সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার লিখিত পরীক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ভুল করলে আবেদনকারীকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (ইউএসসিআইএস) সরকারি নির্দেশিকায় লিখিত পরীক্ষায় কোন ধরনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
ইউএসসিআইএসের স্কোরিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তার বলা একটি বাক্য লিখতে হয়। নির্ধারিত বাক্যটি সঠিকভাবে এবং বোঝা যায় এমনভাবে লিখতে পারলেই লিখিত ইংরেজির দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব। তবে উত্তরটি যদি নির্দেশিত বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, সেটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
লিখিত পরীক্ষায় প্রথম যে ভুলটি ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, সেটি হলো কর্মকর্তার বলা বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বা শব্দ লেখা। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে যে বাক্যটি লিখতে বলা হয়েছে, সেটির পরিবর্তে নিজের মতো করে অন্য কিছু লিখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
দ্বিতীয়ত, নির্দেশিত কোনো শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেও উত্তরটি ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মকর্তার বলা শব্দের জায়গায় সংক্ষিপ্ত রূপ লিখলে সেটি ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।
তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কিছু না লিখলে অথবা মাত্র এক-দুটি বিচ্ছিন্ন শব্দ লিখলে সেটিও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীর উচিত কর্মকর্তার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখার চেষ্টা করা।
চতুর্থত, হাতের লেখা এতটাই অস্পষ্ট হলে যে কর্মকর্তা সেটি পড়তে বা বুঝতে না পারেন, সেই উত্তরও ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হবে। ইউএসসিআইএসের সরকারি স্কোরিং গাইডলাইনে সম্পূর্ণ অপাঠ্য লিখিত উত্তরকে সরাসরি ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, লিখিত বাক্যটি এমনভাবে লেখা হলে যাতে নির্দেশিত বাক্যের অর্থ বোঝা না যায়, সেটিও ব্যর্থতার কারণ। ফলে শুধু বানান বা লেখার সৌন্দর্য নয়, পরীক্ষার্থীর লেখা বাক্যটি কর্মকর্তার কাছে অর্থবোধক ও বোধগম্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ইংরেজি পরীক্ষার তিনটি অংশ রয়েছে, কথা বলা, পড়া এবং লেখা। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ তিনটি বাক্য দেওয়া হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারলেই এই অংশে ইংরেজিতে লেখার সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষার জন্য ইউএসসিআইএস একটি নির্দিষ্ট লিখিত শব্দভান্ডারের তালিকাও প্রকাশ করে, যার শব্দগুলো নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীকে ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়, যদি তিনি কোনো ছাড় বা অব্যাহতির যোগ্য না হন। ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানও যাচাই করা হয়।
ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার কোনো অংশে ব্যর্থ হলে তাকে সাধারণত দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম পরীক্ষার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং আগেরবার যে অংশে ব্যর্থ হয়েছেন, সাধারণত সেই অংশেই আবার পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তাই নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কর্মকর্তার বলা বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, পূর্ণ বাক্য লেখা এবং হাতের লেখা স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত প্রস্তুতি উপকরণ ব্যবহার করে আগে থেকেই লিখিত অংশের অনুশীলন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ইউএসসিআইএস, লেজিট.এনজি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাবেক মেয়র মিস্টি রবার্টস ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে পাওয়া ৯০ দিনের কারাদণ্ড শেষ করে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের সংশোধনাগারের নথি অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দিবসে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়। নির্বাচিত মেয়র থাকা অবস্থায় ওই কিশোরের সঙ্গে যৌন অপরাধের ঘটনায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। ৪৪ বছর বয়সী রবার্টসের কারাদণ্ড শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে মামলার বিচারক প্রসিকিউটরদের আরও কঠোর সাজা দেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। বিচারক কেন্ট সাভোয়া রবার্টসের সাজা নির্ধারণের সময় ৩০টির বেশি মামলার একটি তালিকা বিবেচনায় নিয়েছিলেন। এসব মামলার আসামিরা সমঝোতার মাধ্যমে দোষ স্বীকার করে মামলার নিষ্পত্তি করেছিলেন। তবে রবার্টসের মামলা জুরি বিচারের মাধ্যমে শেষ হয় এবং জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। ৩১ আগস্টের এক শুনানিতে বিচারক সাভোয়া প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, রবার্টসের সাজা নির্ধারণে তিনি যে তালিকা ব্যবহার করেছিলেন, সেটি বিবেচনার ক্ষেত্রে তার ভুল হয়েছিল। বিচারক বলেন, একই ধরনের মামলার একটি তালিকা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল এবং তিনি একটি ধারণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, সেই ধারণা ভুল ছিল। তবে রবার্টস দোষ স্বীকার না করে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অধিকার ব্যবহার করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। মার্চের শুরুতে জুরি রবার্টসকে অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারত। প্রসিকিউটররা প্রমাণ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রবার্টসের বাড়িতে আয়োজিত একটি সুইমিং পুলের অনুষ্ঠানে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে রবার্টস ও ওই কিশোর মদ্যপান করেছিলেন। ঘটনার সময় রবার্টস লুইজিয়ানার ডিরিডার শহরের মেয়র ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে তিনি মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মামলার ভুক্তভোগী ছিলেন স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং রবার্টসের ছেলের বন্ধু। তার ছেলে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। রবার্টসকে মাত্র তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি ডিরিডারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এই সাজাকে খুবই কম বলে সমালোচনা করেন। ডিরিডারের বাসিন্দা কারি ম্যাকগি স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা উচিত এবং এ বিষয়ে কোনো অজুহাত থাকা উচিত নয়। আরেক বাসিন্দা রায়ান ক্লার্ক রবার্টসের স্বল্পমেয়াদি সাজাকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন। কারাদণ্ড শেষ করে মুক্তি পেলেও রবার্টসের ওপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। পাশাপাশি ৫ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে এবং নিয়মিত মাদক পরীক্ষা করাতে হবে। তাকে মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসাও নিতে হবে। মুক্তির পর আরোপিত শর্ত ভঙ্গ করলে রবার্টসকে স্থগিত থাকা দুটি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড একই সময়ে ভোগ করতে হতে পারে। রবার্টস ৯ জুন সাজা ঘোষণার শুনানিতে নিজের দায় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময়ও নিজেকে দায়ী মনে করেছিলেন এবং এখনও নিজেকেই দায়ী মনে করেন। তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষকে হতাশ করেছেন এবং এর জন্য তিনিই দায়ী। সাজা ঘোষণার সময় রবার্টস ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছেও ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ওই কিশোরের উচ্চ বিদ্যালয়ের সময় ফিরিয়ে দিতে পারবেন না এবং ইন্টারনেটে অনেক মানুষের করা অপমান থেকে তাকে রক্ষা করতেও পারবেন না। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর মা রবার্টসের কঠোর সমালোচনা করেন এবং নিজের পরিবার থেকে দূরে থাকার কথা বলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার
মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মুসলিমদের পাশে সিনেটর অ্যাডাম শিফ
ডিউটির পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, মিস আমেরিকার মুকুট জয়ের লড়াইয়ে পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা কিছু বিবাহিত দম্পতি, যাদের একজন বাইরে কাজ করবেন আর অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তানের যত্ন নেবেন, তারা ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পরিকল্পনাটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বর্তমানে যে ফেডারেল তহবিল থেকে কম ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলো শিশু যত্নের খরচের জন্য সহায়তা পায়, সেই চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকেই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তহবিলটির আকার প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পরিবারকে যোগ্য হতে হলে আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি একজন বিবাহিত অভিভাবককে সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নেবেন। এ ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের যত্নকে শিশু পরিচর্যার একটি ধরন হিসেবে বিবেচনা করে ভাতা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণত বাবা-মাকে কাজ, পড়াশোনা অথবা প্রশিক্ষণে থাকার শর্ত পূরণ করতে হয়। সরকারি সহায়তাটি মূলত শিশুদের ডে-কেয়ার বা অন্যান্য পরিচর্যার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে একই তহবিলের অর্থ বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করা কিছু পরিবারও পেতে পারে। বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবার শিশু যত্নের ভর্তুকি পাচ্ছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে একক কর্মজীবী অভিভাবক রয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই নারী। নতুন পরিকল্পনার সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, একই পরিমাণ অর্থ আরও বেশি পরিবারের মধ্যে ভাগ হলে কর্মজীবী ও একক অভিভাবকদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাড়িতে থাকা অভিভাবককে সরাসরি অর্থ দেওয়ার ফলে শিশু যত্নের বর্তমান বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলো শিশু হারালে আয় কমে যেতে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, পরিকল্পনাটির সমর্থকেরা বলছেন, সন্তান লালন-পালনে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের অবদানও আর্থিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে পরিবার ও শিশুদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে নতুন নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ ও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে।
আমেরিকার ভিসা পেতে কত টাকা লাগে? আবেদন থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত খরচ কত বাংলাদেশীদের জন্য নতুন হিসাব
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন? চাকরি, শিক্ষা ও কমিউনিটি সহায়তার জন্য যেসব জায়গা চেনা ও জানা জরুরী
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) ১ম প্রিসিঙ্কট থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক। জননিরাপত্তায় অবদান, দায়িত্বনিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে একটি সার্টিফিকেট অব রিকগনিশন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বার্তায় সার্জেন্ট মোহাম্মদ হককে অভিনন্দন জানিয়েছে। তিনি বাপার ১ম প্রিসিঙ্কট ডেলিগেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বাপার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে তার নিষ্ঠা, পেশাদার আচরণ এবং জননিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য এই স্বীকৃতি তার প্রাপ্য। সংগঠনটি তার এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছে। নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। সার্জেন্ট মোহাম্মদ হকের এই স্বীকৃতিকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কমিউনিটির জন্যও একটি সম্মানজনক অর্জন হিসেবে দেখছে বাপা।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে জলাতঙ্ক নিয়ে সতর্কতা, বাড়ছে সংক্রমিত প্রাণীর সংখ্যা
তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার