মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মুসলিমদের পাশে সিনেটর অ্যাডাম শিফ
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত জুয়িশ-আমেরিকান সামিটে মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাডাম শিফ। তিনি বলেছেন, মুসলিম আমেরিকানরা দেশটির সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে রয়েছেন।
৩০ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টসাইডে ২০২৬ জুয়িশ-আমেরিকান সামিট অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী ওই আয়োজনে ইহুদি পরিচয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক, ইহুদিবিদ্বেষ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মোসাব হাসান ইউসেফ, যিনি ‘দ্য গ্রিন প্রিন্স’ নামে পরিচিত।
সম্মেলনের শেষদিকে ইউসেফের সঙ্গে ‘বিইং জুইশ’ পডকাস্টের উপস্থাপক জোনাহ প্ল্যাটের একটি আলোচনা হয়। সেখানেই ইউসেফ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি নিজেকে করদাতা মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মুসলিমদের দেখতে চান না এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউসেফের বক্তব্যের কিছু অংশে উপস্থিত দর্শকদের একাংশ করতালি দেন। বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইউসেফের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বিভিন্ন ধর্ম ও পরিচয় থেকে এসেছে এবং মুসলিম আমেরিকানরা দেশটির সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে ওই ধরনের ঘৃণাভিত্তিক বক্তব্যের নিন্দা জানান।
শিফের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামতেও জুয়িশ-আমেরিকান সামিটে ইউসেফের বক্তব্যকে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। লেখাটিতে মুসলিম ও ইহুদি উভয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের বিরোধিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনের আয়োজকরা অবশ্য এটিকে ইহুদি আমেরিকানদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সম্মেলনটি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষের মধ্যে সংযোগ ও আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে।
ইউসেফের বক্তব্য নিয়ে মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলোও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সান দিয়েগো জুইশ ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিমদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ইউসেফের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে সম্মেলনের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বক্তব্যটির নিন্দা এবং ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অ্যাডাম শিফ দীর্ঘদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। মুসলিম আমেরিকানদের পক্ষে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাদ দেওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে তৈরি বিতর্কে একদিকে যেমন মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি সহনশীলতার সীমা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার লিখিত পরীক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ভুল করলে আবেদনকারীকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (ইউএসসিআইএস) সরকারি নির্দেশিকায় লিখিত পরীক্ষায় কোন ধরনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএসের স্কোরিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তার বলা একটি বাক্য লিখতে হয়। নির্ধারিত বাক্যটি সঠিকভাবে এবং বোঝা যায় এমনভাবে লিখতে পারলেই লিখিত ইংরেজির দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব। তবে উত্তরটি যদি নির্দেশিত বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, সেটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় প্রথম যে ভুলটি ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, সেটি হলো কর্মকর্তার বলা বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বা শব্দ লেখা। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে যে বাক্যটি লিখতে বলা হয়েছে, সেটির পরিবর্তে নিজের মতো করে অন্য কিছু লিখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। দ্বিতীয়ত, নির্দেশিত কোনো শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেও উত্তরটি ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মকর্তার বলা শব্দের জায়গায় সংক্ষিপ্ত রূপ লিখলে সেটি ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কিছু না লিখলে অথবা মাত্র এক-দুটি বিচ্ছিন্ন শব্দ লিখলে সেটিও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীর উচিত কর্মকর্তার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখার চেষ্টা করা। চতুর্থত, হাতের লেখা এতটাই অস্পষ্ট হলে যে কর্মকর্তা সেটি পড়তে বা বুঝতে না পারেন, সেই উত্তরও ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হবে। ইউএসসিআইএসের সরকারি স্কোরিং গাইডলাইনে সম্পূর্ণ অপাঠ্য লিখিত উত্তরকে সরাসরি ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, লিখিত বাক্যটি এমনভাবে লেখা হলে যাতে নির্দেশিত বাক্যের অর্থ বোঝা না যায়, সেটিও ব্যর্থতার কারণ। ফলে শুধু বানান বা লেখার সৌন্দর্য নয়, পরীক্ষার্থীর লেখা বাক্যটি কর্মকর্তার কাছে অর্থবোধক ও বোধগম্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ইংরেজি পরীক্ষার তিনটি অংশ রয়েছে, কথা বলা, পড়া এবং লেখা। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ তিনটি বাক্য দেওয়া হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারলেই এই অংশে ইংরেজিতে লেখার সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষার জন্য ইউএসসিআইএস একটি নির্দিষ্ট লিখিত শব্দভান্ডারের তালিকাও প্রকাশ করে, যার শব্দগুলো নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীকে ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়, যদি তিনি কোনো ছাড় বা অব্যাহতির যোগ্য না হন। ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানও যাচাই করা হয়। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার কোনো অংশে ব্যর্থ হলে তাকে সাধারণত দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম পরীক্ষার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং আগেরবার যে অংশে ব্যর্থ হয়েছেন, সাধারণত সেই অংশেই আবার পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাই নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কর্মকর্তার বলা বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, পূর্ণ বাক্য লেখা এবং হাতের লেখা স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত প্রস্তুতি উপকরণ ব্যবহার করে আগে থেকেই লিখিত অংশের অনুশীলন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ইউএসসিআইএস, লেজিট.এনজি।
মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মুসলিমদের পাশে সিনেটর অ্যাডাম শিফ
ডিউটির পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, মিস আমেরিকার মুকুট জয়ের লড়াইয়ে পুলিশ কর্মকর্তা
বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনায় অভিভাবকদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে আবেদনকারীর খরচ ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। বর্তমানে সাধারণ ভিজিটর ভিসা, অর্থাৎ ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও ১৮৫ ডলার আবেদন ফি প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু হওয়ায় মোট আর্থিক দায় অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভিসা বন্ডের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ভিসা কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করতে পারেন। তবে ভিসা বন্ড দিতে হবে শুধু তখনই, যখন কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে এ নির্দেশ দেবেন। শুধু নিজের ইচ্ছায় বন্ডের টাকা জমা দিলে তা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এই বন্ড সাধারণ ভিসা ফি নয়। ভিসা অনুমোদনের পর নির্ধারিত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বন্ডের টাকা যিনি জমা দেবেন, শর্ত পূরণ হলে ফেরতও তার কাছেই দেওয়া হবে। ভিসা আবেদন ফি অবশ্য ফেরতযোগ্য নয়। অর্থাৎ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি ফেরত পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বি-১/বি-২ ছাড়াও এফ-১ শিক্ষার্থী, এম-১ ভোকেশনাল স্টুডেন্ট, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরসহ বেশ কয়েকটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। কাজের জন্য এইচ, এল, ও, পি, কিউ ও আর ক্যাটাগরির মতো পিটিশনভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। ই-ভিসার ক্ষেত্রে ফি ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য কে-ভিসার আবেদন ফি ২৬৫ ডলার। ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে খরচের কাঠামো আলাদা। পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩৪৫ ডলার। অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ফি ২০৫ ডলার। এর বাইরে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পিটিশন, অর্থাৎ আই-১৩০ জমা দেওয়ার জন্য ৬৭৫ ডলার ফি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার জন্য ১২০ ডলার ফিও প্রযোজ্য হতে পারে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর গ্রিন কার্ড তৈরির জন্য ইউএসসিআইএস ইমিগ্র্যান্ট ফিও দিতে হয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিসার মেয়াদ ও প্রবেশের সংখ্যা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ রিসিপ্রোসিটি তালিকায় বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২ ভিসার জন্য কোনো আলাদা রিসিপ্রোসিটি ফি দেখানো হয়নি। একই তালিকায় এসব ভিসার মেয়াদ তিন মাস এবং প্রবেশের সংখ্যা একবার উল্লেখ করা হয়েছে। ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন থাকা যাবে, সেটি ভিসার মেয়াদের সঙ্গে এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তা অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করেন। তাই ভিসার গায়ে থাকা মেয়াদ দেখে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়। আরেকটি বিষয় হলো, ২০২৫ সালে আইন করে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের জন্য ২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টেগ্রিটি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, এই ফি ভিসা ইস্যুর সময় নেওয়া হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে সমন্বয় করা যেতে পারে। তবে এই ফি কীভাবে এবং কোথায় সংগ্রহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রয়োজনীয় ফি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দিতে হয় এবং ভিসা না পেলে আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়। ভিসার ধরন অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করা জরুরি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে শুধু ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি হিসাব করলেই হবে না। বিশেষ করে বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা বন্ডের সম্ভাব্য অর্থ, ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ এবং প্রযোজ্য অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন? চাকরি, শিক্ষা ও কমিউনিটি সহায়তার জন্য যেসব জায়গা চেনা ও জানা জরুরী
