- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার ভয়াবহতার অন্যতম প্রতীক হয়ে আছে ‘ফলিং ম্যান’ নামে পরিচিত একটি ছবি। ছবিতে নর্থ টাওয়ার থেকে এক ব্যক্তিকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। হামলার দিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফটোসাংবাদিক রিচার্ড ড্রু ছবিটি ধারণ করেন। ছবিটি ধারণের সময় টুইন টাওয়ারে আটকে থাকা বহু মানুষ ভয়াবহ আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে জীবন বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন প্রায় ২০০ মানুষ ভবন থেকে নিচে পড়ে মারা যান। ‘ফলিং ম্যান’ ছবিটি সেই মর্মান্তিক ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে। ছবিটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এমন একটি মর্মান্তিক মুহূর্ত প্রকাশ করা কতটা সংবেদনশীল ও নৈতিক, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সংবাদপত্র ছবিটি একবার প্রকাশের পর আর ছাপেনি। তবে ছবিটির গুরুত্বের পক্ষে অবস্থান নেন রিচার্ড ড্রু। তাঁর মতে, ছবিটিতে কোনো সরাসরি রক্তাক্ত বা গ্রাফিক দৃশ্য নেই। বরং এটি ৯/১১ হামলায় মানুষের ভয়াবহ পরিণতির একটি নীরব দলিল। ছবিতে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে ধারণা করা হয়েছে, তিনি নর্থ টাওয়ারের ‘উইন্ডোজ অন দ্য ওয়ার্ল্ড’ রেস্তোরাঁর কর্মী অথবা ভবনের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তবে এসব ধারণার কোনোটিই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও পেনসিলভানিয়ায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। হামলার ২৫ বছর পরও ‘ফলিং ম্যান’ ছবিটি ৯/১১-এর মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ও সেই দিনের ভয়াবহতার অন্যতম স্মারক হিসেবে মানুষের মনে রয়ে গেছে।
চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা স্টারলিংকভিত্তিক ওয়াই-ফাই সেবা বড় ধরনের চুরির ঘটনায় সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের চারটি আন্তনগর ট্রেনে স্থাপন করা প্রায় ৬০টি রাউটারের মধ্যে ৪৫টিই কয়েক মাসের ব্যবধানে চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ১৫টি রাউটার। প্রাথমিকভাবে চারটি আন্তনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করা হয়েছিল। ট্রেনগুলো হলো পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস। যাত্রীদের বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ যাত্রায় স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা কতটা কার্যকর ও টেকসই, তা যাচাই করাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত রোজার ঈদের পর থেকেই ট্রেনগুলোতে একের পর এক রাউটার চুরি হতে শুরু করে। শুরুতে প্রতিটি বগিতে দুটি করে রাউটার স্থাপন করা হয়েছিল। চুরি বাড়তে থাকায় কোনো কোনো বগিতে একটি রাউটার দিয়েই সেবা চালানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। চুরি যাওয়া রাউটার প্রতিস্থাপন করা হলেও নতুন করে বসানো যন্ত্রও নিরাপদ থাকেনি। কোথাও কোথাও রাউটারের পাশাপাশি সংযুক্ত তার ও কেবল চ্যানেলিংও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক সেবার অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট রুটের উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে একটি স্টারলিংক অ্যানটেনাও খুলে নেওয়া হয়েছে। অ্যানটেনা থেকে অকার্যকর সিগন্যাল পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সেটি না থাকার বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি রাউটারের দাম প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। চুরি বন্ধ না হওয়ায় ভবিষ্যতে রাউটার ও অ্যানটেনা স্থাপনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বগিতে রাউটারগুলো বগির মূল অবকাঠামোর ভেতরে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে সহজে সেগুলো খুলে নেওয়া না যায়। রেলপথে আধুনিক যাত্রীসেবা বাড়াতে নেওয়া এই উদ্যোগের সরঞ্জাম বারবার চুরি হওয়ায় একদিকে যেমন সেবাটি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে স্থাপিত অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়েই অধিকাংশ রাউটার চুরি হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: প্রথম আলো
অস্ট্রেলিয়ার রক্তদাতা জেমস হ্যারিসন বিরল এক অ্যান্টিবডির কারণে পরিচিত ছিলেন ‘গোল্ডেন আর্ম’ নামে। তাঁর রক্তের প্লাজমায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি দিয়ে এমন একটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করা হতো, যা গর্ভাবস্থায় আরএইচজনিত জটিলতা থেকে অনাগত শিশুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস লাইফব্লাডের হিসাবে, তাঁর দানের মাধ্যমে প্রায় ২৪ লাখ শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বড় ধরনের বক্ষ অস্ত্রোপচারের সময় জীবন বাঁচাতে ১৩ ইউনিট রক্ত নিতে হয়েছিল হ্যারিসনকে। সেই অভিজ্ঞতার পর ১৮ বছর বয়সে তিনি রক্তদান শুরু করেন। পরে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর রক্তে অ্যান্টি-ডি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল অ্যান্টিবডি রয়েছে। এরপর নিয়মিত প্লাজমা দানকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে নেন তিনি। ১৯৫৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছয় দশকের বেশি সময়ে মোট ১ হাজার ১৭৩ বার রক্ত ও প্লাজমা দান করেন হ্যারিসন। অস্ট্রেলিয়ার বয়সসীমার কারণে ৮১ বছর বয়সে তাঁকে দান বন্ধ করতে হয়। ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি শেষবার রক্ত দেন। অ্যান্টি-ডি চিকিৎসা মূলত আরএইচ-নেগেটিভ মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মা আরএইচ-নেগেটিভ এবং অনাগত শিশু আরএইচ-পজিটিভ হলে মায়ের শরীর শিশুর রক্তকে ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। এর ফলে পরবর্তী গর্ভধারণে শিশুর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যান্টি-ডি এই প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে সহায়তা করে। লাইফব্লাড জানিয়েছে, অ্যান্টি-ডি কর্মসূচিতে হ্যারিসনের রক্ত থেকে তৈরি ওষুধের মাধ্যমে ২৪ লাখ শিশুকে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁর রক্তের বিশেষ অ্যান্টিবডি এতটাই বিরল ছিল যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্টি-ডি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেমস হ্যারিসন ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউ সাউথ ওয়েলসে ঘুমের মধ্যে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পরও তাঁর অবদান নিয়ে গবেষণা চলছে। অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস লাইফব্লাড ও গবেষকেরা তাঁর এবং অন্য দাতাদের রক্ত ব্যবহার করে ল্যাবে অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের জন্য এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহজলভ্য করা যায়। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত রক্তদান করে হ্যারিসন দেখিয়ে গেছেন, একজন মানুষের শরীরে থাকা বিরল একটি বৈশিষ্ট্য কীভাবে লাখ লাখ অনাগত শিশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর ১ হাজার ১৭৩ বার রক্তদানের রেকর্ডও অস্ট্রেলিয়ার রক্তদানের ইতিহাসে বিশেষ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সিতে যাত্রা শেষে ভাড়া দিতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি নারী। ট্যাক্সিচালক তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভাই। আপনারা আমার বোন।’ দুই নারী ট্যাক্সি থেকে নামার সময় ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চালক টাকা নিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি তাদের নিজের বোনের মতো উল্লেখ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অল্প সময়ের এই ঘটনাকে অনেকে তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের মানুষের মধ্যকার সামাজিক ও মানবিক সংহতির একটি ছোট্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তুরস্কের জনগণের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী ও ভ্রমণকারী ফিলিস্তিনিরাও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ওই ট্যাক্সিচালকের পরিচয়, ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে এবং ভিডিও বা পোস্টটির মূল উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির নথি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দুদকের আবেদনের পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এসব নথি সরবরাহ করেছে। সোমবার দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের বিস্তারিত নথি ও তথ্য দুদককে দিয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের রেকর্ড এসব নথির মধ্যে রয়েছে। বিদেশে সম্পদ অর্জনের বৈধতা ও এর উৎস সম্পর্কে চলমান অনুসন্ধানে এসব তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিদেশে সম্পদ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশে দুদক ও অন্যান্য সংস্থা তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে। এর আগে আদালতের আদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তাদের নামে বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও দুদকের অনুসন্ধান জোরদার হয়েছে। এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে দুদকের সংশ্লিষ্ট টিম। সূত্র: ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির সেপ্টেম্বরের পেমেন্ট দেওয়া শুরু হচ্ছে এই সপ্তাহে। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর অবসর, স্বামী বা স্ত্রীর বেনিফিট এবং স্বজনের মৃত্যুর পর প্রাপ্য বেনিফিটের সেই গ্রহীতারা পেমেন্ট পাবেন, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। সর্বোচ্চ সুবিধার ক্ষেত্রে মাসে ৫,১৮১ ডলার পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। তবে ৫,১৮১ ডলার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ অবসর সুবিধা পেতে হলে কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স দিতে হয়েছে এবং ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত বেনিফিট নেওয়া পিছিয়ে দিতে হয়েছে। ৭০ বছর বয়সে অবসর বেনিফিট শুরু করলে সর্বোচ্চ মাসিক পরিমাণ ৫,১৮১ ডলার হতে পারে। যারা ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসরের বয়সে বেনিফিট শুরু করেন, তাদের সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪,১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে বেনিফিট নেওয়া শুরু করলে সর্বোচ্চ পরিমাণ ২,৯৬৯ ডলার। বাস্তবে অধিকাংশ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই সর্বোচ্চ অঙ্কের চেয়ে কম সোশ্যাল সিকিউরিটি পান। সেপ্টেম্বরের পেমেন্ট একসঙ্গে সবাই পাবেন না। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা দ্বিতীয় বুধবার, ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা তৃতীয় বুধবার এবং ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা চতুর্থ বুধবার পেমেন্ট পান। সে হিসাবে ৯ সেপ্টেম্বরের পর চলতি মাসের পরবর্তী পেমেন্টের তারিখ ১৬ ও ২৩ সেপ্টেম্বর। তবে ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি নেওয়া ব্যক্তি এবং কিছু সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই গ্রহীতার ক্ষেত্রে আলাদা পেমেন্ট সূচি প্রযোজ্য হতে পারে। এদিকে, ২০২৭ সালের সোশ্যাল সিকিউরিটির জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা নিয়েও নজর রয়েছে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হওয়ার কথা। আগামী বছরের কোলা নির্ধারণে ব্যবহৃত তিন মাসের তথ্যের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় মাসের তথ্য। বর্তমান বিভিন্ন পূর্বাভাসে ২০২৭ সালের কোলা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত হার এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সিগারেটের নেশা ছাড়তে তুরস্কের কুতাহিয়া প্রদেশের ইব্রাহিম ইউজেল ২০১৩ সালে নিয়েছিলেন অদ্ভুত এক কঠোর সিদ্ধান্ত। ২৬ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় দুই প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে তিনি নিজের মাথার চারপাশে তামার তার দিয়ে তৈরি একটি খাঁচা পরতেন। খাঁচাটিতে তালা লাগিয়ে সেই চাবি স্ত্রী ও মেয়ের কাছে রেখে দিতেন, যাতে চাইলেও দিনের বেলা সহজে সিগারেট ধরাতে না পারেন। তখন ৪২ বছর বয়সী ইব্রাহিম একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। বহুবার সিগারেট ছাড়ার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এমন একটি ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাকে সরাসরি সিগারেটের কাছে পৌঁছাতেই দেবে না। মোটরসাইকেলের হেলমেট দেখে ধারণাটি তার মাথায় আসে। সেই ধারণা থেকে তামার তার দিয়ে হেলমেটের মতো একটি খাঁচা তৈরি করেন তিনি। খাঁচাটিতে দুটি তালা ছিল এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি চাবি স্ত্রী ও অন্যটি মেয়ের কাছে দিয়ে যেতেন। ফলে ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা হলেও নিজের হাতে তালা খুলে সিগারেট ধরানোর সুযোগ থাকত না। ইব্রাহিমের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল পারিবারিক একটি কঠিন অভিজ্ঞতাও। তার বাবা ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপরও নিজের দীর্ঘদিনের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে না পারায় তিনি আরও কঠোরভাবে সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। খাঁচা পরার প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে অবাক ও অস্বস্তিতে ছিলেন। তবে ইব্রাহিমের দৃঢ়তা দেখে পরে তার পরিবারও তাকে সমর্থন করতে শুরু করে। ২০১৩ সালের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাঁচাটি ব্যবহারের প্রথম কয়েক দিন তিনি সিগারেট না খেয়ে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ইব্রাহিমের এই অস্বাভাবিক উদ্যোগ তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ঘটনাটি মূলত দেখিয়েছিল, দীর্ঘদিনের নিকোটিন আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা কতটা কঠিন হতে পারে এবং তা থেকে মুক্তি পেতে একজন মানুষ কতটা মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন। তবে মাথায় তালা দেওয়া খাঁচা কোনো নিরাপদ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত ধূমপান ছাড়ার পদ্ধতি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ধূমপান ছাড়ার জন্য কাউন্সেলিং ও প্রমাণভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, যেমন নিকোটিন প্যাচ, গাম বা লজেন্স এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। কাউন্সেলিং ও ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করলে সফলভাবে ধূমপান ছাড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাবেক মেয়র মিস্টি রবার্টস ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে পাওয়া ৯০ দিনের কারাদণ্ড শেষ করে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের সংশোধনাগারের নথি অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দিবসে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়। নির্বাচিত মেয়র থাকা অবস্থায় ওই কিশোরের সঙ্গে যৌন অপরাধের ঘটনায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। ৪৪ বছর বয়সী রবার্টসের কারাদণ্ড শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে মামলার বিচারক প্রসিকিউটরদের আরও কঠোর সাজা দেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। বিচারক কেন্ট সাভোয়া রবার্টসের সাজা নির্ধারণের সময় ৩০টির বেশি মামলার একটি তালিকা বিবেচনায় নিয়েছিলেন। এসব মামলার আসামিরা সমঝোতার মাধ্যমে দোষ স্বীকার করে মামলার নিষ্পত্তি করেছিলেন। তবে রবার্টসের মামলা জুরি বিচারের মাধ্যমে শেষ হয় এবং জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। ৩১ আগস্টের এক শুনানিতে বিচারক সাভোয়া প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, রবার্টসের সাজা নির্ধারণে তিনি যে তালিকা ব্যবহার করেছিলেন, সেটি বিবেচনার ক্ষেত্রে তার ভুল হয়েছিল। বিচারক বলেন, একই ধরনের মামলার একটি তালিকা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল এবং তিনি একটি ধারণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, সেই ধারণা ভুল ছিল। তবে রবার্টস দোষ স্বীকার না করে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অধিকার ব্যবহার করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। মার্চের শুরুতে জুরি রবার্টসকে অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারত। প্রসিকিউটররা প্রমাণ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রবার্টসের বাড়িতে আয়োজিত একটি সুইমিং পুলের অনুষ্ঠানে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে রবার্টস ও ওই কিশোর মদ্যপান করেছিলেন। ঘটনার সময় রবার্টস লুইজিয়ানার ডিরিডার শহরের মেয়র ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে তিনি মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মামলার ভুক্তভোগী ছিলেন স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং রবার্টসের ছেলের বন্ধু। তার ছেলে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। রবার্টসকে মাত্র তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি ডিরিডারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এই সাজাকে খুবই কম বলে সমালোচনা করেন। ডিরিডারের বাসিন্দা কারি ম্যাকগি স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা উচিত এবং এ বিষয়ে কোনো অজুহাত থাকা উচিত নয়। আরেক বাসিন্দা রায়ান ক্লার্ক রবার্টসের স্বল্পমেয়াদি সাজাকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন। কারাদণ্ড শেষ করে মুক্তি পেলেও রবার্টসের ওপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। পাশাপাশি ৫ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে এবং নিয়মিত মাদক পরীক্ষা করাতে হবে। তাকে মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসাও নিতে হবে। মুক্তির পর আরোপিত শর্ত ভঙ্গ করলে রবার্টসকে স্থগিত থাকা দুটি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড একই সময়ে ভোগ করতে হতে পারে। রবার্টস ৯ জুন সাজা ঘোষণার শুনানিতে নিজের দায় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময়ও নিজেকে দায়ী মনে করেছিলেন এবং এখনও নিজেকেই দায়ী মনে করেন। তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষকে হতাশ করেছেন এবং এর জন্য তিনিই দায়ী। সাজা ঘোষণার সময় রবার্টস ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছেও ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ওই কিশোরের উচ্চ বিদ্যালয়ের সময় ফিরিয়ে দিতে পারবেন না এবং ইন্টারনেটে অনেক মানুষের করা অপমান থেকে তাকে রক্ষা করতেও পারবেন না। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর মা রবার্টসের কঠোর সমালোচনা করেন এবং নিজের পরিবার থেকে দূরে থাকার কথা বলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার লিখিত পরীক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ভুল করলে আবেদনকারীকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (ইউএসসিআইএস) সরকারি নির্দেশিকায় লিখিত পরীক্ষায় কোন ধরনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএসের স্কোরিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তার বলা একটি বাক্য লিখতে হয়। নির্ধারিত বাক্যটি সঠিকভাবে এবং বোঝা যায় এমনভাবে লিখতে পারলেই লিখিত ইংরেজির দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব। তবে উত্তরটি যদি নির্দেশিত বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, সেটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় প্রথম যে ভুলটি ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, সেটি হলো কর্মকর্তার বলা বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বা শব্দ লেখা। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে যে বাক্যটি লিখতে বলা হয়েছে, সেটির পরিবর্তে নিজের মতো করে অন্য কিছু লিখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। দ্বিতীয়ত, নির্দেশিত কোনো শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেও উত্তরটি ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মকর্তার বলা শব্দের জায়গায় সংক্ষিপ্ত রূপ লিখলে সেটি ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কিছু না লিখলে অথবা মাত্র এক-দুটি বিচ্ছিন্ন শব্দ লিখলে সেটিও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীর উচিত কর্মকর্তার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখার চেষ্টা করা। চতুর্থত, হাতের লেখা এতটাই অস্পষ্ট হলে যে কর্মকর্তা সেটি পড়তে বা বুঝতে না পারেন, সেই উত্তরও ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হবে। ইউএসসিআইএসের সরকারি স্কোরিং গাইডলাইনে সম্পূর্ণ অপাঠ্য লিখিত উত্তরকে সরাসরি ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, লিখিত বাক্যটি এমনভাবে লেখা হলে যাতে নির্দেশিত বাক্যের অর্থ বোঝা না যায়, সেটিও ব্যর্থতার কারণ। ফলে শুধু বানান বা লেখার সৌন্দর্য নয়, পরীক্ষার্থীর লেখা বাক্যটি কর্মকর্তার কাছে অর্থবোধক ও বোধগম্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ইংরেজি পরীক্ষার তিনটি অংশ রয়েছে, কথা বলা, পড়া এবং লেখা। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ তিনটি বাক্য দেওয়া হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারলেই এই অংশে ইংরেজিতে লেখার সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষার জন্য ইউএসসিআইএস একটি নির্দিষ্ট লিখিত শব্দভান্ডারের তালিকাও প্রকাশ করে, যার শব্দগুলো নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীকে ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়, যদি তিনি কোনো ছাড় বা অব্যাহতির যোগ্য না হন। ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানও যাচাই করা হয়। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার কোনো অংশে ব্যর্থ হলে তাকে সাধারণত দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম পরীক্ষার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং আগেরবার যে অংশে ব্যর্থ হয়েছেন, সাধারণত সেই অংশেই আবার পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাই নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কর্মকর্তার বলা বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, পূর্ণ বাক্য লেখা এবং হাতের লেখা স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত প্রস্তুতি উপকরণ ব্যবহার করে আগে থেকেই লিখিত অংশের অনুশীলন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ইউএসসিআইএস, লেজিট.এনজি।
ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নারীর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। তাঁর আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। নিহতের নাম রিয়া তালুকদার গোস্বামী। তিনি গুয়াহাটির হাটিগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্বামী রামানুজন গোস্বামীর সঙ্গে থাকতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। রোববার প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এর আগে প্রায় দুই দিন ধরে তাঁরা দম্পতিকে দেখতে পাচ্ছিলেন না এবং দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় পুলিশ রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি আংশিক পচন ধরেছিল এবং মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে ফ্ল্যাটের ফ্রিজে একটি পলিথিনের ব্যাগের মধ্যে তাঁর মাথা পাওয়া যায়। তাঁর আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময় এবং কী পরিস্থিতিতে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর রিয়ার স্বামী রামানুজন গোস্বামীকে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিবেশীরা তাকে শেষবার শুক্রবার দেখেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে রোববার রাতেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার অনুরাগ শর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, রামানুজন এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এবং আত্মসমর্পণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাঁর বক্তব্যও যাচাই করছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। নিহতের মরদেহ ও বিচ্ছিন্ন মাথা ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো পুলিশ প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, ময়নাতদন্তের ফল এবং অভিযুক্ত স্বামীর বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়া ও রামানুজনের মধ্যে আগে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই তথ্য এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত জুয়িশ-আমেরিকান সামিটে মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাডাম শিফ। তিনি বলেছেন, মুসলিম আমেরিকানরা দেশটির সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে রয়েছেন। ৩০ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টসাইডে ২০২৬ জুয়িশ-আমেরিকান সামিট অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী ওই আয়োজনে ইহুদি পরিচয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক, ইহুদিবিদ্বেষ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মোসাব হাসান ইউসেফ, যিনি ‘দ্য গ্রিন প্রিন্স’ নামে পরিচিত। সম্মেলনের শেষদিকে ইউসেফের সঙ্গে ‘বিইং জুইশ’ পডকাস্টের উপস্থাপক জোনাহ প্ল্যাটের একটি আলোচনা হয়। সেখানেই ইউসেফ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি নিজেকে করদাতা মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মুসলিমদের দেখতে চান না এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউসেফের বক্তব্যের কিছু অংশে উপস্থিত দর্শকদের একাংশ করতালি দেন। বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার পর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইউসেফের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বিভিন্ন ধর্ম ও পরিচয় থেকে এসেছে এবং মুসলিম আমেরিকানরা দেশটির সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে ওই ধরনের ঘৃণাভিত্তিক বক্তব্যের নিন্দা জানান। শিফের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামতেও জুয়িশ-আমেরিকান সামিটে ইউসেফের বক্তব্যকে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। লেখাটিতে মুসলিম ও ইহুদি উভয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের বিরোধিতা করার আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনের আয়োজকরা অবশ্য এটিকে ইহুদি আমেরিকানদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সম্মেলনটি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষের মধ্যে সংযোগ ও আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। ইউসেফের বক্তব্য নিয়ে মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলোও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সান দিয়েগো জুইশ ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিমদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ইউসেফের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে সম্মেলনের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বক্তব্যটির নিন্দা এবং ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যাডাম শিফ দীর্ঘদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। মুসলিম আমেরিকানদের পক্ষে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাদ দেওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তৈরি বিতর্কে একদিকে যেমন মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি সহনশীলতার সীমা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।
দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নয়, বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বছরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা কমাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, পরিবারসহ বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া জনশক্তির বড় একটি অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। এসব এলাকার কিছু মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে তিন জেলায় যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে এসব কর্মশালায় অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে বৈঠকের পর জানান প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শিকড় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে। তবে ইতালিতে বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী। দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখাতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতেও সহযোগিতা করতে চায় ইতালি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একজন সিটি মেয়র এবং কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে। খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সম্পর্কও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান তিনি। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বর্তমানে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতালির দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই কথাই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। দুই দেশের এই আলোচনায় শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে বৈধ পথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার পরিবর্তে বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে। সূত্র: চ্যানেল ২৪
