টাম্পায় ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ, রয়েছে ৫ হাজার বছরের পুরোনো সামগ্রী
যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রাচীন নিদর্শন পাচারের অভিযোগের তদন্তে ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ করেছে ফেডারেল এজেন্টরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা সামগ্রীর কিছু প্রাচীন সভ্যতার এবং সেগুলোর বয়স ১ হাজার থেকে ৫ হাজার বছর পর্যন্ত হতে পারে। এটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জব্দের ঘটনাগুলোর একটি।
জব্দ করা নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে গ্রিক ও রোমান মুদ্রা, পোড়ামাটির পাত্র, ফুলদানি, মূর্তি, অস্ত্র, গয়না, বিভিন্ন অলংকার এবং মোজাইক নকশার ফ্রেম। এসব সামগ্রী ইউরোপ, আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) টাম্পা কার্যালয়। এতে তাদের সঙ্গে কাজ করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এবং এইচএসআইয়ের কালচারাল প্রপার্টি, আর্ট অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ বিভাগ।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। জব্দ করা নিদর্শনগুলোর মোট আর্থিক মূল্য এবং ঠিক কোথা থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রাচীন নিদর্শনগুলোর সত্যতা ও বয়স যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার শিক্ষক ও গবেষকেরা এসব সামগ্রীর বিশ্লেষণ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ এবং সংরক্ষণে সহযোগিতা করছেন।
মাদকদ্রব্য শনাক্ত করার মতো প্রাচীন নিদর্শন যাচাইয়ের কোনো তাৎক্ষণিক মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা নেই। ফলে বিপুলসংখ্যক সামগ্রীর প্রতিটি আলাদাভাবে পরীক্ষা ও সত্যতা যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এইচএসআইয়ের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের কালচারাল প্রপার্টি অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ কর্মসূচির সিনিয়র উপদেষ্টা মেরি কুক বলেন, এত বিপুলসংখ্যক নিদর্শন শনাক্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। যেসব সামগ্রী আসল প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো একেকটি অনন্য ঐতিহাসিক সম্পদ। তাই প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এইচএসআই টাম্পার ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ মাইকা ম্যাককম্বস বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, ইতিহাস ও মানবতার প্রতিও এটি একটি দায়িত্ব। তাঁর ভাষ্য, সাংস্কৃতিক সম্পদ পাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন সভ্যতা তাদের ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের পাচার আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের অর্থের জোগান, আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব নিদর্শন সত্যিকারের প্রাচীন ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হবে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে ফিরিয়ে দিতে দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে এইচএসআই।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করার পর কয়েক মাস ধরে চাকরি খুঁজছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তরুণ সাই প্রদীপ। শেষ পর্যন্ত ২১ আগস্ট টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি না পাওয়া এবং আর্থিক চাপ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে চাকরি না পাওয়াই তার মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। দাম্মাইগুডার বাসিন্দা সাই প্রদীপ ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি সাউথ ক্যারোলিনার অ্যান্ডারসন ইউনিভার্সিটির কলেজ অব বিজনেস থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই চাকরির সন্ধান করছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে প্রায় চার মাস ধরে চাকরি খুঁজছিলেন প্রদীপ। পরিবার ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় কমিউনিটির কিছু পোস্টে তার চাকরি খুঁজতে গিয়ে মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকটে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রদীপের খালাতো বোন দীপ্তি তার দেশে মরদেহ ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। সেখানে তিনি প্রদীপকে কৌতূহলী, পরিশ্রমী ও নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী একজন তরুণ হিসেবে স্মরণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি দ্রুত স্প্যানিশ ভাষাও শিখেছিলেন বলে ওই তহবিল সংগ্রহের পাতায় উল্লেখ করা হয়। তার মৃত্যুতে হায়দরাবাদে থাকা পরিবার ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রদীপের মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর চাকরি খুঁজতে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান, আর্থিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কখনও কখনও বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। প্রদীপের মৃত্যুর ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।
স্টারবাকস, নেসলে ও ব্রেয়ার্স আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকদের পরিবেশন করেছে ল্যাবে তৈরি মাংস
মেয়েদের লকার রুমে ৪ রেকর্ডিং ডিভাইস, গ্রেপ্তার স্কুলের প্রিন্সিপাল
টাম্পায় ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ, রয়েছে ৫ হাজার বছরের পুরোনো সামগ্রী
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে ১ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচারে নামছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সুপার প্যাক এমএজিএ ইনকরপোরেটেড। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে জমা দেওয়া নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজ ও রয়টার্স। এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের প্রথম বড় ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যয়। পুরো টেক্সাসজুড়ে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে। প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর লড়াইকে বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে টালারিকোর করনীতি ও গ্রামীণ হাসপাতালসংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে শিশু কর-ছাড় দ্বিগুণ করা, চিকিৎসা ব্যয়ে করছাড় এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার ডলারের করছাড়ের প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে। এদিকে টালারিকোর প্রচারশিবির এই বিপুল অর্থের বিজ্ঞাপনকে ‘বিলিয়নিয়ার-সমর্থিত ডার্ক মানি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনকে দুর্বল করতেই এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের মুখপাত্র অ্যালেক্স ফাইফার টালারিকোকে ‘হাই ট্যাক্স টালারিকো’ বলে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, তাঁর নীতির কারণে টেক্সাসের মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। টালারিকোর প্রচারশিবির এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে, যার বড় অংশ এসেছে ছোট দাতাদের কাছ থেকে। প্যাক্সটনের প্রচারশিবির সংগ্রহ করেছে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের হাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ কোটি ডলার নির্বাচনী তহবিল রয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে। টেক্সাসের এই সিনেট লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটন দলের প্রাইমারিতে সাবেক সিনেটর জন কর্নিনকে হারিয়ে মনোনয়ন পান। এখন তাঁর সামনে ডেমোক্র্যাট টালারিকো। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
ফ্লোরিডায় স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ক্রেডিট কার্ডের সুদ কমাতে বললেই মিলছে ছাড়, সফল ৮৪ শতাংশ গ্রাহক
এক বোন মৃত্যুর মুখে, আরেক বোনের সেই আলিঙ্গন বদলে দিল নবজাতকদের চিকিৎসার গল্প
চাকরির কারণে ১৩ বছরের পরিচিত জীবন পেছনে ফেলে আমেরিকা থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার। পরিবার, বন্ধু, পরিচিত শহর আর অসংখ্য স্মৃতি ছেড়ে নতুন দেশে যাত্রা তার জন্য যেমন আবেগের, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতারও। ভোর রাতে মিজৌরির সেন্ট লুইস এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয় পঙ্কজের যাত্রা। সেন্ট লুইস থেকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, এরপর বাল্টিমোর থেকে জার্মানির রামস্টেইন এয়ার বেস। সেখান থেকে আরও প্রায় ছয় ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পৌঁছান নিজের নতুন ইউনিটে। অচেনা জায়গা আর অচেনা মানুষ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে ছিল নানা ভাবনা। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর রিসেপশনে পাওয়া আন্তরিক অভ্যর্থনা অনেকটাই স্বস্তি দেয় তাকে। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আলাদা একটি রুম, বাথরুম ও কিচেনসহ পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে এই আয়োজনই যেন হয়ে ওঠে নতুন জীবনের প্রথম স্বস্তি। আগামী কয়েক বছর এই জায়গাটিই হবে পঙ্কজের ঠিকানা। অচেনা এই পরিবেশেই তৈরি হবে নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা আর নতুন স্মৃতি। তবে নতুন জীবনের শুরু হলেও নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে আসার অনুভূতি সহজ নয়। শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের দীর্ঘ ১৩ বছরের অসংখ্য স্মৃতি। নিউইয়র্কের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যেমন অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, তেমনি সেখানে পেয়েছেন আনন্দের মুহূর্ত এবং কঠিন সময় পার করার অভিজ্ঞতাও। তাই নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা তার কাছে কেবল একটি শহর ছেড়ে যাওয়া নয়। এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা। প্রিয় নিউইয়র্ক এখন পেছনে, সামনে জার্মানি। নতুন দেশ, নতুন ঠিকানা, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো পঙ্কজ তালুকদারের জীবনের আরেকটি অধ্যায়।
ঘরে খাবার ফলাতে গিয়ে জরিমানা, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাগান নিয়ে শহরের সঙ্গে লড়াই মাইকেলের
মায়ামিতে নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার