যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিদেশি সরকারি কর্মীদের দেশটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। ৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত নিয়মের অধীনে, বাবা-মায়ের অন্তত একজন যদি সন্তান জন্মের সময় বিদেশি সরকারি কর্মী হন এবং দুজনের কেউই মার্কিন নাগরিক না হন, তবে সেই সন্তান এই সুবিধার আওতাভুক্ত হতে পারবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৪৪১৮ নম্বর নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের 'বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা' সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করে 'বিদেশি সরকারি কর্মী' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
নতুন এই নিয়মের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দিষ্ট কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ইমিউনিটি পাওয়া সংস্থার কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।
তবে বিদেশি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পরিচারক, তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিক যারা বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কর্মী বা দাপ্তরিক কাজের বদলে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সরকারি কর্মীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
এই পরিবর্তনের ফলে আগের কঠোর কূটনৈতিক সংজ্ঞার বাইরে থাকা অনেক বিদেশি সরকারি কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানরা সরাসরি লাভবান হতে পারবেন। এ ছাড়া ডিএইচএস তাদের ইমিগ্রেশন নথিপত্রেও (যেমন: ফর্ম আই-৪৮৫ এবং ফর্ম জি-৩২৫আর) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে, যাতে নতুন নিয়মের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মটি কেবল ওই দিন বা তার পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মেরিল্যান্ডের মার্কিন জেলা আদালতে চলমান 'কাসা ইনকর্পোরেটেড বনাম ট্রাম্প' মামলার একটি আদেশের কারণে ডিএইচএস এখনই এই নিয়মের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করতে পারছে না।
আদালত থেকে আইনি বাধা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে বিভাগটি। চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে নতুন এই নিয়মটি ভবিষ্যতে কতটা ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা আর দেবে না ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস। প্রতিষ্ঠানটির এ সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে এসব পরিকল্পনার আওতায় থাকা গ্রাহকদের নতুন বিমা বেছে নিতে হবে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পরিকল্পনা বছরে তাদের এসব বিমা আর চালু থাকবে না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লু ক্রস মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ, ব্লু ক্রস মেডিকেয়ারআরএক্স প্রেসক্রিপশন ড্রাগ প্ল্যান এবং ব্লু ক্রস মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ ডুয়াল কেয়ার প্লাস এইচএমও বিশেষ পরিকল্পনা। এসব পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ২ অক্টোবরের আগেই ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে বিকল্প বিমা বেছে নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যও দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির ভাষ্য, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে নিজেদের মেডিকেয়ার পণ্য ও বাজারের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে। কোন পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখা সম্ভব, তা বিবেচনা করেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাজারে তারা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের বার্ষিক উন্মুক্ত নিবন্ধনপর্ব চলছে ১৫ অক্টোবর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময় গ্রাহকেরা ২০২৭ সালের জন্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অন্য পরিকল্পনায় যেতে পারবেন। এ সময়ে করা পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা। এতে সাধারণত মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দাঁত, চোখ ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের মতো অতিরিক্ত সুবিধাও থাকতে পারে। তবে সুবিধা, খরচ এবং চিকিৎসক বা হাসপাতালের নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাভেদে আলাদা হয়। যেসব গ্রাহকের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বিকল্প বিমা বেছে নেওয়ার আগে সুবিধা, খরচ এবং নিজেদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরিকল্পনার সামঞ্জস্য যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে তাঁরা মেডিকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, লাইসেন্সধারী বিমা পরামর্শকের সহায়তা নিতে পারেন অথবা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরামর্শকেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সূত্র: ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস, ফক্স ২৬ হিউস্টন।
তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ বেড়েছে ২৪ শতাংশ, দায়ী চরম আবহাওয়া
প্রিন্সটন থেকে পিএইচডি, নোবেল কমিটির স্বীকৃত গবেষণা, ২৩০০ আবেদন করেও মিলছে না চাকরি
১৮ বছর বয়সে আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে, অস্ত্র প্রশিক্ষণের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখে মার্কিন নারী
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়া একটি স্কুলবাস থামিয়ে প্রায় ২০ শিশুকে রক্ষা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এব্রো আহমেদ। গত সোমবার, ১৯ অক্টোবর, একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাসটির দরজা খোলা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। ভেতরে তাকিয়ে চালককে খিঁচুনির মতো উপসর্গে আক্রান্ত হতে দেখে তিনি দ্রুত বাসটির দিকে ছুটে যান। চলন্ত বাসে উঠে জরুরি ব্রেক টেনে সেটি থামান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে আহমেদ জানান, শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি ঝুঁকি নিয়ে এই পদক্ষেপ নেন। ঘটনার একটি ভিডিও স্থানীয় দোকান ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকোর নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভিডিওতে আহমেদকে বাসটির দিকে দৌড়ে গিয়ে তাতে উঠতে দেখা যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাসের ভেতরে তখন কয়েকজন শিশু আতঙ্কে চিৎকার করছিল, আবার কেউ কেউ শান্ত থাকার চেষ্টা করছিল। সামনের আসনে বসা দুই ছাত্রীও তাঁকে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করে। নিজের ফোন ও চশমা তাদের একজনের কাছে রেখে তিনি বাসটি থামানোর কাজে মনোযোগ দেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। আহমেদ জানিয়েছেন, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাবিষয়ক টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’ থেকেও কিছুটা অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ধারাবাহিকটি থেকে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, সে বিষয়ে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। তবে তাঁর কোনো চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ রয়েছে বলে জানা যায়নি। এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, শিশুদের জীবন রক্ষার বিষয়টি তাঁর কাছে দায়িত্বের মতো মনে হয়েছিল। এমনকি এ কাজে নিজের জীবন ঝুঁকিতে পড়লেও তাঁর কাছে তা সার্থক হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেন্ট পলের সরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসটিতে চালকের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছান। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরে বাসের শিক্ষার্থীদের অন্য একটি বাসে তুলে বাড়িতে পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন স্কুলের পরামর্শকেরা। বাসটিতে ব্যাটল ক্রিক মিডল স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সূত্র: এবিসি নিউজ, সিবিএস মিনেসোটা।
ফেসবুকের তথ্য গোপনীয়তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা
গ্রিন কার্ডের জন্য ভুয়া বিয়ের আয়োজন, ১০ বছরে ৬০ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে
ইলহান ওমরকে তিরস্কার প্রস্তাব থেকে রক্ষায় তার পক্ষে ভোট দিলে চার রিপাবলিকান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ এক ডোরড্যাশ চালককে পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশ টেসলা গাড়ির ডিকিতে (ট্রাংক) লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর ৩৯ বছর বয়সী ম্যানুয়েল সালসেদা নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই মার্সিড কাউন্টির ১৫২ নম্বর স্টেট রুটের পাশে একটি টেসলা সেডান গাড়ির ভেতর থেকে ৪২ বছর বয়সী হ্যাভিয়ের বেসেরিল জুনিয়রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তার পরিবার তাকে নিখোঁজ বলে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছিল। লাশ উদ্ধারের পর থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, টেসলার ডিকিতে লাশ রাখার আগে হ্যাভিয়েরকে নির্মমভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ তিন মাসের শ্বাসরুদ্ধকর তদন্ত শেষে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পুলিশ ম্যানুয়েল সালসেদাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে ঘাতক সালসেদা একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করে আসছিলেন। অবশেষে গত ১১ অক্টোবর বে এরিয়ার বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে টানা তল্লাশির পর উডল্যান্ডের ৫ নম্বর ইন্টারস্টেট হাইওয়ে সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সিএইচপির সেন্ট্রাল ডিভিশন মেজর ক্রাইম ইউনিটের এই সফল অভিযানের পর গত ২০ অক্টোবর মার্সিড কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে সালসেদার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সিএইচপি প্রধান ড্যামন গিলমোর জানিয়েছেন, অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দারা একাধিক কাউন্টিতে দিনরাত এক করে শারীরিক প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যারহস্যের জট খুলতে এবং ঘটনার সময়কার কোনো সূত্র পেতে পুলিশ টেসলা গাড়ির অনবোর্ড কম্পিউটার সিস্টেম ও ভিডিও ডেটাও নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জালিয়াতি, পাকিস্তানে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত
গাড়ি চালানোর সময় প র্নোগ্রাফি দেখতে মগ্ন ছিলেন চালক! মুহূর্তের অসতর্কতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল এক যাত্রীর