- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাজ্যে এক মুসলিম ট্যাক্সি চালককে যাত্রীদের কুকুর দিয়ে ভয় দেখানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় পেছনের আসনে থাকা যাত্রীরা একটি ছোট কুকুরকে চালকের দিকে এগিয়ে দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে চালক গাড়ি থামিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চালক কুকুরটি দেখে স্পষ্টভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে যাত্রীদের একজন কুকুরটিকে চালকের মাথার দিকে এগিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চালক গাড়ি থামিয়ে বাইরে চলে যান এবং আর গাড়িতে ফিরতে রাজি হননি। যাত্রীরা ঘটনাটিকে ‘প্র্যাঙ্ক’ বা মজা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে ঘটনাটিকে মুসলিম পরিচয়ের কারণে চালককে লক্ষ্য করে হয়রানি হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে চালকের নাম, ঘটনাস্থলের নির্দিষ্ট শহর কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ঘটনাটিকে নিছক মজা নয়, বরং চালকের জন্য বিপজ্জনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালককে ভয় দেখানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে নির্ধারিত স্বীকৃতি ও শিক্ষার মানদণ্ড পূরণ না করার অভিযোগে মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে রাজ্য সরকার। এখন পর্যন্ত ২০টি মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সিলগালা করা হয়েছে এবং আরও তিনটির কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি জানিয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে দেহরাদুন ও হালদোয়ানির পাঁচটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেহরাদুনে একটি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে, আর দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ নিজেরাই কার্যক্রম বন্ধের লিখিত ঘোষণা দিয়েছে। হালদোয়ানিতে আরও দুটি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘুবিষয়ক বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, নির্ধারিত স্বীকৃতি ও শিক্ষার মানদণ্ড পূরণ না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়ম ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। এই অভিযান উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে রাজ্যের পুরোনো মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতি কাঠামো চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। নতুন ব্যবস্থায় মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান, শিখ, পারসি, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামো চালুর আগে উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা বোর্ডের স্বীকৃত ৪৫২টি মাদ্রাসা ছিল। এর আগে স্বীকৃতির জন্য আবেদন না করা ২০০টির বেশি মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছিল। এদিকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তা নিয়ে ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। আদালত বলেছিল, সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার থাকলেও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন নতুন এক জরিপে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে এ বিষয়ে জরিপ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায়ও ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছায়, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বাড়ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ। দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন এক গ্যালাপ জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার এই হার ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপে এই হার ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করতেন সরকারি দুর্নীতি ব্যাপক। ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ উল্লেখযোগ্য। তাদের ৯০ শতাংশ মনে করেন, সরকারের দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে, ৮৩ শতাংশ রিপাবলিকান একই মত দিয়েছেন। গত দুই বছরে রিপাবলিকানদের মতামতে তুলনামূলকভাবে কম পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ৮৭ শতাংশ রিপাবলিকান সরকারের দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেছিলেন। গ্যালাপ বলছে, দুই দলের মানুষের এই ধারণার পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসে কোন দল ক্ষমতায় আছে, তার সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ে তাদের ধারণার সম্পর্ক বেশি দেখা যাচ্ছে। বিপরীতে, রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির রয়েছে। শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ বেড়েছে। জরিপে ৭১ শতাংশ বলেছেন, ব্যবসায় দুর্নীতিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গত বছরের তুলনায় এই হার ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে ব্যবধান এবার বেশ বড়। সরকারের ক্ষেত্রে ৮৯ শতাংশ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ—অর্থাৎ ১৮ শতাংশীয় পয়েন্টের পার্থক্য। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে এটাই এই দুই সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। গ্যালাপের তথ্য বলছে, অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায়ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের ধারণা এখন বেশ নেতিবাচক। রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও দুই দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশই মনে করছেন, দেশটির সরকারের দুর্নীতি একটি ব্যাপক সমস্যা।
