সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হিন্দু প্রতিনিধি দল আসতেই নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল, আইফেল টাওয়ারে তদন্তের নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২২:২১
হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্যারিস কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্যারিস কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসে আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসা একটি হিন্দু ধর্মীয় দলের সফরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিনিধি দলের সফরের সময় নারী কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরে গিয়ে আড়ালে থাকতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রতিবাদে নামার পর প্যারিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আইফেল টাওয়ারে ব্যক্তিগত সফরে যায়। দলটি ভারতের হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বোচাসানওয়াসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামিনারায়ণ সংস্থা, সংক্ষেপে বিএপিএসের সঙ্গে যুক্ত। ফ্রান্সের উপকণ্ঠে সংগঠনটির একটি নতুন হিন্দু মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাদের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন।

 

আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন রয়টার্সকে জানান, প্রতিনিধি দলটি যাওয়ার সময় নারী কর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থল ছেড়ে দিতে বলা হয়। তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন নারী কর্মীকে তাদের পদ ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে বলা হয়েছিল। কিছু কর্মস্থলে তাদের পরিবর্তে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি সেখানে অবস্থান করার সময় নারী কর্মীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে চলাচল না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

 

ঘটনার পর আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ৭ সেপ্টেম্বর কর্মীরা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মীকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে না পড়তে দেওয়ার নিশ্চয়তা চেয়ে বৈঠকে বসেন। এর ফলে সেদিন আইফেল টাওয়ারের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য টাওয়ার খোলার সময় পিছিয়ে যায়।

 

কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দাভোয়েন জানান, ঘটনাটি নিয়ে ব্যবস্থাপনা কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। কর্মীদের প্রতিবাদের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়।

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার দ্রুত তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, কর্মীদের ক্ষোভ সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তাদের অসন্তোষকে যৌক্তিক বলে মনে করেন। কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত সামনে আনা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, অন্যদের স্বাগত জানানো মানে নিজেদের মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া নয়। ফ্রান্সে নারীরা জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে উপস্থিত এবং তাদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বলা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তবে বিএপিএস ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিনিধি দলের আকার বড় হওয়ায় অন্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দিনের শুরুর দিকে সফরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাদের জানা অনুযায়ী, কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে এ ঘটনায় কারও কষ্ট বা অসুবিধা হয়ে থাকলে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

 

অন্যদিকে, আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলটির পক্ষ থেকে নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। পরবর্তী এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করে, এমন শর্ত মেনে নেওয়া উচিত ছিল না এবং তা তাদের মূল্যবোধ ও নারী-পুরুষের সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন বিএপিএসের প্রতিনিধিরা প্যারিসের উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জ এলাকায় সংগঠনটির নতুন হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর সেখানে মন্দিরটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

আইফেল টাওয়ারে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এখন শুধু কর্মীদের প্রতিবাদের বিষয় নয়, ফ্রান্সের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। প্যারিস কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হলে সফরের সময় ঠিক কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কে সেই নির্দেশ দিয়েছিল এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য সামনে আসতে পারে।

 

সূত্র: রয়টার্স


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে আর্থিক সংকটে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ সাদিক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, বিশাল পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন সাদিক

