যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহেদি দিয়ে ঘণ্টায় ১০০ ডলার আয় ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলীর
যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবেও কাজ করছেন ভারতীয় প্রকৌশলী প্রিয়াঙ্কা জৈন। মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার টাকা, পারিশ্রমিক নেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০ ঘণ্টার কাজ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কা জৈন প্রযুক্তি খাতে নিজের চাকরির পাশাপাশি মেহেদির ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, মেহেদি দেওয়ার কাজটি তার পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি করা একটি শখের ব্যবসা। প্রযুক্তি খাতের চাকরিই তার প্রধান আয়ের উৎস হলেও মেহেদির কাজের প্রতি তার আলাদা আগ্রহ রয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার নেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকার সমপরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বকশিশও পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিয়ে বা কনের মেহেদির বুকিংয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং সেখান থেকে বড় অঙ্কের আয় হয়।
একটি কনের মেহেদির অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আয় বেশি হলেও সেখানে জীবনযাপনের খরচও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাই মেহেদির কাজ থেকে পাওয়া অর্থকে তিনি নিজের প্রধান আয়ের সঙ্গে তুলনা না করে আলাদা একটি শখের ব্যবসা হিসেবে দেখেন।
প্রিয়াঙ্কার কাছে সবচেয়ে বড় পার্থক্য শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবে পাওয়া সম্মান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পীদের অনেক বেশি মূল্যায়ন ও সম্মান করা হয়। অন্যদিকে ভারতে মেহেদি শিল্পীর কাজকে অনেক সময় ভালো পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এই বিষয়টিকেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মেহেদি দেওয়ার কাজকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখারও বিরোধিতা করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তার বক্তব্যের মূল কথা হলো, কোনো কাজই ছোট বা বড় নয়, কাজ মানেই কাজ। পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরির পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবে কাজ করাকে তিনি তাই ভিন্ন কোনো ছোট পেশা হিসেবে দেখেন না। বরং নিজের আগ্রহকে কাজে পরিণত করে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রিয়াঙ্কার এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ তার নেওয়া পারিশ্রমিকের পরিমাণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদির পারিশ্রমিকের তুলনা করেছেন। কয়েকজন মন্তব্যকারী তার কাজের ধরন ও যুক্তরাষ্ট্রে এর মূল্যায়ন নিয়েও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন।
একজন মন্তব্যকারী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আরেকজন বলেছেন, ভারতে অনেক মানুষ পুরো কনের মেহেদির জন্য ১ হাজার টাকা দিতেও আপত্তি করেন। অন্য একজন ভারতীয় সমাজে শিল্পীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, শুধু মেহেদি আঁকার জন্য এত বেশি পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি অনেকে সহজভাবে দেখেন না।
আরেক নারী মন্তব্য করেছেন, তিনিও মেহেদি দিয়ে থাকেন। তার অভিজ্ঞতায় ভারতে এই কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্মান, আয় ও মূল্যায়ন পাওয়া যায় না। এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রিয়াঙ্কার অভিজ্ঞতা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদি শিল্পীদের পারিশ্রমিক, পেশাগত সম্মান এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পূর্ণকালীন চাকরিই প্রধান পেশা ও আয়ের উৎস। এর পাশাপাশি মেহেদি দেওয়ার কাজকে তিনি শখের ব্যবসা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার পারিশ্রমিক, বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময়ের বুকিং এবং বকশিশ মিলিয়ে এই কাজ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আল-কায়েদার আনুমানিক ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশন। কমিশনের তদন্তে হামলার অর্থের প্রবাহ, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় এবং অর্থের উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সঙ্গে জড়িত ১৯ ছিনতাইকারী যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেন। তাদের প্রধান খরচের মধ্যে ছিল ফ্লাইট প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া, গাড়ি, বীমা, ভ্রমণ এবং হামলার আগে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম। কমিশনের হিসাবে, প্রায় ৩ লাখ ডলার ১৯ ছিনতাইকারীর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বিদেশ থেকে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আসে। বাকিটা নগদ অর্থ, ট্রাভেলার্স চেক এবং বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, অর্থ লেনদেনের বড় অংশই ছিল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মতো। হামলাকারীরা নিজেদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় এসব লেনদেন দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের বিশাল প্রবাহের মধ্যে আলাদা করে সন্দেহ তৈরি করেনি। তবে ৪ থেকে ৫ লাখ ডলারের হিসাবটি শুধু হামলার অপারেশনাল ব্যয়। কমিশন স্পষ্ট করেছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা কিংবা ছিনতাইকারীদের প্রশিক্ষণের সামগ্রিক খরচ এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। হামলার অর্থের চূড়ান্ত উৎস কোথায় ছিল, তা তদন্তকারীরা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। তবে কমিশনের মতে, হামলার প্রায় পুরো অর্থই আল-কায়েদা সরবরাহ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা কোনো বিদেশি সরকার হামলাকারীদের উল্লেখযোগ্য অর্থ দিয়েছিল - এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। তদন্তে আরও বলা হয়, ৯/১১-এর আগে আল-কায়েদার বার্ষিক পরিচালন বাজেট ছিল আনুমানিক ৩ কোটি ডলার। এই অর্থ দিয়ে সংগঠনটি কর্মীদের বেতন, প্রশিক্ষণ শিবির, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করত। ৯/১১ হামলার জন্য ৪ থেকে ৫ লাখ ডলারের ব্যয় ছিল সেই সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট অংশ। কমিশনের নথি অনুযায়ী, হামলার পরিকল্পনায় অর্থ সরবরাহের ক্ষেত্রে আল-কায়েদার তৎকালীন প্রধান অপারেশনাল সমন্বয়কারী খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ কয়েকজন সহযোগী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯ হামলাকারীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তাদের ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ ও জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহেদি দিয়ে ঘণ্টায় ১০০ ডলার আয় ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলীর
মেইল ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকরে সুপ্রিম কোর্টে আবার ট্রাম্প প্রশাসন
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই শিশুর
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক ডেলি দোকানি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ ডলার নগদ পুরস্কার দিচ্ছেন। শুধু ভালো ফল নয়, আগের তুলনায় ফলাফল উন্নত করলেও মিলছে খাবার, স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অন্যান্য উপহার। তাঁর এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জ্যাক’স ফাইনেস্ট ডেলি অ্যান্ড গ্রোসারির সহমালিক ও ম্যানেজার ওয়াইল আলসেলভি, যিনি ‘আইল্যান্ড অক’ নামে পরিচিত, ২০২৩ সালে ‘গ্রেডস ফর গ্র্যাবস’ নামে উদ্যোগটি শুরু করেন। শুরুটা হয়েছিল এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছোট্ট এক বাজি থেকে। শিক্ষার্থী জামেইর ডেভিস ভালো ফল করলে তাকে পছন্দের একটি মিল্কশেক দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন আলসেলভি। পরে সেই ঘটনা থেকেই বড় পরিসরে পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা রিপোর্ট কার্ড নিয়ে তার দোকানে আসে। ৯০ শতাংশের বেশি গড় নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা ১০০ ডলার নগদসহ দোকান থেকে পছন্দের জিনিস নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা নয়। যারা আগের তুলনায় ফলাফল উন্নত করেছে, তাদেরও উৎসাহ দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত তিন বছরে হাজারো শিক্ষার্থী এই উদ্যোগের আওতায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলসেলভির পোস্ট করা ভিডিওগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী খাবারের পাশাপাশি পরিবারের জন্য ডিম, রুটি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও নিয়ে যায়। আলসেলভির নিজের জীবনেও কঠিন সময় ছিল। তিনি জানিয়েছেন, জীবনের একটি অন্ধকার সময়ে তার ভাই তাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পান তিনি। আলসেলভি মনে করেন, সামান্য উৎসাহও একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। তার উদ্যোগে কেউ ৫৫ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশে উন্নতি করলেও সেটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়। ‘গ্রেডস ফর গ্র্যাবস’ চালিয়ে যেতে তিনি নিজেও অর্থ ব্যয় করছেন। উদ্যোগটি চালু রাখতে কমিউনিটির কাছ থেকেও অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। আলসেলভির লক্ষ্য এখন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে আরও শিক্ষার্থী পড়াশোনায় উৎসাহ পায়।
‘টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ!’ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিমানবন্দরে নতুন সুবিধা
‘কম সুদের ঋণ, তবু বেশি কিস্তি!’ কেন দ্রুত ঋণ শোধ করছেন মার্কিন বাড়ির মালিকরা
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন নতুন এক জরিপে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে এ বিষয়ে জরিপ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায়ও ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছায়, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বাড়ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ। দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতি নিয়ে ভয়াবহ চিত্র, সরকারের দুর্নীতিকে ‘ব্যাপক’ বলছেন ৮৯% মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর চাকরি না পেয়ে চাপে ভারতীয় তরুণের আত্মহত্যা