সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিউইয়র্কের নামের রহস্য কী? ২০০০ বছর আগের ইতিহাসে মিলবে উত্তর
নিউইয়র্কের নামের রহস্য কী? ২০০০ বছর আগের ইতিহাসে মিলবে উত্তর

আজকের নিউইয়র্ক সিটি এক বিশাল মহানগর। আকাশচুম্বী ভবন, টাইমস স্কয়ার, স্ট্যাচু অব লিবার্টি আর ব্যস্ত নগরজীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই শহরের অতীত অবশ্য অনেক পুরোনো এবং বেশ জটিল। নিউইয়র্ক নামটি কীভাবে এলো, তার পেছনে রয়েছে আদিবাসী লেনাপি জনগোষ্ঠী, ডাচ উপনিবেশ এবং পরে ইংরেজ শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস।   ইউরোপীয়দের আগমনের আগে বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে লেনাপি জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। ম্যানহাটন দ্বীপকে লেনাপিরা ‘Mannahatta’ নামে চিনত। আধুনিক গবেষণায় সেই সময়ের ম্যানহাটনকে ঘন বন, জলাভূমি, তৃণভূমি ও নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ১৬০৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ইংরেজ নাবিক হেনরি হাডসন বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে পৌঁছান। এরপর ডাচরা হাডসন নদী উপত্যকায় বাণিজ্যিক ঘাঁটি গড়ে তোলে। ১৬২৪ সালে ম্যানহাটন দ্বীপে ডাচ বসতি স্থাপন শুরু হয় এবং পরে এর নাম হয় নিউ আমস্টারডাম। নিউইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ আমস্টারডাম ছিল ডাচদের নিউ নেদারল্যান্ড উপনিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র।   তবে নিউইয়র্ক নামটি তখনও আসেনি।   ১৬৬৪ সালে ইংরেজরা ডাচদের কাছ থেকে নিউ নেদারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৮ সেপ্টেম্বর নিউ আমস্টারডাম আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং শহরটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় নিউইয়র্ক। নামটি নেওয়া হয় জেমস, ডিউক অব ইয়র্কের নামে। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই এবং নতুন দখল করা ভূখণ্ডের অধিকারও তার সঙ্গে যুক্ত ছিল।   ম্যানহাটন কেনার গল্পটিও নিউইয়র্কের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, ১৬২৬ সালে ডাচরা মাত্র ৬০ গিল্ডারের বিনিময়ে ম্যানহাটন দ্বীপ কিনেছিল, যা পরে প্রায় ২৪ ডলারের সমান বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, সেই সময়কার জমির মালিকানা, লেনাপি জনগোষ্ঠীর ধারণা এবং ডাচদের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতিকে আধুনিক অর্থে একটি সরল ‘জমি কেনাবেচা’ হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরিক্ত সরলীকরণ হয়ে যায়।   নিউইয়র্কের ইতিহাসে ডাচ অধ্যায়ের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। শহরের অন্যতম পরিচিত এলাকা ও রাস্তার নামেও সেই সময়ের ছাপ রয়েছে। এমনকি ‘Wall Street’ নামটির পেছনেও ডাচ আমলের প্রতিরক্ষা দেয়ালের ইতিহাস রয়েছে।   পরবর্তী কয়েক শতকে নিউইয়র্ক দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বাণিজ্যকেন্দ্র ও অভিবাসীদের শহরে পরিণত হয়। ১৭৮৮ সালে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।   তাই নিউইয়র্কের ইতিহাস কেবল একটি শহরের নাম বদলের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লেনাপি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ডাচ উপনিবেশ, ইংরেজ দখল এবং কয়েক শতকের নগর বিকাশ। নিউ আমস্টারডাম থেকে নিউইয়র্ক হয়ে আজকের বিশ্বনগরীতে পরিণত হওয়ার এই দীর্ঘ পথই শহরটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১:৫৪
৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহ
পড়াশোনা থেকে ২৪ বছরের বিরতি, ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহ

৫১ বছর বয়সে অবশেষে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী ২০০২ সালে এমবিবিএস শেষ করার কথা থাকলেও পড়াশোনায় ২৪ বছরের বিরতির পর ২০২৬ সালে চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় পাস করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফল ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।    হাবিবুল্লাহ ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচে ভর্তি হন। শুরুতে পড়াশোনায় ভালো করলেও একপর্যায়ে নানা জটিলতায় তিনি পিছিয়ে পড়েন। এক শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধ, জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করার অস্বস্তি এবং পারিবারিক নানা সংকট ধীরে ধীরে তার পড়াশোনায় ছেদ তৈরি করে। একসময় তিনি আর পড়াশোনায় ফিরবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।    এর সঙ্গে ছিল পারিবারিক ও আর্থিক চাপ। তাঁর বাবা আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন চিকিৎসক এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় পরিবারের দায়িত্ব ও সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই হাবিবুল্লাহর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা মারা যান ২০০০ সালে এবং মা মারা যান ২০১৬ সালে।    দীর্ঘ ২৪ বছর পর ২০২৩ সালে আবার পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন হাবিবুল্লাহ। সে সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। তাঁর সঙ্গে দেখা করে পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছার কথা জানান হাবিবুল্লাহ।   দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় ভর্তি হতে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হয়। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা নিজে দেন হাবিবুল্লাহ। বাকি টাকা জোগাড়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর কে-৫৩ ব্যাচের বন্ধু, শিক্ষক ও অন্যরা। এরপর আবার পড়াশোনা শুরু করে শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।    চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করার পর হাবিবুল্লাহ তাঁর বন্ধু ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পরও তাদের সহযোগিতা ও নিজের দৃঢ় সংকল্পই তাকে স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।   অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর মতে, হাবিবুল্লাহর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিই এই সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কেউ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়লে তাদের প্রতি শিক্ষকদের আরও মনোযোগী হওয়া এবং কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।    এখন ইন্টার্নশিপ শুরু করার অপেক্ষায় আছেন হাবিবুল্লাহ। ভবিষ্যতে সাইকিয়াট্রিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেই এই বিষয়ে এগোতে চান তিনি।   সূত্র: প্রথম আলো  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ০:৪৭
কুইন্সে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ  এনওয়াইপিডি রিক্রুটের মৃত্যু
কুইন্সে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ এনওয়াইপিডি রিক্রুটের মৃত্যু

নিউইয়র্কের কুইন্সে পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা গেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) এক রিক্রুট। সোমবার স্টিফেন ডি. ম্যাকডোনাল্ড পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্র ও পুলিশ ইউনিয়ন।   নিহত রিক্রুটের নাম কামির লুব্যারিয়া। তিনি প্রশিক্ষণরত প্রোবেশনারি পুলিশ অফিসার ছিলেন এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দিয়েছিলেন। সোমবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কলেজ পয়েন্টের পুলিশ একাডেমিতে ওয়ার্কআউটের সময় তিনি হঠাৎ পড়ে যান।   ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিপিআর দেন। কিছু সময়ের জন্য তার শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্ঞান ফিরে এসেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তাকে কুইন্সের বুথ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   এনওয়াইপিডি এক বিবৃতিতে লুব্যারিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তিনি মানুষের সেবা করা এবং নিউইয়র্ক সিটিকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো পুলিশ বিভাগ শোকাহত বলেও জানানো হয়েছে।   পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্যাট্রিক হেনড্রি বলেন, প্রশিক্ষণের সময় সহকর্মী পুলিশ অফিসারের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। তার পুলিশ ক্যারিয়ার মাত্র শুরু হলেও নিউইয়র্কবাসীকে সেবা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি ইতোমধ্যে সম্মানের দাবিদার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন হেনড্রি।   ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ হাসপাতালে যান। তবে ঠিক কী কারণে লুব্যারিয়া প্রশিক্ষণের সময় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন এবং তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ০:২২
অস্ট্রিয়ার স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের স্কুলে হিজাব বা ইসলামি রীতিতে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। আইনটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি সাংবিধানিক আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   অস্ট্রিয়ার সংশোধিত স্কুলশিক্ষা আইনের ৪৩এ ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাত্রী স্কুলে ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা আবৃত করে এমন হেডস্কার্ফ পরতে পারবে না। তবে স্কুলের বাইরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়িতে শিক্ষা এবং স্কুলের বাইরে আয়োজিত শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।   সরকারের ভাষ্য, আইনটির লক্ষ্য মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সমতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ওপর ধর্মীয় বা সামাজিক চাপ কমানো। ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও নিওসের জোট সরকার এই আইন প্রণয়ন করে। পার্লামেন্টে এটি পাস হওয়ার সময় ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টিও সমর্থন দেয়।   তবে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠন ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া বা আইজিজিও এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মতে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ তৈরি করছে এবং বিশেষভাবে মুসলিম ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা মনে করে, শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও এই পদক্ষেপ উল্টো সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   আইজিজিও জানিয়েছে, নতুন আইনের কারণে কোনো ছাত্রী বা পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তারা আইনি সহায়তা দেবে। সংগঠনটি আইনটি সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।   এর আগে অস্ট্রিয়ায় স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল। ২০২০ সালে দেশটির সাংবিধানিক আদালত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। আদালত তখন বলেছিল, ওই বিধান একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর শিশুদের আলাদাভাবে প্রভাবিত করে এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   নতুন আইন নিয়ে আইজিজিওর করা আগের দুটি আবেদনও জুলাইয়ে আদালত গ্রহণ করেনি। তবে এর কারণ ছিল আইনটি তখনো কার্যকর না হওয়া। অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত জানায়, ১ সেপ্টেম্বর আইন কার্যকর হওয়ার আগে আবেদনকারীরা সরাসরি ওই আইনের আওতায় পড়ছিলেন না। ফলে তখন তাদের আবেদন করার আইনি যোগ্যতা তৈরি হয়নি।   আইন কার্যকর হওয়ার পর স্কুলগুলোতে নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার কোনো ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে এলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তা খুলে ফেলতে বলবে এবং ছাত্রী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। পুনরায় নিয়ম ভাঙলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আরও একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একাধিকবার নিয়ম ভাঙার পর শেষ পর্যায়ে অভিভাবকের ওপর ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। জরিমানা আদায় করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের বিকল্প কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, শিক্ষকদের ওপর এমন একটি নিয়ম কার্যকর করার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদের মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে চাপ বাড়তে পারে। বিরোধী গ্রিন পার্টির রাজনীতিক সিগি মাউরারও শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানোর সমালোচনা করেছেন।   অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারকেয়ার স্বীকার করেছেন, আইনটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তার দাবি, আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক পরামর্শ করেছে।   নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ভিয়েনায় এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার হিজাব, আমার পছন্দ’। আইনটির বিরোধীরা বলছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশু ও পরিবারের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   অস্ট্রিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষ ৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের স্কুলগুলো পরবর্তী সপ্তাহে খুলছে। ফলে নতুন আইনটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জে আদালতের অবস্থান কী হয়, তা এখন নজরে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউ অ্যারা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:৫৫
পাশে ফোবানার নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির, ডান পাশে নতুন নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার। ছবি: সংগৃহীত
ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন চেয়ারম্যান জহির, নির্বাহী সচিব প্রিয়লাল

উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ফেডারেশন ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান এবং ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন।   রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বছরের জন্য ২০২৬–২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।   প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব রেজা রহিমের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোবানার নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর ও ডিউক খান।   নির্বাচনে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান, আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান, ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব, অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন।   ফোবানার নতুন নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির ফ্লোরিডার, ভাইস চেয়ারম্যান আবীর আলমগীর নিউইয়র্কের, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার ও জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ ভার্জিনিয়ার এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন হিউস্টন, টেক্সাসের প্রতিনিধিত্ব করছেন।   নতুন কমিটির পাশাপাশি নয়জনকে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দোহা সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী, বাবুল হাই এবং ড. আব্দুস সাত্তার। তারা পেনসেলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন।   এ ছাড়া ফোবানার সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে ১৭ জনকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার কানসাস সিটির রেহান রেজা এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি রয়েছেন।   এ তালিকায় আরও রয়েছেন ভার্জিনিয়ার বিএআইটিপিওর শামসুদ্দিন মাহমুদ, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ডিএমভির আক্তার হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের হাশমত মবিন, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ মেলা ইনকের তৌফিক সুলেমান খান তুহিন এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নুরুল আমিন।   এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের দিলশাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হিউস্টনের আজমল খান, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি হিউস্টনের নাদিম ভূঁইয়া, ভার্জিনিয়ার সুন্দরবনের করিম সালাউদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সায়েদুল হক এবং জর্জিয়ার বেঙ্গলি বয়েজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের রাসেল ভূঁইয়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন।   ফোবানার অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মেয়াদে রবিউল করিম বেলাল চেয়ারম্যান এবং এম. রহমান জহির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জহির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বে নতুন এক বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে।    লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনটি ফোবানার ৪০তম কনভেনশন গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।    নতুন নির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর ফোবানার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:২৫
ইসরায়েলে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ে একযোগে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সংঘাতে একাধিক ফ্রন্ট একসঙ্গে সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তেহরান হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের সমন্বয় করে একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করছে।   জেরুজালেম পোস্টের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ভবিষ্যতে তা এড়ানো। ওই হামলায় হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ চালালেও একই সময়ে ইরানপন্থি অন্যান্য গোষ্ঠী বড় পরিসরে আলাদা ফ্রন্ট খুলতে পারেনি। নতুন পরিকল্পনায় শুরু থেকেই একাধিক ফ্রন্টকে একই অভিযানের অংশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রম যেন বিচ্ছিন্নভাবে না চলে, বরং সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।   ইসরায়েলি সামরিক মূল্যায়নে এরই মধ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সমন্বয় বাড়ার কথা বলা হয়েছে। আগস্টে জেরুজালেম পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়াচ্ছে।   নতুন কৌশলের পেছনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হামাসের ওই হামলার পর হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলেও শুরুতেই হামাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়নি। ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ও হিজবুল্লাহ হামাসের ওই অভিযানের সব বিস্তারিত তথ্য বা সঠিক সময় সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিল না।   এবার তেহরান সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে আগাম সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানপন্থি এই নেটওয়ার্কে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় একযোগে তাদের সক্রিয় করা হলে ইসরায়েলের ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি হতে পারে বলে ইসরায়েলি বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও ইরানের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর ইরাক ও ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।   জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট হামলার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় এসেছে।   এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি কৌশলগত এলাকায় হিজবুল্লাহর টানেল নেটওয়ার্ক থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করে। হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।   বিশ্লেষকদের কাছে তাই ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী একই সময়ে সক্রিয় হলে সংঘাত শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।   তবে ইরান সত্যিই এমন একটি সমন্বিত হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, কিংবা এ ধরনের কোনো অভিযান বাস্তবে কবে বা কীভাবে হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:৭
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ক্যাশব্যাক ও বিভিন্ন রিওয়ার্ড সুবিধা পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
ক্রেডিট কার্ডে বছরে শত শত ডলার বেনিফিট, একাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় দেখবেন

যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কেনাকাটার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে শুধু পেমেন্টের সুবিধাই নয়, ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সাইনআপ বোনাস এবং বিভিন্ন বিশেষ অফার থেকেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন কার্ডে কী সুবিধা, কত খরচ করতে হবে, বার্ষিক ফি কত এবং সুদের হার কত, এসব হিসাব না করে শুধু বড় বোনাস দেখে কার্ড খুললে উল্টো আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে।   ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় সুবিধা হলো সাইনআপ বোনাস। অনেক কার্ডে নতুন গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করার শর্তে কয়েকশ ডলারের সমপরিমাণ ক্যাশ বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়া হয়। যেমন কোনো কার্ডে প্রথম তিন মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করলে কয়েকশ ডলারের বোনাস পাওয়া যেতে পারে।   তবে এই ধরনের অফার নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত খরচটি নিজের স্বাভাবিক বাজেটের মধ্যে আছে কি না। শুধু বোনাস পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করলে সেই বোনাসের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। আবার সব ধরনের কেনাকাটাও সাইনআপ বোনাসের জন্য নির্ধারিত খরচের মধ্যে গণনা নাও হতে পারে। তাই কার্ডের শর্তগুলো ভালোভাবে পড়া জরুরি।   ক্যাশব্যাকও ক্রেডিট কার্ডের বড় সুবিধা। কোনো কার্ডে গ্রোসারি, গ্যাস, রেস্টুরেন্ট বা নির্দিষ্ট অনলাইন কেনাকাটায় তুলনামূলক বেশি ক্যাশব্যাক দেওয়া হয়। আবার কিছু কার্ডে সব ধরনের কেনাকাটায় নির্দিষ্ট হারে ক্যাশব্যাক দেওয়া হতে পারে। তাই নিজের মাসিক খরচ কোন খাতে বেশি, সেটি আগে হিসাব করে কার্ড বেছে নিলে সুবিধা বেশি পাওয়া সম্ভব।   অনেক কার্ডে ক্যাশব্যাকের পরিবর্তে পয়েন্ট বা মাইল দেওয়া হয়। এসব পয়েন্ট পরে ট্রাভেল, হোটেল, কেনাকাটা, স্টেটমেন্ট ক্রেডিট কিংবা অন্যান্য সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে একটি পয়েন্টের প্রকৃত মূল্য কত এবং কোনভাবে ব্যবহার করলে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়, তা কার্ডভেদে আলাদা হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের রিওয়ার্ড প্রোগ্রামে অনেক সময় জটিল শর্ত থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা, পয়েন্ট ব্যবহারের নিয়ম বা রিওয়ার্ডের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো শর্তের মধ্যে থাকতে পারে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনে দেখানো বোনাসের পরিমাণ নয়, পুরো শর্ত ও নিয়ম দেখা গুরুত্বপূর্ণ।   ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্রেডিট কার্ডে কোনো বার্ষিক ফি নেই। আবার কিছু রিওয়ার্ড বা ট্রাভেল কার্ডে বছরে উল্লেখযোগ্য ফি থাকতে পারে। কোনো কার্ডে বার্ষিক ফি থাকলে ক্যাশব্যাক, পয়েন্ট, ট্রাভেল ক্রেডিটসহ মোট সুবিধা সেই ফি-এর চেয়ে বেশি কি না, সেটি হিসাব করে দেখা উচিত।   কার্ডের বার্ষিক সুদের হার বা এপিআরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্ডের বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্কের ক্যাশব্যাক বা বোনাস দেখা গেলেও বকেয়া ব্যালেন্স বহন করলে সুদের খরচ দ্রুত সেই সুবিধা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি বলছে, পুরো বিল পরিশোধ না করলে বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর সুদ দিতে হতে পারে এবং শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিয়ে চললে ঋণ পরিশোধে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।   কিছু কার্ডে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শূন্য শতাংশ প্রাথমিক এপিআর দেওয়া হয়। এ ধরনের অফার বড় কেনাকাটা বা ব্যালেন্স ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু শূন্য শতাংশ অফার কতদিন থাকবে এবং অফার শেষ হওয়ার পর সুদের হার কত হবে, তা আগে থেকেই জানা জরুরি।   এখানে শূন্য শতাংশ এপিআর এবং বিলম্বিত সুদের পার্থক্যও বুঝতে হবে। শূন্য শতাংশ এপিআর ধরনের অফারে প্রচারণামূলক সময়ের মধ্যে সাধারণত সুদ যোগ হয় না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর নিয়মিত সুদ শুরু হতে পারে। কিন্তু “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করলে সুদ নেই” ধরনের অফারে সময়সীমার মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করলে আগের সময়ের সুদও যোগ হতে পারে। ফলে বিজ্ঞাপনের ভাষা ভালোভাবে বোঝা জরুরি।   ক্রেডিট কার্ড খোলার আগে বিদেশি লেনদেনের ফিও দেখা উচিত। যারা বাংলাদেশসহ অন্য দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করেন বা বিদেশি মুদ্রায় কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য এই ফি না থাকা কার্ড বেশি উপকারী হতে পারে।   একই সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। সময়মতো বিল পরিশোধ এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট ব্যবহার করলে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে সময়মতো পেমেন্ট না করলে বিলম্ব ফি, অতিরিক্ত সুদ এবং ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   বিশেষ করে একসঙ্গে অনেকগুলো ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। নতুন কার্ডের আবেদন করলে সাধারণত ক্রেডিট রিপোর্টে অনুসন্ধানের রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সামনে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ বা অন্য কোনো বড় ঋণের আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো প্রতি মাসে সময়মতো এবং সম্ভব হলে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করা। পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে সুদ এড়ানো সম্ভব। শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে বকেয়া অর্থের ওপর সুদ জমতে থাকে এবং ক্রেডিটের প্রকৃত খরচ বেড়ে যায়।   ধরা যাক, একজন ব্যক্তি প্রতি মাসে এমন কিছু খরচ করেন যা তিনি যেকোনোভাবেই করতেন। সেই স্বাভাবিক খরচ সঠিক ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড কার্ডে করলে বছর শেষে কয়েকশ ডলারের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এর সঙ্গে উপযুক্ত সাইনআপ বোনাস যোগ হলে মোট সুবিধা আরও বাড়তে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত আয় নয় এবং সুবিধার পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে কার্ডের শর্ত, ব্যক্তির খরচের ধরন এবং কার্ড ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে।   তাই ক্রেডিট কার্ডকে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে দেখার চেয়ে নিয়মিত খরচ থেকে অতিরিক্ত বেনিফিট পাওয়ার একটি আর্থিক টুল হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। ডেবিট কার্ডে যে খরচটি স্বাভাবিকভাবেই করা হতো, সেটি সঠিক ক্রেডিট কার্ডে করে এবং প্রতি মাসে পুরো বিল পরিশোধ করতে পারলে একই খরচ থেকে ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড পাওয়া যেতে পারে।   নতুন কার্ড খোলার আগে তাই শুধু কত ডলার বোনাস দেওয়া হচ্ছে সেটি না দেখে বার্ষিক ফি, ক্যাশব্যাকের হার, সাইনআপ বোনাসের শর্ত, প্রাথমিক এপিআরের মেয়াদ, নিয়মিত সুদের হার, বিদেশি লেনদেনের ফি এবং নিজের খরচের সঙ্গে কার্ডটির সুবিধা কতটা মেলে, সবকিছু একসঙ্গে হিসাব করা উচিত।   সঠিক কার্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দৈনন্দিন খরচ থেকেই বছরে কয়েকশ ডলারের বেনিফিট পাওয়া সম্ভব। তবে বোনাসের জন্য অপ্রয়োজনীয় খরচ করা বা সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সেই সুবিধাই বড় সুদের খরচে পরিণত হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২২:৪৭
হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্যারিস কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
হিন্দু প্রতিনিধি দল আসতেই নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল, আইফেল টাওয়ারে তদন্তের নির্দেশ

প্যারিসে আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসা একটি হিন্দু ধর্মীয় দলের সফরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিনিধি দলের সফরের সময় নারী কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরে গিয়ে আড়ালে থাকতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রতিবাদে নামার পর প্যারিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আইফেল টাওয়ারে ব্যক্তিগত সফরে যায়। দলটি ভারতের হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বোচাসানওয়াসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামিনারায়ণ সংস্থা, সংক্ষেপে বিএপিএসের সঙ্গে যুক্ত। ফ্রান্সের উপকণ্ঠে সংগঠনটির একটি নতুন হিন্দু মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাদের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন।   আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন রয়টার্সকে জানান, প্রতিনিধি দলটি যাওয়ার সময় নারী কর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থল ছেড়ে দিতে বলা হয়। তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান। ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন নারী কর্মীকে তাদের পদ ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে বলা হয়েছিল। কিছু কর্মস্থলে তাদের পরিবর্তে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি সেখানে অবস্থান করার সময় নারী কর্মীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে চলাচল না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।   ঘটনার পর আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ৭ সেপ্টেম্বর কর্মীরা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মীকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে না পড়তে দেওয়ার নিশ্চয়তা চেয়ে বৈঠকে বসেন। এর ফলে সেদিন আইফেল টাওয়ারের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য টাওয়ার খোলার সময় পিছিয়ে যায়।   কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দাভোয়েন জানান, ঘটনাটি নিয়ে ব্যবস্থাপনা কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। কর্মীদের প্রতিবাদের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার দ্রুত তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, কর্মীদের ক্ষোভ সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তাদের অসন্তোষকে যৌক্তিক বলে মনে করেন। কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত সামনে আনা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, অন্যদের স্বাগত জানানো মানে নিজেদের মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া নয়। ফ্রান্সে নারীরা জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে উপস্থিত এবং তাদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বলা গ্রহণযোগ্য নয়।   তবে বিএপিএস ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিনিধি দলের আকার বড় হওয়ায় অন্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দিনের শুরুর দিকে সফরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাদের জানা অনুযায়ী, কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে এ ঘটনায় কারও কষ্ট বা অসুবিধা হয়ে থাকলে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   অন্যদিকে, আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলটির পক্ষ থেকে নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। পরবর্তী এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করে, এমন শর্ত মেনে নেওয়া উচিত ছিল না এবং তা তাদের মূল্যবোধ ও নারী-পুরুষের সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন বিএপিএসের প্রতিনিধিরা প্যারিসের উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জ এলাকায় সংগঠনটির নতুন হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর সেখানে মন্দিরটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   আইফেল টাওয়ারে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এখন শুধু কর্মীদের প্রতিবাদের বিষয় নয়, ফ্রান্সের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। প্যারিস কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হলে সফরের সময় ঠিক কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কে সেই নির্দেশ দিয়েছিল এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য সামনে আসতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২২:২১
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। ছবি: সংগৃহীত
এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্যই বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় শক্তিশালী নিশ্চয়তা দরকার।   সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিস্তৃত বক্তব্যে টুর্ক এ সতর্কতা জানান। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব শুরুর আগে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি এআই কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   টুর্ক বলেন, উন্নত এআই মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ মহলে যে উদ্বেগ রয়েছে, তিনি সেটি ভাগ করে নেন। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর নিশ্চয়তা তৈরির জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিভিন্ন সেবা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। টুর্কের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্ন।   তিনি সতর্ক করে বলেন, অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।   এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় টুর্ক এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে জড়িত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে এআই তৈরি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন।   এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে টুর্কের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রয়েছে। তিনি জুলাইয়ে আলোচিত তথাকথিত ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। ওই ঘটনায় এআই এজেন্টের একটি দল একটি উন্মুক্ত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টুর্কের দপ্তরের মতে, এ ধরনের ঘটনা উন্নত এআইয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, এআইয়ের সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন। কর্মসংস্থান, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি এবং পরিবেশের ওপর এআইয়ের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এআইয়ের উন্নয়ন যেন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   টুর্ক আগামী দিনগুলোতে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ঝুঁকিগুলো কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলেও জানান।   এআই নিয়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নত এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উচ্চঝুঁকির এআই ব্যবস্থার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছে।   ভলকার টুর্কের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি এর অপব্যবহার, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে।   এদিকে মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া একই বক্তব্যে টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে চলতি বছর প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়েও জবাবদিহির আহ্বান জানান। ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান। এসব প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২২:৪
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনে মনোনয়ন ফি হাজার হাজার ডলার, আলোচনা কমিউনিটিতে

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পদে নির্ধারিত মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলার দিতে হবে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও মনোনয়ন ফি ৫ হাজার ডলার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এবারের নির্বাচন।   বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ৩ হাজার ৫০০, ট্রেজারার ৩ হাজার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদে ২ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া একাধিক সম্পাদকীয় পদে ফি ২ হাজার ডলার এবং ছয়টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদের প্রত্যেকটির জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি নগদে জমা দিতে হবে এবং অর্থ গ্রহণের পর প্রার্থীকে অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হবে। কমিশন ও নির্বাহী কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।   বাংলাদেশ সোসাইটি নিজেদের পরিচিতিতে সংগঠনটিকে নন-পলিটিক্যাল, নন-প্রফিট ও নন-রিলিজিয়াস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ প্রকাশ্য ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ওই বছর সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের কমপেনসেশন শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। একই ফাইলিংয়ে সংগঠনটির মোট আয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ ডলার এবং ব্যয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ ডলার দেখানো হয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন ফি এর পরিমাণ নিয়ে কমিউনিটিতে মূল আলোচনা হচ্ছে, নন-প্রফিট সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের পদগুলো বেতনভুক্ত না হলে প্রার্থী হতে এত বেশি অর্থ নির্ধারণের কারণ কী এবং এই অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়।   বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতামত আসছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল ও ইমিগ্রেশন লয়ার মইন চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে সভাপতি পদে ৬ হাজার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলারের মনোনয়ন ফি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউইয়র্কের অলাভজনক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির মনোনয়ন ফি হিসেবে এই পরিমাণ অর্থ তাঁর কাছে অনৈতিক মনে হয়।   কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ তারিকুল ইসলাম মিঠুও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বছর মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর জন্য শুধু মনোনয়ন পেপারের ফি হিসেবে ৬ হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে মোট খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা নেই। একই পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন করেন, “এর মধ্যে কি মধু আছে ভাই?”   এদিকে মনোনয়ন ফি নির্ধারণের কারণ ও এ অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে আমেরিকা বাংলা থেকে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   বাংলাদেশ সোসাইটির সর্বশেষ ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংগঠনটির ১০০ শতাংশ আয় কনট্রিবিউশন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এক্সিকিউটিভ কমপেনসেশন ছিল শূন্য ডলার। সংগঠনটির ওই বছরের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৭৪ ডলার।   এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর।   মনোনয়ন ফি নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটির অনেকের আগ্রহ এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে এই অর্থের ব্যবহার ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২১:৪৩
মাদক সরবরাহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হ্যামিশ ক্রেগ লারনাখ। ছবি: সংগৃহীত
দেখতে শিশুসুলভ হওয়ায় ২০ বছর বয়সী মাদক বিক্রেতাকে কারাগারে পাঠালেন না বিচারক

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে মাদক বিক্রির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। বিচারক মনে করেছেন, তার চেহারা বয়সের তুলনায় অনেক কম বয়সী এবং কারাগারে গেলে এ কারণে তার প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ তৈরি হয়ে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, যা পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে।   দোষী সাব্যস্ত ওই তরুণের নাম হ্যামিশ ক্রেগ লারনাখ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে তদন্ত শুরু করে, কারণ এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তাকে এমডিএমএ বিক্রির প্রস্তাব দিতে দেখা যায়।   ব্রিসবেন সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে প্রসিকিউটর ম্যাডিসন থমসন জানান, এক গোপন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর লারনাখ তাকে ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কিছু বেশি মূল্যের এমডিএমএ বিক্রি করেন। পরিমাণ ছিল আট গ্রামের কিছু বেশি এবং মাদকের বিশুদ্ধতা ছিল ৭২ শতাংশ।   এর প্রায় এক মাস পর পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে আরও ১১ গ্রাম এমডিএমএ, গাঁজার ভ্যাপ, মাদক রাখার ছোট প্যাকেট এবং ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এমডিএমএর কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এবং কিছু বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।   পরে লারনাখ মাদক সরবরাহের একটি অভিযোগ এবং মাদক রাখার দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতে তার আইনজীবী ড্যানিয়েল বডিস জানান, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম তার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, ঘটনার পর লারনাখ নিজের জীবনধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন।   আইনজীবী আরও জানান, লারনাখের আগে কোনো অপরাধের ইতিহাস ছিল না। ঘটনার সময় তিনি মাদকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। তবে পরে তিনি মাদক থেকে দূরে রয়েছেন, পূর্ণকালীন চাকরি করছেন এবং পরিবারের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক সহায়তা পাচ্ছেন।   বিচারক সোরায়া রায়ান সাজা ঘোষণার সময় লারনাখের বয়স ও চেহারা নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লারনাখকে দেখতে ২০ বছরের মতো মনে হয় না। কারাগারে তার মতো দেখতে একজন তরুণের জন্য আলাদা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বিচারকের মতে, কারাগারে তার চেহারা অন্য বন্দীদের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তাই সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারাগারে থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকিটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   তবে শুধু চেহারাই সাজা স্থগিত রাখার কারণ ছিল না। আদালতে লারনাখের বয়স, অপরাধের সময় তার পরিস্থিতি, পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা, মাদক থেকে দূরে থাকার বর্তমান অবস্থান এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়।   বিচারক রায় দেওয়ার সময় এমডিএমএ ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। লারনাখ আদালতে জানিয়েছিলেন, ওই সময় তিনি নিজের মানসিক সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মাদক ব্যবহার করতেন।   মানসিক স্বাস্থ্য আদালতের বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রায়ান বলেন, তিনি নিয়মিত এমন মাদক ব্যবহারকারীদের দেখেন, যাদের মাদক গ্রহণের কারণে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে এমডিএমএ ব্যবহার কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।   শেষ পর্যন্ত লারনাখকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পুরো সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আপাতত তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না। তবে স্থগিত সাজার শর্ত ভঙ্গ করলে পরবর্তী সময়ে কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।   মামলাটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে মাদক সরবরাহের অভিযোগে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত কী ধরনের বিষয় বিবেচনা করে, সেটিও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে বিচারকের মন্তব্যে কারাগারে তরুণ বন্দীদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: ডেইলি মেইল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২১:৩২
সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের নথিপত্র দুদককে দিল এফবিআই

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব তথ্য ও নথি পাঠানো হয়েছে।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক ও মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির তথ্যের পাশাপাশি সেখানে থাকা কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।   দুদকের মানিলন্ডারিং-২ শাখার একটি চিঠিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (ওআইএ) ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রহণ করে।   ওই আবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা দম্পতির ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সম্পত্তির রেকর্ড চাওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব সম্পদের মধ্যে কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ থাকলে তা শনাক্ত, জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়।   বাংলাদেশের আবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এফবিআই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে। পরে তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং সেখানে উল্লেখ করা সম্পত্তির রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। দুদকের কাছে পাঠানো নথিগুলো একটি সিডিতে সংযুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   দুদক জানিয়েছে, এফবিআইয়ের পাঠানো তথ্য এখন চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদগুলোর মালিকানা, অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হবে।   এর আগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলা করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। ২০২৬ সালের মার্চে দুদক অর্থ পাচারের অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ওই মামলায় তার স্ত্রী রুকমিলা জামানকেও আসামি করা হয়।   এ ছাড়া ২০২৫ সালে সিআইডি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগে মামলা করার কথা জানিয়েছিল। সিআইডির তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের বিপুল সম্পত্তি থাকার তথ্যও উঠে এসেছিল বলে সে সময় জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নতুন নথি দুদকের চলমান অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে দেশটির ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এফবিআইয়ের পাঠানো তথ্য ও নথি পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদসংক্রান্ত তদন্ত ও মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২১:১৪
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমবার ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো ইরানে তৈরি নতুন একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয় এবং এর পর জাহাজটি সরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।   রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের তৈরি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল এবং জাহাজটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তিনি অবশ্য কোন জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বা ঠিক কোথায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা জানাননি।   ইরানের এই দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এর আগে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই দুটি যুদ্ধজাহাজ হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।   সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তারা তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে রেজায়ীর নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।   রেজায়ী একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান শিগগিরই প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ বা সীমিত’ নৌ চলাচল অঞ্চল ঘোষণা করবে। ওই এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এতে বিমা পাওয়া ও পরবর্তী সময়ে সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এই জলপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   এর মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে এমন একটি খসড়া প্রস্তাব তুলেছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পথ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও তথ্য দিতে এবং আইএইএ পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চাপ দেওয়া।   আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান এখনো সংস্থাটিকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক উপাদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পূর্ণ নজরদারি পুনরায় চালু করা জরুরি।   তবে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে আইএইএর পরিদর্শন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আইএইএর পারমাণবিক ইস্যুকে ব্যবহার করছে।   বাঘাই আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব পাস হলে তেহরান প্রয়োজনীয় পালটা পদক্ষেপ নেবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর তৈরি পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে পরিদর্শন পুনরায় চালুর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের তেল রপ্তানি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজকেন্দ্রিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে কি না, কিংবা কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবি স্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি আপাতত ইরানের পক্ষ থেকে করা একটি সামরিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২০:৫৬
ফ্লোরিডায় চার শিশুকে ট্রাকের ভেতর আটকে রেখে নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কিশা মনিক এপস ও ট্যামরা মার্শন স্টুয়ার্ট। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ছয় বছর চার শিশুকে আটকে রাখার অভিযোগ, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ

ফ্লোরিডায় একটি ট্রাকের কেবিনে চার শিশুকে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন ও অবহেলা করার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কেইশা মনিক ইপস, ৫১, এবং তামরা মার্শন স্টুয়ার্ট, ৩৭, এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ছিল ৫, ৫, ৬ ও ৯ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে একটি ট্রাকের কেবিনে রাখা হয়। ওই সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা বাইরে চলাফেরার সুযোগও ছিল না।   ১ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার কিসিমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উথমেয়ার বলেন, শিশুরা এমন একটি চলন্ত কারাগারে আটকে ছিল, যেখানে তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্করাই তাদের নির্যাতন করেছেন। তিনি জানান, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তার দপ্তর মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করবে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইপস পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তিনি মিয়ামি ও আটলান্টার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্টুয়ার্টকে তার বাগদত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, দুজনই শিশুদের সঙ্গে ট্রাকের কেবিনে বসবাস করতেন।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের দিনের অধিকাংশ সময় ট্রাকের ভেতরেই কাটাতে হতো। কেবিনের জায়গা ছিল অত্যন্ত ছোট। চার শিশুকে একটি মাত্র শয্যায় পাশাপাশি শুতে হতো এবং জায়গার সংকটের কারণে তাদের কুঁকড়ে থাকতে হতো বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিশুরা প্রায় পাঁচ বছর স্কুলে যেতে পারেনি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না এবং নিয়মিত চিকিৎসা বা দাঁতের চিকিৎসাও করানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া পোড়ার ক্ষত ছিল। এর মধ্যে এক মেয়ে তদন্তকারীদের জানিয়েছে, রান্না করা নুডলসের কারণে একবার সে গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। ওই সময় প্রচুর রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়নি। পরে ওই ঘটনার কারণে তার শরীরে স্থায়ী দাগ তৈরি হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এক শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া যৌনবাহিত সংক্রমণও শনাক্ত হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে শিশুদের গুরুতর শারীরিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।   শুধু শারীরিক ও চিকিৎসাগত অবহেলাই নয়, শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তর জানিয়েছে, দুই মেয়েশিশুকে স্টুয়ার্ট বছরের পর বছর যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ছেলে ওই নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পেয়ে স্টুয়ার্টকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল। এরপর তাদের মাথায় ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।   শিশুরা ইপসকে কথিত যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিল এবং তিনি ঘটনাগুলোর কিছু প্রত্যক্ষও করেছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তিনি শিশুদের স্টুয়ার্টের সঙ্গে একা রেখে যেতেন। একজন শিশুকে তিনি অপমানজনক নামেও ডেকেছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   উথমেয়ারের দপ্তরের দাবি, স্টুয়ার্ট তদন্তকারীদের কাছে একটি মেয়েশিশুর বিরুদ্ধে তিনটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।   তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, শিশুদের ট্রাকের কেবিনে এমনভাবে রাখা হতো যে তাদের নিয়মিত গোসল করা, শৌচাগার ব্যবহার করা কিংবা বাইরে গিয়ে শারীরিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজন মেটাতে কখনো কখনো তাদের কাপ ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হতো।   ইপস যখন ট্রাক চালাতেন, ঘুমাতেন বা গোসল করতেন, তখন শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব স্টুয়ার্টের ওপর থাকত বলে শিশুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে বছরের পর বছর তাদের জীবন কার্যত ট্রাকের ছোট কেবিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে তদন্তকারীদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   উথমেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দলের কাজ করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে তারা গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলেও তিনি জানান।   ইপস ও স্টুয়ার্টকে ৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুজনই ডুভাল কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। স্টুয়ার্টের আইনগত প্রতিনিধিত্ব করছে ডুভাল কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের কার্যালয়। ইপসের পক্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার অফিস অব ক্রিমিনাল কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিভিল রিজিওনাল কাউন্সেল।   ফ্লোরিডার আইনে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড চাইলেই তা কার্যকর হবে এমন নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রমাণ এবং সাজা নির্ধারণ করা হবে।   ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুদের দীর্ঘ সময় শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে।   সূত্র: ফক্স নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২০:৩৯
মামদানি একজন মুসলিম হওয়ায় তাকে ৯/১১ হামলাকারীদের সঙ্গে তুলনা করেন গিউলিয়ানি
৯/১১ স্মরণে মামদানিকে দেখে ‘অপমানিত’ গিউলিয়ানি, সাবেক মেয়রের বিস্ফোরক মন্তব্য!

নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি গিউলিয়ানি বলেছেন, ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি অংশ নেওয়ায় তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন। একই সঙ্গে মামদানিকে এ সপ্তাহের স্মরণ অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিউলিয়ানি বলেন, “সে আসছে—এটা আমাকে অপমানিত করে।” এরপর তিনি মামদানির বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী ও ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ তোলেন। মামদানি একজন মুসলিম হওয়ায় তাকে ৯/১১ হামলাকারীদের সঙ্গে তুলনা করেন গিউলিয়ানি। তার দাবি, মামদানি ও তার সমর্থিত মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নিয়ন্ত্রণে নিতে’ চায়। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, মামদানি এমন একটি আন্দোলনের সমর্থক, যে আন্দোলনের সঙ্গে ৯/১১ হামলার যোগ রয়েছে। গিউলিয়ানি বলেন, ৯/১১ হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ্য গোপন করেনি, কিন্তু মামদানি তা গোপন করার চেষ্টা করছেন। তবে তার এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এক দিন আগে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ৮২ বছর বয়সী সাবেক মেয়র বলেন, মামদানির ‘সামান্য সহানুভূতি থাকলেও’ তার স্মরণ অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, তার উপস্থিতি ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। গিউলিয়ানির বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। ডানপন্থি কয়েকজন ব্যক্তি এরই মধ্যে মামদানিকে ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো প্রায় ২৫০ পরিবারের একটি সংগঠন মামদানির অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ‘সেপ্টেম্বর ১১ ফ্যামিলিজ ফর পিসফুল টুমরোজ’ জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বেঁচে যাওয়া মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে মামদানিকে অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টার পেছনে থাকা ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বক্তব্যেরও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। ৯/১১ হামলার সময় মামদানি ছিলেন মাত্র ৯ বছরের শিশু। তিনি তখন নিউইয়র্কের আপার ওয়েস্ট সাইডে স্কুলে পড়তেন। মেয়র হওয়ার পর তিনি হামলার victims-দের স্মরণে প্রতিবছর ‘সিটিওয়াইড ডে অব রিমেমব্রেন্স অ্যান্ড সার্ভিস’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত সপ্তাহেও তিনি ৯/১১ স্মরণে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। সোমবার সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, ২৫ বছর আগে ভয়াবহ ওই হামলায় যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবার এবং হামলার সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দেওয়া উদ্ধারকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এ সপ্তাহের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। গিউলিয়ানির মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার আর কিছু যোগ করার নেই। মামদানি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তার কর্মসূচি অনুযায়ী, এ সপ্তাহে তিনি আরও কয়েকটি অনুষ্ঠান ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন। এদিকে ৯/১১ হামলার পর ‘আমেরিকার মেয়র’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া গিউলিয়ানি গত কয়েক বছরে একাধিক আইনি ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানোর ঘটনায়ও তিনি ব্যাপক বিতর্কে জড়ান। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তাকে আইন পেশা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলাতেও তাকে আইনি লড়াই করতে হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২০:১০
বাবা-মায়ের সঙ্গে নেভাল একাডেমির ক্যাডেট ডেভিড গার্সিয়া
গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে মাকে হারালেন নেভাল একাডেমির ক্যাডেট!

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েছিলেন মারিয়া রোচা-মার্টিনেজ। ভেবেছিলেন, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পথটা হয়তো এবার আরও সহজ হবে। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ঘটনায় পরিণত হয়। সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার আগেই তাকে আটক করে দেশ থেকে বহিষ্কার করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মারিয়ার ছেলে ডেভিড গার্সিয়া বর্তমানে ইউএস নেভাল একাডেমির প্রথম বর্ষের মিডশিপম্যান। চলতি গ্রীষ্মেই তিনি সামরিক দায়িত্ব শুরু করেছেন। মাকে হারানোর পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই নিজের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর পরিবারটির দুর্দশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সদস্যরাও কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জোয়াকিন কাস্ত্রো জানান, বুধবার রাতে মারিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ডেভিড ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কাস্ত্রোর ভাষ্য, মারিয়া নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি বৈধভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছিলেন। তাই সাক্ষাৎকারে গিয়ে তাকে আটক ও বহিষ্কার করার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, মারিয়াকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি বেআইনিভাবে আবার দেশটিতে প্রবেশ করেন। সরকারের দাবি, এমনভাবে পুনরায় প্রবেশ করা ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। সরকারের এই বক্তব্য অবশ্য মেনে নেননি কাস্ত্রো। তার দাবি, মারিয়া যখন বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন, তখনই তাকে আইসিই আটক করে বহিষ্কার করেছে। এক বিবৃতিতে কাস্ত্রো বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে প্রশাসন অভিযান চালালেও এর প্রভাব নিরপরাধ পরিবারগুলোর ওপরও পড়ছে। তিনি জানান, মারিয়ার মামলার বিষয়ে আইসিইর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং তাকে তার স্বামী ও ছেলে ডেভিডের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও চেষ্টা চলছে। একদিকে দেশের সেবায় নতুন জীবন শুরু করা ছেলে, অন্যদিকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত মা—মারিয়া ও ডেভিডের এই বিচ্ছিন্নতা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির মানবিক দিকটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৯:৫৩
অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে আসছে নতুন আইফোনসহ একাধিক চমক, আলোচনায় ফোল্ডেবল আইফোন
অ্যাপলের বড় চমক আসছে ৯ সেপ্টেম্বর, উন্মোচন হতে পারে ফোল্ডেবল আইফোন

নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে প্রথম বড় প্রোডাক্ট ইভেন্টে যাচ্ছে অ্যাপল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের বিশেষ অনুষ্ঠানে কোম্পানিটি নতুন আইফোনসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন। অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় প্যাসিফিক টাইমে ‘সারপ্রাইজ এন্ড সাইন ’ নামে বিশেষ ইভেন্টের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইভেন্টে ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোম্পানি এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে এবারই প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের ঘোষণা আসতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য এই ডিভাইসটির দাম প্রায় ২ হাজার ডলার হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, নতুন আইফোনটির নকশা হবে প্রচলিত আইফোনের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে এমন এই ডিভাইস খুললে বড় আকারের ডিসপ্লে পাওয়া যেতে পারে। ফোনটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আল্ট্রা’ হতে পারে বলেও প্রযুক্তি মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে নাম, দাম ও অন্যান্য স্পেসিফিকেশন এখনো অ্যাপল নিশ্চিত করেনি। ৯ সেপ্টেম্বরের ইভেন্টটি অ্যাপলের জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১ সেপ্টেম্বর টিম কুকের কাছ থেকে সিইওর দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। এর আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে নতুন সিইও হিসেবে এটি হতে যাচ্ছে তার প্রথম বড় আইফোন উন্মোচন। অ্যাপল বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সিরির উন্নয়ন এবং নতুন ধরনের হার্ডওয়্যার পণ্য নিয়ে বাজারের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে। সেই সময়ে ফোল্ডেবল আইফোন সত্যিই উন্মোচন হলে সেটি কোম্পানির স্মার্টফোন ব্যবসায় বড় ধরনের নকশাগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাংসহ একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। অ্যাপল এতদিন এই বাজারে প্রবেশ করেনি। ফলে নতুন ফোল্ডেবল আইফোন এলে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত ফোল্ডেবল আইফোনের ঘোষণা, নাম, দাম কিংবা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর অ্যাপলের সেই বিশেষ ইভেন্টের দিকে, যেখানে নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে কোম্পানির পরবর্তী বড় চমক প্রকাশের অপেক্ষা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৯:৩৩
ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা
ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, জোর করে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলানোর দাবি

ইতালির মেস্ত্রে শহরে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এ অভিযোগ করেন। তার দাবি, কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে ঘিরে ধরে গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারেন, শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং তার মোবাইল ফোনও ফেলে দেন।    বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে ছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ‘ফিজিক্যালি হ্যারাস’ করেন। তিনি বলেন, তার শরীরে হাত তোলা হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়েছে। ওই সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।  অভিনেত্রীর অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগের কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। তারা তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও আপলোড করেন বলেও দাবি করেন বাঁধন।  বাঁধন আরও অভিযোগ করেন, তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। তার দাবি, এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে অপমান ও গালাগাল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি একপর্যায়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরও দুটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন বাঁধন। ওই ভিডিওগুলোতে তাকে হেনস্তা করার ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।  বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নিয়ে তিনি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন। সিনেমাটি উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজোন্তি’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে এবং ৭ সেপ্টেম্বর এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ভেনিস উৎসবের এই বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার ঘটনা দেশটির চলচ্চিত্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  ভেনিসে বাংলাদেশের সিনেমার এই গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতির মধ্যেই বাঁধনের ওপর হেনস্তার অভিযোগ সামনে এলো। ঘটনার বিষয়ে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৯:২৫
ধর্মীয় উৎসবের মাঝেই মধ্য মেক্সিকোয় আতশবাজির ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মুহূর্তে আকাশ ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়
ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজির বিস্ফোরণ, মধ্য মেক্সিকোয় নিহত ১০, আহত ৬৪

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে একটি ধর্মীয় উৎসব চলাকালে আতশবাজির বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর একটি দেয়ালও ধসে পড়ে। শনিবার রাতে মেক্সিকো স্টেটের তেমাসকালসিঙ্গো এলাকায় নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে লা লুস গির্জার পাশে এ বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে পৃষ্ঠপোষক সন্তের সম্মানে আয়োজিত ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজছেন। আহতদের মধ্যে স্থানীয় দুই ধর্মযাজকও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার এক বিশপ। বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্তে মেক্সিকো স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। মেক্সিকোয় আতশবাজি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে ব্যাপকভাবে আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার বছর আগে দেশটির হিদালগো রাজ্যের হুয়েহুতলা এলাকায় আতশবাজির একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৮:৫৮
সিয়াটলের বেলটাউনে গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা
বেলটাউনে একদিনে তিন গুলির ঘটনা, কিশোরসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বেলটাউন এলাকায় একদিনের মধ্যে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। রোববার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের পর এলিয়ট অ্যাভিনিউ ও বেল স্ট্রিট এলাকায় গুলির খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিশোরটিকে উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির কিছুক্ষণ আগে সেখানে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কী নিয়ে ওই সংঘর্ষ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনা বা হামলার উদ্দেশ্যও জানায়নি। এর আগে রোববার ভোরে বেলটাউনের ডেনি ওয়ে ও ক্লে স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন পরে মারা যান। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক পুরুষ ও এক নারী পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে ওই ঘটনায় মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় তিনজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। একই এলাকায় এর আগে স্ট্রিট রেসিং হলেও পুলিশের দাবি, এর সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থার্ড অ্যাভিনিউ ও ব্ল্যানচার্ড স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর এক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি গাড়িটিতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, ভোরের দুটি গুলির ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাতের শেষের কিশোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনটি ঘটনায় মোট তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই এলাকায় ঘটলেও পুলিশ এগুলোকে পৃথক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তথ্য থাকলে পুলিশকে ২০৬-২৩৩-৫০০০ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৮:৪১