স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে সাফল্যের নজির তৈরি করেছেন বাংলাদেশের দুই ভাই। সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতানের সহপ্রতিষ্ঠিত এআইভিত্তিক নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম AgenticHire বিভিন্ন অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা, অনুদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছে। ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিক বিন সুলতান প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর বড় ভাই শাফি বিন সুলতান ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা। স্টার্টআপটির কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের সঙ্গে এর আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন সিঙ্গাপুরের রিভার ভ্যালি হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাওইয়াং উ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোম্পানিটির বৃহত্তর প্রতিষ্ঠাতা দলে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সদস্যও রয়েছেন। AgenticHire-এর যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। সিঙ্গাপুরে একটি তরুণ উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সাবিক ও হাওইয়াংয়ের মধ্যে পরিচয় হয়। সেখান থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করেন তাঁরা। সাবিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় দিনের ওই কর্মসূচির মধ্যেই ধারণা, দল ও ব্যবসার দিকনির্দেশনা তৈরি হতে শুরু করে। তাদের নজরে আসে, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই আলাদা মানবসম্পদ বা নিয়োগ দল থাকে না। ফলে প্রতিষ্ঠাতা কিংবা জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদেরই চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের সাক্ষাৎকার নিতে হয়। যোগ্য প্রার্থী একজনকে কারিগরি সাক্ষাৎকারে নেওয়ার আগেই ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নিতে হতে পারে বলে সাবিক জানিয়েছেন। এই সময় ও শ্রমের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই AgenticHire তৈরি করা হয়। প্ল্যাটফর্মটির মূল কাজ হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা। কোনো প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট পদের জন্য মূল্যায়নের কাঠামো তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে সাক্ষাৎকারের সংযোগ পাঠাতে পারে। প্রার্থী নিজের সুবিধামতো সময়ে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেন। এরপর AgenticHire প্রার্থীর দক্ষতা, দুর্বলতা ও কাজের উপযোগিতা নিয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করে। চূড়ান্তভাবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই নেয়। স্টার্টআপটি গড়ে তোলার আগে প্রতিষ্ঠাতারা বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটি যাচাই করেন। অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে পাওয়া অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজেদের পরিচিত নেটওয়ার্কের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের কাছ থেকেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর একটি প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করে পরামর্শদাতাদের সহায়তায় সেটি উন্নত করা হয়। AgenticHire যে ৩০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা পেয়েছে, তার পুরোটা প্রচলিত বিনিয়োগ হিসেবে পাওয়া অর্থ নয়। প্রতিষ্ঠাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ এসেছে অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচির সহায়তা, প্রতিযোগিতার পুরস্কার, অনুদান এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা থেকে। এর মধ্যে ইস্ট ভেঞ্চার্সের ‘মাই ফার্স্ট ১০০০’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সহায়তার বিনিময়ে এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো মালিকানা বা শেয়ার ছাড়তে হয়নি বলে সাবিক জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, পাওয়া অর্থ মূলত পণ্য উন্নয়ন, দলের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও প্রযুক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য চালুর প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রাহক বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্মটি আরও উন্নত করা। ভবিষ্যতে নতুন বাজারে প্রবেশ ও দল সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দুই দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগটি শুরু হলেও এর পরিধি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক। দলটির সদস্যদের মধ্যে কাজাখস্তানের দানিয়া টোকসানোভা বিপণন বিভাগের দায়িত্বে, থাইল্যান্ডের আপিউইট পাসুওয়াত যোগাযোগ কার্যক্রমে, কম্বোডিয়ার মোখা সোখা পরিচালন সহযোগী হিসেবে এবং মালয়েশিয়ার জেসি চু পণ্য বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন তরুণের উদ্যোগটি ধীরে ধীরে একটি বহুজাতিক তরুণ উদ্যোক্তা দলের রূপ নিয়েছে। AgenticHire-এর প্রতিষ্ঠাতাদের গল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাদের বয়স। প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা সাবিক ও শাফি এখনো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। একইভাবে প্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে থাকা হাওইয়াং উও স্কুলের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার আগেই তাঁরা প্রযুক্তি ব্যবসার একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে পণ্য তৈরি, গ্রাহক যাচাই এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। সাবিকের সাম্প্রতিক এক পেশাগত পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা এমনকি পূর্ণাঙ্গ দলও ছিল না। কয়েক মাসের মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও সময় অঞ্চলে কাজ করে তাঁরা একটি পণ্য তৈরি করেন এবং জুনের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সেটি উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, ওই অভিজ্ঞতা শুধু অর্থ সংগ্রহের সুযোগই নয়, বরং বিনিয়োগকারীরা কীভাবে একটি স্টার্টআপকে মূল্যায়ন করেন, সেটি বোঝারও সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে AgenticHire নিজেদের একটি এআই-চালিত নিয়োগ বাছাই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের লক্ষ্য হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় ও কাজের চাপ কমানো, যাতে প্রতিষ্ঠাতা বা নিয়োগদাতারা বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে সময় না দিয়ে তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত প্রার্থীদের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। প্ল্যাটফর্মটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে গ্রাহক বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক দল গড়ে তুলেছে। এখন তাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্যকে টেকসই ব্যবসায় রূপ দেওয়া এবং বিভিন্ন দেশের নিয়োগ বাজারে এআইভিত্তিক এই সেবা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা প্রমাণ করা। সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশাল শিকারি ডাইনোসর টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শেষ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘স্কটি’ নামে পরিচিত সবচেয়ে বড় আবিষ্কৃত টি-রেক্সের একটি পাঁজরের হাড়ে পাওয়া আঘাত ও সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, অন্য একটি ডাইনোসরের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। স্কটির