সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৩৯
২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর পরিবারে ছিল আনন্দের মুহূর্ত। গর্ভাবস্থাও স্বাভাবিক ছিল এবং জন্মের পর জেসিকে দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। কিন্তু জন্মের মাত্র এক সপ্তাহ পর একটি ফোনকল বদলে দেয় পরিবারের সেই আনন্দময় সময়। নবজাতকের নিয়মিত পরীক্ষার ফল জানিয়ে লুপিতাকে বলা হয়, তাঁর ছেলে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি বা এসএমএ নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত।

 

জন্মের পর জেসির গোড়ালিতে যে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটিকে অন্য অনেক অভিভাবকের মতো লুপিতাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮ শতাংশের বেশি নবজাতকের জন্মের পরপরই এই পরীক্ষা করা হয়। প্রতি বছর নবজাতকের এই পরীক্ষার মাধ্যমে ৭ হাজারের বেশি শিশুর গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য বিভিন্ন রোগ শনাক্ত হয়। জেসির ক্ষেত্রেও রোগটি উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষায় ধরা পড়ে।

 

ফোনে জেসির রোগের কথা জানার পর লুপিতা ও তাঁর পরিবার হতবাক হয়ে যান। তিনি জানান, ফোনকল পাওয়ার সময় এসএমএ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। পরে ইন্টারনেটে রোগটি সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে তাঁর ভয় আরও বেড়ে যায়। তিনি অনেক কেঁদেছেন এবং বুঝতে পারছিলেন না, কীভাবে তাঁর দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ শিশুর এমন একটি রোগ হতে পারে। এমনকি নিজের কোনো ভুলের কারণে সন্তান এই রোগ নিয়ে জন্মেছে কি না, সেই প্রশ্নও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল।

 

এসএমএ এমন একটি বিরল জেনেটিক রোগ, যা পেশি নড়াচড়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা স্নায়ুকোষকে আক্রান্ত করে। এর ফলে ধীরে ধীরে পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে এবং হাঁটা, গিলতে পারা ও শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও প্রভাবিত হতে পারে। জেসির ক্ষেত্রে প্রথম ধরনের এসএমএ শনাক্ত হয়, যা রোগটির সবচেয়ে গুরুতর সাধারণ ধরনগুলোর একটি। সাধারণত জীবনের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে এই ধরনের এসএমএর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 

রোগ শনাক্ত হওয়ার পর জেসিকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। মাত্র ১৬ দিন বয়সে জেসি প্রতিদিন খাওয়ার একটি ওষুধ নিতে শুরু করে। এই ওষুধ মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে কাজ করে। রোগটি অগ্রসর হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত এই চিকিৎসা শুরু করা হয়।

 

পরে জেসি একবারের জিন থেরাপিও পায়। এই চিকিৎসায় রোগটির জন্য দায়ী ত্রুটিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কাজ করা হয়। চিকিৎসকেরা অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার ভালো ফল দেখলেও জেসির অগ্রগতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছিল না। সে হামাগুড়ি দিচ্ছিল না, খুব বেশি নড়াচড়াও করছিল না এবং হাঁটার কোনো আগ্রহও দেখা যাচ্ছিল না। তখন জেসির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ উচ্চমাত্রার স্পিনরাজা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

স্পিনরাজা সরাসরি মেরুদণ্ডের তরলে দেওয়া হয়। এটি শরীরের বিকল্প এসএমএন২ জিনকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমাত্রার এই চিকিৎসা নেওয়া জেসি টেক্সাসের প্রথম রোগী। আগের ১২ মিলিগ্রাম মাত্রার তুলনায় নতুন এই চিকিৎসায় ওষুধের ঘনত্ব বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে এক দশকের বেশি সময়ের ক্লিনিক্যাল তথ্যের পর নতুন এই মাত্রার অনুমোদন দেয়।

 

নতুন চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। স্পিনরাজা মেরুদণ্ডে দেওয়ার সময় জেসিকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হতো। এত চিকিৎসা, রক্ত নেওয়া ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লুপিতা এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন। তবু শেষ পর্যন্ত পরিবারটি চিকিৎসাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লুপিতা জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পর তিনি খুশি যে তাঁরা ঝুঁকিটি নিয়েছিলেন।

 

এরপরই জেসির জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। প্রথম ডোজ নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সে নিজে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে এবং দেয়াল ধরে হাঁটতে থাকে। দুটি ডোজ নেওয়ার প্রায় এক মাস পর জেসি স্বাধীনভাবে হাঁটতে শুরু করে। যে পরিবার একসময় আশঙ্কা করেছিল, তাদের সন্তান হয়তো কখনো হাঁটতে পারবে না, তাদের সামনে হঠাৎই বদলে যায় সেই বাস্তবতা।

 

জেসির হাঁটতে পারার মুহূর্তটি পরিবারের জন্য ছিল গভীর আবেগের। লুপিতা জানান, সবাই কেঁদে ফেলেছিলেন। কারণ তাঁরা আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলেন যে হয়তো তাঁদের সন্তান কখনো হাঁটতে পারবে না। চিকিৎসার পর জেসির নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে হাঁটার দৃশ্য পরিবারের কাছে ছিল তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আশঙ্কার পর পাওয়া বড় আনন্দের মুহূর্ত।

 

এরপরও জেসির অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। যদিও সে সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ভারসাম্য ঠিক রাখার বিষয়টি এখনও অনুশীলন করছে, তবু লুপিতা তাঁর ছেলেকে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে দেখে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি বলেন, এসএমএ যেন জেসির পরিচয় হয়ে না ওঠে। তাঁর ছেলে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে এবং ফুটবল, সংগীত ও গাড়ি পছন্দ করে। সে একজন দুঃসাহসী শিশুও হয়ে উঠছে।

 

এখন দুই বছর বয়সী জেসি সেই শিশুটির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার রোগ শনাক্ত হওয়ার ফোনকল একসময় পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জন্মের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া সেই কঠিন খবরের পর চিকিৎসা, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তার পরিবার। একসময় যে শিশুর হাঁটতে পারা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা, চিকিৎসার পর সেই জেসিই নিজের পায়ে হাঁটছে।

 

লুপিতা জানেন, অন্য অভিভাবকরাও এমন ফোনকল পেতে পারেন। তাঁদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ হলো, ইন্টারনেটে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় না গিয়ে সন্তানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি প্রতিদিনকে একদিন করে মোকাবিলা করার এবং সহায়তা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। অন্য মায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই তিনি নিজের পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন বলে জানান।

 

সূত্র: নিউজউইক


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন
আমেরিকার টপ ডাক্তার জিয়াউদ্দিনের সিলেটের ২০০ শয্যার কিডনি হাসপাতাল, অসচ্ছলদের ফ্রি চিকিৎসা

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় সিলেটে গড়ে উঠেছে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। অসচ্ছল রোগীদের স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটির নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০০ শয্যার একটি অলাভজনক বিশেষায়িত হাসপাতাল।    ফিলাডেলফিয়ায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিজ অঞ্চলের কিডনি রোগীদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন ডা. জিয়াউদ্দিন। কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটের বিবরণে তাঁকে এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার সঙ্গে প্রয়াত জাহিন আহমেদ এবং কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবদুস সালামও যুক্ত ছিলেন।  এই উদ্যোগের শুরু অবশ্য নতুন হাসপাতাল চালুরও কয়েক বছর আগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সিলেটের উপশহরে অস্থায়ী ডায়ালাইসিস কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা শুরু হয়। সেখানে ভর্তুকি দিয়ে রোগীদের ডায়ালাইসিস করানো হতো। পরে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    সিলেটের তেমুখী ও বাদাঘাট বাইপাসসংলগ্ন নাজিরেরগাঁওয়ে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। ভবন নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে অনুদান ব্যবহার করা হয়।  হাসপাতালের প্রকাশিত কার্যক্রমের বিবরণে বলা হয়েছে, সেখানে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিনে সেবা দেওয়া হচ্ছে। মোট ডায়ালাইসিস সেশনের ৫৫ শতাংশের বেশি বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে কিডনি রোগের চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।    ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি নেওয়া ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। টেম্পল হেলথের চিকিৎসক পরিচিতিতে তাঁর বিশেষায়িত ক্ষেত্র হিসেবে নেফ্রোলজি উল্লেখ রয়েছে। তাঁর চিকিৎসাসেবার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিস, নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ এবং সংকটাপন্ন রোগীর কিডনি চিকিৎসা।  ২০২৬ সালে ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ‘টপ ডক্টরস’ তালিকাতেও জায়গা পেয়েছেন তিনি। টেম্পল হেলথের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত ঘোষণায় নেফ্রোলজি বিভাগে তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিলেটের হাসপাতাল উদ্যোগে যুক্ত থেকে দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছেন এই প্রবাসী চিকিৎসক।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১:৪৮
প্রোস্টেটের এমআরআই ছবিতে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি

প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল

অস্ত্রোপচারের সময় ক্যানসার কোষ দেখতে সহায়ক, আশ্চর্যজনক চশমা উদ্ভাবন করেন নাইজেরীয় চিকিৎসক

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর কলেরা প্রতিরোধে অবদান

বাংলাদেশের ফিরদৌসী কাদরীকে নিয়ে বিল গেটসের ভিডিও, তুলে ধরলেন জীবন বাঁচানোর গবেষণা

স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ২৩ লাখ ডলারের বেশি ফেডারেল তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় লাখ লাখ ডলার, মায়েদের চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ২৩ লাখ ডলারের বেশি ফেডারেল তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র এ তথ্য প্রকাশ করে।   এই অর্থের মধ্যে ১৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা হবে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা সুবিধা সম্প্রসারণে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের সন্তানদের দেখাশোনার খরচ সামলাতে সহায়তা করা হবে। এতে স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরিতে থাকা ও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।   এ ছাড়া ৮ লাখ ৭৯ হাজার ডলার ব্যয় করা হবে মিসৌরিতে সনদপ্রাপ্ত ধাত্রী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর প্রাথমিক কাজে। বিশেষ করে যেসব গ্রামীণ এলাকায় গর্ভবতী নারী ও মায়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন, সেখানে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসাকর্মীর সংকট কমানো এবং মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা আরও সহজলভ্য করা। তবে বরাদ্দ ঘোষণা করা মানেই সব সুবিধা ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে, এমন নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৭:২
কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে থাকুন, শুনুন তাঁর কথা

বন্ধুর কষ্ট কমাতে চান, তাহলে এড়িয়ে চলুন প্রচলিত পাঁচটি কথা ও আচরণ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে হামে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার ৪১০ জনে

আলঝেইমার শনাক্তে নতুন রক্ত পরীক্ষায় আশার আলো

স্মৃতিশক্তি হারানোর রোগ শনাক্তে নতুন অগ্রগতি, প্রথম রক্ত পরীক্ষায় অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

বার্ধক্য ধীর করার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় জিএলপি-১ ওষুধ
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ওষুধে ধীর হতে পারে বার্ধক্য, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত

ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ শরীরের বার্ধক্য প্রক্রিয়াও ধীর করতে পারে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে—ওজন কমানো ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব ওষুধ মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও বাড়াতে পারবে কি না।   জিএলপি-১ ওষুধের পরিচিত উপকারিতা শুধু ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন গবেষণায় হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া ও শরীরের প্রদাহ কমানোর মতো সম্ভাব্য সুবিধাও উঠে এসেছে। এসব সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক ডানিকা চেনের মতে, বয়স বাড়া অনেক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তাই শুধু আলাদা আলাদা রোগের চিকিৎসা না করে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করা গেলে বয়সজনিত নানা রোগের ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধকে এখনই বার্ধক্য প্রতিরোধের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। এসব ওষুধের সম্ভাব্য সুবিধা শুধু অতিরিক্ত ওজন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমিত কি না, নাকি স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব দেখা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লস এঞ্জেলেসের সিডারস-সিনাই মেডিকেল সেন্টারের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড জেরোথেরাপিউটিকসের পরিচালক জেমস কার্কল্যান্ডও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, প্রাথমিক গবেষণার ফল দেখে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত কারণ ছাড়াই এসব ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে কম বয়সী, স্বাভাবিক ওজনের এবং ডায়াবেটিস নেই—এমন মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট তথ্য নেই। গবেষকেরা আরও বলছেন, বার্ধক্য পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত জৈবিক সূচকগুলো এখনো উন্নয়নশীল। ফলে এসব পরীক্ষার ফল দেখে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির শরীর কতটা বুড়িয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। জৈবিক বয়সের ঘড়িতে কী দেখা গেছে বার্ধক্য নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে টিরজেপাটাইড নামের ওষুধ। এটি এলি লিলি কোম্পানির তৈরি। ওজন কমানোর জন্য ওষুধটি জেপবাউন্ড এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য মাউনজারো নামে বিক্রি হয়। কোম্পানিটির গবেষকেরা তাদের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ওষুধটি ব্যবহারকারীদের শরীরে বার্ধক্যের কিছু জৈবিক সূচক তুলনামূলক ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়েছে। মূল পরীক্ষায় ৭০০ জনের বেশি অতিরিক্ত ওজনের, তবে ডায়াবেটিস নেই—এমন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাঁদের ৭২ সপ্তাহ ধরে টিরজেপাটাইড অথবা সেমাগ্লুটাইড দেওয়া হয়। পরবর্তী বার্ধক্যবিষয়ক বিশ্লেষণে টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৭১ জনের তথ্য দেখা হয়। রক্তে নির্দিষ্ট জিনের কার্যক্রমের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এপিজেনেটিক ক্লক ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিতে শরীরের কোষ ও টিস্যুর জৈবিক বয়সের আনুমানিক পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করা হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স বাড়লেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একই গতিতে বুড়িয়ে যায় না—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদের হিসাবে, ৭২ সপ্তাহে একজন ব্যক্তির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স প্রায় ১ দশমিক ৩৮ বছর বাড়ার কথা। কিন্তু টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ছোট দলটির বিভিন্ন জৈবিক ঘড়িতে বয়স বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ১ বছর। কয়েকটি সূচকে জৈবিক বয়স কমার ইঙ্গিতও দেখা গেছে। তবে এই পরীক্ষায় ওষুধ না নেওয়া কোনো প্লাসিবো দলের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের সময়ও ছিল সীমিত। তাই ওষুধটি সত্যিই বার্ধক্য ধীর করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চার-পাঁচ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা গেলে এই প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেমাগ্লুটাইডেও মিলেছে একই ধরনের ইঙ্গিত সেমাগ্লুটাইড নামের আরেকটি ওষুধ নিয়েও আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। এটি ওজন কমানোর জন্য ওয়েগোভি এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ওজেম্পিক নামে পরিচিত। ওষুধ প্রস্তুতকারী নোভো নরডিস্কের গবেষকেরা পাঁচটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১০ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। রক্তে থাকা বিভিন্ন প্রোটিনের পরিবর্তন ব্যবহার করে তাঁরা হৃদ্‌যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জৈবিক বয়স অনুমান করেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্লাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারীদের হৃদ্‌যন্ত্রের জৈবিক বয়সের সূচকে দুই থেকে চার বছরের পার্থক্য ছিল। কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও অগ্ন্যাশয়সহ কয়েকটি অঙ্গের ক্ষেত্রেও এক থেকে চার বছরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গবেষকদের দাবি, এসব পরিবর্তন শুধু ওজন কমা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বা প্রদাহ হ্রাস দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি। তবে গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়নি। তাই ফলাফলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ইঁদুরের আয়ু বেড়েছে, মানুষের ক্ষেত্রে কী হবে মানুষের পাশাপাশি ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বার্কলের গবেষকেরা ২০ মাস বয়সী ইঁদুরকে সেমাগ্লুটাইড অথবা প্লাসিবো দেন। ইঁদুরের এই বয়সকে মানুষের প্রায় ৬০ বছরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুরগুলো তুলনামূলক কম খাবার খেয়েছে, ওজন হারিয়েছে এবং প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছে। ওষুধ গ্রহণকারী ইঁদুরের গড় আয়ু ছিল ৮৩৪ দিন। অন্যদিকে প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের মোট আয়ু ছিল ৭৪২ দিন। এরপর ওষুধের প্রভাব ও কম ক্যালরি গ্রহণের প্রভাব আলাদা করে বোঝার জন্য আরেক দল ইঁদুরের খাবারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। এই দলটির আয়ুও বেড়েছিল। তবে দুই দলের মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। পেশির কার্যকারিতা ও চলাফেরার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দলের ফল কাছাকাছি থাকলেও সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুর চিন্তাভাবনা এবং গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়ার পরীক্ষায় ভালো করেছে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও তাদের কিছু সুবিধা দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, ওষুধটির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু কম ক্যালরি গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তবে ইঁদুরের ওপর পাওয়া ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। সব মিলিয়ে, জিএলপি-১ ওষুধ বার্ধক্য ধীর করা এবং সুস্থ জীবনকাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানুষের আয়ু সত্যিই বাড়ে কি না, স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ ব্যক্তিরা এতে উপকৃত হন কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করা এখনই সমর্থন করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:৩৬
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডেঙ্গুতে দেশে ৩৩৫ মৃত্যু, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

সরকার নতুন করে বাদ পড়া শিশুদের টিকাদানের উদ্যোগ

টিকাদানের ঘাটতিতে হামের ভয়াবহ রূপ, বাংলাদেশে বাড়ছে শিশুর মৃত্যু

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর শরণার্থী ও বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশ চিকিৎসাসুবিধা হারিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বাস্থ্যবিমা বিধিনিষেধে বিপাকে শরণার্থী ও বৈধ অভিবাসী পরিবার

0 Comments