সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
মেয়েদের আবাসিক স্কুলে ভূগোলের ক্লাসে বৈশ্বিক বাণিজ্য বোঝাতে একটি গানের ভিডিও খুঁজছিলেন শিক্ষক
ক্লাসে ভুলেই ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি ফাঁস, চাকরি হারিয়ে শিক্ষক এখন নিষিদ্ধ

ভূগোলের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে ভুল করে নিজের ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি দেখিয়ে বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের এক শিক্ষক। সার্চ তালিকায় যৌনধর্মী কিছু শব্দ শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ার পর শুরু হয় তদন্ত। শেষ পর্যন্ত চাকরি হারানোর পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকেও নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। জেমস হিন্ডসন নামের ওই শিক্ষক যুক্তরাজ্যের শপশায়ারের মোরটন হল স্কুলে পড়াতেন। মেয়েদের এই আবাসিক স্কুলে এক ভূগোলের ক্লাসে বৈশ্বিক বাণিজ্য বোঝাতে একটি গানের ভিডিও খুঁজছিলেন তিনি। কিন্তু ভিডিও সার্চ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত স্ক্রিনে ভেসে ওঠে তার আগের ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ‘টিন বিকিনি হল’ ধরনের একটি সার্চ দেখা যায়। আরও একটি সার্চ তারা ‘টিনস ইন থংস’ অথবা ‘গার্লস ইন থংস’ হিসেবে মনে রেখেছে। ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। একজন শিক্ষার্থী স্ক্রিনের ছবিও তুলে রাখে, যা পরে স্কুলের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে। হিন্ডসন স্বীকার করেন, অন্তত একটি যৌনধর্মী সার্চ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে চলে এসেছিল। তবে তার দাবি, ওই সার্চগুলো তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় করেছিলেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে। সেখানে ‘টিন’ শব্দ ব্যবহার করে করা বেশ কিছু সার্চ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, এসব সার্চের ফলাফলে অল্প পোশাক পরা কিশোর-কিশোরী কিংবা খেলাধুলা-সংক্রান্ত ভিডিও উঠে আসছিল। পাশাপাশি অনুপযুক্ত ভিডিও খোঁজার আরও একটি দীর্ঘ তালিকাও তদন্তে সামনে আসে। বিষয়টি পরে যুক্তরাজ্যের শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার আচরণবিষয়ক প্যানেলের সামনে যায়। প্যানেল জানায়, সার্চগুলো দীর্ঘ সময় ধরে করা হয়েছিল এবং বেশ কয়েকটির মধ্যে যৌনধর্মী বিষয়ের স্পষ্ট মিল ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের কোনো নির্দোষ ব্যাখ্যাও তারা খুঁজে পায়নি। প্যানেলের মতে, প্রমাণের ভিত্তিতে হিন্ডসনের আচরণ যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যে পেশাগত মানদণ্ড মেনে চলতে হয়, তিনি তার কয়েকটি লঙ্ঘন করেছেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হিন্ডসনকে নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। পুরো ঘটনাটি তাদের জন্য বিব্রতকর ছিল বলেও উল্লেখ করেছে প্যানেল। তবে তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছিল, হিন্ডসনের আচরণ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কোনো শিশুর অশালীন ছবি বা ভিডিও তিনি দেখেছেন—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তারপরও পেশাগত আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে হিন্ডসনকে দায়ী করা হয়। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভূগোলের ক্লাসে বিশ্ববাণিজ্যের একটি ভিডিও খুঁজতে গিয়ে নিজের ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রিই শেষ পর্যন্ত তার শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে দিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৮:২৪
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ে ক্যারিয়ারের সুযোগ
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং-কোডিংয়ে চাকরির সুযোগ কতটা, কীভাবে এই চাকরিতে প্রবেশ করবেন?

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের মধ্যে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং পেশা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে এই খাতে কাজ শুরু করার সুযোগ থাকায় বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের কাছে পেশাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মেডিকেল কোডিংয়ের কাজে রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট কোডে রূপান্তর করা হয়। আর মেডিকেল বিলিংয়ের সঙ্গে যুক্তরা রোগীর বীমা যাচাই, চিকিৎসা ব্যয়ের দাবি তৈরি ও পাঠানো, অর্থ পরিশোধের হিসাব এবং বীমা কোম্পানির কাছে আটকে থাকা দাবির বিষয়ে কাজ করেন। হাসপাতাল, চিকিৎসকের কার্যালয়, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব কর্মীর প্রয়োজন হয়। এই পেশায় প্রশিক্ষণ শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্সের ধরন অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত সংগঠন এএপিসির তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের যৌথ প্রশিক্ষণ এক বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। তাদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রায় আট মাসে শেষ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পেশাদার মেডিকেল কোডার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মেয়াদ পাঁচ মাস। অনলাইনেও এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কোর্সের টিউশন ফি ২ হাজার ৭০০ ডলার। তবে বই ও জাতীয় পরীক্ষার ফি আলাদা। নিউইয়র্কের সিটি কলেজেও মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের অনলাইন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মোট ১৭৫ ঘণ্টার সরাসরি ক্লাস নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৫ ঘণ্টায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিলিং, বীমা দাবি ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেখানো হয়। বাকি ৯০ ঘণ্টায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন কোড ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই কোর্সটি পেশাগত সার্টিফিকেশন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্কের আশপাশে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং শেখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রঙ্কসের লেহম্যান কলেজ, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কলেজ অব স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এবং নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোথাও অনলাইনে, আবার কোথাও সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কোর্স শেষ করলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পেশাগত সার্টিফিকেশন অর্জন, কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিলিং ও কোডিংয়ের বাস্তব জ্ঞান চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর কেউ কেউ কয়েক মাসের মধ্যেই এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে চাকরি পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ব্যক্তি, দক্ষতা ও চাকরির বাজারের ওপর নির্ভর করে। বেতনের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেশনের পার্থক্য রয়েছে। এএপিসির ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে মেডিকেল কোডার, বিলার, নিরীক্ষকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৪২৬ ডলার। তবে শূন্য থেকে এক বছরের অভিজ্ঞতায় গড় আয় প্রায় ৪৯ হাজার ৫২৪ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য ও চিকিৎসা নথি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৫১ হাজার ১৪০ ডলার। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ধরনের চাকরির সংখ্যা ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ, নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রবেশের একটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাথমিক চাকরির জন্য প্রস্তুত হওয়া সম্ভব হলেও ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে প্রশিক্ষণের মান, পেশাগত সার্টিফিকেশন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে প্রশিক্ষণের মেয়াদ, খরচ, সার্টিফিকেশন প্রস্তুতি এবং চাকরির সহায়তা সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:৫৪
নিউইয়র্কের কুইন্সে ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এআই কনফারেন্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত ও পরিমার্জিত
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের এআই টিউটর, ২০ ডলারের কমে পড়বে তিন শিশু

মাসে ২০ ডলারেরও কম খরচে তিন শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে নিউইয়র্কের কুইন্সভিত্তিক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, একটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে তিনজন শিশু এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারবে। গত ৩০ আগস্ট কুইন্সের জামাইকায় আয়োজিত ‘এআই কনফারেন্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬’-এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআইভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম টিউটরমিগো এআইসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সেবা তুলে ধরে। সম্মেলনে শিশু, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিশুদের সরাসরি এআই ব্যবহারের একটি লাইভ প্রদর্শনীও করা হয়। সেখানে শিশুরা টিউটরমিগো এআই ব্যবহার করে প্রশ্ন করা, বিভিন্ন বিষয় বোঝা, কুইজ দেওয়া এবং অনুশীলনের পদ্ধতি দেখায়। এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে শেখার এই পদ্ধতি উপস্থিতদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, টিউটরমিগো এআই শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিতে পারে। এতে প্রশ্নোত্তর, কুইজ ও অনুশীলনের পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য একটি ড্যাশবোর্ড রয়েছে। এর মাধ্যমে সন্তানের শেখার কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখা যাবে। বর্তমানে গ্রোথ সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ১৯ দশমিক ৯৯ ডলার। এই প্যাকেজে টিউটরমিগো এআই ও চ্যাটারমেট এআই—দুটিই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একটি সাবস্ক্রিপশনে তিনজন শিশু এক বছর পর্যন্ত শেখার সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু শিশুদের জন্য নয়, বড়রাও টিউটরমিগো ব্যবহার করতে পারবেন। আইইএলটিএস, টোফেল, জিআরই ও জিম্যাটসহ বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও এটি ব্যবহার করা যাবে। আরও বেশি সুবিধার জন্য প্রো সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ৪৯ দশমিক ৯৯ ডলার। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের আরেকটি পণ্য চ্যাটারমেট এআই। এটি একাধিক এআই মডেল একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। প্ল্যাটফর্মটিতে ওপেনএআই, ক্লড, জেমিনি ও গ্রকসহ বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ ও বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি টুলও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ভূঁইয়া সম্মেলনে এসব পণ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও এআইভিত্তিক পণ্য তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘ফোর্জ আইডিই’ নামে একটি নতুন পণ্যও রয়েছে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই বলছে, শিক্ষা, ব্যক্তিগত দক্ষতা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনে এআইকে আরও সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখার ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহারিক সম্ভাবনা তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:৪৪
ক্যালিফোর্নিয়ার এই ব্যক্তি নিজের উঠোনে নানা ধরনের ফল ও সবজি চাষ করেন
উঠোনে সবজি চাষ করেই বিপাকে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যক্তি, গুনছেন একের পর এক জরিমানা!

নিজের বাড়ির সামনের উঠোনে ফল-সবজির বাগান করেই বিপাকে পড়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার চাইনো শহরের বাসিন্দা মাইকেল শেরম্যান। শখের বাগানটি এখন তার জন্য রীতিমতো জরিমানার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা’র অভিযোগে এরই মধ্যে তাকে ৭৫০ ও ৫০০ ডলারের দুটি জরিমানা করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। এবারও নিয়ম না মানলে আরও ৫০০ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারেন তিনি।   ৪৯ বছর বয়সী শেরম্যান পেশায় ল্যান্ডস্কেপ ঠিকাদার। ২০১৯ সালে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ থেকে বাড়ির সামনের লনে সবজি ও ফলের গাছ লাগানো শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর পর সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে বেশ বড়সড় বাগানে। তার বাগানে এখন মিষ্টি আলু, স্কোয়াশ, আদা, হলুদ, হর্সর‍্যাডিশ, কলা, আখ, বরই, পিচ, ব্লুবেরি, প্যাশনফ্রুটসহ নানা ধরনের ফল ও সবজি জন্মে। এমনকি ঔষধি গুণের কথা উল্লেখ করে তিনি ইচ্ছা করেই ড্যান্ডেলিয়নও চাষ করেন। শেরম্যানের দাবি, অধিকাংশ প্রতিবেশীই তার বাগান পছন্দ করেন। তবে পাশের একজন প্রতিবেশীর অভিযোগ থেকেই শহরের এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তার ধারণা। যদিও এক প্রতিবেশী সিবিএস লস অ্যাঞ্জেলেসকে জানিয়েছেন, বাগানটি সবসময় ঠিকমতো ছাঁটাই করা হয় না এবং সেখানে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে। শেরম্যান অবশ্য বলছেন, তার জমিতে অতীতে ইঁদুরের সমস্যা থাকলেও কয়েক বছর ধরে তা নেই। তার মতে, বাড়ির পাশে শুধু খালি মাটি থাকলেও ইঁদুরের সমস্যা তৈরি হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে শেরম্যানের আরেকটি আপত্তি হলো—ঠিক কোন গাছগুলো সমস্যা তৈরি করছে, তা তাকে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না। তার ভাষ্য, স্কোয়াশের মতো অনেক গাছই মৌসুমি; এগুলো স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফুল দেয় এবং এক বছরের মধ্যেই মারা যায়। চাইনো শহরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাগান নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে বাকি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা ছাঁটাই বা সরিয়ে না ফেলা পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি বহাল থাকবে। শেরম্যানের বক্তব্য, নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন খাবার নিশ্চিত করতেই তিনি বাড়িতে চাষাবাদ করছেন। বাজারের খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তার আস্থা নেই। তাই নিজের হাতে যতটা সম্ভব নিরাপদ খাবার উৎপাদন করতে চান তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:২৩
নিখোঁজ মায়ের সন্ধানে ক্যাডাভার কুকুর নিয়ে চলছে তল্লাশি
শেষ ফোনকলের পর উধাও মা, এবার জঙ্গলে শুরু হলো মরিয়া তল্লাশি

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ৩৬ বছর বয়সী এক মাকে খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। রোববার ডোনেলসন এলাকার কয়েকটি স্থানে সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে তল্লাশিতে অংশ নেন তারা। সঙ্গে ছিল প্রশিক্ষিত একটি ক্যাডাভার কুকুর।   নিখোঁজ ওই নারীর নাম কোর্টনি রিস। গত ১৮ আগস্ট লেবানন পাইকের একটি লন্ড্রোম্যাটে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেদিন দুপুর ১টার দিকে তার মামা তাকে ‘লোডস অব ক্লোদস’ লন্ড্রোম্যাটে নামিয়ে দিয়ে যান।   রোববার স্বেচ্ছাসেবীরা ম্যাকলিনস বেন্ড ও ম্যাকগ্যাভক হাইস্কুলের কাছাকাছি ঘন জঙ্গলে পায়ে হেঁটে তল্লাশি চালান। লেবানন পাইকের পাশের একটি এলাকাতেও ক্যাডাভার কুকুর নিয়ে খোঁজ করা হয়। ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পাওয়ার বিষয়ে একটি তথ্য পাওয়ার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে পরে ধারণা করা হয়, গন্ধটি কোনো প্রাণীর কারণে হয়ে থাকতে পারে।   তল্লাশিতে রিসের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা আলামত পাওয়া যায়নি। স্বেচ্ছাসেবী অনুসন্ধান দলের নেতা ও প্রশিক্ষিত ভিকটিম অ্যাডভোকেট জুলস থর্প জানান, তারা অনেকটা এলাকা খুঁজেছেন। কোথাও যেন অনধিকার প্রবেশ না করা হয় এবং কোনো কিছু পাওয়া গেলে সেটি যেন কেউ স্পর্শ না করেন—স্বেচ্ছাসেবীদের সেভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   তল্লাশি দলের সদস্যরা যেসব এলাকায় খোঁজ করেছেন, সেগুলোর তথ্যও সংরক্ষণ করেছেন, যাতে প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তা শেয়ার করা যায়।   রিসের মা বনি অলিভার জানান, লন্ড্রোম্যাটে কাপড় ধোয়ার সময় নজরদারি ক্যামেরায় তার মেয়েকে দেখা যায়। পরে তিনি লাল টি-শার্ট ও জিনসের শর্টস পরেন এবং রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে যান। এরপর একটি ডমিনোজ পিজার দোকানের কাছে গিয়ে ক্যামেরার দৃশ্য থেকে তিনি অদৃশ্য হয়ে যান।   সেদিন বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে রিস তার মাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তখন অলিভার যেতে পারেননি। সেটিই ছিল মেয়ের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ।   মেয়েকে না আনতে পারার বিষয়টি নিয়ে নিজের অনুশোচনার কথাও জানিয়েছেন অলিভার। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মেয়ের ফোনে কল করেন এবং অপেক্ষা করেন কখন সে ফিরে আসবে।   রিসের তিন মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা তার দেখাশোনা করছেন। অলিভার জানান, শিশুটি সুস্থ আছে এবং তার ওজনও বাড়ছে।   পরিবারের দাবি, সন্তানকে রেখে রিস স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মতো মানুষ নন। সন্তান জন্মের আগে তিনি তিনবার গর্ভপাতের শিকার হয়েছিলেন এবং ২৩ মে নিজের জন্মদিনে ছেলের জন্ম দেন।   অলিভার বলেন, 'তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে। সে তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসে, তা আমি নিশ্চিতভাবে জানি।'   রিসের চুল কালো ও চোখ নীল। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল লাল টি-শার্ট ও জিনসের শর্টস।   তার সন্ধান দিতে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ২ হাজার ৫০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। রিসকে কেউ দেখে থাকলে বা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ন্যাশভিল মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৬:৫১
খেজুরপাতার বদলে এবার তীরের দিকে ঈগল—যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতীকে আসছে ‘যুদ্ধের’ বার্তা
শান্তির প্রতীক সরিয়ে যুদ্ধের বার্তা, বদলে যাচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সিল

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাদের সরকারি সিল বা প্রতীক পরিবর্তন করছে। নতুন প্রতীকে ঈগলকে শান্তির প্রতীক খেজুরপাতার বদলে যুদ্ধের প্রতীক তীরের দিকে মুখ করে দেখানো হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করছে—এই বাস্তবতাই নতুন প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। প্রচলিত ডিএইচএসের সিলে ঈগলের এক নখরে খেজুরপাতা এবং অন্য নখরে তীরের গোছা রয়েছে। বর্তমানে ঈগল খেজুরপাতার দিকে মুখ করে আছে, যা শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সিলে ঈগলকে তীরের দিকে মুখ করানো হবে। মুলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তীরের দিকে মুখ করা ঈগল যুদ্ধাবস্থার প্রতীক। ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে মুলিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিনই দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় বিভিন্ন হুমকির মোকাবিলা করছে। মুলিনের মতে, সন্ত্রাসবাদ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি। তবে হুমকির ধরন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মাদক কারবারিদের মধ্যে সহযোগিতাও বাড়ছে। তিনি বিশেষভাবে মেক্সিকান মাদক কার্টেল, ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং ফেন্টানিলের বিস্তারের কথা উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বলেও জানান তিনি। মুলিন বলেন, নিরাপত্তার হুমকি এখন শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনে সহজেই কেনা যায় এমন সাধারণ ড্রোন ব্যবহার করেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—সব দিকের হুমকিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন মুলিন। তার দাবি, ইরান, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়াসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত। প্রতি সপ্তাহে শত শত হাজার সাইবার হামলার ঘটনা মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আসন্ন নির্বাচনী মৌসুমে রাজনৈতিক প্রার্থী ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক করেন মুলিন। তার মতে, ভিন্ন রাজনৈতিক মত থাকা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে মতপার্থক্যকে সহিংসতার মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা হলে তা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। মুলিন বলেন, প্রতিদিন নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলোর ধরনও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই সন্ত্রাস, অপরাধ ও সাইবার হামলা মোকাবিলায় ডিএইচএসকেও নিয়মিত কৌশল পরিবর্তন করে এগোতে হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৬:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন সম্ভাবনা—বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, বদলাচ্ছে কাজের ধরন
আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ লাখ নতুন চাকরি, সবচেয়ে বেশি সুযোগ স্বাস্থ্যসেবায়

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৬:১৩
বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়
বিয়ের চার মাস না যেতেই ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হলো গাজার নবদম্পতির স্বপ্নের ঘর

গাজার জেইতুন এলাকায় নিজেদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী নেভিন আবু হাতাব ও তার স্বামী মোহাম্মদ। বিয়ের চার মাসও পূর্ণ হয়নি তাদের। যুদ্ধের মধ্যেই অল্প সামর্থ্যে নতুন সংসার গুছিয়ে স্থিতিশীল জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা।   হঠাৎ মধ্যরাতে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় দুজনের। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পান শুধু একটি ব্যক্তিগত ব্যাগ ও কাজের একটি ল্যাপটপ।   বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ধ্বংস হয়ে যায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টসহ পুরো ভবন।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন নেভিন। সেই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার ভাষায়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জীবনের সবকিছু হারিয়ে গেছে।   যুদ্ধের কারণে আগেই তাদের বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলেও নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিন পাননি তারা। সীমিত সম্পদের মধ্যেই ঘর সাজিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন এই দম্পতি।   এদিকে গাজায় হামলা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক রাতের হামলায় হামাসের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।   ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হামাসের কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে তাদের দাবি।   অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল সব ধরনের হামলা বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।   যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে গাজায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগও অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৫:৩৯
শেয়ারবাজারে বিপুল অর্থ আয়ের দাবি ট্রাম্পের
ট্রাম্পের দাবি, ‘দেশের জন্য’ শেয়ারবাজারে কামিয়েছেন শত শত বিলিয়ন ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শেয়ারবাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘শত শত বিলিয়ন ডলার’ আয় করেছেন। নিজের জন্য নয়, দেশের স্বার্থেই এসব করেছেন বলে দাবি তার। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো বিস্তারিত হিসাব বা প্রমাণ দেননি তিনি। রোববার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট করেন ট্রাম্প। এর মধ্যে একটি পোস্টে তাকে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসে শেয়ারবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। সামনে থাকা কয়েকটি মনিটরে বিভিন্ন শেয়ারের তথ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে ইন্টেলের শেয়ারের দাম বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ছবিটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি এসব করছেন ‘দেশের জন্য, নিজের জন্য নয়’। একই সঙ্গে তার সমালোচনার জন্য ডেমোক্র্যাটদেরও আক্রমণ করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে তার প্রকাশ্য আর্থিক তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এদিকে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে তার বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৩ হাজার ৬০০টিরও বেশি শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ট্রাম্পের পোস্টে ইন্টেলকে বিশেষভাবে তুলে ধরার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইন্টেলের ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের শেয়ার কেনেন। মার্চেও কয়েক দফায় কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও ইন্টেলে প্রায় ১০ শতাংশ মালিকানা নেয়। তবে ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারের কোম্পানিটির পরিচালনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়নি। নিজের বিপুল সম্পদ নিয়ে এর আগেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই তার অর্থ বিনিয়োগ করে। তিনি তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন না এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেও হস্তক্ষেপ করেন না। ট্রাম্পের সম্পদ বৃদ্ধিকে ঘিরে তার রাজনৈতিক বিরোধীরা অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেয়ারবাজারের পোস্টের পাশাপাশি সপ্তাহান্তে ট্রাম্প আরও বেশ কিছু মিম ও এআই-তৈরি ছবি প্রকাশ করেন। কয়েকটিতে তাকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দেখা যায়। আবার কিছু ছবিতে তাকে বিশাল রোবটের পাশে এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে কল্পিত দৃশ্যে দেখানো হয়। এ ছাড়া অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোকে নিয়ে ট্রাম্পের পুরোনো বিরোধও তার পোস্টে উঠে আসে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে হকি খেলছেন—এমন একটি কল্পিত ছবিও শেয়ার করেন তিনি। এমনকি নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ করার কথাও মজার ছলে তুলে ধরেন। সপ্তাহান্তের পোস্টের শেষদিকে ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিনের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে লেখক ভিক্টর ডেভিস হ্যানসনের নতুন বই দ্য কাউন্টার রেভল্যুশন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বইটির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, লেখক তাকে সম্ভবত তার নিজের চেয়েও ভালো বোঝেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৫:১৪
১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে মানবসেবায় অর্ধেকের বেশি দান করলেন ফ্রান্সেস কনলি
১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে বদলে গেল জীবন, অর্ধেকই বিলিয়ে দিলেন এই নারী!

ইউরোমিলিয়ন্স লটারিতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জিতে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন ফ্রান্সেস কনলি। কিন্তু সেই অর্থ নিজের বিলাসী জীবনযাপনে খরচ না করে সম্পদের প্রায় অর্ধেকই দান করে দিয়েছেন তিনি ও তার স্বামী। স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নীরবে এই অর্থ ব্যয় করছেন তারা। ২০১৯ সালে সাবেক সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা ফ্রান্সেস কনলি এবং তার স্বামী প্যাডি ইউরোমিলিয়ন্সের বিশাল জ্যাকপট জেতেন। ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের সেই অর্থ তৎকালীন ও বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকার সমান। লটারি জেতার পর প্রথমেই সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি। এরপর বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করতে শুরু করেন তারা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা দান করেছেন ফ্রান্সেস ও প্যাডি। মানবসেবার কাজ আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য তারা একটি দাতব্য ট্রাস্টও গঠন করেছেন। ফ্রান্সেস জানান, সমাজসেবায় অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে খ্যাতনামা মার্কিন সংগীতশিল্পী ও সমাজসেবক ডলি পার্টনের কাজ তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার পরও জীবনযাপনে খুব একটা পরিবর্তন আনেননি ফ্রান্সেস ও তার স্বামী। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে নিজেদের বাড়িতে সাদামাটাভাবেই থাকেন তারা। প্রশস্ত বাড়ি ও আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করলেও অপ্রয়োজনীয় খরচ বা অর্থের অপচয় এড়িয়ে চলেন। এমনকি নতুন করে দামি গাড়ি বা ঘড়ি কেনার পরিবর্তে ভালো মানের ব্যবহৃত বিলাসবহুল সামগ্রী কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা। কেন এত বড় অঙ্কের অর্থ দান করছেন—এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফ্রান্সেস। তার মতে, মানুষ জীবনে কী চায়, তার ওপর অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করে। কেউ যদি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হওয়া কিংবা ক্ষমতাবানদের প্রভাবিত করাকে লক্ষ্য হিসেবে নেন, তাহলে অর্থ নিজের কাছেই জমিয়ে রাখতে পারেন। তবে ফ্রান্সেসের বিশ্বাস, নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকলে তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি। লটারি জেতার সময় তার বয়স ছিল ৫০-এর কোঠায়। সন্তানদের সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পর এত বিপুল অর্থ নিজের কাছে জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ দেখেননি তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফ্রান্সেস ১৯৯০ সালে কাজের সূত্রে ইংল্যান্ডের হার্টলপুলে চলে যান। এরপর ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। ফ্রান্সেসের ভাষায়, নিজের অর্জিত বা পাওয়া সম্পদ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তার জন্য ‘পরম সৌভাগ্যের’ বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:৫৮
নারীদের জন্য চালু করা পিংক বাস সার্ভিসের বহরে থাকা বাসগুলো
মেয়াদ পেরোনো বাসে পিংক সার্ভিস, মাসে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ টাকা লোকসান

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের জন্য চালু করা ‘পিংক বাস সার্ভিস’ শুরুতেই নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সার্ভিসে ব্যবহৃত কয়েকটি বাসের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় প্রতিদিনই বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। গত ১৮ আগস্ট ১৪টি বাস নিয়ে পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়। বাসগুলোতে নারী চালক ও কন্ডাক্টর দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, বহরে থাকা ১৪টি বাসের মধ্যে ৬টির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি বাসগুলোরও বয়স প্রায় এক দশক। এর মধ্যে একটি বাস ২০১০-১১ সালে তৈরি করা হয়। ২০১১ সালের নভেম্বরে বাসটির ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়েছিল। ১৫ বছর আয়ুষ্কাল হিসেবে হিসাব করলে চলতি বছরের নভেম্বরে বাসটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই নতুন রং ও সাজসজ্জা করে বাসটিকে পিংক বাস সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে। বাসের বয়স নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি সার্ভিসটির আর্থিক লোকসানও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিআরটিসির হিসাব অনুযায়ী, গত ২৭ ও ৩০ আগস্ট ১০টি ডিপো থেকে পিংক বাসগুলো মোট ৩০টি ট্রিপ দেয়। এ সময় ১ হাজার ৭৯২টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয় ২৭ হাজার ৪২ টাকা। অন্যদিকে জ্বালানি, টোল, বেতনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয় ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৯ টাকা। ফলে মাত্র দুই দিনে লোকসান দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ১০৭ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে লোকসান হয়েছে প্রায় ৬১ হাজার টাকা। এই হিসাবে মাসে লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকায় দাঁড়াতে পারে। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন বিবেচনা করেই পুরোনো বাসগুলো দিয়ে সার্ভিসটি চালু করা হয়েছে। নতুন বাস বহরে যুক্ত হলে এসব পুরোনো বাস ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসংখ্যা বাড়িয়ে লোকসান কমানোর চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিসের উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও বাসের ফিটনেস, বয়স, রুট পরিকল্পনা ও পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এটি দীর্ঘমেয়াদে চালানো কঠিন হবে। নিরাপদ ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করতে হলে পুরোনো বাসের পরিবর্তে মানসম্মত নতুন বাস যুক্ত করার পাশাপাশি যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী রুট ও সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি। সূত্রঃ স্টার নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:৩৯
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে না ভারত
শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়ার বার্তা ভারতের

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না দেওয়ার অবস্থান ঢাকাকে জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে। ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করা উচিত নয়। তিনি দেশে ফিরে আটক হলে তার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে ভারত। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী। তিনি একাধিকবার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে কীভাবে তাকে দেশে ফেরানো হবে, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। এদিকে বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ছয়জন সন্দেহভাজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়েও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আগে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানোর বিষয়ে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:১৭
সন্তান জন্মের পর ৪০ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিল দেখে হতবাক বাংলাদেশি বাবা
সন্তান জন্মের পর প্রবাসী বাংলাদেশির ৪০ হাজার ডলারের বিল, ইনস্যুরেন্স না থাকলে যা জানা জরুরি

প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার আনন্দের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বসবাসরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মুখোমুখি হতে হয়েছে বড় অঙ্কের হাসপাতাল বিলের। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল থেকে পাওয়া বিলে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের মোট চিকিৎসা ব্যয় দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান তিনি। এত বড় অঙ্কের বিল কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। পরে নিজের হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা ও হিসাব সমন্বয়ের পর বিলের বড় একটি অংশ ইন্স্যুরেন্স বহন করে। তবে সব সমন্বয়ের পরও প্রায় ১০ হাজার ডলার নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে। এত বড় অঙ্কের অর্থ নিজেকে বহন করতে হওয়ায় বিষয়টি তার পরিবারের জন্যও আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিয়াম জানান, হাসপাতালের বিলে এত বড় অঙ্কের খরচ দেখে শুরুতে তিনি সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার পর বিষয়টি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। তবে তার মূল উদ্বেগ ছিল, হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে এই ৪০ হাজার ডলারের বিল কীভাবে মোকাবিলা করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সিয়ামের এই অভিজ্ঞতা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এনেছে। কারণ হাসপাতালের মোট চিকিৎসা ব্যয় এবং একজন রোগীকে শেষ পর্যন্ত নিজের পকেট থেকে যে অর্থ দিতে হয়, দুটি এক বিষয় নয়। হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চুক্তি ও কভারেজ অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন খরচ সমন্বয় হতে পারে। এরপর রোগীর নিজের বহন করতে হওয়া অর্থ নির্ধারিত হয়। কিন্তু হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। সন্তান জন্মের সময় হাসপাতালের চিকিৎসা, চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং অন্যান্য সেবার খরচ মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থের দায় তৈরি হতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোর জন্য আগে থেকেই হেলথ ইন্স্যুরেন্সের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেই পুরো হাসপাতাল বিল নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হবে, এমন নয়। কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা রয়েছে। অনেক পরিবার মেডিকেইড ও চিপের মতো সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজ পাওয়ার জন্য নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে পারে। এসব সুবিধার ক্ষেত্রে পরিবারের আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলো সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, মোট আয়, কোন স্টেটে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন অবস্থার মতো বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ শুধু ইন্স্যুরেন্স নেই বলেই কেউ সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা থেকে বাদ পড়বেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী আবেদন করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী নারীদের জন্যও অনেক স্টেটে বিশেষ স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবারের আয় ও অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের মধ্যে থাকলে সন্তান জন্মের আগে থেকেই সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ম, আয়সীমা ও অন্যান্য শর্ত স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যে স্টেটে পরিবারটি বসবাস করছে, সেই স্টেটের নিয়ম আগে থেকে যাচাই করা জরুরি। যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই এবং বড় অঙ্কের হাসপাতাল বিল হাতে এসেছে, তারা হাসপাতালের বিলিং বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সহায়তার সুযোগ আছে কি না, তা জানতে পারেন। অনেক হাসপাতাল কম আয়ের বা আর্থিক সংকটে থাকা রোগীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা, বিল কমানোর ব্যবস্থা কিংবা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। এসব সুবিধা হাসপাতাল ও স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। সিয়ামের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন প্রবাসী বাবার হাসপাতাল বিলের ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও। বিশেষ করে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতা, নিজের পকেট থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা দিতে হতে পারে এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসক ইন্স্যুরেন্সের আওতায় রয়েছেন কি না, সেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি। আর হঠাৎ বড় হাসপাতাল বিল হাতে এলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা, বিলের প্রতিটি খাত যাচাই করা এবং হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। কম আয়ের পরিবার হলে নিজের স্টেটের সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত। সিয়ামের ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সমন্বয়ের কারণে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের মোট হাসপাতাল খরচের পুরোটা তাকে বহন করতে হয়নি। তারপরও প্রায় ১০ হাজার ডলার নিজের পকেট থেকে দিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই দেখিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মের মতো বড় চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে আগে থেকেই সরকারি ও হাসপাতালভিত্তিক সহায়তার পথগুলো সম্পর্কে জানা কেন জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:২
ভোরের গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী, পেছনে পুলিশের গাড়ি
পরিচিত দুই ব্যক্তিকে গুলি, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ২৭ বছরের যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের সান অ্যান্টোনিওতে ভোরে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে গেছে। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রোববার সকাল ৭টার ঠিক আগে নর্থওয়েস্ট সাইডের লুপ ৪১০-এর কাছে চেরি রিজ ড্রাইভ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৪ ও ৬১ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২৭ বছর বয়সী এবং তিনি আহত দুই ব্যক্তিকে চিনতেন। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও আহত দুইজনের নাম প্রকাশ করেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৩:৫১
বিমানে বর্ণবাদী গালাগালের ঘটনায় যাত্রীকে চাকরিচ্যুত করল অ্যারিজোনার রিয়েলটি কোম্পানি
বিমানে বর্ণবাদী গালাগাল, চাকরি হারালেন ডাক্ট টেপে বাঁধা যাত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী গালাগাল করার পর ডাক্ট টেপ ও জিপ টাই দিয়ে আসনে বেঁধে রাখা যাত্রী আর্থার লেইন লান্ডিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে অ্যারিজোনার একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি।   ৬৭ বছর বয়সী লান্ডিন টাকসনভিত্তিক লং রিয়েলটি কোম্পানির রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ফ্লাইটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পরপরই কোম্পানিটি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।   রোববার ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে লং রিয়েলটি জানায়, লান্ডিনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের বিষয়ে তারা জানতে পেরে দ্রুত তার সঙ্গে সব ধরনের পেশাগত সম্পর্ক শেষ করেছে। এখন তিনি কোনোভাবেই কোম্পানিটির সঙ্গে যুক্ত নন এবং এর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করারও অনুমতি নেই।   কোম্পানিটি আরও বলেছে, লান্ডিনের বিরুদ্ধে যেসব আচরণের অভিযোগ উঠেছে, তা তাদের প্রত্যাশিত পেশাদারিত্ব, সততা, সহমর্মিতা ও অন্যের প্রতি সম্মানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।   ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৬১৮ নম্বর ফ্লাইটে। ডালাস থেকে নিউয়ার্কগামী ফ্লাইটে লান্ডিন এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে বর্ণবাদী গালি দেন এবং সমকামীবিদ্বেষী মন্তব্য করতে থাকেন। পাশাপাশি অন্য যাত্রীদেরও অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ ওঠে।   ফ্লাইটে থাকা সাবেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা জুয়ান মেহিয়া বলেন, অবতরণের আগে লান্ডিন ক্রমেই উত্তেজিত হয়ে উঠছিলেন। তিনি কর্মীদের ও যাত্রীদের উদ্দেশে বর্ণবাদী মন্তব্য এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করছিলেন।   মেহিয়া ও তার বন্ধু রিচার্ড ওলেনিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে লান্ডিনকে আসনে বসিয়ে তার হাত, শরীর ও মাথার কিছু অংশ ডাক্ট টেপ দিয়ে এবং কবজি জিপ টাই দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।   ঘটনার কারণে ফ্লাইটটি গন্তব্যে না গিয়ে বাল্টিমোরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে অবতরণের পর লান্ডিনকে বিমান থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ‘বিশৃঙ্খল যাত্রী’র কারণে ফ্লাইটটি ডাইভার্ট করা হয়েছিল।   এফবিআই জানিয়েছে, লান্ডিনকে মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হামলা ও বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।   এফবিআই আরও জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছে। পরে মেরিল্যান্ডের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে পরামর্শ করে লান্ডিনের বিরুদ্ধে কোনো ফেডারেল অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   লান্ডিনের লিংকডইন প্রোফাইলে তাকে লং রিয়েলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ঘটনার পর কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে তার প্রোফাইল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৩:৩১
বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
নারীদের অপমান করলে ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি থালাপতি বিজয়ের

নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বা কুরুচিকর মন্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে তীব্র সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে নারীদের অসম্মান করে কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সেই স্বাধীনতা ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।   বিজয় বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, নারী বা অন্য কাউকে হেয় না করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে সমালোচনা করা গেলেও কোনো নারীকে অসম্মান করে বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।   তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যটির রাজনীতিতে নারীদের নিয়ে অশালীন ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জনসমক্ষে কথা বলার সময় ঘরে থাকা নারীদের, বিশেষ করে মা ও বোনের মর্যাদার কথা মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি। নারীদের নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও বলেন বিজয়।   বিজয় আরও বলেন, তিনি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার পেছনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবারের নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নারীদের নিয়ে অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রেও নারীদের সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।   বিজয়ের এই বক্তব্য এসেছে বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে কথিত দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্যের বিতর্কের কয়েক দিন পর। আগস্টে কাবেরী নদী নিয়ে একটি প্রতিবাদ সভায় উদয়নিধি এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা তৃষাকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   তবে ডিএমকে দাবি করেছে, উদয়নিধির বক্তব্য সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলটির দাবি, উদয়নিধি তাঁর বক্তব্যে তৃষার নাম উচ্চারণ করেননি। এ নিয়ে বিতর্কের পর বিষয়টি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় আসে।   ঘটনার পর পুলিশ উদয়নিধিকে হেফাজতে নেয়। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারীদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য, মন্তব্যের ভাষা এবং এর আইনি পরিণতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।   বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বিজয় অতীতের ঘটনাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একই বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগেও নারীদের অপমানের অভিযোগ উঠেছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে একই বিধানসভায় অপমান করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে, বিধানসভার অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উদয়নিধি বিজয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকের বিরুদ্ধে একাধিক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তবে বিরোধী দলকে এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।   উদয়নিধি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ১১ মিনিট পুলিশ বিভাগ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা নীরবে শুনেছেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। যেকোনো অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকতে হবে।   নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়ে বিজয়ের সতর্কবার্তার পাশাপাশি উদয়নিধির বক্তব্যে রাজনৈতিক অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিজয় নারীদের সম্মান বজায় রেখে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।   অন্যদিকে, উদয়নিধি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ডিএমকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের সমালোচনা করে সেগুলোর পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফলে বিধানসভায় বিজয়ের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান সামনে এসেছে।   সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৩:১
ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিপোর্ট হলেন ব্রিটিশ চিকিৎসক ফারাজ মাহবুব। ছবি: সংগৃহীত
যৌনকর্মীর পারিশ্রমিক না দেওয়ায় ধর্ষণ মামলায় চিকিৎসক মাহবুব গ্রেপ্তার এবং ডিপোর্ট

অস্ট্রেলিয়ায় যৌনকর্মীদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনায় ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিক চিকিৎসক ফারাজ মাহবুবকে দেশ থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী এই মেডিকেল শিক্ষার্থীকে চলতি বছরের শুরুতে সাজা দেওয়া হয়েছিল।   আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মাহবুব দুই নারী যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর পারিশ্রমিক পরিশোধ না করে ভুয়া ব্যাংক রসিদ ও অন্যান্য নথি ব্যবহার করেছিলেন।   নিউ সাউথ ওয়েলসে প্রচলিত আইনের আওতায় পারিশ্রমিক দেওয়ার চুক্তির ভিত্তিতে সম্মতি নিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর সেই পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনাকেও যৌন নিপীড়ন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই আইনের আওতাতেই মাহবুবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নারীকে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভুয়া নথি এবং ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পরিশোধের একটি জাল ব্যাংক রসিদ পাঠিয়েছিলেন। যৌন সম্পর্কের পর তিনি ওই নারীকে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়।   দ্বিতীয় এক যৌনকর্মীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। মাহবুব তাঁর কাছে অন্য একটি নাম ব্যবহার করে যোগাযোগ করেন। যৌন সম্পর্কের পর পারিশ্রমিক পরিশোধ না করে তিনি ব্যাংক-সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানান। পরে ওই নারী পুলিশে অভিযোগ করার কথা জানালে মাহবুব আরও নানা আর্থিক সমস্যার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আদালতের নথিতে তাঁর পাঠানো একাধিক ভুয়া নথির কথাও উঠে এসেছে।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বা গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন অ-নাগরিকদের বিষয়ে তারা কমিউনিটির নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। মাহবুবের ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়।   ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ায় যৌনকর্মীদের পারিশ্রমিক, সম্মতি এবং যৌন অপরাধসংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আদালতের রায়ে মাহবুবের অপরাধের ধরন এবং পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনাকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:৩৪
১৯৬৪ সালে ইপুয়েটে (বর্তমান বুয়েট) প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজির হন তিন তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা

১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ইপুয়েট), বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছিল মূলত পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য। সেই সময় প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দরজায় হাজির হন তিন তরুণী - খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানা। তাঁদের দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ইপুয়েটে প্রকৌশলের বিভিন্ন বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশের পথ খুলে দেয়।   ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা এবং হলিক্রস কলেজের শিক্ষার্থী মনোয়ারা বেগম ইপুয়েটে প্রকৌশল পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন স্থাপত্য বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা পড়লেও প্রকৌশলের অন্য বিভাগগুলোতে তাঁদের ভর্তি নেওয়া হতো না। বিশেষ করে পুরকৌশলকে নারীদের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হতো।   এর অন্যতম কারণ ছিল পুরকৌশলের ব্যবহারিক কাজ। শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হতো এবং সাভারে এক মাসের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পেও অংশ নিতে হতো। তৎকালীন রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় মেয়েদের এমন পরিবেশে পাঠানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল।   কিন্তু তিন তরুণী সেই আপত্তি মেনে নেননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মেয়েদের প্রকৌশল পড়তে বাধা দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। শেষ পর্যন্ত ইপুয়েট কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়। তিনজনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ইপুয়েটে ভর্তি হন।   তবে পুরকৌশল পড়ার পথ তখনো পুরোপুরি খোলেনি। প্রথম বর্ষের পর বিভাগ বেছে নেওয়ার সময় খালেদা ও শিরীন পুরকৌশল নিতে চাইলে আবার আপত্তি জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে পরিবারের সম্মতি নিয়ে সাভারের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তাঁদের পুরকৌশলে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মনোয়ারা বেগম কেমিকৌশল বেছে নেন।    তিন নারীকে ঘিরে তখন ইপুয়েট ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল। তাঁদের দেখতে মানুষ ভিড় করত। বহু বছর পর স্মৃতিচারণ করে খালেদা শাহরিয়ার জানিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে তখন পুরো শহরেই আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, ইপুয়েটে ভর্তি হতে তাঁদের কোনো মামলা করতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মামলা করে ভর্তি হওয়ার দাবি ছড়ালেও তা সঠিক নয়।    ১৯৬৮ সালে খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ওই বছর পুরকৌশল বিভাগ থেকে ১১৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন এই দুই নারী। সমকালীন সংবাদপত্র মর্নিং নিউজ তাঁদের সাফল্যকে পূর্ব পাকিস্তানের নারীদের জন্য নতুন পেশার পথ উন্মোচন হিসেবে তুলে ধরেছিল।    মনোয়ারা বেগম পরে ১৯৭০ সালে কেমিকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এভাবেই তিনজন হয়ে ওঠেন ইপুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের প্রথম নারী শিক্ষার্থীদের দল।    খালেদা শাহরিয়ার কবিরের পথচলা এরপরও দীর্ঘ হয়েছে। ১৯৬৯ সালে একটি প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৭০ সালে যোগ দেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে, যা পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে রূপ নেয়। সেখানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন এবং ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।    দেশের গুরুত্বপূর্ণ পানি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খালেদা শাহরিয়ার। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়নসহ একাধিক পানি উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর ভূমিকা ছিল। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মারা যান।    আজ বুয়েটে নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন প্রকৌশল শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণই ছিল ব্যতিক্রম। খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানার সেই পথচলা শুধু তাঁদের নিজেদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল না, পরবর্তী প্রজন্মের নারী প্রকৌশলীদের জন্যও তৈরি করেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।   সূএ: প্রথম আলো

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:১৪
নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি! সেপ্টেম্বরে শত শত পদে নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন প্রবাসী বাঙালিরাও

নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, আইন ও অন্যান্য বিভাগে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য স্টেটের অফিসিয়াল জব পোর্টালে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   স্টেটজবস নিউইয়র্কের বর্তমান তালিকায় অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, নার্স, সোশ্যাল ওয়ার্কার, আইটি স্পেশালিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাটর্নি, ডেটা অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পদ দেখা যাচ্ছে। অনেক পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই, আবার কিছু পদের ডেডলাইন অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে আইটি স্পেশালিস্ট, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পদ এবং অন্যান্য স্টেট এজেন্সিতে অফিস ও পেশাদার পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে।   তবে সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক ৮০০টি নতুন পদে নিয়োগ হবে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা অফিসিয়াল স্টেটজবস তালিকায় নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরির সংখ্যা ও পদের তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই আবেদনকারীদের প্রতিটি পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল এবং আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু সরকারি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। আবার কিছু পদে সরাসরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। স্টেটের সিভিল সার্ভিস বিভাগও সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে।   আগ্রহীরা নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টালে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ খুঁজে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি এবং যোগ্যতার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:৫২
জেন্ডার পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারের পর মারা যাওয়া তরুণী রোজি আক্তার লিজা। ছবি: সংগৃহীত
পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর তরুণীর মৃত্যু

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর কয়েক ঘণ্টা পর রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অস্ত্রোপচারের পর রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।   লিজার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রোববার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁকে দাফন করা হয়।   পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লিজার আচরণ ও পোশাক-পরিচ্ছদে ছেলেদের মতো বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি ছেলেদের মতো চুল কাটতেন এবং কোনো পুরুষকে পছন্দ করতেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনিফা আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে লিজার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। জেনিফা নিয়মিত লিজাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাঁরা একসঙ্গে চলাফেরা ও সময় কাটাতেন। এর পাশাপাশি লিজা ঢাকায় হরমোন-সংক্রান্ত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   জেনিফা আক্তারের ভাষ্য, লিজার অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর মা-বাবা দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ওই অর্থ দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ওই হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে জেনিফা স্বাক্ষর করেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   তবে লিজার বাবা জানান, জেনিফা হাসপাতালের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন কিংবা তাঁর স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হবে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি হাসপাতালে তাঁর মেয়ের নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি মৃত্যুর দিন জানতে পারেন।   লিজার বাবা বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমন কথা আমি ওর মায়ের কাছে শুনেছি।’   লিজার মা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসারেই তিনি থাকেননি।   তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেনিফা তাঁদের বাড়িতে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে যাতায়াত করতেন। এ কারণে মেয়ের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি তাঁরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।   এদিকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে লিজার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদে তাঁকে ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়েছে।   মৃত্যু সনদে থাকা হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।   পরে হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে যে চিকিৎসকের অধীনে লিজা ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।   অস্ত্রোপচার ও মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি।   তবে অস্ত্রোপচারের পর ঠিক কী কারণে লিজার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, অস্ত্রোপচারের বিবরণ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:৪০