জীবাশ্ম ১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচেওয়ানের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে আবিষ্কৃত হয়। রয়্যাল সাসকাচেওয়ান মিউজিয়ামের গবেষকেরা সেখানে এর কঙ্কালের সন্ধান পান। জীবদ্দশায় স্কটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৩ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৯ হাজার ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কেজি। এই বিশাল আকারের কারণে স্কটিকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় টি-রেক্স কঙ্কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে স্কটির গুরুত্ব শুধু আকারে নয়। এর একটি পাঁজরের হাড়ে এমন নরম টিস্যুর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা কোটি কোটি বছর টিকে থাকার পরও গবেষণার উপযোগী অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে সেখানে খনিজে পরিণত হয়ে যাওয়া রক্তনালির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জীবাশ্মে এ ধরনের রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত বিরল। এই অস্বাভাবিক সংরক্ষণই গবেষকদের স্কটির জীবনের শেষ অধ্যায় সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার পদার্থবিজ্ঞানীরা। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এবং পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেল। জীবাশ্মের ভেতরের গঠন না কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত না করে দেখার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্কটির পাঁজরের ভেতরের গঠন ত্রিমাত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। সাধারণ এক্স-রে যেখানে মূলত ঘন হাড়ের গঠন দেখাতে কার্যকর, সেখানে নিউট্রন বিভিন্ন হালকা মৌল, বিশেষ করে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। ফলে জীবাশ্মের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ক্ষীণ টিস্যুর চিহ্নও আলাদা করে দেখা সম্ভব হয়েছে।, গবেষকদের ধারণা, স্কটির পাঁজরটি জীবদ্দশায় ভেঙে গিয়েছিল। আঘাতের পর শরীর স্বাভাবিকভাবে হাড়টি সারিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আয়রনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় এবং সেখানে নতুন রক্তনালির একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। সেই রক্তনালির খনিজায়িত চিহ্নই কয়েক কোটি বছর পর গবেষকদের সামনে স্কটির আঘাতের প্রমাণ হিসেবে ধরা দেয়। কীভাবে পাঁজরটি ভেঙেছিল, সে বিষয়ে গবেষকেরা একটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিকার বা সংঘর্ষের সময় অন্য কোনো ডাইনোসরের সঙ্গে লড়াইয়ে স্কটি আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা জীবাশ্ম থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁজরের হাড়ে সেরে ওঠার চিহ্ন পাওয়া গেলেও সেটি পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। অর্থাৎ আঘাতের পর কিছু সময় স্কটি বেঁচে ছিল এবং তার শরীর ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই পাঁজরের আঘাতটি তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করলেও, এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। স্কটির মৃত্যুর পর তার দেহ কীভাবে এত সূক্ষ্ম টিস্যু সংরক্ষণ করতে পেরেছিল, সেটিও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজ্ঞানীদের মতে, সে একটি লবণাক্ত জলাভূমিতে মারা গিয়ে থাকতে পারে। এমন পরিবেশে অক্সিজেনের প্রবেশ সীমিত থাকায় পচন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা এমন নরম টিস্যুর কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। স্কটির পাঁজরে সংরক্ষিত রক্তনালির আবিষ্কারের সূত্রপাত অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। ২০২০ সালে তৎকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী জেরিট মিচেল স্কটির পাঁজর নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এক্স-রে ভিত্তিক মাইক্রো-সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কাঠামো শনাক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে কানাডিয়ান লাইট সোর্সে আরও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তি ও অণুবীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে গবেষক দল ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে গিয়ে নিউট্রনভিত্তিক দুটি যন্ত্র ব্যবহার করে স্কটির পাঁজর পরীক্ষা করে। এর মধ্যে একটি পদ্ধতিতে বড় হাড়ের ভেতরের গঠন অক্ষত রেখেই পরীক্ষা করা হয়। নিউট্রন পরীক্ষার ফল আগের এক্স-রে গবেষণার সঙ্গে মিলে যায় এবং রক্তনালির অস্তিত্ব সম্পর্কে পাওয়া তথ্যকে আরও শক্তিশালী করে। ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এই আবিষ্কারকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ কোটি কোটি বছর পুরোনো একটি ডাইনোসরের হাড়ের ভেতরে এত বিস্তৃত রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত বিরল সুযোগ। গবেষণায় যুক্ত পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেলের মতে, প্রতিটি জীবাশ্ম অতীতের একটি ছোট্ট মুহূর্তের ছবি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই ছবির ভেতরের আরও সূক্ষ্ম তথ্য বের করে আনা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শুধু ডাইনোসরের আকার বা কঙ্কালের গঠন নয়, তারা কীভাবে আহত হতো এবং তাদের শরীর কীভাবে সেই আঘাত সারানোর চেষ্টা করত, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকদের কাছে এই কাজের আরেকটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বহু পুরোনো জীবাশ্ম সংরক্ষিত রয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোর ভেতরেও হয়তো এমন অদৃশ্য তথ্য লুকিয়ে আছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিউট্রন ইমেজিং ও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ভবিষ্যতে সেই তথ্য সামনে আনার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে মারা যাওয়া স্কটির কঙ্কাল আজও বিজ্ঞানীদের কাছে শুধু একটি বিশাল টি-রেক্সের নিদর্শন নয়। এর ভাঙা পাঁজর, ক্ষত সারানোর চেষ্টা এবং সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন সেই প্রাণীর জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে এমন তথ্য দিচ্ছে, যা এত দিন জীবাশ্মের ভেতরেই অদৃশ্য ছিল। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, কানাডিয়ান লাইট সোর্স, এনডিটিভি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় গঠনতান্ত্রিকভাবে তিনিই এই দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তার ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। দীর্ঘ ওই সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা, নিজের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আসন্ন ডিসেম্বর মাসেই তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরকে বাঙালির বিজয়ের মাস উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আগে নয়, ডিসেম্বর মাসেই দেশে যাব বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দেশে ফিরতে গিয়ে তিনি অন্য কারও জীবনের ঝুঁকি বাড়াতে চান না। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চরমপন্থী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব কেবল বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই আটকে থাকবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, এর খেসারত শেষ পর্যন্ত ভারতকেও দিতে হতে পারে। দুই দেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থান করে তার রাজনীতি করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যখন দেখি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূল না হলেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি দেশে ফিরতে চান বলে জানান। গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপটও এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। গণভবন থেকে বের হওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন তাকে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু হেলিকপ্টার যখন সীমান্ত অতিক্রম করে, তখনই তিনি বুঝতে পারেন তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। কঠিন এই সময়ে দলের নেতাকর্মীরা যাতে দিকনির্দেশনাহীনতায় না ভোগেন, সেজন্যই শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।
দিনের শুরুতে পুলিশের পোশাক পরে দায়িত্ব পালন, আর বিশেষ দিনে ঝলমলে পোশাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুকুটের লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের অ্যাশলিন মার্সিয়ারের জীবন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন জগতের গল্প। ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সক্রিয় কর্মকর্তা এই তরুণী এবার মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। ২৫ বছর বয়সী অ্যাশলিন মার্সিয়ার শুধু মিস ম্যাসাচুসেটস ২০২৬-এর বিজয়ীই নন, তিনি এই রাজ্যের প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা যিনি মিস ম্যাসাচুসেটসের মুকুট জিতেছেন। ২০ জুন ওরচেস্টারের হ্যানোভার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় তিনি ২২ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই খেতাব অর্জন করেন। এরপর ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি হিসেবে মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। ৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের পাম বিচ কাউন্টি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় মিস আমেরিয়ার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। এবারের আয়োজন মিস আমেরিয়া প্রতিযোগিতার ১০৫তম বছর উদযাপন করেছে। ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও পুয়ের্তো রিকোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। অ্যাশলিনের গল্পের বিশেষত্ব তার পেশায়। তিনি নিয়মিত ওয়েস্টবরো শহরের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি প্রতিযোগিতামূলক সৌন্দর্য আয়োজন থেকে এক বছর বিরতি নিয়ে পুলিশ একাডেমিতে ভর্তি হন। তার বাবা কেভিন মার্সিয়েরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অক্সফোর্ড পুলিশ বিভাগের করপোরাল। বাবার পথ অনুসরণ করেই পুলিশে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অ্যাশলিন। পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তার মনে প্রশ্ন ছিল, একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী হওয়া সম্ভব হবে কি না। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে অ্যাশলিন বলেন, অন্যরা কী ভাববে, সেই চিন্তায় তিনি একসময় দ্বিধায় ছিলেন। পরে নিজের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে একসঙ্গে দুই ভিন্ন পরিচয় ধরে রাখার সুযোগ করে দেয়। তার মতে, একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে কেমন হওয়া উচিত, তার কোনো নির্দিষ্ট ছক নেই। যুক্তরাষ্ট্রে নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোট বাহিনীর তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ হলেও, পেশাগত পরিচয়ের জন্য নারীদের একটি নির্দিষ্ট চেহারা বা ব্যক্তিত্বে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি। অ্যাশলিনের বক্তব্য, একজন নারী একই সঙ্গে একাধিক স্বপ্ন অনুসরণ করতে পারেন। তার নিজের জীবনেও সেটিই তিনি দেখাতে চান। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি মিস আমেরিয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণীদের তিনি বোঝাতে চান, জীবনের একটি লক্ষ্য বেছে নিয়ে অন্য স্বপ্নগুলো ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার এই বার্তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগও। অ্যাশলিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মের নাম ‘নিকস কারেজ: ওয়ান স্মাইল গোস আ মাইল’। তার ছোট ভাই নিকোলাসের নামে এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে। নিকোলাস দুইবার শিশুদের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য ইতিবাচকতা, আশা ও সহায়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরাও অ্যাশলিনের এই যাত্রায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিস ম্যাসাচুসেটস হওয়ার খবর জানানোর পর থেকেই ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরা তাকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে শুরু করে তহবিল সংগ্রহের কাজে সহায়তা এবং শুভকামনার বার্তা পাঠানো, বিভিন্নভাবে তারা তার পাশে ছিলেন। শুধু নিজের সহকর্মীরাই নন, দেশজুড়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছেন অ্যাশলিন। তার দাবি, হাজারো নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেক তরুণীও তার গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে পুলিশে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। অ্যাশলিন মনে করেন, পুলিশিং ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষমতা প্রয়োজন। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে মঞ্চেও আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। তবে পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব আর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে অ্যাশলিন বলেন, পুলিশের শিফটের জন্য প্রস্তুত হতে তার মাত্র কয়েক মিনিট লাগে। চুল পেছনে বেঁধে সামান্য সাজগোজ করেই কাজে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু মিস আমেরিয়ার মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে তার অনেক বেশি সময় লাগে। অ্যাশলিনের শিক্ষাজীবনও বেশ সমৃদ্ধ। তিনি কানেকটিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অপরাধবিচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। মিস ম্যাসাচুসেটসের দায়িত্ব পালনের সময়ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। অর্থাৎ মুকুট পাওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় থেকে সরে দাঁড়াননি অ্যাশলিন। বরং দুই পরিচয়ের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন। মিস আমেরিয়ার মুকুট শেষ পর্যন্ত তার মাথায় উঠুক বা না উঠুক, অ্যাশলিনের কাছে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অন্য জায়গায়। তার লক্ষ্য, নিজের গল্পের মাধ্যমে তরুণীদের দেখানো যে একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াও সম্ভব। অ্যাশলিনের ভাষায়, তাকে অনেকবার বলা হয়েছে একটি বিষয় বেছে নিয়ে সেটিতেই মনোযোগ দিতে। কিন্তু তার বিশ্বাস, স্বপ্ন যদি একাধিক হয়, তাহলে সেগুলো একসঙ্গেও অনুসরণ করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের মেয়েদের সেই আত্মবিশ্বাস দেওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় বার্তা। সূত্র: ফক্স নিউজ
৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তা শেখ মিশা খাতুন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খুলনা থেকে ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে বাসটির যাত্রী শেখ মিশা খাতুন নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি বিএসটিআইয়ের খুলনা কার্যালয়ে পরীক্ষক (রসায়ন) পদে কর্মরত ছিলেন। বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তাকে পরীক্ষক (রসায়ন) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মজীবনে প্রবেশের পরও উচ্চতর ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মিশা। সেই লক্ষ্যেই ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকার পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় তার বিসিএস ভাইভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসার বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে পরীক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শেখ মিশা খাতুন। অল্প সময়ের কর্মজীবনেই তিনি সহকর্মীদের কাছে একজন তরুণ ও সম্ভাবনাময় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিএসটিআই পরিবার শোক জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকও তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় ডাকসু জানিয়েছে, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় তরুণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। মিশার সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতজনদের কাছে তার মৃত্যু আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে। বিএসটিআইয়ে কর্মরত থাকার পাশাপাশি তিনি সরকারি প্রশাসনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। ভাইভায় অংশ নেওয়ার জন্যই খুলনা থেকে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন তিনি। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গেড়াখোলা এলাকায় দুর্ঘটনার পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার অকালমৃত্যুতে একটি সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও থেমে গেল। শেখ মিশা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় বিএসটিআই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর জেলার পোল্লাচিতে বাবার বন্ধুর বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রেমিকের জন্য নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেন তিনি। গ্রেপ্তার তরুণীর নাম আর. জয় প্রিন্সি। তিনি পোল্লাচি গভর্নমেন্ট আর্টস কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পুলিশের দাবি, গত ১৬ আগস্ট প্রিন্সি তার বাবার বন্ধু এইচ. তামিলসেলভানের বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির আলমারিতে রাখা প্রায় ৭২ গ্রাম স্বর্ণালংকার চুরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশি হিসাবে এটি প্রায় ৬ ভরি ২ আনা স্বর্ণ। পরে চুরি করা স্বর্ণ পোল্লাচির একটি জুয়েলারি দোকানে প্রায় আড়াই লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সেই অর্থ দিয়েই নিজের প্রেমিক ২০ বছর বয়সী জনাগান শিবার জন্য একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন প্রিন্সি। নতুন মোটরসাইকেল কেনার পর শোরুমে প্রিন্সি ও তার প্রেমিকের উদযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এদিকে স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তামিলসেলভান পোল্লাচি ইস্ট থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ প্রিন্সিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। তবে প্রিন্সির প্রেমিক জনাগান শিবা এখনও পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিতে ইরানের প্রচলিত মানচিত্রের সঙ্গে পরিবর্তিত একটি মানচিত্র পাশাপাশি দেখানো হয়েছে। ছবিটির ‘বিফোর’ অংশে ইরানের স্বাভাবিক মানচিত্র দেখা যায়। আর ‘আফটার’ অংশে দেশটির সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সেটি ট্রাম্পের মুখমণ্ডল ও চুলের পাশের অবয়বের মতো দেখায়। তবে ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। ফলে কেন তিনি এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয় এবং এর মাধ্যমে ইরানের সীমান্ত পরিবর্তন বা নতুন কোনো ভৌগোলিক দাবির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করেছেন। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প একই সময়ে আরও কয়েকটি পোস্ট করেন। এসব পোস্টে ইরান ও চলমান সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন প্রতীকী ছবি প্রকাশের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার সময়ে দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে উপস্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ছবিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।করেন তিনি। এতে ‘বিফোর’ আগের অংশে ইরানের প্রচলিত মানচিত্র দেখানো হলেও ‘আফটার’ তথা পরের অংশে দেশটির সীমানা পরিবর্তন করে ট্রাম্পের মুখ ও চুলের পাশের অবয়বের মতো করে দেখানো হয়েছে। তবে ছবিটির সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা অর্থ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক নতুন মানচিত্র বা ইরানের সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং ট্রাম্পের পোস্ট করা পরিবর্তিত একটি ছবি। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আরও কয়েকটি পোস্টও করেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘ক্যাং কন’। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুদ্ধজাহাজটি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা গড়ে তুলবে। রোববার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান বন্দরে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন নতুন যুদ্ধজাহাজটি পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রি সল-জু ও মেয়ে কিম জু-এ। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, জাহাজটি দেশটির পূর্ব সাগর বহরে যুক্ত করা হয়েছে। কিম বলেন, নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ারকে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক পাল্টা-আঘাত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে সক্ষম হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যাং কন ডেস্ট্রয়ারে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, কেসিএনএ যুদ্ধজাহাজটি পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হবে বললেও এতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি। ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাং কন উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার। এর আগে একই শ্রেণির ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। গত জুলাইয়ে ক্যাং কন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও চালানো হয়েছিল বলে উত্তর কোরিয়ার দাবি। যুদ্ধজাহাজটির নির্মাণেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের মে মাসে প্রথমবার পানিতে নামানোর সময় এটি উল্টে যায়। পরে মেরামতের পর প্রায় এক মাসের মধ্যে আবার জাহাজটি পানিতে নামানো হয়। উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে নৌবাহিনী আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে। দেশটি পশ্চিম ও পূর্ব উভয় উপকূলে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন শ্রেণির আরও বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। এদিকে নতুন যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করার খবর এমন সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে সমালোচনা করে আসছে।