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্টিন এবারহার্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ জিওফ্রে হিন্টনের মতো ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার রয়েছে। মাস্ক নিজে তথ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার দেননি। নির্মাতা গিবনি জানিয়েছেন, তিনি মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু মাস্ক অংশ নিতে রাজি হননি।   মাস্ক এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যচিত্রটিকে ‘হিট পিস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে গিবনি বলেছেন, তিনি মাস্কের প্রযুক্তি, ব্যবসা, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।   তথ্যচিত্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩২ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্রে এটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এবং পরে এইচবিও ম্যাক্সে দেখানো হবে।   ভেনিসে সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের পর মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং এক্স প্ল্যাটফর্মে তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গৃহযুদ্ধের আগে ‘অনেক সন্তান’ চাওয়ার বক্তব্যসহ এসব তথ্যের বড় অংশই সেন্ট ক্লেয়ারের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল। তাই মাস্কের নিজের বক্তব্য বা স্বাধীন প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, পিপল ও ভ্যারাইটি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২২:১১
নিউইয়র্কের হারলেমে একটি অনুষ্ঠানে কুরআনের কপি ছেঁড়ার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের গির্জায় আবারও কুরআন ছিঁড়লেন ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং

নিউইয়র্কের হারলেম এলাকায় একটি গির্জায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুরআনের একটি কপি ছেঁড়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন অধিকারকর্মী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটিতে জড়িত হিসেবে ডানপন্থী কর্মী জেক ল্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে।   প্রকাশিত ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের সময় ল্যাং কুরআনের একটি কপি হাতে নিয়ে সেটি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিনি মুসলিমদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্যও দেন। তবে ঘটনাটির পূর্ণ ভিডিও, অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং ল্যাংয়ের বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই এখনো সীমিত।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি গির্জায় হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের একটি গির্জার অনুষ্ঠান সম্পর্কেও অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে জেক ল্যাংয়ের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।   জেক ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন ছিলেন। পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় চার বছর হেফাজতে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির ঘটনায় অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করলে ল্যাংও মুক্তি পান।   কারাগার থেকে মুক্তির পর ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করে সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে বা অংশগ্রহণে ইসলামবিরোধী কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়েছে।   এর আগে মার্চে নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি ইসলামবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে পাল্টা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে দুটি সন্দেহজনক বিস্ফোরক ডিভাইস ছোড়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ পরে একটি ডিভাইসকে বিস্ফোরক হিসেবে শনাক্ত করে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেসি ম্যানশনের ওই সমাবেশে ল্যাংয়ের কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল নিউইয়র্কে কথিত ‘ইসলামিক দখল’ বা ইসলামায়নের বিরোধিতা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তখন ল্যাংয়ের কর্মসূচিকে বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে সমালোচনা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা বিক্ষোভে সহিংসতারও নিন্দা জানান।   সাম্প্রতিক হারলেমের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের সীমা নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ব্যাপক মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করলেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের।   বিশেষ করে ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার মতো কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন থাকে, অন্যদিকে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে হারলেমের ঘটনাটিও এই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।   তবে এখন পর্যন্ত হারলেমের ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কোনো মামলা বা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।   এদিকে জেক ল্যাংয়ের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আগস্টে মিশিগানের ডিয়ারবর্নে তার নেতৃত্বে ইসলামবিরোধী সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও সংবাদে এসেছে।   হারলেমের সর্বশেষ ঘটনাটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ ছেঁড়ার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের নতুন একটি উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তবে ঘটনার আইনগত পরিণতি বা কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।   সূত্র: মিশরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ি, সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয় এবং অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২১:৪৪
ডার্ক ওয়েবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপুলসংখ্যক রেকর্ড বিক্রির দাবি নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবিকে কেন্দ্র করে তদন্ত করছে এফবিআই। ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসে বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি বিক্রির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এ তদন্ত শুরু হয়। তবে ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের সংখ্যা এখনো সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয় এবং এটিকে ১৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রেবসঅনসিকিউরিটির প্রতিবেদনে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম নেক্সাসের বিষয়টি সামনে আসে। মার্কেটপ্লেসটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ড থাকার দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি ১ কোটির বেশি পরিচয়পত্র, ৩০ লাখের বেশি ভ্রমণ নথি বা আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র এবং অন্তত ৫ লাখ ৭৯ হাজার মেডিকেল কার্ডের রেকর্ড থাকার দাবিও করা হয়।   এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স কার্যালয় পরে ঘটনাটি তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংস্থাটি ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত পরিমাণ, উৎস বা কতজন মানুষের তথ্য এতে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।   ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, প্রকাশিত তথ্য শুধু নাম বা পরিচয় নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সামনের ও পেছনের ছবি এবং কিছু ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ও অতিবেগুনি রশ্মির মাধ্যমে ধারণ করা ছবিসহ পরিচয়পত্রের বিস্তারিত স্ক্যান থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য পরিচয় চুরি, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ধরনের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ক্রেবসঅনসিকিউরিটির অনুসন্ধানে কিছু রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানের সময় প্রতিবেদক নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ডও নেক্সাসে দেখতে পেয়েছেন। কয়েকটি রেকর্ডের স্ক্যানের সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনে পরিচয়পত্র ব্যবহারের সময়ের মিলও পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ডার্ক ওয়েবে থাকা অন্তত কিছু রেকর্ড বাস্তব এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।   তদন্তে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সভিত্তিক পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইডিস্ক্যান ডটনেটের নামও উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যবসাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সরকারি পরিচয়পত্র স্ক্যান ও যাচাইয়ের প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তবে নেক্সাসে থাকা সব তথ্যের উৎস আইডিস্ক্যান ডটনেট, এমনটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।   আইডিস্ক্যান ডটনেট জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘটনার বিষয়ে তারা তদন্ত করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অবস্থান অনুযায়ী, তাদের গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা কপি করা হয়ে থাকতে পারে কি না এবং হলে এর পরিমাণ কত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্তভাবে কতজন গ্রাহক বা ব্যক্তির তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   নেক্সাসের সাইটটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ডার্ক ওয়েব থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে থাকা তথ্যের অন্য কোনো কপি মুছে গেছে। তথ্য অন্যত্র সংরক্ষিত বা ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।   এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গাড়ি ভাড়া, ব্যাংকিং, ঋণ, চাকরি, বয়স যাচাই কিংবা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ক্যান করা হয়। ফলে এ ধরনের তথ্য চুরি হলে তা ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাইয়ের বিভিন্ন ধাপে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য এমন কোনো সরকারি তালিকা বা অনুসন্ধান ব্যবস্থা চালু হয়নি, যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না তা সরাসরি যাচাই করা যাবে। তাই নেক্সাসের ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের দাবি দেখে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে অচেনা ফোন, ইমেইল বা খুদে বার্তায় ব্যক্তিগত তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যাংকিং তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ঋণসংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন বা নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   এফবিআইয়ের তদন্ত এবং আইডিস্ক্যান ডটনেটের অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক পর্যালোচনা শেষ হলে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত উৎস, পরিমাণ এবং কতজন মানুষের তথ্য এতে জড়িত, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আপাতত ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের দাবিটি একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসের দেওয়া সংখ্যা, নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২১:১০
বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত ইসলামি শব্দ ও বাক্যাংশের অর্থ ও প্রয়োগ নিয়ে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। ছবি: সংগৃহীত
আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ নাকি মাশাআল্লাহ? কোন সময়ে কোন ইসলামি শব্দ ব্যবহার করবেন

মুসলিমদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় আরবি বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যাংশের ব্যবহার খুবই সাধারণ। তবে আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ কিংবা জাযাকাল্লাহু খাইরান, শব্দগুলোর অর্থ ও ব্যবহারের জায়গা এক নয়। অনেক সময় না জেনে একটির জায়গায় আরেকটি ব্যবহার করায় কথার অর্থও বদলে যায়। তাই দৈনন্দিন কথোপকথনে কোন পরিস্থিতিতে কোন শব্দটি ব্যবহার করা স্বাভাবিক ও যথাযথ, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।   কেউ যদি প্রশ্ন করেন, “আপনি কেমন আছেন?” তখন বর্তমান অবস্থা বা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলা যায়, “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।” আলহামদুলিল্লাহর অর্থ হলো, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।” এটি কৃতজ্ঞতা, সন্তুষ্টি ও আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইসলামি সূত্র ও প্রচলিত ব্যবহারে কারও বর্তমান অবস্থা বা দিনের খবর জানাতেও আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়।    অন্যদিকে, ইনশাআল্লাহ মূলত ভবিষ্যতের কোনো কাজ বা ঘটনার ক্ষেত্রে বলা হয়। এর অর্থ, “আল্লাহ চাইলে” বা “আল্লাহর ইচ্ছায়।” যেমন, “আগামীকাল দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ”, “আমি আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ যাব, ইনশাআল্লাহ” অথবা “আগামীকাল কাজটি শেষ করব, ইনশাআল্লাহ।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা প্রত্যাশার সঙ্গে শব্দটির ব্যবহার বেশি স্বাভাবিক।    এ কারণে কেউ যখন জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কেমন আছেন?” তখন “ইনশাআল্লাহ, ভালো আছি” বলা অর্থের দিক থেকে স্বাভাবিক উত্তর নয়। কারণ প্রশ্নটি বর্তমান অবস্থা নিয়ে, আর ইনশাআল্লাহ সাধারণত ভবিষ্যৎ কোনো বিষয় বা প্রত্যাশার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। এমন ক্ষেত্রে “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি” বলা বেশি যথাযথ।   মাশাআল্লাহ আবার অন্য ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। কারও ভালো কিছু দেখে প্রশংসা, আনন্দ বা বিস্ময় প্রকাশের ক্ষেত্রে মাশাআল্লাহ বলা হয়। এর অর্থ মোটামুটি “আল্লাহ যা চেয়েছেন” বা “আল্লাহর ইচ্ছায় এটি হয়েছে।” যেমন, কারও সন্তানকে সুন্দর ও ভালো দেখে বলা যায়, “মাশাআল্লাহ, আপনার ছেলে খুব ভালো করেছে।” কেউ নতুন বাড়ি কিনলে, কোনো সুন্দর দৃশ্য দেখলে বা কারও কোনো ভালো অর্জন দেখে প্রশংসা করতেও মাশাআল্লাহ বলা হয়।    আর কাউকে ধন্যবাদ জানানোর ক্ষেত্রে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” একটি বহুল ব্যবহৃত ইসলামি অভিব্যক্তি। এর অর্থ, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।” কেউ আপনার উপকার করলে, সাহায্য করলে বা ভালো কিছু করলে তাকে ধন্যবাদ হিসেবে এটি বলা যায়। হাদিসে এই বাক্য ব্যবহারের প্রশংসা করা হয়েছে।    তবে পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে আরবি বাক্যটির রূপে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। একজন পুরুষকে বলা হয় “জাযাকাল্লাহু খাইরান”, একজন নারীকে “জাযাকিল্লাহু খাইরান” এবং একাধিক ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে “জাযাকুমুল্লাহু খাইরান” বলা হয়। দৈনন্দিন কথাবার্তায় অনেকেই সংক্ষেপে “জাযাকাল্লাহু খাইর” বলেন, যদিও পূর্ণ রূপ “জাযাকাল্লাহু খাইরান”।   কেউ আপনার জন্য দোয়া করলে বা ভালো কোনো দোয়া শুনলে “আমিন” বলা হয়। এর অর্থ দোয়া কবুল হওয়ার আবেদন বা “হে আল্লাহ, কবুল করুন” অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ আপনাকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বললে উত্তরে “ওয়া ইইয়্যাক” বা “ওয়া ইইয়্যাকুম” বলা হয়, যার অর্থ, “আপনাকেও।”   কারও সঙ্গে দেখা হলে মুসলিমদের প্রচলিত অভিবাদন হলো “আসসালামু আলাইকুম”, যার অর্থ “আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।” এর উত্তরে বলা হয় “ওয়া আলাইকুমুস সালাম”, অর্থাৎ “আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।”   এ ছাড়া কেউ ভালো কোনো খবর দিলে বা আল্লাহর কোনো নিয়ামতের কথা বললে আলহামদুলিল্লাহ বলা যায়। কোনো সুন্দর বা প্রশংসনীয় বিষয় দেখলে মাশাআল্লাহ বলা যায়। ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা প্রকাশ করলে ইনশাআল্লাহ বলা যায়। আর কেউ উপকার করলে জাযাকাল্লাহু খাইরান বলা যায়।   সহজভাবে মনে রাখার একটি উপায় হলো, বর্তমানের জন্য আলহামদুলিল্লাহ, ভবিষ্যতের পরিকল্পনার জন্য ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু দেখে প্রশংসার জন্য মাশাআল্লাহ এবং কারও উপকারের জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান।   তবে এসব শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাউকে ভুল বলার জন্য লজ্জায় ফেলে দেওয়া উচিত নয়। অনেক মুসলিমই পারিবারিক বা সামাজিক ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দগুলো শিখেছেন এবং সব সময় আরবি অর্থ বা ব্যাকরণ জানেন না। তাই ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সময় সমালোচনার বদলে সুন্দরভাবে সঠিক ব্যবহারটি জানিয়ে দেওয়াই বেশি উপকারী।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২১:০
নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল ট্র্যাশ বিন ব্যবহারের নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে আজ থেকে নির্দিষ্ট ট্র্যাশ বিন বাধ্যতামূলক, না মানলে জরিমানা

নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসিক ভবনের ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম আজ, মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনে সাধারণ ট্র্যাশ বাইরে রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনই সামন্স জারি করে জরিমানা করতে পারবে।   নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য। যেসব বাংলাদেশি পরিবার এক বা দুই পরিবারের বাড়ির মালিক কিংবা ৯টি পর্যন্ত আবাসিক ইউনিট রয়েছে এমন ভবনের মালিক বা ম্যানেজার, তাদের ট্র্যাশ নির্ধারিত বিনে রাখতে হবে। ভবনের বাসিন্দাদের উৎপাদিত সব ট্র্যাশ রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও মালিক বা বিল্ডিং ম্যানেজারের।   ডিএসএনই জানিয়েছে, ১ জুন ২০২৬ থেকেই ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে নিয়মটি বাস্তবায়নের আগে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়। সেই সময় শেষ হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এনফোর্সমেন্ট।   জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয় ও পরবর্তী অপরাধে ২০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের জরিমানা প্রযোজ্য হবে তৃতীয় ও পরবর্তী লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে।   শুধু নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার করলেই হবে না, ট্র্যাশের বিনেরও কিছু শর্ত রয়েছে। ট্র্যাশ রাখার জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ গ্যালনের বিন ব্যবহার করতে হবে এবং বিনের ঢাকনা নিরাপদভাবে বন্ধ থাকতে হবে। বিন উপচে ট্র্যাশ বাইরে পড়ে থাকলেও জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।   