সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্পের ৪৫ হাজার ডলারের উপহার নিয়ে প্রশ্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৪:৩৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন।

তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিরাপত্তার জন্য বাড়তি দাম দিতেও প্রস্তুত মার্কিনরা, বাড়ছে গেটেড কমিউনিটির চাহিদা
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত। ১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না। অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে।  গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৫:২৯
পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন

আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ৪৫ হাজার ডলারের উপহার নিয়ে প্রশ্ন

ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল

ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল

বেশি ছুটি নেওয়ায় গর্ভবতী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করল অ্যামাজন
বেশি ছুটি নেওয়ায় গর্ভবতী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করল অ্যামাজন, দেয়নি বাথরুমের বিরতিও

গর্ভবতী কর্মীদের প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্রের সুবিধা না দেওয়া এবং বেশি সময় ছুটি নেওয়ার অভিযোগে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা করেছেন চার সাবেক গুদামকর্মী। মামলায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজনের নীতির কারণে হাজারো গর্ভবতী কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন।    মামলাটি করা হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন এ বেটার ব্যালান্স এবং একটি নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান চার সাবেক কর্মীর পক্ষে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গর্ভবতী কর্মীদের বসার জন্য চেয়ার, অতিরিক্ত পানি ও বাথরুম ব্যবহারের বিরতি এবং গর্ভকালীন চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার সময় দেওয়ার মতো মৌলিক সুবিধা পেতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গর্ভাবস্থাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় বিরতি বা ছুটি নেওয়ার পর অনেক কর্মীর ছুটির হিসাব থেকে সময় কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে কেউ কেউ সতর্কবার্তা পাওয়ার পর চাকরি হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মীর কাছ থেকে সাধারণ গর্ভকালীন সুবিধা পাওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাগজপত্রও চাওয়া হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।    চার বাদীর একজন উইলামিনা বার্কলে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গর্ভাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থায় তাকে অ্যামাজনের রচেস্টার, নিউইয়র্কের গুদাম থেকে হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালে নিতে হয়। পরদিন তাকে চাকরি হারানোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বার্কলের দাবি, ভারী জিনিস তোলার কারণে তার তীব্র পেটব্যথা হচ্ছিল। হাসপাতাল যাওয়ার সময়কে অ্যামাজন তার বেতনবিহীন ছুটির সীমার মধ্যে হিসাব করে এবং পাঁচ দিন পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।    অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব আচরণ ফেডারেল প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্ট এবং নিউইয়র্কের শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে। ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া এই ফেডারেল আইনে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান বা সংশ্লিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় যুক্তিসংগত কর্মক্ষেত্রের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বাথরুম বিরতি, পানি পান, বসার ব্যবস্থা এবং গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ছুটিও রয়েছে।    অ্যামাজন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেছেন, অ্যামাজন প্রতি বছর হাজারো কর্মীকে গর্ভাবস্থাজনিত সুবিধা দিয়ে থাকে এবং গত এক বছরে এ ধরনের অনুরোধের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি অনুমোদন করা হয়েছে। চার বাদীর বক্তব্যে ভুল তথ্য রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বাদ পড়েছে বলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।    অ্যামাজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে গর্ভবতী কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা করে। নিউইয়র্কেও ২০২২ সালে একই ধরনের অভিযোগে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।    নতুন মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বকেয়া বেতন ও সুবিধা, ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অ্যামাজনের কর্মক্ষেত্রের নীতি পরিবর্তনের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মামলাটি আদালতে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা হিসেবে এগোবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৩:৪৮
ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা

ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা, খুনিকে খুঁজছে পুলিশ

৩০ সেপ্টেম্বর, প্রায় ২০০ বছর পর টেনেসিতে প্রথম নারীকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি

৩০ সেপ্টেম্বর, প্রায় ২০০ বছর পর টেনেসিতে প্রথম নারীকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে চাকরির বাজারে চাহিদায় এগিয়ে যেসব দক্ষতা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে চাকরির বাজারে চাহিদায় এগিয়ে যেসব দক্ষতা, জেনে নিন

আমেরিকায় ইহুদি নিরাপত্তায় বছরে ১০১ কোটি ডলার
আমেরিকায় ইহুদি নিরাপত্তায় বছরে ১০১ কোটি ডলার! এক বছরে বেড়েছে কোটি কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় বছরে ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। ইহুদি ফেডারেশনগুলোর নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিনাগগ, ইহুদি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, সামার ক্যাম্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় এই বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।   এমন সময় এই ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে, যখন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে শুরু হচ্ছে ইহুদি ধর্মীয় বর্ষপঞ্জির নতুন বছর রোশ হাশানাহ। একই দিনে ২০০১ সালের ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তিও হবে। ফলে এবারের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।    ইহুদি ফেডারেশনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২০২৫ সালে নিরাপত্তায় গড়ে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার করে খরচ হয়েছে। ২০২৪ সালে এই ব্যয়ের হিসাব ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় ২৫ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।    নিরাপত্তা ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, নজরদারি ক্যামেরা, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খরচ। এই হিসাব মূলত ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। ব্যক্তিমালিকানাধীন কোশার রেস্টুরেন্ট, বাজার বা অন্যান্য ব্যবসার নিরাপত্তা ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের মোট নিরাপত্তা ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।    নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও হুমকি বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৫ সালের এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘৃণাজনিত অপরাধের ৬০ শতাংশের বেশি ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও কম ইহুদি।    এবারের উচ্চ ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৭ কোটি ডলারের নিরাপত্তা তহবিল ঘোষণা করেছেন। প্রায় ২৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা পাবে। পাশাপাশি ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে স্টেট পুলিশের উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে।    পিটসবার্গেও রোশ হাশানাহ সামনে রেখে স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করেছে ইহুদি ফেডারেশন। প্রায় ৩০টি ইহুদি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।    নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালাতে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে।   ফলে এবারের রোশ হাশানাহ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনাস্থলের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১:৪২
বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ

ডিভি লটারি ২০২৬: বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ

নিউইয়র্কে ড্রাইভাররা সাবধান!  সামান্য ভুলেই বাড়িতে আসতে পারে টিকিট

নিউইয়র্কে ড্রাইভাররা সাবধান! সামান্য ভুলেই বাড়িতে আসতে পারে টিকিট

সন্তানরা বাড়ি ছেড়েছে, কিন্তু ‘মিস করি না’ মিশেল ওবামার মন্তব্যে তুমুল আলোচনা

সন্তানরা বাড়ি ছেড়েছে, কিন্তু ‘মিস করি না’ মিশেল ওবামার মন্তব্যে তুমুল আলোচনা

0 Comments