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে বড় একটি পরিবার সামলাচ্ছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। অর্থের অভাবে কোনো কোনো শিশুকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। পরিবারের সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করাই এখন তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদিকের পক্ষে সব সন্তানের নাম মনে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতে বসে কখনো কখনো সন্তানদের গুনে দেখতে হয়, কেউ বাড়িতে আছে কি না। দীর্ঘ সময়ে তার পরিবার ১৪ সন্তানকে হারিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশাল পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাকে।   সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি বিক্রি করতে পারলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই আয় দিয়ে এতজনের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন। সংসারের খরচ জোগাতে তার কয়েকজন সন্তানও কাজে নেমেছে। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।   পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনও বেশ কষ্টের। সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার রান্না হয়, আর রান্নার দায়িত্ব পালন করেন দুই স্ত্রী। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খেতে বসেন, গরমের সময়ে জড়ো হন উঠানে। ঘুমানোর ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাতে হয়।   বিবিসির প্রতিবেদনে বাড়িটির অপ্রতুল ব্যবস্থাপনার কথাও উঠে এসেছে। ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালার বদলে কোথাও কোথাও পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের জায়গাটিই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়; কখনো সেটিকে শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহার করতে হয়। এমন পরিবেশে পরিবারের সবার জন্য পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন।   এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান সাদিক। তবে শিক্ষার খরচ বহন করা তার পরিবারের জন্য বড় বাধা। তিনি পড়তে বা লিখতে পারেন না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন সাদিক এখন সরকার, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছেন, যাতে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষার সুযোগও নিশ্চিত করা যায়।   সাদিকের ভাষ্য, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি বড় পরিবার গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু সন্তানদের নাম মনে রাখা ও তাদের দেখাশোনা করা যে কঠিন, তা-ও স্বীকার করেছেন তিনি। একবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে ভুল করে এক মেয়ের বদলে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন। অনেক সময় সন্তানদের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের জন্য নির্ধারিত অর্থ জোগাড় করতে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় করতে হয়েছে।   সাদিকের পরিবারের পরিস্থিতি অল্প বয়সে বিয়ে, কৈশোরে গর্ভধারণ এবং ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। কৈশোরে গর্ভধারণ মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরপর গর্ভধারণের ফলে শারীরিক জটিলতার আশঙ্কাও বাড়তে পারে, বিশেষ করে যেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজে পাওয়া যায় না।   এখন সাদিকের প্রধান চাওয়া, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা। সীমিত আয় ও বড় পরিবারের দায়িত্বের মধ্যে তিনি আর্থিক সহায়তাকেই এই সংকট সামাল দেওয়ার অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখছেন।   সূত্র: বিবিসি, খামা প্রেস।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ২৩:১৮
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইউরোপ রাশিয়াকে হারাতে পারবে না, দাবি পুতিনের

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় ফ্রান্সে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের মধ্যে এনপিটির বাধ্যবাধকতা স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ
ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বোঝায় বাড়ছে সুদের খরচ

বিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণের এই বিশাল বোঝার সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের খরচও। সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার—সব পর্যায়েই ঋণের পরিমাণ বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। বিশেষ করে যেসব দেশের সরকারি ঋণ বেশি, সেসব দেশের জন্য বাড়তি সুদ পরিশোধ এখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।   ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। জুনের শেষ নাগাদ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির মোট উৎপাদনের তুলনায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১১ শতাংশ। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি সুদের হারও অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগে কম সুদে নেওয়া ঋণের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে ঋণ নিতে বা পুরোনো ঋণ নবায়ন করতে সরকারগুলোকে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। এতে বাজেটের বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এই চাপের সামাজিক দিকটিও সামনে এনেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন দেশে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু জায়গায় পরিস্থিতি সংঘর্ষ, দোকানপাটে লু ট পা ট ও অগ্নিসংযোগ পর্যন্ত গড়ালেও অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। ফ্রান্সে পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক সংকটও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ফ্রান্সের ঋণসংক্রান্ত পরিস্থিতি বোঝা জরুরি, কারণ দেশটির ঋণ নেওয়ার খরচ দ্রুত বেড়েছে। ২১ অক্টোবর দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। বিনিয়োগকারীরা যখন কোনো দেশের বন্ড কিনে সরকারকে ঋণ দেন, তখন তাঁরা নির্দিষ্ট সুদ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সরকারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বেশি সুদ দাবি করেন। ফলে নতুন ঋণ নেওয়া সরকারের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে সরকারি বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি এবং আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরকারি আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান কমাতে দেশটির সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে জনসেবায় ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা সরব। এই দুই বিপরীত চাপ সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকার কীভাবে ঋণ নেয় সরকার সাধারণত সরকারি বন্ড বিক্রি করে অর্থ ধার নেয়। বিনিয়োগকারীরা এসব বন্ড কিনে সরকারকে অর্থ দেন। বিনিময়ে সরকার নির্ধারিত হারে সুদ দেয় এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি সরকারি বন্ডের জন্য ১০০ ইউরো দিলে সরকার তাঁকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ দেবে। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে বছরে ২ ইউরো ৫০ সেন্ট করে, ১০ বছরে মোট ২৫ ইউরো সুদ পাওয়া যাবে। কিন্তু সুদের হার ৫ শতাংশ হলে বছরে সুদ দাঁড়াবে ৫ ইউরো, আর ১০ বছরে মোট ৫০ ইউরো। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী মূল ১০০ ইউরোও ফেরত পাবেন। অর্থাৎ, সুদের হার দ্বিগুণ হলে একই পরিমাণ ঋণের বিপরীতে সুদের ব্যয়ও দ্বিগুণ হতে পারে। সরকারের বিপুল ঋণ থাকলে এই পার্থক্য বাজেটে বড় প্রভাব ফেলে। পুরোনো ঋণ কম সুদে নেওয়া হলেও নতুন করে ঋণ নিতে গেলে বেশি সুদ দিতে হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে সরকারের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক বাড়তে থাকে। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হারকে বিনিয়োগকারীরা বিশেষ গুরুত্ব দেন। এটি একটি দেশের ঋণ নেওয়ার খরচ এবং তার আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রতি বাজারের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে বন্ডের সুদের হার শুধু ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলে। বিশ্বের মোট ঋণ বাড়লেও সব দেশের ঝুঁকি এক রকম নয়। কোনো দেশ উৎপাদন ও আয় বাড়িয়ে ঋণ সামলাতে পারে, আবার কোনো দেশের ক্ষেত্রে ঋণের সুদ পরিশোধই বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। ঋণের মেয়াদ, সুদের ধরন, সরকারের রাজস্ব আয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় উদ্বেগ হলো, সরকারগুলোকে একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধ, বাজেটের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের জনসেবার চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। সুদের ব্যয় বেড়ে গেলে নতুন স্কুল নির্মাণ, হাসপাতালের সেবা উন্নয়ন, পেনশন দেওয়া কিংবা শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের জন্য হাতে থাকা অর্থ কমে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক অসন্তোষও বাড়তে পারে। বিশ্বের ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ তাই শুধু একটি বড় সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যয়ের সক্ষমতা, পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার খরচ এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। ঋণ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং বাড়তি সুদের চাপ সামলে জনসেবায় অর্থের জোগান কীভাবে বজায় রাখা হবে, আগামী দিনে সেটিই বহু দেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৭:৫৫
মেয়ে আশুরার কোরআন মুখস্থের অর্জনের কথা জানিয়েছেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা

সন্তান ধারণ ও অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছেন নিউজিল্যান্ডের ফ্র্যাঙ্কি ও রাওয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউজিল্যান্ডে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সন্তানের জন্ম দিলেন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির অবস্থান আবারও জানালেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস

যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। বুধবার, ২১ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে তিনি ওমানিদের সৌজন্যবোধ ও সহনশীলতার কথা তুলে ধরেন। রাজা চার্লস বলেন, মহানবী (সা.) ওমানের মানুষের চরিত্র সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ওমানের মানুষের কাছে গেলে তারা কাউকে গালিগালাজ বা শারীরিকভাবে আঘাত করত না। ওমানের সুলতানের যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রানি ক্যামিলা এবং দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।       রাজা চার্লসের উদ্ধৃত হাদিসটি সহিহ মুসলিমের সাহাবিদের মর্যাদাসংক্রান্ত অধ্যায়ে ওমানের মানুষের গুণাবলি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটির বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে আরবের একটি গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হলে তিনি ফিরে এসে বিষয়টি জানান। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতেন, তাহলে তারা তাঁকে গালিগালাজ বা মারধর করত না। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে এই বাণী উল্লেখ করে ওমানের মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শান্তিপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানান।       নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ রাজা যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে ওমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চার্লসের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে ওমানের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।       ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক ১৯ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। পরদিন উইন্ডসর ক্যাসেলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। এই সফর ১৯৮২ সালের পর ওমানের কোনো সুলতানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।       সূত্র: ওমান অবজারভার

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২২:৮
বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ জাতিসংঘের

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার পথে

বিরল শারীরিক সমস্যায় মুখমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তনের শিকার চীনের শিয়া ইউয়ানহাই। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বিরল রোগে বদলে গেছে চীনা ব্যক্তির মুখমণ্ডল, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা

বাবার ঠিক করা বিয়েতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশে তরুণীকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ভারতে বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ঘুমন্ত মেয়ের মাথায় গুলি

0 Comments