সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:১
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিলেই ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিলেই ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা বিবাহিত দম্পতিদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভর্তুকির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এ জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বদলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের শিশু যত্নে ব্যবহৃত একটি ফেডারেল তহবিল থেকেই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। 


দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত দম্পতির একজন সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন।


প্রস্তাবিত অর্থ আসবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে। ১৯৯০-এর দশকে চালু হওয়া এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মাকে শিশু যত্নের খরচে সহায়তা করা, যাতে তারা কাজ, পড়াশোনা বা কর্মপ্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়। 


নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনকারী অভিভাবকদের জন্য এটিই হবে ফেডারেল পর্যায়ে সরাসরি শিশু যত্ন সহায়তা পাওয়ার একটি নতুন পথ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ঘরে থেকে সন্তান পালনের সুযোগকে উৎসাহিত করার রক্ষণশীল পারিবারিক ধারণারও মিল রয়েছে। মে মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন ঘরে থাকা বাবা-মায়ের জন্য শিশু যত্ন ব্যবস্থায় আরও সুযোগ তৈরি করতে চায়। 


তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, একই তহবিলের অর্থ ঘরে থাকা অভিভাবকদের জন্য ব্যবহার করা হলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য বরাদ্দ সহায়তা কমে যেতে পারে। এতে শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান সেবার মূল্য বাড়ানো বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে। 


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিশু যত্ন ভর্তুকি পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার। তাদের বেশিরভাগই নারী। ফলে নতুন শ্রেণির পরিবারকে একই তহবিলের আওতায় আনা হলে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা।


খসড়া প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশিত হতে পারে। চূড়ান্ত হলে আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
‘টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ!’ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিমানবন্দরে নতুন সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে টার্মিনালে গিয়ে স্বজন ও পরিচিতদের স্বাগত জানাতে বা বিদায় দিতে পারবেন। ২০০১ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা এলাকা পেরিয়ে গেট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল। পরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ার পর সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।   নতুন এই সুবিধার নাম দেওয়া হয়েছে গেটসাইড পাস। এর মাধ্যমে যারা বিমানে ভ্রমণ করছেন না, তারাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরে যেতে পারবেন। সেখানে তারা স্বজনদের বিদায় জানাতে বা স্বাগত জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে টার্মিনালের ভেতরের খাবার ও কেনাকাটার সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবেন।   তবে গেটসাইড পাস পেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর আগে থেকেই পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রি-চেক অনুমোদন থাকতে হবে অথবা পরিচিত ভ্রমণকারী নম্বর থাকতে হবে। এরপর বিমানবন্দরে যাওয়ার অন্তত তিন দিন আগে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গেটসাইড পাসের জন্য আবেদন করতে হবে।   আবেদন অনুমোদিত হলে টিকিটধারী যাত্রীদের মতোই ওই ব্যক্তিকেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ টিকিট না থাকলেও টার্মিনালের নিরাপত্তা এলাকায় প্রবেশের আগে তাকে নির্ধারিত নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই সরাসরি টার্মিনালে প্রবেশ করা যাবে না, নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়মও মেনে চলতে হবে।   তবে প্রতিদিন সব আবেদনকারীকে এই সুবিধা দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলো প্রতিদিনের গেটসাইড পাসের সংখ্যা সীমিত করতে পারে। ব্যস্ত সময়েও এই সুবিধার প্রাপ্যতা সীমিত হতে পারে। প্রয়োজন হলে কোনো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে গেটসাইড পাস দেওয়া বন্ধও করতে পারে বলে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে এই সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যারিজোনার মেসা গেটওয়ে বিমানবন্দর, ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মিশিগানের ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন ওয়েন কাউন্টি বিমানবন্দর এবং কানসাসের উইচিটা ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতীয় বিমানবন্দর।   এ ছাড়া ইন্ডিয়ানার ইন্ডিয়ানাপোলিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নেভাদার হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরকানসাসের বিল অ্যান্ড হিলারি ক্লিনটন জাতীয় বিমানবন্দর এবং ওকলাহোমার উইল রজার্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও গেটসাইড পাসের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।   তালিকার অন্য তিনটি বিমানবন্দর হলো নেব্রাস্কার এপলি এয়ারফিল্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উটাহর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরে অনুমোদিত দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করে টার্মিনালের ভেতরে যেতে পারবেন।   ২০০১ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বজনরা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে গেট পর্যন্ত যেতে পারতেন। ফলে পরিবারের সদস্য বা পরিচিতরা বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাদের বিদায় জানাতে পারতেন। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং টিকিট ছাড়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এলাকার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।   নতুন কর্মসূচির আওতায় সেই পুরোনো ব্যবস্থার সীমিত একটি সুযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে টিকিট ছাড়া টার্মিনালে প্রবেশ করলেও দর্শনার্থীদের জন্য বিমানবন্দরের আচরণবিধি একইভাবে প্রযোজ্য থাকবে। পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের ফেডারেল ও স্থানীয় নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বিমানবন্দরে প্রদর্শিত নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে।   কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার গেটসাইড পাস বাতিল করা হতে পারে। প্রয়োজনে তাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে। গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেওয়ানি বা ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখিও হতে পারেন ওই ব্যক্তি। ফলে টিকিট ছাড়া টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও এটি নিরাপত্তা বিধিনিষেধের বাইরে কোনো প্রবেশাধিকার নয়।   বর্তমানে পরীক্ষামূলক এই সুবিধা নির্দিষ্ট ১৩টি বিমানবন্দরে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আবেদনকারীদের আগে অনুমোদন নিতে হবে এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় যাত্রীদের মতোই নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিমানবন্দরের দৈনিক সীমা ও সাময়িক বিধিনিষেধও প্রযোজ্য হবে।   সূত্র: ডব্লিউএফএলএ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন বাড়ির মালিকের প্রায় একজন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত গৃহঋণ পরিশোধ করছেন। ছবি: সংগৃহীত