বর্তমানে অফিসিয়াল NYC বিন বিভিন্ন আকারে পাওয়া যাচ্ছে। ৪৫ গ্যালনের বিন একাধিক আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ছোট একক পরিবারের বাড়ির জন্য ৩৫ গ্যালনের বিন এবং জায়গা কম থাকা বা কম ট্র্যাশ উৎপাদনকারী বাড়ির জন্য ২৫ গ্যালনের বিনও রয়েছে।   তবে রিসাইক্লিং ও কম্পোস্টের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রিসাইক্লিংয়ের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন কেনা বাধ্যতামূলক নয়। রিসাইক্লিং উপযুক্ত যেকোনো কনটেইনারে অথবা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায়। কম্পোস্টও ঢাকনাযুক্ত ও সঠিকভাবে চিহ্নিত উপযুক্ত বিনে রাখা যাবে।   নিউইয়র্ক সিটি বলছে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো রাস্তায় পড়ে থাকা কালো ট্র্যাশ ব্যাগ কমানো, জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা কমানো। নতুন NYC বিন গুলো ইঁদুর প্রতিরোধী এবং স্যানিটেশন বিভাগের নতুন যান্ত্রিক ট্র্যাশ সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   শুধু ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবন নয়, বড় ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থা চালু করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩১ বা তার বেশি আবাসিক ইউনিটের ভবনগুলোতে নির্দিষ্ট এলাকায় এম্পায়ার বিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ থেকে ৩০ ইউনিটের ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।   শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব আবাসিক ট্র্যাশকে ধীরে ধীরে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আবাসিক ভবনের মালিক, ম্যানেজার ও ভাড়াটিয়াদের জন্য নতুন ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনা নিয়ম সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২০:৪১
মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ
মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ

মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিম পরিচয় ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ তীব্র হলেও সাম্প্রতিক জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এল-সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন।   ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইদ কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। প্রাইমারিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেনসকে অল্প ব্যবধানে হারান। তার এই জয় জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নির্বাচনের আগে এল-সাইদের প্রচারণার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল।   প্রাইমারি জয়ের পর এল-সাইদকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণের বড় একটি অংশ তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে চলে আসে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এল-সাইদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এল-সাইদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবাদ ও ৯/১১ হামলার নিন্দা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেকের মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে এল-সাইদের অবস্থানও রিপাবলিকান ও প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।   এল-সাইদ ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন তিনি।   তবে এসব আক্রমণের মধ্যেও সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে এল-সাইদের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশে ছিলেন।   অন্যদিকে, বিভিন্ন জরিপে ব্যবধান এক নয়। ফক্স নিউজের আগস্টের জরিপে রজার্স ৫১ শতাংশ এবং এল-সাইদ ৪৭ শতাংশে ছিলেন। পরে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এল-সাইদ আবার এগিয়ে যান। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের সাম্প্রতিক গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থনে রয়েছেন। ফলে মিশিগানের এই লড়াই এখনো টস-আপ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   এল-সাইদের প্রচারণায় মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি দীর্ঘদিন মিশিগানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন।   অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রচারণায় এল-সাইদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাস্থ্যনীতি, করনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।   মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়। ২০২৬ সালের মিডটার্মে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। ফলে এল-সাইদ ও রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   এল-সাইদ জয়ী হলে শুধু মিশিগান থেকেই একজন নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি এবং জরিপে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৯:৩৯
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে জানান, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।   ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের আওতায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমে জড়িত নির্দিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সরকার।   ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়, বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বীকৃত সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।   লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা তৈরি করছে।   বিশেষ করে পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ দুর্বল করে দিতে পারে।   নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন বা উসকানির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।   যুক্তরাজ্য একা এই পদক্ষেপ নেয়নি। একই দিনে ফ্রান্স ও কানাডাও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ বসতি-সম্পর্কিত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।   যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত কনস্যুলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করাই নতুন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার এবং হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৯:২৩