২০১৭ সালের চীনের গোল্ডেন উইক ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া তিন চীনা নারীকে ঘিরে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। ছবিতে দেখা যায়, মুখ ব্যান্ডেজে ঢাকা ও ফুলে থাকা অবস্থায় তারা হাতে পাসপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে বসে আছেন। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তাদের চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে এতটাই অমিল হয়েছিল যে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি এবং তাদের দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়। তবে পরে জানা যায়, ঘটনাটির এই বর্ণনা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় ভাইরাল দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিন নারীকে পরিচয় যাচাই করতে আটকে রাখা বা ফ্লাইটে উঠতে না দেওয়ার দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব তথ্য পাওয়া যায়নি। ছবিটি প্রথমে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে চীনা টেলিভিশন উপস্থাপক জিয়ান হুয়াহুয়া প্রকাশ করেছিলেন। পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, গোল্ডেন উইকের ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করানোর পর ওই নারীরা দেশে ফেরার সময় সমস্যায় পড়েছেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে আরও নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এমনকি তাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় সেই দাবিকে ‘তথ্যভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করে। ফলে ভাইরাল ছবিটি সত্য হলেও ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পুরো গল্পকে সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া বিদেশি রোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন নয়। অস্ত্রোপচারের পর মুখে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে ভ্রমণের সময় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে কিছু ক্লিনিক বিদেশি রোগীদের অস্ত্রোপচারের তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে থাকে। সৌন্দর্য বাড়ানোর আশায় প্লাস্টিক সার্জারি করলেও অস্ত্রোপচারের পরপরই ভ্রমণ করলে শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি পরিচয় যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে তিন চীনা নারীকে ঘিরে ২০১৭ সালের ভাইরাল ঘটনাটি যে বিমানবন্দরে আটকে পড়ার সত্য ঘটনা ছিল, সে দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ফ্রান্সে জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার ডানপন্থী প্রস্তাবের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রচারণা শুরু করেছেন দেশটির একদল নারী। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা নিজেদের হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ন্যাশনাল র্যালি বা আরএন-এর প্রস্তাব ঘিরে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে, তখনই এই অনলাইন উদ্যোগ সামনে এসেছে। প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ লিখেছেন, “হিজাব পরা আমাদের সব সহনাগরিকের সমর্থনে।” আবার কেউ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইন পাস হলে সংহতি জানাতে তিনি নিজেও সঙ্গে সঙ্গে হিজাব পরবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই প্রচারণার পেছনে রয়েছে ফ্রান্সের ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির হিজাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা। দলটির এমপি জ্যঁ-ফিলিপ তাঙ্গি গত ৩০ আগস্ট এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে জনসমক্ষে হিজাব পরার ক্ষেত্রে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে দলের অবস্থান চূড়ান্ত হয়েছে। তবে ন্যাশনাল র্যালির প্রস্তাবটি সরাসরি নির্বাচনের পরদিন কার্যকর করার কথা নয়। দলটির নেতা জর্ডান বারদেলা জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এটিকে বৃহত্তরভাবে ইসলামপন্থী মতাদর্শ নিয়ে একটি গণভোটের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। প্রস্তাবটি নিয়ে ফ্রান্সে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্নও উঠেছে। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরাও জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন। ফ্রান্সে বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের সময় দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না। ২০০৪ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের বড় বা স্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার আওতায় মুসলিম হিজাবও পড়ে। তবে জনসমক্ষে হিজাব পরার ওপর দেশজুড়ে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে নেই। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হিজাব ইস্যুটি ফ্রান্সের রাজনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ন্যাশনাল র্যালি এটিকে তাদের নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ করছে, আর বিরোধীরা বলছেন, প্রস্তাবটি বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জাপানের টোকিও মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল জরায়ুমুখে লেজার অস্ত্রোপচারের সময় ঘটে বিরল এক দুর্ঘটনা। ৩০-এর কোঠার এক নারী রোগীর অন্ত্র থেকে বের হওয়া গ্যাস লেজারের সংস্পর্শে এসে আগুনের সূত্রপাত করে বলে তদন্তে উঠে আসে। আগুন পরে সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর কোমর ও দুই পাসহ শরীরের নিচের অংশে গুরুতর দগ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় চিকিৎসকেরা রোগীর জরায়ুমুখে লেজার দিয়ে অস্ত্রোপচার করছিলেন। অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে রোগীর অন্ত্রের গ্যাস বের হয়ে লেজারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাসটি লেজারের তাপে জ্বলে ওঠে এবং আগুন দ্রুত সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বাইরে থেকে আনা বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করে। তদন্তে অপারেশন থিয়েটারে অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতেও কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা একটি ডামি ব্যবহার করে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণ করেও সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করেন। বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর অন্ত্রের গ্যাস অপারেশন কক্ষের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পর লেজারের সংস্পর্শে আগুন ধরে যায়। এরপর আগুন সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে অপারেশন থিয়েটারের কর্মীদের অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে অন্ত্রের গ্যাস যেন লেজারের সংস্পর্শে না আসে, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। মানবদেহ থেকে বের হওয়া অন্ত্রের গ্যাসে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস থাকে, যার মধ্যে হাইড্রোজেন ও মিথেন দাহ্য হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি সাধারণত কোনো বিপদের কারণ নয়। কিন্তু লেজারের মতো শক্তিশালী তাপের উৎসের একেবারে কাছে এমন গ্যাসের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল পরিস্থিতিতে আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঘটনাটি ১৫ এপ্রিল ঘটলেও হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০১৬ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এরপর অস্বাভাবিক এই দুর্ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করার পর কয়েক মাস ধরে চাকরি খুঁজছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তরুণ সাই প্রদীপ। শেষ পর্যন্ত ২১ আগস্ট টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি না পাওয়া এবং আর্থিক চাপ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে চাকরি না পাওয়াই তার মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। দাম্মাইগুডার বাসিন্দা সাই প্রদীপ ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি সাউথ ক্যারোলিনার অ্যান্ডারসন ইউনিভার্সিটির কলেজ অব বিজনেস থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই চাকরির সন্ধান করছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে প্রায় চার মাস ধরে চাকরি খুঁজছিলেন প্রদীপ। পরিবার ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় কমিউনিটির কিছু পোস্টে তার চাকরি খুঁজতে গিয়ে মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকটে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রদীপের খালাতো বোন দীপ্তি তার দেশে মরদেহ ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। সেখানে তিনি প্রদীপকে কৌতূহলী, পরিশ্রমী ও নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী একজন তরুণ হিসেবে স্মরণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি দ্রুত স্প্যানিশ ভাষাও শিখেছিলেন বলে ওই তহবিল সংগ্রহের পাতায় উল্লেখ করা হয়। তার মৃত্যুতে হায়দরাবাদে থাকা পরিবার ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রদীপের মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর চাকরি খুঁজতে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান, আর্থিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কখনও কখনও বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। প্রদীপের মৃত্যুর ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে সরকারি সার্কিট হাউসের ভেতরের সড়কে নামাজ পড়ার অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জনসাধারণের চলাচলে বাধা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর মোরাদাবাদের সরকারি সার্কিট হাউসে সমাজবাদী পার্টির নেতাদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবও অবস্থান করছিলেন। বৈঠক শেষে উসমান সার্কিট হাউসের বাইরে একটি গাড়ির পাশে নামাজ পড়েন বলে অভিযোগ। পরে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উসমান তার গাড়িটি সার্কিট হাউসে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে রেখে গাড়িটির পেছনে নামাজ পড়ছিলেন। এতে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সার্কিট হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর করা হয়। মোরাদাবাদের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ধারা জনসাধারণের চলাচলের পথে বিপদ বা বাধা সৃষ্টি এবং ২৯২ ধারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত। হাজি মোহাম্মদ উসমান বিলারি আসনের সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফহিম ইরফানের চাচা। এ ঘটনায় উসমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি ইবাদতের বিষয় এবং তিনি কোনো অপরাধ করেননি। ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ যে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করেছে, তা এখন তদন্তাধীন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে উসমানকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
কলম্বিয়ার ট্রান্স পুরুষ ম্যাক্সিমো কাস্তেয়ানোস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ছবিটি প্রথম প্রকাশের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে সমর্থন জানালেও, কেউ কেউ তার লিঙ্গপরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ম্যাক্সিমো কাস্তেয়ানোস কলম্বিয়ার সান্তান্দের এলাকার বাসিন্দা। ২০২০ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর একটি ছবি প্রকাশ করেন। পরে জানা যায়, ছবিটি এরও আগে তোলা হয়েছিল। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে তার লিঙ্গপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন ব্যবহারকারী। সমালোচনার জবাবে ম্যাক্সিমো নিজের পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন, তিনি নিজেকে সবসময়ই একজন পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতার মধ্যেও তার পরিচয় একজন পুরুষ হিসেবেই রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জবাবে ম্যাক্সিমো বলেন, তিনি একজন পুরুষ হিসেবেই সন্তান ধারণ, গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে নিজের পরিচয় নিয়ে অন্যদের প্রশ্ন না তুলে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। ম্যাক্সিমোর এই ঘটনা নতুন নয়। কলম্বিয়ার সরকারি সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের একটি প্রকাশনাতেও তার গর্ভধারণ ও সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে কুন্দিনামার্কা সরকারের আয়োজিত একটি স্তন্যপান বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি ট্রান্স পুরুষ হিসেবে গর্ভধারণ ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়েও বক্তব্য দেন। ছবিটি ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি অনেকেই ম্যাক্সিমো ও তার পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও উঠে আসে, যা ট্রান্স ব্যক্তিদের পরিচয় ও পারিবারিক জীবন নিয়ে অনলাইন বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসে। ম্যাক্সিমোর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল নিজের পরিচয়ের প্রতি সম্মান এবং পরিবারকে ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে বড় করে তোলা। সন্তান জন্ম দেওয়া বা তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা তার কাছে নিজের পুরুষ পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যবাজারে গরু ছাড়াই তৈরি দুধের প্রোটিন ধীরে ধীরে মূলধারার বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে জায়গা করে নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাকে অনেক সময় ‘ল্যাবে তৈরি খাবার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এর বড় একটি অংশ আসলে বিশেষ ধরনের গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি দুধের প্রোটিন। ইতোমধ্যে আইসক্রিম, ক্রিম চিজসহ বিভিন্ন দুধজাত পণ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড ব্রেয়ার্স। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি পারফেক্ট ডে-এর তৈরি গাঁজনভিত্তিক দুধের প্রোটিন ব্যবহার করে ল্যাকটোজমুক্ত চকলেট আইসক্রিম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আনে। এতে প্রচলিত গরুর দুধের পরিবর্তে এমন হুই প্রোটিন ব্যবহার করা হয়েছে, যার আণবিক গঠন প্রচলিত দুধের হুই প্রোটিনের সঙ্গে একই বলে জানিয়েছে পারফেক্ট ডে। পণ্যটি ল্যাকটোজ ও কোলেস্টেরলমুক্ত। এই প্রযুক্তির নাম ‘নির্ভুল গাঁজন’ বা প্রিসিশন ফারমেন্টেশন। এতে নির্দিষ্ট অণুজীব ব্যবহার করে গরুর দুধে পাওয়া প্রোটিন তৈরি করা হয়। পারফেক্ট ডে-এর ক্ষেত্রে অণুজীবকে প্রয়োজনীয় জিনগত নির্দেশনা দেওয়ার পর গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিটা-ল্যাক্টোগ্লোবিউলিনসহ দুধের প্রোটিন তৈরি করা হয়। পরে অণুজীব আলাদা করে প্রোটিন সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ, এটি গরুর কোষ থেকে ল্যাবে দুধ বা মাংস উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়। বরং গরু ছাড়াই দুধের নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির একটি আধুনিক গাঁজন পদ্ধতি। এই প্রোটিনের গঠন প্রচলিত দুধের প্রোটিনের সঙ্গে একই হওয়ায় তা বিভিন্ন প্রচলিত খাদ্যপণ্যে ব্যবহার করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, পারফেক্ট ডে-এর প্রাণীহীন হুই প্রোটিন নির্দিষ্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত বা ‘সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত’ শ্রেণির আওতায় রয়েছে। ২০২০ সালে এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি না থাকার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। তবে এটিকে সরাসরি ‘এফডিএ অনুমোদিত’ বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ এ ধরনের খাদ্য উপাদান সাধারণত ওষুধের মতো এফডিএর কাছ থেকে আলাদা অনুমোদন নেয় না। ‘সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত’ ব্যবস্থার অধীনে কোনো খাদ্য উপাদান নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সে বিষয়ে এফডিএকে অবহিত করা যায়। শুধু ব্রেয়ার্স নয়, বড় খাদ্য কোম্পানিগুলোও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে। নেসলে পারফেক্ট ডে-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রাণীহীন দুধের প্রোটিন ব্যবহার করে বিভিন্ন দুধজাত পণ্য তৈরি ও পরীক্ষা করেছে। কোম্পানিটির গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। স্টারবাকসও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের দুটি দোকানে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাণীহীন দুধের পণ্য ব্যবহার করেছিল। তবে এটিকে স্টারবাকসের ব্যাপক বা স্থায়ীভাবে বাজারজাত করা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরবর্তী সময়ে এই পরীক্ষার বড় পরিসরে সম্প্রসারণের নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি। প্রিসিশন ফারমেন্টেশনের অন্যতম আকর্ষণ পরিবেশগত সম্ভাবনা। পারফেক্ট ডে-এর তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা করা জীবনচক্র মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রচলিত হুই প্রোটিন উৎপাদনের তুলনায় তাদের প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ এবং পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ কমতে পারে। তবে এগুলো পারফেক্ট ডে-এর নিজস্ব পণ্যের মূল্যায়ন থেকে পাওয়া তথ্য। তাই সব ধরনের প্রিসিশন ফারমেন্টেশন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একই মাত্রার পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়। পণ্যের মোড়কে তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদানকে সাধারণত ‘ল্যাবে তৈরি খাবার’ নামে আলাদা করে বাজারজাত করা হয় না। উপাদান তালিকায় ‘প্রাণীহীন হুই প্রোটিন’ বা এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে প্রোটিনটির আণবিক গঠন প্রচলিত দুধের প্রোটিনের মতো হওয়ায় দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের পণ্যে দুধ-সম্পর্কিত অ্যালার্জির সতর্কতাও থাকতে পারে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘গ্রাহকদের অজান্তে গোপনে ল্যাবে তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে’ ধরনের দাবি পুরো বাস্তবতাকে তুলে ধরে না। প্রযুক্তিটি প্রকাশ্যেই খাদ্য কোম্পানিগুলো পরীক্ষা ও ব্যবহার করছে এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের নিরাপত্তা ও লেবেলিংয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক কাঠামোও রয়েছে। গরু ছাড়াই দুধের প্রোটিন তৈরির এই প্রযুক্তি এখনো খাদ্যশিল্পের তুলনামূলক নতুন একটি ক্ষেত্র। উৎপাদন খরচ, ভোক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা, পণ্যের লেবেলিং এবং পরিবেশগত সুবিধা নিয়ে আরও গবেষণা ও বাজার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
মাদক মামলায় মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফা এবং আরও ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার কায়রোর একটি ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল সংগ্রহ ও পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। মামলায় মোট ২৮ জন আসামি ছিলেন। আদালত একই মামলায় আরও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং সাতজনকে খালাস দিয়েছেন। মামলায় ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। ৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা ‘মিশন ইমপসিবল’ নামে একটি নিরাপত্তা ও অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। বেসরকারি আল-মেহওয়ার টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হতো। টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে; ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী দুই মিলিয়নের বেশি। তবে খলিফা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি বলেছেন, জীবনে কখনো সিগারেটও পান করেননি এবং তিনি নির্দোষ। মামলার তদন্তে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই চক্র বিদেশ থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করত। পরে আবাসিক ভবনে এসব উপকরণ মজুত করে কৃত্রিম মাদক তৈরি করা হতো। চক্রের সদস্যদের মধ্যে কাঁচামাল সংগ্রহ, মাদক তৈরি ও সরবরাহের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও জব্দ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তদন্তের অংশ হিসেবে সারাহ খলিফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়া হয়েছে। দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আদালতকে এ মতামত নিতে হয়। তবে এই মতামত বাধ্যতামূলক নয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিচারিক সংস্কারের আওতায় আসামিরা প্রথমে আপিল আদালতে পুনর্বিচারের আবেদন করতে পারেন এবং এরপর ক্যাসেশন কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে শনিবারই একই আদালত অন্য একটি মামলায় সারাহ খলিফাকে তার গাড়িচালককে মারধর ও সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মিসরে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি হাইস্কুলের মেয়েদের লকার রুমে চারটি রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়ার ঘটনায় স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের নাম এরিক জেমস (৫৩)। তিনি ওয়েলসবার্গের ব্রুক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলের মেয়েদের শরীরচর্চার লকার রুমে চারটি রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ছিল আলাদা একটি লকার রুমে এবং আরেকটি স্কুলের ড্যান্স দলের সদস্যদের ব্যবহৃত ড্রেসিং এরিয়ায়। বুধবার শিক্ষার্থীদের ছুটি হওয়ার পর ব্রুক কাউন্টি স্কুলস কর্তৃপক্ষকে লকার রুমে রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়। এরপর স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী, কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ডিভাইসগুলো ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমসের বাড়ি থেকেও অতিরিক্ত কয়েকটি রেকর্ডিং ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নর্দার্ন রিজিওনাল জেলে রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার। . তার বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে তারবার্তা, মৌখিক বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ গোপনে ধারণ করা বা ধারণের চেষ্টা এবং আবাসিক নয় এমন স্থাপনায় বেআইনিভাবে প্রবেশ। তদন্ত চলাকালে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুলের কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্রুক কাউন্টি স্কুলস। স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা তাদের মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্বের সঙ্গে আপস করে এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রাচীন নিদর্শন পাচারের অভিযোগের তদন্তে ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ করেছে ফেডারেল এজেন্টরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা সামগ্রীর কিছু প্রাচীন সভ্যতার এবং সেগুলোর বয়স ১ হাজার থেকে ৫ হাজার বছর পর্যন্ত হতে পারে। এটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জব্দের ঘটনাগুলোর একটি। জব্দ করা নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে গ্রিক ও রোমান মুদ্রা, পোড়ামাটির পাত্র, ফুলদানি, মূর্তি, অস্ত্র, গয়না, বিভিন্ন অলংকার এবং মোজাইক নকশার ফ্রেম। এসব সামগ্রী ইউরোপ, আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানটি পরিচালনা করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) টাম্পা কার্যালয়। এতে তাদের সঙ্গে কাজ করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এবং এইচএসআইয়ের কালচারাল প্রপার্টি, আর্ট অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ বিভাগ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। জব্দ করা নিদর্শনগুলোর মোট আর্থিক মূল্য এবং ঠিক কোথা থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রাচীন নিদর্শনগুলোর সত্যতা ও বয়স যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার শিক্ষক ও গবেষকেরা এসব সামগ্রীর বিশ্লেষণ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ এবং সংরক্ষণে সহযোগিতা করছেন। মাদকদ্রব্য শনাক্ত করার মতো প্রাচীন নিদর্শন যাচাইয়ের কোনো তাৎক্ষণিক মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা নেই। ফলে বিপুলসংখ্যক সামগ্রীর প্রতিটি আলাদাভাবে পরীক্ষা ও সত্যতা যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এইচএসআইয়ের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের কালচারাল প্রপার্টি অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ কর্মসূচির সিনিয়র উপদেষ্টা মেরি কুক বলেন, এত বিপুলসংখ্যক নিদর্শন শনাক্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। যেসব সামগ্রী আসল প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো একেকটি অনন্য ঐতিহাসিক সম্পদ। তাই প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এইচএসআই টাম্পার ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ মাইকা ম্যাককম্বস বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, ইতিহাস ও মানবতার প্রতিও এটি একটি দায়িত্ব। তাঁর ভাষ্য, সাংস্কৃতিক সম্পদ পাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন সভ্যতা তাদের ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের পাচার আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের অর্থের জোগান, আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব নিদর্শন সত্যিকারের প্রাচীন ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হবে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে ফিরিয়ে দিতে দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে এইচএসআই।
নরসিংদীর সদর উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার বাবা হালিম মিয়ার (৪০) বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের পাশাপাশি ঘটনাগুলোর ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন তিনি। সম্প্রতি পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয়রা তাকে আটক করতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাটি সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত হালিম মিয়া পেশায় মিশুকচালক। তিনি দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরেও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ১৪ বছর বয়সী মেয়েটিই ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকেন। এ সুযোগে সৎ মা বাড়ির বাইরে থাকলে মেয়েটিকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন হালিম। পরে ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ভুক্তভোগীর সৎ বোন গর্ভবতী অবস্থায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় হালিমের মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তিনি কয়েকটি ভিডিও দেখতে পান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয়রা হালিমকে আটক করার জন্য তার বাড়িতে যান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ ভূইয়া বলেন, জীবিকার তাগিদে মেয়েটির মা প্রবাসে থাকেন। সৎ মা বাসার বাইরে গেলে হালিম সুযোগ নিয়ে মেয়েটিকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতেন। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান। ধর্ষণের পর হালিম নিজেই ছোট ছোট ভিডিও ধারণ করে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাসুদ ভূইয়া আরও বলেন, ভুক্তভোগীর সৎ বোন গর্ভবতী হওয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে হালিমের মোবাইল ফোন ঘাঁটতে গিয়ে ভিডিওগুলো দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা হালিমকে আটক করতে তার বাড়িতে যান। তবে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, মেয়েটি প্রায় ছয় মাস ধরে বাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মুসা বলেন, তাদের গ্রামে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। তিনি এ ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেন। নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল তার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। অভিযুক্ত বাবা পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে ১ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচারে নামছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সুপার প্যাক এমএজিএ ইনকরপোরেটেড। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে জমা দেওয়া নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজ ও রয়টার্স। এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের প্রথম বড় ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যয়। পুরো টেক্সাসজুড়ে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে। প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর লড়াইকে বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে টালারিকোর করনীতি ও গ্রামীণ হাসপাতালসংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে শিশু কর-ছাড় দ্বিগুণ করা, চিকিৎসা ব্যয়ে করছাড় এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার ডলারের করছাড়ের প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে। এদিকে টালারিকোর প্রচারশিবির এই বিপুল অর্থের বিজ্ঞাপনকে ‘বিলিয়নিয়ার-সমর্থিত ডার্ক মানি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনকে দুর্বল করতেই এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের মুখপাত্র অ্যালেক্স ফাইফার টালারিকোকে ‘হাই ট্যাক্স টালারিকো’ বলে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, তাঁর নীতির কারণে টেক্সাসের মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। টালারিকোর প্রচারশিবির এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে, যার বড় অংশ এসেছে ছোট দাতাদের কাছ থেকে। প্যাক্সটনের প্রচারশিবির সংগ্রহ করেছে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের হাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ কোটি ডলার নির্বাচনী তহবিল রয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে। টেক্সাসের এই সিনেট লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটন দলের প্রাইমারিতে সাবেক সিনেটর জন কর্নিনকে হারিয়ে মনোনয়ন পান। এখন তাঁর সামনে ডেমোক্র্যাট টালারিকো। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদে সরকারি সার্কিট হাউসের ভেতরে নামাজ পড়ার অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির (সপা) জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর মুরাদাবাদের সার্কিট হাউসে সপা নেতাদের একটি বৈঠক হয়। পরে উসমানকে নিজের গাড়ির পাশে নামাজ পড়তে দেখা যায় - এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সার্কিট হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের (পিডব্লিউডি) জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার অনিত কুমার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, উসমান গাড়ি এমনভাবে রাখেন এবং সেখানে নামাজ পড়েন, যাতে সার্কিট হাউসে যাতায়াতকারী মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। ২৮৫ ধারা জনসাধারণের চলাচলের পথে বিপদ বা বাধা সৃষ্টি এবং ২৯২ ধারা জনদুর্ভোগ বা জনউৎপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে উসমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নামাজ পড়েছেন এবং এতে কোনো অপরাধ করেননি। তার দাবি, নামাজ পড়ার কারণে কারও চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা মামলাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন সরকারি স্থাপনায় ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। উসমান মুরাদাবাদ জেলা সপা-র সহসভাপতি এবং বিলারি আসনের সপা বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের দুটি মার্কিন নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারের এই হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অভিযান চালায়। মার্কিন একটি বিমানবাহী রণতরী ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার হামলা এড়িয়ে যায়। হামলায় তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়। এর মধ্যে একটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে এবং আরেকটি জাস্কের কাছে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় জাহাজটি ওমান উপসাগরে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজগুলো ইরানের আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নে ব্যবহৃত একটি ‘শ্যাডো অয়েল নেটওয়ার্কের’ অংশ। তবে এই অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, দুটি মার্কিন নৌযানে হামলা চালালে ইরানকে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে আরও অভিযান চালানো হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন হামলা ও নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক নৌযানকে আরও কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরও দাবি করেছে, তারা তিনটি জাহাজ ও তিনটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এই পাল্টা হামলার দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠকটি হয়। তবে আলোচনার পর কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, উইটকফ ও কুশনার পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ‘সাবস্ট্যানশিয়াল প্ল্যান’ বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। বৈঠকের পর দুই মার্কিন দূত ইউক্রেনে গিয়ে একই বিষয়ে আরও আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। শনিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উইটকফ ও কুশনার। রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক, অত্যন্ত খোলামেলা ও কার্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। উশাকভ জানান, মার্কিন দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধানের বিভিন্ন পথ নিয়ে কয়েকটি ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে তিনি সেসব প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। পুতিনও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের অগ্রগতি এবং যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। আলোচনায় শুধু যুদ্ধ নয়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন ঘণ্টার বেশি আলোচনার পরও কোনো বড় ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে রাশিয়ার দাবি এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে মস্কোর অবস্থান এখনও গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কিয়েভ নিজেদের ভূখণ্ড নিয়ে ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাঁর দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘কংক্রিট প্রস্তাব’ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনে যাচ্ছেন। তবে সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো সফরের পর আজ রোববার উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ যাওয়ার কথা। এটি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কিয়েভে তাদের প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তাদের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দূতদের সঙ্গে আলোচনার সময় যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে কথা হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর জেলেনস্কি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আলোচনার সময় দুই দেশের রাজধানীতে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। মার্কিন দূতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই মস্কো ও কিয়েভে হামলা না চালানোর বিষয়ে সাময়িক সম্মতি জানিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, কিয়েভে তিন দিন হামলা না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কিও বলেছেন, ইউক্রেন একই সময়ে মস্কোতে হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে এই সাময়িক বিরতি কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বৈঠকে পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি করছে এবং নিজেদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে মস্কো আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কয়েক মাস ধরে শান্তি আলোচনা স্থবির থাকার পর উইটকফ ও কুশনারের নতুন সফরকে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে - মার্কিন দূতদের প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট বিষয় কী এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সেটিতে কতটা সম্মত হবে।
ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা প্রশাসনের নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য শহরটিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনেরা বড় আবাসন সংকটে পড়েছেন। অনেককে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাই খুঁজে পাচ্ছেন না। গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। আগুনের পর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, দমকল বিভাগ ও পুলিশ শহরের হোটেল-গেস্টহাউসগুলোতে নিরাপত্তা ও অনুমোদন যাচাই শুরু করে। এরপরই শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। ২২ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অন্তত ৫২টি হোটেল বন্ধ হয়ে যায় বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। পরে অভিযান আরও বিস্তৃত হয় এবং দ্য ডেইলি স্টারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতাজুড়ে ১০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়েছে অথবা বন্ধ হওয়ার মুখে রয়েছে। বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাতেই বেশি চাপ নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, কলিন লেন ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি রোগী, স্বজন ও পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয়। কারণ, এসব এলাকায় তুলনামূলক কম দামে থাকার জায়গা পাওয়া যেত এবং হাসপাতাল, ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ ও যাতায়াতের সুবিধাও কাছাকাছি। হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই কম খরচের আবাসনের বড় অংশই হারিয়ে গেছে। ফলে অবশিষ্ট হোটেলগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং সঙ্গে বাড়ছে ভাড়াও। টিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু হোটেলে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ী জানান, আগে তিনি যে হোটেলে প্রতি রাত ৯০০ রুপি দিতেন, বিকল্প হোটেলগুলোতে এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে এসে হোটেলই বন্ধ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগীরা। টিবিএস জানিয়েছে, ঢাকার উত্তরা থেকে যাওয়া দুই বোনের একজন ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা নিয়মিত যে হোটেলে থাকতেন, সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হয়। তাদের চিকিৎসার একটি রিপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল ৮ সেপ্টেম্বর এবং পরদিন দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। আরেক বাংলাদেশি পরিবার তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে দেখেন, আগে থেকে বুক করা হোটেলটিই বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ১ হাজার রুপির মধ্যে থাকার জায়গা খুঁজছিলেন, কিন্তু ওই এলাকায় এমন কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যানসার রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও একাধিকবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা অনেক সময় অপরিহার্য। দূরের হোটেলে চলে গেলে প্রতিদিনের যাতায়াত যেমন বাড়ে, তেমনি অসুস্থ রোগীর শারীরিক কষ্টও বাড়ে। শুধু নিউ মার্কেট নয়, সংকট ছড়িয়েছে মুকুন্দপুরেও অভিযানের প্রভাব এখন শুধু নিউ মার্কেট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকাতেও কয়েকটি হোটেল বন্ধের নির্দেশ পেয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ মার্কেট থেকে সরে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজন মুকুন্দপুরের হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেও অভিযান শুরু হওয়ায় তাদের কেউ কেউ বেশি ভাড়ার বাণিজ্যিক হোটেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ চিকিৎসার ফলোআপ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফেরার কথা ভাবছেন। অভিযানে যেসব সমস্যার কথা সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে ধোঁয়া ও তাপ শনাক্তকারী ব্যবস্থা না থাকা, অ্যালার্মের ঘাটতি এবং জরুরি বের হওয়ার পথ না থাকা। কেন এত বড় অভিযান? এই অভিযানের পেছনে রয়েছে ১৯ আগস্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তদন্তে উঠে এসেছে, শিখা ইন যে ভবনে ছিল সেখানে একাধিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ছিল। ভবনটির ভেতরে ঘনবসতিপূর্ণ ও সংকীর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে আগুনের ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হলেও নয়জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের তদন্তে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হোটেলটির বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছিল না এবং দ্বিতীয় তলায় থাকা অতিথিদের জন্য জরুরি বের হওয়ার পথও ছিল না বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের লিজধারী আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মালিক বীরেশ্বর মিত্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অবহেলা ও অগ্নিনিরাপত্তা ঘাটতির মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা দরকার, কিন্তু বিকল্প কোথায়? হোটেলগুলোর নিরাপত্তা যাচাই ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক বাজেট হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ব্যবসায়ী রমেন মল্লিক প্রশ্ন তুলেছেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের চিকিৎসার জন্য যারা কলকাতায় আসেন, হঠাৎ তাদের থাকার জায়গা বন্ধ হয়ে গেলে দায়িত্ব নেবে কে? তার মতে, হোটেল বন্ধ করার আগে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে পরিবহন ব্যবসায়ী সোনা সাহার মতে, দীর্ঘমেয়াদে অভিযান ইতিবাচক ফল দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ হোটেলগুলো চিহ্নিত করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকরাই বেশি উপকৃত হবেন। বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সতর্কতা পরিস্থিতির মধ্যে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করেছে। চিকিৎসা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কলকাতা যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেটি তখনও চালু আছে কি না, কক্ষ পাওয়া যাবে কি না এবং হাসপাতাল থেকে দূরত্ব কত - এসব যাচাই করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন শুধু কলকাতায় যাওয়ার টিকিট ও চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেই হচ্ছে না। হোটেলটি বাস্তবে চালু আছে কি না এবং সেখানে গিয়ে থাকা যাবে কি না - সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে কলকাতা প্রশাসনের অভিযান চলছে, অন্যদিকে সেই অভিযানের কারণে সাশ্রয়ী থাকার জায়গা হারিয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা পড়েছেন নতুন সংকটে। এখন বড় প্রশ্ন - ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল বন্ধের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা কত দ্রুত করা যায়।