‘কম সুদের ঋণ, তবু বেশি কিস্তি!’ কেন দ্রুত ঋণ শোধ করছেন মার্কিন বাড়ির মালিকরা

কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিলেই ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

নতুন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রেকর্ড পতন—অনুমোদন নেমেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে

ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে রেকর্ড ৩৩ শতাংশে, চাপে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন—সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতীকী চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতি নিয়ে ভয়াবহ চিত্র, সরকারের দুর্নীতিকে ‘ব্যাপক’ বলছেন ৮৯% মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন এক গ্যালাপ জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার এই হার ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপে এই হার ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল।   দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করতেন সরকারি দুর্নীতি ব্যাপক। ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে।   স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ উল্লেখযোগ্য। তাদের ৯০ শতাংশ মনে করেন, সরকারের দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।   অন্যদিকে, ৮৩ শতাংশ রিপাবলিকান একই মত দিয়েছেন। গত দুই বছরে রিপাবলিকানদের মতামতে তুলনামূলকভাবে কম পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ৮৭ শতাংশ রিপাবলিকান সরকারের দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেছিলেন।   গ্যালাপ বলছে, দুই দলের মানুষের এই ধারণার পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসে কোন দল ক্ষমতায় আছে, তার সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ে তাদের ধারণার সম্পর্ক বেশি দেখা যাচ্ছে। বিপরীতে, রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির রয়েছে।   শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ বেড়েছে। জরিপে ৭১ শতাংশ বলেছেন, ব্যবসায় দুর্নীতিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গত বছরের তুলনায় এই হার ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে।   তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে ব্যবধান এবার বেশ বড়। সরকারের ক্ষেত্রে ৮৯ শতাংশ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ—অর্থাৎ ১৮ শতাংশীয় পয়েন্টের পার্থক্য। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে এটাই এই দুই সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান।   গ্যালাপের তথ্য বলছে, অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায়ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের ধারণা এখন বেশ নেতিবাচক। রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও দুই দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশই মনে করছেন, দেশটির সরকারের দুর্নীতি একটি ব্যাপক সমস্যা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৮:৮
'চাকরি না পাওয়া ও আর্থিক চাপ নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন সাই প্রদীপ' -পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর চাকরি না পেয়ে চাপে ভারতীয় তরুণের আত্মহত্যা

গরু ছাড়াই তৈরি দুধের প্রোটিন—প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের খাদ্যশিল্প

স্টারবাকস, নেসলে ও ব্রেয়ার্স আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকদের পরিবেশন করেছে ল্যাবে তৈরি মাংস

লকার রুমে রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্রুক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল এরিক জেমস

মেয়েদের লকার রুমে ৪ রেকর্ডিং ডিভাইস, গ্রেপ্তার স্কুলের প্রিন্সিপাল

টাম্পায় জব্দ করা হাজার বছরের পুরোনো প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে থাকা বিভিন্ন পাত্র ও মৃৎশিল্প
টাম্পায় ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ, রয়েছে ৫ হাজার বছরের পুরোনো সামগ্রী

যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রাচীন নিদর্শন পাচারের অভিযোগের তদন্তে ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ করেছে ফেডারেল এজেন্টরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা সামগ্রীর কিছু প্রাচীন সভ্যতার এবং সেগুলোর বয়স ১ হাজার থেকে ৫ হাজার বছর পর্যন্ত হতে পারে। এটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জব্দের ঘটনাগুলোর একটি।   জব্দ করা নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে গ্রিক ও রোমান মুদ্রা, পোড়ামাটির পাত্র, ফুলদানি, মূর্তি, অস্ত্র, গয়না, বিভিন্ন অলংকার এবং মোজাইক নকশার ফ্রেম। এসব সামগ্রী ইউরোপ, আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   অভিযানটি পরিচালনা করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) টাম্পা কার্যালয়। এতে তাদের সঙ্গে কাজ করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এবং এইচএসআইয়ের কালচারাল প্রপার্টি, আর্ট অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ বিভাগ।   তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। জব্দ করা নিদর্শনগুলোর মোট আর্থিক মূল্য এবং ঠিক কোথা থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।   প্রাচীন নিদর্শনগুলোর সত্যতা ও বয়স যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার শিক্ষক ও গবেষকেরা এসব সামগ্রীর বিশ্লেষণ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ এবং সংরক্ষণে সহযোগিতা করছেন।   মাদকদ্রব্য শনাক্ত করার মতো প্রাচীন নিদর্শন যাচাইয়ের কোনো তাৎক্ষণিক মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা নেই। ফলে বিপুলসংখ্যক সামগ্রীর প্রতিটি আলাদাভাবে পরীক্ষা ও সত্যতা যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   এইচএসআইয়ের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের কালচারাল প্রপার্টি অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ কর্মসূচির সিনিয়র উপদেষ্টা মেরি কুক বলেন, এত বিপুলসংখ্যক নিদর্শন শনাক্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। যেসব সামগ্রী আসল প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো একেকটি অনন্য ঐতিহাসিক সম্পদ। তাই প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   এইচএসআই টাম্পার ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ মাইকা ম্যাককম্বস বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, ইতিহাস ও মানবতার প্রতিও এটি একটি দায়িত্ব। তাঁর ভাষ্য, সাংস্কৃতিক সম্পদ পাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন সভ্যতা তাদের ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের পাচার আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের অর্থের জোগান, আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব নিদর্শন সত্যিকারের প্রাচীন ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হবে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে ফিরিয়ে দিতে দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে এইচএসআই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৫:৩৮
টেক্সাস সিনেট দৌড়ে প্যাক্সটনের পক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন

টেক্সাস সিনেট দৌড়ে প্যাক্সটনের পক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন

ফ্লোরিডায় স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ

ফ্লোরিডায় স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ক্রেডিট কার্ডের সুদ কমাতে বললেই মিলছে ছাড়

ক্রেডিট কার্ডের সুদ কমাতে বললেই মিলছে ছাড়, সফল ৮৪ শতাংশ গ্রাহক

0 Comments