ক্রেডিট কার্ডে বছরে শত শত ডলার বেনিফিট, একাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় দেখবেন
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কেনাকাটার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে শুধু পেমেন্টের সুবিধাই নয়, ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সাইনআপ বোনাস এবং বিভিন্ন বিশেষ অফার থেকেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন কার্ডে কী সুবিধা, কত খরচ করতে হবে, বার্ষিক ফি কত এবং সুদের হার কত, এসব হিসাব না করে শুধু বড় বোনাস দেখে কার্ড খুললে উল্টো আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে।
ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় সুবিধা হলো সাইনআপ বোনাস। অনেক কার্ডে নতুন গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করার শর্তে কয়েকশ ডলারের সমপরিমাণ ক্যাশ বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়া হয়। যেমন কোনো কার্ডে প্রথম তিন মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করলে কয়েকশ ডলারের বোনাস পাওয়া যেতে পারে।
তবে এই ধরনের অফার নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত খরচটি নিজের স্বাভাবিক বাজেটের মধ্যে আছে কি না। শুধু বোনাস পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করলে সেই বোনাসের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। আবার সব ধরনের কেনাকাটাও সাইনআপ বোনাসের জন্য নির্ধারিত খরচের মধ্যে গণনা নাও হতে পারে। তাই কার্ডের শর্তগুলো ভালোভাবে পড়া জরুরি।
ক্যাশব্যাকও ক্রেডিট কার্ডের বড় সুবিধা। কোনো কার্ডে গ্রোসারি, গ্যাস, রেস্টুরেন্ট বা নির্দিষ্ট অনলাইন কেনাকাটায় তুলনামূলক বেশি ক্যাশব্যাক দেওয়া হয়। আবার কিছু কার্ডে সব ধরনের কেনাকাটায় নির্দিষ্ট হারে ক্যাশব্যাক দেওয়া হতে পারে। তাই নিজের মাসিক খরচ কোন খাতে বেশি, সেটি আগে হিসাব করে কার্ড বেছে নিলে সুবিধা বেশি পাওয়া সম্ভব।
অনেক কার্ডে ক্যাশব্যাকের পরিবর্তে পয়েন্ট বা মাইল দেওয়া হয়। এসব পয়েন্ট পরে ট্রাভেল, হোটেল, কেনাকাটা, স্টেটমেন্ট ক্রেডিট কিংবা অন্যান্য সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে একটি পয়েন্টের প্রকৃত মূল্য কত এবং কোনভাবে ব্যবহার করলে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়, তা কার্ডভেদে আলাদা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের রিওয়ার্ড প্রোগ্রামে অনেক সময় জটিল শর্ত থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা, পয়েন্ট ব্যবহারের নিয়ম বা রিওয়ার্ডের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো শর্তের মধ্যে থাকতে পারে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনে দেখানো বোনাসের পরিমাণ নয়, পুরো শর্ত ও নিয়ম দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্রেডিট কার্ডে কোনো বার্ষিক ফি নেই। আবার কিছু রিওয়ার্ড বা ট্রাভেল কার্ডে বছরে উল্লেখযোগ্য ফি থাকতে পারে। কোনো কার্ডে বার্ষিক ফি থাকলে ক্যাশব্যাক, পয়েন্ট, ট্রাভেল ক্রেডিটসহ মোট সুবিধা সেই ফি-এর চেয়ে বেশি কি না, সেটি হিসাব করে দেখা উচিত।
কার্ডের বার্ষিক সুদের হার বা এপিআরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্ডের বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্কের ক্যাশব্যাক বা বোনাস দেখা গেলেও বকেয়া ব্যালেন্স বহন করলে সুদের খরচ দ্রুত সেই সুবিধা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি বলছে, পুরো বিল পরিশোধ না করলে বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর সুদ দিতে হতে পারে এবং শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিয়ে চললে ঋণ পরিশোধে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।
কিছু কার্ডে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শূন্য শতাংশ প্রাথমিক এপিআর দেওয়া হয়। এ ধরনের অফার বড় কেনাকাটা বা ব্যালেন্স ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু শূন্য শতাংশ অফার কতদিন থাকবে এবং অফার শেষ হওয়ার পর সুদের হার কত হবে, তা আগে থেকেই জানা জরুরি।
এখানে শূন্য শতাংশ এপিআর এবং বিলম্বিত সুদের পার্থক্যও বুঝতে হবে। শূন্য শতাংশ এপিআর ধরনের অফারে প্রচারণামূলক সময়ের মধ্যে সাধারণত সুদ যোগ হয় না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর নিয়মিত সুদ শুরু হতে পারে। কিন্তু “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করলে সুদ নেই” ধরনের অফারে সময়সীমার মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করলে আগের সময়ের সুদও যোগ হতে পারে। ফলে বিজ্ঞাপনের ভাষা ভালোভাবে বোঝা জরুরি।
ক্রেডিট কার্ড খোলার আগে বিদেশি লেনদেনের ফিও দেখা উচিত। যারা বাংলাদেশসহ অন্য দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করেন বা বিদেশি মুদ্রায় কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য এই ফি না থাকা কার্ড বেশি উপকারী হতে পারে।
একই সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। সময়মতো বিল পরিশোধ এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট ব্যবহার করলে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে সময়মতো পেমেন্ট না করলে বিলম্ব ফি, অতিরিক্ত সুদ এবং ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে একসঙ্গে অনেকগুলো ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। নতুন কার্ডের আবেদন করলে সাধারণত ক্রেডিট রিপোর্টে অনুসন্ধানের রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সামনে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ বা অন্য কোনো বড় ঋণের আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো প্রতি মাসে সময়মতো এবং সম্ভব হলে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করা। পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে সুদ এড়ানো সম্ভব। শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে বকেয়া অর্থের ওপর সুদ জমতে থাকে এবং ক্রেডিটের প্রকৃত খরচ বেড়ে যায়।
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি প্রতি মাসে এমন কিছু খরচ করেন যা তিনি যেকোনোভাবেই করতেন। সেই স্বাভাবিক খরচ সঠিক ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড কার্ডে করলে বছর শেষে কয়েকশ ডলারের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এর সঙ্গে উপযুক্ত সাইনআপ বোনাস যোগ হলে মোট সুবিধা আরও বাড়তে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত আয় নয় এবং সুবিধার পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে কার্ডের শর্ত, ব্যক্তির খরচের ধরন এবং কার্ড ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে।
তাই ক্রেডিট কার্ডকে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে দেখার চেয়ে নিয়মিত খরচ থেকে অতিরিক্ত বেনিফিট পাওয়ার একটি আর্থিক টুল হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। ডেবিট কার্ডে যে খরচটি স্বাভাবিকভাবেই করা হতো, সেটি সঠিক ক্রেডিট কার্ডে করে এবং প্রতি মাসে পুরো বিল পরিশোধ করতে পারলে একই খরচ থেকে ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড পাওয়া যেতে পারে।
নতুন কার্ড খোলার আগে তাই শুধু কত ডলার বোনাস দেওয়া হচ্ছে সেটি না দেখে বার্ষিক ফি, ক্যাশব্যাকের হার, সাইনআপ বোনাসের শর্ত, প্রাথমিক এপিআরের মেয়াদ, নিয়মিত সুদের হার, বিদেশি লেনদেনের ফি এবং নিজের খরচের সঙ্গে কার্ডটির সুবিধা কতটা মেলে, সবকিছু একসঙ্গে হিসাব করা উচিত।
সঠিক কার্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দৈনন্দিন খরচ থেকেই বছরে কয়েকশ ডলারের বেনিফিট পাওয়া সম্ভব। তবে বোনাসের জন্য অপ্রয়োজনীয় খরচ করা বা সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সেই সুবিধাই বড় সুদের খরচে পরিণত হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreউত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ফেডারেশন ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান এবং ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বছরের জন্য ২০২৬–২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব রেজা রহিমের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোবানার নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর ও ডিউক খান। নির্বাচনে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান, আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান, ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব, অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার নতুন নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির ফ্লোরিডার, ভাইস চেয়ারম্যান আবীর আলমগীর নিউইয়র্কের, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার ও জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ ভার্জিনিয়ার এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন হিউস্টন, টেক্সাসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন কমিটির পাশাপাশি নয়জনকে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দোহা সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী, বাবুল হাই এবং ড. আব্দুস সাত্তার। তারা পেনসেলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ ছাড়া ফোবানার সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে ১৭ জনকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার কানসাস সিটির রেহান রেজা এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি রয়েছেন। এ তালিকায় আরও রয়েছেন ভার্জিনিয়ার বিএআইটিপিওর শামসুদ্দিন মাহমুদ, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ডিএমভির আক্তার হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের হাশমত মবিন, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ মেলা ইনকের তৌফিক সুলেমান খান তুহিন এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নুরুল আমিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের দিলশাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হিউস্টনের আজমল খান, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি হিউস্টনের নাদিম ভূঁইয়া, ভার্জিনিয়ার সুন্দরবনের করিম সালাউদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সায়েদুল হক এবং জর্জিয়ার বেঙ্গলি বয়েজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের রাসেল ভূঁইয়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মেয়াদে রবিউল করিম বেলাল চেয়ারম্যান এবং এম. রহমান জহির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জহির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বে নতুন এক বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনটি ফোবানার ৪০তম কনভেনশন গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন নির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর ফোবানার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে
ক্রেডিট কার্ডে বছরে শত শত ডলার বেনিফিট, একাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় দেখবেন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনে মনোনয়ন ফি হাজার হাজার ডলার, আলোচনা কমিউনিটিতে
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের নথিপত্র দুদককে দিল এফবিআই
ফ্লোরিডায় একটি ট্রাকের কেবিনে চার শিশুকে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন ও অবহেলা করার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কেইশা মনিক ইপস, ৫১, এবং তামরা মার্শন স্টুয়ার্ট, ৩৭, এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ছিল ৫, ৫, ৬ ও ৯ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে একটি ট্রাকের কেবিনে রাখা হয়। ওই সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা বাইরে চলাফেরার সুযোগও ছিল না। ১ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার কিসিমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উথমেয়ার বলেন, শিশুরা এমন একটি চলন্ত কারাগারে আটকে ছিল, যেখানে তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্করাই তাদের নির্যাতন করেছেন। তিনি জানান, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তার দপ্তর মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ইপস পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তিনি মিয়ামি ও আটলান্টার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্টুয়ার্টকে তার বাগদত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, দুজনই শিশুদের সঙ্গে ট্রাকের কেবিনে বসবাস করতেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের দিনের অধিকাংশ সময় ট্রাকের ভেতরেই কাটাতে হতো। কেবিনের জায়গা ছিল অত্যন্ত ছোট। চার শিশুকে একটি মাত্র শয্যায় পাশাপাশি শুতে হতো এবং জায়গার সংকটের কারণে তাদের কুঁকড়ে থাকতে হতো বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুরা প্রায় পাঁচ বছর স্কুলে যেতে পারেনি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না এবং নিয়মিত চিকিৎসা বা দাঁতের চিকিৎসাও করানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া পোড়ার ক্ষত ছিল। এর মধ্যে এক মেয়ে তদন্তকারীদের জানিয়েছে, রান্না করা নুডলসের কারণে একবার সে গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। ওই সময় প্রচুর রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়নি। পরে ওই ঘটনার কারণে তার শরীরে স্থায়ী দাগ তৈরি হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এক শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া যৌনবাহিত সংক্রমণও শনাক্ত হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে শিশুদের গুরুতর শারীরিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। শুধু শারীরিক ও চিকিৎসাগত অবহেলাই নয়, শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তর জানিয়েছে, দুই মেয়েশিশুকে স্টুয়ার্ট বছরের পর বছর যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ছেলে ওই নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পেয়ে স্টুয়ার্টকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল। এরপর তাদের মাথায় ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুরা ইপসকে কথিত যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিল এবং তিনি ঘটনাগুলোর কিছু প্রত্যক্ষও করেছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তিনি শিশুদের স্টুয়ার্টের সঙ্গে একা রেখে যেতেন। একজন শিশুকে তিনি অপমানজনক নামেও ডেকেছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তরের দাবি, স্টুয়ার্ট তদন্তকারীদের কাছে একটি মেয়েশিশুর বিরুদ্ধে তিনটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, শিশুদের ট্রাকের কেবিনে এমনভাবে রাখা হতো যে তাদের নিয়মিত গোসল করা, শৌচাগার ব্যবহার করা কিংবা বাইরে গিয়ে শারীরিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজন মেটাতে কখনো কখনো তাদের কাপ ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হতো। ইপস যখন ট্রাক চালাতেন, ঘুমাতেন বা গোসল করতেন, তখন শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব স্টুয়ার্টের ওপর থাকত বলে শিশুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে বছরের পর বছর তাদের জীবন কার্যত ট্রাকের ছোট কেবিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে তদন্তকারীদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উথমেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দলের কাজ করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে তারা গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলেও তিনি জানান। ইপস ও স্টুয়ার্টকে ৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুজনই ডুভাল কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। স্টুয়ার্টের আইনগত প্রতিনিধিত্ব করছে ডুভাল কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের কার্যালয়। ইপসের পক্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার অফিস অব ক্রিমিনাল কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিভিল রিজিওনাল কাউন্সেল। ফ্লোরিডার আইনে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড চাইলেই তা কার্যকর হবে এমন নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রমাণ এবং সাজা নির্ধারণ করা হবে। ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুদের দীর্ঘ সময় শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে। সূত্র: ফক্স নিউজ
৯/১১ স্মরণে মামদানিকে দেখে ‘অপমানিত’ গিউলিয়ানি, সাবেক মেয়রের বিস্ফোরক মন্তব্য!
গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে মাকে হারালেন নেভাল একাডেমির ক্যাডেট!
অ্যাপলের বড় চমক আসছে ৯ সেপ্টেম্বর, উন্মোচন হতে পারে ফোল্ডেবল আইফোন
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বেলটাউন এলাকায় একদিনের মধ্যে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। রোববার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের পর এলিয়ট অ্যাভিনিউ ও বেল স্ট্রিট এলাকায় গুলির খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিশোরটিকে উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির কিছুক্ষণ আগে সেখানে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কী নিয়ে ওই সংঘর্ষ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনা বা হামলার উদ্দেশ্যও জানায়নি। এর আগে রোববার ভোরে বেলটাউনের ডেনি ওয়ে ও ক্লে স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন পরে মারা যান। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক পুরুষ ও এক নারী পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে ওই ঘটনায় মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় তিনজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। একই এলাকায় এর আগে স্ট্রিট রেসিং হলেও পুলিশের দাবি, এর সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থার্ড অ্যাভিনিউ ও ব্ল্যানচার্ড স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর এক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি গাড়িটিতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, ভোরের দুটি গুলির ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাতের শেষের কিশোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনটি ঘটনায় মোট তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই এলাকায় ঘটলেও পুলিশ এগুলোকে পৃথক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তথ্য থাকলে পুলিশকে ২০৬-২৩৩-৫০০০ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং-কোডিংয়ে চাকরির সুযোগ কতটা, কীভাবে এই চাকরিতে প্রবেশ করবেন?
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের এআই টিউটর, ২০ ডলারের কমে পড়বে তিন শিশু