এনওয়াইপিডির বিশেষ স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশী সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে প্রাণীদের মধ্যে জলাতঙ্কের ঘটনা বাড়ায় জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্কতা জারি করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় একটি ভ্রাম্যমাণ পেটিং জুর কয়েকটি ছাগলের শরীরে জলাতঙ্ক শনাক্ত হওয়ার পর শত শত মানুষের সম্ভাব্য সংস্পর্শের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সময়ে আইডাহোতে এ বছর ইতোমধ্যে ২৪টি জলাতঙ্ক আক্রান্ত বাদুড় শনাক্ত হয়েছে, আর টেক্সাসের সান আন্তোনিও এলাকায় বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো পেটিং জুর ছাগলের সংস্পর্শে আসা ২৮৪ জনের জলাতঙ্কের ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে। তাদের মধ্যে ২১৩ জনকে পোস্ট এক্সপোজার প্রফাইল্যাক্সিস বা পিইপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব মানুষ ২৮ জুলাই থেকে ২৭ আগস্টের মধ্যে ফার্ম অ্যাডভেঞ্চার্স নামের একটি ভ্রাম্যমাণ পেটিং জুর ছাগলের সংস্পর্শে এসেছিলেন। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আইরেডেল কাউন্টির হারমোনিতে থাকা ওই পেটিং জুর তিনটি বাচ্চা ছাগলের পরীক্ষায় জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়েছে। আরেকটি ছাগল পরীক্ষা করা না হলেও সেটিও আক্রান্ত ছিল বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, জুলাইয়ের শেষ দিকে ছাগলগুলোর খোঁয়াড়ে ঢুকে পড়া একটি স্কাঙ্কের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ছাগলগুলো নর্থ ক্যারোলাইনার বিভিন্ন এলাকায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের জন্য আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছিল। ফলে সম্ভাব্য সংস্পর্শের পরিধিও বড় হয়েছে। আক্রান্ত ছাগলগুলোর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এদিকে আইডাহোতেও জলাতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৪টি জলাতঙ্ক আক্রান্ত বাদুড় পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে। গত তিন বছরের যেকোনো পুরো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি। বাদুড়ের সংস্পর্শে আসার সম্ভাব্য ঘটনা নিয়েও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে আগের তুলনায় বেশি ফোন আসছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানুষের বসতি বাড়ার কারণে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ বাড়তে পারে। তবে আইডাহোতে বাদুড়ের সংক্রমণ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বাসিন্দাদের বাদুড় ধরতে বা স্পর্শ না করতে এবং মানুষ বা পোষা প্রাণীর সম্ভাব্য সংস্পর্শ ঘটলে দ্রুত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। টেক্সাসের সান আন্তোনিওতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে বেক্সার কাউন্টিতে বন্যপ্রাণীর মধ্যে ২২টি জলাতঙ্কের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগের দুই বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র দুই থেকে তিনটি। এ সময় এক পোষা কুকুরের শরীরেও জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়েছে, যা বেক্সার কাউন্টিতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোনো পোষা কুকুরের প্রথম নিশ্চিত সংক্রমণ। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কুকুরটি জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি বাচ্চা স্কাঙ্ক মেরে ফেলার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস শনাক্ত হয়। সংস্পর্শে আসা মানুষ ও অন্যান্য পোষা প্রাণীকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। বন্য প্রাণী, বিশেষ করে বাদুড়, স্কাঙ্ক, র্যাকুন ও শেয়াল এ ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ বাহক। আক্রান্ত প্রাণীর লালা চোখ, মুখ, নাক বা কাটা-ছেঁড়া ত্বকে লাগলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, জলাতঙ্কের উপসর্গ শুরু হয়ে গেলে রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে সম্ভাব্য সংস্পর্শের পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই দ্রুত পিইপি নেওয়া হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাই পোষা কুকুর, বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন আপডেট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরিচিত বা বন্য প্রাণীকে স্পর্শ না করা এবং কোনো প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সম্ভাব্য সংস্পর্শ ঘটলে দেরি না করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার
চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার